নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

মানুষ মরে গেলে পঁচে যায় আর বেঁচে থাকলে বদলায়

সৈয়দ কুতুব

নিজের অজ্ঞতা নিজের কাছে যতই ধরা পড়ছে প্রচলিত বিশ্বাসের প্রতি ততই অবিশ্বাস জন্মাছে!

সৈয়দ কুতুব › বিস্তারিত পোস্টঃ

যারা ব্রয়লার মুরগী খাবেন সবাই সমকামী হয়ে যাবেন

২২ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৪:৫৩


ওয়াজ শোনেন অথচ মুফতি কাজী ইব্রাহিম হুজুরকে চেনেন না, এমন মানুষ বাংলাদেশে খুব কমই আছেন। হুজুরের আরেকটি বড় পরিচয় হলো, তিনি করোনার ওষুধ স্বপ্নে পেয়েছেন বলে দাবি করেছিলেন। হুজুর জামায়াতে ইসলামীর একজন কট্টর সমর্থক। ইউনূস সাহেবকে ক্ষমতায় রাখতে হবে, এমন বয়ান প্রচারেও তিনি ছিলেন সম্মুখসারির যোদ্ধা। আল্লাহ যেভাবে নেতা মনোনীত করেন, ইউনূস সাহেবও নাকি একই প্রক্রিয়ায় মনোনয়ন পেয়েছেন। সবাই বলি আলহামদুলিল্লাহ!

ইব্রাহিম হুজুরের আরেকটি বড় পরিচয় হলো, তিনি ব্রয়লার মুরগির সঙ্গে সমকামিতার সম্পর্ক আবিষ্কার করেছেন। ওয়াজ মাহফিলে হুজুর বলেছেন, ব্রয়লার মুরগি দীর্ঘদিন খেলে নারী ও পুরুষ একে অপরের প্রতি আকর্ষণ হারিয়ে ফেলবে। পুরুষ পুরুষের প্রতি এবং নারী নারীর প্রতি আকৃষ্ট হবে। হুজুরের ভাষায়, দাজ্জাল মানুষের মধ্যে যৌন বিকৃতি তৈরি করার জন্য এই মুরগি বানিয়েছে। তিনি আরও বলেছেন, মানুষ আল্লাহর সৃষ্টি ফসল ও খাদ্যে পরিবর্তন আনবে, এমন কথা কোরআনেও আছে। এসব দাজ্জালি কাজে আমেরিকা ও ইসরায়েল নাকি এক নম্বরে।

হুজুর অত্যন্ত মূল্যবান কথা বলেছেন। ইয়াহুদি নাসারারা যে দাজ্জালের চেলাপেলা, সেটা তো আমরা ওয়াজ শুনেই জানতে পেরেছি। কিন্তু আজ হঠাৎ ইব্রাহিম হুজুরের কথা মনে পড়ার বিশেষ একটা কারণ আছে। বাংলাদেশে মার্কিন গম এসেছে। ঢাকার মার্কিন দূতাবাস সেই গমের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করেছে। ছবিতে উন্নত মানের পুষ্টিকর মার্কিন গমের প্রচার করা হয়েছে। ব্যস, দেশে নতুন একটা হইচই শুরু হয়ে গেছে।

যুক্তরাষ্ট্র থেকে উন্নত মানের গম আসা অবশ্যই ভালো খবর। আমরা ব্রাজিল থেকে নিম্নমানের গম আমদানির বিতর্ক দেখেছি। ইউক্রেনের চুরি হওয়া গম রাশিয়া বাংলাদেশে পাঠিয়েছে, এমন অভিযোগও শুনেছি। সেই তুলনায় আমেরিকার উন্নত মানের গম আসাকে ইতিবাচকভাবেই দেখা যায়। ২ লাখ ২০ হাজার টন মার্কিন গম কেনার সর্বশেষ চুক্তির আওতায় প্রায় ১ লাখ ৭৫ হাজার টন ইতিমধ্যে চট্টগ্রামে পৌঁছেছে।

ইউনূস সরকারের আমলে গত ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি বাণিজ্যচুক্তি হয়েছে। চুক্তির অন্যতম উদ্দেশ্য দুই দেশের বাণিজ্যিক ভারসাম্যহীনতা কমানো। বাংলাদেশকে মার্কিন কৃষিপণ্য কেনার প্রতিশ্রুতিও দিতে হয়েছে। বছরে অন্তত সাত লাখ টন গম কেনার কথা রয়েছে। দাম একটু কমবেশি হলেও নিজেদের রপ্তানি খাত বাঁচিয়ে রাখতে আমাদের এই গম কিনতে হবে। এটাই গরিব দেশের মানুষের নিয়তি। আমরা পোশাক বিক্রি করব, বিনিময়ে আমেরিকার গম, সয়াবিন আর তুলা কিনব। মুক্তবাজার অর্থনীতির এই পারস্পরিক ভালোবাসা অস্বীকার করার উপায় নেই।

মজার ব্যাপার হলো, মার্কিন দূতাবাসের পোস্ট দেখে সবচেয়ে বেশি প্রতিক্রিয়া দেখাচ্ছেন আওয়ামী লীগের সমর্থকেরা। তাঁরা প্রচার করছেন, গোলামির চুক্তির কারণে এখন আমেরিকা থেকে গম কিনতে হচ্ছে। রাজনৈতিক দল নানা কথা বলতেই পারে। দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকার পর হঠাৎ ক্ষমতা হারালে মাথা ঠান্ডা রাখা কঠিন। তবে তাঁদের অভিযোগের মধ্যে একটা বিষয় আছে, যেটা রাজনৈতিক বিতর্কের বাইরে গিয়েও আলোচনা করা দরকার।

আওয়ামী লীগের সমর্থকদের কেউ কেউ বলছেন, বাংলাদেশ চাইলেও আমেরিকা থেকে আসা পণ্যের মান নিজের মতো করে পরীক্ষা করতে পারবে না। তাঁরা বারবার GMO শব্দটি ব্যবহার করছেন। GMO হলো Genetically Modified Organism। সহজ বাংলায়, যে উদ্ভিদ বা জীবের জিনগত বৈশিষ্ট্য আধুনিক প্রযুক্তির সাহায্যে পরিবর্তন করা হয়েছে। তাঁদের দাবি, যুক্তরাষ্ট্র থেকে GMO গম বাংলাদেশে ঢুকছে।

একসময় ব্রাজিলের নিম্নমানের গম আমদানি নিয়ে বিতর্কে পড়া দলের সমর্থকেরা এখন জনস্বাস্থ্য নিয়ে অত্যন্ত সচেতন হয়ে উঠেছেন। বিষয়টা আশাব্যঞ্জক। তবে তাঁদের দাবির পক্ষে শক্ত প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে না। যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, দেশটিতে বাণিজ্যিকভাবে GMO গম উৎপাদিত হয় না। অবশ্য অতীতে পরীক্ষামূলকভাবে উৎপাদিত GMO গমের গাছ শনাক্ত হওয়ার ঘটনা আছে। ২০১৩ ও ২০১৬ সালে জাপান এবং দক্ষিণ কোরিয়া সেই উদ্বেগে নির্দিষ্ট ধরনের মার্কিন গম আমদানি সাময়িকভাবে স্থগিতও করেছিল। কিন্তু বাংলাদেশে আসা বর্তমান গম GMO, এমন কোনো প্রমাণ এখন পর্যন্ত সামনে আসেনি।

আওয়ামী লীগের আলোচনা আপাতত পাশে রাখি। সামহোয়্যারইন ব্লগের অত্যন্ত প্রতিভাবান ব্লগার শ্রাবণধারা সাহেবের সঙ্গে এ বিষয়ে আমার কিছু কথা হয়েছিলো । তিনি ফেব্রুয়ারিতে ইউনূস সরকারের সঙ্গে আমেরিকার বাণিজ্যচুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ধারা তুলে ধরেছিলেন। চুক্তির ১.৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে বৈধভাবে বাজারজাত করা যায় এমন কৃষি জৈবপ্রযুক্তিজাত পণ্যের জন্য বাংলাদেশকে অতিরিক্ত অনুমোদন ও লেবেলিংয়ের শর্ত ছাড়াই আমদানির নীতি তৈরি করতে হবে। চুক্তি কার্যকর হওয়ার পর ২৪ মাসের মধ্যে এই ব্যবস্থা বাস্তবায়নের কথা রয়েছে।

এখানে একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আছে। চুক্তিতে বাংলাদেশ কোনো অবস্থাতেই মার্কিন পণ্য পরীক্ষা করতে পারবে না, এমন সরাসরি নিষেধাজ্ঞা নেই। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের অনুমোদনকে স্বীকৃতি দেওয়া এবং নিজেদের অতিরিক্ত অনুমোদন ও লেবেলিংয়ের শর্ত বাদ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি রয়েছে। ফলে বাংলাদেশের নিয়ন্ত্রণের স্বাধীনতা কতটা থাকবে, সেটা যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। আমরা কি নিজেদের খাদ্যের নিরাপত্তা নিজেরা যাচাই করব, নাকি আমেরিকা নিরাপদ বললেই নিরাপদ ধরে নেব? শ্রাবণধারা সাহেবের উদ্বেগের জায়গাটা এখানেই।

গম নিয়ে আর বেশি কথা বলছি না। যে পণ্যটি নিয়ে আমার আগ্রহ বেশি, সেটি হলো সয়াবিন তেল। বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্র থেকে বিপুল পরিমাণ সয়াবিন বীজ আমদানি করছে। ২০২৫ ও ২০২৬ সালের বিপণন বছরের প্রথম আট মাসে আমাদের মোট সয়াবিন আমদানির প্রায় ৮৪ শতাংশ এসেছে যুক্তরাষ্ট্র থেকে। পাশাপাশি অপরিশোধিত সয়াবিন তেলও আমদানি হচ্ছে। সয়াবিন তেলের দাম দফায় দফায় কেন বাড়ছে, তার সঙ্গে এই আমদানির কতটা সম্পর্ক, আমার জানা নেই। তবে যেদিন থেকে ব্লগে লিখছি, সয়াবিন তেলের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে বেশ কয়েকবার লিখেছি। অবশ্য দেশের মানুষের হাতে এখন টাকাপয়সা উপচে পড়ছে। তাই তেলের দাম নিয়ে খুব বেশি চিন্তিত হওয়ার প্রয়োজন নেই।

চিন্তার বিষয় অন্য জায়গায়। যুক্তরাষ্ট্রে উৎপাদিত সয়াবিনের ৯০ শতাংশের বেশি GMO জাতের। এটি কোনো আওয়ামী লীগের প্রচার নয়। যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি বিভাগের নিজের তথ্য। ফলে বাংলাদেশে আমদানি করা মার্কিন সয়াবিনের বড় অংশ GMO জাতের হওয়ার যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে। কিন্তু আমাদের আমদানি করা কোন চালানে কী ধরনের সয়াবিন এসেছে, সেই তথ্য সাধারণ মানুষ কতটা জানে?

এখানে একটু পরিষ্কার করে বলা দরকার, GMO সয়াবিন থেকে তৈরি তেল খেলেই মানুষ অসুস্থ হয়ে যাবে, এমন বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। পরিশোধনের সময় তেল থেকে প্রায় সব প্রোটিন ও DNA অপসারিত হয়। অনুমোদিত GMO খাদ্য সাধারণ খাদ্যের তুলনায় বেশি ক্ষতিকর, এমন নির্ভরযোগ্য প্রমাণও পাওয়া যায়নি। কিন্তু তার অর্থ এই নয় যে GMO নিয়ে কোনো প্রশ্ন তোলা যাবে না। এর সঙ্গে আগাছানাশকের ব্যবহার, পরিবেশ, বীজের বাজারে বহুজাতিক কোম্পানির নিয়ন্ত্রণ এবং ভোক্তার জানার অধিকারের প্রশ্ন জড়িত।

অন্য দেশগুলো কিন্তু বিষয়টি নিয়ে বেশ সচেতন। দক্ষিণ কোরিয়ায় ২০১৭ থেকে ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত পরীক্ষা করা মার্কিন সয়াবিনের ৪০২টি চালানের মধ্যে ৩৯৯টিতে GMO উপাদান পাওয়া গেছে। অর্থাৎ ৯৯ দশমিক ৩ শতাংশ চালানে। অবশ্য প্রতিটি চালানে শনাক্ত হওয়া GMO উপাদানের পরিমাণ ছিল এক শতাংশের নিচে। দক্ষিণ কোরিয়ার নির্ধারিত সীমার মধ্যে থাকায় সেগুলো প্রত্যাখ্যান করা হয়নি। তুরস্ক আবার অনুমোদন না পাওয়া কিছু GMO জাতের কারণে একসময় মার্কিন সয়াবিন আমদানি ব্যাপকভাবে কমিয়ে দিয়েছিল। পরে নতুন জাতের অনুমোদন দেওয়ার পর আমদানি আবার বেড়েছে।

লক্ষ করুন, এসব দেশ GMO শনাক্ত করেছে বলেই সেটিকে বিষাক্ত ঘোষণা করেনি। তারা নিজেদের আইন অনুযায়ী পরীক্ষা করেছে, সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও প্রশ্নটা একই। আমাদের দেশে কোন জাতের GMO সয়াবিন আসছে, সেগুলো কীভাবে অনুমোদন পাচ্ছে এবং ভোক্তারা সেই তথ্য কোথায় পাবেন? ধরে নিলাম, আমদানি করা সয়াবিন সম্পূর্ণ নিরাপদ। তারপরও নিরাপদ হওয়ার তথ্যটি জানার অধিকার তো আমাদের আছে।

আমার মতো সাধারণ মানুষের GMO সম্পর্কে জ্ঞান খুবই সীমিত। এর ভালো মন্দ বোঝানোর দায়িত্ব কার? নিশ্চয়ই সরকার, বিজ্ঞানী এবং জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের। বাংলাদেশে নিরাপদ খাদ্য নিয়ে আন্দোলন করছেন সাবেক সচিব মিলন সাহেব। তাঁর মতো মানুষেরা এসব বিষয়ে আরও বেশি কথা বললে সাধারণ মানুষ উপকৃত হতো। অথচ মার্কিন সয়াবিনের এই বিশাল বাজার, বাণিজ্যচুক্তির শর্ত এবং খাদ্যের উৎস সম্পর্কে ভোক্তার জানার অধিকার নিয়ে তেমন আলোচনা চোখে পড়ে না। নিরাপদ খাদ্য আন্দোলন যদি শুধু ভেজাল আর ফরমালিনের আলোচনায় সীমাবদ্ধ থাকে, তাহলে খাদ্যবাণিজ্যের বড় পরিবর্তনগুলো নিয়ে কথা বলবে কে?

সবচেয়ে বেশি দুঃখ পেয়েছি ইব্রাহিম হুজুরের নীরবতায়। যে মানুষ ব্রয়লার মুরগি খেয়ে সমকামী হয়ে যাওয়ার মতো যুগান্তকারী আবিষ্কার করেছেন, তিনি GMO সয়াবিন নিয়ে এখনো কেন গবেষণা শুরু করলেন না? হুজুরের বক্তব্য অনুযায়ী, আল্লাহর সৃষ্টি খাদ্যে মানুষের হস্তক্ষেপ দাজ্জালের কাজ। তাহলে আমেরিকার GMO সয়াবিন তো তাঁর গবেষণার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

ব্রয়লার মুরগি খেয়ে মানুষ যদি সমকামী হয়ে যায়, তাহলে GMO সয়াবিন তেল খেলে কী হবে? মানুষের কি ধীরে ধীরে লিঙ্গ পরিবর্তন হওয়া শুরু হবে ? অবশ্য এসব প্রশ্নের উত্তর বিজ্ঞানের কাছে পাওয়া যাবে না। হুজুর যে গবেষণাগারে ব্রয়লার মুরগির সঙ্গে সমকামিতার সম্পর্ক আবিষ্কার করেছেন, সেই গবেষণাগারের ঠিকানাও আমাদের জানা নেই। আমার ঘোর সন্দেহ, গবেষণাগারটি কোনো কওমি মাদ্রাসার ভেতরে অবস্থিত। সেখানে হয়তো বিজ্ঞানীরা অত্যন্ত গোপনীয়তার সঙ্গে মুরগি ও মানুষের যৌন আচরণ নিয়ে গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছেন।

তবে হুজুরের সামনে এবার একটা কঠিন ধর্মতাত্ত্বিক সমস্যা দেখা দিতে যাচ্ছে। একদিকে তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, আমেরিকা দাজ্জালি কর্মকাণ্ডের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র। অন্যদিকে ইউনূস সাহেব আল্লাহর মনোনীত ব্যক্তি। এখন সেই মনোনীত ব্যক্তির সরকারের আমলেই আমেরিকার সঙ্গে এমন বাণিজ্যচুক্তি হয়েছে, যেখানে GMO কৃষিপণ্যের বাজার আরও সহজ করার প্রতিশ্রুতি রয়েছে। তাহলে আমরা কোন বক্তব্যটি গ্রহণ করব ? আমেরিকার GMO খাদ্য দাজ্জালের কাজ, নাকি আল্লাহর মনোনীত ব্যক্তির বাণিজ্যিক সিদ্ধান্ত? হুজুর নিশ্চয়ই এর একটা সুন্দর ব্যাখ্যা দিতে পারবেন। আপাতত তাঁর কাছে মার্কিন সয়াবিনের খবরটি যত দ্রুত সম্ভব পৌঁছে দেওয়া দরকার।

সরকার অবশ্য এসব বিষয়ে সাধারণ মানুষকে বিস্তারিত জানানোর প্রয়োজন মনে নাও করতে পারে। কারণ, জানিয়ে লাভ কী? আমরা প্রতিদিন যে পরিমাণ ভেজাল খাবার খাই, তার সঙ্গে একটু GMO সয়াবিন যোগ হলে এমন কী ক্ষতি হবে ! সবই তো হজম হয়ে যাচ্ছে। তবে এখানে আবারও বলে রাখি, GMO আর ভেজাল এক জিনিস নয়। সমস্যা হলো, আমাদের দেশে খাদ্য নিয়ে আলোচনা করতে গেলেই হয় সবকিছুকে বিষ বানিয়ে ফেলা হয়, নয়তো জনগণের জানার অধিকারটাকেই অপ্রয়োজনীয় মনে করা হয়।

আমার কাছে পুরো ঘটনার সবচেয়ে অদ্ভুত দিকটি অবশ্য অন্য জায়গায়। মার্কিন দূতাবাস যেভাবে হাতে গম নিয়ে ছবি প্রকাশ করে বাংলাদেশে মার্কিন কৃষিপণ্যের প্রচার করছে, একই কাজ ভারত কিংবা পাকিস্তানের দূতাবাস করলে এতক্ষণে দেশে তুলকালাম শুরু হয়ে যেত। কেউ বলতেন দিল্লির গোলামি, কেউ বলতেন পিন্ডির দালালি। ফেসবুকে দেশপ্রেমের বন্যা বয়ে যেত। অথচ আমেরিকার বেলায় কী সুন্দর পরিবেশ! দূতাবাস আমাদের গম দেখাচ্ছে, আমরা মুগ্ধ হয়ে দেখছি। একেই সম্ভবত পরিণত কূটনৈতিক সম্পর্ক বলে।

অবশ্য আমেরিকার সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক এখন আর শুধু কূটনৈতিক নয়। তারা আমাদের পোশাক কিনবে, আমরা তাদের গম খাব, সয়াবিনের তেল দিয়ে রান্না করব। খাদ্যের মান নিয়ে প্রশ্ন থাকলে সেটাও ভদ্রভাবে করতে হবে। কারণ, রপ্তানি বাজার বাঁচিয়ে রাখতে হবে। দেশের অর্থনীতি বলে কথা। দেশপ্রেমেরও নিশ্চয়ই একটা আন্তর্জাতিক বাজারদর আছে।

সোর্স :
১- ব্রয়লার মুরগি খেলে সমকামী হয়ে যাবেন || মুফতি কাজী ইব্রাহিম
২-USDA Announces Close and Findings of Investigation into the Detection of Genetically Engineered Wheat in Oregon in 2013
৩-Japan says resuming U.S. white wheat purchase-রয়টার্স
৪-Japan, S. Korea block certain U.S. wheat varieties over GMO concerns-রয়টার্স
৫-Korea reports no GMO in U.S. wheat imports- By Reuters, GFM Network News
৬-Agricultural Biotechnology-ইউএস ফুড এন্ড ড্রাগস
৭-99.3% of soybeans imported from US test positive for genetic modification- দি কোরিয়ান টাইমস
৮-Türkiye: Oilseeds and Products Annual- ২০২৬

ফটোকার্ড ক্রেডিট : কালবেলা











মন্তব্য ২ টি রেটিং +২/-০

মন্তব্য (২) মন্তব্য লিখুন

১| ২২ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:২৭

হুমায়রা হারুন বলেছেন: +++++

২| ২২ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:৩৪

নতুন বলেছেন: দেশের উন্নতি করতে হলে মোল্যাদের নিয়ন্ত্রন করতে হবে।

তাওহীদি জনতা বেশি হয়ইয়া যাইতেছে।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.