নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

আলহামদুলিল্লাহ। যা চাইনি তার চেয়ে বেশি দিয়েছেন প্রিয়তম রব। যা পাইনি তার জন্য আফসোস নেই। সিজদাবনত শুকরিয়া। প্রত্যাশার একটি ঘর এখনও ফাঁকা কি না জানা নেই, তাঁর কাছে নি:শর্ত ক্ষমা আশা করেছিলাম। তিনি দয়া করে যদি দিতেন, শুন্য সেই ঘরটিও পূর্নতা পেত!

নতুন নকিব

যবে উৎপীড়িতের ক্রন্দল-রোল আকাশে বাতাসে ধ্বনিবে না, অত্যাচারীর খড়্গ কৃপাণ ভীম রণ-ভূমে রণিবে না- বিদ্রোহী রন-ক্লান্ত। আমি সেই দিন হব শান্ত।

নতুন নকিব › বিস্তারিত পোস্টঃ

বিভীষিকাময় কিয়ামত, হাদিসের আলোকে কিয়ামতের উল্লেখযোগ্য আলামতগুলো:

০৭ ই নভেম্বর, ২০১৯ সকাল ১১:৩২



বিভীষিকাময় কিয়ামত, হাদিসের আলোকে কিয়ামতের উল্লেখযোগ্য আলামতগুলো:
হযরত ইসরাফীল আলাইহিসসালাম -এর সিঙ্গার ভয়ংকর গগনবিদারি ফুৎকারের মাধ্যমে শুরু হবে মহাপ্রলয়, কুরআন হাদিসে যাকে আখ্যায়িত করা হয়েছে 'কিয়ামত' নামে। ফুৎকারের ক্রমবর্ধমান অসহনীয় আওয়াজে প্রকম্পিত হবে গোটা পৃথিবী। পৃথিবী কাঁপতে থাকবে। শুধু পৃথিবীই নয়, গোটা সৃষ্টিজগতে সংঘটিত হতে থাকবে মহাধ্বংসলীলা। সমস্ত সৃষ্টিজগতের কম্পনের মাত্রা ও ফুৎকারের আওয়াজ উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পেতে থাকবে। প্রচন্ড এই শব্দের বিভীষিকাময় ধ্বনি এতই উঁচু এবং বিকট হবে যে, এর ফলে প্রাণ হারাবে সমস্ত প্রাণি। প্রাণিজগতের কারও বেঁচে থাকার সাধ্য থাকবে না। পৃথিবীর বিশাল এই ভূ-ভাগ, এই যমীন ফেটে চৌচির হয়ে যাবে। পাহাড়-পর্বতগুলো ধূনিত তুলার মত উড়তে থাকবে। গ্রহ-নক্ষত্রগুলো একটার সাথে আরেকটার সংঘর্ষে ছিন্নভিন্ন হয়ে যাবে। টুকরো টুকরো হয়ে ছিটকে পড়ে যাবে এদিক সেদিক। চন্দ্র-সৃর্য দ্বিপ্তীহীন হয়ে যাবে। নিষ্প্রভ হয়ে যাবে অমিততেজ সূর্য। আলোহীন হয়ে যাবে রাতের আকাশ আলোকিত করা বাদবাকি সকল নক্ষত্র-নিহারিকা-উল্কা পিন্ড। আসমান ভেঙ্গেচুড়ে খানখান হয়ে যাবে। সমুদ্র উত্তাল হবে। আগুন ধরে যাবে তার বক্ষে সযত্নে সঞ্চিত বিশাল বারিরাশিতে। মাতা তার দুগ্ধপোষ্য কোলের শিশুকে ভুলে যাবে। দিগবিদিক ছুটতে থাকবে সকল মানুষ। ভয়, আতঙ্ক এবং সীমাহীন ত্রাসে গর্ভবতী গর্ভপাত করে দিবে। মানুষের উর্ধ্বশ্বাস ছোটাছুটি দর্শনে তাদের মনে হবে মাতাল-পাগল-উম্মাদ। কিন্তু আসলে মাতাল-পাগল-উম্মাদ হবে না তারা। কিয়ামতের কঠিন বিভীষিকা আর অবর্ণনীয় ত্রাসই তাদের এই অবস্থায় পৌঁছে দিবে।

মহানবী হযরত মুহাম্মদ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কিয়ামতের নিকটবর্তীতার সংবাদ দিয়েছেন। কিয়ামত যে খুবই নিকটবর্তী এবং অত্যাসন্ন এই আলোচনা কুরআন হাদিসে বারংবার এসেছে। তবে কিয়ামত কখন সংঘটিত হবে তার সঠিক সময় একমাত্র মহান আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতাআ'লাই জানেন। তিনি ব্যাতিত তা কেউ জানে না। তবে কিয়ামতের কিছু কিছু আলামত বা নিদর্শন পূর্ববর্তী নবী রাসূলগনও স্বীয় উম্মাতকে অবহিত করে গিয়েছেন। আর আমাদের নবীই যেহেতু সর্বশেষ নবী এবং রাসূল। তাঁর পরে আর যেহেতু কোনো নবী-রাসূল পৃথিবীতে আল্লাহ পাক পাঠাবেন না, সে কারণে তিনি কিয়ামতের বিস্তারিত বিবরন বিশ্ববাসীর সামনে উপস্থাপন করে গিয়েছেন। এটা এজন্য করেছেন, যাতে করে বিশ্ববাসী মানব সম্প্রদায় মৃত্যুর পরের অনন্তকালের আখেরাতের জীবনের জন্য নিজেদের পাথেয় সংগ্রহ করে নিতে পারে।

বিস্তারিত পরিসরে কিয়ামতের আলামতগুলো: কিয়ামতের কিছু কিছু আলামতের বিবরন এমন বিস্তারিত পাওয়া যায় যে, অতি ক্ষুদ্র, ক্ষুদ্র বিষয়ও চিহ্নিত করা হয়েছে। যেমন- দাজ্জালের ফিতনার প্রকাশ এবং ঈসা আলাইহিসসালাম এর আগমন ও পৃথিবীতে তাঁর অবস্থানকালীন সময়কালের এত বিস্তারিত বিবরন পাওয়া যায় যে, অন্য কোন আলামতে এমনটা পরিলক্ষিত হয় না। এছাড়া কিছু আলামতের বিবরন এত সংক্ষিপ্ত যে, এর উদ্দেশ্য নিশ্চিতভাবে জ্ঞাত হওয়া দূরুহ। বিশেষ করে অনেক আলামতের তারতীব বা ধারাবাহিকতা অনুধাবন করা সাধারণের পক্ষে কষ্টকর। এতদ্ব্যতিত যেসমস্ত ঘটনার তারতীব বা ধারাবাহিকতা হাদিসেই বর্নিত হয়েছে সেগুলোর ক্ষেত্রেও অনেক স্থানেই এ কথা বুঝা যায় না যে, পাশাপাশি এবং পরপর সংঘটিত দু'টি ঘটনার মাঝে সময়ের ব্যবধান কতটুকু। সঙ্গত কারণে পাঠক অনেকসময় দ্বিধান্বিত হতে পারেন বিবেচনায় আলোচ্য নিবন্ধে কিয়ামতের আলামতগুলোর একটি সামগ্রিক পর্যালোচনা ধারাবাহিক চার্ট আকারে উপস্থাপন করছি। আর এ হিসেবে ভাগ করলে কিয়ামতের আলামতগুলোকে তিনভাগে ভাগ করা যায়। যেমন-১. পূর্ববর্তী বা দূরবর্তী আলামত, ২. মাঝামাঝি সময়ে প্রকাশিত আলামত। এই আলামতগুলোকে আলামতে ছুগরা নামেও অভিহিত করা হয়ে থাকে। এবং ৩. কিয়ামতের কাছাকাছি সময়ে সংঘটিত আলামত। এই আলামতগুলো আলামতে কুবরা নামে চিহ্ণিত।

এক. পূর্ববর্তী বা দূরবর্তী আলামত: এসব আলামত হচ্ছে সেগুলো, যার প্রকাশ বহুকাল পূর্বেই হয়ে গেছে। যেমন:
১. সর্বশেষ নবী এবং রাসূল হিসেবে পৃথিবীতে রাসুলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের শুভাগমন।
২. চন্দ্র বিদীর্ণ হওয়ার ঘটনা।
৩. রাসুলুল্লাহর সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওফাত।
৪. জঙ্গে সিফ্ফীন। এ ব্যাপারে রাসুল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, 'কিয়ামত কায়েম হবে না, যতক্ষন পর্যন্ত বড় দুইটি দল এক রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে জড়িয়ে না পড়বে। তাদের উভয় দলের দাবী হবে এক ও অভিন্ন।' [বুখারি: ২/১০৫৪; মুসলিম: ২/৩৯০; ফাতইলবারী;১৩/৭২]
৫. তাতারীদের ফিৎনা। যার বিবরন সহিহ বুখারির বর্ননায় এসেছে এভাবে- আবু হুরায়রা রা. বলেন, 'কিয়ামত সংঘটিত হবে না, যতক্ষন না তোমরা তুর্কীদের বিরূদ্ধে যুদ্ধ করবে। যারা ছোট ছোট চক্ষু, লাল চেহারা, চ্যাপ্টা নাকবিশিষ্ট, তাদের মুখমন্ডল হবে পরতে পরতে ভাজ, চামড়ার ঢালের ন্যায়। এবং যতক্ষন না তোমরা পশমের জুতা পরিধানকারী এক জাতির সাথে যুদ্ধ করবে।' [বুখারি; মুসলিম]
৬. হেজাজের আগুন। আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, 'ততদিন কিয়ামত কায়েম হবে না, যতদিন হেজাজ থেকে একটি আগুন বের হয়ে বসরায় অবস্থানরত উটের গর্দান আলোকিত না করে, অর্থাৎ বসরা পর্যন্ত না পৌঁছে।'

মহানবী সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের এ ভবিষ্যৎ বানী অক্ষরে অক্ষরে প্রতিফলিত হয়েছে। তাতারী ফিৎনার এক বছর পূর্বে ৬৫৪ হিজরীর ৬ জুমাদাল উখরা শুক্রবারে মদীনাতে এ আগুন প্রকাশ পায়। তিন মাস পর্যন্ত একাধারে চলতে থাকে ভয়াবহ এ অগ্নির বিস্তার সুবিশাল এলাকা জুড়ে। হাদিসের ভাষ্য অনুযায়ী বসরার মত দুর শহর পর্যন্ত এ আগুন ছড়িয়ে পড়ে। পাহাড়সহ যা কিছু এ আগুনের কবলে পড়েছে তাই জ্বলে-পুড়ে ভষ্মে পরিনত হয়েছে। আল্লামা নববী, কুরতুবী, আবু শাম্মাহর মত বড় বড় মুহাদ্দিস এই ঘটনাকে উক্ত হাদিসের বাস্তবায়ন সাব্যস্ত করে মতামত প্রদান করেছেন।

দুই. মাঝামাঝি সময়ে প্রকাশিত আলামত: মাঝামাঝি সময়ে প্রকাশিত আলামতগুলো সম্মন্ধে ধারণা করা যায়, এসবের কিছু কিছু প্রকাশ পেয়েছে এবং হয়তো এখনও কিছু বাকি রয়ে গেছে। আলামতে কুবরা প্রকাশিত হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত এইসব আলামতের প্রকাশ ঘটতেই থাকবে হয়তো। হাদিসের ভবিষ্যত বানীর আলোকে এই প্রকারের আলামতের তালিকাও বেশ বড়। যেমন:

১. দীনের উপর অটল থাকা হাতে জলন্ত অঙ্গার রাখার ন্যয় কষ্টকর হবে।
২. ইতর শ্রেণির লোকেরা [যার বাবাও ইতর ছিল] দুনিয়াতে ভাগ্যবান হবে।
৩. গোত্র ও জাতীয় লিডার হবে মুনাফিক, ফাসিক ও নিচু শ্রেনীর লোক।
৪. পুলিশ অধিক হারে বৃদ্ধি পাবে। যারা জালিমের হাতকে শক্তিশালী করবে। যেমন- তাবারানী শরিফের এক বনর্নায় এসেছে, ‘কিয়ামতের একটি আলামত হলো পুলিশের সংখ্যা বৃদ্ধি পাবে’।
৫. অযোগ্যরা বড় বড় পদ-পদবীর অধিকারী হবে।
৬. ওজনে কম দেয়া হবে।
৭. লেখালেখির প্রচলন বেড়ে যাবে ব্যাপক হারে। তবে তা হবে দুনিয়ার উদ্দেশ্যে।
৮. কুরআনকে বানানো হবে গান-বাদ্যের মাধ্যম।
৯. আমানতদারকে বলা হবে 'খিয়ানতকারী', আর 'খিয়ানতকারীকে' বলা হবে 'আামানতদার'।
১০. ভাল ব্যবহার করা হবে অনাত্মীয়ের সাথে আর আত্মীয় ও কাছের লোকদের সাথে করা হবে অসৎ ব্যবহার এবং নষ্ট করা হবে তাদের প্রাপ্য অধিকার।
১১. মা- বাবার সাথে করা হবে নাফরমানী, আর অনুসরন করা হবে স্ত্রীর।
১২. ব্যাপক হারে বিবাহ বিচ্ছেদের ঘটনা ঘটবে।
১৩. রিয়া ও গৌরবের বশবর্তী হয়ে প্রতিযোগিতামূলক বড় বড় অট্টালিকা নির্মানের প্রতিযোগিতা করা হবে।
১৪. শরাবের নাম দেয়া হবে- 'নবীয', 'কোমল পানীয়', সুদের নাম দেয়া হবে- 'ক্রয়-বিক্রয়', 'মুনাফা', ঘুষের নাম দেয়া হবে- 'হাদিয়া', 'উপটোকন' ইত্যাদি। এসব নাম রেখে এগুলোকে হালাল মনে করা হবে।
১৫. জারজ সন্তান বৃদ্ধি পাবে।
১৬. দাওয়াতে খাবার ব্যতিত নারীদেরকেও উপস্থাপনা করা হবে।
১৭. হঠাৎ মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে যাবে।
১৮. নারীরা কাপড় পরিধান করবে কিন্তু পাতলা ও অতি আট-সাঁট হওয়ার দরুন তাদের মনে হবে উলঙ্গ।
১৯. নারীরা মাথার চুলকে বুখতী উটের কুঁজের ন্যায় উঁচু করে হেলে দুলে চলবে।
২০. মুমিনগন তাদের নিকট বাদীর চেয়েও নিকৃষ্ট হবে। রাসুলুল্লাহ সা. এগুলোর সংবাদ এমন সময় দিয়েছিলেন যখন এগুলোর কল্পনাও অসম্ভব ছিল। কিন্ত আজকের পৃথিবীতে এ সকল ঘটনা অহরহ আমরা প্রত্যক্ষ করছি। কোনো কোনো আলামত তো শেষ সীমায় পৌঁছেছে বলে ধরে নেয়া যায়। আবার কোনোটির সূচনা হয়েছে মাত্র। যখন এই ধারায় বর্ণিত সবগুলো আলামত প্রকাশ পাবে, তখনই কিয়ামতের নিকটবর্তী আলামতে কুবরা বা বড় বড় আলামতগুলো প্রকাশিত হতে থাকবে।

তিন. কিয়ামতের কাছাকাছি সময়ে সংঘটিত আলামত: এই আলামতগুলো কিয়ামতের একেবারে নিকটবর্তী সময়ে একেরপর এক প্রকাশিত হতে থাকবে। এগুলো হবে বিশ্ব কাপানো, পিলে চমকানো ঘটনা। আলামতগুলো হচ্ছে:

১. ইমাম মাহদীর আত্মপ্রকাশ:
সহীহ হাদীছের বিবরণ থেকে অবগত হওয়া যায় যে, আখেরী যামানায় ইমাম মাহদীর আত্মপ্রকাশ কিয়ামতের সর্বপ্রথম বড় আলামত। তিনি আগমণ করে এই উম্মাতের নের্তৃত্বের দায়িত্বভার গ্রহণ করবেন। ইসলাম ধর্মকে সংস্কার করবেন এবং ইসলামী শরীয়তের মাধ্যমে বিচার-ফয়সালা করবেন। পৃথিবী হতে জুলুম-নির্যাতন দূর করে ন্যায়-ইনসাফ দ্বারা তা ভরে দিবেন। উম্মতে মুহাম্মাদী তাঁর আমলে বিরাট কল্যাণের ভিতর থাকবে। ইমাম ইবনে কাছীর (রঃ) বলেনঃ তখন ফল-ফলাদীতে প্রচুর বরকত হবে, মানুষের সম্পদ বৃদ্ধি পাবে, ইসলাম বিজয়ী হবে, ইসলামের শত্রুরা পরাজিত হবে এবং সকল প্রকার কল্যাণ বিরাজ করবে।

ইমাম মাহদীর পরিচয়ঃ
তাঁর নাম হবে আমাদের প্রিয় নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর নামের মতো এবং তাঁর পিতার নামও হবে আমাদের নবী কারিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম -এর পিতার নামের মতোই। তিনি জন্ম গ্রহন করবেন হাসান বিন আলী (রাঃ) এর বংশলতিকা থেকে। ইবনে কাছীর (রঃ) বলেনঃ ‘‘তিনি হলেন মুহাম্মাদ বিন আব্দুল্লাহ আল-ফাতেমী আল-হাসানী’’।

তাঁর আগমণের স্থানঃ
তিনি পূর্বের কোন একটি অঞ্চল থেকে প্রকাশিত হবেন। তবে পূর্ব দিক বলতে মদিনা মুনাওয়ারা হতে পূর্বের দিক বুঝানো হয়েছে। নবী কারিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেনঃ ‘তোমাদের গুপ্তধনের নিকট তিনজন লোক ঝগড়া করবে। প্রত্যেকেই হবে খলীফার পুত্র। কেউ তা দখল করতে পারবে না। অতঃপর পূর্বের দিক থেকে কালো পতাকাধারী একদল সৈনিক আসবে। তারা ব্যাপক হত্যাকান্ড চালাবে।' হাদীছের বর্ণনাকারী বলেনঃ ‘এরপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এমন কিছু বিষয়ের কথা বর্ণনা করলেন যা আমি স্মরণ রাখতে পারিনি।' অবশেষে তিনি বলেন: 'তোমরা যখন তাদেরকে দেখতে পাবে তখন তাদের নেতার হাতে বায়আত করবে। যদিও বরফের উপর হামাগুড়ি দিয়ে উপস্থিত হতে হয়। কেননা তিনি হলেন আল্লাহর খলীফা মাহদী’। ইবনে মাজাহ, অধ্যায়ঃ কিতাবুল ফিতান। ইমাম আলবানী বলেনঃ ‘আল্লাহর খলীফা’ কথাটি ব্যতীত হাদীছের বাকী অংশ সহীহ।

ইমাম ইবনে কাছীর (রঃ) বলেনঃ ‘‘উল্লেখিত হাদীছে যে ধন-ভান্ডারের কথা বলা হয়েছে তা হল কা’বা ঘরের ধন-ভান্ডার। তিনজন খলীফার পুত্র তা দখল করার জন্য ঝগড়া করবে। কেউ তা দখল করতে পারবে না। সর্বশেষে আখেরী যামানায় পূর্বের কোন একটি দেশ হতে মাহদী আগমণ করবেন। তবে এক্ষেত্রে শিয়ারা সামেরার গর্ত হতে ইমাম মাহদী বের হওয়ার যে দাবী করে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা। তারা আরো দাবী করে যে, তিনি গর্তের মাঝে লুকায়িত আছেন। শিয়াদের একটি দল প্রতিদিন সে গর্তের কাছে দাঁড়িয়ে আপেক্ষা করে। এ ধরণের আরো অনেক হাস্যকর কাল্পনিক ঘটনা বর্ণিত আছে। এসমস্ত কথার পক্ষে কোন দলীল নেই; বরং এগুলো কুরআন, হাদীছ এবং বিবেক বহির্ভূত কথা। তিনি আরো বলেনঃ পূর্বাঞ্চলের লোকেরা তাঁকে সাহায্য করবে এবং তাঁর শাসনকে সমর্থন করবে। তাঁরা কালো পতাকাধারী হবেন। মোটকথা, আখেরী যামানায় পূর্বদেশ হতে তাঁর বের হওয়া সত্য। কা’বা ঘরের পাশে তাঁর জন্যে বায়আত করা হবে’’। (النهاية/ الفتن و الملاحم ( ১/২৯-৩০

ইমাম মাহদী আগমণের দলীলসমূহঃ
ইমাম মাহদীর আগমণের ব্যাপারে অনেক সহীহ হাদীছ রয়েছে। কোন কোন হাদীছে প্রকাশ্যভাবে তাঁর নাম উল্লেখ আছে। আবার কোন কোন হাদীছে তাঁর গুণাগুণ উল্লেখিত হয়েছে। তাঁর আগমণ সত্য হওয়ার জন্য এ সমস্ত হাদীছই যথেষ্ট।

এক. আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হতে বর্ণনা করেন, ‘‘আখেরী যামানায় আমার উম্মাতের ভিতরে মাহদীর আগমণ ঘটবে। তাঁর শাসনকালে আকাশ থেকে প্রচুর বৃষ্টিপাত হবে, যমিন প্রচুর ফসল উৎপন্ন করবে, তিনি মানুষের মাঝে সমানভাবে প্রচুর সম্পদ বিতরণ করবেন, গৃহপালিত পশুর সংখ্যা বৃদ্ধি পাবে এবং উম্মাতে মুহাম্মাদীর সম্মান বৃদ্ধি পাবে। তিনি সাত বছর কিংবা আট বছর জীবিত থাকবেন’’। মুস্তাদরাকুল হাকিম। ইমাম আলবানী (রঃ) হাদীছটিকে সহীহ বলেছেন। সিলসিলায়ে সাহীহা, হাদীছ নং- ৭১১।

দুই. আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ) হতে আরও বর্ণিত আছে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেনঃ ‘‘আমি তোমাদেরকে মাহদীর আগমণ সম্পর্কে সুসংবাদ দিচ্ছি। মানুষেরা যখন মতবিরোধে লিপ্ত হবে তখন তিনি প্রেরিত হবেন। পৃথিবী হতে জুলুম-নির্যাতন দূর করে ন্যায়-ইনসাফ দ্বারা তা ভরে দিবেন। আসমান-যমীনের সকল অধিবাসী তার উপর সন্তুষ্ট হবেন। তিনি মানুষের মাঝে সমানভাবে প্রচুর সম্পদ বিতরণ করবেন’’। মুসনাদে আহমাদ। ইমাম হায়ছামী বলেনঃ হাদীছের বর্ণনাকারীগন নির্ভরযোগ্য। মাজমাউ য্ যাওয়ায়েদ (৭/৩১৩-৩১৪)।

তিন. নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেনঃ

الْمَهْدِيُّ مِنِّي أَجْلَى الْجَبْهَةِ أَقْنَى الْأَنْفِ يَمْلَأُ الْأَرْضَ قِسْطًا وَعَدْلًا كَمَا مُلِئَتْ جَوْرًا وَظُلْمًا يَمْلِكُ سَبْعَ سِنِينَ

‘‘মাহদী আসবেন আমার বংশধর হতে। তাঁর কপাল হবে উজ্জল এবং নাক হবে উঁচু। পৃথিবী হতে যুলুম-নির্যাতন দূর করে দিয়ে ন্যায়-ইনসাফ দ্বারা তা ভরে দিবেন। সাত বছর পর্যন্ত তিনি রাজত্ব করবেন’’। আবু দাউদ, অধ্যায়ঃ কিতাবুল মাহদী, সহীহুল জামে আস্ সাগীর, হাদীছ নং- ৬৬১২।

চার. উম্মে সালামা (রাঃ) বলেনঃ ‘‘আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছিঃ মাহদীর আগমণ হবে আমার পরিবারের ফাতেমার বংশধর হতে’’। আবু দাউদ ও ইবনে মাজাহ। ইমাম আলবানী (রঃ) সহীহ বলেছেন। সহীহুল জামেউ, হাদীছ নং- ৬৬১২।

পাঁচ. জাবের (রাঃ) বলেনঃ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ ঈসা (আঃ) যখন অবতরণ করবেন তখন মুসলমানদের আমীর তাঁকে বলবেনঃ আসুন! আমাদের নামাযের ইমামতি করুন। ঈসা (আঃ) বলবেনঃ বরং তোমাদের আমীর তোমাদের মধ্যে হতেই। এই উম্মতের সম্মানের কারণেই তিনি এ মন্তব্য করবেন’’। আল-মানারুল মুনীফ, (পৃষ্ঠা নং-১৪৭-১৪৮) ইমাম ইবনুল কায়্যিম বলেনঃ হাদীছের সনদ ভাল।

ইমাম ইবনুল কাইয়্যেম আল-মানারুল মুনীফ গ্রন্থে উক্ত হাদীছটি বর্ণনা করেছেন। যেই আমীরের ইমামতিতে মুসলমানগণ নামায পড়বেন, তিন তাঁর নামও উল্লেখ করেছেন। আর তিনি হলেন মাহদী। এই হাদীছ সম্পর্কে ইবনুল কায়্যেম বলেনঃ হাদীছের সনদ খুব ভাল। আল-মানারুল মুনীফ, পৃষ্ঠা নং- ১৪৮।

ছয়. আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ) রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হতে বর্ণনা করেনঃ ‘‘ঈসা ইবনে মারইয়াম যেই ইমামের পিছনে নামায পড়বেন তিনি হবেন আমাদের মধ্যে হতে’’। আবু নুয়াইম আখবারুল মাহদী নামক গ্রন্থে হাদীছটি বর্ণনা করেছেন। সহীহুল জামে আস্-সাগীর, হাদীছ নং- ৫৭৯৬।

সাত. নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেনঃ ‘‘ততদিন দুনিয়া ধ্বংস হবেনা যতদিন না আমার পরিবারের একজন লোক আরবদের বাদশা হবেন। তাঁর নাম হবে আমার নামে এবং তাঁর পিতার নাম হবে আমার পিতার নামের অনুরূপ’’। অর্থাৎ তাঁর নাম হবে মুহাম্মাদ বিন আব্দুল্লাহ। মুসনাদে আহমাদ, সহীহুল জামেউস্ সাগীর, হাদীছ নং- ৫১৮০।

আট. উম্মে সালামা (রাঃ) বলেনঃ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ ‘‘কা’বা ঘরের পাশে একজন লোক আশ্রয় নিবে। তাঁর বিরুদ্ধে একদল সৈনিক প্রেরণ করা হবে। সৈন্যরা যখন ‘বায়দা’ নামক স্থানে পৌঁছবে তখন যমিন তাদেরকে গ্রাস করে ফেলবে। উম্মে সালামা বলেনঃ আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে জিজ্ঞেস করলাম অপছন্দ সত্ত্বেও যারা তাদের সাথে যাবে তাদের অবস্থা কি হবে? উত্তরে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেনঃ তাকে সহ যমিন ধসে যাবে। তবে কিয়ামতের দিন সে আপন নিয়তের উপরে পুনরুত্থিত হবে’’। মুসলিম, অধ্যায়ঃ কিতাবুল ফিতান।

নয়. হাফসা (রাঃ) হতে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেনঃ ‘‘অচিরেই এই ঘরের অর্থাৎ কা’বা ঘরের পাশে একদল লোক আশ্রয় গ্রহণ করবে। শত্রুর সাথে মোকাবেলা করার মত তাদের কোন উল্লেখযোগ্য সৈনিক কিংবা অস্ত্র-শস্ত্র বা প্রস্ত্ততি থাকবেনা। তাদেরকে হত্যা করার জন্য একদল সৈনিক প্রেরণ করা হবে। সৈন্যরা যখন ‘বায়দা’ নামক স্থানে পৌঁছবে তখন যমিন তাদেরকে গ্রাস করে ফেলবে’’। মুসলিম, অধ্যায়ঃ কিতাবুল ফিতান।

দশ. আয়েশা (রাঃ) বলেনঃ ‘‘একদা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ঘুমের ঘোরে এলোমেলো কিছু কাজ করলেন। আয়েশা (রাঃ) বলেনঃ জাগ্রত হলে আমরা তাঁকে বললামঃ ঘুমের মধ্যে আপনি আজ এমন কিছু কাজ করেছেন যা অতীতে কখনও করেন নি। তিনি বললেনঃ আমার উম্মাতের একদল লোক কা’বার পাশে আশ্রয় গ্রহণকারী কুরাইশ বংশের একজন লোকের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার উদ্দেশ্যে রওয়ানা হবে। তারা যখন ‘বায়দা’ নামক স্থানে পৌঁছবে তখন তাদেরকে নিয়ে যমিন ধসে যাবে। আমরা বললামঃ হে আল্লাহর রাসূল! তখন তো রাস্তায় বিভিন্ন ধরণের লোক থাকবে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেনঃ তাদের ভিতর এমন লোক থাকবে যারা নিজেদেরকে গোমরাহ জেনেও বের হবে, কাউকে বল প্রয়োগ করে আনা হবে এবং তাদের মধ্যে মুসাফিরও থাকবে। তারা সকলেই ধ্বংস হয়ে যাবে। তবে সকলকেই আল্লাহ তা’আলা নিয়তের উপর পুনরুত্থিত করবেন। মুসলিম, অধ্যায়ঃ কিতাবুল ফিতান।

তাদেরকে নিয়তের উপর পুনরুত্থিত করার অর্থ তাদের কেউ জান্নাতে যাবে আবার কেউ জাহান্নামে প্রবেশ করবে। যারা নিজেদের ভ্রান্ত জেনেও উক্ত ইমামের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে বের হবে তারা জাহান্নামী হবে। আর যাদেরকে বাধ্য করে আনা হবে তাদের কোন অপরাধ হবেনা। এমনিভাবে পথিক ও পার্শ্ববর্তী স্থানের লোকেরাও উক্ত ভূমিধস থেকে রেহাই পাবেনা। কিন্তু সকল শ্রেণীর লোক নিজ নিজ আমল নিয়ে পুনরুত্থিত হবে।

উপরের তিনটি হাদীছ থেকে জানা গেল যেই লোকটি কা’বার প্রান্তে আশ্রয় গ্রহণ করবেন তিনি হবেন কুরাইশ বংশের অন্তর্ভূক্ত। তিনি আল্লাহর সাহায্য প্রাপ্ত হবেন এবং তাঁর শত্রুদেরকে ভূমিধসের মাধ্যমে ধ্বংস করবেন।

বুখারী ও মুসলিম শরীফে ইমাম মাহদী সম্পর্কিত কিছু হাদীছঃ

১) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেনঃ

كَيْفَ أَنْتُمْ إِذَا نَزَلَ ابْنُ مَرْيَمَ فِيكُمْ وَإِمَامُكُمْ مِنْكُمْ

‘‘সেদিন কেমন হবে তোমাদের অবস্থা যেদিন তোমাদের মধ্যে ঈসা ইবনে মারইয়াম নেমে আসবেন এবং তোমাদের মধ্যে হতেই একজন ইমাম হবেন’’। অর্থাৎ তোমাদের সাথে জামা'তে শরীক হয়ে ঈসা (আঃ) তোমাদের ইমামের পিছনে নামায আদায় করবেন। বুখারী, অধ্যায়ঃ আহাদীছুল আম্বীয়া, মুসলিম, অধ্যায়ঃ কিতাবুল ঈমান।

২) জাবের (রাঃ) বলেনঃ আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছি, ‘‘আমার উম্মাতের একটি দল হকের উপর বিজয়ী থেকে কিয়ামত পর্যন্ত লড়াই করতে থাকবে। অতঃপর ঈসা ইবনে মারইয়াম অবতরণ করবেন। তাকে দেখে মুসলমানদের আমীর বলবেনঃ আসুন! আমাদেরকে নিয়ে নামাযের ইমামতি করুন। ঈসা (আঃ) বলবেনঃ না; বরং তোমাদের আমীর তোমাদের মধ্যে হতেই। এই উম্মাতের সম্মানের কারণেই তিনি এ মন্তব্য করবেন’’। মুসলিম, অধ্যায়ঃ কিতাবুল ঈমান।

৩) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেনঃ ‘‘আখেরী যামানায় আমার উম্মাতের মধ্যে একজন খলীফা হবেন যিনি মানুষের মধ্যে মুক্ত হস্তে অগণিতভাবে ধন-সম্পদ বিতরণ করবেন’’। মুসলিম, অধ্যায়ঃ কিতাবুল ফিতান।

মাহদী আগমণের ব্যাপারে কতিপয় বিজ্ঞ আলেমের বক্তব্যঃ

ক) হাফেয আবুল হাসান আল-আবেরী (রঃ) বলেনঃ ‘‘মাহদী সম্পর্কিত হাদীছগুলো নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে মুতাওয়াতির হিসেবে বর্ণিত হয়েছে। তিনি আহলে বায়ত তথা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামএর বংশধরের অন্তর্ভূক্ত হবেন। সাত বছর রাজত্ব করবেন। তাঁর রাজত্বকালে পৃথিবী ন্যায়-ইনসাফে পরিপূর্ণ হয়ে যাবে। তাঁর রাজত্বকালে ঈসা ইবনে মারইয়াম (আঃ) আগমণ করে দাজ্জালকে হত্যা করবেন। ঈসা (আঃ) তাঁর পিছনে নামায পড়বেন’’। تهذيب الكمال فى أسماء الرجال (৩ /১১৯৪)

খ) ইমাম শাওকানী (রঃ) বলেনঃ ‘‘যতদূর জানা যায় মাহদীর ব্যাপারে ৫০টি মুতাওয়াতির হাদীছ বর্ণিত হয়েছে। তার মধ্যে রয়েছে সহীহ, হাসান ও সামান্য ত্রুটি বিশিষ্ট হাদীছ, যা অন্য সূত্রে বর্ণিত হওয়ার কারণে ত্রুটিমুক্ত হয়ে গেছে। সুতরাং বিনা সন্দেহে হাদীছগুলো মুতাওয়াতির’’। نظم المتناثر من الحديث المتواتر (ص ১৪৫-১৪৬)

গ) শায়খ আব্দুল আযীয বিন বায (রঃ) বলেনঃ মাহদীর বিষয়টি অতি সুস্পষ্ট। এ ব্যাপারে হাদীছগুলো মুতাওয়াতির সূত্রে বর্ণিত। তাঁর আগমণ সত্য। তিনি হলেন মুহাম্মাদ বিন আব্দুল্লাহ আল-হাসানী আল-ফাতেমী। আখেরী যামানায় তিনি আগমণ করে সত্য ও ন্যায় প্রতিষ্ঠা করবেন। অন্যায়-অবিচার প্রতিহত করবেন। তাঁর মাধ্যমে আল্লাহ সত্য ও কল্যাণের ঝান্ডা বলুন্দ করবেন। যে ব্যক্তি আখেরী যামানায় ইমাম মাহদীর আগমণকে অস্বীকার করবে তার কথায় কর্ণপাত করা যাবেনা। -উসূলে হাদীছের পরিভাষায় মুতাওয়াতির ঐ হাদীছকে বলা হয় যার বর্ণনাকারীর সংখ্যা অধিক হওয়ার কারণে মিথ্যার উপর তাদের একমত হওয়ার কল্পনাও করা যায়না। - আশরাতুস্ সাআ, ডঃ আব্দুল্লাহ সুলায়মান আল-গুফায়লী, পৃষ্ঠা নং- ৮৭

ঘ) শায়খ আব্দুল মুহসিন আল-আব্বাদ বলেনঃ ‘‘২৬জন সাহাবী থেকে মাহদীর আগমণ সম্পর্কিত হাদীছগুলো বর্ণিত হয়েছে। ৩৬টি হাদীছ গ্রন্থে এ সমস্ত হাদীছ বর্ণিত হয়েছে’’। الرد على من كذب بالأحاديث الصحيحة الواردة فى المهدى

উপরের আলোচনা থেকে আমরা জানতে পারলাম, ইমাম মাহদীর আগমণে বিশ্বাস স্থাপন করা ওয়াজিব। কারণ তাঁর আগমণের ব্যাপারে অনেক সহীহ হাদীছ বর্ণিত হয়েছে। ঈসা ইবনে মারইয়াম (আঃ) যখন আকাশ থেকে অবতরণ করবেন তখন ইমাম মাহদীর নের্তৃত্বে মুসলমানগণ স্বসম্মান ও সুখণ্ডশান্তিতে বসবাস করতে থাকবেন। ইমাম মাহদী মুসলমানদেরকে নিয়ে নামাযের ইমামতি করার জন্য প্রস্ত্ততি নিতে থাকবেন। এমন সময় ঈসা ইবনে মারইয়াম (আঃ) আকাশ থেকে আগমণ করবেন। ইমাম মাহদী ঈসা (আঃ)কে দেখে বলবেনঃ সামনে অগ্রসর হোন এবং আমাদের ইমামতি করুন। হাদীছের ভাষ্য অনুযায়ী আরো জানা যায় যে, ইমাম মাহদীর সময় মুসলমানদের ঈমান ও শক্তি ধ্বংস করার জন্য দাজ্জালের আগমণ ঘটবে। দাজ্জালের মোকাবেলা করার জন্য আল্লাহ তাআলা ঈসা (আঃ)কে পাঠাবেন। ইমাম মাহদীও তাঁর সাথে মিলিত হয়ে দাজ্জালের বিরুদ্ধে যুদ্ধে লিপ্ত হয়ে তাকে এবং তার বাহিনীকে খতম করে মুসলমানদেরকে দাজ্জালের ফিতনা হতে মুক্ত করবেন।

ঙ) সিদ্দিক হাসান খান ভূপালী (রঃ) বলেনঃ ‘‘মাহদীর ব্যাপারে অনেক হাদীছ বিভিন্ন গ্রন্থে মুতাওয়াতির সূত্রে বর্ণিত হয়েছে’’। الإذاعة لما كان و ما يكون بين يدى الساعة ص ১১২

চ) সুনানে আবু দাউদ শরীফের ভাষ্যকার আল্লামা শামছুল হক আযীমাবাদী (রঃ) বলেনঃ ‘‘সর্ব যুগের সকল মুসলমানদের মাঝে একথা অতি প্রসিদ্ধ যে, আখেরী যামানায় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামএর বংশধর হতে একজন সৎলোকের আগমণ ঘটবে। তিনি এই দ্বীনকে শক্তিশালী করবেন। ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠা করবেন। মুসলমানগণ তাঁর অনুসরণ করবে। সমস্ত ইসলামী রাজ্যের উপর তাঁর আধিপত্য বিস্তার হবে। তাঁর নাম হবে মাহদী। তাঁর আগমণের পরেই সহীহ হাদীছে বর্ণিত কিয়ামতের অন্যান্য বড় আলামতগুলো প্রকাশিত হবে। তাঁর যামানাতেই ঈসা (আঃ) আগমণ করবেন এবং দাজ্জালকে হত্যা করবেন। এ ব্যাপারে মাহদীও তাঁকে সহযোগিতা করবেন।

উপরের বিস্তারিত আলোচনা থেকে ইমাম মাহদী সম্পর্কে আমরা যা অবগত হলাম তার সংক্ষিপ্ত কথা হল আখেরী যামানায় এই উম্মতের মধ্যে একজন সৎ লোক আগমণ করবেন। মাকামে ইবরাহীম এবং রুকনে ইয়ামানীর মধ্যবর্তী স্থানে মুসলমানগণ তাঁর হাতে বায়আত করবে। তাঁকে হত্যা করার জন্য সিরিয়া থেকে একদল সৈন্য প্রেরণ করা হবে। সৈন্যদলটি যখন মক্কার পথে ‘বায়দা’ নামক স্থানে পৌঁছবে তখন ভূমিধসে সকল সৈন্য হালাক হয়ে যাবে। আল্লাহ তাআলা ইমাম মাহদীকে এভাবে তাঁর শত্রুদের হাত থেকে হেফাযত করবেন। তিনি মুসলমানদের খলীফা হয়ে ইসলামের মাধ্যমে বিচার-ফয়সালা করবেন। তাঁর যামানায় মুসলমানদের মাঝে চরম সুখণ্ডশান্তি ও নেয়া'মত বিরাজ করবে। অতঃপর তিনি দামেস্কের মসজিদে ফজরের নামাযের সময় ঈসা (আঃ)এর সাথে সাক্ষাৎ করবেন। প্রথমে তিনি ঈসা (আঃ)কে নামাযের ইমামতি করার অনুরোধ জানাবেন। কিন্তু তিনি তা প্রত্যাখ্যান করলে স্বয়ং ইমাম মাহদী ইমামতি করবেন। ঈসা ইবনে মারইয়াম (আঃ) ইমাম মাহদীর পিছনে মুক্তাদী হয়ে নামায আদায় করবেন। অতঃপর তিনি ঈসা (আঃ)এর সাথে যোগ দিয়ে দাজ্জালের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার জন্য বের হবেন এবং দাজ্জাল হত্যার কাজে ঈসা (আঃ)কে সহায়তা করবেন। তারপর তিনি সাত বছর মতান্তরে নয় বছর পৃথিবীতে বসবাস করে মৃত্যু বরণ করবেন। মুসলমানগণ তাঁর জানাযা নামায পড়বে।

২. দাজ্জালের আবিভার্ব:

ইমাম সাফারায়েনী (রঃ) বলেনঃ প্রতিটি বিজ্ঞ মুসলিমের উচিৎ তার ছেলে-মেয়ে, স্ত্রী-পরিবার এবং সকল নারী-পুরুষদের জন্য দাজ্জালের হাদীছগুলো বর্ণনা করা। বিশেষ করে ফিতনায় পরিপূর্ণ আমাদের বর্তমান যামানায়। দাজ্জালের ফিতনা থেকে বাঁচার উপায়গুলো নিম্নরূপঃ-

ইসলামকে সঠিকভাবে আঁকড়ে ধরাঃ ইসলামকে সঠিকভাবে আঁকড়ে ধরা এবং ঈমানের উপর অটল থাকাই দাজ্জালের ফিতনা থেকে বাঁচার একমাত্র উপায়। যে মুমিন আল্লাহর নাম ও তাঁর অতুলনীয় সুমহান গুণাবলী সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করবে সে অতি সহজেই দাজ্জালকে চিনতে পারবে। সে দেখতে পাবে দাজ্জাল খায় এবং পান করে। মু’মিনের আকীদা এই যে, আল্লাহ তাআলা পানাহার ও অন্যান্য মানবীয় দোষ-গুণ থেকে সম্পূর্ণ পবিত্র। যে পানাহারের প্রতি মুখাপেক্ষী সে কখনও আল্লাহ বা রব হতে পারে না। দাজ্জাল হবে অন্ধ। আল্লাহ এরূপ দোষ-ত্রুটির অনেক উর্ধে। আল্লাহর গুণাবলী সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণার অধিকারী মুমিনগণের মনে প্রশ্ন জাগবে, যে নিজের দোষ থেকে মুক্ত হতে পারে না সে কিভাবে প্রভু হতে পারে? মুমিনের আকীদা এই যে, আল্লাহকে দুনীয়ার জীবনে দেখা সম্ভব নয়। অথচ মিথ্যুক দাজ্জালকে মুমিন-কাফের সবাই দুনিয়াতে দেখতে পাবে।

দাজ্জালের ফিতনা থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করাঃ আয়েশা (রাঃ) বলেনঃ ‘‘আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে নামাযের ভিতরে দাজ্জালের ফিতনা থেকে আশ্রয় চাইতে শুনেছি’’। তিনি নামাযের শেষ তাশাহুদে বলতেনঃ

اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنْ عَذَابِ الْقَبْرِ وَمِنْ عَذَابِ النَّارِ وَمِنْ فِتْنَةِ الْمَحْيَا وَالْمَمَاتِ وَمِنْ فِتْنَةِ الْمَسِيحِ الدَّجَّالِ

‘‘হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে কবরের আযাব, জাহান্নামের আযাব, জীবন-মরণের ফিতনা এবং মিথ্যুক দাজ্জালের ফিতনা থেকে আশ্রয় চাই’’।

দাজ্জালের শেষ পরিণতিঃ
সহীহ হাদীছের বিবরণ অনুযায়ী ঈসা ইবনে মারইয়াম (আঃ) এর হাতে দাজ্জাল নিহত হবে। বিস্তারিত বিবরণ এই যে, মক্কা-মদিনা ব্যতিত পৃথিবীর সকল দেশেই সে প্রবেশ করবে। তার অনুসারীর সংখ্যা হবে প্রচুর। সমগ্র দুনিয়ায় তার ফিতনা ছড়িয়ে পড়বে। সামান্য সংখ্যক মুমিনই তার ফিতনা থেকে রেহাই পাবে। ঠিক সে সময় দামেস্ক শহরের পূর্ব প্রান্তে অবস্থিত এক মসজিদের সাদা মিনারের উপর ঈসা (আঃ) আকাশ থেকে অবতরণ করবেন। মুসলমানগণ তার পার্শ্বে একত্রিত হবে। তাদেরকে সাথে নিয়ে তিনি দাজ্জালের দিকে রওনা দিবেন। দাজ্জাল সেসময় বায়তুল মাকদিসের দিকে অগ্রসর হতে থাকবে। অতঃপর ঈসা (আঃ) ফিলিস্তীনের লুদ্দ শহরের গেইটে দাজ্জালকে পাকড়াও করবেন। ঈসা (আঃ) কে দেখে সে পানিতে লবন গলার ন্যায় গলতে শুরু করবে। ঈসা (আঃ) তাকে লক্ষ্য করে বলবেনঃ ‘‘তোমাকে আমি একটি আঘাত করবো যা থেকে তুমি কখনও রেহাই পাবে না।’’

ঈসা (আঃ) তাকে বর্শা দিয়ে আঘাত করবেন। অতঃপর মুসলমানেরা তাঁর নেতৃত্বে ইহুদীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবে। মুসলমানদের হাতে দাজ্জালের বাহিনী ইহুদীর দল পরাজিত হবে। তারা কোথাও পালাবার স্থান পাবেনা। গাছের আড়ালে পালানোর চেষ্টা করলে গাছ বলবেঃ হে মুসলিম! আসো, আমার পিছনে একজন ইহুদী লুকিয়ে আছে। আসো এবং তাকে হত্যা কর। পাথর বা দেয়ালের পিছনে পলায়ন করলে পাথর বা দেয়াল বলবেঃ হে মুসলিম! আমার পিছনে একজন ইহুদী লুকিয়ে আছে, আসো! তাকে হত্যা কর। তবে গারকাদ নামক গাছ ইহুদীদেরকে গোপন করার চেষ্টা করবে। কেননা সেটি ইহুদীদের বৃক্ষ বলে পরিচিত। সহীহ মুসলিম শরীফে আবু হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেনঃ

(لَا تَقُومُ السَّاعَةُ حَتَّى يُقَاتِلَ الْمُسْلِمُونَ الْيَهُودَ فَيَقْتُلُهُمُ الْمُسْلِمُونَ حَتَّى يَخْتَبِئَ الْيَهُودِيُّ مِنْ وَرَاءِ الْحَجَرِ وَالشَّجَرِ فَيَقُولُ الْ

৩. ঈসার আলাইহিসসালাম -এর অবতরন,
৪. ইয়াজুজ মাজুজের বের হওয়া।
৫. পশ্চিম প্রান্ত থেকে সৃর্যোদয়,
৬. দাব্বাতুল আরদ এর আত্মপ্রকাশ,
৭. ইয়ামানের ভয়ানক অগ্নি,
৮. তিন স্থানে তিনটি ভয়াবহ ভূমিধস ইত্যাদি।

পর্যায়ক্রমানুসারে কিয়ামতের আলামত: পর্যায়ক্রমানুসারে কিয়ামতের আলামতগুলো হচ্ছে-

১. কিয়ামতের পূর্বে এমন বড় বড় ও সাংঘাতিক ঘটনা ঘটবে, যেগুলো সম্পর্কে একে অপরকে জিজ্ঞাসা করবে, এসব ব্যাপারে তোমাদের নবী কিছু বলে গেছেন কি?
২. তিনজন বড় বড় মিথ্যুকের প্রকাশ ঘটবে। সর্বশেষ মিথ্যুকের নাম হবে দাজ্জাল।
৩. ঈসার আ. আগমন পর্যন্ত এই উম্মতের একদল লোক হকের পক্ষে যুদ্ধ জিহাদ করে যাবে।
৪. এই জামাতের সর্বশেষ আমীর হবেন ইমাম মাহদী।
৫. তার যামানাতেই ঈসার আ. আগমন ঘটবে।
৬. আল্লাহর পছন্দনীয় মুসলমানের এক সৈন্যদল হিন্দুস্থানে জিহাদ করবে এবং হিন্দুস্তান বিজয় করবে। এ যাবত হিন্দুস্থানে অনেকবার যুদ্ধ হয়েছে। আল্লাহই ভাল জানেন এখানে কোন যুদ্ধ উদ্দেশ্য। তবে অগ্রগণ্য মত হলো, সেই যুদ্ধ এখনো সংঘটিত হয়নি। ভবিষ্যতে হবে।
৭. ইমাম মাহদীর নেতৃত্বে কুস্তন্তনিয়া বিজয় হবে।
৮. দাজ্জালের অবিভার্ব।
৯. ঈসা আ. এর অবতরন। তখন মুসলমানদের আমীর হবে ইমাম মাহদী।
১০. দাজ্জালের সাথে যুদ্ধ।
১১. দাজ্জাল বধ করে মুসলমানদের বিজয়।
১২. মসুলমানগন ইহুদীদের বেছে বেছে হত্যা করবে।
১৩. ঈসা আ. ও মুসলমানগন সম্মেলিত ভাবে শুকর হত্যা করবে এবং ক্রশ ভেঙ্গে ফেলবে।
১৪. মানুষ সুখ শান্তি ও নিরাপদে জীবনযাপন করতে থাকবে। এ অবস্থায় ইয়াজুজ মাজুজের প্রাচির ভেঙ্গে যাবে।
১৫. ইয়াজুজ মাজুজ বের হয়ে পড়বে।
১৬. আল্লাহর নির্দেশে ঈসা আ. মুসলমানদের নিয়ে তুর পর্বতে আশ্রয় নিবেন। কেননা তাদের মুকাবেলা করার শক্তি কারো থাকবে না। ১৭. ঈসার আ. বদ দুআর ফলে ইয়াজুজ মাজুজ ধ্বংস হয়ে যাবে।
১৮. ঈসার আ. বরকতে পৃথিবী ব্যাপী আদল ইনসাদ কায়েম হবে। শান্তি নিরাপত্তার চাদরে পৃথিবী ঢেকে যাবে।
১৯. ঈসা আ. বিবাহ করবেন। সন্তান হবে। বিবাহের পর তিনি পৃথিবীতে ১৯ বছর থাকবেন। সর্বমোট থাকবেন ৪০ বছর।
২০. ঈসার আ. ওফাত হবে ।
২১. মুসলমান জানাযা পড়ে তাকে দাফন করবে।
২২. মানুষ ঈসার আ. ওসিয়ত মুতাবেক তামীম গূত্রের মুকআাদ নামক এক ব্যাক্তিকে খলীফা নিবার্চন করবে।
২৩. মুকআদ ইনতিকাল করবেন।
২৪. পৃথিবীর তিন স্থানে ভূমি ধসে যাবে ১. প্রাচ্যে ২. পাশ্চাত্যে। ৩. জাযিরাতুল আরবে/ আরব উপদ্বীপে।
২৫. একটি ধূয়া প্রকাশিত হবে যা মানুষকে আছন্ন করে নিবে। মুমিনের সর্দির মত ভাব হবে। আর কাফেররা বেহুশ হয়ে যাবে। ৪০ দিন পর এ ধোয়া পরিষ্কার হয়ে যাবে।
২৬. পশ্চিম দিক থেকে সুর্য উদিত হবে। এরপর আর তাওবা কবুল হবে না। সুর্য মধ্য আকাশ পর্যন্ত এসে আল্লাহর হুকুমে আবার পশ্চিম দিকে গিয়েই অস্ত যাবে। তারপর যথানিয়মে সৃর্যের উদয়-অস্ত হবে।
২৭. দাব্বাতুল আরদ [ভূমির জš] এটি সাফা পাহাড় ফেটে বের হবে। তা হবে অদ্ভুত আশৃতির। এ প্রাণীটি মানুষের সাথে কথা বলবে। অতি দ্রুতবেগে পুরো পৃথিবী ভ্রমন করে মুমিনের কপালে নূরানী রেখা টেনে দিবে। আর সীল মেরে দিবে কাফেরের নাকে বা গর্দানে।
২৮. ইয়ামানের অগ্নি। ইয়ামানের আদন নামক শহর থেকে একটি অগ্নি বের হয়ে লোক দিগকে সমবেত হওয়ার স্থান সিরিয়ার দিকে হাঁকিয়ে নিয়ে তথায় সমবেত করবে।
২৯. একটি আরমদায়ক বাতাস প্রবাহিত হবে। যা সমস্ত মুমিন বান্দার প্রাণ হরণ করবে। দুনিয়ায় কোন মুমিন অবশিষ্ট থাকবেনা।
৩০. এরপর দুনিয়াতে থাকবে শুধু নিকৃষ্টলোকেরা।

হাদিসের আলোকে কিয়ামতপূর্ব পৃথিবীর সর্বশেষ অবস্থা:
এই নিকৃষ্ট লোকেরা সর্বপ্রকার নিকৃষ্ট কাজকর্মে নির্লিপ্ত থাকবে। হিংস্র পশুর মত পরষ্পর খুনাখুনিতে লিপ্ত হবে। মূর্তি পুজা করবে। মঙ্গল-অমঙ্গল ও কল্যাণ-অকল্যাণের সাধারণ পার্থক্যটুকু পর্যন্ত এরা বিস্মৃত হয়ে যাবে। নিকৃষ্ট জানোয়ার গাধার ন্যায় প্রকাশ্যে রাস্তা ঘাটে, জনসম্মুখে যত্রতত্র অবাধ ব্যভিচারে লিপ্ত হবে। সমগ্র পৃথিবীতে হাবশী গোলামদের রাজত্ব কায়েম হবে। তারা মক্কাতুল মুকাররমাহয় হামলা করে বায়তুল্লাহকে ধ্বংস করে দিবে। তাদের হাতে নির্মমভাবে শহীদ হয়ে যাবে ইবাদতের উদ্দেশ্যে নির্মিত পৃথিবীর প্রথম ঘর। তখন সারা পৃথিবী অত্যাচার-অনাচার-খুনখারাবি-রাহাজানি-অন্যায়-অপরাধে এমনই সয়লাব হয়ে যাবে যে, একজন ভালো মানুষ আর অবশিষ্ট থাকবে না। 'আল্লাহ' শব্দটি উচ্চারণ করার মত একজন মানুষ আর খুঁজে পাওয়া যাবে না গোটা চরাচরে। ঠিক এমনি এক করুন মুহূর্তে হঠাৎ একদিন ফুঁকে দেয়া হবে সিঙ্গা এবং সংঘটিত হয়ে যাবে কিয়ামত।

হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, সিঙ্গার আওয়াজ প্রথমে হালকা ও সহনীয় হবে। আস্তে আস্তে বাড়তে থাকবে তা। একপর্যায়ে তা এত কঠোর ও ভীষন হবে যে, আওয়াজের প্রচন্ডতায় সকল প্রাণি মারা যাবে। পূর্বে যারা মারা গেছে তাদের রুহও বেহুশ হয়ে যাবে। এ মহাপ্রলয়ে পুরো পৃথিবী ধ্বংস হয়ে যাবে- যার ইঙ্গিত নিবন্ধের শুরুতেই দেয়া হয়েছে। বূখারী ও মুসলিমের বর্ণনায় কিয়ামত কি অবস্থায় সংঘটিত হবে এর বিবরন এভাবে এসছে যে, রাসুলল্লাহ সা. বলেন, 'অবশ্যই কিয়ামত সংঘটিত হবে এ অবস্থায় যে, দুই ব্যক্তি বেচা-কেনার জন্য কাপড় খুলে রাখবে, এখনো মূল্য নিরুপন এবং কাপড় ভাজ করা হয়নি, ইত্যবসরে কিয়ামত কায়েম হয়ে যাবে।'

তিনি আবার বলেন, 'বরং কিয়ামত এ অবস্থায় প্রতিষ্ঠিত হবে, এক ব্যক্তি উটের দুধ দোহন করতে থাকবে এবং পান করারও অবকাশ পাবে না, ইতোমধ্যেই কিয়ামত সংঘটিত হয়ে যাবে।'

তিনি আরো বলেন, 'নিশ্চয়ই কিয়ামত এ অবস্থায় প্রতিষ্ঠিত হবে যে, এক ব্যক্তি নিজের পানির হাউজ লেপন করতে থাকবে, কিন্তু তাতে চতুষ্পদ প্রানিকে পানি পান করাবারও সুযোগ পাবে না ।'

অন্য হাদিসে তিনি আরো বলেন, 'নিশ্চয়ই এক ব্যক্তি মুখে লোকমা উঠাবে কিন্তু তা খাবার আগেই কিয়ামত কায়েম হয়ে যাবে ।'

উপরোক্ত হাদিসের কথাগুলোর মর্ম হচ্ছে, আজকাল মানুষ যেভাবে কাজ কর্মে ব্যস্ত থাকে, তেমনি কিয়ামতের আগমনের সময়টিতেও মানুষ কাজ-কর্মে নিবিড় এবং নিবিষ্ট চিত্তে মগ্ন এবং ব্যস্ত থাকবে আর এরই মধ্যে, এমতাবস্থায়ই কোন এক দিন [শুক্রবার] হঠাৎ কিয়ামত কায়েম হয়ে যাবে। আল্লাহ পাক আমাদের কিয়ামতের ভয়াবহতা থেকে হেফাজত করুন। কিয়ামত পরবর্তী অন্তহীন জীবনের মুক্তির সওদা সংগ্রহের তাওফিক দান করুন।

তথ্যসূত্র: পোস্টটি এখনও পরিপূর্ণ নয়। আলামতে কুবরার প্রতিটির সাথে প্রয়োজনীয় আরও কিছু তথ্য সংযোজন করার ইচ্ছে রয়েছে- যাতে এগুলো সম্মন্ধে অনুসন্ধানী পাঠকমাত্রেরই কোনো প্রশ্নের উত্তর এই লেখার ভেতরে সন্নিবেশিত হয়ে যায়। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতাআ'লা তাওফিক প্রদান করলে ইনশাআল্লাহ করা হবে। লেখাটির বিভিন্ন পর্যায়ে পবিত্র কুরআনের বেশ কিছু আয়াত রেফারেন্স হিসেবে যুক্ত করে দেয়ার বিষয়টিও বাকি রয়ে গেছে সময় সংক্ষিপ্ততার কারণে। নিবন্ধটি প্রনয়নে যেসব পুস্তক এবং সূত্র থেকে তত্ত্ব ও তথ্যাদি গ্রহন করা হয়েছে সকলের প্রতি অনি:শেষ কৃতজ্ঞতা। নিবন্ধটির ভেতরে কিছু কিছু স্থানে লেখার সাথেই সূত্র উল্লেখ করে দেয়া হয়েছে। তদুপরি লেখার পরিসমাপ্তিতে এসে লেখাটির নির্ভরযোগ্যতা সম্মন্ধে সম্মানিত পাঠকবৃন্দের যুগপত কৌতুহল এবং নির্ভরতার কথা চিন্তা করে একসাথে সূত্রগুলোর অধিকাংশের পুনরোল্লেখ করা হলো:

১. তাফসিরে মাআরিফুল কুরআন।
২. তাফসিরে জালালাইন।
৩. তাফসিরে মাযহারি।
৪. তাফসিরে কাশশাফ।
৫. তাফসিরে ফি যিলালিল কুরআন।
৬. النهاية/ الفتن و الملاحم ( ১/ ৩১) -
৭. আল বিদায়াহ ওয়াননিহায়া, অধ্যায়ঃ আল-ফিতান ওয়াল মালাহিম।
৮. ইবনে মাজাহ, অধ্যায়ঃ কিতাবুল ফিতান।
৯. (النهاية/ الفتن و الملاحم ( ১/২৯-৩০
১০. মুস্তাদরাকুল হাকিম।
১১. মুসনাদে ইমাম আহমাদ।
১২. আবু দাউদ, অধ্যায়ঃ কিতাবুল মাহদী, সহীহুল জামে আস্ সাগীর, হাদীছ নং- ৬৬১২।
১৩. আবু দাউদ ও ইবনে মাজাহ।
১৪. আল-মানারুল মুনীফ, (পৃষ্ঠা নং-১৪৭-১৪৮)।
১৫. সিলসিলায়ে সাহীহা, হাদীছ নং- ৭১১।
১৬. আখবারুল মাহদী, আবু নুয়াইম।
১৭. মুসনাদে আহমাদ, সহীহুল জামেউস্ সাগীর, হাদীছ নং- ৫১৮০।
১৮. মুসলিম, অধ্যায়ঃ কিতাবুল ফিতান।
১৯. সহীহুল জামে আস্-সাগীর, হাদীছ নং- ৫৭৯৬।
২০. الرد على من كذب بالأحاديث الصحيحة الواردة فى المهدى
২১. বুখারী, অধ্যায়ঃ আহাদীছুল আম্বীয়া।
২২. সহীহুল জামেউ, হাদীছ নং- ৬৬১২।
২৩. মাজমাউযযাওয়ায়েদ (৭/৩১৩-৩১৪)।
২৪. تهذيب الكمال فى أسماء الرجال (৩ /১১৯৪)
২৫. نظم المتناثر من الحديث المتواتر (ص ১৪৫-১৪৬)
২৬. الإذاعة لما كان و ما يكون بين يدى الساعة ص ১১২
২৭. আশরাতুস্ সাআ, ডঃ আব্দুল্লাহ সুলায়মান আল-গুফায়লী, পৃষ্ঠা নং- ৮৭

ছবি: সংগৃহীত।

মন্তব্য ১৫ টি রেটিং +৬/-০

মন্তব্য (১৫) মন্তব্য লিখুন

১| ০৭ ই নভেম্বর, ২০১৯ দুপুর ১২:১৭

স্বপ্নবাজ সৌরভ বলেছেন: আরো একটা অসাধারণ পোস্ট। ভালো থাকেবন।

০৭ ই নভেম্বর, ২০১৯ বিকাল ৪:০৪

নতুন নকিব বলেছেন:



প্রথম মন্তব্যে অভিনন্দন। প্রতিটি শুভ পদক্ষেপে আপনার আন্তরিক সাহচর্য প্রেরণা যোগায়। শুভ হোক আপনার পথচলা।

আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতাআ'লা সবসময় তাঁর কল্যানের বারিধারায় সিক্ত করে রাখুন আপনাকে।

২| ০৭ ই নভেম্বর, ২০১৯ দুপুর ১২:৩১

অগ্নিবেশ বলেছেন: বাল হবে

০৭ ই নভেম্বর, ২০১৯ দুপুর ১২:৫৭

নতুন নকিব বলেছেন:



বিতর্ক করার ইচ্ছে নেই। কিয়ামত অবশ্যম্ভবী। আজ থেকে ১০০ বছর পূর্বে আপনি কোথায় ছিলেন- একটু চিন্তা করলেই পুনরুত্থান দিবসের বাস্তবতা অনুধাবন করতে সু্বিধা হবে।

৩| ০৭ ই নভেম্বর, ২০১৯ দুপুর ১২:৪৩

মোহামমদ কামরুজজামান বলেছেন:
আমাদের উচিত ধর্মের বিধি অনুসরণ করার চেষ্টা করা, যাতে আমরা পরবর্তী জীবনে সাফল্য পেতে পারি ।

আল্লাহ আমাদের সকলকে পরের জীবনের জন্য ভালো জিনিস সংগ্রহ করার তওফিক দান করুন ।
প্রয়োজনীয় এবং সহায়ক পোস্ট যদি আমরা ধার্মিক হই +++

০৭ ই নভেম্বর, ২০১৯ বিকাল ৪:০৭

নতুন নকিব বলেছেন:



এত সুন্দর মন্তব্যে সত্যি অভিভূত! অভিনন্দন আপনাকে।

আমাদের উচিত ধর্মের বিধি অনুসরণ করার চেষ্টা করা, যাতে আমরা পরবর্তী জীবনে সাফল্য পেতে পারি ।

আল্লাহ আমাদের সকলকে পরের জীবনের জন্য ভালো জিনিস সংগ্রহ করার তওফিক দান করুন ।


খুবই বাস্তব কথা বলেছেন। আল্লাহ পাক আপনার প্রার্থনা আমাদের সকলের জন্য কবুল করুন। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতাআ'লা আপনার সামগ্রিক জীবনে কল্যান দান করুন।

৪| ০৭ ই নভেম্বর, ২০১৯ দুপুর ১২:৫৬

ঠাকুরমাহমুদ বলেছেন:





---------------------------------- কিছু প্রশ্ন, দয়া করে উত্তরে দেবেন----------------------------------

১. ইমাম মাহদীর আত্মপ্রকাশ
২. দাজ্জালের আবিভার্ব

নতুন নকিব ভাই,
ইমাম মাহদীর আত্মপ্রকাশ কি বাংলাদেশে হবে?
কারণ আমি নিজে বাংলাদেশে ১০-১২ জন ইমাম মাহদীর দেখা পেয়েছি যারা নিজেকে ইমাম মাহদী বলে দাবী করেছেন, তারমধ্য ০৫-০৬ জন ইমাম মাহদী বার্ধক্য জনিত কারণে ও অধিক ভোজনে মারাও গেছেন। আপনি চাইলে বাদবাকী বেঁচে থাকা ইমাম মাহদীদের ঠিকানা আমি দিতে পারি।

দাজ্জালের আবিভার্ব কি বাংলাদেশে হবে? দাজ্জালের বই লিফলেট ঢাকা সহ সমগ্র বাংলাদেশে বিনামূল্যে বিতরণ হয় ভেতরে কি লেখা আছে আমি কখনো পড়িনি। যারা দাজ্জালের বই লিফলেট বিতরণ করেন তাদের হাতের নিশানা খুব ভালো!
শাহবাগ শেরাটন মোড়ে (বর্তমান ইন্টারকন) ট্রাফিক জ্যাম ছাড়ার সাথে সাথে চলন্ত গাড়ীতে আমার জানালা বরাবর বই ছোড়ে মেরেছে দাজ্জালের এক বাহক! এই দাজ্জালের কারণে একটুর জন্য আমি এক্সিডেন্ট করিনি - আমার সামনে সিএনজি সিলিন্ডার বোমা নিয়ে চলমান ছিলো। কে ভয়ঙ্কর দাজ্জাল নাকি দাজ্জালের বই ছোড়ে মারা সেই দাজ্জালের বাহক?

৫| ০৭ ই নভেম্বর, ২০১৯ দুপুর ১:২১

সোনালী ডানার চিল বলেছেন: দারুন তথ্যবহুল পোষ্ট।
ভাবনার খোরাক এনে দেয়।
তাহলে কি আমরা শেষ সময়ে চলে এসেছি!!

৬| ০৭ ই নভেম্বর, ২০১৯ দুপুর ২:২৩

নতুন বলেছেন: ইমাম মাহদীর আত্মপ্রকাশ কি বাংলাদেশে হবে?
কারণ আমি নিজে বাংলাদেশে ১০-১২ জন ইমাম মাহদীর দেখা পেয়েছি যারা নিজেকে ইমাম মাহদী বলে দাবী করেছেন, তারমধ্য ০৫-০৬ জন ইমাম মাহদী বার্ধক্য জনিত কারণে ও অধিক ভোজনে মারাও গেছেন। আপনি চাইলে বাদবাকী বেঁচে থাকা ইমাম মাহদীদের ঠিকানা আমি দিতে পারি।


দুনিয়াতে কয়েক শত ইমাম মাহাদী দাবি করেছে মানুষ...

এটা একটা গুজব. তার কিছুই না।

৭| ০৭ ই নভেম্বর, ২০১৯ বিকাল ৩:০২

মেটালক্সাইড বলেছেন: প্রশংসা একমাত্র আল্লাহ সুবহানুতায়ালার জন্য। লেখকের জন্য জাযাকাল্লাহু খাইরান। লেখক যদি তথ্যগুলোর রেফারেন্স পাশে উল্লেখ করে দিতেন তাহলে ইনশায়াল্লাহ আরো ভাল হতো। এই প্রবন্ধের পরিশেষটায় একটি তথ্য থাকলে পুরো লেখাটি এককথায় নান্দনিক হয়ে যেত। সেটি হল, কিয়ামত সংঘটিত হয়ে যাবার পর যখন কোন কিছুর অস্তিত্ব থাকবে না এমনকি ইস্রাফিল আ ও বেচে থাকবেন না শুধু থাকবেন মহান সত্তা আল্লাহ আজ্জাওয়াজ্জাল। তিনি তখন একটি কথাই বলবেন, কেউ কি আছ যে আমার সমকক্ষ, অহ্ংকারী, আমার চেয়ে ক্ষমতাবান। তিনিই আদি তিনিই অনন্ত। এরপর শুরু হবে পুনরায় সৃষ্টির প্রক্রিয়া, যে জগতে মানুষ দেখতে পাবে সেই অদৃশ্য জগতকে ,যে জগতকে সে অহংকারবশে তুচ্ছতাচ্ছিল্য করে ছিল স্বল্পদিনের পৃথিবী নামক গ্রহে। সেদিন কোন কিছুর বিনিময়ে কেউ আর কোন কিছু সংশোধনের সুযোগ পাবে না।
মহান আল্লাহ সুবহানুতায়ালা এই লেখা যারা পড়ছেন বা পড়বেন তাদের সবাইকে হিদায়াত করুন। তিনি যাকে ইচ্ছা করবেন, সে বিশ্বাস করবে। এই লেখার তথ্যগুলো যারা অবিশ্বাস বা তাচ্ছিল্য করবেন শুধু একটি কথাই বলব আপনাদের যে, আল্লাহ সুবহানুতায়ালা ইচ্ছা করেছেন বলেই চিরসত্য কথাগুলো আপনারা অবিশ্বাস করছেন। ইনশায়াল্লাহ আমার মত কেউ চাইনা যে, আমরা কেউ আপনাদের মত অবিশ্বাসী হতভাগার দলে পড়ে মহাদুর্দিনের সেই সময়ে পরিতাপ করব।
আল্লাহুম্মা মাগফিরলানা

৮| ০৭ ই নভেম্বর, ২০১৯ বিকাল ৩:১০

রাজীব নুর বলেছেন: কেয়ামতকে ভয় পাওয়ার কিছু নাই। আমি হাসিমুখে কেয়ামতের জন্য বসে আছি।

৯| ০৭ ই নভেম্বর, ২০১৯ বিকাল ৩:২৪

হাসান কালবৈশাখী বলেছেন:
বিজ্ঞানীরা হিসেব করেছেন, হাজার বছরে, এমনকি লাখ বছরেও পৃথিবী ধ্বংশ হওয়ার কথা না।
সুর্য নিভে গেলে বা ফুলে গেলে পৃথিবী ধ্বংশ হবে, সেটাও লাখ বছরেও সম্ভাবনা নেই

মানব শৃষ্ট কারনে (কার্বন এমিশন কারনে গ্লোবাল ওয়ার্মিং) পৃথিবী ধ্বংশ হবে না তবে ক্ষতিগ্রস্থ হবে।
খুব ধিরে ধিরে পানির উচ্চতা বেড়ে নিম্নাঞ্চলে অনেকে গৃহহীন হবে। উল্কা বা ধুমকেতুর সাথে সংঘর্ষের সম্ভাবনা খুব কম, হলেও পৃথিবী ধ্বংশ হবে না, সামান্য ক্ষতিগ্রস্থ হবে।

১০| ০৭ ই নভেম্বর, ২০১৯ বিকাল ৪:৫৪

শাহাদাৎ হোসাইন (সত্যের ছায়া) বলেছেন: কিয়ামতের আলামত
১। ভিক্ষুকের টাকা ছিনতাই হবে।
আর কিছু...................

১১| ০৭ ই নভেম্বর, ২০১৯ রাত ৯:৪৪

নাহার জেনি বলেছেন: ইতিমধ্যে কেয়ামতের অনেক আলামত দেখা যাচ্ছে। জানিনা আরো কি কি হবে.. আল্লাহ্‌ ভাল জানে।

১২| ১৬ ই নভেম্বর, ২০১৯ রাত ১০:৪৬

মুফীদ হাসান বলেছেন: আসসালামু আলাইকুম নকিব ভাই!
আল্লাহপাক আপনার সবরের মধ্যে বরকত দান করুক। আমিন...

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.