| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
সৈয়দ কুতুব
নিজের অজ্ঞতা নিজের কাছে যতই ধরা পড়ছে প্রচলিত বিশ্বাসের প্রতি ততই অবিশ্বাস জন্মাছে!
ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে একটা প্রশ্ন ঘুরেফিরে এসেছে — রাশিয়াকে ড্রোন দিয়ে ইরান আসলে কী পেল? ইরানের Shahed-136 ড্রোন ইউক্রেনের বিদ্যুৎকেন্দ্র ধ্বংস করেছে, সাধারণ মানুষের ঘরবাড়ি জ্বালিয়েছে। রাশিয়া এখন পর্যন্ত ৫৭ হাজারেরও বেশি এই ড্রোন ইউক্রেনে ছুড়েছে। কিন্তু তেহরানে বসে যারা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, তারা কি একবারও ভেবেছিলেন এর শেষটা কোথায় গিয়ে ঠেকবে?
হিসাবটা মাথায় ছিল সহজ। রাশিয়া বড় শক্তি, তার সাথে থাকলে আমেরিকা সাহস করবে না। বিনিময়ে Su-35 যুদ্ধবিমান পাওয়া যাবে, সামরিক শক্তি বাড়বে। কিন্তু কাগজের হিসাব আর মাঠের বাস্তবতা কখনো এক হয় না। ইসরায়েল যখন ইরানের ভূখণ্ডে একের পর এক হামলা করেছে, মস্কো একটা কথাও বলেনি। প্রতিশ্রুত বিমান? সেগুলো আসেনি। রাশিয়া নিজেই এত সমস্যায় যে মিত্রকে সামলানোর ফুরসত নেই।
কিন্তু সবচেয়ে বড় ঘটনাটা ঘটেছে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে। আমেরিকা কয়েক বছর আগে একটা Shahed-136 ড্রোন হস্তগত করেছিল। সেটা reverse-engineer করে তারা LUCAS নামের নিজস্ব ড্রোন বানিয়ে ফেলেছে, যার দাম মাত্র ৩৫ হাজার ডলার। আর সেই ড্রোনই Operation Epic Fury-তে ইরানের বিরুদ্ধে ব্যবহার করা হয়েছে। CENTCOM সরাসরি ঘোষণা দিয়েছে - "এই low-cost ড্রোনগুলো, যা ইরানের Shahed ড্রোনের আদলে তৈরি, এখন আমেরিকান প্রতিশোধ পৌঁছে দিচ্ছে।" ইরান যে অস্ত্র রাশিয়াকে দিয়েছিল, সেই একই নকশার অস্ত্র এখন ইরানের নিজের মাথায় পড়ছে। ইতিহাসে এরকম বিদ্রূপ খুব কমই দেখা গেছে।
অথচ একটু চারপাশে তাকালেই বোঝা যায় অন্যরা কত চালাকি করেছে। তুরস্কের কাছে বিশ্বমানের Bayraktar ড্রোন আছে। চীনের কাছে আরো উন্নত প্রযুক্তি। কিন্তু কেউ রাশিয়াকে এক টুকরো অস্ত্রও দেয়নি। তুরস্ক NATO সদস্য হয়েও রাশিয়ার সাথে ব্যবসা চালিয়ে গেছে, শস্য চুক্তির মধ্যস্থতা করেছে, দুই পক্ষের কাছেই দরকারি থেকেছে। চীন রাশিয়ার অর্থনীতিকে টিকিয়ে রেখেছে ঠিকই, কিন্তু এমনভাবে যে আঙুল তোলা কঠিন।
আর ভারতের কথা তো আলাদাভাবেই বলতে হয়। রাশিয়ার Rosneft থেকে প্রতিদিন প্রায় ৫ লাখ ব্যারেল তেল কেনার চুক্তি করেছে ভারত ; দুই দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় তেল সরবরাহ চুক্তি। কিন্তু এখানেই শেষ না। ২০২৫ সালের জুলাইয়ে ভারত ইউক্রেনের সবচেয়ে বড় ডিজেল সরবরাহকারী দেশ হয়ে উঠেছে, মোট আমদানির ১৫.৫ শতাংশ একা ভারত থেকে আসছে। এর মানে হলো — ভারত একদিকে রাশিয়ার কাছ থেকে সস্তায় তেল কিনছে, অন্যদিকে সেই তেল পরিশোধন করে ইউক্রেনের কাছেই বিক্রি করছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। দুই পক্ষ থেকেই মুনাফা।
আমেরিকা টুঁ শব্দটি করেনি। কারণ একটাই : ভারতকে দরকার, চীনকে ঠেকাতে হলে ভারতকে কাছে রাখতে হবে। কিন্তু ইরানকে দরকার নেই। তাই ইরান ড্রোন দিতেই পশ্চিমের কাছে নতুন অজুহাত তৈরি হয়ে গেল। ইউরোপ যে পারমাণবিক চুক্তি নিয়ে আলোচনা করছিল, সেটা ঠান্ডা ঘরে ঢুকে গেল। ব্রিটেন, ফ্রান্স, জার্মানি নতুন নিষেধাজ্ঞার পক্ষে দাঁড়িয়ে গেল। আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নিয়ম কখনো সবার জন্য সমান না - নিয়ম তাদের জন্য যারা দরকারি।
সবচেয়ে বড় ব্যাপার হলো, ইরান যেটা করেছে সেটা অন্যরাও করেছে - শুধু পার্থক্য হলো লুকিয়ে করেছে। চীনের microchip রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্রে পাওয়া গেছে। তুরস্কের বন্দর দিয়ে নিষেধাজ্ঞার পণ্য গেছে। কিন্তু তারা কেউ স্বীকার করেনি, অস্বীকার করার সুযোগ রেখেছে। ইরান সেই সুযোগটাই রাখেনি। প্রকাশ্যে, সরাসরি ড্রোন দিয়ে নিজেকে সহজ টার্গেট বানিয়ে ফেলেছে।
শেষ পর্যন্ত যা দাঁড়াল; রাশিয়া ড্রোন পেয়ে প্রযুক্তি শিখে নিল। আমেরিকা সেই ড্রোন copy করে ইরানের বিরুদ্ধেই ব্যবহার করল। ইরান দাঁড়িয়ে রইল একা — না রাশিয়ার কাছ থেকে সুরক্ষা এলো, না পশ্চিমের সাথে সম্পর্ক ঠিক হলো। যে যুদ্ধ ইরানের ছিল না, যে শত্রু ইরানের ছিল না, সেই যুদ্ধে নিজের সেরা অস্ত্র ঢেলে দিয়ে ইরান তিনটা জিনিস একসাথে হারিয়েছে : সামরিক সুবিধা, কূটনৈতিক সুযোগ, আর নৈতিক অবস্থান। ইউক্রেনের আকাশে যে ড্রোনগুলো উড়েছিল, সেগুলোর দাম শেষমেশ ইরানকেই গুনতে হচ্ছে - শুধু টাকায় না, নিজের মাটিতেও।
২|
০৪ ঠা মার্চ, ২০২৬ রাত ১০:২২
আমি নই বলেছেন: বৃহত্তর ইসরাইল প্রতিষ্ঠায় সবচাইতে বড় বাধা ছিল ইরান। সুতরাং কারন বড় কথা নয় বাধা সরানোই বড় কথা, তাই হামলা। এই যুদ্ধটা কোনো ভাবেই আমেরিকার যুদ্ধ নয়, ইরান থাকা না থাকায় আমেরিকার বিন্দু মাত্র লাভ-লস নাই, পেন্টাগন থেকেও স্বীকার করা হয়েছে ইরানের আমেরিকার ভুখন্ডে হামলা করার সামর্থ নেই, তাহলে কেন ইরানে হামলা? কারন সিম্পল, যেহেতু আমেরিকার প্রশাষনের পুরোটাই ইসরাইলের কন্ট্রোলে তাই তাং ফাং কারন দেখায়া হামলা করা।
উত্তর কোরিয়ার চাইতে আমেরিকাকে সরাসরি হুমকি মনে হয় না অন্য কোনো দেশ দিয়েছে, আমেরিকার স্যাংসন এটা সেটা কত হুমকি, সব কিছুকে বুড়ো আংগুল দেখিয়ে তারা এ্যটম বোমা বানাইছে, যুক্তরাষ্ট্রে পর্যন্ত পৌছানোর মত ক্ষেপনাস্ত্রও বানাইছে। কিন্তু যেহেতু ইসরাইল জন্য হুমকি নয় তাই উত্তর কোরিয়াকে আমেরিকা কিছুই বলে না। এতেই বোঝা যায় আসলে কারন ইসরাইল।
©somewhere in net ltd.
১|
০৪ ঠা মার্চ, ২০২৬ রাত ৯:২১
জ্যাক স্মিথ বলেছেন: দীর্ঘদিন গত প্রায় ১০ বছরে ধরে ইরানের কর্মকান্ড এমন পর্যায় পোঁছিয়েছিলো যে তাদের উপর হামলা অবসাম্ভবী ছিলো।