| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
অপলক
তত্ত্ব, তথ্য ও অনুভূতি ভাগাভাগি করা আমার অভিপ্রায়। কারও যদি ইচ্ছে হয় তবে যে কেউ আমার এই ব্লগের যে কোন কিছু নিজের সংগ্রহে রাখতে পারে।
গত ১০ দিন হল দেশের বস্ত্র শিল্পের উপর আঘাত খুব চিন্তার বিষয়। অনেক আগে বিচ্ছিন্নভাবে বস্ত্রশিল্প নিয়ে কথা বলেছিলাম। আজ সব মিলিয়ে কিছু চিন্তা করলাম। তার কিছু এখানে নোট রাখলাম:
১. প্রত্যেকটা গার্মেন্টসের সাথে জড়িত ভীনদেশীদের তালিকা তৈরী করে, তাদের মধ্যে বিদেশী কর্মীদের অবসরে পাঠাতাম এবং ভীনদেশীরা (ক্লায়েন্ট/কর্মী) শুধুই ম্যানেজমেন্ট বডির সাথে যোগাযোগ করতে বাধ্য থাকবে এমন নিয়ম করতাম।
২. গার্মেন্টসের সিসি ক্যামেরার যথাযথ প্রয়োগ এবং নজরদারি বাড়াতাম। লাইনম্যানদের কড়া জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতাম, সেই সাথে প্রতি ৩ মাসে তাদের মানসিক স্বাস্থ্য পরীক্ষা করাতাম।
৩. শ্রমিকদের মজুরী সহনীয় পর্যায়ে নিয়ে যেতাম। এমন নিয়ম করতাম যে, ডলারের দামের ওঠা নামার সাথে সাথে তাদের বেতন অটোমেটিক ওঠা নামা করবে এবং সেটা প্রতি তিন মাস পরপর। অর্থাৎ টাকার মান কমলে ৩ মাসের মাথায় বেতন বাড়বে। অথবা টাকার মান বাড়লে ৩ মাসের মাথায় বেতন কমবে। সেই বেতন পরবর্তী ৩ মাস বলবৎ থাকবে।
৪. গার্মেন্টেসের মালিক পক্ষের উপর নজরদারি বাড়াতাম। কারন গার্মেন্টসের নিজস্ব মিডিয়া বরাতে দেশের মানি লন্ডারিং বা ডলার পাচার সবচেয়ে বেশি হয়। উদ্দ্যেশ্য সেটা কমিয়ে আনা।
৫. গার্মেন্টেস, হসপিটাল এবং সেনাবাহিনীর জন্য আলাদা জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুতে ব্যবস্থা করতাম। শুধু গার্মেন্টেসের জন্য আলাদা লাইনে নিরববিছ্ন্নি গ্যাসের ব্যবস্থা করতাম। নিরবিচ্ছ্ন্নি গ্যাস বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা হবে সকাল ৮টা থেকে রাত ৮টা।
৬. যতদ্রুত সম্ভব গার্মেন্টসকে ঢাকা থেকে সরিয়ে নিতাম, সেই সব অঞ্চলে প্রতিস্থাপনে বাধ্য করতাম, যেখান থেকে বেশি শ্রমিক এসেছে এবং যোগাযোগ ব্যবস্থা ভাল। যেমন, হবিগঞ্জ, রংপুর, ঠাকুরগা, বরিশাল, মুন্ষিগঞ্জ, ফরিদপুর বা অন্যান্য জেলার মানুষ। কারন ৪২ লক্ষ গার্মেন্টেস কর্মীদের ঢাকায় টেনে আনায় ঢাকার উপর চাপ বেড়েছে। শুধু ৪২ লক্ষ কর্মী আসেনি, সাথে তাদের পরিবার এসেছে, খাদ্য সরবরাহকারী এসেছে, আরও অন্যান্য পেশাজিবী এসেছে তাদের চাহিদা মেটাতে। এই ৪২ লক্ষ আসলে প্রায় ডের কোটি। কিন্তু গার্মেন্টসগুলো যদি বিভিন্ন জেলায় রাখা যেত, তাহলে কর্মীরা নিজেদের বাসা বা এলাকায় থেকেই কাজে যোগ দিতে পারত। ভিন্ন একটা শহরে বাসা ভাড়া, বাচ্চা পালনের চিন্তা বা মা বাবাকে ফেলে আসার চিন্তা মাথায় নিয়ে কাজ করতে হত না। মানুষের যখন মানসিক তৃপ্তি থাকে, দু:চিন্তা কম থাকে তখন উৎপাদন অটোমেটিক প্রফিটেবল হয়।
উত্তর বঙ্গে সৈয়দপুর ও রাজশাহীতে কার্গো বিমান ওঠা নামার সুযোগ আছে। বগুড়াতেও হচ্ছে আন্তর্জাতিক মানের বিমানবন্দর। এছাড়া সিলেট, বরিশাল, যশোর আর চট্রগ্রামে তো আছেই। খুব সহজে মালামাল বিমানে বা অন-রোডে পাঠানো যায়। বায়ার রা বিমানে আসা যাওয়া করবে, সাথে প্রাইভেট হেলিকপ্টারও আছে, সেক্ষেত্রে যোগাযোগের কোন অযুহাত থাকতে পারে না। আমার কথা হল, প্রতিদিন ৫ কোটি পিস কাপড় তৈরীর জন্যে ১.৫ থেকে ২কোটি মানুষকে ঢাকায় টেনে আনার কোন মানে হয় না। দ্বিতীয়ত, বিচ্ছিন্নভাবে গার্মেন্টেস সারা দেশে ছড়িয়ে থাকলে জনরোস ধীর গতিতে বাড়বে। ২ ঘন্টায় ঢাকা অচলের মত অবস্থা সৃষ্টি হবে না। তৃতীয়ত্ব, উৎপাদন খরচ কমবে। যানবাহন সংশ্লিষ্ট সকল জীবস্যজালানীর ব্যবহার কমবে। দেশের টাকা অবাঞ্চিত ব্যয় করবে। ঢাকার ৫০০০ বস্তি কমে অর্ধেকে নেমে আসবে। জবর দখল করা জায়গা অমানবীক ভাবে উচ্ছেদ না করেও, মালিকপক্ষ তা ফিরে পাবে।
৭. প্রতিটি গার্মেন্টসের জন্যে আমি পানির ব্যবহারের মিটার বসিয়ে দিতাম। সেই পানি তারা ভূগর্ভস্ত লেয়ার থেকে সংগ্রহ করুক বা ওয়াসা থেকে করুক, যায় আসে না। মাটির নীচের গ্যাস যেমন রাষ্ট্রের সম্পদ, পানিও তেমনি রাষ্ট্রের সম্পদ। সারা দুনিয়া বাংলাদেশ থেকে কাপড় কম দামে কেনে তার একটা বড় কারন এখানে পানির দাম দিতে হয় না এবং পানি রিসাইকেলিং করতে হয় না। কিন্তু এই পানি অফুরন্ত সম্পদ নয়। তাই লাগাম টেনে ধরতে পানির পুংখানু পুঙ্খ হিসাবের ব্যবস্থা করে মূল্য সংযোজন কর বসাতাম।
৮. কর্মী থাকা অবস্থায় ইন্ডাসট্রি ফলটের কারনে অপমৃত্যু হলে সেই কর্মীর পরিবারকে পরবর্তী ১০ বছর পূর্ন বেতন প্রদান করতে হবে নিয়ম করতাম।
৯. গার্মেন্টসের পাশাপাশি লেদার বা চামড়াশিল্পকে পুনরোজ্জিবিত করতাম। লেদার গার্মেন্টেসের দিকে নজর দিতাম।
১০. দেশের বিসিক শিল্পাঞ্চলে গার্মেন্টস সংশ্লিষ্ট সকল যন্ত্রাংশ তৈরীর উদ্দ্যোগ নিতাম।
১১. কর্মীদের বাচ্চাদের SSC পর্যন্ত সকল পরীক্ষার ফিস গার্মেন্টসের উপর চাপিয়ে দিতাম এবং ১৮ বছর বয়ষ্ক হলে তাদেরকে আগ্রাধিকার সূত্রে কর্মী হিসেবে নিয়োগের নিয়ম চালু করতাম।
১২. অভ্যন্তরীন অরাজগতা সৃষ্টিকারী বা এক গার্মেন্টেসের গোপনীয় তথ্য অন্য কোথাও প্রকাশ করা কর্মীকে সম্মিলিত বয়কটের নিয়ম করতাম। অর্থাৎ সেই কর্মী অন্য কোন গার্মেন্টেসে নিয়োগ প্রাপ্ত হতে পারবে না। কারন এরা হল নতুন প্রজন্মের '৭১র গাদ্দার। তবে মানবাধিকার লঙ্ঘন ও মৌলিক চাহিদা বিনষ্ট হলে প্রতিবাদ করার অধিকার বলবৎ রাখতাম।
১৩. প্রিন্ট বা অনলাইন মিডিয়াকে গার্মেন্টস সংশ্লিষ্ট স্পর্শকাতর ও ভূয়া খবর প্রকাশে সংযম হতে নির্দেশ দিতাম।
১৫. ২০ বছরের অধিক পুরোন কোন বিল্ডিয়ে গার্মেন্টস করা যাবে না নিয়ম করতাম। প্রতি ২ বছর পরপর বিল্ডিয়ের ব্যবহার উপযোগিতা পরীক্ষার ব্যবস্থা করতাম বিনামূল্যে। যাতে রানা প্লাজা ট্রাজেডী ইতিহাসে ঐ একটিই থাকে।
২|
০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ দুপুর ২:০৪
আলামিন১০৪ বলেছেন: আমি কিচ্ছু করতাম না শুধু দুর্নীতিবাজদের ধরে ধরে ফাসি দিতাম- বাকি সব অটো হয়ে যেত
৩|
০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:০০
কলিমুদ্দি দফাদার বলেছেন:
১। ভিনদেশী/ বিদেশি কর্মী অবসরে পাঠানোর বলে কি বুঝালে ঠিক পরিস্কার না? গার্মেন্টসের (QC), ইন্ডাস্ট্রিয়াল ইঞ্জিনিয়ারিং, টেকনিক্যাল কনসালট্যান্ট হিসেবে ভারতীয় এবং শ্রীলংকানদের কাজের অভিজ্ঞতা বা আউটপুট বেশিরভাগ বাংলাদেশী সমকক্ষ নন। গার্মেন্টস ব্যবস ব্যাক্তিগত বিনিয়োগে পরিচালিত কোন দাতব্য সংস্থা নয়, যে দেশী কর্মী রিক্রুট করে এই ধরনের যুকি নিবে।
৩। টাকার মান কমলে শ্রমিকদের বেতন বৃদ্ধি করবেন, আমদানি নির্ভর যে সব গার্মেন্ট দাম বেশি দিয়ে কাঁচামাল আমদানি করবে সেই গার্মেন্টস মালিকের জন্যে কি ব্যবস্থা? ব্যাংক কি লোনের সুদ মাফ করে দিবে?
৬। সকল গার্মেন্টস উওর বংগে নিয়ে যাবেন? গার্মেন্টসে পন্য কি শুধু এয়ারে শিপমেন্ট হয় নাকি চট্টগ্রাম, মংলা পোর্ট দিয়ে ও যায়? যাতায়াত খরচের এই বাড়তি যোগান দিবে কে? চট্টগ্রাম, কুমিল্লা ইপিজেড নির্মাণের কারন যাতায়াত খরচ কম আর দূত সরবরাহ করা যায়। সৈয়দপুর, বগুড়া নামেই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর। কিছু ডোমেস্টিক প্রপেলার বিমান উঠানামা করে। কার্গো বিমান উঠানামা গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং এর জন্যে এখন উপযুক্ত না.....
প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা জাহিদ মালিকের মতো টকশো তে মিষ্টি কথা বলা এক জিনিস আর দেশ বা প্রতিষ্ঠান চালানো আরেক জিনিস....
©somewhere in net ltd.
১|
০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ দুপুর ২:০১
নাহল তরকারি বলেছেন: আপনার চিন্তাভাবনার মধ্যে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ও দূরদর্শী প্রস্তাবনা রয়েছে। বিশেষ করে গার্মেন্টস শিল্পকে ঢাকাকেন্দ্রিক না রেখে দেশের বিভিন্ন জেলায় ছড়িয়ে দেওয়ার ধারণাটি আমার কাছে সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ মনে হয়েছে। এতে ঢাকার ওপর জনসংখ্যার চাপ কমবে, কর্মসংস্থান স্থানীয় পর্যায়ে তৈরি হবে, উৎপাদন ব্যয় কমতে পারে এবং শ্রমিকরা পরিবার-পরিজনের কাছাকাছি থেকে কাজ করার সুযোগ পাবেন।
পাশাপাশি শ্রমিকদের নিরাপত্তা, সময়মতো ন্যায্য মজুরি, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ-গ্যাস সরবরাহ, পানির সঠিক ব্যবহার এবং শিল্পকারখানার ভবন নিরাপত্তা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি।
তবে শ্রমিকদের অধিকার, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং মানবাধিকার যেন কোনোভাবেই ক্ষুণ্ন না হয়, সেটিও নিশ্চিত করতে হবে। শিল্পের উন্নয়ন ও শ্রমিকের কল্যাণ একে অপরের পরিপূরক।
আমাদের গার্মেন্টস শিল্পকে শুধু টিকিয়ে রাখলেই হবে না, বরং পরিকল্পিত বিকেন্দ্রীকরণ, প্রযুক্তির ব্যবহার, দক্ষ জনশক্তি এবং জবাবদিহিতার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আরও প্রতিযোগিতামূলক করে তুলতে হবে।
বাংলাদেশের শিল্পনীতি নিয়ে এমন বাস্তবভিত্তিক আলোচনা আরও বেশি হওয়া প্রয়োজন।