| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
সৈয়দ কুতুব
নিজের অজ্ঞতা নিজের কাছে যতই ধরা পড়ছে প্রচলিত বিশ্বাসের প্রতি ততই অবিশ্বাস জন্মাছে!
আজ সকালে শেখ হাসিনার কন্যা সায়মা ওয়াজেদ পুতুলের বৈবাহিক বিচ্ছেদের খবরটি যেভাবে সংবাদমাধ্যমে উঠে এসেছে, তা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন করে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। খবরটার মূল বিষয় তাঁর ২০২১ সালের বিচ্ছেদ, দুবাইয়ের আদালতে হওয়া সেটেলমেন্ট, স্বামী খন্দকার মাশরুর হোসেনের কাছ থেকে পাওয়া নগদ অর্থ, আর যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় থাকা দুটি বাড়ির মালিকানা হস্তান্তর। খবরটা পড়ে প্রথম যে প্রশ্নটা মনে আসে সেটা হলো, একজন মানুষের বিচ্ছেদ কেন হেডলাইন হয়ে গেল ?
আধুনিক সমাজে বিচ্ছেদ একটা খুবই স্বাভাবিক ঘটনা। পৃথিবীর অসংখ্য মানুষ প্রতিদিন বিচ্ছেদের মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন, সন্তানের কাস্টডি ঠিক করছেন, সম্পত্তি ভাগ করছেন। এতে লজ্জার কিছু নেই, অস্বাভাবিকতারও কিছু নেই। পুতুলের ক্ষেত্রেও তাই। তিনি ২৫ বছরের সংসার শেষ করেছেন, চার সন্তানের ভরণপোষণ ও শিক্ষার দায়িত্ব বণ্টন হয়েছে, সম্পত্তি আইনি প্রক্রিয়ায় ভাগ হয়েছে। এখানে অস্বাভাবিক বা কেলেঙ্কারিমূলক কিছু খুঁজে পাওয়া কঠিন। প্রশ্ন উঠতে পারে অ্যালিমনির অঙ্ক নিয়ে, সম্পদের উৎস নিয়ে, কিন্তু বিচ্ছেদ হওয়াটা কোনো বড়ো ঘটনা নয়।
তাহলে হঠাৎ করে কেন এই খবর এখন সামনে এলো ? সেপারেশনের ঘটনা ২০২১ সালের, অথচ প্রকাশ পাচ্ছে এখন, বহু বছর পর। বাংলাদেশের রাজনীতিতে টাইমিং কখনো কাকতালীয় হয় না, এটা প্রায় সবাই জানেন। কয়েক মাস আগে ভারতীয় একটি সংবাদমাধ্যমে পড়েছিলাম, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থায় পুতুলের চাকরি ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য ভারত জোরালো লবিং করছে। এমন একটা সময়ে যখন তাঁর আন্তর্জাতিক অবস্থান শক্তিশালী হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছে, ঠিক তখনই তাঁর ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে খবর প্রকাশ পাওয়াটা নেহাত কাকতালীয় কিনা, সেই প্রশ্ন যে কারো মনে আসতেই পারে।
পুতুলের বিরুদ্ধে যে অভিযোগগুলো এখন পর্যন্ত পাওয়া গেছে , সেগুলো মূলত দুর্নীতি দমন কমিশনের করা দুটি মামলা। একটিতে বলা হয়েছে সূচনা ফাউন্ডেশনের নামে বিভিন্ন ব্যাংক থেকে তেত্রিশ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ, আরেকটিতে বলা হয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার আঞ্চলিক পরিচালক পদ পেতে সিভিতে ভুয়া তথ্য দেওয়ার অভিযোগ। এর জেরে গত বছরের জুলাই থেকে তিনি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা থেকে ছুটিতে আছেন, আর পূর্বাচল প্লট দুর্নীতি মামলায় তাঁকে পাঁচ বছরের সাজাও দেওয়া হয়েছে মা শেখ হাসিনা ও ভাই সজীব ওয়াজেদ জয়ের সঙ্গে। কিন্তু জুলাই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সরাসরি সংশ্লিষ্ট কোনো মামলায় তাঁর নাম এখনো আসেনি। যা এসেছে তার প্রায় পুরোটাই আর্থিক অনিয়ম ও পদ পাওয়ার প্রক্রিয়া সংক্রান্ত অভিযোগ। অর্থাৎ যাকে বলা যায় খুব গুরুতর ফৌজদারি অভিযোগ, সেই পর্যায়ের কিছু এখনো তাঁর বিরুদ্ধে নেই।
২০২৪ সালের শেখ পরিবারের পতনের সময় পুতুল কোনো নির্বাচিত পদে ছিলেন না, তিনি এমপি ছিলেন না, কোনো নীতিনির্ধারণী ভূমিকায় ছিলেন না। তিনি তখন দিল্লিতে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার দায়িত্বে ছিলেন। ভাই সজীব ওয়াজেদ জয়ের মতো প্রকাশ্যে বিভিন্ন বিতর্কিত মন্তব্য বা রাজনৈতিক ব্লান্ডারও তিনি করেননি। তুলনামূলকভাবে তাঁর রাজনৈতিক ইমেজ এখনো অনেকটাই পরিষ্কার। বাংলাদেশের রাজনীতিতে এমন উদাহরণও আছে, যেখানে যুদ্ধাপরাধে যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত ব্যক্তিও নির্বাচন করে সংসদ সদস্য হয়ে গেছেন। সেই বাস্তবতায় পুতুলের বিরুদ্ধে থাকা আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ তুলনামূলকভাবে অনেক কম ।
বাংলাদেশের রাজনীতির একটা বৈশিষ্ট্য হলো, ক্ষমতার পালাবদলের সঙ্গে সঙ্গে মামলার ভাগ্যও বদলে যায়। আজ যে মামলাগুলো অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে দুদক করেছে, রাজনৈতিক পটপরিবর্তন হলে সেগুলো কোন দিকে গড়াবে, সেটা অনুমান করা কঠিন কিছু না। মনোনয়ন বাণিজ্য, অবৈধ প্রভাব খাটিয়ে সুযোগসুবিধা নেওয়া, এসব অভিযোগ থেকে বাংলাদেশের কোনো রাজনৈতিক দলই সম্পূর্ণ মুক্ত না। এই বাস্তবতায় পুতুলকে আলাদা করে অতিরিক্ত ভিলেন বানানোর কিছু নেই ।
শোনা যাচ্ছে শেখ হাসিনা দলের নেতৃত্বে ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় ও মেয়ে পুতুলকে সামনে আনার পরিকল্পনা করছেন। জয়কে যেভাবে একটা পরাজিত দলের সম্ভাব্য পরবর্তী সভাপতি হিসেবে উপস্থাপন করা হচ্ছে, তার তুলনায় পুতুলের ইমেজ অনেক বেশি পরিচ্ছন্ন। ভবিষ্যতে আওয়ামী লীগের সভাপতি পদের জন্য তিনি একজন শক্তিশালী প্রার্থী হয়ে উঠতে পারেন, আর শেখ হাসিনার নির্দেশে দলের ভেতরে সবাই পুতুলের নেতৃত্ব মেনে নিবে ।
যুক্তরাষ্ট্র যেভাবে শেখ পরিবারের সমস্ত তথ্য এবং অর্থনৈতিক লেনদেনের হিসাব সংরক্ষণ করে রেখেছে এবং সময়মতো তা প্রকাশ করছে, তা স্পষ্ট করে দেয় যে বৈশ্বিক রাজনীতিতে বাংলাদেশকে নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। সেই প্রক্রিয়ার মধ্যেও পুতুল হয়তো উপযুক্ত সময়ে দেশে ফিরতে পারবেন, সাজার মুখোমুখি হতে হলেও তাঁকে দীর্ঘদিন আটকে রাখা কঠিন হবে বলেই মনে হয়, আর দেশে ফিরে দলের হাল ধরার মতো যথেষ্ট সুযোগ তাঁর সামনে খোলা থাকবে।
শেখ হাসিনা ডিসেম্বরে সবাইকে নিয়ে আত্নসমর্পণ করবেন বলে রয়টার্সকে জানিয়েছেন । এরপর শুরু হবে উনার জেল-জীবন ; তবে আওয়ামী লীগ চাঙা হওয়ার পাশাপাশি দেশের রাজনীতিতে ভারসাম্য ফিরে আসবে । সায়মা ওয়াজেদ পুতুলেরও দেশে ফিরে মামলা লড়ার একটা সুযোগ তৈরি হবে । আগামী ৫ বছরের মাঝে তাকে আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসাবে ঘোষণা করা হলে অবাক হওয়ার কিছু নেই ।
বিয়ে বিচ্ছেদ করে বিপুল সম্পদের মালিক পুতুল- দেশ রূপান্তর অনলাইন । https://www.deshrupantor.com/702997
Bangladesh's Hasina plans December return with party colleagues to surrender-রয়টার্স
photocard courtesy : delta lens
©somewhere in net ltd.
১|
১১ ই জুলাই, ২০২৬ রাত ১২:৫১
স্বপ্নের শঙ্খচিল বলেছেন: সেপারেশনের ঘটনা ২০২১ সালের, অথচ প্রকাশ পাচ্ছে এখন,
..........................................................................................
আমরা হুজুগে বাঙাল,
যেদিকে বৃষ্টি, সেদিকে ছাতা ধরতে পটু !
নেতৃত্ব সোজা কথা নয় , ঝড় ঝাপটা খেয়ে টিকে
থাকতে হয় ।