নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

মানুষ মরে গেলে পঁচে যায় আর বেঁচে থাকলে বদলায়

সৈয়দ কুতুব

নিজের অজ্ঞতা নিজের কাছে যতই ধরা পড়ছে প্রচলিত বিশ্বাসের প্রতি ততই অবিশ্বাস জন্মাছে!

সৈয়দ কুতুব › বিস্তারিত পোস্টঃ

আমি তো এমপি হবো ...

১৪ ই জানুয়ারি, ২০২৬ রাত ১১:৫৮


আমি তো এমপি হবো, মন্ত্রী হবো কিসের আবার ক্রিকেট? ভোটের খেলায় জিত্তে গেলে ভরবে আমার পকেট...নচিকেতার এই অমর সুরটা মাথায় বাজছে আর সামনে রুমিন ফারহানার সেই 'বিস্ফোরক' বক্তৃতার ক্লিপটা দেখছি। আহা! কী চমৎকার চিত্রনাট্য। যেন সিনেমার ক্লাইম্যাক্সে এসে খলনায়ক হঠাৎ সাদা পাঞ্জাবি পরে সাধু সাজছেন। ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের বাতাস এখন তপ্ত, কারণ আমাদের ব্যারিস্টার সাহেবা এখন অংক কষছেন: কে কত পারসেন্ট খায় !

রুমিন সাহেব বলছেন, এমপিরা নাকি বরাদ্দের ৫০% পকেটে ভরেন। নিজের অভিজ্ঞতা থেকেই বলছেন কি না, তা নিয়ে বিতর্ক হতে পারে, তবে অংকটা বেশ নির্ভুল। ৫০ ভাগ এমপি সাহেবের, ২৫ ভাগ চেলা-চামুণ্ডাদের, ২০ ভাগ ঠিকাদারের আর বাকি ৫ ভাগ দিয়ে বানানো হয় সেই রাস্তা, যা প্রথম বৃষ্টিতেই মাছের পুকুর হয়ে যায়। ব্যারিস্টার সাহেবের এই গাণিতিক প্রতিভা দেখে মুগ্ধ না হয়ে উপায় নেই। আচ্ছা, উনি যখন সংরক্ষিত আসনের এমপি ছিলেন, তখন এই পার্সেন্টেজের অংকটা কি ওনার জানা ছিল না? নাকি তখন 'হাঁস' মার্কার বদলে অন্য কোনো 'হাঁস' সোনার ডিম দিচ্ছিল?

তারপর রুমিন ফারহানা বললেন, "যদি এমপি সৎ হন, তবে কোনো ঠিকাদারের সাধ্য নেই এক টাকা চুরি করার।" এই কথাটা শুনে আমার মনে পড়ে গেল নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া উনার সেই হলফনামার কথা। ধানমন্ডি ল্যাবরেটরি রোডে ৫ কাঠা জমি আর ৫টি ফ্ল্যাট আছে উনার : পৈতৃক সূত্রে পাওয়া। কিন্তু মজার ব্যাপার হলো, এই সম্পত্তির কোনো মূল্যায়ন দেখানো হয়নি হলফনামায়। ধানমন্ডিতে ৫ কাঠা জমি! এটা কি টুকটাক কিছু? এই এলাকায় প্রতি কাঠা জমির দাম কয়েক কোটি টাকা। আর ৫টি ফ্ল্যাট তো আছেই। কিন্তু না, মূল্য নেই। কারণ এটা পৈতৃক সম্পত্তি।

বাবার দেওয়া জিনিসের দাম কি আর বলতে হয়? এটা তো আবেগের বিষয়, স্মৃতির বিষয়। তাই মূল্যায়নের ঘরটা ফাঁকা রেখে দেওয়াই ভালো। আর পুরানা পল্টনে দুটো ফ্ল্যাট আছে : ৬৫ লাখ টাকা মূল্যের। এখন প্রশ্ন হলো, ধানমন্ডির ৫টা ফ্ল্যাটের দাম নেই, কিন্তু পল্টনের ২টার দাম আছে। এটাকে বলে সিলেক্টিভ ট্রান্সপারেন্সি। যা দেখাতে ইচ্ছা হয় দেখাও, বাকিটা লুকিয়ে রাখো পৈতৃক আবেগ বলে।

"আমার পরিবার বিদেশে থাকে, তারা লাইনে দাঁড়াতে আসবে না"—রুমিন ফারহানার এই যুক্তিটা যেন 'সেরা কৌতুক'। ওনার পরিবার বিদেশে থাকে বলে ওনার লোভ নেই, এটা অনেকটা এমন শোনালো যে—: "আমার পেট ভরা, তাই আমি অন্যের খাবার চুরি করবো না'। কিন্তু ইতিহাস বলে, বিদেশে যাদের পরিবার থাকে, টাকা পাচার করার জায়গাটা তাদের জন্যই বেশি নিশ্চিত। 'পিছুটান নেই' কথাটার মানে কি এই যে—যেকোনো সময় পাততাড়ি গুটিয়ে উড়ে যাওয়া যাবে?

কেন সবাই এমপি হতে চায় ? এর পেছনে কোনো সেবা নয়, বরং এক আদিম ক্ষমতার দর্শন কাজ করে। বাংলাদেশে এমপি হওয়া মানে হলো এক জনমেই হাজার জনমের দারিদ্র্য বিমোচন। এটি এমন এক বিনিয়োগ যেখানে আপনি একবার জয়ী হলে পরবর্তী পাঁচ প্রজন্ম আর কাউকে কাজ করতে হবে না। এমপি হওয়া মানে হলো এলাকার ছোট ঈশ্বর হওয়া, যেখানে আইন আপনার পকেটে আর প্রশাসন আপনার ড্রয়িংরুমে। এই পাওয়ার গেমের নেশায় সবাই মাতাল, রুমিন সাহেবাও তার ব্যতিক্রম নন।

গানের সুরটা তাই আবার মনে পড়ছে: "এমপি হয়ে জনগণের খেদমত করবো আমি, হেলিকপ্টার চড়ে দেখতে যাবো বন্যার পানি! আমার বউও যাবে ত্রাণ বিলাতে পড়ে হীরার চেইন, আসলে হীরা সোনা কিছুই না অভিনয়টা মেইন— আমি তো অভিনেতা, আমি তো অভিনেতা... মডেল ক্রেতা বউ আমার সেম, স্বামী-বউ মিল্লা তখন খেলবো চরম! আমি তো মন্ত্রী হবো, এবার মন্ত্রী হয়ে দেশ-বিদেশ ঘুরবো আমি ফ্রি, একেই বলে রাজনীতির ওভার বাউন্ডারি— আমি তো নেতা হবো !

ভিডিও লিংক : Click This Link



মন্তব্য ২ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (২) মন্তব্য লিখুন

১| ১৫ ই জানুয়ারি, ২০২৬ রাত ১:১০

স্বপ্নের শঙ্খচিল বলেছেন: সবাই এমপি হতে চায় ?
..................................................
সবাই বড়লোক হতে চায়
সবাই মন্ত্রী হতে চায়
সবাই ক্ষমতা চায়
........................................................
ভোটের আগে সবাই জনগনের ভালবাসা চায়
তাহলে জনগন কি চায়?
৫৪ বৎসরে পেল না কেন?
.........................................................
ইরানের বিদ্রোহীরা আবার রাজতন্ত্র চায় ,
বোকা জনগন কখন কি চায়
নিজেই জানে না !!!

২| ১৫ ই জানুয়ারি, ২০২৬ রাত ১:৪২

সামিউল ইসলাম বাবু বলেছেন: শুভকামনা

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.