নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

এখনো দুচোখে বন্যা

প্রার্থনা কষ্টে ভেঙ্গে দাও আবার , আমি একজীবনে ভাঙ্গা গড়ার কষ্ট নিয়ে , স্রষ্টার সৃষ্টিকে তবু ভাঙ্গতে পারিনা

প্রিন্স মাহমু দ

আমি ভাবছি আবার সেই পুরনো দিনের মত কিছু নতুন কথা গেথে লিখবো গীতি কবিতা

প্রিন্স মাহমু দ › বিস্তারিত পোস্টঃ

দাগ থেকে যায়

০২ রা মে, ২০১৩ রাত ১১:৩২

সময়টা ৫২ সালের ফেব্রুয়ারির ।



অর্পিতার সকাল বেলায় ঘুম ভাঙল । খুব সকালে তাঁর ঘুম ভাঙ্গেনা । আজ ভাঙল । তাঁর বাবা মা এখনো ঘুমে । অর্পিতা দরজা খুলে ধীরপায়ে বারান্দায় এসে দেখল কিছু পাখি টিনের চালে কিছিরমিছির করছে । সুন্দর সকাল । বাতাসের আনাগোনা অর্পিতার চুল উড়িয়ে নিচ্ছে । তাঁর মনে হল উনিশ বছরের এই জীবনে দেখা এটিই প্রথম সুন্দর দৃশ্য । নিজেকে উপন্যাসের নায়িকা মনে হচ্ছিল । দেশের তৎকালীন অবস্থায় এটা ভাবা ঠিক না অর্পিতা বুঝতে পারছে । সে মেয়ে হিসেবে খুবি ভিতু ।



বাড়ির সামনে পোস্টম্যান কাকা এসে একটা চিঠি দিয়ে গেলো । তাঁর দাদা অরুপের চিঠি । অরুপ তাঁর বছর চারেক বড় হলেও তাদের ভেতর বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক । চিঠি খুলেই অর্পিতা অবাক হল



" টুনটুনি , দেশে আসা সম্ভব না এখন । অস্তিত্ব ধরে টানছে হানাদারেরা । আমার জন্য অপেক্ষা করবি না । তোর জন্য একটা শাড়ি পাঠালাম । নীল তোর পছন্দের রঙ , নীল পরে ওদের সামনে যাবি । ভালো থাকিস "



অরুপের মেজাজ খুবি খারাপ । সে কি করবে বুঝতে পারছে না । শাসকদের মদ্ধাঙ্গুলি দেখাতে ইচ্ছে করছে । তারা বাঙ্গালীদের দাস বানাতে চাচ্ছে । জেদি হিসেবে তাঁর সুনাম আছে । ১৪৪ ভাঙ্গতে হবে , না হলে ভবিষ্যৎ অন্ধকার । নিজের ভাষায় গালি দেয়ার কি মজা ওরা জানেনা । এটা হাতের ভেতর রাখতে হবে । এটা ভেবেই গালের ভেতর থুথুর দলা পাকিয়ে গেলো । খুব জোরে সে তা মাটির দিকে ছুঁড়ে মারল । তাঁর মনে হল , জিন্নাহ এর মুখের উপর কি এভাবে কখনো থুথু মারা যাবে ?



বরপক্ষের লোকজন বিয়ের কথা বলার জন্য অর্পিতাকে দেখতে আসছে । এই বিয়ের সে পুতুল । তাই সে নিমরাজী । রাজী হতে হয়েছে অরুপের জন্য । অরুপকে সে কখনো দুঃখ দিতে পারবেনা ।



অর্পিতার চুল , উচ্চতা , হাতের লেখা তারা দেখল ।

বিড়ালের মত গলায় একজন বলল , দেখি মা একটু হাঁট তো

অর্পিতা হেঁটে দেখাল । তাঁর মনে হচ্ছে সে কোন নাটকে অভিনয় করছে ।

পাত্র দেখেও অর্পিতার পছন্দ হল । এলোমেলো চুলে বসে আছে । ছেলেটা মনে হয় লাজুক

মেয়েরা অনেক কিছু বুঝতে পারে । অথছ পাত্রের চেহারায় কোন কোমলতা নেই ।

তাঁর বিয়ে ঠিক হল । ফেব্রুয়ারির ২২ তারিখ ।



২১ তারিখে খবর এলো অরুপের কোন খবর পাওয়া যাচ্ছেনা । ঢাকায় বড় ধরনের গণ্ডগোল চলছে।পুলিশ আর ছাত্রদের মধ্যে । কিছু ছাত্র মারা গেছে । তাদের হাতে ছিল " রাষ্ট্র ভাষা বাংলা চাই " নামক প্ল্যাকার্ড ।



অরুপ ছিল মিছিলের প্রথমভাগে । হঠাৎ আক্রমণ । সবাই ছুটতে শুরু করল । অরুপ কিছুই বুঝতে পারেনি । পুলিশের গুলি লাগল তাঁর বুকে । অরুপের পৃথিবী ঘোলাটে হতে শুরু করলো । এ ব্যথার জন্ম কোথায় ? কোন নক্ষত্রে ? তাঁর হঠাৎ অর্পিতাকে দেখতে ইচ্ছে করল , তাঁর বিয়ে কি ঠিক হয়েছে ?



২১ তারিখ সন্ধার দিকে রানা নামের একটি ছেলে অরুপের গ্রামের বাড়িতে এসে শীতল গলায় বলল আপনাদের একটি খবর দিতে এসেছি । অরুপ মিছিলে মারা গেছে ।

অরুপের মা আচলচাপা দিয়ে কাঁদতে লাগলেন । রানা একটি চিঠি নিয়ে এসেছে -



" মা , সারা জীবন তোমার কথার অবাধ্য হয়েছি । এই কাজটা সফল হলে আর হবো না । যদি মারা যাই তুমি গর্বিত হবে , বলবে আমি অপদার্থ ছিলাম না । নিজের ভাষায় মা ডাকার আনন্দের জন্য জীবন হাসিমুখে দিতে চাই । ভালো থেকো "



চিঠি পরে অরুপের মা মরা কান্না করতে লাগলেন । অরুপের বাবা কানে শুনে না । কিন্তু টপটপ করে তাঁর চোখে পানি পরতে লাগল । অর্পিতার মনে হল , আকাশ ভেঙ্গে বৃষ্টি নামছে তাঁর ভেতরে ।সেই ঝড়ে কেউ বাঁচতে পারবে না



সে রাতে তাকে দেখতে আসা বর হিমাংশু এলো তাদের দেখতে । অর্পিতা নিচু সরে বলল , আপনার সাথে একটু কথা আছে ।

বলুন ।

আমি এ বিয়ে করব না ।

কেন ?

আমার বাবা মাকে দেখার কেউ নেই । এই পরিবারের সকল ভার আমার কাধে নিতে হবে ।

আমি খুবি দুঃখিত , হয়তো বিয়ে আমার ভাগ্য নেই । অরুপ খুব স্বপ্ন দেখত , ধুমধাম করে আমার বিয়ে হবে । এখন তো সে নেই , এই বিয়ে কে দেখবে ! কেউনা

হিমাংশু অনেক ক্ষণ চুপ থেকে দৃঢ় গলায় বলল , অবশ্যই , আপনি পারবেন । আমি আপনার সাথেই থাকবো ।

অর্পিতা , তীক্ষ চোখে হিমাংশুর দিকে তাকাল । তাঁর চোখে জল আসা শুরু করছে ।

কি সুন্দর কথা ! আমি আপনার সাথেই থাকবো । অর্পিতার দৃষ্টিতে ভালোবাসা ছিল । কোমলতা ছিল





উৎসর্গ ঃ

অরুপ অভিলাষী



মন্তব্য ০ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (০) মন্তব্য লিখুন

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.