| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
সৈয়দ কুতুব
নিজের অজ্ঞতা নিজের কাছে যতই ধরা পড়ছে প্রচলিত বিশ্বাসের প্রতি ততই অবিশ্বাস জন্মাছে!
সম্প্রতি শিয়া ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ কামাল আল-হাইদারির পক্ষ থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে 'জিহাদের' ডাক দেওয়া হয়েছে। ইরানের সার্বভৌমত্ব ও ধর্মীয় কর্তৃত্ব রক্ষার দোহাই দিয়ে এই আহ্বান জানানো হলেও, কিন্তু প্রশ্ন হলো, এই ডাক কি আসলেও মুসলিম উম্মাহর হৃদয়ে পৌঁছাবে? নাকি এটি কেবল একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠী বা মিলিশিয়া বাহিনীর হুঙ্কার হয়েই থেকে যাবে? বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক এবং ধর্মীয় প্রেক্ষাপট বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ইরান আসলে এক গভীর গোলকধাঁধায় আটকে আছে।
মুসলিম বিশ্বের একটি বড় অংশ, বিশেষ করে কট্টরপন্থী সুন্নি সমাজ, ইরানকে কোনোভাবেই 'ইসলামিক রাষ্ট্র' হিসেবে মনে-প্রাণে গ্রহণ করতে পারে না। অনেকের চোখে শিয়াদের ধর্মীয় বিশ্বাস ও আচার-আচরণ এতটাই ভিন্ন যে, তারা তাদের অনেকটা কাদিয়ানিদের (আহমদীয়া) মতোই ইসলামের মূলধারার বাইরের কোনো দল হিসেবে গণ্য করে।
এই যে বিশ্বাসের দেয়াল, এটিই ইরানের সবচেয়ে বড় দুর্বলতা। খামেনি বা হাইদারির মতো নেতারা যখন জিহাদের কথা বলেন, তখন সাধারণ সুন্নি মুসলমানদের বড় একটি অংশ একে 'ইসলামের লড়াই' হিসেবে না দেখে 'শিয়া শক্তির উত্থান' হিসেবে দেখে। যার ফলে খামেনির মতো বড় নেতার প্রয়াণেও মুসলিম বিশ্বে তেমন কোনো শোকের ছায়া দেখা যায় না, বরং এক ধরণের নীরবতা বা উদাসীনতা কাজ করে।
বাংলাদেশ বা পাকিস্তানের মতো দেশগুলোতে যখন ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ইরান কথা বলে, তখন সাধারণ মানুষ ইরানকে বাহবা দেয়। কিন্তু এই সমর্থনটা যতটা না ইরানের প্রতি ভালোবাসায়, তার চেয়ে অনেক বেশি ইসরায়েল বা আমেরিকার প্রতি ঘৃণায়। অর্থাৎ, "শত্রুর শত্রু আমার বন্ধু"—এই তত্ত্বে ইরান সাময়িক জনপ্রিয়তা পায়। কিন্তু যদি ধর্মীয় ঐক্যের প্রশ্ন আসে, তবে সেই একই মানুষগুলোই আবার শিয়া মতবাদকে প্রত্যাখ্যান করতে দ্বিধা করবে না।
একটি রাষ্ট্র যখন বাইরের শক্তির বিরুদ্ধে লড়াইয়ের ডাক দেয়, তখন তার ভেতরে থাকা উচিত ইস্পাতকঠিন ঐক্য। কিন্তু ইরানের বাস্তব চিত্র ভিন্ন। শত শত মানবাধিকার কর্মী এবং নোবেলজয়ী নার্গিস মোহাম্মদীকে বন্দী রেখে জনগণের হৃদয়ে জায়গা পাওয়া সম্ভব নয়। বিগত বছরগুলোতে হিজাব ইস্যু বা অর্থনৈতিক মন্দার সময় সরকার যেভাবে কঠোর অবস্থানে ছিল, তাতে সাধারণ মানুষের মধ্যে রাষ্ট্রের প্রতি এক ধরণের ক্ষোভ জমে আছে।
ইরান যদি আজ বন্দীদের মুক্তি দিত, জনগণের কাছে নিজেদের গতানুগতিক ভুলগুলোর জন্য ক্ষমা চাইত এবং একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গঠনের ডাক দিত—তবে হয়তো তারা তাদের সার্বভৌমত্ব রক্ষার জন্য এক বিশাল জনশক্তি পেত। কিন্তু তা না করে জিহাদের স্লোগান দেওয়াটা অনেকটা ফাঁকা কলসির শব্দ-এর মতো শোনাচ্ছে।
ইরানের আসল শক্তি এখন তাদের নিয়মিত সেনাবাহিনী নয়, বরং হিজবুল্লাহ, হুথি বা ইরাকি শিয়া মিলিশিয়াদের মতো প্রক্সি গ্রুপগুলো। জিহাদের ডাক দিলে হয়তো এই গোষ্ঠীগুলো সক্রিয় হবে, কিন্তু কোনো একটি সার্বভৌম রাষ্ট্র সরাসরি ইরানের হয়ে যুদ্ধে নামার ঝুঁকি নেবে না। ফলে ইরান যদি কোনো বড় সংঘাতে জড়ায়, তবে তাকে তার এই 'প্রক্সি' নেটওয়ার্ক নিয়েই লড়তে হবে, যা দীর্ঘমেয়াদে একটি রাষ্ট্রকে ধ্বংসের দিকেই ঠেলে দেয়।
ধর্মীয় স্লোগান দিয়ে সাময়িক আবেগ ছড়ানো গেলেও দীর্ঘমেয়াদী যুদ্ধে জয়ী হতে হলে জনগণের নৈতিক সমর্থন এবং বৈশ্বিক গ্রহণযোগ্যতা প্রয়োজন। ইরান যদি নিজেকে মুসলিম বিশ্বের নেতা হিসেবে দেখতে চায়, তবে তাকে আগে নিজের দেশের মানুষের মানবাধিকার নিশ্চিত করতে হবে এবং শিয়া-সুন্নি ধর্মীয় বিভাজন ঘুচানোর বাস্তবসম্মত উদ্যোগ নিতে হবে। অন্যথায়, এই জিহাদের ডাক ইরানকে আরও বেশি একাকী এবং কোণঠাসা করে ফেলবে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে জিহাদের ডাক - কালবেলা নিউজ
https://www.kalbela.com/world/middle-east/271130
০৩ রা মার্চ, ২০২৬ রাত ১০:৩৮
সৈয়দ কুতুব বলেছেন: আমেরিকা-ইসরায়েল জিহাদের ডাক দিয়েও এবার কাজ হইতেসে না । ফলস হামলা করেও কাতার, ওমান , আবু ধাবি , সাউদি কে টেনে আনতে পারছে না । ইউকে না করে দিয়েছে ।
২|
০৩ রা মার্চ, ২০২৬ রাত ১০:৪৫
ঠাকুরমাহমুদ বলেছেন:
এই যুদ্ধে ইরানে কি পরিমান মানুষ নিহত হয়েছেন বলে আপনার ধারণা?
০৩ রা মার্চ, ২০২৬ রাত ১০:৫৪
সৈয়দ কুতুব বলেছেন: ৭০০ জন মারা গিয়েছে শোনা যায় ; এর সাথে ১০ গুণ দেন ।
৩|
০৩ রা মার্চ, ২০২৬ রাত ১১:২২
অপু তানভীর বলেছেন: পার্সিয়ান কসাই আবার ইসলামকে রিপ্রেজেন্ট শুরু করলো আবার কবে থেকে?
ট্রাম্প মামু যদি জীবনে একটা ভাল করে থাকে সেটা হচ্ছে কসাই খামেনি হত্যা করা! এই জন্য ট্রাম্পকে ধন্যবাদ।
০৪ ঠা মার্চ, ২০২৬ রাত ১২:৪৬
সৈয়দ কুতুব বলেছেন: সিরিয়ার বাশার , সাউদির যুবরাজ , আরব আমিরাতের যুবরাজ , টারকির এরদোয়ান এবং ইরানের খামেনি এদের কারণে বহু লোক প্রাণ হারিয়েছে ; যাদের মাঝে মুসলিম মেজরিটির মানুষই বেশি ।
৪|
০৩ রা মার্চ, ২০২৬ রাত ১১:৪৮
ঋণাত্মক শূণ্য বলেছেন: তিন শয়তান রাষ্ট্রই ধ্বংস হোক।
০৪ ঠা মার্চ, ২০২৬ রাত ১২:৪৮
সৈয়দ কুতুব বলেছেন: এরকম চাওয়া সঠিক নয় । এই তিনদেশের রয়েছে টেকনোলজি , বিজনেস ও নেচারাল রিসোরস । আমরা কোনো না কোনোভাবে এদের সহায়তার কারণে টিকে আছি।
৫|
০৩ রা মার্চ, ২০২৬ রাত ১১:৫৩
জ্যাক স্মিথ বলেছেন: জিহাদের ডাক এসে গেছে এখন আর ঘরে বসে থাকার সময় নেই- ওহে বাংলার জনগণ তোমাদের হাতে যা আছে তাই নিয়ে প্রস্তুত হও, জিহাদের ডাকে ইরানের পথে রাওনা শুরু করো।
০৪ ঠা মার্চ, ২০২৬ রাত ১২:৫১
সৈয়দ কুতুব বলেছেন: আসলেই আর ঘরে বসে থাকার সময় নেই ।
©somewhere in net ltd.
১|
০৩ রা মার্চ, ২০২৬ রাত ১০:৩৫
শ্রাবণধারা বলেছেন: ইরান জিহাদের ডাক দেওয়ার কাজে ইসরাইল - আমেরিকা থেকে একটু পিছিয়ে আছে।

আমেরিকার মিলিটারি কমাণ্ডাররা আরো আগে তাদের সৈনিকদের বলেছে যে, এই যুদ্ধ ইরানের বিরুদ্ধে আর্মাগেডন এবং ট্রাম্প ইশ্বরের অভিষিক্ত হয়েছে যীশু খিষ্ট্রের দ্বিতীয় আগমনের জন্য!