নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

হেলালুদ্দীন

হেলালুদ্দীন › বিস্তারিত পোস্টঃ

প্রকৃত মুমিনের বৈশিষ্ট্য

৩১ শে মার্চ, ২০১৮ রাত ১১:২৬

হাসান বসরী (রহ.) বলেন : হায় আফসোস! মিথ্যে আশা মানুষকে শেষ করে দিল। কথা আছে, কাজ নেই। জানা আছে, ধৈর্য্য নেই। ঈমান আছে, একিন নেই। কী হল আমার! মানুষ দেখি, মানুষের বিবেক দেখি না। মুখের কথা শুনি, মনের কথা শুনি না। মানুষ ইসলামে প্রবেশ করেছিল, কিন্তু আল্লাহর কসম, তারপর বেরও হয়ে গেছে। মানুষ আল্লাহর পরিচয় পেয়েছিল, তারপর ভুলেও গেছে। মানুষ হারামকে হারাম জেনেছিল, তারপর হালালও করে নিয়েছে। তোমাদের একেকজনের ধর্ম তো মুখের বুলি। যদি জিজ্ঞাসা করা হয়, তুমি কি বিচার দিনে বিশ্বাস কর? বলে, হাঁ..। কসম বিচারদিনের মালিকের, সে মিথ্যা বলে।

মুমিনের বৈশিষ্ট্য হল ধার্মিকতার সাথে শক্তিসামর্থতা, নম্রতার সাথে দৃঢ়চিত্ততা, নিশ্চয়তার সাথে আশ্বস্ততা, ধৈর্যের সাথে জ্ঞানার্জন, জ্ঞানের সাথে সহিষ্ণুতা,কোমলতার সাথে কমনীয়তা, অর্থাভাবে সংযমপ্রদর্শন, প্রাচুর্যে মধ্যমতাবলম্বন, স্নেহের সাথে দান করা, বিপদগ্রস্তকে দয়া করা, অধিকারসহ উপহার দেওয়া,ন্যায়ের উপর অবিচল থাকা। প্রকৃত মুমিন যাকে অপছন্দ করে তার প্রতিও অবিচার করে না, যাকে পছন্দ করে তার জন্যও পাপাচার করে না। প্রকৃত মুমিন গিবত করে না, অপবাদ দেয় না, অন্যের দোষ ধরে না। প্রকৃত মুমিন অনর্থকভাবে বলেও  না, অনর্থকভাবে  করেও না। প্রকৃত মুমিন খেল-তামাশায় নেই,কূটনামিতে নেই, অযথা নাকগলানোয় নেই। সে কারও অধিকার অস্বীকার করে না, অজুহাতে বাড়াবাড়ি করে না। অন্যের বিপদে খুশি হওয়া, অন্যের অপরাধে উল্লাস করা প্রকৃত মুমিনের কাজ নয়।

মুমিন নামাযে বিনয়ী, জামাতে অংশগ্রহণে প্রতিযোগী। তার কথায় নিরাময়। তার ধৈর্য মূলত খোদাভীতির কারণে। তার নীরবতা আসলে চিন্তামগ্নতা। তার দৃষ্টিতে আছে উপদেশ। মুমিন আলিম-ওলামার সাথে মেশে শেখার জন্য, নীরবতা পালন করে ভুল থেকে নিরাপদ থাকার জন্য আর কথা বলে ছাওয়াব লাভের আশায়। মুমিন যদি ভালো কিছু করে তাহলে খুশি হয় আর মন্দ কিছু করে ফেললে ইস্তিগফার করে। মুমিনকে ভর্ৎসনা করা হলে সন্তুষ্টচিত্তে মেনে নেয়, তার সাথে মূর্খসুলভ আচরণ করা হলে সহনশীলতার পরিচয় দেয়, সে যুলুমের শিকার হলে ছবর করে, তার প্রতি অন্যায় করা হলে সে ন্যায় করে। মুমিন শুধু আল্লাহরই আশ্রয় চায়। মুমিন শুধু আল্লাহরই সাহায্য চায়। মুমিন লোকালয়ে গম্ভীর, নিরালায় কৃতজ্ঞ। মুমিন  অল্পে তুষ্ট, সুখে শোকরগুযার, দুঃখে সবরদার। গাফেলদের সঙ্গে বসলে মুমিন যিকিরকারীদের মধ্যে গণ্য হয়৷ যিকিরকারীদের সঙ্গে বসলে ইসতিগফারকারীদের মধ্যে গণ্য হয়।

একে একে এমনই ছিলেন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবীগণ এবং এ-অবস্থায়ই তারা আল্লাহর কাছে চলে গেছেন। তোমাদের পূর্ববর্তী মুসলমানগণও এমনই ছিলেন। কিন্তু তোমরা বদলে গেছ, তাই আল্লাহ তোমাদের সঙ্গে ভিন্ন আচরণ করছেন। অতঃপর হাসান বসরি রহ. এই আয়াত তিলাওয়াত করলেন :

إن الله لا يغير ما بقوم حتى يغيروا ما بأنفسهم , وإذا أراد الله بقوم سوءا فلا مرد له , وما لهم من دون الله من وال .

নিশ্চয় আল্লাহ পরিবর্তন করেন না কোনো কওমের অবস্থা, যতক্ষণ না তারা পরিবর্তন করে ফেলে নিজেদের অবস্থা। আর আল্লাহ যখন কোনো কওমের ব্যাপারে আযাবের ফায়সালা করেন তখন তার কোনো প্রতিরোধকারী থাকে না। আর আল্লাহর মোকাবেলায় তাদের কোনোই অভিভাবক নেই।

মন্তব্য ০ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (০) মন্তব্য লিখুন

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.