নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

কিচ্ছুটি বলার নাই.......

জটিল ভাই

ঝটট্রিল সব জটিলতা

জটিল ভাই › বিস্তারিত পোস্টঃ

চাই ক্ষমতা!!!

০৪ ঠা মে, ২০২২ সন্ধ্যা ৬:১৮


(ছবি ফেইসবুক হতে)

বিসমিল্লাহিররাহ্'মানিররাহিম।
আসসালামুআলাইকুম।
কেমন আছেন সবাই? কেমন কাটছে ঈদ?

আমার পাওয়ার আমি দেখাইছি, তার পাওয়ার সে দেখাইছে।

একটা কৌতুকের কথা বড্ড মনে পরছে, সেটা দিয়েই শুরু করছি।

রেলের এক নববিবাহিত গেইটম্যান স্ত্রী নিয়ে ঘুরতে বের হয়ে রেল ক্রসিং-এ এসে বৌকে বললো,"আমার ক্ষমতা জানো?" নতুন বৌ না'সূচক মাথা নাড়ানোতে গেইটম্যান নিজের ক্ষমতা প্রকাশ করতে লাল নিশান উড়ালো। এতে একটি আন্তঃনগর ট্রেন থেমে গেলে বৌকে বলল, "দেখেছো আমার ক্ষমতা? একটা আস্ত ট্রেন থামিয়ে দিলাম!" বলে যখন খুব ভাব নিচ্ছিলো, এরইমাঝে লোকোমাস্টার নেমে এসে যখন জানলো অযথা ট্রেন থামানো হয়েছে তখনই ঠাস করে এক থাপ্পর মারলো। এ দেখে বৌ জানতে চাইলো এটা কি হলো? গেইটম্যান বললো, "আমি আমার ক্ষমতা দেখাইছি। আর সে তার ক্ষমতা দেখালো।" =p~ =p~ =p~

তা ইদানিং ফেইসবুকে ঢুকলে একটা বিষয় প্রায়ই লক্ষ্য করি যে, কেউ না কেউ হুঁয়া-হুঁয়া করছে আর বলছে, "স্টিকার কমেন্ট দেন। আইডি রিপোর্ট খাইছে।" তা সেদিন দেখি এমন একজন এইভাবে হুঁয়া-হুঁয়া করছে যে কিনা একটি প্রতিষ্ঠানের এইচআরে আছে। ফলে একটু পান হতে চুন খসলেই সো-কজ আর ফায়ারের উপ্রে অন্যদের রাখে। এতে কর্মীদের ডিমটিভেট হওয়া আর কষ্ট বুঝেনা।

এইচআরে থেকে ম্যানেজমেন্টের একটা বড় অংশে প্রভাব রাখায় নিজের অনেক ধ্যান-জ্ঞাণই প্রতিষ্ঠানের মূলমন্ত্র বলে চালিয়ে দেওয়ায় সক্ষম। ফলে কর্মীদের অন্যতম কাজ হচ্ছে এইচআরে তৈল-মর্দন। এতে এখন সবার উপরে প্রতিষ্ঠান সত্য, তাহার উপরে নাই! বিষয়টা অনেকটা এমন হয়ে গেছে। ফলে অনেকের জন্য নিজের স্বকীয়তা বজায় রেখে নীতিতে অটল থেকে সেই প্রতিষ্ঠানে প্রতিষ্ঠা পাওয়া হয় না। যদিও এই ক্ষতি মালিকের, এইচারের কিছু নয়।

তো এইচআর আবার নিজেকে ধার্মীক প্রচার করলেও প্রতিষ্ঠানে কেউ ধর্ম পালন করাটাকে সাপোর্ট করেনা। এইচআরের মতে প্রতিষ্ঠান কোনো ধর্ম-চর্চা কিংবা নীতি বাস্তবায়নের স্থান নয়। যার ইনার মিনিং অনেকটা, "এইচারকে তৈল-মর্দনই মূল নীতি।" সেক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানে কেউ আল্লাহ্'র নাম নিয়ে কাজ শুরু করাটা কিংবা দেখা-সাক্ষাতে সালাম বিনিময়টাকে এইচআরের কাছে হাইস্যকর লাগে। মনে হয় এসব লোক দেখানো কাজ। ধর্মকে রাখতে হবে ব্যক্তিগতভাবে নিষিদ্ধ বস্তুর মত করে লুকিয়ে। আবার তার নিজেকে অগাধ ধর্মীয় জ্ঞাণসম্পন্ন প্রমাণে জুরি নেই। প্রতিটি ধর্মীয় বিষয়ে তার নিজস্ব যুক্তি বিদ্যমান যদিও অনেক সময় তা ধর্মের সাথে সাংঘর্ষিক! তবুও ক্ষমতাবলে তাহাই সই।

কিন্তু অবাক ব্যাপার হচ্ছে এই এইচআরের মতো অনেকেই দেখি ঈদের মত ধর্মীয় উৎসবকে সার্বজনীন করতে উঠে পরে লাগে। যদিও তখন বিষয়টা আমাদের মতো বেকুবদের নিকটে হাইস্যকর আর সস্তা কাজ মনে হয়। যেমন আমার ইদানিং শুরু আর শেষে আল্লাহ্'র কথা বলাটা অনেকের নিকটেই স্ট্যান্ডবাজি মনে হতে পারে। কিন্তু আমার মনে হতে পারে ব্লগের মাধ্যমে দাওয়াতের কাজ পরিচালনা করা যেতেই পারে।

কিন্তু সেদিন নিউজ দেখলাম যে, কোনো এক নায়ক চলচিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে আল্লাহ্-কে সন্তুষ্ট করতে চাচ্ছেন। এটা রীতিমত হাইস্যকর বটে, ঠিক তজবী হাতে সিনেমা দেখতে যাবার মতো। যেহুতু চলচিত্রের নিষিদ্ধতা সম্পর্কে সুস্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে। তবে কি কর্পোরেট বা সোস্যাল মিডিয়াগুলোও এমন নিষিদ্ধ কোনো স্থান?

কিন্তু ইসলাম যেহুতু পূর্ণাঙ্গ জীবন বিধান, আর আল্লাহ্ সার্বভৌমত্বের অধিকারি তাই নিশ্চই আমাদের প্রতিটি কাজ ইসলাম মাফিক হওয়া বাঞ্ছনীয় সারা দুনিয়ায় যেহুতু সার্বভৌমত্ব এক আল্লাহ্'র। আর পূর্ণাঙ্গ জীবন বিধান কি কোনো নিষিদ্ধ বিষয় হতে পারে যা সবার সামনে প্রেজেন্টেবল নয়? তাই কর্পোরেটে কি করে একজন বিশ্বাসী বান্দার পক্ষে এইমর্মে কাজ করা সম্ভব যে এটি আল্লাহ্'র রাজত্বের বাহিরে? তবে কি তা ধর্মের সাথে সহযোগী?

আর মুসলমান তার কর্মের মাধ্যমে অন্যকে দ্বীন ইসলামের প্রতি আকর্ষিত করবে এটাই সঠিক পথ। তাই ধর্মীয় আচার-আচরণ তার পোশাক আর কথায় প্রকাশ পাওয়াই স্বাভাবিক। তবে এক্ষেত্রে এইচআরের মত করে নিজের জ্ঞাণকে ধর্মে অংশ হিসেবে প্রকাশের চেষ্টাও অবশ্যই গুনাহ্। কিন্তু যদি মুসলমানকে মুসলমানের মতো কর্ম করতে কেউ বাঁধা দিয়ে নিজের ক্ষমতা দেখাতে চায়, তবে সেক্ষেত্রে মুসলমানের উচিৎ প্রথমে বলা কৌতুকের ট্রেনের মতো দাঁড়িয়ে থেকে আল্লাহ্'র ক্ষমতার অপেক্ষা করা।

আল্লাহ্ সবাইকে সঠিক অনুভূতি নসিব করুন।

আল্লাহ্ হাফিজ।

মন্তব্য ১৪ টি রেটিং +৩/-০

মন্তব্য (১৪) মন্তব্য লিখুন

১| ০৪ ঠা মে, ২০২২ সন্ধ্যা ৭:২০

পদাতিক চৌধুরি বলেছেন: কৌতুক বলুন আর যাই বলুন মাথার উপর দিয়ে বেরিয়ে গেল। এপাড়ায় আর থাকব না....

০৪ ঠা মে, ২০২২ রাত ১০:২২

জটিল ভাই বলেছেন:
হাহাহাহাহাহা...... মাঝে-সাঝে মাথার উপ্রে দিয়া না গেলে আমার নামের সার্থকতা কি থাকে? =p~
জটিলবাদ প্রিয় ভাই।

২| ০৪ ঠা মে, ২০২২ সন্ধ্যা ৭:২৭

জুল ভার্ন বলেছেন: চমৎকার লিখেছেন। +

০৪ ঠা মে, ২০২২ রাত ১০:২৩

জটিল ভাই বলেছেন:
জাজাকাল্লাহ্ প্রিয় ভাই।

৩| ০৪ ঠা মে, ২০২২ রাত ১০:১০

রেজাউল৯৬ বলেছেন: এইচআর কি মাজে মাজে বিভিন্ন সুরার (যেমন সুরা মাউন) তাপসিরও লিখে নাকি?

০৪ ঠা মে, ২০২২ রাত ১০:২৪

জটিল ভাই বলেছেন:
কোরআন হাদীসের অনেক স্থান হতেই করে থাকেন।
জটিলবাদ।

৪| ০৪ ঠা মে, ২০২২ রাত ১০:২৬

বিজন রয় বলেছেন: যুক্তিপূর্ণ লেখা।
+++++

মানুষ যা বিশ্বাস করে শান্তি পায় তাকে তা করতে দেওয়া উচিৎ, শুধু খেয়াল রাখতে হবে যাতে অন্যের কোন সমস্যা না হয়।

০৪ ঠা মে, ২০২২ রাত ১০:৩৫

জটিল ভাই বলেছেন:
অনেকদিন পর প্রিয় ভাইয়ের প্রত্যাবর্তন। তা কেমন আছেন?
অন্যের বিশ্বাসে আঘাত কিংবা বিদ্রুপ কোনটাই করা উচিৎ নয়, যদিও আমরা এতে পৈশাচিক আনন্দ লাভ করি :(
সুন্দর মতামতের জন্যে জটিলবাদ।

৫| ০৪ ঠা মে, ২০২২ রাত ১০:৪১

বিজন রয় বলেছেন: আমি আছি একরকম। ভাল - মন্দ মিশিয়ে।
চেষ্টা করছি ব্লগে একটু সময় দেওয়ার জন্য।

আপনাকে অনেক ধন্যবাদ আন্তরিক প্রতিউত্তর দেওয়ার জন্য।
শুভকামনা।

০৪ ঠা মে, ২০২২ রাত ১০:৪৭

জটিল ভাই বলেছেন:
অনেক জটিলবাদ প্রিয় ভাই। আপনারা ব্লগে থাকলে অন্যরকম একটা ভাল লাগা কাজ করে। আপনার মত বাকিরাও ব্লগে একটু সময় দেন এই কামনা রইলো। সাবধানে থাকুন। সুস্থ্য থাকুন।

৬| ০৫ ই মে, ২০২২ রাত ১২:১৬

কালো যাদুকর বলেছেন: তসবী নিয়ে ছবি দেখতে যাওয়া.... :) আপনার কল্পনা শক্তি অসাধারণ। :)

৭| ০৫ ই মে, ২০২২ রাত ১২:২৬

রেজাউল৯৬ বলেছেন: মিলল না, আমি যেই অন্তর্যামির কথা ভাবছিলাম সেইটা আলাদা, আপ্নের ভাষায় ''ইন্টেলেকচুয়াল"।

৮| ০৫ ই মে, ২০২২ বিকাল ৩:৫৫

কাল্পনিক_ভালোবাসা বলেছেন: আউজুবিল্লাহি মিনাশ শাইতানির রাজিম, আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়াবারকাতুহু ইয়া জটিল ভাই, বিসমিল্লাহির রহমানির রাহীম।

হা হা হা। বেশ! বেশ! আপনার স্যাটায়ার লেখার প্রচেষ্টা মন্দ নয়। নির্মোহ বিশ্লেষন করলে দশে সাড়ে চার থেকে সাড়ের পাঁচের মধ্যে। স্যাটায়ার বেশি সহজবোধ্য হলে এর মজাটা নষ্ট হয়। তাছাড়া স্যাটায়ার অপ্রয়োজনীয় শব্দ বেশি থাকলে তাতেও লেখার মজা নষ্ট হয়।

আম্মাবাদ, আগে এক সময় আমার টুকটাক স্যাটায়ার লেখার প্রতি আগ্রহ ছিলো। পরে দেখলাম সর্বনাস! এই সব তো নন ইসলামিক ব্যাপার। আপনাদের দোয়ায় হেদায়েত প্রাপ্ত হয়েছি। এই সম্পর্কে খোঁজ নিতে গিয়ে দেখলাম, সুরা হুজুরাতের একটা আয়াতের অংশ বিশেষে বলা হয়েছে ' হে মুমিনগণ, তোমরা কেউ কাউকে উপহাস করো না, কারন যাকে উপহাস করা হচ্ছে সে উপহাসকারী অপেক্ষা উত্তম হতে পারে…।'

সুনানে আবু দাউদে উল্লেখ করা আছে - মানুষকে হাসানোর জন্য যে ব্যক্তি মিথ্যা বলে তার জন্য ধ্বংস, তার জন্য ধ্বংস, তার জন্য ধ্বংস।

অবশ্য যারা ধর্মের নামে লোক দেখানো কাজ করে বেড়ায় আপনি দেখবেন তাদের কথা ও কাজে মিল নাই। এই যেমন দেখুন না, এই পোস্টে উল্লেখ্য আছে, ইসলাম যেহুতু পূর্ণাঙ্গ জীবন বিধান, আর আল্লাহ্ সার্বভৌমত্বের অধিকারি তাই নিশ্চয়ই আমাদের প্রতিটি কাজ ইসলাম মাফিক হওয়া বাঞ্ছনীয়। অথচ বাস্তবে কি হলো?? হা হা হা।

ইমদাদুল হক নামের একজন মুফতি বলেছেন, মজা করে ব্যাঙ্গ করা বা লোকজন হাসানোর জন্য কাউকে নিয়ে উপহাস করা সম্পূর্ণ নাজায়েয ও কবিরা গোনাহ।এটা বান্দার হক।সুতরাং বান্দার কাছ থেকে ক্ষমা চেয়ে তারপর আল্লাহর নিকট ক্ষমা চাইতে হবে।

মজা করে ব্যাঙ্গ করা বা লোকজন হাসানোর জন্য কাউকে নিয়ে উপহাস করা সম্পূর্ণ নাজায়েয ও কবিরা গোনাহ।এটা বান্দার হক।সুতরাং বান্দার কাছ থেকে ক্ষমা চেয়ে তারপর আল্লাহর নিকট ক্ষমা চাইতে হবে।

ও আর একটি বিষয় বলে শেষ করছি, ধর্ম কর্ম করতে কেউ কাউকে মানা করা হয় নি। লোক দেখানো কার্যক্রম পরিহার করতে বলা হয়েছে। সমাজে একধরনের উগ্রবাদি চিন্তাভাবনার লোকজন অন্যের ভালো কথার মধ্যেও খারাপ কথা খুঁজে পায়। ফলে 'সর্বজনীন' চিন্তা চেতনাটি বুঝার মত জ্ঞান তারা স্বাভাবিকভাবেও খুঁজে পায় না। চাইলে এই সংক্রান্ত ব্যাখ্যা দেয়া যেত, তবে আমার মনে হয়, সবাইকে সব কিছু ব্যাখ্যা দিতে হয় না। অন্যের হেদায়েত চাওয়ার আগে নিজের হেদায়াতের গল্প আগে নিশ্চিত করাই ভালো। অবশ্য এক শ্রেনীর উগ্রবাদি মানুষ আছেন যারা সব সময় অনুরোধকে আদেশ ভেবে অন্যের মতকে অসম্মান করেন। সকল প্রকার উগ্রবাদিতা নিপাত যাক।

আর কৌতুকের বদলে হেলাল হাফিজের একটা কবিতা দিয়ে শেষ করছি।

টিকেট ঘরের ছাদে বিকালে দাঁড়ায়ে যখন যা খুশি যারা কন
কোনো দিন খোঁজ লইছেন গ্রামের লোকের সোজা মন
কী কী চায়, কতোখানি চায়
কয়দিন খায় আর কয়বেলা না খায়া কাটায়।
রাইত অইলে অমুক ভবনে বেশ আনাগোনা, খুব কানাকানি,
আমিও গ্রামের পোলা চুত্‌মারানি গাইল দিতে জানি।


- ওয়া আখির দাওয়ানা আনিল হামদু লিল্লাহি রব্বিল আলামিন।
আমাদের এই ধরনের ইসলামিক স্টাইল ফলো করাতে ইসলাম আরো কায়েম হচ্ছে। আমিন!

৯| ০৯ ই মে, ২০২২ রাত ১:১৯

ঢুকিচেপা বলেছেন: আপনার পাওয়ারের গল্প দেখি বাস্তব হয়ে গেল।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.