| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
সৈয়দ কুতুব
নিজের অজ্ঞতা নিজের কাছে যতই ধরা পড়ছে প্রচলিত বিশ্বাসের প্রতি ততই অবিশ্বাস জন্মাছে!
আগামীকাল অপপ্রচারকারীদের খেলা ফাইনাল হয়ে যেতে পারে। গ্যাস আর বিদ্যুৎ সংকট নিয়ে সরকারকে কাবু করার দিন ফুরিয়ে এসেছে। 'কাছিমের মতো গর্ত থেকে বের হয়ে' যারা এতদিন সরকারের বদনাম করার চেষ্টা করছিল, তাদের মুখে ছাই দিয়ে ৯ম পে স্কেল মন্ত্রিসভায় উঠবে কাল । সেপ্টেম্বর মাসেই গ্যাজেট হয়ে যাওয়ার জোর সম্ভাবনা। ব্যস, তারপর থেকেই দৃশ্যপট পুরো বদলে যাবে!
আজ যারা গ্যাস নেই, বিদ্যুৎ নেই বলে ঘণ্টায় ঘণ্টায় ফেসবুকে পোস্ট দিচ্ছে, কাল তারাই ভাইয়াকে কৃতজ্ঞতা জানিয়ে ফিড ভরিয়ে ফেলবে। কেউ সেন্টমার্টিনের রিল আপলোড করবে, কেউ নতুন শপিংয়ের ব্যাগ হাতে ছবি দেবে, কেউ বা আবার জমজমাট কোনো পার্টিতে যোগ দেবে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে তখন এই দোসরদের গর্তে পালানো ছাড়া আর কোনো উপায় থাকবে না। যে মিডিয়া আজ সারাক্ষণ লোডশেডিংয়ের ব্রেকিং নিউজ চালাচ্ছে, সেড়াই তখন সরকারের প্রশংসায় পঞ্চমুখ হয়ে উঠবে।
সাধারণ মানুষও তখন এক মনস্তাত্ত্বিক স্বস্তিতে ডুববে। তারা ভাববে, দেশের অর্থনীতি বুঝি রাতারাতি চাঙ্গা হয়ে গেছে; না হলে শিক্ষিতরা এত ট্যুর দিচ্ছে আর শপিং মলে কেনাকাটা করছে কেমন করে? তখন দিনে দশবার কারেন্ট গেলেও আর গায়ে লাগবে না, কারণ চারপাশে শুধু আনন্দ আর উদ্ভাসিত মুখের ছড়াছড়ি।
আসলে পে স্কেলকে শুধু বেতন বৃদ্ধির চশমা দিয়ে দেখলে ভুল হবে। সরকারি কর্মচারীদের পকেটে বাড়তি ক্যাশ আসা মানেই বাজারে টাকার জোয়ার বইতে শুরু করা। কেউ জামাকাপড় কিনবেন, কেউ মোবাইল বদলাবেন, কেউ পরিবার নিয়ে রেস্টুরেন্টে খাবেন। সেই টাকা ব্যবসায়ীর হাতে যাবে, ব্যবসায়ী কর্মচারীকে বেতন দেবেন, কর্মচারী আবার বাজার করবেন-এভাবেই অর্থনীতিতে তৈরি হবে শক্তিশালী Multiplier Effect। ২০ হাজার শ্রমিক বেকার হয়ে যাওয়ার কষ্ট বা গ্যাস-বিদ্যুতের হাহাকার তখন এই পে স্কেলের ঝলমলে আলোয় ঢাকা পড়ে যাবে।
আমাদের দেশের সোশ্যাল মিডিয়া ইকোসিস্টেমটার একটা দারুণ ক্ষমতা আছে। আগের সরকার আর কিছু পারুক আর না পারুক , এই সরকারি চাকরিজীবী শ্রেণিটাকে একটা মোক্ষম অনলাইন ও সামাজিক শক্তিতে পরিণত করে গেছে। ট্রাভেল গ্রুপ হোক কিংবা পাড়ার মুদির দোকান-সব জায়গায় এই শ্রেণির একটা প্রকাশ্য দাপট রয়েছে। এর সুদূরপ্রসারী ফলও দারুণ: বিশ্ববিদ্যালয়পড়ুয়া তরুণদের মনে সরকারি চাকরির ক্রেজ আরও বহুগুণ বেড়ে যাবে। সবাই বুঝবে, ক্যারিয়ার মানেই একটা সরকারি ট্যাগ। পড়াশোনা বাড়বে, প্রতিযোগিতা বাড়বে, আর সেই নিয়মিত আয়ের চাকাতেই দেশি ব্যবসা-বাণিজ্য ঘুরে দাঁড়াবে।
I have a plan কথাটা যে নিছক কথার কথা ছিল না, এই সংকটের মুহূর্তে বুঝতে পারলম। যখন চারপাশের সব সূচক নেতিবাচক, ঠিক তখন এমন একটা সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো যাতে একদিকে সরকারি কর্মচারী খুশি হন, বাজারে টাকার ফ্লো বাড়ে এবং সোশ্যাল মিডিয়ার সমালোচনার ঝড় নিমেষেই স্তিমিত হয়ে যায় । এটি এককথায় মাস্টারস্ট্রোক বৈকি! সেপ্টেম্বর মাসটি বাংলার বুকে আইকনিক মাসে পরিণত হতে চলেছে। পে স্কেলের গ্যাজেট হবে , বাজারে টাকা হবে , ট্যুরের বাজেট বাড়বে। আজকের সমালোচকরাই তখন সরকারের বন্দনায় ব্যস্ত হয়ে পড়বে। জয় ভাইয়ার জয় , জয় সরকারের জয় ।
৩১ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ২:৩০
সৈয়দ কুতুব বলেছেন: দেশে কোনো সংকট নেই । সব লীগের অপপ্রচার ।
©somewhere in net ltd.
১|
৩১ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ২:১৮
স্বপ্নের শঙ্খচিল বলেছেন: সেপ্টেম্বর মাসেই গ্যাজেট হয়ে যাওয়ার জোর সম্ভাবনা। ব্যস,
তারপর থেকেই দৃশ্যপট পুরো বদলে যাবে!
...........................................................................................
গ্যাজেট হয়ে যাওয়ার অর্থ টাকার জোগার হয়ে যাওয়া মানতে পারছিনা ।
যে অভাবগুলো জনসাধাণকে কষ্ট দিচ্ছে, অনাহারে রাখছে তাতো সত্য
জনগণের মৌলিক অধিকার সমূহ প্রদান ও রক্ষনাবেক্ষন ও যোগান
চলমান সরকারের প্রথম, প্রধান ও নৈতিক দ্বায়িত্ব ।
.............................................................................................................
সরকারের কাছে কি ম্যাজিক আছে যে, বলা মাত্রই চলমান সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে ???