নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

জীবন নামের বায়োস্কোপ

মানুষ মানুষের জন্যে

সৈয়দ মনজুর মোর্শেদ

মন হতে তোর স্বপ্ন মেলুক/আকাশ-পাতাল ডাঙ্গায় চলুক/ঐ সাগরের তলদেশে/কুড়ুবি তুই মুক্ত-ঝিনুক https://www.facebook.com/syedmonzur.morshed

সৈয়দ মনজুর মোর্শেদ › বিস্তারিত পোস্টঃ

আহনাফের জন্য আশি লক্ষ টাকা অথবা ইতিহাস লেখার গল্প

১৯ শে অক্টোবর, ২০১৩ বিকাল ৫:২৪







অমিতের কথা মনে আছে ? বিরল, দুরারোগ্য “পোলিও ওয়াইল্ড” রোগে আক্রান্ত হয়েছিলো সে। এই খবর পেয়ে জনকন্ঠ পত্রিকা তার বাসায় যায়। পরের দিন সকালে জনকন্ঠে হেডলাইন হয়েছিলো রিপোর্টারের সামনে বাবাকে বলা ছোট্ট অমিতের সেই বিখ্যাত উক্তি, “বাবা, ঢাকা শহরে এতো মানুষ, সবাই এক টাকা করে দিলেও তো আমি বেঁচে যাই।“



ভাইরাসের চেয়েও দ্রুতগতিতে ছড়িয়ে গেছিলো সেই খবর। দেশ জুড়ে তোলপাড় শুরু হয়েছিলো। বহু অর্থসাহায্য এসেছিলো এবং এক পর্যায়ে মজুদ অর্থের পরিমাণ প্রয়োজনকেও ছাড়িয়ে গেছিলো। বাঙালি প্রমাণ করে ছেড়েছিলো, রোগের কাছে তারা হারতে জানে না, সম্ভাবনাময় প্রাণকে তারা হারিয়ে যেতে দেয় না। এরপর দীর্ঘদিন বেঁচে ছিলো অমিত।



আমাদের ঢাকা রেসিডেন্সিয়াল মডেল কলেজের একজন মেধাবী ছাত্র আছে। অত্যন্ত ব্রিলিয়ান্ট ছেলে। ৫ম ও ৮ম শ্রেনীতে বৃত্তি পেয়েছে। জেএসসি, এসএসসি – দুই পরীক্ষাতেই সব বিষয়ে এ-প্লাস পেয়েছে। অসাধারণ বিতর্ক করে। বিজ্ঞান প্রজেক্টে বিভিন্ন স্কুল কলেজ ও জাতীয় পর্যায়ে সে ১৮ বার পুরস্কার পেয়েছে। রেসিডেন্সিয়ালের বিখ্যাত ডিবেটিং ক্লাব RDS –এর সাথে জড়িত সে। বিভিন্ন আন্তঃকলেজ প্রতিযোগিতায় নিজের কলেজের নাম উজ্জ্বল করেছে বেশ কয়েকবার।



আহনাফ নাম ওর। পুরো নাম নূর-এ-শাফি আহনাফ। ঢাকা রেসিডেন্সিয়াল মডেল কলেজে একাদশ শ্রেণীতে পড়ে। এমনিতে সুস্থই ছেলে, ক্লাস আর সাংস্কৃতিক কাজকর্ম নিয়ে থাকে। হঠাৎ করেই তার ক্যান্সার ধরা পড়েছে। ব্লাড ক্যান্সার, বা ডাক্তারি ভাষায় যেটাকে বলে ক্রনিক লিউকেমিয়া – সেটা হয়েছে আহনাফের। যতো সহজে রোগের নামটা বলে ফেললাম, রোগটা ততো সহজ নয়। এর চিকিৎসা হচ্ছে বোনম্যারো ট্রান্সপ্লান্ট। আমাদের শরীরের হাড়ের ভেতরে মজ্জা থেকে রক্ত তৈরি হয়। যেহেতু মজ্জাতে সমস্যা, তাই আহনাফের শরীরের হাড়ের ভেতরের নতুন মজ্জা বসাতে হবে।



বাংলাদেশে এই বোনম্যারো ট্রান্সপ্লান্ট হয় না। কাছাকাছির মধ্যে এটা ভারতের মুম্বাইয়ের টাটা মেমোরিয়াল ক্যান্সার হাসপাতালে হয়, আর হয় সিঙ্গাপুরে। আহনাফকে তার রোগের কথা জানানো হয়নি শুরুতে। হাসপাতালের বিছানায় একাকী ছেলেটা সময় কাটাতে মোবাইল দিয়ে ফেসবুকে ঢুকেছে। ফেসবুকের বিভিন্ন পোস্ট থেকে সে তার ক্যান্সারের ব্যাপারে জেনে ফেলেছে। ভয়ে, হতাশায়, অর্থনৈতিক সমস্যার লজ্জায় একেবারে কুঁকড়ে গেছে ছেলেটা। মানসিকভাবে একেবারেই ভেঙ্গে পড়েছে সে, আর এর প্রভাব পড়ছে তার শরীরে। ক্রমেই তার শারীরিক অবস্থা খারাপের দিকে যাচ্ছে। তবে আশার কথা ক্যান্সারটা প্রাথমিক স্টেজে আছে এখনও। ডাক্তাররা বলেছেন, খুব দ্রুত দেশের বাইরে নিয়ে চিকিৎসা করালে ধীরে ধীরে সেরে যাবে আহনাফ।



মাঝখানে শুধু মোটা দাগ হয়ে বিশাল এক টাকার অংক প্রতারণার হাসি হাসছে। আশি লক্ষ। আটের পর ছয়টা শূন্য। আহনাফকে ভালো করে তুলতে হলে আশি লক্ষ টাকা যোগাড় করতে হবে।



ক্যান্সারের সবচেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে, ফ্যামিলিতে মাত্র একজনেরও যদি এই রোগ হয়, তাহলে তীব্র একটা ধাক্কায় সেই ফ্যামিলির অর্থনৈতিক মেরুদণ্ড ধ্বংস হয়ে যায়। মা-বাবার সারা জীবনের সঞ্চয়, একটা ঝড় এসে তুমুল ঝাঁকি দিয়ে একেবারে খালি করে দিয়ে চলে যায়। আহনাফদের পরিবার মধ্যবিত্ত। তাদের একটা বাড়ি আছে। ছেলেটাকে বাঁচানোর জন্য বাড়িটা বিক্রি করে দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। আপনারা জানেন, জমি-জমা বিক্রির ব্যাপার অত্যন্ত সময়সাপেক্ষ। চিকিৎসা শুরুর পরের কাজগুলো করার জন্য জমি বিক্রির টাকাগুলো হয়তো কাজে লাগবে। কিন্তু চিকিৎসা শুরু করার জন্য যে প্রাথমিকভাবে কিছু ক্যাশ লাগে, আহনাফের স্কুল টিচার বাবা-মায়ের হাতে সেটাও নেই। এর চেয়ে বড় হতাশার ব্যাপার আর কী হতে পারে ?



যতো দেরি হচ্ছে, আহনাফের শরীর থেকে শ্বেত রক্ত কণিকা ততো কমে যাচ্ছে। আর কিছুদিন দেরি হলে যদি ওর সারা শরীরে ক্যান্সার ছড়িয়ে যায়, তাহলে কী হবে সেটা আর বললাম না – আপনারা জানেন। এই ঈদ আর পূজা একসাথে পড়ে যাওয়াতে ঢাকা শহর প্রায় খালি হয়ে গেছে। সব স্কুল-কলেজ বন্ধ। কিছুই করা যাচ্ছে না। স্কুল-কলেজগুলো বিশ তারিখের দিকে খুলবে, কিন্তু নির্বাচনকে সামনে রেখে তখনকার রাজনৈতিক পরিস্থিতি কেমন থাকবে ? জানি না আমরা।



ঢাকা রেসিডেন্সিয়াল মডেল কলেজের শিক্ষকেরা মিলে এক লাখ বিশ হাজার টাকা জোগাড় করেছেন। বিভিন্নভাবে আরও সাহায্য পাওয়া গেছে আরও প্রায় এক লাখ। আশি লক্ষের মধ্যে কতোটা পারবো আমরা ? জানি না, তবে এইটুকু জানি যে, আহনাফ বাঁচবেই।



আমরা, আহনাফের বন্ধুরা, বিতর্কের সহযোদ্ধারা, ঢাকা রেসিডেন্সিয়াল মডেল কলেজের প্রতিটা ছাত্র আহনাফের জন্য কিছু টাকা যোগাড় করার আশা নিয়ে বিস্তারিত কর্মসূচী তৈরি করেছি। অনেক টাকা দরকার আমাদের। ঘটনাচক্রে এইবারও, ঢাকা শহরের সবাই যদি এক টাকা করেও দেয়, তাহলেও বেঁচে যাবে আহনাফ। বেঁচে যাবে আমাদের যুক্তিবাদী সমাজের একজন বিতার্কিক, বেঁচে যাবে একটা উজ্জ্বল ভবিষ্যত। আমাদের বিস্তারিত কর্মসূচী ও জরুরী তথ্যগুলো এখানে দিয়ে দিচ্ছিঃ





চলতি মাস অক্টোবরের ২০ তারিখ পর্যন্তঃ





১) ঢাকা শহরের বিভিন্ন অ্যাপার্টমেন্ট, যেগুলোতে আমাদের কলেজের ছাত্ররা থাকে, সেগুলো থেকে টাকা সংগ্রহ করা হবে।



২) বিভিন্ন শপিং কমপ্লেক্সের সামনে আমাদের ছেলেরা থাকবে। এখানে একটা জটিলতা তৈরি হয়েছে। ঈদের মৌসুমে শপিং মলগুলো কাস্টমারদের অসুবিধার কথা ভেবে পার্মিশন দিচ্ছে না।



৩) বিভিন্ন এলাকার ঈদগাহের দায়িত্বপ্রাপ্ত ইমামদের সাথে কথা বলে ঈদের দিন নামাজের আগে বা পরে ঘোষণা দেয়ার চেষ্টা করা হবে আহনাফের ব্যাপারে। ঈদগাহের বাইরে আমাদের ছেলেরা থাকবে।



৪) অনলাইনে প্রচারণা চালানো হবে।





২০ তারিখের পরঃ



১) স্কুল-কলেজ খুলে গেলে কলেজগুলোর অধ্যক্ষদের মাধ্যমে তাদের ছাত্র-ছাত্রীদের কাছ থেকে সাহায্য চাওয়া হবে।



২) একটা ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল, একটা বিতর্ক প্রতিযোগিতা এবং সম্ভব হলে একটা কনসার্টের আয়োজন করা হবে। এগুলো থেকে প্রাপ্ত পুরো টাকা আহনাফের চিকিৎসায় ব্যয় করা হবে।



আহনাফের বন্ধুরা, যারা এই কাজগুলো করছে, তাদের বয়স ১৮-১৯ হবে। এই বয়সটা এখনও এসব পরিস্থিতির মোকাবেলা করার জন্য ত্রুটিহীন নয়। তাই ওদেরকে বিভিন্ন মতামত দিয়ে সাহায্য করার জন্য সবাইকে অনুরোধ করা হচ্ছে।





এই লেখার মাধ্যমে আমরা দৃষ্টি আকর্ষণ করছিঃ





১) অর্থনৈতিকভাবে স্বচ্ছল বাংলাদেশি ও প্রবাসী বিভিন্ন ব্যক্তিদের



২) বিভিন্ন ব্যান্ড ও চলচ্চিত্রের সাথে জড়িত শিল্পীদের



৩) টিভি ও প্রিন্ট মিডিয়ার সাংবাদিকদের



৪) ফেসবুকের জনপ্রিয় লেখকদের



৫) বিভিন্নভাবে প্রচারে সক্রিয় যে কোনো মানুষের







আপনাদের মাধ্যমে আমরা এই খবরটাকে সবার কাছে পৌঁছে দিতে চাচ্ছি এবং এই বিশাল অংকের অর্থ সংগ্রহের কার্যক্রমে আপনাদের অংশগ্রহণ চাচ্ছি। একজন বিতার্কিক আবেগ দিয়ে কিছু চায় না, তার অস্ত্র হচ্ছে যুক্তি। একটা সম্ভাবনাময় জীবন যদি আপনাদের কাছে যথেষ্ট যুক্তিযুক্ত মনে হয়, তবে এগিয়ে আসুন।







আহনাফের বাবা ( মোঃ আবুল কাশেম ) : 01916216748



আহনাফের মা ( মিসেস নূরজাহান ) : 01917637310





ব্যাংক অ্যাকাউন্টঃ



১ - Golam Mahbub,



Dutch Bangla Bank,



Digpait, Jamalpur.



Account no. : 200.103.200







২ - Nurzahan,



Islami Bank Bangladesh limited,



Jamalpur Branch.



Mudaraba saving account no : 11598 (online)







বিকাশ (b-Kash)





01917637310 (আহনাফ এর মা)



01715015075 (আহনাফ এর মা)



01724921889 (আহনাফ এর মামা)



01682608664 (তানজিল )



01676942188 (রুদ্র )



01921670683(পাভেল )



01671102028 (আদনান )



01681685780 (জালাল)





ফেসবুক ইভেন্টঃ Click This Link



আহনাফের ফেসবুক প্রোফাইলঃ https://www.facebook.com/nurashafee.ahnaf



আহনাফের জন্য বানানো কাভার ফটোঃ সবাই প্রোফাইলে লাগিয়ে নিন







রোগের বিরুদ্ধে মানুষের জয়ের ইতিহাস লেখার সমীকরণটা খুব সহজ। আপনাদের মধ্যে একজনের অবহেলা, ক্যান্সারের বিরুদ্ধে ব্যর্থতার পথে আমাদের একধাপ এগিয়ে যাওয়া। আপনাদের মধ্যে একজনের সাহায্য, আহনাফের শরীরে এক ফোঁটা নতুন রক্ত।





অমিতের পর আমরা কি আরেকটা ইতিহাস লিখতে পারবো ?







(লেখাটি ঢাকা রেসিডেন্সিয়াল মডেল স্কুল এন্ড কলেজের এবং আমার শিক্ষিকা সাবেরা সুলতানা ম্যামের ফেইসবুক স্ট্যাটাস থেকে নেয়া)



**সামুর মডারেটরদের প্রতি অনুরোধ থাকবে লেখাটি দৃষ্টি আকর্ষণ অংশে যুক্ত করার জন্যে। এই ছোট কাজটিই হয়তো একটি ছেলের জীবন বাঁচাবে!

মন্তব্য ৪ টি রেটিং +১/-০

মন্তব্য (৪) মন্তব্য লিখুন

১| ১৯ শে অক্টোবর, ২০১৩ সন্ধ্যা ৭:১৯

মো. আবুল হোসেন, শিবচর, মাদারিপুর বলেছেন:
পোস্টটি স্টিকি করা হোক।

১৯ শে অক্টোবর, ২০১৩ রাত ৯:৫৯

সৈয়দ মনজুর মোর্শেদ বলেছেন: লেখাটি স্টিকি করার জন্যে আবারও অনুরোধ করছি।

২| ১৯ শে অক্টোবর, ২০১৩ সন্ধ্যা ৭:২২

মো. আবুল হোসেন, শিবচর, মাদারিপুর বলেছেন:

দেশেই এবার অস্থিমজ্জা প্রতিস্থাপন
প্রথম আলোতে প্রকাশিত এ খবরটি দেখতে পারেন।

Click This Link

৩| ১৯ শে অক্টোবর, ২০১৩ সন্ধ্যা ৭:২৬

মো. আবুল হোসেন, শিবচর, মাদারিপুর বলেছেন: শীঘ্রই যোগাযোগ করুন...
প্রথম আলো থেকে নেয়া

দেশেই এবার অস্থিমজ্জা প্রতিস্থাপন

গোটা দেশ ঈদ উদযাপন আর নানা আয়োজনে ব্যস্ত। আর ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ব্যস্ত অন্যরকম আয়োজনে। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে আগামী বুধবার এই হাসপাতালে প্রথমবারের মতো অস্থিমজ্জা প্রতিস্থাপনের কাজ শুরু হবে। এখন চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসকেরা বলছেন, অস্থিমজ্জা প্রতিস্থাপনের (বোনম্যারো ট্রান্সপ্ল্যান্টেশন) মাধ্যমে ব্লাড ক্যানসার, লিউকোমিয়া, থ্যালাসেমিয়া, লিম্ফোমা, সিভিয়ার অ্যাপ্লাস্টি অ্যানিমিয়াসহ জটিল রোগের চিকিৎসা করা সম্ভব হবে। সফলভাবে কর্মসূচিটি চালু করা গেলে রোগীরা অল্প খরচে উন্নতমানের চিকিৎসা পাবেন। তাঁদের আর অন্য কোথাও যেতে হবে না।
এ প্রসঙ্গে স্বাস্থ্যমন্ত্রী আ ফ ম রুহুল হক বলেছেন, বাংলাদেশে অস্থিমজ্জা প্রতিস্থাপনের সুবিধা চালুর উদ্যোগ এ সরকারের একটি অন্যতম সাফল্য।
জানা গেছে, আজ বুধবার সকালে হাভার্ড মেডিকেল স্কুলের একটি প্রতিনিধিদল ঢাকায় এসে পৌঁছেছে। তাঁরা বাংলাদেশি চিকিৎসকদের কাজে সহায়তা দেবে। অস্থিমজ্জা প্রতিস্থাপনের কাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত এই দলটি ঢাকায় অবস্থান করবে।
এ দলের নেতৃত্বে আছেন বাংলাদেশে জন্মগ্রহণকারী মার্কিন চিকিৎসক বিমলাংশু দে, অ্যানা ক্যাথেরিন গুডম্যান, ট্র্যাসিলিন হল, মার্টিন ক্যারল, ইরিনা ডোবরাসিন ও লরা ডিলন।
গতকাল মঙ্গলবার রাতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের রক্তরোগবিদ্যা (হেমাটোলজি) বিভাগের প্রধান ও হাসপাতালটির বোনম্যারো ট্রান্সপ্ল্যান্টেশন ইউনিটের প্রধান এম এ খান প্রথম আলো ডটকমকে বলেন, ঈদের এক দিন আগেও ট্রান্সপ্ল্যান্টেশন ইউনিটে সেবিকাদের পরীক্ষা নিতে হয়েছে। দেশে ও বিদেশে চিকিৎসক ও নার্সরা যেসব প্রশিক্ষণ পেয়েছেন, তা ঠিকমতো তাঁরা আত্মস্থ করছেন কি না, সে বিষয়টি খতিয়ে দেখাই ছিল পরীক্ষার উদ্দেশ্য।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক রুহুল ফোরকান বলেন, ২০১০ সাল থেকে ইউনিটটি চালুর চেষ্টা শুরু হয়। অবশেষে এটি সফলতার মুখ দেখতে যাচ্ছে। এখন পর্যন্ত বাংলাদেশে প্রতিস্থাপনের সুযোগ নেই। সুব্যবস্থা করা গেলে প্রতিবেশী দেশ ভারত, সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ডের তুলনায় অনেক কম খরচে রোগীদের সেবা দেওয়া সম্ভব হবে।

বোনম্যারো ট্রান্সপ্ল্যান্টেশন কী?
শরীরে ব্লাড ক্যানসার, লিউকোমিয়া, মাল্টিপল মাইলোমাসহ প্রাণঘাতী রোগের আক্রমণ হলে অস্থিমজ্জা প্রতিস্থাপনের প্রয়োজন পড়ে। রোগাক্রান্ত ব্যক্তির ক্ষতির শিকার অস্থিমজ্জা সরিয়ে সুস্থ অস্থিমজ্জা প্রতিস্থাপনই হলো এর উদ্দেশ্য। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এই প্রথম উদ্যোগ নেওয়া হলেও পাশের দেশ ভারতে ২৮টি কেন্দ্রে এ চিকিৎসা করা হয়। সে দেশে এই চিকিৎসা শুরু হয় ১৯৮৪ সালে।
বাংলাদেশে বছরে ঠিক কী পরিমাণ রোগীর অস্থিমজ্জা প্রতিস্থাপন করা প্রয়োজন, সে সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য কারও হাতে নেই। তবে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল বলছে, এসব রক্তরোগে প্রায়ই মানুষ আক্রান্ত হচ্ছে এবং অর্থাভাবে অনেক সময় ধুঁকে ধুঁকে প্রাণ হারাচ্ছে। কেউ কেউ ভিটেমাটি বিক্রি করে বা ঋণ করে বিদেশে যাচ্ছে চিকিৎসা সেবা নিতে।
এ ব্যাপারে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসকেরা বলছেন, ভারতে প্রতিস্থাপনের কাজটি শেষ করতে গড়ে ৪০ লাখ টাকা খরচ হয়। সিঙ্গাপুরে খরচ প্রায় এক কোটি টাকা। কিন্তু বাংলাদেশে খরচ পড়বে পাঁচ থেকে সাত লাখ টাকা।

শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল প্রাথমিকভাবে ১০ জন রোগীকে বাছাই করেছে। ২০-২৩ অক্টোবর পর্যন্ত এই রোগীদের শরীর থেকে স্টেম সেল সংগ্রহ করা হবে। যাঁরা প্রতিস্থাপনের আওতায় আসছেন, তাঁদের নিজেদের শরীরের স্টেম সেল দিয়েই ক্ষতিগ্রস্ত সেলগুলো সরানো হবে। যেহেতু এই রোগীরাই প্রথম, তাই সম্পূর্ণ বিনা পয়সায় তাঁদের চিকিৎসা দেওয়ার চেষ্টা চলছে।

স্বপ্ন পূরণের দ্বারপ্রান্তে
বাংলাদেশে বোনম্যারো ট্রান্সপ্ল্যান্টেশন ইউনিটের প্রধান এম এ খান। ২০০৭ সালে সৌদি আরবের কিং ফয়সাল হাসপাতালে অস্থিমজ্জা প্রতিস্থাপন বিভাগে ডাক পেয়েছিলেন তিনি। কিন্তু লাভজনক হলেও সেই প্রস্তাব ফিরিয়ে দেন তিনি। দেশেই একদিন এই সেবা দেওয়া সম্ভব করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ শুরু করেন। নিজের খরচে সিঙ্গাপুরে প্রশিক্ষণও নেন। একপর্যায়ে সরকারের কাছে ইউনিটটি চালুর প্রস্তাব দিলে সহযোগিতার আশ্বাস পান।
সরকার ম্যাসাচুসেটস জেনারেল হাসপাতাল ও হার্ভার্ড মেডিকেল স্কুলের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক সই করে। ২০১০ সালের শেষ থেকে এখন পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে বাংলাদেশের চিকিৎসক, সেবিকা, মেডিকেল টেকনোলোজিস্টরা বোস্টনে গেছেন, প্রশিক্ষণ নিয়েছেন। আবার যুক্তরাষ্ট্র থেকেও চিকিৎসকেরা এসে হাতে-কলমে কাজ শিখিয়ে গেছেন বাংলাদেশিদের। শুধু যে চিকিৎসা-সংশ্লিষ্টরাই প্রশিক্ষণ নিয়েছেন তা-ই নয়, প্রতিস্থাপনের পর ইনফেকশনের আশঙ্কায় রোগীদের বিশেষ ব্যবস্থায় রাখার বাধ্যবাধকতা আছে। এসব রোগীর কেবিনে যে বাতাস ঢুকবে, তাও ১০০ ভাগ খাঁটি হতে হবে। ঢাকা মেডিকেল কলেজ-২ এ অস্থিমজ্জা প্রতিস্থাপনের ইউনিটে এমন কক্ষ তৈরি করতে প্রকৌশলীদেরও বিদেশে পাঠানো হয়।
অস্থিমজ্জা প্রতিস্থাপন প্রসঙ্গে অধ্যাপক এম এ খান বলেন, বাংলাদেশের চিকিৎসাশাস্ত্রের ইতিহাসে এ হবে এক নতুন অধ্যায়।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.