নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

এখনো দুচোখে বন্যা

প্রার্থনা কষ্টে ভেঙ্গে দাও আবার , আমি একজীবনে ভাঙ্গা গড়ার কষ্ট নিয়ে , স্রষ্টার সৃষ্টিকে তবু ভাঙ্গতে পারিনা

প্রিন্স মাহমু দ

আমি ভাবছি আবার সেই পুরনো দিনের মত কিছু নতুন কথা গেথে লিখবো গীতি কবিতা

প্রিন্স মাহমু দ › বিস্তারিত পোস্টঃ

রুপকথার গল্প এবং সপ্ন

২৫ শে এপ্রিল, ২০১৩ ভোর ৫:১৮

অনেকদিন পরের কথা । এক রাজ্যে ছিল দুই রানী । বড় রানী আর ছোট রানী । রানী হলে কি হবে ? রুপকথার গল্পের মত তারা সেজেগুজে বসে থাকতেন না । তাদের ছিল অনেক বুদ্ধি । ৫ বছর করে তারা ক্ষমতায় গিয়ে নরম চেয়ারে বসতে পারত ।



দেশের মানুষ তাদের কুস্তি দ্যাখে খুব খুশি হত । তাদের কুস্তি দ্যাখে দেশ বিদেশের নামকরা বলীরা জব্বর আলীর বলিখেলায় আসা বন্ধ করে দেয় ।



তাই তারা ৫ বছর পর পর তাদের নরম গদিতে বসিয়ে দিতেন ।





বড়রানী যখন ক্ষমতায় ছিলেন , রাজ্যের ব্যবসায়িরা ফুলে ফুলে উঠেন । দেশের বড় ব্যবসায়ি মামুন সাহেব ছিলেন বড় রানীর বড় ছেলের বাল্য বন্ধু । বড়রানীর হাওয়া প্রসাদ সে কারনে সপ্নপুরী হয়ে যায় । দেশ টাকায় টাকায় ভরে যায় ।



তখন জমি দখল করা রিয়েল এস্টেট ব্যবসায়িরা বড় রানীর আমলে কাজ করা শুরু করেন । এদিকে দেশে ব্যবসায়ের উন্নতির কারনে নদীর চর , মাঠ -ঘাট নেই । শিশুরা খেলাধুলা করতে পারে না ।



বড় রানীর ছিল কয়েকজন নাতি-নাতনী । নাতনীরা তাকে অভিযোগ দিল । বড় রানী তার নায়েবকে শিশুদের খেলাধুলার ব্যবস্থা করে দিতে বললেন । নায়েব ছিল বুদ্ধিমান । তিনি পাশের দেশের মস্ত বড় বড় কোম্পানি উলফাকে খেলনা সরবরাহ করতে আদেশ দিলেন । সেপাইদের মাধ্যমে তারা ১০ ট্রাক খেলনার পিস্তল পাঠালেন । যাতে শিশুদের খেলাধুলায় মনসংযোগে বাঁধা দিতে না পারে । পুরো দেশের হাতে নায়েব খেলনা তুলে দিতে চাইলেন ।



কিন্তু খেলনা আনার সময় কিছু দুশকৃতিকারী বাঁধা দিলেন । যার কারনে খেলনাগুলো শিশুদের হাতে তুলে দেয়া গেলো না । সে অনেক কথা । তারপর এলো ছোটরানী গদিতে ।



প্রথমদিকে তিনি কথাই বলতেন না । দেশের মানুষ ভাবল রানীর কি হল !! তিনি কথা বলেন না কেন ? ছোটরানী তার দরবারে কিছু চতুর লোক নিয়োগ দিলেন । তারা কথা বলা শুরু করল - রাজ্যের মানুষের সে কথা শুনে লুঙ্গি খুলে যায় । মাঝরাতে শিশুরা খাট থেকে পরে যায় । তারপর ছোট রানিও কথা বলা শুরু করলেন ।



রাজ্য বাচাতে ছোটরানী নানানদেশের বাদশাহদের সাথে বৈঠক করতে লাগলেন । অবশেষে মনের মত বাদশাহ পেয়ে রাজ্যের সৈনিকদের জন্য ৮ হাজার কোটি স্বর্ণমুদ্দ্রার খেলনার অস্ত্র কিনলেন । রাজ্যের বাসিন্দারা খুশি হল - এবার তাদের কেউ মারতে আসতে পারবে না ।



হঠাৎ রাজ্যের অসুর ভর করল । ছোটরানীর দলের এক পাইক-পেয়ারা - রাজ্যের মুক্তোর মত জমিতে হাওয়া ভবন বানাতে গেলো । রাজ্যের মানুষের কথা ভেবে তাকে বলে দিল , প্রসাদ বেশী উচু করবেন না । রাবন হামলা করবে । সে পেয়ারা বান্দা সে কথা শুনল না । রানীর গদির সাহসে তিনি রাজ্যের সাধারন জনগনকে জোর করে কাজ আদায় করতে লাগলেন । একদিন সব ভেঙ্গে পরল , অনেক মানুষ প্রসাদের নিচে চাপা পরল । চারিদিকে মানুষের অশ্রু , চোখের জল ।



তখন ছোটরানী ও তার নায়েবেরা রাজ্যের মানুষের দুঃখ দ্যাখে বাজারের বস্তা বোঝাই করে বাজারে বাণী দিলেন ।

তার নায়েব বললেন , বড় রানীর সৈনিকেরা প্রসাদের পাথর খুদাই করেছে । তারা মিস্ত্রির কাজ করেছে তাই এই পতন । তাহারা অশুভ ।



রাজ্যের সাধারন ছেলেমেয়েরা নেমে এলো রাস্তায় । তারা অনেক চাপা পড়া মানুষকে রক্ত দিল , বাঁচাল । চিকিৎসা দিল ।



এদিকে রাজ্যের ভেতর ছিল সুন্দরবন নামের এক বিশাল জঙ্গল । সেই জঙ্গলে ছিলেন এক বিরাট সাধু । তিনি তপস্যা করেই দিন কাটান । একদিন বনের এক বাঘ এসে তাকে বলল , হুজুর আমাদের এখানে থাকতে দেবে না । রানী আমাদের মেরে ফেলার উদ্দেগ নিয়েছে । আপনি আমাদের বাঁচান ।



হুজুর সব ভেবে , দ্যাখে , বুঝে রানীদের , তাদের পাইক পেয়াদা , রাজ্যের কুচক্রী সুশীল , ধার্মিক ভণ্ডদের গজব দিলেন । লানত পরে গেলো তাদের উপর । রাজ্যের শান্তি নেমে এলো ।



পরিশিষ্ট ঃ ছোট ছেলেমেয়েরা এখন টলটলে নদীর জলে সাঁতার কাটে । বিলের আইল ধরে স্কুলে যায় । রাস্তার মোড়ে মোড়ে মসজিদ , মন্দির , গির্জায় প্রার্থনায় রব উঠে ।

মন্তব্য ০ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (০) মন্তব্য লিখুন

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.