| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
মহানাম০০৭
‘‘যে গুণে বন্ধুরে পাব, সে গুণ আমার নাই গো, যে গুণে বন্ধুরে পাব”
ছোটবেলা থেকে সংক্রান্তি মানেই বছরের এই একটি সংক্রান্তি আমার কাছে ছিল বিশেষ একটা দিন। এই পৌষ সংক্রান্তিকে ঘিরে থাকতো দীর্ঘ পূর্বপরিকল্পনা। প্রায় এক মাস আগে থেকেই শুরু হতো মাঠে মাঠে ন্যাড়া(কৃষকরা মাঠ থেকে ধান কেটে নেওয়ার পর অবশিষ্ট অংশ/একপ্রকার খর) সংগ্রহের কাজ। সাধারণতঃ এ সময়টায় স্কুলের বার্ষিক পরীক্ষা শেষ হয়ে যেত প্রায়। আর তখন যেহেতু পড়ালেখা থাকতো না কাজেই প্রতিদিন একবেলা মাঠে মাঠে ন্যাড়া সংগ্রহ চলতো মহা সমারোহে। বাড়ির পাশের আঙিগনা(খলা)য় বিশাল বিশাল স্তুপ দিতাম সেগুলোর। আর পৌষ সংক্রান্তির আগের দিন চলতো ভেড়া-ভেড়ি(ভেড়ার ঘর) তৈরির কাজ। এতে লাগতো বাঁশ আর খড়। প্রথমে একটি উঁচু বাঁশকে খড় দিয়ে মুরিয়ে মাটিতে পোতা হতো। আরকেটি ছোট বাঁশকে খড়ে পেছিয়ে প্রথম বাঁশের সাথে আড়াআড়ি বেঁধে হাতের আকার দেয়া হতো। পরে মাটিতে পোতা বাঁশটিকে কেন্দ্র করে চারদিকে বৃত্তাকারে, সংগ্রহকৃত ন্যাড়া/খড় দিয়ে বোঝাই করা হতো। মধ্যে দেয়া হতো বিশেষ ধরনে বাঁশ। পাতলা আর আখি বিশিষ্ট, যা আগুনের তাপে বিস্ফোরিত হতো বিকট শব্দে। প্রতিটি শব্দের সাথে সাথে হৈ...হৈ..... রব দিতাম সবাই। গ্রামে প্রায় ৪/৫ টি ভেড়া-ভেড়ি তৈরি হতো। কার ঘরে কতটি বিস্ফোরন হতো তা নিয়ে রীতিমতো প্রতিযোগিতা চলত। রাতে পাহাড়া দিতাম যাতে কেউ এসে আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে না যায়। ভাই-বেরাদার মিলে ভেড়ার ঘরে থাকতাম। নির্ঘুম রাতকে আনন্দময় করে তোলার জন্য আনুষাঙ্গিক আয়োজনও থাকতো। যেমন, মাংস রান্না করে খাওয়া, মাইক বাজিয়ে গান করার, ক্যাসেট প্লেয়ারে সারারাত গান চলতো। তখনতো আর sp4 Sound system কিংবা mp3 Mobile device ছিল না। আমরা ক্যাসেট প্লেয়ারে গান চালিয়ে তার সামনে মাইক্রোফন ধরে মাইকে বাজাতাম। এসব আনন্দযজ্ঞে সামিলে থাকতেন আমাদের চেয়ে কয়েক বছরের সিনিয়র কাকুরাও। তাদেরকে আমরা সামিল রাখতাম মূলত ফান্ডিংএর সুবিধার জন্য। তখনতো আমাদের পকেটে মাইক ভাড়া করার, মাংস কেনার এত টাকা থাকতো না। যাইহোক, পরদিন অর্থাৎ সংক্রান্তির দিন ভোরে উঠে (প্রায় ৪:০০টা) ঠান্ডা পানিতে স্না সেরে নতুন কাপড় পড়ে সবাই গিয়ে আগুন জ্বালাতাম ঐ ভেড়ার ঘরে। বাড়ির সব বয়েসর সকলে এসে আগুন পোহাতো এক সাথে। সে এক বিশাল অগ্নিযজ্ঞ। ভোর ৫টা থেকে সকাল ৮টা পর্যন্ত চলত সে পর্ব। তারপর পিঠা খাওয়ার পালা। আগের দিন মা-কাকিরা বিকেল থেকে পিঠা তৈরিতে বসতেন। বাবা-কাকারা রাতে বড় বড় মাছ নিয়ে আসতেন বাজার থেকে। পরদিন গ্রামে গ্রামে সকালে সামাজিক কীর্তন শেষে সারাদিন চলত খাওয়া-দাওয়ার পালা। সব মিলিয়ে দারুণ ছিল আমার ছোটবেলার পৌষ সংক্রান্তিগুলো। [img|http://ciu.somewherein.net/ciu/image/84634/small/?token_id=17217dc53629fd7242eabf35c24b2466
পৌষ সংক্রান্তি সম্পর্কে হিন্দু শাস্ত্র মতে পৌষ সংক্রান্তি:
পিতামহ ভীষ্মের মৃত্যু দিনই পৌষ সংক্রান্তি...!!
গঙ্গা পুত্র ভীষ্ম তার পিতা শান্তুনু থেকে বর পেয়েছিলেন যে তিনি যখন ইচ্ছা মৃত্যুবরণ
করতে পারবেন...!! অর্থাৎ তার নিজের ইচ্ছা ছাড়া কখনো মৃত্যু তাকে স্পর্শ করতে পারবে না...!! মহাভারতের যুদ্ধে শিখন্ডীর হস্তক্ষেপে অর্জুন
পিতামহ ভীষ্ম কে তীর দ্বারা বিদ্ধ করে এবং শরশয্যার নির্মান
করে...!! পিতামহ সেই সময়েই মৃত্যুবরণ না করেই ৫৮ দিন পর পৌষ
সংক্রান্তির শুভ দিন বেছে নেয়...!! সেদিন ভগবান শ্রীকৃষ্ণের মূল
রুপ নারায়ণ রপেও পিতামহ ভীষ্ম কে দর্শন দেন, ভগবান
উনাকে আসস্থ করেণ যে মৃত্যুর পর তাকে মোক্ষ প্রদান করবেন...!!
গ্রাম বাংলা সহ ভারতের বিভীন্ন জায়গায় ভোর
বেলা আগুন লাগানো হয় খড় ও বাঁশ দিয়ে বানান স্তুপে...!! এটি মূলত
পিতামহ ভীষ্মের চিতার স্বরুপ...!!
পৌষ সংক্রান্তির দিন সূর্য উত্তর মেরুতে হেলে পরতে থাকে যার
জন্যে একে মকড় সংক্রান্তি বা উত্তরায়ণ বলে...!!
২|
১৪ ই জানুয়ারি, ২০১৩ রাত ১২:১৮
মহানাম০০৭ বলেছেন: dhonyabad, cd'r dokan
৩|
১৪ ই জানুয়ারি, ২০১৩ সকাল ১১:৩৭
থার্ড-আই-নেটওয়ার্ক বলেছেন: Click This Link
৪|
১৪ ই জানুয়ারি, ২০১৩ দুপুর ১২:২৬
নিয়েল ( হিমু ) বলেছেন: আচ্ছা "পৌষ সংক্রান্তি" বিষয়টা ঠিক কি ? মানে কোন দিনটাকে পৌষ সংক্রান্তি বলা হয় ?
৫|
১৪ ই জানুয়ারি, ২০১৩ রাত ১১:২৭
মহানাম০০৭ বলেছেন: protiti bangla maser sesh din ke sonkranti bola hoy. Se hisebe pous maser 30 tarik hocche pous sonkranti.
৬|
১৮ ই জানুয়ারি, ২০১৩ সন্ধ্যা ৭:৫৪
মহানাম০০৭ বলেছেন: নিয়েল (হিমু):
পৌষ সংক্রান্তি বা মকর সংক্রান্তি বাঙালি সংস্কৃতিতে একটি বিশেষ উৎসবের দিন। বাংলা পৌষ মাসের শেষের দিন এই উৎসব পালন করা হয়। এই দিন বাঙালিরা বিভিন্ন ধরণের অনুষ্ঠান আয়োজন করে খাকে। তার মধ্যে পিঠা খাওয়া, ঘুড়ি উড়ানো অন্যতম। সারাদিন ঘুড়ি উড়ানোব পরে সন্ধ্যায় পটকা ফুটিয়ে ফানুস উড়িয়ে উৎসবের সমাপ্তি করে। ভারতের বীরভূমের কেন্দুলী গ্রামে এই দিনটিকে ঘিরে ঐতিহ্যময় জয়দেব মেলা হয়। বাউল গান এই মেলার অন্যতম আকর্ষণ। মূলত জ্যোতিষশাস্ত্রের একটি ক্ষণ।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশে, বিশেষত দক্ষিণ এশিয়ায় এই দিবস বা ক্ষণকে ঘিরে উদযাপিত হয় উৎসব। নেপালে এই দিবসটি মাঘি নামে, থাইল্যান্ডে সংক্রান, লাওসে পি মা লাও, মিয়ানমারে থিং ইয়ান এবং কম্বোডিয়ায় মহাসংক্রান নামে উদযাপিত হয়। অবশ্যিকভাবে দেশ ভেদে এর নামের মতোই উৎসবের ধরণে থাকে পার্থক্য।
পশ্চিমবঙ্গে গঙ্গাসাগর মেলার একটি চিত্র ভারতের পশ্চিমবঙ্গে মকর সংক্রান্তি বা পৌষসংক্রান্তি-তে মূলত নতুন ফসলের উৎসব 'পৌষ পার্বণ' উদযাপিত হয়। নতুন ধান, খেজুরের গুড় এবং পাটালি দিয়ে বিভিন্ন ধরনের ঐতিহ্যবাহী পিঠা তৈরি করা হয়, যার জন্য প্রয়োজন হয় চালের গুঁড়া, নারিকেল, দুধ আর খেজুরের গুড়। মকরসংক্রান্তি নতুন ফসলের উৎসব ছাড়াও ভারতীয় সংস্কৃতিতে 'উত্তরায়ণের সূচনা' হিসেবে পরিচিত। একে অশুভ সময়ের শেষ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়, পঞ্জিকা মতে, জানুয়ারির মাঝামাঝি সময়ে শুরু হয়। এই দিনে দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা জেলার অন্তর্গত সাগরদ্বীপে মকর সংক্রান্তি উপলক্ষে কপিল মুনির আশ্রমকে কেন্দ্র করে পুণ্যস্নান ও বিরাট মেলা অনুষ্ঠিত হয়। সহস্রাধিক পুণ্যার্থী ও অন্যান্য রাজ্য থেকে আগত দর্শনার্থীদের সমাগম হয় এই মেলায়।
বাংলাদেশের পুরান ঢাকায় পৌষসংক্রান্তি সাকরাইন নামে পরিচিত। ভারতবর্ষের মতো একটি উষ্ণ অঞ্চলে ভ্রমণের জন্য সবচেয়ে আরামপ্রদ সময় শীতকাল। এখানে বিভিন্ন ধরনের খাবার এবং অন্যান্য উপহার ছাড়াও পৌষমেলার মাধ্যমে পৌষসংক্রান্তি উদ্যাপিত হয়। বিভিন্ন ধরনের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, বিশেষ করে বাউল গানের আসর বসে।
পৌষ সংক্রান্তির দিন বাঙালিরা সারাদিনব্যাপি ঘুড়ি উড়ায়। এইদিন ঘুড়ি উড়ানোর জন্য তারা আগে থেকে ঘুড়ি বানিয়ে এবং সুতায় মাঞ্জা দিয়ে প্রস্তুতি নেয়। ঘুড়ি উৎসব বাংলাদেশের প্রাচীন ঐতিহ্যবাহী একটি উৎসব। মুঘল আমল থেকে এই উত্সব পালিত হয়ে আসছে। এই উৎসবে প্রচুর লোক সমাগম ঘটে। পুরোন ঢাকার অধিবাসীদের কাছে এটি অত্যন্ত উৎসবমুখর দিন যা সাধারণত শীতকালে পালিত হয়।
তথ্য সূত্র:
উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
©somewhere in net ltd.
১|
১৩ ই জানুয়ারি, ২০১৩ রাত ৯:২৪
সিডির দোকান বলেছেন: ভালা অইছে রে.....