নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

আমি অতি সাধারণ। তাই সাধারণের মাঝেই ডুবে থাকতে ভালোবাসি।

মি. বিকেল

বিকেলের ক্লান্তিকতা আমার খুব ভালো লাগে। কারণ সেই ক্লান্তিকতায় ডুবে থাকা মানুষদের না জানিয়ে আমি আমার কাজটুকু নিরবে করে যেতে পারি।

মি. বিকেল › বিস্তারিত পোস্টঃ

দত্ত পরিবার(পর্ব - ১১)

২৪ শে এপ্রিল, ২০২১ সকাল ৭:৫১



বাড়িতে পৌঁছাতে পৌঁছাতে সময় তখন রাত দশটা। গ্রামের মানুষজন রাতের খাবার একটু আগেভাগেই সারিয়ে নেন। এই মোটামুটি রাত আটটার মধ্যে। কারণ, আবার সাতসকালে উঠে ক্ষেত-খামারে যেতে হয় চাষবাস করবার জন্য।

মা আমার গায়ে রক্ত দেখে বুঝলেন আমি আবার কোনো বাজে অভিজ্ঞতার সাথে মুখোমুখি হয়েছি। কিন্তু স্নেহা এমন অবস্থায় আমাকে দেখে বেশ নার্ভাস হয়ে পড়লো। দ্রুত ওর পুরনো এক ব্যাগ ঘর থেকে এনে জায়গা মত প্রাথমিক ভাবে ব্যান্ডেজ করে দিলো। মোট তিনটে সেলাই পড়লো। হালকা অ্যালকোহল ঢেলে খুব দ্রুত অবস্থার ব্যবস্থা নিচ্ছিলো আর ওর হাত কাঁপছিলো। মুখে কোনো কথা নেই; প্রশ্নও নেই। ব্যান্ডেজ করা শেষে আমার দিকে একবার তাকালো, আর রাগে হিস হিস করতে লাগলো। একটুবাদে অবশ্য মুখ খুললো,

— এত রাতে বাহিরে না থাকলেই নয় বুঝি? কি এমন মহাকাজ সম্পন্ন করছিলে?

আমি বুঝতে পারছি, এভাবে এট্যাকিং মুড নেওয়া আমার একদম ঠিক হয়নি। এড়িয়ে যাবার সুযোগ ছিলো। কিন্তু যে রক্ত বিপ্লবের রক্ত, যে রক্ত যৌবনের রক্ত তা নিজেকে ঢাকতে দেয় না। মুখোমুখি হতে বাধ্য করে।

জানি মা আমার পুরনো চেহারা একদম পছন্দ করেন না। আমি আবার সেই রঙ পাল্টাবো সেটা তার চিন্তার বাহুল্য। তিনি বরং ভাবেন যে, আমি সাদামাটা কোনো সরকারি চাকর হবো আর সাধারণ মানুষ স্যার... স্যার... বলে ডাকবেন সেটাই বরং অধিক গ্রহণযোগ্য। আস্তে করে শুধু বললেন, "আমরা এখনো কেউ কিছু খাইনি। রাতের খাবার নষ্ট হবার পথে। ফ্রেশ হয়ে খাবারের টেবিলে এসো"।

শিহাব নির্বিকারভাবে বললো, "ভাইয়া, আপনি আমায় আমায় একবার এস.এম.এস করলেও পারতেন..."।

খাবার শেষে নিজ রুমে ফিরে গেলাম। আমি জানি আজ আমার সাথে কেউ কথা বলবে না। যা ঘটেছে তার জন্য আমার লজ্জা লাগছে। আবার রাগও হচ্ছে। সেল্ফ ডিফেন্স কী খারাপ কিছু! মনে হয় না। ড্রয়ার থেকে পুরনো ডায়েরি বের করলাম। ধূলোয় জমাট বাঁধা ডায়েরি থেকে একটা ছবি নিচে পড়লো। সূবর্ণা! আমার প্রথম প্রেম। শৈশব থেকে যৌবনের চলার পথ পর্যন্ত আমার হাত ধরেছিলো। তারপর একদিন হঠাৎ আমার জীবন থেকে চলে যায়। চেয়ারম্যানের মেয়ে, খুব অহংকারী ছিলো। পাড়ার কোনো ছেলেই ওর কাছে পাত্তা পেত না। কিন্তু আমার মধ্যে কি এমন দেখেছিলো কে জানে। একদিন ওর বিয়েও হয়ে যায়।

বাবা না থাকাটা অথবা মাঠে বড় অঙ্কের জমি না থাকলে সূবর্ণা নামের এমন কাউকে এই গ্রামে কিনতে পারা যায় না। যদিওবা সূবর্ণা আত্মহত্যার কথা একবার তুলেছিলো কিন্তু আমি তা চাইনি। বুঝিয়েছি আমি আসলে ধোকাবাজ। আমার জন্য নিজের সুন্দর ভবিষ্যৎ নষ্ট কোরো না। আমার এমনিতেই কোনো গন্তব্য নেই। তুমি এসে সব জাদুর মত করে ঠিক করে দিতে পারবে না। আমি হলাম অন্য জগতের মানুষ। নিষ্পাপ দেখতে কিন্তু পাপে অন্ধকার।

হঠাৎ দরজায় কেউ একজন নক করছে...
আমি কখন যে সূবর্ণার চিন্তায় নিমগ্ন হয়ে পড়েছিলাম তা ভুলেই গেছি। কয়েকবার নক করবার পড় দরজাটা খুললাম। হ্যাঁ, ডায়েরিটা আবার ড্রয়ারে রেখে দিয়েছি। একি! স্নেহা!

সহজ হলাম তারপর আমিই প্রথমে কথা শুরু করলাম,
— কিহ্! ম্যাডাম! মোবাইলে ফোর-জি নেটওয়ার্ক পাচ্ছে না? মাটির বাড়ি তো, দুঃখজনক!
— হাসান! একটু চুপ করবে?
— এই তুমি রেগে আছো যে!
— তো? রাগবো না তো কি নাচবো?... আচ্ছা, হাসান, তুমি আসলে কে?
— ওমা, এতদিন ধরে তোমার বাড়িতেই পড়ে ছিলাম। তবুও চিনতে সমস্যা হচ্ছে?
— হ্যাঁ, হাসান। তোমায় চিনতে এখন সমস্যা হচ্ছে। আজকের এক্সিডেন্ট বাদ দিলেও তোমার রুমে এত বড় লাইব্রেরি কেন? মার্ক টোয়েন হার মেনে যাবে। তুমি সাধারণ কেউ হতে পারো না!
— বইগুলো আমি নিজের টাকায় কিনেছি। আর বই পড়ে আঁতেল হওয়া যায় আর চোখে ছানিও পড়ে। এর মধ্যে আবার অসাধারণত্ব কী দেখলে?
— আর অতগুলো পেইন্টিং? তোমার পুরনো অকেজো ডেস্কটপ আমি অন করতে পেরেছিলাম।
— এই সেরেছে! তুমি আবার ইঞ্জিনিয়ার কবে থেকে?
— দেখ! শর্ট-সার্কিট হয়ে তার ফিউজ হয়ে গেছিলো আর আমি মাত্র সেটা ঠিক করেছিলাম। তার জন্য ইঞ্জিনিয়ার হবার মত কী দেখলে?
— আচ্ছা, তারপর? শার্লক হোমসের মত গোয়েন্দা হয়ে আমায় ইনভেস্টিগেট করা শুরু করে দিলে? বাহ্! তা কোন কোন ফোল্ডার ওপেন করেছিলে?
— "আমার লেখা" নামক ফোল্ডার। আর সেখানে তোমার ১০০টির বেশি উপন্যাস রয়েছে!
— ওহ্! ওসব আমার পুরনো কিছু লেখা। খুব বাজে।
— আমার তো সেরকম মনে হয়নি।
— ধূর! বাদ দাও। ব্যাথা করছে এই বাহুতে। আমায় একটু আরামে নিদ্রায় যেতে দাও সুন্দরী...

এই বলে আমি শুয়ে পড়লাম। স্নেহার মনে তখনও অনেক প্রশ্ন। আর আমি জানি এই কৌতুহল থেকে মুক্ত না হওয়া পর্যন্ত সে আমাকে যাচাই করতেই থাকবে। লেগে থাকবে আঠার মত করে। তাই এই সুচিন্তিত পদক্ষেপ। আর তা হলো, স্রেফ এড়িয়ে যাওয়া।

স্নেহার প্রস্থান ঘটতেই ফোনের স্ক্রিনে মিসেস দত্তের নাম ভেসে উঠলো...



দত্ত পরিবার - উপন্যাসের অন্যান্য পর্বগুলো,

দত্ত পরিবার(পর্ব - ০১ থেকে পর্ব -০৬) পর্যন্তঃ Click This Link
পর্ব -০৭ঃ Click This Link
পর্ব-০৮ঃ Click This Link
পর্ব - ০৯ঃ Click This Link
পর্ব - ১০ঃ Click This Link

মন্তব্য ৩ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (৩) মন্তব্য লিখুন

১| ২৪ শে এপ্রিল, ২০২১ সকাল ৮:১৮

সৈয়দ তাজুল ইসলাম বলেছেন: পূর্বের পোস্টগুলো পড়তে হবে৷ না পড়লে হয়তো অনেক সুন্দর কিছু হারাবো। হারানো ভালো লাগে না। যেরকম ভালো লাগে না প্রেমিকার চলে যাওয়া। সেই চলে যাওয়া যদি থাকে আপনার পূর্বের পোস্টগুলোতে তবে তো পড়তেই হয়। (এতটুকু লিখে পড়ে আসলাম ১০ নং পর্ব)। এমপি৪৪৩ আসলেই অনেক উপকারী কাজটা করেছে। তবে যেহেতু স্নেহা আপনার ভালোবাসার মানুষ হয়ে যাচ্ছে ধীরে ধীরে, সেহেতু উচিত হবে তাকে সবকিভহু বলে দেওয়া। তার কাছে প্রকাশ না করা তাকে অবিশ্বাস করাও প্রমাণ করে।

মন্তব্য অপরিপক্ক, পুরো পর্বগুলো না পড়ে দুই পর্ব পড়ে মন্তব্য করলাম মাত্র৷ তবে মনে হচ্ছে সবগুলো পর্ব পড়তেই হবে। ১০ নং পর্বটা কেমন যেন ছায়াছবি - ছায়াছবি লাগে B:-)

২৪ শে এপ্রিল, ২০২১ বিকাল ৫:৪০

মি. বিকেল বলেছেন: বাকি পর্বগুলো পড়বার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ করছি। আশা করছি, হতাশ হবেন না

২| ০৫ ই মে, ২০২১ রাত ৩:২৩

রাজীব নুর বলেছেন: অনেক দিন পর আপনার এই ধারাবাহিকটি পড়লাম।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.