নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

জয় বাংলা

নিতাই পণ্ডিত

জয় বাংলা!

নিতাই পণ্ডিত › বিস্তারিত পোস্টঃ

\'ওড়না\' রম্য

১৬ ই জানুয়ারি, ২০১৭ ভোর ৬:৫৫

পোশাক হিসেবে 'ওড়নার' ব্যবহার বাংলাদেশে বহু যুগ ধরে সমাদৃত। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে মোটামুটি অধিকাংশ নারীরাই এই পোশাকের ব্যবহার করে থাকেন।

যদিও ইসলাম ধর্ম শালীনতার অংশ হিসেবে বিশেষ ধরনের পোশাক কে মুসলিম নারীদের জন্য বাধ্যতামূলক করে দিয়েছে। অনেক মডারেট মুসলিম নারী সেই পোশাক পরিধান করতে অস্বস্তিবোধ করলেও ওড়না পড়তে তারা অভ্যস্ত কোন ধরনের অভিযোগ ছাড়াই। একধরনের পছন্দ ও বলা যায়।

বাংলাদেশে মুসলিম সম্প্রদায় ছাড়াও অন্য ধর্মাবলম্বী নারীরাদেরকেও এই পোশাকের বহুল ব্যবহার করতে দেখা যায়। এবং তারা সম্ভবত কোন ধরনের নিজস্ব ধর্মীয় নির্দেশনা এবং প্রেরণা ছাড়াই এই পোশাক পরে থাকেন, অন্য ধর্মের নির্দেশনা মানার তো প্রশ্নই আসেনা।

তাহলে কেন তারা এটা পরিধান করে থাকেন??

'শালীনতা' এমন একটা শব্দ যেটা কমন জেন্ডারের মত কাজ করে। কি পুরুষ, কি নারী?? যদিও পশুপাখিদের ক্ষেত্রে এই ব্যাপারে কিছুটা শিথিলতা রয়েছে। আর যদি কেউ নিজেকে মানুষ হিসেবে মানতে অপারগ হন তাহলে তার জন্য পশুপাখির অপশানটা খোলা থাকে।

নারী-পুরুষ (তিনি যে ধর্মেরই হোন না কেন) উভয়ের শরীরের এমন কিছু জায়গা থাকে যেখানে শালীনতা বজায় রাখাটা জরুরী যাতে নৈতিকতা আর সামাজিকতার ন্যূনতম প্রতিফলন প্রকাশ পায়। আমরা অনেকে ধর্মীয় নির্দেশনা না মানলেও সামাজিকতার এই রুচিটি মেনে চলে এসছি বহুদিন ধরে।

এক কথায় বলা যায়, 'ওড়না' কোনপ্রকারেই ধর্মীয়, গোষ্ঠীয় কিংবা সাম্প্রদায়িক পোশাক হতে পারেনা। এটি বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে সব ধর্ম-গোষ্ঠীর মানুষ শালীনতার অংশ হিসেবে পরে থাকেন।

২.
অনেক বিজ্ঞ বিশ্লেষক, সূশীলরা এই 'ওড়না'কে মুসলিম ভাবধারার পোশাক হিসেবে আখ্যা দিয়ে, পাঠ্যবইয়ে সাম্প্রদায়িকতার অনুপ্রবেশ বিষয়ক নানা আলোচনা সমালোচনার মুখরোচক বুলি ইতিমধ্যে দিয়েছেন শুধু ' ও- তে ওড়না চাই' কে কেন্দ্র করে। অথচ ওড়না কোনভাবেই সাম্প্রদায়িক পোশাক হতে পারেনা, যেটা আগেই বলা হয়েছে।

কিন্তু যেসব বিষয় আসলেই সাম্প্রদায়িকতার ইঙ্গিত বহন করে তেনারা সেসব বিষয়গুলি সুকৌশলে এড়িয়ে গেছেন(খুব সম্ভবত নিজেরাও সেগুলির চর্চা চান বলে)।

র-তে রথ টানি। 'রথ' হিন্দু সম্প্রদায়ের নিজস্ব ধর্মীয় চর্চা।এতে মুসলিম কিংবা অন্য ধর্ম সম্প্রদায়ের কোন ধরনের ধর্মীয় সসম্পৃক্ততা অথবা সমর্থন নেই।

অন্নদাশঙ্কর রায়ের 'নেমন্তন্ম' কবিতায় 'প্রসাদ ভোজন'
শব্দের ব্যবহার হয়েছে। বিভিন্ন দেব-দেবতার নামে পূজো এবং তাদের নামে উৎসর্গকৃত খাবার 'প্রসাদ' নামে পরিচিত যেটা পুজারীরা এবং দেবতার অনুগ্রহ কামনাকারীরা আহার করে থাকে। এটা হিন্দুয়ানী ঐতিহ্য, রীতিনীতির ধারক ও বাহক যেখানেও মুসলিম কিংবা অন্য সম্প্রদায়ের ন্যূনতম ধর্মীয় সংশ্লিষ্টতা নেই।

আর আমাদের জনৈক বিদ্ধানদের কাছে এগুলো হয়ে যায় অসাম্প্রদায়িক আর 'ওড়না' হয়ে যায় সাম্প্রদায়িক?????

খালি চোখে বাস্তবিকভাবে যেটা দেখা যাচ্ছে, কতিপয় সুশীলরা একটি নির্দিষ্ট ধর্ম কে পেট্রনাইজ করছেন এবং ইসলাম কে অন্য ধর্মের মুখোমুখি দঁাড় করিয়ে দিচ্ছেন। যেটা এতকাল কখনোই পরিলক্ষিত হয় নি। সাম্প্রদায়িকতার চরম উদাহরণ তো উনারাই, যার এসব অসাম্প্রদায়িকতার বুলি কপচায়।।

অনতিবিলম্বে জাতীয়ভাবে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে 'সুশিলতা' এবং 'অসাম্প্রদায়িকতার' সংজ্ঞা এবং উদাহরণ ঠিক করা হোক। মুসলিমরা এককভাবে সাম্প্রদায়িকতার ভার বহন করাটা রাষ্ট্রীয় বৈষম্য।

মন্তব্য ১০ টি রেটিং +২/-০

মন্তব্য (১০) মন্তব্য লিখুন

১| ১৬ ই জানুয়ারি, ২০১৭ সকাল ৭:৩০

মুন্সি পালোয়ান বলেছেন: ছোট্ট শিশুর গায়ে ওড়না তারাই দেখতে চায় যারা শিশুদের যৌন নির্যাতন করে।

২| ১৬ ই জানুয়ারি, ২০১৭ সকাল ৭:৫৬

একজন সত্যিকার হিমু বলেছেন: হুমায়ূন আজাদের একটা কথা মনে পড়ে যায়-
সবকিছু নষ্টদের অধিকারে চলে যাবে...

৩| ১৬ ই জানুয়ারি, ২০১৭ সকাল ৮:২১

উন্মুক্ত অাঙ্গিনা বলেছেন: ভালো বলছেন

৪| ১৬ ই জানুয়ারি, ২০১৭ সকাল ৮:৪৮

ডঃ এম এ আলী বলেছেন: ভাল লাগল লিখাটি । যারা বুঝবার তারা বুঝলে হয় ।
শুভেচ্ছা রইল

৫| ১৬ ই জানুয়ারি, ২০১৭ সকাল ৮:৫৯

গিরি গোহা বলেছেন: অনেক চমৎকান।

অাজ বাংলার সাধারণ জনতা নষ্ট রাজনীতির স্বিকার। বিভিন্ন ভাবে ক্ষতি করছে অাবার সেটা নিয়ে রাজনীতি করছে।

গাছও কাটছে, গাছের গোড়াই পানিও ঢালছে।

৬| ১৬ ই জানুয়ারি, ২০১৭ সকাল ৯:৩৫

শাহাদাৎ হোসাইন (সত্যের ছায়া) বলেছেন: আজ জয় বাংলা স্লোগানের পরিবর্তে নষ্টাদের মুখ থেকে ওড়না ওড়না স্লোগান বের হচ্ছে।

ইহা কলি যুগের লক্ষণ!

৭| ১৬ ই জানুয়ারি, ২০১৭ সকাল ৯:৫১

সামিউল ইসলাম বাবু বলেছেন: nice post .

৮| ১৬ ই জানুয়ারি, ২০১৭ সকাল ৯:৫৫

মোস্তফা সোহেল বলেছেন: খুব ভাল লিখেছেন।

৯| ১৬ ই জানুয়ারি, ২০১৭ দুপুর ১:০৩

সুদিন বলেছেন: ড়না কোনমতেই সাম্প্রদায়িকতার ইঙ্গিত বহন করে না, এমনকি নির্দিষ্ট কোন ধর্মকেও ফলাও করে নি। এটা বাঙ্গালি তথা এই অঞ্চলেরই নারীদের আবহমান কালের অন্যতম পোষাক। যারা এই ধরনের বিষয়কে অতি রঞ্জিত করে প্রচার করছেন তারা আসলে- চরম সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা বাধানোর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত অসম্প্রদায়িক নামক চুশীল গোষ্ঠী।

১০| ১৬ ই জানুয়ারি, ২০১৭ দুপুর ১:৪৪

কবীর বলেছেন: দারুন লিখেছেন B-)

শুভ ব্লগিং

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.