| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
প্রাচীণ বাংলার রাজধানী পুন্ডুনগরের একমাত্র নৌপথ ছিল করতোয়া নদী।সে কালে বণিক এবং সওদাগরেরা এই অঞ্চলে ব্যবসা-বানিজ্য করতেন এই মরা করতোয়া নদীর মাধ্যমে।
১১৬ কি.মি দীর্ঘ এ নদীতে সারা বছর পাল তোলা কোষা নৌকা অনায়াসে যাতয়াত করতো।নদী এলাকার মানুষ সারা বছরই মাছ শিকার করতো এ নদীতে। কিন্তু কালের বির্বতনে সেই করতোয়া আজ যেন মরুভূমিতে পরিণত হতে চলেছে।এ সবের কি কোন প্রতিকার নেই?
আজ থেকে ২০-২২ বছর আগেও আমরা স্রোত ধারা দেখতে পেয়েছি।কিন্তু কেন আজ এই করুণ পরিনতি,কারা দায়ী, কেন তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না? এ প্রশ্ন বগুড়া বাসীর।
সূত্রমতে, ১৯৮৯ সালে পানি উন্নয়ন র্বোড(পাউবো) গাইবান্ধার খালিশায় একটি স্লুইচগেট নির্মাণের পর মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেওয়া হয় জীবন্ত করতোয়ার স্রোত ধারাকে। এ গেল একদিকের কিছু কথা।
বগুড়া শহরের হাতে গোনা কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের বিষাক্ত বর্জ্র পদার্থ অব্যহত ভাবে পড়ছে।তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য টি.এম.এস.এস এর মালিকানাধীন বিসিএল পেপার মিল,টি.এম.এস.এস মেডিকেল কলেজের বর্জ্র,শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজের সহ পৌর এলাকার বিষাক্ত বর্জ্র,মল-মূত্র।
সাম্প্রতিক সময়ে সবচেয়ে আলোচিত অভিযান হচ্ছে পরিবেশ অধিদপ্তরের অভিযান। ঢাকার পরিবেশ অধিদপ্তরের এনফোর্সমেন্ট পরিচালক মি. মুনির চৌধুরি দেশের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ,জেল-জরিমানা,দন্ড দিয়েছেন।
আর সবচেয়ে মজার বিষয় হচ্ছে বিষাক্ত ও দুষিত বজ্র্যের কষাঘাতে ডুবুন্ত করতোয়া নদীর বুকের উপর (বগুড়ায়) রাজশাহী বিভাগীয় পরিবেশ অধিদপ্তর অবস্থিত।এখন প্রশ্ন হলো- পরিবেশ অধিদপ্তর থেকে করতোয়া নদীর দুরুত্ব কত দুর? তাদের নাকের ডগায় হলেও কেন ব্যবস্থা না নিয়ে রহস্যজনক ভাবে নিরবতা পালন করছে? আজ তারা করতোয়ার জন্য আমাদের কি কোন আশার বাণী শোনাতে পারবে?
বগুড়া পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী বলছেন- নদী ও দুষণের বিষয়টি দেখার দায়িত্ব পরিবেশ অধদপ্তরের।আর জেলা প্রশাসক সারোয়ার মাহমুদ বলেছেন- নদী বাঁচানোর দায়িত্ব সবার।পরিবেশ অধিদপ্তরকেও এ ব্যাপারে এগিয়ে আসতে হবে।তারা ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করতে চাইলে জেলা প্রশাসন ম্যাজিষ্ট্রেট দিয়ে সহযোগীতা করবে।
এমনিতেই অনেক দেরি হয়ে গেছে্। আর একটি মূর্হুতও কালক্ষেপন বা অপেক্ষার প্রহর আমরা গুনতে চাইনা।আমরা বিপন্ন করতোয়াকে বাঁচাতে। তাই দায়ীত্বশীলরা ব্যবস্থা নিন।ধন্যবাদ
©somewhere in net ltd.