নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

মানুষ মরে গেলে পঁচে যায় আর বেঁচে থাকলে বদলায়

সৈয়দ কুতুব

নিজের অজ্ঞতা নিজের কাছে যতই ধরা পড়ছে প্রচলিত বিশ্বাসের প্রতি ততই অবিশ্বাস জন্মাছে!

সৈয়দ কুতুব › বিস্তারিত পোস্টঃ

রাশিয়াকে ড্রোন দিয়ে ইরান নিজে কি পেল ?

০৪ ঠা মার্চ, ২০২৬ রাত ৮:৩৫


ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে একটা প্রশ্ন ঘুরেফিরে এসেছে — রাশিয়াকে ড্রোন দিয়ে ইরান আসলে কী পেল? ইরানের Shahed-136 ড্রোন ইউক্রেনের বিদ্যুৎকেন্দ্র ধ্বংস করেছে, সাধারণ মানুষের ঘরবাড়ি জ্বালিয়েছে। রাশিয়া এখন পর্যন্ত ৫৭ হাজারেরও বেশি এই ড্রোন ইউক্রেনে ছুড়েছে। কিন্তু তেহরানে বসে যারা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, তারা কি একবারও ভেবেছিলেন এর শেষটা কোথায় গিয়ে ঠেকবে?

হিসাবটা মাথায় ছিল সহজ। রাশিয়া বড় শক্তি, তার সাথে থাকলে আমেরিকা সাহস করবে না। বিনিময়ে Su-35 যুদ্ধবিমান পাওয়া যাবে, সামরিক শক্তি বাড়বে। কিন্তু কাগজের হিসাব আর মাঠের বাস্তবতা কখনো এক হয় না। ইসরায়েল যখন ইরানের ভূখণ্ডে একের পর এক হামলা করেছে, মস্কো একটা কথাও বলেনি। প্রতিশ্রুত বিমান? সেগুলো আসেনি। রাশিয়া নিজেই এত সমস্যায় যে মিত্রকে সামলানোর ফুরসত নেই।

কিন্তু সবচেয়ে বড় ঘটনাটা ঘটেছে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে। আমেরিকা কয়েক বছর আগে একটা Shahed-136 ড্রোন হস্তগত করেছিল। সেটা reverse-engineer করে তারা LUCAS নামের নিজস্ব ড্রোন বানিয়ে ফেলেছে, যার দাম মাত্র ৩৫ হাজার ডলার। আর সেই ড্রোনই Operation Epic Fury-তে ইরানের বিরুদ্ধে ব্যবহার করা হয়েছে। CENTCOM সরাসরি ঘোষণা দিয়েছে - "এই low-cost ড্রোনগুলো, যা ইরানের Shahed ড্রোনের আদলে তৈরি, এখন আমেরিকান প্রতিশোধ পৌঁছে দিচ্ছে।" ইরান যে অস্ত্র রাশিয়াকে দিয়েছিল, সেই একই নকশার অস্ত্র এখন ইরানের নিজের মাথায় পড়ছে। ইতিহাসে এরকম বিদ্রূপ খুব কমই দেখা গেছে।

অথচ একটু চারপাশে তাকালেই বোঝা যায় অন্যরা কত চালাকি করেছে। তুরস্কের কাছে বিশ্বমানের Bayraktar ড্রোন আছে। চীনের কাছে আরো উন্নত প্রযুক্তি। কিন্তু কেউ রাশিয়াকে এক টুকরো অস্ত্রও দেয়নি। তুরস্ক NATO সদস্য হয়েও রাশিয়ার সাথে ব্যবসা চালিয়ে গেছে, শস্য চুক্তির মধ্যস্থতা করেছে, দুই পক্ষের কাছেই দরকারি থেকেছে। চীন রাশিয়ার অর্থনীতিকে টিকিয়ে রেখেছে ঠিকই, কিন্তু এমনভাবে যে আঙুল তোলা কঠিন।

আর ভারতের কথা তো আলাদাভাবেই বলতে হয়। রাশিয়ার Rosneft থেকে প্রতিদিন প্রায় ৫ লাখ ব্যারেল তেল কেনার চুক্তি করেছে ভারত ; দুই দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় তেল সরবরাহ চুক্তি। কিন্তু এখানেই শেষ না। ২০২৫ সালের জুলাইয়ে ভারত ইউক্রেনের সবচেয়ে বড় ডিজেল সরবরাহকারী দেশ হয়ে উঠেছে, মোট আমদানির ১৫.৫ শতাংশ একা ভারত থেকে আসছে। এর মানে হলো — ভারত একদিকে রাশিয়ার কাছ থেকে সস্তায় তেল কিনছে, অন্যদিকে সেই তেল পরিশোধন করে ইউক্রেনের কাছেই বিক্রি করছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। দুই পক্ষ থেকেই মুনাফা।

আমেরিকা টুঁ শব্দটি করেনি। কারণ একটাই : ভারতকে দরকার, চীনকে ঠেকাতে হলে ভারতকে কাছে রাখতে হবে। কিন্তু ইরানকে দরকার নেই। তাই ইরান ড্রোন দিতেই পশ্চিমের কাছে নতুন অজুহাত তৈরি হয়ে গেল। ইউরোপ যে পারমাণবিক চুক্তি নিয়ে আলোচনা করছিল, সেটা ঠান্ডা ঘরে ঢুকে গেল। ব্রিটেন, ফ্রান্স, জার্মানি নতুন নিষেধাজ্ঞার পক্ষে দাঁড়িয়ে গেল। আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নিয়ম কখনো সবার জন্য সমান না - নিয়ম তাদের জন্য যারা দরকারি।

সবচেয়ে বড় ব্যাপার হলো, ইরান যেটা করেছে সেটা অন্যরাও করেছে - শুধু পার্থক্য হলো লুকিয়ে করেছে। চীনের microchip রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্রে পাওয়া গেছে। তুরস্কের বন্দর দিয়ে নিষেধাজ্ঞার পণ্য গেছে। কিন্তু তারা কেউ স্বীকার করেনি, অস্বীকার করার সুযোগ রেখেছে। ইরান সেই সুযোগটাই রাখেনি। প্রকাশ্যে, সরাসরি ড্রোন দিয়ে নিজেকে সহজ টার্গেট বানিয়ে ফেলেছে।

শেষ পর্যন্ত যা দাঁড়াল; রাশিয়া ড্রোন পেয়ে প্রযুক্তি শিখে নিল। আমেরিকা সেই ড্রোন copy করে ইরানের বিরুদ্ধেই ব্যবহার করল। ইরান দাঁড়িয়ে রইল একা — না রাশিয়ার কাছ থেকে সুরক্ষা এলো, না পশ্চিমের সাথে সম্পর্ক ঠিক হলো। যে যুদ্ধ ইরানের ছিল না, যে শত্রু ইরানের ছিল না, সেই যুদ্ধে নিজের সেরা অস্ত্র ঢেলে দিয়ে ইরান তিনটা জিনিস একসাথে হারিয়েছে : সামরিক সুবিধা, কূটনৈতিক সুযোগ, আর নৈতিক অবস্থান। ইউক্রেনের আকাশে যে ড্রোনগুলো উড়েছিল, সেগুলোর দাম শেষমেশ ইরানকেই গুনতে হচ্ছে - শুধু টাকায় না, নিজের মাটিতেও।

মন্তব্য ২৪ টি রেটিং +২/-০

মন্তব্য (২৪) মন্তব্য লিখুন

১| ০৪ ঠা মার্চ, ২০২৬ রাত ৯:২১

জ্যাক স্মিথ বলেছেন: দীর্ঘদিন গত প্রায় ১০ বছরে ধরে ইরানের কর্মকান্ড এমন পর্যায় পোঁছিয়েছিলো যে তাদের উপর হামলা অবসাম্ভবী ছিলো।

০৪ ঠা মার্চ, ২০২৬ রাত ১০:৫৩

সৈয়দ কুতুব বলেছেন: যে ওয়ার আমার নয় সেটাতে আমি নাক গলাবো না ; রাশিয়া ইরান কে ইউজ করেছে কিনতু দরকারের সময় হেলপ করে না ।

২| ০৪ ঠা মার্চ, ২০২৬ রাত ১০:২২

আমি নই বলেছেন: বৃহত্তর ইসরাইল প্রতিষ্ঠায় সবচাইতে বড় বাধা ছিল ইরান। সুতরাং কারন বড় কথা নয় বাধা সরানোই বড় কথা, তাই হামলা। এই যুদ্ধটা কোনো ভাবেই আমেরিকার যুদ্ধ নয়, ইরান থাকা না থাকায় আমেরিকার বিন্দু মাত্র লাভ-লস নাই, পেন্টাগন থেকেও স্বীকার করা হয়েছে ইরানের আমেরিকার ভুখন্ডে হামলা করার সামর্থ নেই, তাহলে কেন ইরানে হামলা? কারন সিম্পল, যেহেতু আমেরিকার প্রশাষনের পুরোটাই ইসরাইলের কন্ট্রোলে তাই তাং ফাং কারন দেখায়া হামলা করা।

উত্তর কোরিয়ার চাইতে আমেরিকাকে সরাসরি হুমকি মনে হয় না অন্য কোনো দেশ দিয়েছে, আমেরিকার স্যাংসন এটা সেটা কত হুমকি, সব কিছুকে বুড়ো আংগুল দেখিয়ে তারা এ্যটম বোমা বানাইছে, যুক্তরাষ্ট্রে পর্যন্ত পৌছানোর মত ক্ষেপনাস্ত্রও বানাইছে। কিন্তু যেহেতু ইসরাইল জন্য হুমকি নয় তাই উত্তর কোরিয়াকে আমেরিকা কিছুই বলে না। এতেই বোঝা যায় আসলে কারন ইসরাইল।

০৪ ঠা মার্চ, ২০২৬ রাত ১১:০৪

সৈয়দ কুতুব বলেছেন: শুধু Greater Israel দিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের ছবি আঁকলে অর্ধেক ছবি অন্ধকারেই থেকে যায়। কারণ মাঠে একটা না, দুইটা সাম্রাজ্যবাদী প্রজেক্ট একসাথে চলছে। ইরান কিন্তু তাদের এজেন্ডা চালু রেখেছে । খোমেনি ১৯৭৯ সালেই ঘোষণা দিয়েছিলেন ইসলামি বিপ্লব শুধু ইরানের ভেতরে আটকে রাখার জিনিস না, এটা রপ্তানি করতে হবে। এবং এটা শুধু বক্তৃতা না, ইরানের সংবিধানের ১৫৪ নম্বর অনুচ্ছেদে সরাসরি লেখা আছে যে মুস্তাজাফিনদের মুক্তির জন্য ইরান কাজ করবে। অর্থাৎ বিপ্লব রপ্তানি তাদের রাষ্ট্রীয় আদর্শ, কোনো গোপন ষড়যন্ত্র না।

আর Shia Crescent বা শিয়া অর্ধচন্দ্র ধারণাটা জর্ডানের বাদশাহ আব্দুল্লাহ ২০০৪ সালে প্রথম উচ্চারণ করেছিলেন সতর্কতা হিসেবে। কিন্তু ইরানের নিজের কমান্ডাররা এটাকে গর্বের সাথে নিজেদের অর্জন বলেন। ইরান থেকে ইরাক, সিরিয়া হয়ে লেবানন পর্যন্ত একটা স্থলপথের করিডোর তৈরি করা হয়েছে যেখানে ইরানের প্রভাবাধীন সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো কাজ করে। এটা কোনো তাত্ত্বিক ধারণা না, এটা ভূরাজনৈতিক বাস্তবতা।

যারা শুধু Greater Israel নিয়ে কথা বলেন তারা কি সিরিয়ার পাঁচ লক্ষ মৃত মানুষের হিসাব করেছে, যেখানে ইরান আসাদকে টিকিয়ে রাখতে সরাসরি যুদ্ধ করেছে? ইয়েমেনে যে দুর্ভিক্ষ চলছে সেখানে হুথিদের পেছনে ইরানের অস্ত্র আর অর্থের কথা কি আলোচনায় আসে? লেবাননে হেজবোল্লাহ একটা গোটা রাষ্ট্রকে জিম্মি করে রেখেছে, সেটা কার প্রজেক্ট ?

আসল কথা হলো Greater Israel আর Shia Crescent দুইটাই আঞ্চলিক আধিপত্যের স্বপ্ন, দুইটাতেই সাধারণ মানুষের রক্ত জড়িয়ে আছে। পার্থক্য শুধু একটা পশ্চিমা মিডিয়ায় বেশি আলোচিত হয়, আরেকটা মুসলিম সংহতির আবেগের আড়ালে চাপা পড়ে যায়। কিন্তু ইরাকের সুন্নি কৃষক, সিরিয়ার বাস্তুহারা পরিবার, বা ইয়েমেনের অনাহারী শিশু - এদের কাছে কোন সাম্রাজ্যবাদ ভালো আর কোনটা মন্দ সেই বিভাজনটা নিরর্থক।

৩| ০৪ ঠা মার্চ, ২০২৬ রাত ১১:৪৩

আমি নই বলেছেন: লেখক বলেছেন: শুধু Greater Israel দিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের ছবি আঁকলে অর্ধেক ছবি অন্ধকারেই থেকে যায়। কারণ মাঠে একটা না, দুইটা সাম্রাজ্যবাদী প্রজেক্ট একসাথে চলছে। ইরান কিন্তু তাদের এজেন্ডা চালু রেখেছে । খোমেনি ১৯৭৯ সালেই ঘোষণা দিয়েছিলেন ইসলামি বিপ্লব শুধু ইরানের ভেতরে আটকে রাখার জিনিস না, এটা রপ্তানি করতে হবে। এবং এটা শুধু বক্তৃতা না, ইরানের সংবিধানের ১৫৪ নম্বর অনুচ্ছেদে সরাসরি লেখা আছে যে মুস্তাজাফিনদের মুক্তির জন্য ইরান কাজ করবে। অর্থাৎ বিপ্লব রপ্তানি তাদের রাষ্ট্রীয় আদর্শ, কোনো গোপন ষড়যন্ত্র না।

আর Shia Crescent বা শিয়া অর্ধচন্দ্র ধারণাটা জর্ডানের বাদশাহ আব্দুল্লাহ ২০০৪ সালে প্রথম উচ্চারণ করেছিলেন সতর্কতা হিসেবে। কিন্তু ইরানের নিজের কমান্ডাররা এটাকে গর্বের সাথে নিজেদের অর্জন বলেন। ইরান থেকে ইরাক, সিরিয়া হয়ে লেবানন পর্যন্ত একটা স্থলপথের করিডোর তৈরি করা হয়েছে যেখানে ইরানের প্রভাবাধীন সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো কাজ করে। এটা কোনো তাত্ত্বিক ধারণা না, এটা ভূরাজনৈতিক বাস্তবতা।

যারা শুধু Greater Israel নিয়ে কথা বলেন তারা কি সিরিয়ার পাঁচ লক্ষ মৃত মানুষের হিসাব করেছে, যেখানে ইরান আসাদকে টিকিয়ে রাখতে সরাসরি যুদ্ধ করেছে? ইয়েমেনে যে দুর্ভিক্ষ চলছে সেখানে হুথিদের পেছনে ইরানের অস্ত্র আর অর্থের কথা কি আলোচনায় আসে? লেবাননে হেজবোল্লাহ একটা গোটা রাষ্ট্রকে জিম্মি করে রেখেছে, সেটা কার প্রজেক্ট ?

আসল কথা হলো Greater Israel আর Shia Crescent দুইটাই আঞ্চলিক আধিপত্যের স্বপ্ন, দুইটাতেই সাধারণ মানুষের রক্ত জড়িয়ে আছে। পার্থক্য শুধু একটা পশ্চিমা মিডিয়ায় বেশি আলোচিত হয়, আরেকটা মুসলিম সংহতির আবেগের আড়ালে চাপা পড়ে যায়। কিন্তু ইরাকের সুন্নি কৃষক, সিরিয়ার বাস্তুহারা পরিবার, বা ইয়েমেনের অনাহারী শিশু - এদের কাছে কোন সাম্রাজ্যবাদ ভালো আর কোনটা মন্দ সেই বিভাজনটা নিরর্থক।


কিন্তু এর কোনোটাইতো আমেরিকার জন্য সরাসরি হুমকি নয় যে ইরানকে ধ্বংশ করার জন্যে ব্যাপক যুদ্ধ করতে হবে!! ইরানের উপর কঠোর স্যাংশনই এনাফ ছিল যেমনটা উত্তর কোরিয়ার উপর আছে।

খোমেনি একজন জল্লাদ ছিল এ ব্যাপারে কোনো সন্দেহ নেই কিন্তু ইসরাইল আরো বড় জল্লাদ। ইসরাইল প্রতিষ্ঠার পর মধ্যেপ্রাচ্যের সবগুলোর যুদ্ধের প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষ কারন হচ্ছে বৃহত্তর ইসরাইল প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন। আপনি অবস্যই শুনেছেন গত সপ্তাহে সাবেক ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী পরবর্তি টার্গেট হিসেবে কাতার এবং তুরস্কের কথা বলেছে। আর ওরা যে শুধু কথা বলার জন্যে বলেনা তার হাজারটা প্রমান আছে। ওরা জানে বৃহত্তর ইসরাইল প্রতিষ্ঠায় পরবর্তিতে এই দেশ গুলো বাধা হয়ে দাড়াতে পারে।

আপনি কি বিশ্বাস করেন সিরিয়ার লক্ষ লক্ষ সুন্নি হত্যা জন্য বা হুথি / হেজবুল্লার হাত থেকে ঐ দেশগুলোর জনগনকে রক্ষার জন্যে আমেরিকা ইরানে হামলা করেছে?

০৫ ই মার্চ, ২০২৬ রাত ১২:০৮

সৈয়দ কুতুব বলেছেন: আমি আমেরিকা-ইসরায়েলের ইরানে হামলার বিপক্ষে । মুলত ইরান পারমানবিক বোমা বানাতে পারে এই অজুহাতে হামলা করছে তারা ; তবে ইরান একটা শিয়া মুসলিম দেশ । খোমেনি যে বিপ্লব রফতানি করার কথা বলেছে সেটা সুন্নি দেশগুলো ভালো ভাবে নিবে না । কারণ এতে বাদশাহদের রাজতন্ত্র হুমকির মুখে পড়বে । মুল কারণ ইসরায়েলের ভয় এবং পাশাপাশি সুন্নি দের ও ভয় আছে । আমি বলতে চেয়েছি ইরান তাদের drone রাশিয়াকে দেয়া উচিত হয় নি । কারণ রাশিয়া ইউক্রেনে আগ্রাসন চালিয়েছে । এটা কোনোভাবেই ভালো কাজ হতে পারে না । ইরানের উচিত ছিলো বাংলাদেশের মতো নিরীহ দেশের কাছে drone সেল করা । যেমন : চায়না বাংলাদেশে drone কারখানা করতে চায় যদি ইরান proposal দিতো তবে সুযোগ ছিলো। ইরান জোট নিরপেক্ষ সংঘের মেমবার কিনতু সেটাকে সঠিক ভাবে কাজে লাগাতে পারেনি। রাশিয়ার মতো দেশকে সহায়তা করা চরম ভুল ।

৪| ০৫ ই মার্চ, ২০২৬ রাত ১২:৪৪

আঁধারের যুবরাজ বলেছেন: রাশিয়া এবং চীন ইরানকে নিয়মিত সাহায্য করছে। চীন ইরানের সামরিক সরঞ্জামাদির যন্ত্রাংশ ,বারুদ ইত্যাদি দিয়ে যাচ্ছে। রাশিয়া এবং চীন ইরানিদেরকে সামরিক তথ্য দিচ্ছে। এইযে এতগুলি দেশে আমেরিকার সামরিক ঘাঁটিগুলিতে নিখুঁত আক্রমণ করেছে , এর জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য এই দুই দেশ দিয়েছে।

তেল সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়াতে মানুষ এখন বাধ্য হয়ে রাশিয়ার তেল কিনবে। জাপান ,দক্ষিণ কোরিয়া বা ইউক্রেন থেকে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নাকি সরিয়ে নিয়ে আসা হবে। আমেরিকা ইসরাইল ছাড়া আর কাউকে নিয়ে মাথা ঘামায় না.ওই দেশ গুলি থেকে ওই সব সরালে তাদের কি হবে সেটা কোনো বিষয় না তাদের জন্য।অন্তত ইউক্রেনের জন্য সেটা বিপদজনক হবে। তাই তারা কানাডা বা গ্রিনল্যান্ড দখল করে ফেলতে চায়। অথচ এই দুই দেশই তাদের বন্ধু রাষ্ট্র !

০৫ ই মার্চ, ২০২৬ রাত ১২:৫৫

সৈয়দ কুতুব বলেছেন: রাশিয়া চায়নার সাথে বহুদেশের বিজনেস আছে তবে সরাসরি কেউ এভাবে drone technology share করেনি। রাশিয়া এবং চায়নার সাথে এমন কোনো treaty ইরান করতে পারে নাই যেটা তাকে এখন সুবিধা পেতে পারে। ইরান বেশি গা দেখিয়েছে Ukraine war এ যেটা বেদরকারি কাজ ।

ইরান জোট নিরপেক্ষ সংঘের মেমবার যারা চেয়েছিলো আমেরিকা , রাশিয়া , চায়না বলয় থেকে বের হয়ে আসতে । কিনতু ইরান , ভারত এরা বরাবরই সুপার পাওয়ারদের কোলে গিয়ে বসেছে । ছোটো দেশ গুলোর সাপোরট পেলে ইরানের ইকোনমি এতো খারাপ করতো না ।

৫| ০৫ ই মার্চ, ২০২৬ রাত ১:৪৪

শ্রাবণধারা বলেছেন: বেশ ভালো এবং গুরুত্বপূর্ন পোস্ট।

রাশিয়াকে ড্রোন দিয়ে ইরান নিজে কি পেল? এর মীমাংসাটা খুব বেশি পরিষ্কার এখনও হয়নি বলে আমার ধারনা। তবে ইরানকে এই মুহূর্তে দৃশ্যপটে একেবারে একাই দেখা যাচ্ছে। যেটা হবার কথা ছিল না।

০৫ ই মার্চ, ২০২৬ রাত ২:১০

সৈয়দ কুতুব বলেছেন: ইরান একাই লড়বে ।

৬| ০৫ ই মার্চ, ২০২৬ দুপুর ১২:৩২

ডঃ এম এ আলী বলেছেন:



খোমেনী না হয় জীবন দিল প্রথম আঘাতে,তবে বাপের বেটা ইরান একাই যুজে যাচ্ছে
প্রবল প্রতাপশালী সারা বিশ্বের বিপক্ষে। জন্মিলে মরিতে হ্ইবে ইরানীরা জানে
জন্মের পর হতে , পারশ্য সাম্রাজ্য না হলে কী করে রাজত্ব করতো বহু
কাল ধরে , এদেশের রা্ট্রভাষা ফারসি ছিল বহু দিন ধরে, ঘরে ঘরে
এখনো ফার্সি কিতাব রয়েছে থরে থরে , যদিউ আমাদের ঘরে
থাকা ফার্সি কিতাব সব পুড়ে গেছে সেই মুক্তি যুদ্ধের কালে ।
তবে ফার্সি বয়ান এখনো আছে কিছু কিছু ওয়াজীদের
বয়ানে । সেগুলিই এখন বাজছে নব উ্দ্যমে
জোড়ে সোরে । জানিনা এ জাতির
মোহ কাটবে কতদিনে ।

০৫ ই মার্চ, ২০২৬ বিকাল ৪:৫১

সৈয়দ কুতুব বলেছেন: মোহ আর কাটবে বলে মনে হয় না ।

৭| ০৫ ই মার্চ, ২০২৬ দুপুর ২:০০

রাজীব নুর বলেছেন: ওরে বাবা, আপনি তো বিরাট আন্তর্কাতিক বিশ্লেষক!!

০৫ ই মার্চ, ২০২৬ বিকাল ৪:৫২

সৈয়দ কুতুব বলেছেন: আমি কোয়াক বিশ্লেষক :)

৮| ০৫ ই মার্চ, ২০২৬ দুপুর ২:৩৬

সাজিদ উল হক আবির বলেছেন: আচ্ছা, ধরেন এই যে এক মন্তব্যে বললেন খোমেনি বলেছেন ইসলামিক রেভলিউশান রপ্তানি করা লাগবে - আপনার এই বক্তব্যের সোর্স কি?
শিয়াদের আকিদা নিয়েও যে মন্তব্যগুলো আমাদের আলেম সমাজ করেন, সেগুলোরই বা সোর্স কি?

সৈয়দ কুতুবের যে ছবি নিজের প্রোফাইলে যুক্ত করে রেখেছেন, তার পেরিফেরির বাইরে এসে একটা নিউট্রাল জায়গা থেকে জবাব দেন কাইন্ডলি।

০৫ ই মার্চ, ২০২৬ বিকাল ৪:৫৭

সৈয়দ কুতুব বলেছেন: Click This Link

Source হলো Radio Tehran, March 21, 1980

আলেমরা কি বলেন সেটা তারাই জানেন ।

৯| ০৫ ই মার্চ, ২০২৬ রাত ১০:২১

সাজিদ উল হক আবির বলেছেন: জেন জি দের নিয়ে আমার অভিজ্ঞতা জিজ্ঞেস করেছিলেন না? এটা ধরেন, প্রাইমারিলি আপনার ওপরের এই লিঙ্ক শেয়ার করার মতো। জেন জিরা লিঙ্ক আর রেফারেন্স গ্যাদার করতে ওস্তাদ। কিন্তু তারা প্রায়ই সোর্স ভ্যারিফাই এবং ক্রসচেক না করেই ধামাধাম লিঙ্ক শেয়ার করে। আর তারা যা লেখে, তার প্রায় পুরোটা, বা সিংহভাগ জেনারেটিভ এআই এর সহায়তায় লেখা।

প্রথমত, যে ওয়েবসাইটের লিঙ্ক আপনি দিলেন, ওদের ওয়েস্টের সঙ্গে গভীর যোগাযোগ আছে। লন্ডন বেজড একটা প্রকাশনা সংস্থার (প্লুটো প্রেস) সঙ্গে তাদের প্রকাশনা ও প্রচারণা সংক্রান্ত চুক্তি আছে। পাশ্চাত্যের সঙ্গে লিয়াজো রাখা কোন সোর্সের ইরান বিষয়ক মন্তব্য আমি নির্ভেজালভাবে গ্রহণ করি না। আপনি করেন, কারণ আপনার প্রোফাইল পিকচারে সৈয়দ কুতুবের ছবি টাঙ্গানো।

দ্বিতীয়ত, রেডিও তেহরানে ১৯৮০ সালে প্রচারিত ভাষণ বলে আয়াতোল্লাহ খোমেনির নামে যে ভাষণ এখানে লিপিবদ্ধ করা আছে, সেই ভাষণের কোন অডিও লিঙ্ক যুক্ত করা নাই। কাজেই এই ভাষণের কতোটুকু আদতে খোমেনির, আর কতোটুকু বিকৃত করা - আপনার দেয়া লেখার লিঙ্ক থেকে তা প্রমাণ করা যায় না।

তৃতীয়ত, ভাষণটাকে যদি আংশিক সত্য বলে ধরেও নিই, তার শিরোনাম হচ্ছে - উই শ্যাল কনফ্রন্ট দা ওয়ার্ল্ড উইথ আওয়ার ইডিওলজি। সোজা বাংলায়, আমরা আমাদের আদর্শকে পূঁজি করে পৃথিবীকে মোকাবিলা করবো। এখানে রেভলিউশান এক্সপোর্ট করার কথা কোথায় বলা হল? ভেতরে, পুরো টেক্সটে, তারা তাদের আদর্শ বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে দেবে, এমন কথা এক জায়গাতেও তো খুঁজে পেলাম না।

চতুর্থত, যে ইস্যুতে এই ভাষণটা উক্ত পত্রিকা প্রকাশ করেছে, সেই ইস্যুর আর যে চারটি লেখা আছে, তার একটি অ্যামেরিকান, একটি ব্রিটিশ, এবং দুটি আইরিশ লেখক - গবেষকদের প্রসবকৃত প্রবন্ধ। ইরান নিয়ে ইরানী না, লিখছে অরিয়েন্টালিজমের আব্বুরা। এই বিষয়টা খতিয়ে বোঝার চেষ্টা করেন।

মোদ্দাকথা, চ্যাটজিপিটিকে টেক্সট সামারি করতে না বলে, লেখাটা নিজে একবার পুরো পড়েন।

অবশ্য যেদিন আপনি বলেছিলেন ইসরায়েল আর ইরান দুই পক্ষই একরকম, সেদিনই আপনার রাজনৈতিক বোঝাপড়ার ব্যাপারে আমার একটা আইডিয়া হয়ে গেছে। এর থেকে উন্নত চিন্তা আপনার কাছে আশাও করি না।

০৫ ই মার্চ, ২০২৬ রাত ১১:০৬

সৈয়দ কুতুব বলেছেন: আমি জানা বিষয়ে এক মিনিট সময় খরচ করি না ; সরাসরি ডাইরেকশন দেই আর AI সেটা লিখে দেয় । আপনি আমি কি লিংক শেয়ার করলাম সেটা দিয়ে পুরো জেন-জি কে নিয়ে রচনা লিখে ফেললেন ।

সিরিয়ায় ইরানের বাশার আল আসাদ কে সাপোরট করার কি কারণ ছিলো ? হুতি , হেজবুললাহ কি করছে ? এটা একটু বলতেন যদি ভালো হতো । কি মনে হয় ইরানের নিজ দেশের বাহিরে নতুন দোকান খুলে কি মহাকাশ গবেষনা করছিলো নাকি ইসলামি বিপ্লব রফতানি করছিলো ? Actions speak louder than words . ;)

সাইয়েদ কুতুব কে নিয়ে একটা লেখা পড়ছিলাম আর তার কিছু সময় পরে সামুতে আইডি খুলি । নাথিং সিরিয়াস । তখন খোমেনি কে লেখা পড়লে হয়তো সে নামেই লেখা পড়তাম । :)

আপনার অরিজিনাল টেক্সট খুজে বের করার প্রয়াস কে সাধুবাদ জানাই ।

১০| ০৫ ই মার্চ, ২০২৬ রাত ১১:০৫

ঠাকুরমাহমুদ বলেছেন:



আমি হয়তো মন্তব্য আকারে এতো ব্যাখ্যা দিয়ে বলতে পারতাম না। আমার কথাগুলো বলেছেন যথাক্রমে -
জনাব আমি নই, আঁধারের যুবরাজ, শ্রাবণধারা ও সাজিদ উল হক আবির সাহেব।

আমেরিকা চীনের সাথে কেনো যুদ্ধ করে না অথবা উত্তর কোরিয়া?

০৫ ই মার্চ, ২০২৬ রাত ১১:১২

সৈয়দ কুতুব বলেছেন: চীনের কাছে পারমাণবিক অস্ত্র আছে, বিশাল সেনাবাহিনী আছে, আর আমেরিকার অর্থনীতির সাথে এতটাই জড়িয়ে আছে যে যুদ্ধ মানে নিজের পায়ে কুড়াল মারা।

উত্তর কোরিয়া চীনের পেছনে দাঁড়িয়ে আছে। উত্তর কোরিয়ায় হামলা মানে চীনের সীমান্তে আমেরিকান সেনা, এটা চীন কখনো মেনে নেবে না। ১৯৫০ সালের কোরিয়া যুদ্ধেও চীন সরাসরি ঢুকে পড়েছিল। দক্ষিণ কোরিয়ার রাজধানী সিউলে প্রায় এক কোটি মানুষ থাকে। সীমান্ত থেকে মাত্র পঞ্চাশ কিলোমিটার দূরে। উত্তর কোরিয়ার হাজার হাজার কামান সীমান্তে মোতায়েন আছে। যুদ্ধ শুরুর প্রথম কয়েক ঘণ্টায় সিউল ধ্বংসস্তূপে পরিণত হবে ।

আমি আপনার কাছ থেকে জানতে চাই যদি আমার ধারনা ভুল হয়ে থাকে ধরিয়ে দিতে পারেন । আপনি একজন wise person . :``>>

১১| ০৫ ই মার্চ, ২০২৬ রাত ১১:১৯

সাজিদ উল হক আবির বলেছেন: আপনি যে জেনারেটিভ এআই দিয়ে ব্লগপোস্ট প্রসব করেন, এটা স্বীকার করার জন্য ধন্যবাদ। আমার এই পুরো আলাপে এতোটুকুই টেকডাউন।

আমার মন্তব্যের উত্তরে দেয়া আপনার প্রতিউত্তরের ভাষা খেয়াল করুন। ওটা আপনার নিজের ভাষা। আর আপনার পোস্টে যে সহজ সরল প্রাঞ্জল ভাষা দেখা যায়, ওটা এআই এর। শিক্ষক হিসেবে আমি এটাকে প্লেজারিজম ধরি। অবশ্যই আমি আপনার শিক্ষক না। আপনি এআই ব্যবহার করে পোস্ট লিখতেই পারেন। কাজটা করতেই পারেন। কিন্তু এটা বাকি ব্লগারদের না জানাটা আমার কাছে অনৈতিক লাগে। সেটা জানানোর ব্যবস্থা করে দেয়ার জন্য ধন্যবাদ।

পুরো কনভারসেশনের স্ক্রিনশট নিয়ে রাখলাম। মনখুলে ব্লগিং করুন। শুভকামনা।

০৫ ই মার্চ, ২০২৬ রাত ১১:৩৫

সৈয়দ কুতুব বলেছেন: ধারণা আর কাঠামো আমার, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা শুধু একটা হাতিয়ার। হাতিয়ার যতই ধারালো হোক, হাত যদি না জানে কোথায় মারতে হবে তাহলে হাতিয়ার কোনো কাজের না। আমি যদি ইরানের শাহেদ ড্রোনের ইতিহাস না জানতাম, তাহলে শুধু হাতিয়ার দিয়ে এই লেখা সম্ভব হতো না।

বিশ্বাস না হলে আপনি নিজে চেষ্টা করে দেখুন। আর মন্তব্যের জবাব না দিয়ে স্ক্রিনশট নিয়ে পালিয়ে যাবেন, এটা আশা করিনি। :)

১২| ০৬ ই মার্চ, ২০২৬ দুপুর ২:৫৫

রাজীব নুর বলেছেন: পোষ্টে আবার এলাম। কে কি মন্তব্য করেছেন সেটা জানতগে।

০৬ ই মার্চ, ২০২৬ বিকাল ৩:২১

সৈয়দ কুতুব বলেছেন: শুকরিয়া ।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.