নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

https://www.facebook.com/mekailimroz

মিকাইল ইমরোজ

মিকাইলীয় উপপাদ্য – অংকে আমি ভয়ংকর কাঁচা থাকা সত্তেও দু’একটা উপপাদ্য মস্তিষ্কে ঢুকে যেত, এখন ঢোকে জীবনের আর্তি। তা যখন প্রকাশিত হয়, তা হয়ে উঠে আমার, একান্ত মিকাইলীয় উপপাদ্য।

মিকাইল ইমরোজ › বিস্তারিত পোস্টঃ

সুদখোর জিন্দাবাদ!

১২ ই জানুয়ারি, ২০১৭ রাত ৮:৪৫



বাল্যকালে যখন পার্শ্ববর্তি কেউ বলতো কোন এক পাড়ায় পোকা ধরেছে গরুর শরীরে, তখন প্রবল ঘ্রিনা আর আতঙ্কে চোখ মুখ নীল হয়ে উঠতো, সন্ত্রস্থ বোধ করতাম। তার চেয়ে বেশী ভয়ার্ত হয়ে পড়তাম যখন রোগ উপশমের জন্য ব্যাতিক্রমতম ঔষধের কথা বলা হতো; সুদখোদের নামের তালিকা গরুর গায়ে বেধে দিলেই অবধারিত ধ্বংশের মত পোকাগুলো পতিত হবে গরুর শরীর থেকে। তখন কল্পনায় আসতো সুদখোরদের প্রতিমুর্তি, ভুড়ি মোটা লোমশ শারীর থেকে ঝরে পড়ছে পোকা, যেন পৃথিবীর নিকৃষ্টতম এক অর্থদানব। অন্ধকারের গর্ভে কাটানো বাল্যকালেই দেখা পাই বাস্তবের সুদখোরদের, কল্পনার সাথে অমিল, তারাও সবার মত স্বাভাবিক, কেউ সুন্দর কেউ অসুন্দর। তবুও সুদখোর শব্টা থেকে গেল দানবিক বিভিষিকা নিয়ে।

একদিন আমাদের লোকালয়ে বিপুল উৎসাহে হানা দিলো রাজকীয় সুদখোরেরা তাদের ক্ষুদ্রঋণ প্রকল্প নিয়ে। সুদখোরদের প্রতি অনিঃশেষ ঘ্রিনায় যার কর্তার বদন মোবরক জ্বল জ্বল করতো সেই গৃহবধু বাড়ির একমাত্র চেয়ারটি এগিয়ে দেয় সুদখোরদের প্রতিনিধির দিকে। কর্তা দেখতে পায় তার কর্তি সুদখোরদের পোকায় খাওয়া শরীর লোহন করছে, কর্তা বিভ্রান্ত ও বিপদগ্রস্থ হয়। তার ধর্ম, চেতনা, সমাজ, কর্ম সব নিমিষেই প্রাচীন সভ্যতার মত পতিত হয়। তবুও সে নিরুত্তর থাকে কারন তারও ভিষন অর্থের প্রয়োজন। অর্থের জন্য শয়তানকে ঈশ্বরের অর্ঘ্য দিতে পিছুপা হয় না অহমিকাগ্রস্থ বিধাতার পুজারীরা। অর্থ সাহায্য নেওয়ার পর সমাজে গিয়ে প্রচার করে নিজের মহিমা আর অর্থদাতার বিরুদ্ধে কুৎসা। স্থানীয় সুদখোরেরা ভেঙে যায়, মুচড়ে যায়। রাজকীয় সুদখোরেরা রাজত্ব কায়েম করে। ধীরে ধীরে গ্রামের মানুষ ভুলে যায়, গরুর গায়ের পোকা তাড়ানোর পদ্ধতি। রাজকীয় দাসদের কাছে সবাই মাথা নত করে কিন্তু উপকারভোগী সেই নির্লজ্জরা আড়ালে তাদের বিষাদ করে, অন্তরে পুষে রাখে ঘ্রিনার মালা, যা থেকে দুর্গন্ধ ছড়ায় গ্রাম, শহরে।

গ্রামের ডাকাত প্রবৃত্তির সুদখোরেরা কড়া সুদ আদায় করতো ও নিজেই ভোগ করতো কিন্তু রাজকীয় সুদ ব্যবস্থায় সুদের টাকা কার পাকস্থলিগত হয়? সব কি প্রতিষ্ঠানের প্রধান গিলে ফেলে? সে তো আর প্রতিষ্টানের মালিক নয়। সে গিলবে কিভাবে? এই ধরনের প্রতিষ্টানে সব চেয়ে বড় অংশ থাকে সরকারের ও জনতার। তাহলে কি রাষ্ট্র সুদখোর? জনতা সুদখোর? তাহলে আমাদের সব সমাজ, সংস্কার রাষ্ট্র সব কিছুই সুদখোর? রাষ্ট্রের সব নাগরিক কি সুদখোর? যারা ব্যাংকে টাকা রাখে তারা সবাই সুদখোর? সেইসব সুদখোরদের টাকায় চলে সমাজ সংসার, পতিত দেশ, বিভক্ত বিশ্ব, আর আমাদের গ্রাম শহর ধর্ম মন্দির। এই পৃথিবী পুষ্ট হয়েছে সুদখোরের অর্থে।

সেই সব সুদখোর মানুষেরা বেচে থাকুক যারা গড়ে চলেছে পৃথিবী। সুদখোর জিন্দাবাদ।

মন্তব্য ৯ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (৯) মন্তব্য লিখুন

১| ১২ ই জানুয়ারি, ২০১৭ রাত ৯:০১

চাঁদগাজী বলেছেন:


মনে হয়, আপনার ভাবনায় সমস্যা আছে; মুলধনের সাথে সুদ যুক্ত; সুদের শর্ত ও রেইট একটা সমাজের অর্থনৈতিক অবস্হা তুলে ধরতে সক্ষম

১২ ই জানুয়ারি, ২০১৭ রাত ৯:০৫

মিকাইল ইমরোজ বলেছেন:





আমিও তো সেই কথাই বললাম। আমরা যাদের সুদখোর বলে নিন্দা করি তাদের টাকাতেই দুনিয়াটা গড়ে উঠেছে।



২| ১২ ই জানুয়ারি, ২০১৭ রাত ৯:০৯

শাহাদাৎ হোসাইন (সত্যের ছায়া) বলেছেন: :| খোর শব্দ শুনলে এক সময় মানুষের নাড়ীভুঁড়ি উল্টে যেত। এখন মানুষ এতে অভ্যস্ত হয়ে গেছে। যেখানে রাষ্ট্র যন্ত্র সুদের কারবার করে সেখানে অন্য মানুষের দোষ দেওয়াটা আমাদের বাধ্যবাধকতা নেই। অনেকটা জানাজা নামাজের মত, গ্রাম বাসীর পক্ষে কয়েকজন দিলেই সবার হক আদায় হয়ে যায়। আমাদের হক আপনি আদায় করেছেন। আল্লাহ শুকুর।

১২ ই জানুয়ারি, ২০১৭ রাত ৯:১৪

মিকাইল ইমরোজ বলেছেন:


আপনি মনে হয় পুরোটা ভালো করে পড়েন নি। আমি এখানে সুদখোরদের পক্ষে বলেছি।

৩| ১২ ই জানুয়ারি, ২০১৭ রাত ৯:২০

শাহাদাৎ হোসাইন (সত্যের ছায়া) বলেছেন: আমিও পক্ষে বলেছি তবে একটু উল্টিয়ে যেটা আপনি বুঝতে পারেন নি।

১২ ই জানুয়ারি, ২০১৭ রাত ৯:২৭

মিকাইল ইমরোজ বলেছেন:

কি জানি।

৪| ১২ ই জানুয়ারি, ২০১৭ রাত ৯:৫৯

চাঁদগাজী বলেছেন:



সুদ না থাকলে মুলধন আটকা পড়ে যেতো, মুলধন পাওয়া কঠিন হতো; এটা অনেকে বুঝতে পারে না

১২ ই জানুয়ারি, ২০১৭ রাত ১০:০২

মিকাইল ইমরোজ বলেছেন:


ঠিক বলেছেন।

৫| ১৩ ই জানুয়ারি, ২০১৭ ভোর ৪:০৯

মাগুরগিয়াসাইবারফোর্স বলেছেন: ফালটু লেকা । ইইউনুস সার এর মট আরেকটা লওক হয় না

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.