| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
আমায় তুমি পিছু ডেকো না'গো মা
আমার ফেরা সম্ভব না।
দেশ মাতৃকায় উৎসর্গিতা আমি
আমি তো সেই ক্ষণজন্মা!
আমায় তুমি আশীর্বাদ করো মা,
মোছো তোমার চোখের জল।
নিপীড়িতদের আর্তনাদ শুনছো কি তুমি?
শুনেছো কি আর্তের কোলাহল?
উৎপীড়কের প্রতিরোধের দায় আমাদেরই
এর সুরাহা করতে হবে।
যেদিন দেশমাতৃকা স্বাধীন হবে
সেদিনই আমায় ফিরে পাবে।
আমি তোমায় অস্বীকার করছি না মা,
আমি যে তোমার নাড়ী ছেড়া ধন।
বিপ্লবীর মা কি কখনও কেঁদেছে?
এমনতর দুখের কাঁদন?
রানী শূন্য রাজ্য তুমি আগলে রেখো
আমি যা করছি আমার কর্তব্য!
সমর্পিতা আমি দেশের নিমিত্তে
এটাই আমার ভবিতব্য।
তোমার কথা ভাবলে মাগো
কান্নায় ভাসে দু'চোখ আমার।
একদিন এদেশ মুক্ত হবেই যেনো
ভাঙবে পরাধীনতার রুদ্ধ-দ্বার।
আপামর জনতার মুক্তির উদ্দেশ্যে
ত্যাগ করলাম এ অমূল্য প্রাণ।
মিনতি কখনও ভুলো না আমায়
ভুলো না এ অধমের সামান্যতম দান।
© রফিকুল ইসলাম ইসিয়াক
২৬ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১০:১০
ইসিয়াক বলেছেন:
ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনের অগ্নিকন্যা প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদারের মৃত্যুর ঠিক আগেরদিন মায়ের কাছে লেখা শেষ চিঠিটা
➖➖➖➖➖➖➖➖➖➖➖➖➖
মা'গো
"তুমি আমায় ডাকছিলে? আমার যেন মনে হলো তুমি আমার শিয়রে বসে কেবলি আমার নাম ধরে ডাকছো, আর তোমার অশ্রু-জলে আমার বক্ষ ভেসে যাচ্ছে। মা, সত্যিই কি তুমি এত কাঁদছো? আমি তোমার ডাকে সাড়া দিতে পারলাম না—তুমি আমায় ডেকে ডেকে হয়রান হয়ে চলে গেলে।
স্বপ্নে একবার তোমায় দেখতে চেয়েছিলাম—তুমি তোমার আদরের মেয়ের আবদার রক্ষা করতে এসেছিলে! কিন্তু মা, আমি তোমার সঙ্গে একটি কথাও বললাম না। দুচোখ মেলে কেবল তোমার অশ্রুজলই দেখলাম। তোমার চোখের জল মোছাতে এতটুকু চেষ্টা করলাম না।
মা, আমায় তুমি ক্ষমা করো—তোমায় বড় ব্যথা দিয়ে গেলাম। তোমাকে এতটুকু ব্যথা দিতেও তো চিরদিন আমার বুকে বেজেছে। তোমাকে দুঃখ দেওয়া আমার ইচ্ছা নয়। আমি স্বদেশ-জননীর চোখের জল মোছাবার জন্য বুকের রক্ত দিতে এসেছি। তুমি আমায় আশীর্বাদ কর, নইলে আমার মনোবাঞ্ছা পুর্ণ হবে না।
একটিবার তোমায় দেখে যেতে পারলাম না! সেজন্য আমার হৃদয়কে ভুল বুঝোনা তুমি। তোমার কথা আমি এক মুহুর্তের জন্যও ভুলিনি মা। প্রতিনিয়তই তোমার আশির্বাদ প্রার্থনা করি।
আমার অভাব যে তোমাকে পাগল করে তুলেছে, তা আমি জানি। মাগো, আমি শুনেছি, তুমি ঘরের দরজায় বসে সবাইকে ডেকে ডেকে বলছো—
“ওগো তোমরা আমার রাণীশূন্য রাজ্য দেখে যাও”।
তোমার সেই ছবি আমার চোখের ওপর দিনরাত ভাসছে। তোমার এই কথাগুলো আমার হৃদয়ের প্রতি তন্ত্রীতে তন্ত্রীতে কান্নার সুর তোলে।
মাগো, তুমি অমন করে কেঁদোনা! আমি যে সত্যের জন্য-স্বাধীনতার জন্য প্রাণ দিতে এসেছি, তুমি কি তাতে আনন্দ পাও না?
কি করবে মা? দেশ যে পরাধীন! দেশবাসী যে বিদেশীর অত্যাচারে জর্জরিত! দেশমাতৃকা যে শৃঙ্খলভারে অবনতা, লাঞ্ছিতা, অবমানিতা!
তুমি কি সবই নীরবে সহ্য করবে মা? একটি সন্তানকেও কি তুমি মুক্তির জন্য উৎসর্গ করতে পারবে না? তুমি কি কেবলই কাঁদবে?
আর কেঁদোনা মা। যাবার আগে আর একবার তুমি আমায় স্বপ্নে দেখা দিও। আমি তোমার কাছে জানু পেতে ক্ষমা চাইবো।
আমি যে তোমায় বড় ব্যথা দিয়ে এসেছি মা। ইচ্ছা করে ছুটে গিয়ে তোমার কাছে ক্ষমা চেয়ে আসি। তুমি আদর করে বুকে টেনে নিতে চাইছো, আমি তোমার হাত ছিনিয়ে চলে এসেছি। খাবারের থালা নিয়ে আমায় কত সাধাসাধিই না করেছো—আমি পিছন ফিরে চলে গেছি।
না, আর পারছি না। ক্ষমা চাওয়া ভিন্ন আর আমার উপায় নেই। আমি তোমাকে দুদিন ধরে সমানে কাঁদিয়েছি। তোমার ক্রন্দন আমাকে এতটুকু টলাতে পারেনি।
কি আশ্চর্য মা! তোমার রাণী এত নিষ্ঠুর হতে পারলো কি করে? ক্ষমা করো মা; আমায় তুমি ক্ষমা করো! "
ইতি,
— তোমার রাণী (প্রীতিলতার ডাকনাম)
(আত্মাহুতির আগের রাতে প্রীতিলতা মায়ের উদ্দেশে এই চিঠিটি লিখেছিলেন। তাঁর মৃত্যুবরণের পর মাষ্টারদা সূর্য সেন এই চিঠিটি প্রীতিলতার মায়ের হাতে পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করেন।)
©somewhere in net ltd.
১|
২৬ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ৯:২০
রূপক বিধৌত সাধু বলেছেন: এই প্রজন্ম বৃটিশবিরোধী আন্দোলন আর মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে আগ্রহী নয়, তারা যে কি নিয়ে আগ্রহী তাও স্পষ্ট নয়। একেক সময় একেক রুচি! আমাদের অবশ্যই বৃটিশবিরোধী আন্দোলন আর মুক্তিযুদ্ধকে প্রাসঙ্গিক রাখতে হবে।