নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

মানুষের গল্প শুনতে ভালো লাগে, কারন আমার নিজের কোন গল্প নেই।

মেরেলি নেয়ামুল

মানুষের গল্প শুনতে ভালো লাগে। কারন আমার নিজের কোন গল্প নেই।

মেরেলি নেয়ামুল › বিস্তারিত পোস্টঃ

মায়ের জন্য

২১ শে মে, ২০১৩ রাত ১০:২৬

বাবার আদর কি জিনিস জানি না !!!!!



আজ মা দিবস । মা'কে ভালোবাসতে দিন লাগে না তবুও একটা দিন একটু বেশী করে মা কে ভালোবাসার আইডিয়া টা খারাপ না।



আজ তাই ফেসবুকে মা কে নিয়ে স্ট্যাটাসের ছড়াছড়ি, হয়তো অনেকে মা'র জন্য টুকটাক গিফট কিনবে । বর্তমানে বিশ্বের প্রায় ৪৬টি দেশে প্রতিবছর মা দিবস পালন করা হয়।



অন্য বিশেষ দিনগুলোর চেয়ে এ দিনটিতে সবচেয়ে বেশি ফোন কল হয়। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ভিআইপি কমিউনিকেশন এর জরিপে দেখা গেছে, এ দিনটিতে নববর্ষের চেয়ে ৮ শতাংশ, ভালোবাসা দিবসের চেয়ে ১১ শতাংশ এবং হ্যালোয়েনের চেয়ে ৬২ শতাংশ বেশি ফোন কল হয়।



ইংরেজ কবি রবার্ট ব্রাউনিং বলেছেন, মাতৃত্বেই সকল মায়া-মমতা ও ভালোবাসার শুরু এবং শেষ। কথিত আছে, ব্রিটেনেই প্রথম শুরু হয় মা দিবস পালনের রেওয়াজ। তবে মা দিবস উদযাপনের সূত্রপাত ঘটায় মার্কিন সমাজকর্মী জুলিয়া ওয়ার্টস। প্রতিবছর মে মাসের চতুর্থ রোববারকে মাদারিং সানডে হিসাবে পালন করা হতো ব্রিটেনে। এটা ছিল সতের শতকের কথা। মায়ের সঙ্গে সময় দেয়া ও মায়ের জন্য উপহার কেনা ছিল দিনটির কর্মসূচিতে। এরপর আমেরিকার পশ্চিম ভার্জিনিয়াতে প্রথম মা দিবস পালন করা হয় ১৮৫৮ সালে। জুনের ২ তারিখকে তারা বেছে নিয়েছিল মা দিবস হিসাবে। আমেরিকার প্রেসিডেন্ট উড্রো উহলসন সর্বপ্রথম মা দিবসকে সরকারি ছুটির দিন হিসাবে ঘোষণা করেন। ১৯১৪ সালের ৮ মে মার্কিন কংগ্রেসে মে মাসের দ্বিতীয় রোববারকে ‘মা’ দিবস হিসাবে ঘোষণা করা হয়। সেই থেকে এই দিনে আন্তর্জাতিকভাবে পালিত হচ্ছে মা দিবস।



শীর্ষেন্দুর পার্থিব উপন্যাসে মা কে নিয়ে একটা লেখা পড়েছিলাম -মানুষ যখন ভয় পায়, যখন বিপদে পড়ে, যখন মনে হয় একা , তখন ভয়ার্ত শিশুর মত মা'কেই আকড়ে ধরে। সত্যি তাই আমার মা আমার জীবনের ঘটে যাওয়া কঠিন কোন অপরাধের পরেও আমাকে বকা দেয় নাই । সব কিছু কেমন গুছিয়ে বলেছে বুজিয়ে বলেছে । আমার মা , আমার কোন কঠিন বিপদেও আমাকে ফেলে চলে যায় নাই । সান্তনা দিয়ে বুকে টেনে নিয়েছে ।



ম্যাক্সিম গোর্কি (১৮৬৮-১৯৩৬); একজন রাশিয়ান রাইটার। "মা" উপন্যাসের জন্য তিনি জগতবিখ্যাত। যদিও মা ছেলের সম্পর্কই উপন্যাসটির মূলবিষয়, তথাপি একটি সমাজতান্ত্রিক বিপ্লবের জন্য তৈরি হতে থাকা রাশিয়ার রাজনীতিক পরিস্থিতি বস্তুনিষ্ঠভাবে উপস্থাপন করার কারণে এই ঔপন্যাসিক বিশ্বসাহিত্যে বিশেষ স্থান ও প্রশংসার পাবার দাবী রাখেন; যা তিনি ন্যায্যভাবেই পেয়েছেন।"মা" উপন্যাসটির সামাজিক মূল্য এক কথায় তুলনাহীন। পৃথিবীর প্রথম সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্র : সোভিয়েত ইউনিয়ন; অগণিত 'মা'য়ের স্যাক্রিফাইসের বিনিময়ে.........



আজাদ ছিল তাঁর মায়ের একমাত্র সন্তান। আজাদের বাবা দ্বিতীয় বিয়ে করায় বালক আজাদকে নিয়ে তার মা স্বামীর গৃহ-অর্থ-বিত্ত ত্যাগ করে আলাদা হয়ে যান। মা বড় কষ্ট করে ছেলেকে লেকাপড়া করান। আজাদ এমএ পাস করে। এই সময় দেশে শুরু হয় মুক্তিযুদ্ধ। আজাদের বন্ধুরা যোগ দেয় ঢাকার আরবান গেরিলা দলে। আজাদ মাকে বলে, আমিও যুদ্ধে যাব। মা তাকে অনুমতি দেন। ছেলে যুদ্ধে যায়। ১৯৭১ সালের ৩০ আগস্ট একরাতে ঢাকার অনেক ক’টা মুক্তিযোদ্ধা-নিবাসে হামলা চালায় পাকিস্তানী সৈন্যরা, আরো অনেকের সঙ্গে ধরা পড়ে রুমী, বদি, আলতাফ মাহমুদ, জুয়েল এবং আজাদ। আজাদের ওপরে পাকিস্তানীরা প্রচন্ড অত্যাচার চালিয়ে কথা বের করতে পারে না। তখন তার মাকে বলা হয়, ছেলে যদি সবার নাম-ধাম ইত্যাদি বলে দেয়, তাকে ছেড়ে দেওয়া হবে। আজাদ বলে, মা দুদিন ভাত খাই না, ভাত নিয়ে এসো। মা পরের দিন ভাত নিয়ে হাজির হন চন্দিশিবিরে,



কিন্তু ছেলের দেখা আর মেলে না। আর কোনোদিনও ছেলে তাঁর ফিরে আসে নাই আর এই মা আর কোনোদিনও জীবনে ভাত খান নাই। যুদ্ধের ১৪ বছর পরে মা মারা যান, নিঃস্ব, রিক্ত-বেশে। মুক্তিযোদ্ধারা তাঁকে কবরে শায়িত করলে আকাশ থেকে ঝিরঝির করে ঝরতে থাকে বৃষ্টি।



মুক্তিযোদ্ধাদের কাছে এই কাহিনীর সন্ধান পেয়ে আনিসুল হক বহুজনের সাক্ষাৎকার নিয়ে, বহু দলিল দস্তবেজ ঘেঁটে রচনা করেছেন অসামন্য এক উপন্যাস, জানাচ্ছেন এক অসমসাহসিকা মায়ের অবিশ্বাস্য কাহিনী। যতদিন বাংলাদেশ থাকবে, যতদিন স্বাধীনতা থাকবে, এই অমর মাকে ততদিন শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করতে হবে আমাদের।



জানি মায়ের ঋণ আমি আমার শরীরের শেষ রক্ত বিন্দু দিয়েও পরিশোধ করেতে পারবো না ।





তাই একদিনের ভালোবাসায় আমি বিশ্বাসী নই । কিছু করতে চাই মায়ের জন্য । মায়ের হাসির জন্য , প্রতিটা দিন । প্রতিটা মুহূর্ত ।

(কিছু তথ্য ইন্টারনেট অবলম্বনে)

মন্তব্য ০ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (০) মন্তব্য লিখুন

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.