নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

মাথায় কত প্রশ্ন আসে, দিচ্ছে না কেউ জবাব তার

কামবুল বস

আগে একটু লেখালেখি করতাম। এখন ফূল টাইম বিজনেস।

কামবুল বস › বিস্তারিত পোস্টঃ

ক্ষমতার রাজনীতি বনাম আঁতাতের রাজনীতি!

০৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৩ ভোর ৫:৪৯

কাদের মোল্লার রায়ে এটা প্রমান হলো, জীবনের জন্য রাজনীতি. মৃত্যুর জন্য নয়!

আওয়ামীলীগ দেখিয়ে দিলো, রাজনীতি কাহাকে বলে, উহা কত প্রকার ও কি কি! যারা মনে করেছিলেন, আওয়ামীলীগ যুদ্ধাপরাধের বিচার করে জাতি কলঙ্কমুক্ত করতে চায়, তারা বোকার স্বর্গে বাস করেন, এটা এখন প্রমানিত। আসলে সবই পলিটিক্স! তবে আ”লীগের সামনে অনেক কঠিন পাড়ি। এরপরে তরুন ভোটার, মুক্তিযুদ্ধের শক্তির নামধারী ও বামপন্থীরা আওয়ামীলীগ সম্পর্কে আগ্রহ হারিয়ে ফেলবে। অবশ্য হাসিনা লীগ একটা কথা বলতে পারে, আবার ক্ষমতায় আসা নিশ্চিত করতে জামায়াতকে বিএনপি থেকে ছুটাতে এমনটি করতে হয়েছে। জামায়াতের আঁতাত নিয়ে ১৮ দলের অনেকে ক্ষুব্ধ। আবার জামায়াতের প্রতি সহানুভুীতশীল কেউ কেউ বলেছেন, ক্ষমতার জন্য বিএনপি যদি ইন্ডিয়া যেতে পারে, তবে জামায়াত নেতাদের বাঁচাতে আওয়ামীলীগের দ্বারস্থ হতে পারবে না কেনো। যুক্তি ঠিক আছে! তবে জামায়াতকে নিয়ে আওয়ামীলীগ কখনো প্রকাশ্যে জোট গড়তে পারবে বলে মনে হয় না। সেটা হবে আওয়ামীলীগের জন্য আত্মহত্যা! জামায়াতের সাথে কিছু করতে হলে তাদের দূর থেকে গোপনেই করতে হবে।



আওয়ামীলীগের মত জামায়াতও রাজনীতি করে। মাঠের শক্তির পাশাপাশি টেবিলে বসে তারা তাদের দরকারী কাজটি করে নিয়েছে। আপোষ করা ছাড়া জামায়াত কি করতে পারত? ত্যাড়ামি করে নিজের দলের মাথাগুলা জবাই করে দিতে পারত। আরো কয়েকশ কর্মী নিহত হতে পারত। তাতে দলের কি উপকার হতো? সেটা না করে ছাড় দিয়ে যদি আঁতাত করে নেতাদের বাঁচাতে চায়, দল হিসাবে তা করার স্বাধীনতা আছে বৈ কি! যারা জামায়াতের এই আঁতাত নিয়ে সমালোচনা করছেন, তাদের বলব, বিএনপি এবং জামায়াত দু’টো আলাদা দল। প্রত্যেকটা দলের আলাদা বৈশিষ্ট ও আলাদা ইস্যু। জামায়াত দল বাঁচাতে যা ভালো মনে করেছে, তাই করেছে। ম্যাডাম জিয়া জামায়াতকে খুব ভালো চিনেন। উনি বুঝে শুনেই পদক্ষেপ নিবেন। তবে জামায়াতের এ আঁতাত থেকে বিএনপির অনেক শেখার আছে। কেবল দাবীর যৌক্তিকতা থাকলেই চলবে না, মাঠে শক্তি দেখাতে হবে, এবং টেবিলে বসে নেগোসিয়শন করার দক্ষতাও থাকা চাই। সামনে ১০/১১ মাস খুবই গুরুত্বপূর্ন। মাঠে প্রবল চাপ দিলেই কেবল টেবিলে বসবে আওয়ামীলীগ, তার আগে নয়। মাঠ দখলে রাখা এবং সরকারকে আলোচনায় আসতে বাধ্য করার জানবাজি পদক্ষেপ নিতে হবে।



তাছাড়া, আওয়ামীলীগ বার বার জামায়াতকে কালিমামুক্ত করতে চাইছে, এ সুযোগটা তাদেরকে দিতে হবে না? এতদিন তারা জামায়াতের গায়ের দুর্গন্ধ নিয়ে হুলুস্থুল করছিলো, এখন সে কালিমা লীগ নিজেদের গায়ে মাখতে চাইছে, সে সুযোগটি তো তাদের দিতেই হয়! শাহরিয়ার কবির, মুনতাছির মামুন, পিয়াল বাহিনী এখন শীতনিদ্রায় যেতে পারেন। তারা এখন নিজেরাই ছাগুতে পরিণত! তার এখন যা, এটাই হলো ‘ছাগু’র সংজ্ঞ। আরাই প্রকৃত ছাগু। হাসিনা ইচ্ছা করলে তাদের বলে দিতে পারে, “আমি তো বাপু ঘাদানি করি না, রাজনীতি করি! আমার বাপ পদে পদে আপোষ করেছে, আমিও তার আদর্শ অনুসরন করি!” শেখ সাহেব যুদ্ধাপরাধ নিয়ে যে পলিসিতে ছিলেন, কন্য দেরীতে হলেও তা বুঝতে পেরেছে! পিতা অন্যের মাথায় লবন রেখে খেতো, এখন কন্যা কাঠাল ভেঙ্গে খাচ্ছে অন্যের মাথায়, এই যা ব্যবধান। সামনে দেখব, কবে জামায়াতের বাকী নেতাদের মুক্ত করে আদালত আদালত খেলা বন্ধ করা হয়! নইলে এই আদালতের গ্যাড়াকলে আ’লীগ একদিন নিজেরাই পরবে।



আরও অপেক্ষা করতে হবে, জামায়াত কি ১৮ দলীয় জোট থেকে অফিসিয়ালী বেরিয়ে যাবে, নাকি ক্ষীণ একটা সম্পর্ক রাখবে? তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবীর আন্দোলনে তারা কি মুখ বুজে থাকবে, নাকি সরকারের পক্ষ নিবে, নাকি বিএনপির দাবীর প্রতি মৌণ সমর্থন থাকবে কিন্ত মাঠে নামব না- এ অবস্থান। আ’লীগ ছাড়া সব দলের জন্যই কেয়ারটেকার সিষ্টেমস জরুরী।



সামনে ক্ষমতার লড়াই। ক্ষমতায় যাওয়াই হচ্ছে পলিটিক্সের মূল নীতি! রাজনীতি হচ্ছে একটা ম্যাথ। একটা ঘটলে অন্যটাও বদলাবে। এখন প্রতিনিয়ত নতুন নতুন ঘটনা ঘটতে থাকবে। আমরা দেখব এবং মূল্যায়ন করব সে সব। কে যেনো বলেছিলো, রাজনীতিতে শেষ কথা বলতে কিছু নাই!

মন্তব্য ০ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (০) মন্তব্য লিখুন

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.