নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

দৃষ্টি, ভাষা, ব্যাবহার মানুষের সবচেয়ে বড় পরিচয়।

মৃন্ময়ী শবনম

আমি নারী তাই নারীর চোখেই বিশ্ব দেখি।

মৃন্ময়ী শবনম › বিস্তারিত পোস্টঃ

মনুষ্যত্ব

১৩ ই জুলাই, ২০১৯ সকাল ৭:০৫



২০০৫ সন পড়ালেখা আপাত শেষ করে চাকুরী শুরু, নতুন করে যেনো আবার পড়ালেখার পাঠ শুরু হলো, শুরু হলো চাকুরীর চাপ সাথে একটার পর একটা ট্রেইনিং। দৌড়াচ্ছি চাকুরী নিয়ে সাথে দৌড় চলছে ট্রেইনিংয়ে সমগ্র বাংলাদেশ। ডিসেম্বরের কনকনে শীতে ডিপার্টমেন্ট হেডের কাছে আমাদের চিঠি এসেছে মন্ত্রনালয় থেকে। এবারের ট্রেইনিং বাংলাদেশের বিখ্যাত একটি ট্রেইনিং একাডেমিতে যার অবস্থান কুমিল্লায়, এখানে আমাদের ০৫ দিনের দিনব্যাপী (ডে লং) ট্রেইনিং চলবে, সঙ্গত কারণে ট্রেইনিং একাডেমির নাম উল্লেখ করতে চাচ্ছিনা। নির্দিষ্ট সপ্তাহের শনিবার সন্ধ্যা ১৮:০০ টার মধ্যে রিপোর্ট করতে হবে একাডেমিতে, ট্রেইনিং হবে রবিবার হতে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত। প্রতিদিন সকাল ০৯:০০ টা হতে বিকাল ১৭:০০ টা পর্যন্ত, মাঝে ১৩:৩০ হতে ১৪:১৫ পর্যন্ত দুপুরের খাবার ও নামাজের বিরতি। ভাগ ভাগ করে ট্রেইনিং হচ্ছে আমাদেরটা দ্বিতীয় ব্যাচ, প্রতি ব্যাচে ২০ জেলা হতে প্রতি জেলায় নিয়োগকৃত ০২ জন করে মোট ৪০ জন ট্রেইনি।

ট্রেইনিংয়ের প্রথম দিনই আমার বিপত্তি হয়ে গেলো সকালে কিছু খাইনি, ক্ষুধা ছিলোনা, আগের রাতেও না। এখন পুরোদমে ক্লাস চলছে তখন বেলা আনুমানিক ১১:০০-১১:৩০ হবে। আমার মাথা চক্কর দিচ্ছে প্রবল ক্ষুধার তারনায় সাথে পাল্লা দিয়ে শুরু হয়েছে মাথা ব্যাথা আর এদিকে সমবায় সমিতির ট্রেইনার ঝড়ের গতিতে বক্তৃতা দিচ্ছেন যা অতি-অতি জরুরী এখন উঠে যাওয়া অর্থ এই সেশনটা পুরোপুরি মিস দেওয়া। কাউকে চিনিনা যারা আমাকে লেকচার বর্ণনা করে সহযোগিতা করবেন, আর এদিকে আমার মনে হচ্ছে ক্ষুধার তারণায় আমি হয়তো একাডেমির নোট খাতার সাদা কাগজ ছিড়ে খেতে পারি শুধু কাগজের সাথে সাদা পানি প্রয়োজন যা টেবিলের সামনেই আছে! অবশেষে মাথা ব্যাথার জয় হলো! আমি দোতলা থেকে নেমে কিভাবে ক্যান্টিনের সামনে এসেছি তা নিজেও জানিনা, এসে দেখি ক্যান্টিন বন্ধ! দরজা খুলবে ঠিক বেলা ১৩:৩০ এ, এখন আমার দরকার এক থালা সাদা ভাত সাথে শুধু লবন আর পানি হলেও চলবে আমার কাছে প্যারাসিটামল আছে! চোখের সামনে অন্ধকার ক্ষুধা আর অসহ্য মাথা ব্যাথা!

হালকা বাদামী রঙের পাঞ্জাবী পড়া, মাথায় টুপি মুখে দাড়ী, বয়ষ আনুমানিক ৩৫ একজন পুরুষ আমার দিকে ছুটে আসছেন, আমি হতভম্ব! বিড়াট টানা লম্বা বারান্দা সামনে ক্যান্টিন যার দরজা বন্ধ! আসে পাশে কোনো লোকজন বলতে কোথাও কেউ নেই! আমি একা দাড়িয়ে আছি টানা বারান্দায়! আমি দৌড়ে পালাবো সেই শক্তি আমার পায়ে নেই আমার পা মনে হয়েছে সিসা দিয়ে তৈরি। লোকটি আমার কাছাকাছি এসে থামলেন হাপাতে হাপাতে বললেন “মা আপনার কি ক্ষুধা পেয়েছে, শরীর খারাপ লাগছে, আপনি অস্থির হবেন না আমি ব্যবস্থা করছি” এক নিঃশ্বাসে কথাগুলো বলে ক্যান্টিনের পেছনের দরজার দিকে আবার দৌড় দিলেন, সদর দরজা খোলে দিতে ভেতরে দেখি বাবুর্চি বয় কাজ করছে, আমাকে টেবিলে বসতে দিয়ে তিনি নিজে পানির গ্লাস জগ, প্লেটে ভাত সহ ডালের বাটি, বেগুন ভাজি আর ঢেঁরস ভাজি এনে দিয়ে বললেন “মা আমাদের রান্না এখনো শেষ হয়নি, এই সামান্য পদ দিয়ে কি আপনার খাবার হবে? আমি আশ্চর্য্যে হয়ে লক্ষ্য করলাম আমার ক্ষুধাবোধ হয়তোবা আছে তবে মাথা ব্যাথা একদম নেই!

ভদ্রলোকের পরিচয় তিনি ট্রেইনিং একাডেমির সহকারী ইমাম। মনুষ্যত্ব - একজন ভালো মানুষের মাঝেই বিরাজমান হবে - আমি তার চাক্ষুষ প্রমাণ। মনুষ্যত্ব একটি মানুষকে আমূল পরিবর্তন করে দেয়। পরিবর্তন করে দেয় তার ব্যাবহার - জীবন যাপন। আর নিঃসন্দেহে বলতে হয় অবস্যই তিনি একজন ভালো পরিবারের সন্তান।







মন্তব্য ৩৪ টি রেটিং +৭/-০

মন্তব্য (৩৪) মন্তব্য লিখুন

১| ১৩ ই জুলাই, ২০১৯ সকাল ৭:৩৩

রাজীব নুর বলেছেন: ধর্ম সকল মানুষকে ধার্মিক বানাতে পারে না। আসলে ধর্ম তো আফিম। এই সমাজে বক ধার্মিকের তো অভাব নেই।

১৩ ই জুলাই, ২০১৯ সকাল ৮:২৭

মৃন্ময়ী শবনম বলেছেন: রাজীব নুর ভাই, ধর্ম স্বচ্ছ পরিস্কার পানির মতো আর ভুল হচ্ছে স্বচ্ছ পরিস্কার কোমাল পানীয়ের মতো, মানুষ ভুল টা আক্রে ধরে আমরা তাদের ভুলগুলো দেখে বিভ্রান্ত হই।

২| ১৩ ই জুলাই, ২০১৯ সকাল ৮:১৪

মোগল সম্রাট বলেছেন: ধর্ম কি কখনো ভুল হয়? ধর্মের ভুল-বাল ব্যাখ্যা দেয়া যায় কিংবা ভুলভাবে পালন করা যায়। ফলোয়ারদের দোষে অধিকাংশ মানুষ ধর্মকে দোষারোপ করে থাকে।

১৩ ই জুলাই, ২০১৯ সকাল ৮:২৯

মৃন্ময়ী শবনম বলেছেন: ধর্ম কখনো ভুল হয়না, ভুল হয় ধর্মের ব্যাখ্যা একেক জন একেক ভাবে নিজ সার্থে ভুল ব্যাখ্যা তৈরি করেন।

৩| ১৩ ই জুলাই, ২০১৯ সকাল ৮:২৯

আনমোনা বলেছেন: একেই বলে প্রকৃত ধার্মিক

১৩ ই জুলাই, ২০১৯ সকাল ৮:৩৪

মৃন্ময়ী শবনম বলেছেন: ধর্ম মানুষকে উপহার দেয় সুন্দর নিরাপদ জীবন আর অধর্ম দেয় অসুন্দর অনিরাপদ জীবন।

৪| ১৩ ই জুলাই, ২০১৯ সকাল ৯:০৩

হাসান কালবৈশাখী বলেছেন:
পৃথিবীতে হাজার হাজার ধর্ম।
কেউ পুস্তক পড়ে জ্ঞান অর্জন করে ধর্ম বেছে নেয় না।
পিতামাতার ধর্মই গ্রহণ করতে বাধ্য হয়।
সামাজিক শৃক্ষলা বজায় রাখতে যার যার ধর্ম পালন করে যাওয়া উচিত।
ধার্মিকদের ভেতর ভাল খারাপ চোর ধর্ষক বালক ধর্ষক সবই দেখা যায়। তবে বেশিরভাগ ভাল।
আপনার দেখা ইমাম সাহেব ভাল লোক।

১৩ ই জুলাই, ২০১৯ সকাল ৯:১০

মৃন্ময়ী শবনম বলেছেন: ব্লগে যারা ধর্মীয় পোষ্ট দেয় আর শেষ হয় নোংরা গালীতে তারা এবং তাদের ধর্ম গুরুদের চেয়ে ভালো লোক তো অবস্যই সমাজে আছেন, আর ব্লগের এরাই লেবাসধারী মৌলবাদ যারা ব্লগে ধর্মের নামে নোংরা অশালীন কথা বলছে, তারা সমাজের দেশের তথা ধর্মের নামে কলংক।

৫| ১৩ ই জুলাই, ২০১৯ সকাল ১১:৪৫

তারেক_মাহমুদ বলেছেন: ধর্মের আসলে কোন নেই দোষ মানুষের মানসিকতার।

১৩ ই জুলাই, ২০১৯ সন্ধ্যা ৭:৪১

মৃন্ময়ী শবনম বলেছেন: পৃথিবীর কেনো ধর্মে কোনো দোষ নেই, মানুষ তার নিজ সার্থে ধর্ম ব্যাবহার করছে নিজের অন্যায় অপরাধ ঢেকে রাখার জন্য। তাদেরকে লেবাসধারী ধার্মীক বলি আমরা।

৬| ১৩ ই জুলাই, ২০১৯ সকাল ১১:৪৭

মোহাম্মদ সাজ্জাদ হোসেন বলেছেন:

আমাদের সরকারী অফিসগুলোতে দেখা যায় বড় বড় কর্তা ব্যক্তিরা টুপি দাড়িতে একাকার। নামাজ বাদ দেন না। অথছ ঘুষ খান পুরোদমে।

তাদের কেন পরিবর্তন আসছে না?

১৩ ই জুলাই, ২০১৯ সন্ধ্যা ৭:৫১

মৃন্ময়ী শবনম বলেছেন: দুঃখজনক হলেও সত্য আপনার অভিযোগ - তারা ধার্মীক নন, এরা লেবাসধারী ধার্মীক, ধর্মকে পুঁজি করে সমাজে সবাইকে প্রতারিত করছে প্রতিনিয়ত।

৭| ১৩ ই জুলাই, ২০১৯ দুপুর ১২:৩৩

আপেক্ষিক মানুষ বলেছেন: প্রকৃত ধার্মিক এখন আর খুব একটা দেখা যায় না, যারা দেখবেন আল্লাহবিল্লা করে মুখে ফ্যানা তুলে ফেলে তাদের টুপির নিচে আবার একটা ধর্ষক ব্যক্তিত্ব লুকিয়ে থাকে।

লোক দেখানো ধর্মের দরকার নেই ওতে আর যাই হোক স্বর্গ মিলে না। ধর্ম হওয়া চাই মার্জিত, নিরিবিলি।

আপনার ইমাম সাহেব ভাল।

১৩ ই জুলাই, ২০১৯ রাত ৮:১১

মৃন্ময়ী শবনম বলেছেন: ধর্মকে পুঁজি করে যা চলছে তাতে আগামী ২০ বছরে হয়তো বেশ কিছু ধর্ম ব্যান হয়ে যাবে পৃথিবীর বেশ কয়েকটি দেশে।

৮| ১৩ ই জুলাই, ২০১৯ দুপুর ২:০০

ভুয়া মফিজ বলেছেন: ধর্ম কি ধার্মিক হতেই শেখায়, মানুষ হতেও শেখায়। এখন কে কতোটুকু শিখবে, সেটাই হলো আসল ব্যাপার! সবার রিসিপশান পাওয়ার বা ক্যাপাসিটি একরকম না।

কুমিল্লার বার্ডে বেশ কয়েকবার গিয়েছিলাম.....রিসোর্স পারসন হিসাবে। :)

১৩ ই জুলাই, ২০১৯ রাত ৮:১৫

মৃন্ময়ী শবনম বলেছেন: ধর্ম কি ধার্মিক হতেই শেখায়, মানুষ হতেও শেখায়। সত্য বলেছেন। তবে বিরিয়ানী চিনা মাটির প্লেটে আর কাঙ্গালী ভোজ মাটির মালশায়। ধর্ম যে যেভাবে নিয়েছে তার কাছে সেভাবে ধরা দিয়েছে।

৯| ১৩ ই জুলাই, ২০১৯ রাত ৮:২০

অর্থনীতিবিদ বলেছেন: যে ভালো সে সবসময়ই ভালো। উল্লিখিত ভদ্রলোক যদি ইমামতি পেশায় না থেকে অন্য কোনো পেশায় থাকতেন তারপরও তিনি আপনার সাহায্যার্থে এগিয়ে আসতেন। আসলে এটা মনমানসিকতার ব্যাপার। সুন্দর একটি ঘটনা শেয়ার করার জন্য ধন্যবাদ। আর সহকারী ইমাম সাহেবের জন্যও শুভকামনা রইলো।

১৩ ই জুলাই, ২০১৯ রাত ৮:৩১

মৃন্ময়ী শবনম বলেছেন: জ্বী সত্য বলেছেন। তার ব্যাবহার, তাঁর ভাষা, তাঁর দৃষ্টি প্রমান করে নিঃসন্দেহে অবস্যই তিনি একজন ভালো পরিবারের সন্তান। তাঁর সাথে আমার যোগাযোগ আছে তিনি আমাকে মা বলে আমার দুঃসময়ে পাশে দাড়িয়েছিলেন সেই সম্মানে তিনি আমার বাবা হোন, আমি আমার বাবার খোঁজ রাখি - তাঁর কাছে আপনার শুভকামনা পৌছে যাবে। ধন্যবাদ।


১০| ১৪ ই জুলাই, ২০১৯ রাত ১২:৩৩

ঠাকুরমাহমুদ বলেছেন: সাবাস - আপনার লেখা পড়ে মনে হচ্ছে আপনি ব্লগে নতুন হলেও লেখালেখিতে নতুন নন, আপনার লেখা প্রথম শ্রেণীর। আপনার মন্তব্য প্রত্যুত্তরে জানতে পেরেছি আপনার সাথে ইমাম সাহেবের যোগাযোগ আছে তিনি আপনার পিতৃসমতুল্য। ইমাম সাহেবকে আমার সালাম ও শুভেচ্ছা দিবেন, তাঁর মতো মানুষ আছে বলে ইসলাম ধর্ম এখনো ব্যান হয়ে যায়নি। আমার এবারের জাপান যাত্রায় টোকিও ইমিগ্রেশনে শুধুমাত্র মুসলিমেদের যেভাবে চেকের ভেতর দিয়ে যেতে হয়েছে তার বিবরণ খুবই লজ্জাজনক ও অপমানকর।

ব্লগে নানা সমস্যা থাকে, নিজের জন্য লিখুন, দেশের জন্য লিখুন। ব্লগের সমস্যা ব্লগ কর্তৃপক্ষ দেখবেন। ব্লগের সমস্যা নিয়ে কথা বলবেন তখন সবাই এ্যডমিন বনে যাবেন, অগ্নি পরিক্ষায় পরে যাবেন। ধন্যবাদ। আমি ন্যায়ের সাথে চলি, আপনি ন্যায়ের পক্ষে বলেছেন - সাহসী মানুষ, আমার পক্ষ থেকে সালাম নেবেন।

ব্লগে আপনার মতো মানুষের প্রয়োজন আছে।

১৪ ই জুলাই, ২০১৯ দুপুর ২:৪০

মৃন্ময়ী শবনম বলেছেন: ব্লগে নানা সমস্যা থাকে, নিজের জন্য লিখুন, দেশের জন্য লিখুন। ব্লগের সমস্যা ব্লগ কর্তৃপক্ষ দেখবেন। ব্লগের সমস্যা নিয়ে কথা বলবেন তখন সবাই এ্যডমিন বনে যাবেন, অগ্নি পরিক্ষায় পরে যাবেন। - তারই প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে।

আমার আব্বার কাছে আপনার সালাম পৌছে দিয়েছি। তিনি আপনার জন্য দোয়া করেছেন। আসলে একটি ব্যাপার আমি সময়ের স্রোতে শিখেছি একজন ভালো মানুষ একজন ধার্মীক মানুষ হতে পারেন। একজন অমানুষ কখনো ধার্মীক হতে পারেন না। অমানূষ তার পরিচয় সর্বখানে দিয়ে যাবে - এটিই তার প্রকৃত কাজ। ধন্যবাদ।

১১| ১৪ ই জুলাই, ২০১৯ রাত ৩:৩৪

কাওসার চৌধুরী বলেছেন:



ধর্ম, অধর্ম কিংবা ধর্ম হীনতার মানসিকতা নির্ভর করে ব্যক্তির বিশ্বাস, সমাজ, রাষ্ট্র আর পারিবারিক শিক্ষার উপর। মানুষ ভালো হওয়ার জন্য দরকার তার মানবিক গুণাবলী, আত্মমর্যাদাবোধ, বিবেক আর জনগন, সমাজ ও রাষ্ট্রের প্রতি দায়িত্ববোধ থেকে। এজন্য কেউ কেউ খুব ধার্মিক হওয়ার পরও বকধার্মিক/ভন্ড/প্রতারক হয়। আবার ধর্ম-কর্ম না করেও অনেকেই মানবিক বোধসম্পন্ন সেরা মানুষ হয়। ধর্মীয় বিশ্বাস আর মানবিক মূল্যবোধের জাগরণ এক নয়।

ব্লগে আপনার পোস্টে সম্ভবত প্রথম কমেন্ট। শুভেচ্ছা রইলো। লিখুন মন খোলে। ব্লগের বিষয়ভিত্তিক আলোচনায় অংশগ্রহণ করুন। অযথা বিতর্কিত বিষয় এড়িয়ে চলুন। ব্লগে ব্যক্তিগত সম্পর্কের চেয়ে লেখক সত্তাকে গুরুত্ব দিন।

শুভ কামনা রইলো।

১৪ ই জুলাই, ২০১৯ দুপুর ২:৪৩

মৃন্ময়ী শবনম বলেছেন: এক এক জন এক এক রকম লিখেন, এটিই তার ভাব প্রকাশের দৃষ্টান্ত, যেমন আপনি লিখেন অনুবাদ। আপনার জন্যও শুভ কামনা।

১২| ১৪ ই জুলাই, ২০১৯ সকাল ৯:১৫

কালো যাদুকর বলেছেন: ধর্ম মানুষকে অবশ্যই ধার্মিক করে। আপনার বর্ননা পড়ে মনে হল, ঐ ইমাম সাহেব একজন দয়াবান মানুষ। হ্য়ত উঁনি দাড়ি টুপি না থাকলেও আপনাকে সাহায্য করতেন।

একবার আমি আর বৌ বেড়াতে গিয়েছিলাম একটা অনেক উচু পাহাড়ি এলাকায়। আমি পাহাড়ি এলাকায় খুব বেশী গাড়ি চালাইনি এর আগে। স্বভাবতই আমি অনেক টেকনিকই জানতাম না। বেশ ঠান্ডা ছিল। প্রথমদিন সকালে একটা এট্রাকসনে বেড়াতে গেছি, পার্কিং করেছি একটা ঢালে। বেড়ানো শেষে গাড়িতে উঠে পার্কিং থেকে বের হওয়ার আয়োজন করছিলাম। এদিকে সন্ধ্যা হয়ে আসছিল। গাড়ি বের হচ্ছিল না। আমার ঐ গাড়িটা অনেক ছোট গাড়ি ছিল, ঐ ঢালে পার্ক করার উপযুক্ত ছিল না। অথৈ সাগরে পরলাম। লোকালয় থেকে অনেক দুরে, ফোনের সিগনাল নেই। কি করি। এই সময় দেখলাম দৈত্যের মত দেখতে একটা মানুষ উদয় হল কোথা থেকে। আমরা ভয় পেয়ে গেলাম। এরকম দর্শন মানুষকে এমনিতে আমি এড়িয়ে চলতাম। ঐ মানুষটা জিগ্ঙাসা করল -আমাদের কোন সাহায্য লাগবে কিনা। আমাদের গাড়ি ঐ লোকটা শারীরিক শক্তি প্রয়োগ করে ঐ পার্কিং থেকে বের করে দিল। যেটা গাড়ির হর্স পাওয়ারে হয়নি, সেটা সে দুহাতে করল। আমরা অনেক কৃতগ্যতা প্রকাশ করলাম। টাকা দিতে চাইলাম, নিল না।

আমার দুর্বল মন বলছিল- আল্লাহ ফেরেশতা দিয়ে একজন পাপি বান্দাকে সাহায্য করেছেন। যাওয়ার সময় লোকটা বলে গেল - "এটা আমার পক্ষ থেকে তোমাদের জন্য -মেরি ক্রিসমাস"। সময়টা ডিসেম্বরের শেষের দিকে ছিল। এখানে দৈত্যের মত দেখতে মানুষটার মন একজন সুফি মানুষের মনের মতই পরিস্কার। হয়ত সে ধর্মিক না, কিন্তু মানুষ হিসেবে সে আমার কাছে একজন "প্রকৃত মানুষ"।

১৪ ই জুলাই, ২০১৯ দুপুর ২:৪৬

মৃন্ময়ী শবনম বলেছেন: এটি শতভাগ সত্য, একজন ভালো মানুষ হওয়ার জন্য বিশেষ কোনো ধর্মের হতে হবে তা জরুরী নয়, জরুরী নয় তার দাড়ী টুপি আছে কি নেই, “জরুরী তার ভাষা দৃষ্টি ব্যাবহার” - এটিই তার পরিচয়। আপনাদের অনুপ্রেরনায় অবস্যই লিখবো কথা দিচ্ছি। ধন্যবাদ ও শুভ্চ্ছা নিবেন।

১৩| ১৪ ই জুলাই, ২০১৯ সকাল ১১:৪৫

নতুন বলেছেন: আমরা মানুষ আগে পরে ধামিক... তাই আরেক জন মানুষের জন্য হাত বাড়িয়ে দেওয়া প্রতিটা মানুষের মন থেকেই আসে যদি যে মানুষ হয়ে থাকে.... তার জন্য ধামিক হতে হয় না।

মানুষ যদি একটা বাচ্চাকে বিপদে পড়তে দেখে তাহলে নিজের জীবনের কথা না ভেবেই ঝাপিয়ে পড়বে তাকে বাচাতে.... এটা মানুষের ইনিস্টিংট এর জন্য বেশি মানুষ ভাববে না.... ঐ বাচ্চার উপকারে এগিয়ে যাবে...

তাই মানুষের মনে যদি ভালোবাসা থাকে তবে সে মানুষের উপকার করে... সে যেই জাতী/ধম`/বণেরই হোক না কেন...

১৪ ই জুলাই, ২০১৯ দুপুর ২:৫২

মৃন্ময়ী শবনম বলেছেন: আমরা আগে মানুষ পরে ধার্মীক, মানুষের মাঝে মনুষ্যত্বই যদি না থাকে তার মধ্যে ধর্মের আলো কিভাবে জ্বলবে, শত ধর্মের কথা আর ধর্মের বানী আওড়ালেও সে একজন পাপীই থেকে যাবে তার সুযোগে ও সময়ে আসল রুপ বেড়িয়ে আসবেই আসবে। ধর্মের পোশাক বিহীন যেই পরিমান ভালো মানুষ আছেন তার হাজার ভাগের এক ভাগও ধর্মের পোষাক পরিধানকৃত মানুষের মাঝে অবর্তমান।

১৪| ১৫ ই জুলাই, ২০১৯ ভোর ৬:৫৮

বলেছেন: আপনার লেখাটি গতকাল পড়েছিলাম কিন্তু সময়ের অভাবে মন্তব্য করতে পারি নাই।।
আজকে আবার মন্তব্য - প্রতি মন্তব্য দপখলাম, ঠাকুর মাহমুদ ও কাওসার চৌধুরীর মন্তব্যে অনন্য নিদর্শন আছে।।
তবে আপনার লেখার শিরোনামপর সাথে ভেতরের লেখার অমিল আমার কাছে মনে হলো।
কারো উপকার করতে হলে ধর্ম ও ধার্মিকতা বড় নয় বড় হলো মনুষ্যত্ব ও মানবিকতার।
অনেক হুজুর ও মোল্লা আবার লোভী ও বকধার্মিক হয়,
তাদের মধ্যে একদল আবার জঙ্গি হয়,
একদল আবার উপদল তৈরি করে,
একদল আবার জিঘৎসা ছড়ায়।।।
তাই ধর্মকে কোন অবস্থায় সবকিছুর সাথে মাপা উচিত নয় তা একান্ত নিজস্ব বিশ্বাসের ভিতেে দাঁড়িয়ে থাকে।।।

ধন্যবাদ নিরন্তর।।

১৫ ই জুলাই, ২০১৯ দুপুর ২:২৬

মৃন্ময়ী শবনম বলেছেন: ধর্ম সেই মানুষকেই আলোকিত করতে পারে যার মধ্য মানবিকতা আছে। বাদবাকী আপনি যা বলেছেন শতভাগ সঠিক ও গুরুত্বপূর্ণ। ধন্যবাদ।

১৫| ১৬ ই জুলাই, ২০১৯ দুপুর ২:২৬

মোহাম্মদ সাজ্জাদ হোসেন বলেছেন: মানুষের মধ্যে বিবেক সত্যি হারিয়ে গেছে।

২৫ শে জুলাই, ২০১৯ ভোর ৫:৩৭

মৃন্ময়ী শবনম বলেছেন: বিবেকশুণ্য পরিবার, বিবেকশুণ্য সমাজ, বিবেকশুণ্য দেশ।

১৬| ০১ লা আগস্ট, ২০১৯ সন্ধ্যা ৭:০৮

রাজীব নুর বলেছেন: ইদানিং আপনার কোনো নতুন পোষ্ট দেখি না??

০১ লা আগস্ট, ২০১৯ সন্ধ্যা ৭:১৭

মৃন্ময়ী শবনম বলেছেন: ভাই চাকুরী করি ব্যাস্ত থাকি, সব সরকারী চাকুরীতো আরামদায়ক আর ঘুমের চাকুরী না। পোষ্ট দিবো। ভালো থাকুন।

১৭| ০২ রা আগস্ট, ২০১৯ সকাল ৮:৫০

খায়রুল আহসান বলেছেন: ব্যবহারে বংশের পরিচয়- পুরনো কথা।
ব্লগে সুস্বাগত। শুভ হোক আপনার ব্লগযাত্রা, নিরাপদ হোক এ পথ চলা!
শিরোনামটা নিয়ে আরেকবার ভেবে দেখুন।

২০ শে আগস্ট, ২০১৯ দুপুর ১:৩২

মৃন্ময়ী শবনম বলেছেন: পুরোনো কথা কয়জন মনে রাখেন। শিরোনাম পরিবর্তন করেছি। ধন্যবাদ।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.