নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

আমি সাদামাটা মানুষ। ভালবাসার কাঙ্গাল। অল্পতেই তুষ্ট। সবাই আমাকে ঠকায়, তবুও শুরুতে সবাইকে সৎ ভাবি। ভেবেই নেই, এই মানুষটা হয়ত ঠকাবেনা। তারপরেও দিনশেষে আমি আমার মত...

অপলক

তত্ত্ব, তথ্য ও অনুভূতি ভাগাভাগি করা আমার অভিপ্রায়। কারও যদি ইচ্ছে হয় তবে যে কেউ আমার এই ব্লগের যে কোন কিছু নিজের সংগ্রহে রাখতে পারে।

অপলক › বিস্তারিত পোস্টঃ

আগের জন ভারতের কথায় ধ্বংসে নেমেছিল, এখনকার উনি চীনের কথায়

০৫ ই নভেম্বর, ২০২৬ রাত ১০:২৮



কমবেশি সবাই জানি, ২০১০ থেকেই দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার ধস নামতে শুরু করে। যে কোন জাতিকে পিছিয়ে দিতে আগে তার শিক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংস করতে হয়। বাংলাদেশীদের বুদ্ধিমত্তার সাথে চ্যালেন্জ করা ভারতের জন্যে কঠিন ছিল। তাই অদৃশ্য কিন্তু সূচারূ পরিকল্পনা হিসেবে বুবু জানের হাত ধরে শিক্ষা ধ্বংস করতে নেমেছিল। শিক্ষা মন্ত্রী নাহিদ, দিপুমনি বা ড. জাফর ইকবাল ছিল যাদুর কাঠি। পুরো সিস্টেমকে উলোট পালট করে ফেলেছিল। গ্রেস দিয়ে পাশ করানো হত। স্কুল, কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গড় যোগ্যতা নিয়েও শিক্ষার্থী বের হত না। সার্টিফিকেট সর্বস্ব যোগ্যতা।

২০১৮ সালে খুলনার ৬টি স্কুলে সরাসরি ভারতীয় পাঠ্যপুস্তক পড়ানো হত। পত্রিকায় এসেছিল, তদন্ত হয়েছিল দায় সারা। কিন্তু কোন শাস্তি হয়নি। এ তো গেল বুবুর সময়ের কথা। অঘোষিত সরকারী সিদ্ধান্ত। আর এখন একই পথে হাটছেন ভাইজান। তবে লুকোচুরি ছাড়া। একদম বৈধ ভাবে, রাষ্ট্রীয় চুক্তির মাধ্যমে, চীনের সাথে।

আজ ০৫/১১/২০২৬, চীনের সাথে শিক্ষা চুক্তি হল। চীন ৮টি বিভাগীয় শহর + কক্সবাজারে শিক্ষা হাব স্থাপন করবে। নিজেরা সেটা নিয়ন্ত্রন করবে। বাহ্যিক ভাবে উদ্দেশ্য মহৎ কিন্তু সুরক্ষা ও সার্বভৌমত্তের প্রশ্নে অবশ্যই ভাল কিছু না। যেখানে ভারত তিস্তা প্রকল্পে বা সীমান্তবর্তী যে কোন কাজেই চীনের অংশগ্রহন কে বাধা দিচ্ছিল, যে কারনে বাংলাদেশ বরাবরই সরে আসছিল। এবার চীন ভোল পাল্টিয়ে শিক্ষা হাব এবং দুটি হাসপাতাল করার অযুহাতে নমনীভাবে ঢুকে পড়ল দীর্ঘমেয়াদী চুক্তির অধীনে। দাদা বাবু জানলেও এখন আর ভারতের সুরক্ষার অযুহাত দিতে পারবে না। কারন চীনের সাথে বাংলাদেশের চুক্তিটা হল শিক্ষা আর রুগীর সেবা। চালটা দারুন, তাই না?

মিডিয়ায় ইতোমধ্যে এসেছে, শুধু কক্সবাজারেই ৩০০+ চীনা ও তাইওয়ানিজ নাগরিকের টিম গোপনে কাজ করছে। অজামিন যোগ্য ৬জন গ্রেফতারের সাথে ১,৯৩৮টি আইফোন, প্রায় ৪০টি কম্পিউটারসহ বিভিন্ন আধুনিক স্পাইং সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে। তার সাথে উত্তরা, টেকপাড়া, শনির আখড়া সহ নানা জায়গায় চীনা নাগরিকরা লাইভ স্ট্রিমিং করে। তাদের যন্ত্রনায় সংশ্লিষ্ট থানায় স্থানীয়দের জিডিও আছে।

ঢাকায় ও গাজীপুরে ৬টি আবাসিক বাসা থেকে হোম-বেসড রিমোট ওয়ার্ক এর নামে অর্থ প্রাচার, মাদক বেঁচাকেনা এবং ডিজিটাল জুয়া ও সাইবার স্ক্যামিং করছিল। এ সবই এই সরকারের আমলে ঘটেছে। গেল সপ্তাহে ২জন চাইনিজ ১২ কেজি সোনা সহ এয়ারপোর্টে ধরা পড়েছে। শুধু যে ঢাকায় এরা ছড়িয়ে আছে তা না, কিশোরগঞ্জ সহ ৩টি জেলায়, চাইনিজরা অজানা একটি ডিভাইজ বাংলাদেশীদের দিয়ে গ্রামে গঞ্জে বা শহরের রাস্তার পাশে স্থাপন করছে। একটি টিভিতে নিউজে রিপোর্ট আসায়, তার তদন্ত চলছে।

এই যদি অবস্থা হয়, তাহলে সামনে আরও ভয়াবহ অবস্থা অপেক্ষা করছে আমার অনুমান।


এখন দেখুন, চীনের সাথে শিক্ষা চুক্তিতে কি কি আছে:

1. চীনা মানের ডিপ্লোমা ভোকেশনাল ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠা।
2. স্মার্ট শ্রেণিকক্ষ (Smart Classroom) নির্মাণ।
3. দেশব্যাপী চীনা ভাষা (Mandarin) শিক্ষা সম্প্রসারণ।
4. কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা (TVET) সংস্কার ও আধুনিকায়ন।
5. শিক্ষক ও শিক্ষার্থী বিনিময় কর্মসূচি।
6. দ্বোভাষিক পাঠ্যপুস্তক ও শিক্ষা উপকরণ তৈরি।
7. বৃত্তিমূলক শিক্ষা গবেষণা।
8. শিল্প ও শিক্ষার সংহতি (Industry-education integration)।
9. কারিগরি শিক্ষা প্রশাসকদের জন্য বিশেষ প্রশিক্ষণ প্রোগ্রাম।
10. কক্সবাজার সহো ৮টি বিভাগীয় শহরে চাইনিজ এডুকেশাল হাব। (বিদ্র: এর মধ্যে ৭টি শহরেই এয়ারপোর্ট আছে। প্রয়োজনে দ্রুত পালানোর সুযোগ)

ভাবতে্ই ভাল লাগছে। রুগীরা CMC তে আর দৌড়াবে না, চীনা হাসপাতালেই সেবা পাবে। রাস্তায় রাস্তায় বাচ্চারা চুং চাং করে ভিনদেশী ভাষায় কথা বলবে। ব্রিটিশদের ইংরেজী শেখার প্রয়োজন কমে আসবে।

দেশ হয়ত সামনে হাইপার-জাম্প দেবে। কারন আমাদের বাচ্চারা Mandarin ভাষী হবে, কারিগরি প্রশিক্ষণ প্রাপ্তরা চাইনিজ ইলেকট্রনিক্স তৈরী করবে, ড্রোন তৈরী করবে, রোবট তৈরী করবে, তখন বুয়েট রুয়েট কুয়েট না হলেও চলবে। মোটা দাগের কথা হল, সেন্টমার্টিন, না নিতে পারলেও সমস্যা নেই আর। অন্যদিকে তিস্তার কাজ দেরিতে শুরু হলেও সমস্যা নেই। কাজ এগোচ্ছে ভ্ন্নি পন্থায়। চীনের পরিকল্পনা সব সময়ই চমৎকার হয়।

হয়ত এর পর প্রস্তাব আসবে, চীনা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার, মেরিন বা বায়োএনালাইটিক রিসার্স ইনসটিটিউটের, অথবা উহানের মত ভারোলজি ল্যাব প্রতিষ্ঠার। তারপর ... হয়ত একটি দুর্ঘটনা বা আন্তর্জাতিক চাপ।

হয়ত'র তালিকা আর বড় না করি। বাকি থাক...




মন্তব্য ২ টি রেটিং +১/-০

মন্তব্য (২) মন্তব্য লিখুন

১| ০৬ ই নভেম্বর, ২০২৬ রাত ২:০৯

সৈয়দ কুতুব বলেছেন: শেখ হাসিনার আমলে বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থা ধ্বংসের দিকে গিয়েছিল, সেটা সত্য। এর জন্য ভারত কীভাবে দায়ী, সেটা বুঝতে পারলাম না। শিক্ষাব্যবস্থা ধ্বংসের দায় যদি কাউকে দিতে হয়, তাহলে আমার মতে সবচেয়ে বেশি দায়ী জাফর ইকবাল। তাঁর প্রভাবেই সৃজনশীল শিক্ষাক্রমের নামে যে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালানো হয়েছে, তা শেষ পর্যন্ত একটি বিপর্যয় ঘটিয়েছে ।

তবে শেখ হাসিনা যদি পুরোপুরি ভারতের পরিকল্পনা অনুযায়ী দেশ চালাতেন, তাহলে তিনি ৩০ হাজারের বেশি প্রাথমিক বিদ্যালয় সরকারি করতেন না, এত এত বেসরকারি কলেজকে এমপিওভুক্ত করতেন না, এমনকি বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জাতীয়করণের উদ্যোগও নিতেন না। অবশ্য এসব উদ্যোগের পেছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য ছিল, সেটা অস্বীকার করার সুযোগ নেই।

আওয়ামী লীগ তৃণমূল পর্যন্ত নিজেদের রাজনৈতিক সমর্থন ছড়িয়ে দিতে চেয়েছে। স্থানীয় পর্যায়ে নিজেদের লোকজনের চাকরি হয়েছে, আওয়ামী লীগ ঘরানার ঠিকাদাররা ভবন নির্মাণসহ বিভিন্ন সরকারি কাজ পেয়েছেন। এভাবেই এমপি-মন্ত্রীদের পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়েও রাজনৈতিক সমর্থনের একটি নেটওয়ার্ক তৈরি করা হয়েছে।

শিক্ষার পাশাপাশি আমাদের স্বাস্থ্য ও হাসপাতাল খাতেও বিদেশি কোনো দেশের প্রভাব বা স্বার্থ কাজ করছে কি না, সেটা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

বর্তমান সরকারের সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো, তারা এখনো জনগণের প্রকৃত অসন্তোষের জায়গাগুলো ঠিকভাবে বুঝতে পারেনি। মানুষ শুধু শেখ হাসিনার সরকার পরিবর্তন করতে চায়নি, মানুষ মূলত উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয়ের চাপে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছিল। মানুষ চেয়েছিল জ্বালানি খাতে এমন একটি নীতি আসবে, যার সুফল সরাসরি সাধারণ মানুষ পাবে। গ্যাস, বিদ্যুৎ ও জ্বালানির দাম মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে রাখার উদ্যোগ নেওয়া হবে। কিন্তু বাস্তবে তেমন কিছু দেখা যাচ্ছে না।

এর মধ্যে আমলারা সরকারকে পরামর্শ দিচ্ছেন বাংলা AI তৈরির। আবার হাজার হাজার কোটি টাকা খরচ হবে। এই মুহূর্তে কি বাংলাদেশের এমন কোনো প্রকল্পে এত টাকা বিনিয়োগ করা জরুরি ? সবার আগে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করুন। কীভাবে গ্যাস ও অন্যান্য জ্বালানির সরবরাহ নিরবচ্ছিন্ন রাখা যায় এবং দাম সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে রাখা যায়, সেদিকে মনোযোগ দিন।

সামনে আবার IMF থেকে ঋণ নেওয়ার আলোচনা চলছে। IMF-এর শর্ত অনুযায়ী এলপিজি গ্যাসের ওপর বিদ্যমান ৭.৫ শতাংশ ভ্যাট বাড়িয়ে ১৫ শতাংশ করার প্রস্তাব এসেছে। একই সঙ্গে রেস্টুরেন্ট ব্যবসার ওপরও ১৫ শতাংশ ভ্যাট আরোপের বিষয়টি রয়েছে।

এই দুটি সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে তার প্রভাব শুধু এলপিজি ব্যবহারকারীদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। রেস্টুরেন্টের খাবারের দাম বাড়বে, ব্যবসার পরিচালন ব্যয় বাড়বে এবং শেষ পর্যন্ত সেই খরচ ভোক্তাকেই বহন করতে হবে।

বাংলাদেশে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সাধারণ মানুষের মধ্যে বাইরে খাওয়ার যে অভ্যাস ও সংস্কৃতি তৈরি হয়েছে, সেটাও ধীরে ধীরে সংকুচিত হবে। অনেক পরিবারকে টাকা বাঁচাতে বাসায় এক বেলা রান্না করে খেতে হবে ।



২| ০৬ ই নভেম্বর, ২০২৬ রাত ৩:৩২

মাথা পাগলা বলেছেন: ২০১৮ সালে খুলনার ৬টি স্কুলে সরাসরি ভারতীয় পাঠ্যপুস্তক পড়ানো হত। পত্রিকায় এসেছিল, তদন্ত হয়েছিল দায় সারা।

কোন পত্রিকা, সোর্স লিংকাটা দিতে পারবেন? ভারতীয় পাঠ্যপুস্তকে কি পড়ানো হতো?

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.