নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

মানুষ মরে গেলে পঁচে যায় আর বেঁচে থাকলে বদলায়

সৈয়দ কুতুব

নিজের অজ্ঞতা নিজের কাছে যতই ধরা পড়ছে প্রচলিত বিশ্বাসের প্রতি ততই অবিশ্বাস জন্মাছে!

সৈয়দ কুতুব › বিস্তারিত পোস্টঃ

মার্কো রুবিও ভারতে কী করছেন?

২৬ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১:২২


আওয়ামী দোসর নবনীতা আপার মতে, মার্কো রুবিও ভারতে গেছেন শেখ হাসিনার দেশে ফেরার ব্যবস্থা করতে। ডিসেম্বর মাসে যাতে শেখ হাসিনা ট্রাভেল পাস নিয়ে দেশে ফিরতে পারেন, সেই আলোচনা করতেই নাকি তাঁর ভারত সফর। আপার কথা শুনে আমার বেশ মজা লাগে। দেশ থেকে পালিয়ে যাওয়ার মাত্র এক মাসের মাথায় ইউটিউব চ্যানেল খুলে বসেছেন।

নিজের পূর্ব অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগাচ্ছেন। আপার একটা বড়ো দক্ষতা হলো প্রোপাগান্ডা ছড়ানো। একাত্তর টিভিতে গত ১৬ বছর সেই কাজই করেছেন। ছোটবেলায় আপা নাকি খুব ভালো বিতার্কিক ছিলেন। কথাটা বিশ্বাস করি। কারণ যুক্তি থাকুক বা না থাকুক, কথা বলে যাওয়ার দক্ষতা আপার আছে।

আপার কথার সত্যমিথ্যা জানি না। তবে মার্কো রুবিওর ভারত সফর আমার কাছে বেশ ইন্টারেস্টিং মনে হচ্ছে। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা। কাজেই তাঁর সফরের পেছনে একাধিক উদ্দেশ্য থাকাটাই স্বাভাবিক। আমার ধারণা, ভারত যাতে রাশিয়ার তেল কেনা কমায় এবং দুই দেশের বাণিজ্য ঘাটতি নিয়ে আলোচনা হয়, সেসব বিষয় সফরের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

যুক্তরাষ্ট্র শুরু থেকেই চেয়েছে ভারত রাশিয়ার কাছ থেকে তেল কেনা কমিয়ে দিক। কিন্তু ভারত এত সহজে রাশিয়া থেকে সরে আসবে বলে মনে হয় না। কারণ দেশটি নিজের অর্থনৈতিক স্বার্থ খুব ভালো বোঝে। রাশিয়ার কাছ থেকে তুলনামূলক সস্তায় তেল কেনার সুযোগ পেলে তারা সেটা কাজে লাগাবে। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কও খারাপ করবে না, আবার রাশিয়ার কাছ থেকেও তেল কিনবে। দুই দিক সামলানোর চেষ্টা করবে। আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নিজের স্বার্থ বাদ দিয়ে অন্যের মন রক্ষা করতে গেলে দেশের অর্থনীতি চালানো কঠিন।

এখন আমেরিকা ভারতকে বলছে ভেনেজুয়েলার তেল কিনতে। রাশিয়ার কাছ থেকে তেল কেনা কমাও, ভেনেজুয়েলার তেল কেনা বাড়াও। মার্কো রুবিও আম্বানির সঙ্গে বৈঠক করেছেন, যাতে আম্বানি তাঁর রিফাইনারিতে ভেনেজুয়েলার তেল কেনেন। কী নির্মম পরিহাস! তেল ভেনেজুয়েলার, অথচ সেই তেল বিক্রি করার জন্য আমেরিকা ভারতে দৌড়াচ্ছে। ভেনেজুয়েলার তেল বিক্রি করতে আমেরিকার যত মাথাব্যথা, তেলের মালিক দেশের প্রতিনিধিদের ততটা দেখা যাচ্ছে না।

ভারত যদি নিজের স্বার্থে রাশিয়ার কাছ থেকে তেল কিনতে পারে, তাহলে আমরা কেন নিজেদের স্বার্থে ভারতের সঙ্গে আরও ভালো জ্বালানি চুক্তি করতে পারি না? ভারত আমাদের প্রতিবেশী। তাদের পরিশোধনাগার আছে, আমাদেরও জ্বালানি লাগে। ভারত থেকে আরও বেশি পরিশোধিত তেল আনার সুযোগ আছে কি না, সেটা নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা করা উচিত।

আমরা এখনো পেট্রোচায়না, ইন্দোনেশিয়ার সরবরাহকারীসহ বিভিন্ন বিদেশি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে সমুদ্রপথে তেল কিনি। সমুদ্রপথে আমদানি করতেই হবে, এটা মানি। কিন্তু ভারতের সঙ্গে পাইপলাইনের সক্ষমতা বাড়ানো গেলে পরিবহন খরচ কমানো সম্ভব কি না, সেটা পরীক্ষা করা দরকার। অবশ্য ভারত থেকে তেল আনলেই যে সস্তা হবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। দাম, পরিবহন ব্যয়, সরবরাহের শর্ত এবং বিকল্প উৎসের খরচ হিসাব করতে হবে। এসব হিসাব করার জন্যই তো দেশে একটা সরকার লালনপালন করা হয়।

আমাদের সমস্যা হলো, ডলার খরচ কমানোর জন্য আমরা খুব একটা চিন্তা করি না। রেমিট্যান্স আসছে, রপ্তানি হচ্ছে, তারপর সেই ডলার দিয়ে জ্বালানি আমদানি করছি। দেশের বেসরকারি খাত ঘুরে দাঁড়ালে যন্ত্রপাতি, কাঁচামাল ও অন্যান্য পণ্য আমদানির জন্য আরও ডলার লাগবে। তখন শুধু রেমিট্যান্স আর রপ্তানি বাড়ালেই হবে না। কোথায় ডলার খরচ করলে ভবিষ্যতে আরও বেশি ডলার সাশ্রয় হবে, সেটাও দেখতে হবে।

এই জায়গায় ইস্টার্ন রিফাইনারির দ্বিতীয় ইউনিট বা ERL-2-এর কথা আসে। প্রকল্পটি নিয়ে বছরের পর বছর আলোচনা চলছে। অথচ বাস্তবায়নের গতি দেখে মনে হয়, দেশের নিজস্ব পরিশোধন সক্ষমতা বাড়ানো খুব একটা জরুরি বিষয় নয়। নতুন প্রকল্প ব্যবস্থাপনা পরামর্শক নিয়োগের কাজ আরও ছয় মাস পিছিয়ে দেওয়ার খবর এসেছে। কারণ হিসেবে অর্থের সংকটের কথা ধারণা করা হচ্ছে।

বিপিসির কাছে রাখা প্রায় নয় হাজার কোটি টাকা জ্বালানি আমদানিতে খরচ হয়ে গেছে। সব টাকা যদি তেল কিনতেই খরচ হয়ে যায়, তাহলে দেশের জ্বালানি খাতে দীর্ঘমেয়াদি সক্ষমতা বাড়ানোর কাজ হবে কীভাবে? আমরা প্রতিবছর ডলার দিয়ে পরিশোধিত তেল কিনব, তারপর বলব প্রকল্প করার টাকা নেই। বাজেটের টাকা এমন কাজে খরচ হবে, যার সুফল দীর্ঘমেয়াদে কতটা পাওয়া যাবে, সেই প্রশ্নও তোলা দরকার।

ERL-2 প্রকল্পের জন্য ইসলামিক ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক প্রায় এক বিলিয়ন ডলার দেবে বলে জানা যায়। অর্থায়নের শর্ত ও প্রকৃত অবস্থা যাচাই করা দরকার। তবে অর্থায়নের ব্যবস্থা করা সম্ভব হলে প্রকল্প বাস্তবায়নে এত দেরি কেন, সেই প্রশ্ন তো উঠতেই পারে। রিফাইনারি হয়ে গেলে অপরিশোধিত তেল আমদানি করে দেশে পরিশোধন করার সক্ষমতা বাড়বে। এতে দেশের চাহিদার অর্ধেক অংশ পূরণ করা সম্ভব হতে পারে।

অবশ্য অপরিশোধিত তেলও ডলার দিয়েই কিনতে হবে। তাই ERL-2 হলেই সব সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে, এমনটা বলছি না। কিন্তু অপরিশোধিত তেল আমদানি করে দেশে পরিশোধন করার মোট খরচ যদি পরিশোধিত তেল আমদানির চেয়ে কম হয়, তাহলে এই সক্ষমতা বাড়ানোর অর্থনৈতিক যুক্তি আছে। প্রকল্পের ব্যয়, ঋণের সুদ, পরিচালন খরচ এবং উৎপাদন সক্ষমতার হিসাবও করতে হবে। সরকার এসব হিসাব জনগণের সামনে তুলে ধরতে পারে।

মনে হচ্ছে, সরকার জ্বালানি খাতে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণ বাড়ানোর দিকে বেশি আগ্রহী। বসুন্ধরা গ্রুপকে তেল আমদানির লাইসেন্স দেওয়ার আলোচনা রয়েছে। বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ব্যবসা করবে, তাতে সমস্যা নেই। কিন্তু দেশের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি অবকাঠামো উন্নয়নের দায়িত্বও তো সরকারের। সবকিছু বেসরকারি খাতের হাতে ছেড়ে দিলেই বাজারে প্রতিযোগিতা তৈরি হবে, দাম কমবে, জনগণ সুবিধা পাবে, এমন কোনো নিশ্চয়তা নেই।

এলপিজি গ্যাসের বাজারের দিকে তাকালেই বিষয়টি কিছুটা বোঝা যায়। আমদানি ও সরবরাহের বড় অংশ বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের হাতে। কিন্তু আমাদের বড় আকারের এলপিজি সংরক্ষণ ও আমদানির অবকাঠামো কতটা তৈরি হয়েছে? গভীর সমুদ্রে বড় টার্মিনাল থাকলে সরবরাহ ব্যবস্থায় সুবিধা পাওয়া যেতে পারে। অথচ মাতারবাড়ীতে এলপিজি টার্মিনাল নির্মাণের পরিকল্পনা থাকলেও এর অগ্রগতি নিয়ে পরিষ্কার তথ্য পাওয়া কঠিন।

সরকারপ্রধান একবারও কি জানতে চেয়েছেন, এলপিজি টার্মিনালের কাজ কতদূর এগিয়েছে? দেশের জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য কোন প্রকল্পটি আগে করা দরকার, তার কোনো অগ্রাধিকার আছে কি না, সেটাও জানা দরকার। নাকি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এলপিজি আমদানি করবে, সরবরাহে সমস্যা হলে দাম বাড়বে, জনগণ সেই দাম দিয়ে গ্যাস কিনবে? সরকারকে বেশি কিছু করতে হবে না। শুধু দাম বাড়ানোর পাঁয়তারা শুরু হলে নামকাওয়াস্তে গণশুনানি করলেই দায়িত্ব শেষ!

এলপিজির দাম বাড়ার পেছনে আন্তর্জাতিক বাজার, পরিবহন খরচ এবং সরবরাহের সমস্যার ভূমিকা থাকতে পারে। কিন্তু দেশে পর্যাপ্ত সংরক্ষণ ও আমদানি অবকাঠামো না থাকলে সংকটের সময় তার প্রভাব আরও বেশি পড়তে পারে। এখন এলপিজির দাম এমন জায়গায় যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে যে মানুষ চিন্তা করছে, বছরের শেষে সাড়ে বারো কেজির সিলিন্ডার তিন হাজার টাকা হয়ে যাবে না তো? জনগণ আজ থেকেই দোয়া ইউনূস পড়া শুরু করে দিয়েছে!

বিশ্বজুড়ে সংকট আছে, যুদ্ধ আছে, জ্বালানির দাম ওঠানামা করছে। এসব অস্বীকার করার উপায় নেই। কিন্তু মানুষ নতুন সরকারের কাছে অন্তত এটুকু আশা করেছিল যে জ্বালানি খাতে এমন কিছু সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে, যার সুফল ভবিষ্যতে পাওয়া যাবে। ERL-2 এগিয়ে যাচ্ছে, পাইপলাইনের সক্ষমতা বাড়ছে, এলপিজি টার্মিনাল নির্মাণ হচ্ছে, জ্বালানি আমদানির খরচ কমানোর পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে, এমন কিছু দেখতে পেলে বর্তমান সংকটের মধ্যেও মানুষ কিছুটা আশাবাদী হতে পারত।

কিন্তু সরকার জ্বালানি খাত নিয়ে কী দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা করছে, সেটা স্পষ্ট নয়। এদিকে উচ্চ সুদের কারণে বেসরকারি খাতে ঋণ নেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। ব্যবসায়ীরা বিনিয়োগ করতে ভয় পাচ্ছেন, উৎপাদন খরচ বেশি, বাজারে চাহিদাও দুর্বল। এমন পরিস্থিতিতে জ্বালানির দাম বাড়তে থাকলে শিল্পকারখানার উৎপাদন খরচ কমবে কীভাবে? পরিবহন খরচ বেশি হলে পণ্যের দাম কমবে কীভাবে? শুধু সুদের হার বাড়িয়ে মূল্যস্ফীতি কমানোর চেষ্টা করলেই সমস্যার সমাধান হবে না।

একটি দেশের প্রকৃত উন্নয়ন অনেকাংশে নির্ভর করে জ্বালানি খাতকে কতটা গুরুত্ব দেওয়া হয়, তার ওপর। ভারত জ্বালানির দাম কম রাখার স্বার্থে রাশিয়ার কাছ থেকে তেল কেনার সুযোগ ছাড়তে চায় না। কারণ তারা জানে, জ্বালানির দাম বাড়লে শিল্প উৎপাদন ও পরিবহন খরচ বাড়বে। সবকিছু নিজের মাথা থেকে আবিষ্কার করার দরকার নেই। অন্য দেশের অভিজ্ঞতা থেকেও শেখা যায়। তবে শেখার জন্য খোলা মন থাকতে হবে, খালি মন নয়!

জাপান বাংলাদেশে প্রায় ছয় বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করবে বলে খবর এসেছে। বিনিয়োগের প্রকৃতি ও বাস্তবায়নের অবস্থা অবশ্য যাচাই করা দরকার। কিন্তু বিদেশি বিনিয়োগকারীরা বাংলাদেশে এসে যদি দেখেন জ্বালানির সরবরাহ অনিশ্চিত, উৎপাদন খরচ বেশি এবং গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প বছরের পর বছর আটকে থাকে, তাহলে তাঁরা বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নিতে কতটা আগ্রহী হবেন? বিনিয়োগকারীদের ডেকে এনে বাংলাদেশে বিনিয়োগের সুবিধা বোঝানো যায়। কিন্তু দেশে ফিরে যাওয়ার আগে তাঁরা যদি জ্বালানি খাতের অবস্থা দেখে ফেলেন, তখন আবার নতুন করে তাঁদের কে বোঝাবে?

সব দেখে শুনে মনে হচ্ছে, দেশে এখন সবচেয়ে ভালো আছে জামায়াতের লোকজন। আমার মেজো চাচার ছোট মেয়ের জামাইকে দেখলাম চাকরি ছেড়ে ব্যবসায় নামছেন। তিনি রুয়েট থেকে পাস করা প্রকৌশলী। আওয়ামী লীগ আমলে শুনেছিলাম, কানাডা চলে যাবেন। এখন সময় পরিবর্তন হয়েছে, তাই ব্যবসায় নামছেন। তাঁর পরিকল্পনা রিয়েল এস্টেট ব্যবসা করার।

দেশে যেখানে রড-সিমেন্টের ব্যবসায় মন্দা, নির্মাণ খাতের অবস্থা ভালো নয়, এমন সময় তিনি রিয়েল এস্টেট ব্যবসায় নামছেন। জামায়াতের লোকজনকে অবশ্য অনেক আগে থেকেই এই ব্যবসায় দেখছি। এখন আপার জামাইও নামছেন। দেশের অর্থনীতি নিয়ে এত দুশ্চিন্তা, অথচ তিনি নিশ্চিন্তে ব্যবসা শুরু করার পরিকল্পনা করছেন।

আপার জামাই তারেক রহমানের জাপান সফর নিয়েও নাখোশ। তাঁর মতে, জাপান ভারতের পরিকল্পনা অনুযায়ী বাংলাদেশে কাজ করে। তাই জাপানের কাছ থেকে ঋণ না নিয়ে চীনের কাছ থেকে ঋণ নিতে হবে। জাপান হলো ভারতের দালাল। কথাটা শুনে হাসি পেল। আন্তর্জাতিক সম্পর্কের এত সহজ ব্যাখ্যা আগে জানা ছিল না। যে দেশ ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক রাখে, সেই দেশ ভারতের দালাল। আর যে দেশ চীনের সঙ্গে সম্পর্ক রাখে, সে দেশ বাংলাদেশের বন্ধু!

জামায়াত ও হেফাজতের নেতাদের চীন সফরের পর থেকে কিছু মানুষের চীনপ্রীতি বেশ চোখে পড়ছে। চীন এখন তাদের কাছে প্রায় সব সমস্যার সমাধান। চীন ভালো, চীনের ঋণ ভালো, চীনের পরিকল্পনা ভালো। চীনের কোনো সিদ্ধান্তের সমালোচনা করলে মনে হয়, দেশের স্বার্থবিরোধী কাজ করা হচ্ছে।

অথচ চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক ভালো রাখার প্রয়োজন আছে বলেই চীনের প্রতিটি সিদ্ধান্তকে ভালো বলতে হবে, এমন কোনো কথা নেই। চীন বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক অংশীদার। কিন্তু মিয়ানমারের ওপর চীনের প্রভাব থাকা সত্ত্বেও রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের সমস্যা সমাধান হয়নি। চীন নিজের স্বার্থ দেখবে, এটাই স্বাভাবিক। আমাদেরও নিজের স্বার্থ দেখতে হবে। বিদেশি রাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক রাখতে গিয়ে এমন আচরণ করার প্রয়োজন নেই, যেন তারা আমাদের রাজনৈতিক দলের আত্মীয়।

জাপান বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের উন্নয়ন সহযোগী। অবকাঠামো, প্রযুক্তি ও শিল্পায়নে জাপানের ভূমিকা রয়েছে। চীনের সঙ্গে সম্পর্ক ভালো রাখার জন্য জাপানকে বাদ দিতে হবে কেন? আবার জাপানের সঙ্গে সম্পর্ক ভালো রাখার জন্য চীনকে বাদ দেওয়ারও প্রয়োজন নেই। ঋণ নেওয়ার সময় দেখতে হবে সুদের হার কত, শর্ত কী, প্রকল্প থেকে কত আয় হবে এবং ঋণ পরিশোধ করা সম্ভব হবে কি না। কিন্তু আমাদের কিছু মানুষের কাছে মনে হয়, ঋণ নেওয়ার আগে শুধু দেখতে হবে ঋণদাতা দেশটি তাদের পছন্দের কি না।

চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক বাড়লে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কের ওপর কী প্রভাব পড়তে পারে, সেটাও বিবেচনা করতে হবে। বাংলাদেশকে চীন, ভারত, জাপান ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখতে হবে। কারণ আমাদের অর্থনীতি কোনো একটি দেশের ওপর নির্ভর করে চলতে পারে না। রপ্তানি বাজার, বিনিয়োগ, প্রযুক্তি এবং জ্বালানি আমদানির ক্ষেত্রে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে সম্পর্ক গুরুত্বপূর্ণ।

ভারত রাশিয়ার কাছ থেকে তেল কেনে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা করে, চীনের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করে, আবার জাপানের সঙ্গেও সম্পর্ক রাখে। কারণ ভারত জানে, আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নিজের স্বার্থটাই আগে দেখতে হয়। আমাদেরও সেই শিক্ষা নেওয়া দরকার। কিন্তু আমরা ব্যস্ত কে ভারতের দালাল, কে চীনের দালাল, কে আমেরিকার দালাল, সেই হিসাব করতে।

ভারত যখন নিজের জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে এত হিসাব করছে, তখন আমরা কেন একইভাবে ভাবতে পারি না? শুধু ডলার খরচ করে জ্বালানি আমদানি করে যাব, তারপর দাম বাড়লে জনগণকে ধৈর্য ধরতে বলব? দেশের অর্থনীতি ভালো করতে হলে উৎপাদন খরচ কমাতে হবে, জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে এবং ডলার খরচের ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা করতে হবে। ডলার আয় করা যেমন জরুরি, তেমনি কোথায় ডলার খরচ করছি এবং সেই খরচ ভবিষ্যতে আমাদের কতটা সুবিধা দেবে, সেটাও গুরুত্বপূর্ণ।

এসবের জন্য শুধু বক্তৃতা নয়, বাস্তব কাজও প্রয়োজন।


ফটোকার্ড ক্রেডিট : বাংলা ট্রিবিউন

মন্তব্য ১ টি রেটিং +১/-০

মন্তব্য (১) মন্তব্য লিখুন

১| ২৬ শে অক্টোবর, ২০২৬ ভোর ৪:২৪

মাথা পাগলা বলেছেন: ভারত রাশিয়া থেকে তেল কিনে সেই তেল শোধন করে আবার ইউরোপে বিক্রি করে। তবে ভারতে জনগণের জন্য জ্বালানি দামের সাথে বাংলাদেশের জ্বালানি দামের খুব একটা পার্থক্য নেই।

শুধু চীন না - পাকিস্তান ছাড়া বাকি সব দেশের সাথেই সুম্পর্ক রাখতে হবে, ভৌগলিক অবস্থান ছাড়া বাংলাদেশের তেমন একটা লেভারেজ নাই।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.