| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
প্রতিবাদীকন্ঠ০০৭
আমি খুব সাধারণ একজন মানুষ। জীবনটাকে সহজ করে ই দেখতে পছন্দ করি ।
২০০০ সাল পার হয়ে গেছে, কেটে গেছে আরো ১১ টি বছর, ২০১২ সাল শুরু হয়ে গেছে । মানুষের চিকিতসা সেবা আরো বাড়ানোর চিন্তা করছে বিশ্বব্যাপী সরকার গুলো। সেই সাথে প্রতি নিয়ত মেডিকেল এর বেসিক ডিগ্রী এম বি বি এস কে আরো আধুনিক, আরো মানসম্পন্ন , আরো যুগোপোগোযোগী করার চেষ্টা হচ্ছে সর্বত্র। কেননা, বাড়ির ভিত্তি কে মজবুত না করে এর উপর আরো উচু তলা তৈরি করলে যে এর ভেঙ্গে পড়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি ! একি সাথে মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল গুলাতে ইমার্জেন্সী সেবা আরো উন্নত করার চিন্তা করার সময় উপস্থিত, কেননা দেশের সড়ক দুর্ঘটনায় আহতরা, বাসে বা গাড়িতে আগুন দেয়া ব্যক্তিরা, বা বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মারামারিতে আহত ব্যক্তিরা অথবা মলমপার্টি বা অজ্ঞানপার্টি বা ছিনতাইকারীর ছুরিকাঘাতে আহত ব্যক্তিদের ইমারজেন্সী বেসিস এ চিকিতসা সেবা তো আরো বাড়াতে মেডিকেল কলেজ গুলোর উন্নতি করা উচিত বলে মনে করি।
অত্যন্ত দুঃখের সাথে খেয়াল করছি যে কিছু সংখ্যক মানুষের ক্রমাগত প্ররোচনায় সম্ভবত প্রশাসন দেশের শ্রেষ্ঠ মেডিকেল কলেজ গুলোকে ই মেডিকেল ভার্সিটিতে রুপান্তরিত করতে যাচ্ছেন। নতুন করে নতুন জায়গায় মেডিকেল ভার্সিটি না করে, পুরানো ঐতিহ্যবাহী সারা বিশ্বে সুপরিচিত দেশের শ্রেষ্ঠ মেডিকেল কলেজগুলোকেই নাম পরিবর্তন করে ভার্সিটি করলে কি সুবিধা হবে আমাদের বোধগম্য নয়। যেখানেই পাশে একটা মেডিকেল ভার্সিটি ( পিজি / বিএস এম এম ইউ ) আছে অথচ সমস্ত ইমারজেন্সী পেশেন্ট ঢাকা মেডিকেল হাসপাতাল, মিটফোর্ড হাসপাতালে ছুটে আসেন, সেখানে এই কলেজের হাসপাতালের চিকিতসার মান বাড়ানোই যেখানে জরুরী, সেখানে একি জায়গায় মেডিকেল কলেজগুলোকে ভার্সিটিতে রুপান্তরিত করলে কি সেবার মান বেড়ে যাবে ?
যারা সরকার কে প্ররোচিত করছেন,
আপনারা কি বুঝতে পারছেন না, একাজের ফলে বিশ্বের বিভিন্ন জায়গায় নাম পরিবর্তনের কারণে তাদের রেকর্ড থেকে আমাদের দেশের এই ঐতিহ্যবাহী মেডিকেল কলেজগুলা র নাম ই মুছে যাওয়ার সম্ভাবনা আছে , আপনারা কি বুঝতে পারছেন না, এর ফলে এম বি বি এস এর কি মারাত্মক ক্ষতি করতে যাচ্ছেন আপনারা ? জনগণ কে সম্পূর্ণ নতুন একটা আধুনিক মেডিকেল ভার্সিটি সম্পূর্ণ আলাদা জমিতে দিয়ে জনগণ কে নতুন কিছু দিন, ঐতিহ্যবাহী মেডিকেল কলেজ গুলো আর ধ্বংস করবেন না দয়া করে। বরং মেডিকেল কলেজ গুলোতে শিক্ষার মান বাড়ান, এম বি বি এস এর মান বাড়ান,। শুধুমাত্র মেডিকেল কলেজ এর সংখ্যা বাড়ানোতেই কিন্তু উন্নতি হয়ে যায় না, আসলে কি এগুলোর মান বাড়ছে না কমছে নিজেদের প্রশ্ন করুন। যদি সত্য জবাব টা পেয়ে থাকেন, অনুরোধ যে কয়টা মেডিকেল কলেজ এ এখনো এম বি বি এস প্রায় আন্তর্জাতিক মানের কাছাকাছি, সেটাকে পুরাপুরি আন্তর্জাতিক মানের করুন, সেটাকে ধ্বংস করবেন না। মেডিকেল ভার্সিটি অবশ্য ই করুন, কিন্তু সেটা একেবারে নতুন জায়গায়। আমার ধারণা আমার উপলব্ধি/ আকুতি আপনাদের কাছে কোন মূল্য ই বহন করে না। আর তাই আপনারা সরকার কে প্ররোচিত করে যাবেন নতুন মেডিকেল ভার্সিটি না করে স্বনামধন্য মেডিকেল কলেজ কে ভার্সিটি করতে। আপনারা হয়ত সাময়িক লাভবান হবেন, কিন্তু সম্ভবত দেশের এম বি বি এস এবং ইমার্জেন্সী চিকিতসা ব্যবসথা আরেকটা বড় ধরণের ধাক্কা খাবে। অতএব আতংকের সাথে অপেক্ষা করছি কোনদিন শুনতে পাব, ঢাকা মেডিকেল কলেজ এখন থেকে ঢাকা মেডিকেল ভার্সিটি !
০৭ ই জানুয়ারি, ২০১২ সন্ধ্যা ৬:১৯
প্রতিবাদীকন্ঠ০০৭ বলেছেন: ধন্যবাদ ওসমান ভাই।
আমি আপনার সাথে সম্পূর্ন ভিন্ন মত পোষণ করি এবং শুধুমাত্র বিরোধিতা করার জন্য ই না, বরং সম্পূর্ণ যুক্তিসম্পন্ন কারণে আমি আমার বিরোধিতা করছি। আমার যুক্তি ভুল হতে পারে, কিন্তু আমি আমার মতামত কে নিশ্চয় ই তুলে ধরতে পারি।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ এর সাবেক ছাত্র হিসেবে, আমি মনে করি অবশ্য ই মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় দরকার, কিন্তু সেটা হতে হবে আলাদা জায়গায় নতুন স্থাপনা তৈরি র মাধ্যমে।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ এ পোস্ট গ্রাজুয়েট দের বিভিন্ন কোর্স চালু হওয়ার পরে,
১) প্রফেসর রা আন্ডার গ্রাজুয়েট দের ক্লাস সেভাবে নেয়ার সুযোগ পান না।
২) মেডিকেল ছাত্র থাকার সময়েই আমাদের পড়ানোর সময় ও মাঝে মাঝেই আমাদের দাঁড়াতে হত ১৫/২০জন পোস্ট গ্রাজুয়েট স্টুডেন্টদের পিছনে।
৩) পোস্ট গ্রাজুয়েট দের যন্ত্রণায় আন্ডার গ্রাজুয়েট রা একটা অপারেশন ও ভাল মত দেখতে পারত না।
৪) ওটিতে এসিস্ট করতে পারা ও অনেক ইন্টার্নের জন্য কষ্ট কর হয়ে উঠেছিল।
৫) প্রফের আগে লাইব্রেরী বন্ধ। কেন ? পোস্ট গ্রাজুয়েট দের পরীক্ষা !
৬) কেস প্রেজেন্টেশন, রোগী ম্যানেজ, মাইনর প্রসিডিউর গুলা সব ই করতেছে পোস্ট গ্রাজুয়েট ছাত্ররা।
বিশ্ববিদ্যাল্যে রুপান্তরিত করার আগেই এই অবস্থা। বিশ্ববিদ্যালয়ে রুপান্তরিত করার পর, সবচেয়ে বাজে মেডিকেল টার সাথে সবচেয়ে ভাল মেডিকেল গুলার কোন পার্থক্য ই থাকবে না। সবাই এ প্লাস। অতঃপর সবাই পোস্ট গ্রাজুয়েট কোর্স এ ভর্তির সুযোগ। এতে কতটা গবেষণা বাড়বে বুঝতে পারছি না।
তবে এটা বুঝতে পারছি , ঢাকা মেডিকেল এর আন্ডার গ্রাজুয়েশন এর অবস্থা আরো খারাপ হবে। বড় লোক যারা আছে, তারা চিকিতসা নেয়ার জন্য সিঙ্গাপুর, ভারত দৌড়াতে থাকবে।
আর যদি সত্যি সেরকম মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় করতে হয়, আলাদা জায়গায় করলে অসুবিধা কি ??? এটাকে রুপান্তরিত করলে তো ইন্টারন্যাশনালি এটা তার পরিচয় ও হারাবে। অন্য মেডিকেল এর ছাত্রদের কোন সমস্যা না হলেও ঢাকা মেডিকেল এর ছাত্রদের সমস্যা হতে পারে।
বরং, ঢাকা মেডিকেল কে বিশ্ববিদ্যালয় নাম দিয়ে দিলেই চিকিতসা, লেখাপড়া ভাল হবে এটাই হবে খোড়া যুক্তি সম্ভবত।
তবে , আমি যদি ভুল প্রমানিত হই, অবশ্য ই আমি খুশি হব। তবে অতীত ইতিহাস আশাবাদী হতে দেয় না। ধন্যবাদ।
ঢাকা কলেজ কে একসময় উন্নত করার জন্য ইন্টার এর পাশাপাশি অনার্স কোর্স চালু করা হয়েছিল। এর ফল দেখতে তো দেখতেই পাচ্ছি। ঢাকা কলেজ এর ইন্টারমিডিয়েট সেকশন শেষ। সুতরাং ঢাকা মেডিকেল কলেজ , এতদিনের সুপরিচিত মেডিকেল কলেজ এটার ও আন্ডার গ্রাজুয়েট ধ্বংস হোক, কি আসে যায় ! পাশ তো করেই গেছি !
২|
০৭ ই জানুয়ারি, ২০১২ বিকাল ৫:৪৬
ইলুসন বলেছেন: নাম পরিবর্তনের জন্য যে ক্ষতি হবে সেটা ছাড়া আর কোন ক্ষতি হবে বলে মনে করছি না। তবে আপনি বয়সে বড়, অভিজ্ঞতাও বেশি, আপনি হয়ত এমন কিছু বুঝতে পারছেন যেটা অন্যরা পারছে না।
০৭ ই জানুয়ারি, ২০১২ সন্ধ্যা ৬:২১
প্রতিবাদীকন্ঠ০০৭ বলেছেন: ধন্যবাদ ইলুসন,
আপনার মতামত সবসময় ই বিশেষ কিছু। আসলে আমি ও নিশ্চিত না। তবে আতংকিত ।
৩|
০৭ ই জানুয়ারি, ২০১২ সন্ধ্যা ৬:৩৭
ইলুসন বলেছেন: ভাই আপনি ওসমান ভাইকে দেয়া জবাবে যে সমস্যাগুলোর কথা লিখেছেন সেগুলো তো এখনই বিদ্যমান, তাই না? তার মানে ঢাকা মেডিকেল শুধু নামেই এখন কলেজ আছে, প্রফেসররা সবাই পোস্ট গ্রাজুয়েশনের ডাক্তারদের পড়াতে ব্যাস্ত।
০৭ ই জানুয়ারি, ২০১২ রাত ৮:৪৭
প্রতিবাদীকন্ঠ০০৭ বলেছেন: আসলে ভাল হবে না খারাপ হবে, তা সময় ই বলে দিবে।
তবে ভাল মানের এম বি বি এস এর এখানেই সমাপ্তি ।
দেখা যাক ! হমম, এখনি বিদ্যমান, কিন্তু এটা থেকে যখন পরিত্রাণের উপায় খোঁজা উচিত ছিল, সেখানে কেন জানি মনে হচ্ছে, সমস্যা গভীরতর হচ্ছে।
আসলে সময় ই বলে দিবে, ভাল হলে ভাল, কিন্তু যদি খারাপ হয়, সেখান থেকে হয়ত আর ফেরা
যাবে না।
আশা করি চিন্তা করেই সব করছেন সবাই। আশা করি প্রফেসর দের মাঝে শুধুমাত্র অবসরের বয়স বাড়ানোর চিন্তা নেই !
৪|
০৭ ই জানুয়ারি, ২০১২ রাত ৮:০২
ওসমাণ বলেছেন: প্রতিবাদীকন্ঠ০০৭ ভাই, আপনি যে সমস্যাগুলোর কথা বললেন, সেগুলো রিসোর্স এর স্বল্পতার কারনে ঘটছে, হয়ত বিশ্ববিদ্যালয়ে রুপান্তরের পরেও আরও অনেক বছর ঘটবে। কিন্তু তাই বলে কি কলেজ পর্যন্তই বসে থাকতে হবে? চিন্তা করুন, আলাদা একটি বিশ্ববিদ্যালয় করতে যে খরচ হরব, তার ৫ ভাগের একভাগ খরচ করেই বড় মেডিকেল কলেজ গুলোকে বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিনত করা যায়। এর ফলে ঐ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিনে আরও অনেক মেডিকেল কলেজ তৈরি হবে। চিকিৎসকের যে অভাব সারা দেশ জুড়ে, তার প্রতিকার হবে।
আমার অভিজ্ঞ বলে, ঢাকার বাইরে থেকে ডেপুটেশনে বি.এস.এম.এম.ইউ তে পড়তে এসে ১০% চিকিৎসকও আর ঢাকার বাইরে ফিরে যান না। এর ফলে ঢকার বাইরে যে কি পরিমান বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের কমতি আছে তা সাধারন ভুক্তভেগিরাই জানে।
আমি শুধু ডি.এম.সি'র কথা বলছি না, আমি বড় সবগুলো কলেজকেই বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিনত হতে দেখতে আগ্রহী, কারন এতে চিকিৎসার বিকেন্দ্রীকরন হবে। গরিব মানুষ তাদের আশে পাশের ইউনিভার্সিটি হসপিটাল থেকেই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসা নিতে পারবে।
আপনি বলেছেন এতে করে নাকি মানুষের বিদেশে চিকিৎসা নেবার হার বেড়ে যাবে। আমি মনে করি যাদের সে সামর্থ আছে, সে ডি.এম.সি'র সেবার জন্য বসে থাকে না। তাদের নিয়ে আমাদের চিন্তা না করে যাদের এমনকি ঢাকায় আসারও সামর্থ নেই, তারা যেন বরিসাল বা খুলনা মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতাল থেকে বিশেজ্ঞ চিকিৎসা নিতে পারে, সেই চিন্তা করা ভাল নয় কি?
আমি স্বিকার করি, গরিব দেশে সবকিছুতেই কমতি থকিবে, কিন্তু লাগুক ১০ বছর, শুরু তো হোক।
০৭ ই জানুয়ারি, ২০১২ রাত ৯:০১
প্রতিবাদীকন্ঠ০০৭ বলেছেন: ধন্যবাদ,
খরচের ব্যাপারে আমি একমত।
কিন্তু যে গবেষণার কথা বলছেন, বা যে বিশেষজ্ঞ চিকিতসকের কথা বলছেন তাদের তৈরি করতে হলে তো জায়গার ব্যবস্থা করতে হবে। ওয়ার্ড গুলোকে ইউনিটে ভাগ করার পরেই তো ৩০-৪০ জনের ডাক্তার থাকে এক একটা দলে। এত কম জায়গায় এত প্রফেসর, এত অনারারী, এত রেসিডেন্ট, আই এম ও, ইন্টার্ন, ছাত্র ছাত্রী থাকলে রোগী ই তো জায়গা পাবে না। অনেকগুলা অদ্ভুত মেডিকেল ইউনিভার্সিটি করে ইন্টারন্যাশনালি রিকগনাইজড মেডিকেল কলেজ গুলাকে বিলুপ্ত না করে, মান সম্মত ২/৩ টা মেডিকেল ভার্সিটি করা কি এতটাই কঠিন ছিল ?
যতদূর জানি, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী রংপুরে কারমাইকেল কলেজ কে ইউনিভার্সিটি করেন নাই, নতুন ভার্সিটি তৈরি করে দিলেন, উনার মনে হয়েছে যে কারমাইকেল বা ভার্সিটিতে রুপান্তরিত না করে নতুন ভার্সিটি দিলে জনগণের উপকার হবে। আমার জানা তথ্য ভুল ও হতে পারে।
তবে সময় ই বলে দিবে কোন টা ভাল হবে বা হচ্ছে ! তবে আমি বিশ্বাস করি দেশের চিকিতসা ব্যবস্থা কে উন্নত করতে হলে, আন্ডার গ্রাজুয়েট কে আরো শক্তিশালী করতে হবে, না হলে আমাদের দেশে পোস্ট গ্রাজুয়েটদের সুবিধা হবে অনেক কিন্তু তা হব বিদেশের আন্ডার গ্রাজুয়েটদের সমান।
আর সবখানে চিকিতসা সেবা ছড়িয়ে দিতে হলে, প্রধানতম কাজ সম্ভবত চিকিতসক দের রাজনীতি বন্ধ করা, ড্যাব, স্বাচিপের বিলুপ্তি আর নিয়োগ, প্রমোশন এর ক্ষেত্রে দলীয়করণ বন্ধ করা, তাহলেই অনেক কাজ হয়ে যাবে। না হলে কোন কিছুতেই কোন লাভ হবে বলে মনে করি না।
আর শেষ প্রশ্ন, নাম পরিবর্তন করে ইন্টারন্যাশনাল রিকগনিশন হারাবে, তার কি হবে ?
বাইরের দেশে তো মেডিকেল কলেজ ও যে নেই ভাই, ওখানে তো নাকি মেডিকেল স্কুল বলে ! কিন্তু ওরা তো এটাকেই প্রতি নিয়ত উন্নত করার চেষ্টা করে যাচ্ছে !
পরিশেষে আপনাকে আবারো ধন্যবাদ।
৫|
০৭ ই জানুয়ারি, ২০১২ রাত ১১:১১
সংবাদিকা বলেছেন: ইউনিভার্সিটি নামের প্রতি আমাদের দেশের মানুষের এক আলাদা আকর্শন আছে......
এজন্য BIT গুলোকে ইউনিভার্সিটি করা হয়েছে...... টেক্সটিয়াইল ইউনিভার্সিটি ( বিশ্বের মধ্য ২য় আরেকটি পকিস্থানে, হে হে তাদের অনেক চিন্তা ভাবনা আমাদের এখনো পিছু ছাড়েনি, হাজার হোক ২৩ বছর একসাথে ছিলাম
) করা হয়েছে...... এখন মেডিক্যাল ইউনিভার্সিটি...... প্রকৃত প্রস্তাবে নতুন বোতলে পুরনো____
আসলে ইউনিভার্সিটির সংজ্ঞা কি তা বোধয় উচ্চ মহলে ঠিক ভাবে জানা নেই কিংবা রাজনৈতিক কারনে এটা করা হয়...... কই IIT কেত ইউনিভার্সিটি করার দাবি উঠেনা...... আমাদের দেশের জনগণেরও বোঝার অভাব আছে...... আগে BIT থেকে পাশ করাদের ততটা গোনায় ধরা হতনা
(অবশ্যই নন টেকনিক্যাল সমাজে, বিশেষত বিয়ে বাজারে
) এখন ওইটা নাই...... কারন তারা ইন্সটিউটে নয় ইউনিভার্সিটি থেকে পাস করা...... :
) অবশ্য টেকনিক্যাল জগতে নিশ্চয় ওই বিখ্যাত ইন্সটিউট (MIT, IIT ইত্যাদি) থেকে পাশ করারা অনেক ইউনিভার্সিটি থেকে পাশ করা থেকে বেশি মেধাবী হিসেবে পরিচিত......
আসলে সরকারী নথীতে ইউনিভার্সিটির সংজ্ঞাটিকে সংশোধন করতে হবে...... আমাদের দেশে ইউনিভার্সিটি ছাড়া অন্যান্য নামের/লেভেলের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের স্বাধীন হবার ক্ষমতা নেই......
০৮ ই জানুয়ারি, ২০১২ সন্ধ্যা ৬:৩৯
প্রতিবাদীকন্ঠ০০৭ বলেছেন: একেকটা ইউনিভার্সিটি করতে যে অনেক বড় জায়গা, সুযোগ সুবিধার প্রয়োজন এটা বুঝতে পারি না আমরা, আর তাই একটা মেইন রোডের ধারে দাঁড়িয়ে থাকে একে র পর এক প্রাইভেট ভার্সিটি।
( অনেক দেশের লাইব্রেরী ই আমাদের এসব ভার্সিটির দ্বিগুণ , আর আমরা তো লাইব্রেরীর গুরুত্ব ই বুঝি না )
লেখাপড়ার পাশাপাশি সাংস্কৃতিক কর্মকান্ড, নিবিড় প্রশিক্ষন, গবেষণা, সম্পূর্ণ রাজনীতি মুক্ত সুস্থ বুদ্ধির চর্চা ও যে প্রয়োজন, তা এদের বুঝাবে কে !
সুতরান যেটা স্কুল সেখানেই কলেজ, যেটা কলেজ সেটাকেই ইন্টার এর পাশাপাশি অনার্স, আর যেটা আন্ডারগ্রাজুয়েটদের জন্য ই যথেষ্ট না, তা কে নামে বিশ্ববিদ্যালয় করাকেই সার্থকতা মনে করি।
মাঝে মাঝে ভাবি, স্বাধীনতার আগেই তো ঢাকা ইউনিভার্সিটি, ঢাকা মেডিকেল হয়েছিল, স্বাধীনতার পরে বারং বার কেন এর মাঝেই আমরা নতুন নতুন স্থাপনা তৈরি করছি ? একেবারে নতুন আন্তর্জাতিক মানের মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল কি স্বাধীন বাংলাদেশ সরকারের করার পথে এতই বাধা ??? বাংলাদেশ সরকার চাইলে একেবার নতুন আন্তর্জাতিক মানের মেডিকেল ভার্সিটি করার যোগ্যতা রাখেন না, এটা আমি অন্তত বিশ্বাস করি না ।
ধন্যবাদ আপনার মন্তব্যের জন্য।
৬|
০৭ ই জানুয়ারি, ২০১২ রাত ১১:১২
লেখাজোকা শামীম বলেছেন: কলেজগুলোকে ভার্সিটি করার সিদ্ধান্ত যৌক্তিক। আপনার সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করি।
আমার সর্বশেষ পোস্ট :
কোচিং বাণিজ্য : লেজই এখন কুকুর নাড়াচ্ছে
০৮ ই জানুয়ারি, ২০১২ সন্ধ্যা ৬:২৪
প্রতিবাদীকন্ঠ০০৭ বলেছেন:
লেখাজোকা শামীম ভাই, আপনার সাথে আমি বা আমার সাথে আপনি কবে একমত হব বা হবেন ???
আপনার লেখা টা ভাল হইছে। আপনার লেখার সূত্র ধরে বলতে চাই মেডিকেল ভার্সিটি হয়ে গেলে এবং যদি আন্ডার গ্রাজুয়েট ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তখন দেখবেন মেডিকেল ছাত্র ছাত্রীরা কোচিং এ দৌড়াচ্ছে !
৭|
০৮ ই জানুয়ারি, ২০১২ রাত ১২:৩৫
রায়হান কবীর বলেছেন: ঢাকা মেডিকেল এ এখন ভর্তি রোগীরা প্রায় অধিকাংশ ওষুধি ফ্রী পাচ্ছে। সকল সার্জারি ফ্রী, সিটি স্ক্যান ২০০০ টাকা, অন্যান্য পরীক্ষা প্রায় সবগুলোও হসপিটাল এঁর প্যাথলজিতে দেশের সবচেয়ে কম রেটে করা হয়। রোগী বহির্বিভাগে দেখাতে লাগে ১০ টাকা, অনেক ওষুধ ফ্রী দেয়া হয় আউটডোরে।
ঢাকা মেডিকেল এঁর ছাত্ররা এখন আগের মতো শিক্ষকদের কাছ থেকে বেশি সময় পায় না, অনেক শিক্ষকই পোস্ট গ্রাডুয়েট নিয়ে ব্যস্ত থাকেন। প্রশ্ন হচ্ছে গাছের গোড়াতে পানি, সার না দিয়ে মাথায় দিলে সেই গাছ কয়দিন বাঁচবে? এমবিবিএস লেভেল হচ্ছে মেডিকেল নামক গাছের গোড়া। বিশ্ববিদ্যালয় না হতেই এমবিবিএস এঁর মান কমে যাচ্ছে সেখানে বিশ্ববিদ্যালয় হলে এমবিবিএসই থাকবে না। ভালো ডাক্তার হওয়ার পথ বন্ধ হয়ে যাচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী বাইরে কতটা বুঝতে পারবেন ঢাকা মেডিকেল কেমন চলছে? ঢাকা মেডিকেল চালাচ্ছেন এর পরিচালক। পরিচালক কড়া হলে হসপিটাল বাপ বাপ করে চলে। এখন যে পরিচালক আছেন উনি আসার পরে হসপিটাল অনেক ভালো হয়েছে। হসপিটাল এখন অনেক পরিস্কার, নিয়মিত সব সাপ্লাই থাকে।
কেউ যদি হসপিটাল এর আসল চিত্র দেখতে চান তবে তাকে কমপক্ষে ২৪ ঘণ্টা হসপিটাল এ থেকে বুঝতে হবে সেবা কিভাবে দেয়া হচ্ছে।
ঢাকা মেডিকেল এর রাজনৈতিক ডাক্তাররা কখনই পাঙ্কচুয়াল ছিলেন না আর বিশ্ববিদ্যালয় হলে সারা জীবনেও তারা ঠিক হবেন না। এখন তাদের একটু হলেও ট্রান্সফারের ভয় থাকে কিন্তু ভার্সিটি হলে সেই চিন্তা থাকবে না। সারা জীবন ঢাকায় বসে বিকেলে প্রাকটিস করতে পারবেন আর সকালে স্বাচিপ আর ড্যাব করে বেড়াবেন। বুঝতেই পারছেন কেন বড় বড় নেতারা ঢাকায় থাকার জন্য, দেশের সেরা হসপিটালে সারা জীবন স্থায়ী ভাবে পড়ে থাকার জন্য উঠে পড়ে লেগেছেন। কিছু নষ্ট ডাক্তারের জন্য দেশের আগামীর ডাক্তার সমাজ হতে যাচ্ছে আগা মোটা গোড়া চিকন ডাক্তার সমাজ যাদের এমবিবিএস এর আগা মোটা কিন্তু গোড়া চিকন। এই দুরবস্থার হাত থেকে বাচতে সবাইকেই আজ এগিয়ে আসতে হবে।
০৮ ই জানুয়ারি, ২০১২ সন্ধ্যা ৬:৩১
প্রতিবাদীকন্ঠ০০৭ বলেছেন: রায়হান কবীর খান,
কখনো কখনো একটা মন্তব্য ই একটা পোস্টের থেকে সুন্দর আর শক্তিশালী হয়ে থাকে।
সুন্দর যুক্তিপূর্ণ মন্তব্য করার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।
আপনার মন্তব্যের সাথে একমত।
৮|
০৮ ই জানুয়ারি, ২০১২ সন্ধ্যা ৬:৫৬
মোবাশ্বের আহমেদ বলেছেন: মেডিকেল ভার্সিটি অবশ্যই প্রয়োজন । তবে অবশ্যই তা মেডিকেল কলেজগুলো থেকে আলাদা বিভাগ অনুযায়ী হওয়া উচিত্ যাতে ঐ বিভাগের অন্য কলেজগুলো ঐ ভার্সিটির আণ্ডারে থাকে । নাহলে ভবিষ্যত স্বমন্ধে লেখকের সাথে একমত ।
০৮ ই জানুয়ারি, ২০১২ সন্ধ্যা ৭:২৩
প্রতিবাদীকন্ঠ০০৭ বলেছেন: ধন্যবাদ ব্লগার মোবাশ্বের আহমেদ।
আমি এই কথাটি ই বলতে চাচ্ছি। নতুন মেডিকেল ভার্সিটি চাই অবশ্য ই। কিন্তু রূপান্তরিত মেডিকেল ভার্সিটি নয়।
তাহলে যে, বাইরের দেশের আন্ডার গ্রাজুয়েট রা অনেক ক্ষেত্রে আমাদের পোস্ট গ্রাজুয়েট দের সমান হয়ে যেতে পারে !
ঐ দেশে আন্ডার গ্রাজুয়েট দের সমান সুবিধা না পাই, অন্তত যা আছে সেটাকেই তো প্রতি বছর উন্নতি করা উচিত, না করে এ যে আন্ডার গ্রাজুয়েশন কে ই গলা টিপে মেরে ফেলা হচ্ছে।
আর এতে লাভবান বাংলাদেশ কিভাবে হবে ???
যেকোন একটা নতুন মেডিকেল ব্যাং এর ছাতার মত গজিয়ে উঠলে দেখা যাবে সেটার মান আর শ্রেষ্ঠ মেডিকেল গুলা র মান একি। সবগুলা র মান অবশ্য সমান হয়ে যাবে। তাও হয়ত দেখা যাবে সবাই এ প্লাস, কিন্তু আসলেই যে ক্ষতি টা হবে তা যখন আমরা বুঝতে পারব, তখন আমাদের বয়স হবে আরো ২০-৩০ বছর বেশি !
৯|
০৪ ঠা ফেব্রুয়ারি, ২০১২ সকাল ১০:৪৭
তানভীর জালাল বলেছেন: সরকার পর্যায়ক্রমে দেশের পুরনো কয়েকটি মেডিকেল কলেজকে বিশ্ববিদ্যালয় এ রূপান্তরিত করার চিন্তা ভাবনা করছে। কিন্তু কেন এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে তার কোন যুক্তিসঙ্গত কারন আমরা খুঁজে পাচ্ছি না। সারা বিশ্বে যেখানে এইসব প্রতিষ্ঠান স্কুল হিসেবে পরিচিত সেখানে এইগুলিকে নাম সর্বস্ব বিশ্ববিদ্যালয়ে রুপান্তর করার মাধ্যমে কি স্বাস্থ্য সেবার খাতকে বেসরকারি করনের প্রক্রিয়া শুরু করতে চাইছে? ঢাকা মেডিকেল সহ আরও ৬টি মেডিকেলকে বিশ্ববিদ্যালয় করার যে চিন্তা ভাবনা চলছে তা স্বাস্থ্য শিক্ষা ও স্বাস্থ্য সেবার জন্য কোন সুফলত বয়ে আনবেইনা বরং তা সবার জন্য একটা বিশাল ক্ষতি ও অরাজকতা বয়ে নিয়ে আসবে।
এইসব মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল গুলো সরাসরি সরকারী অনুদানে চলে আর এখানে লাখ লাখ রোগী জরুরী সেবা সহ সব ধরনের সেবা বিনামূল্যে পেয়ে থাকে । এই সব প্রতিষ্ঠান গুলো যে ধরনের স্বাস্থ্য সেবা দেয় তা দেশের আর কোথাও দেয়া সম্ভব নয়। এখানে ধারণ ক্ষমতার কয়েক গুন রোগী থাকে। দেশের আপামর জনসাধারনের স্বাস্থ্য সেবার শেষ আশ্রয় এইসব হাসপাতাল। বলা যায় দেশের স্বাস্থ্য সেবার মেরুদণ্ড হল এই সব প্রতিষ্ঠান। যেহেতু সরকার দেশের মানুষের স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করতে অঙ্গিকারাবদ্ধ তাই এইসব প্রতিষ্ঠানকে কোন ভাবেই বিশ্ববিদ্যালয়ের নামে বেসরকারি করন বা অস্থিরতার মাঝে ঢেলে দিয়ে জনগণের স্বাস্থ্য সেবাকে ক্ষতিগ্রস্ত করা সমীচীন হবে না।
এসব প্রতিষ্ঠান হল দেশের ডাক্তার তৈরির কারখানা। দেশের বেশিরভাগ ডাক্তার এখান হতে বের হচ্ছে। যেহেতু এসব হাসপাতালে বিনা মূল্যে স্বাস্থ্য সেবা পাওয়া যায় তাই এখানে রোগীর অভাব নাই। আর এই রোগীর প্রাচুর্যের কারনেই এগুলো হল আদর্শ ডাক্তার তৈরির কারখানা। তাছাড়া সর্ব স্তরের ডাক্তারদের জন্য এখানে রয়েছে ট্রেনিং এর ব্যবস্থা। এখানে শতশত ট্রেনিং পোস্ট আছে, সেই সব পোস্টে হাজার হাজার ডাক্তার ট্রেনিং নিচ্ছে। একজনের ট্রেনিং শেষ হলে তার স্থলে অন্য একজন আসছে। এভাবে পর্যায়ক্রমে সকলেই পর্যাপ্ত ট্রেনিং পেয়ে মান সম্মত ডাক্তার হচ্ছে। যদি এইসব প্রতিষ্ঠানকে বিশ্ববিদ্যালয় করা হয় তাহলে এইসব ট্রেনিং পোস্টে ট্রেনিং এর জন্য সরকারী ডাক্তাররা আসতে পারবে না। ট্রেনিং এর প্রক্রিয়াটাও বন্দ হয়ে যাবে। ডাক্তার তৈরির প্রক্রিয়া হুমকির মধ্যে পড়বে। ঠিক যেমনটি হয়েছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় এ। এই বিশ্ববিদ্যালয় এ এখন কোন সরকারী ডাক্তার কোর্স ব্যতিত ট্রেনিং নিতে পারছে না। এতে করে ডাক্তারদের বিরাট একটা অংশ ট্রেনিং থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। আর যদি এইসব প্রতিষ্ঠানকে নাম সর্বস্ব বিশ্ববিদ্যালয় এ পরিণত করা হয় তবে জাতি যে এক বিশাল সঙ্কটে পড়বে এতে কোনই সন্দেহ নাই।
অনেকে ভাবছেন কলেজ থেকে বিশ্ববিদ্যালয় হচ্ছে,এটাত অনেক ভালো হচ্ছে। সবার আপগ্রেড হবে, সেবার মান বাড়বে, রিসার্চ হবে ইত্যাদি ইত্যাদি। আমরা অনেকেই জানিনা যে এইসব মেডিকেল কলেজ গুলো কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় এরই অংশ। এখানকার ছাত্ররা সবাই বিশ্ববিদ্যালয়েরই ছাত্র। যেমন ঢাকা মেডিক্যাল হল ঢাকা ইউনিভার্সিটি এর মেডিসিন ফ্যাকাল্টি এর অংস। এইসব বিশ্ববিদ্যালয় থেকেই এমবিবিএস কোর্সের সনদ দেয়। তাই এখানে আপগ্রেড হওয়ার কোন প্রশ্ন নাই বরং সার্টিফিকেট থেকে যখন এইসব বিশ্ববরেণ্য প্রতিষ্ঠানের নাম মুছে যাবে তখন নাম সর্বস্ব এইসব বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাশ করে সারা বিশ্বের কাছে গ্রহন যোগ্যতা হারাবে। আমাদের রিসার্চ হল রোগী নিয়ে যত বেশী রোগী তত বেশী রিসার্চ এর সুযোগ। বিশ্ববিদ্যালয় এর সাথে রিসার্চ এর তেমন সম্পর্ক নাই। সেবার মান বারানোর সাথে বিশ্ববিদ্যালয়ের কোন সম্পর্ক নাই। মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় এই কনসেপ্টটাই একটা ভুল কনসেপ্ট। সারা বিশ্বে মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় এর সংখ্যা নগণ্য। আর এগুলো ভালো কোন প্রতিষ্ঠানও নয়। আসলে এই রকম একটি বিষয় নিয়ে কখনও বিশ্ববিদ্যালয় হয় না। বিশ্ববিদ্যালয় মানেই সেখানে থাকবে সব বিষয়ের মিলন কেন্দ্র।
ডাক্তারদের অনেক দিনের দাবি ছিল একটি মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় এর। যদিও আসলে এই দাবিটি একটি ন্যায্য দাবি নয়। কারন একটি বিষয় নিয়ে একটি বিশ্ববিদ্যালয় এটা অনেকটা হাস্যকর। তারপরও অনেক দাবি দাওয়ার পর ১৯৯৮ সালে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার আইপিজিএমআর কে বিএসএমএমইউ নাম দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় ঘোষণা করে। যদিও অনেকের দাবি ছিল আলাদা একটি বিশ্ববিদ্যালয় কিন্তু তা হয়নি। তারপরও সবাই খুশি হল যে যাক একটা বিশ্ববিদ্যালয়ত হল। কিন্তু এই বিশ্ববিদ্যালয় তেমন কোন সুফল বয়ে আনেনি। এখানে ঘটেছে নির্ভেজাল দলীয়করন , সাধারন জনগণের সেবার খাতকে করা হয়েছে সঙ্কুচিত, সেবা পেতে যে টাকা আর লাইন দিতে হয় তাতে অনেক রোগীই অন্যত্র চলে যেতে বাধ্য হন। সরকারী দল সব সময় এটাকে দলীয় সম্পদ মনে করে দলীয় লোকের নিয়োগ, প্রমোশন, অন্য দলের লোকদের ছাটাই এইসব করে বেড়ায়। এই বিশ্ববিদ্যালয় হওয়াতে দেশ,জাতি, রোগী বা সাধারন ডাক্তারদের কোন লাভ হয়নি। বরং সব দিক দিয়ে ক্ষতি হয়েছে। শুধু দলীয় কিছু ডাক্তার এর লাভ হয়েছে। এখন আবার কিছু সংখ্যক দলীয় ডাক্তার ও প্রফেসর আরও কিছু মেডিক্যাল কলেজ কে বিশ্ববিদ্যালয় নাম দিয়ে ব্যক্তি স্বার্থ হাসিলের জন্য উঠে পড়ে লেগেছেন। এইসব প্রতিষ্ঠানকে বিশ্ববিদ্যালয় নাম দিয়ে দলীয়করণ করে দেশের স্বাস্থ্য সেবা ও শিক্ষাকে ধ্বংস করা কোন ভাবেই উচিৎ নয়। সচেতন নাগরিক হিসেবে কেওই এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানাতে পারে না। আমাদের আসলে মেডিক্যাল ইউনিভার্সিটি এর কোনই প্রয়োজন নাই। দেশের আপামর জনসাধারন এর স্বাস্থ্য সেবাকে হুমকির মুখে ফেলে, ডাক্তার তৈরির কারখানা গুলকে অকেজো করে, সারা বিশ্বে স্বীকৃত এইসব প্রতিষ্ঠানকে নাম মাত্র বিশ্ববিদ্যালয় এ রূপান্তরিত করে দলীয় প্রতিষ্ঠানে পরিণত করার কোনই প্রয়োজন নাই। যদি বিশ্ববিদ্যালয়/প্রতিষ্ঠান করতেই হয় তাহলে নুতন ভাবে করা হোক। এতে সবারি উপকার হবে, কেউ ক্ষতি গ্রস্ত হবে না।
০৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১২ দুপুর ২:৩৪
প্রতিবাদীকন্ঠ০০৭ বলেছেন: ধন্যবাদ ব্লগার তানভীর জালাল ভাই।
কখনো কখনো একটা মন্তব্য একটা পোস্ট এর চেয়েও অনেক ভাল হয়। আপনি আবারো তা প্রমাণ করলেন। তবে, প্রাথমিক জনসচেতনতা মনে হয় ছড়ানো হয়ে গিয়েছে। মার্চ মাসের প্রথম দিকে একটা সংবাদ সম্মেলন করার প্রস্তুতি হয়ত নেয়া উচিত। এবং এর পক্ষে অন্তত ৫০ জন কে প্রেসক্লাব এর সামনে জড়ো করা যায়। এছাড়া এটা নিয়ে প্রথম আলোতে সম্পাদকীয় লেখা যায় কিনা, এটা ও একটা ব্যাপার। প্রথম আলোতে এ নিয়ে পরপর ২ টা সম্পাদকীয় আর একটা সংবাদ সম্মেলন হয়ত কাজে দিতে পারে। ধন্যবাদ।
১০|
১১ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১২ সকাল ৭:৫১
তানভীর জালাল বলেছেন: দেশে এখন বিশ্ববিদ্যালয় এর জোয়ার বইছে। কথায় কথায় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে বিশ্ববিদ্যালয় বানিয়ে আপগ্রেড এর ফোয়ারা চালু হয়ে গেছে। আমি জানতে চাই বিশ্ববিদ্যালয় মানে কি? বিশ্ববিদ্যালয় নাম দিলেই কি আমাদের গ্রেড বেড়ে গেল! আমাদের মনে যা আসে তাই আমরা করছি। অগ্রপশ্চাৎ কিছু না ভেবেই আমরা বাহাবা নেয়ার জন্য একটা হাস্যকর কাজ করে ফেলছি। আজকাল কথায় কথায় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে বিশ্ববিদ্যালয় এ রূপান্তরিত করা হচ্ছে। কিন্তু আমরা বিশ্ববিদ্যালয় এর সংজ্ঞাটাই সম্ভবত ভুলে গেছি। বিশ্ববিদ্যালয় মানে যেখানে সব ধরনের জ্ঞান এর চর্চা হয় আর যেথা হতে সব বিষয়ের উচ্চতর ডিগ্রি দেয়া হয়। কিন্তু আমাদের দেশে আজকাল এই বিশ্ববিদ্যালয় নামটার অপব্যবহার চালু হয়েছে। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে ঢালাও ভাবে বিশ্ববিদ্যালয় নাম দিয়ে দেয়া হচ্ছে। এতে করে ব্যাপারটা অনেকের মাঝে হাস্যরসের জন্ম দিয়েছে। কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় ইত্যাদি ইত্যাদি। নামত দেয়া সহজ কিন্তু এটা কি ঠিক হচ্ছে? একটা বিষয় নিয়ে যদি একটা বিশ্ববিদ্যালয় হয় তাহলে কি ওঁটা হাস্যকর হচ্ছে না? সারা দুনিয়ার কোথাও কি এই নজির আছে? সারা দুনিয়ায় যেখানে এইসব বিষয় গুলো বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় এর আন্ডারে স্কুল হিসাবে আছে আমরা তাঁদের নাম দিচ্ছি বিশ্ববিদ্যালয়! আর এতে মনে করছি ওদের মান অনেক বেড়ে গেল! আমরা যে কতটা বোকার স্বর্গে বাস করছি তার বলার আর অপেক্ষা রাখে না। লোকজন এইসব দেখে আমাদের নিয়ে হাসে। যদি নাম দিলেই মান বেড়ে যেত তাহলে বিভিন্ন দেশের হাজার বছরের সেই সব প্রতিষ্ঠান অনেক আগেই বিশ্ববিদ্যালয় নাম নিয়ে ফেলত। আসলে এই নামের যে মানে তাই আমরা জানি না। আর জানিনা বলেই আমরা এইভাবে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে বিশ্ববিদ্যালয় নাম দিয়ে নিজেদের অজ্ঞতাকে প্রকাশ করছি। মানে না বুঝলে কেউ গালি দিলেও মনে হবে আশীর্বাদ করছে। তাই মানে বুঝা জরুরী। কখন একটা প্রতিষ্ঠানকে বিশ্ববিদ্যালয় বলা যাবে তাও জানা জরুরী। তাই কোন কিছুকে নাম করনের আগে তার যথারততা প্রমান করা জরুরী। আমার মনে হয় আমাদের অজ্ঞতাই আমাদেরকে এই ধরনের হাস্যকর সিদ্ধান্তের দিকে নিয়ে যাচ্ছে। এইভাবে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে নাম সর্বস্ব বিশ্ববিদ্যালয় বানানো কোন প্রয়োজন নাই। নাম করনের মাধ্যমে এঁদের আপগ্রেড না করে বরং ডাউনগ্রেড করা হচ্ছে। উদাহরন স্বরূপ বলা যায় যে সরকার ঢাকা মেডিকেল কলেজ কে বিশ্ববিদ্যালয় নাম দিয়ে আপগ্রেড করার চিন্তা করছে। কিন্তু বাস্তবে কি হবে দেখুনঃ ঢাকা মেডিকেল একটি দুনিয়াযোরা স্বীকৃত প্রতিষ্ঠান। এটা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এর মেডিকেল অনুষদের একটা অংশ। ঢাকা মেডিকেল এর ছাত্ররা ঢাকা ইউনিভার্সিটি এর ছাত্রই। ওনারা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় হতেই সার্টিফিকেট পায়। ঢাকা মেডিকেল কলেজকে ইউনিভার্সিটি করলে ছাত্ররা ঐ ইউনিভার্সিটি থেকেই সার্টিফিকেট পাবে। আমার প্রশ্ন ঢাকা মেডিকেল ও ঢাকা ইউনিভার্সিটি থেকে এখন যে সার্টিফিকেট পায় তার দাম কি ঢাকা মেডিকেল ইউনিভার্সিটি থেকে প্রাপ্ত সার্টিফিকেট এর সমান হবে? কখনই নয়। দুটা স্বীকৃত প্রতিষ্ঠানের নাম মুছে সদ্য প্রসূত একটা নাম সর্বস্ব মেডিকেল ইউনিভার্সিটি এর সার্টিফিকেট কতটা গ্রহণযোগ্য! এভাবে নাম পরিবর্তনের ফলে দীর্ঘ দিনের গড়ে উঠা ঐতিজ্জ নিমিষে হাওয়ায় মিলিয়ে যাবে। তাহলে আদতে কি হল? আপগ্রেড না ডাউনগ্রেড? আমাদের এইসব ঐতিহাসিক প্রতিষ্ঠান গুলোকে দেশ ও জনগণের স্বার্থে রক্ষা করা নিতান্তই অপরিহার্য। এইগুলিকে ইউনিভার্সিটি নাম দিয়ে কিছু লোক নিজেদের ব্যক্তি স্বার্থ চরিতার্থ করতে চাচ্ছে। এতে দেশ,জনগন,ছাত্র কারো কোন লাভ হবে না। আসুন সবার স্বার্থে এই অপ্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত বাতিল করুন।
০১ লা মার্চ, ২০১২ রাত ৯:০২
প্রতিবাদীকন্ঠ০০৭ বলেছেন: একমত।
©somewhere in net ltd.
১|
০৭ ই জানুয়ারি, ২০১২ বিকাল ৫:০৭
ওসমাণ বলেছেন: একেবারেই খোড়া যুক্তি। একটি মেডিকেল কলেজ ও মেডিকেল বিশ্বাবদ্যালয়ের মূল পার্থক্য হল, কলেজে কেবল অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিনে কিছু ডিগ্রি দেয়া হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ে ডিগ্রি দেয়ার পাশাপাশি চিকিৎসা শিক্ষা ও সেবার পাশাপাশি গবেষনা ও শিক্ষার আধুনিকায়ন ও সম্ভব হবে।
আমাদের দেশে সকল মেডিকেল কলেজ থেকেই শিক্ষক ও চিকিৎসক গনকে একমাত্র মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বি.এস.এম.এম.ইউ) উচ্চ শিক্ষা নিতে ডেপুটেশনে ঢাকায় এসে বসে থাকতে হয় বছরের পর বছর। এতে করে ঢাকার বাইরের জনগন বঞ্চিত হচ্ছে সেবা থেকে।
আবার শুধু বি.এস.এম.এম.ইউ এর মাধ্যমে মেডিকেল উচ্চ শিক্ষাকে সহজলভ্য করা সম্ভব নয়। যার কারনে আমরা ঢাকার বাইরে বিশেষজ্ঞ ডাক্তার পাইনা বললেই চলে। ইতিমধ্যে যে সব বড় মেডিকেল কলেজ রয়েছে তাদের কে বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরিত করতে পারলে উচ্চ শিক্ষার সুযোগ প্রশারিত হবার মাধ্যমে প্রান্তিক জনগন বিশেষজ্ঞ সেবা পাবে। সেই সাথে চিকিৎসা গবেষনার মাধ্যমে দেশ উপযোগি চিকিৎসা সেবার আধুনিকায়ন ও সম্ভব হবে।
অনুরোধ করব কেবল বিরোধিতার স্বার্থে এই ভাল উদ্দ্যোগ কে বিরোধিতা করবেন না।