নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

ভালবাসাই মানুষকে সুখী করে

৭১কে দেখিনি, তাতে কোনো দুঃখ নেই, কারন শাহবাগে আমি জীবন্ত ৭১কে পেয়েছি।

রাইটসম্যান

I am ambitious, hard worker, lot of patience, self centric cold minded, gentle, never to angry but in the long run way, I am happily to revenge against the victimizer. I am very soft and very kind but it is very difficult to understand me from outside. Because I am out spoken and very practical. I am not harmful to nobody even to my enemy. I am trying my best to adjust at any situation. I believe fate so I can accept any situation and newly build up a peaceful life again. Stress makes me more ambitious with a new light of HOPE. I am so logical, sequential, analytical, objective, and highly determined to do or die something indicatively, and also romantic, Industrious, emotional, peace lover, active responsible, nature-loving, straight-forward, Good-humored, independent, extrovert.

রাইটসম্যান › বিস্তারিত পোস্টঃ

অরণ্যে রোদন : বাংলাদেশই বাংলার ভবিষ্যৎ

০৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৩ সকাল ১০:৪৯

রঞ্জন বন্দ্যোপাধ্যায় বললেন, প্রাণের ভাষা বাংলা, তা যদি নিজের চোখে দেখতে হয়, তাহলে বাংলাদেশে যেতে হবে। সবখানে কেবল বাংলা আর বাংলা।

কথা হচ্ছিল কলকাতা লিটেরারি মিট ২০১৩-এর শেষ দিনে ‘প্রাণের ভাষা: বাংলাদেশের ভাষা আন্দোলন’ শীর্ষক আলোচনায়, ৩ ফেব্রুয়ারি বিকেলে কলকাতা বইমেলার ভেতরে, গুগল ডোম নামের একটা মঞ্চে। আলোচক বাংলাদেশের কবি বেলাল চৌধুরী আর আমি, ভারতের রঞ্জন বন্দ্যোপাধ্যায় আর নিমাই ভট্টাচার্য্য। রঞ্জন মাত্র কিছুদিন আগে ঢাকা আর শিলাইদহ ঘুরে গেছেন, গীতাঞ্জলির নোবেলপ্রাপ্তির ১০০ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে যোগদান শেষে।

নিমাই ভট্টাচার্য্য বললেন, বাংলাদেশের মানুষ সাহিত্য ও সাহিত্যিককে কতটা ভালোবাসে, একটা উদাহরণ দিই। আমার শ্বশুরবাড়ি বগুড়ায়। সান্তাহার যাব ট্রেনে। আমার জন্য একটা ইঞ্জিন এনে লাগিয়ে দেওয়া হলো ট্রেনে।

আলোচনার কোনো সঞ্চালক ছিলেন না। আমিই মঞ্চে কনিষ্ঠ। কাজেই মাইক্রোফোন তুলে নিয়ে আমি বেলাল ভাইকে আমন্ত্রণ জানালাম আমাদের ভাষা আন্দোলনের প্রেক্ষাপট বর্ণনা করতে। বেলাল ভাই ১৯৪৭-এর ব্রিটিশ বিদায়, ১৯৪৮ সালের ঢাকার ভাষা আন্দোলন, ১৯৫২ সালের ফেব্রুয়ারির আন্দোলন হয়ে কী করে সেই পথ বেয়েই আমরা পেলাম বাংলাদেশের স্বাধীনতা, তার খানিকটা বর্ণনা করলেন।

ওই আলোচনায় কোনো বিতর্ক হলো না। বক্তাদের সবাই একমত, বাংলা ভাষার চর্চা কোথায় হচ্ছে, দেখতে হলে যাও বাংলাদেশে, বাংলার ভবিষ্যৎ কোথায়, না, ওই বাংলাদেশ।

সুযোগ পেয়ে জানিয়ে দিলাম, প্রথম আলো এখন পৃথিবীর ১৯০টা দেশে পড়া হয়, আর অ্যালেক্সা রেটিংয়ে প্রথম আলো পৃথিবীর এক নম্বর বাংলা সাইট, তার অবস্থান অনেক এগিয়ে।

আমি ঢাকা ছেড়েছি জানুয়ারির ২৩-এ। প্রথমে গিয়েছিলাম জয়পুর সাহিত্য উৎসবে। সে এক ভীষণ আন্তর্জাতিক ব্যাপার। শ দুয়েকের বেশি লেখক এসেছেন সারা পৃথিবী থেকে। ভাগ্যিস, তার উদ্বোধন করেছিলেন মহাশ্বেতা দেবী। তা না হলে ওই উৎসবে আমাকে ছাড়া আর কোনো লেখক পাওয়া যেত না, যিনি মূলত বাংলা ভাষায় লেখেন। জয়পুর উৎসবে আরও বাঙালি লেখক নিশ্চয়ই ছিলেন, কিন্তু তাঁরা লেখেন ইংরেজিতে। কলকাতা লিটেরারি মিটও আন্তর্জাতিক একটা আয়োজন, এটারও উদ্বোধন করেছেন দুই বাঙালি, অমিতাভ ঘোষ আর শীর্ষেন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু তা সত্ত্বেও আলোচনা, আলোচক সর্বত্রই যাঁরা ইংরেজি ভাষায় লিখছেন, তাঁদেরই প্রাধান্য।

জয়পুর থেকে কলকাতা—দুটো উৎসবে যোগ দিয়ে আমার উপলব্ধি হলো, ভারতে যাঁরা বাংলায় লেখেন, তাঁরা আসলে একটা প্রাদেশিক ভাষায় লেখেন মাত্র। প্রাদেশিকতার এই গণ্ডিটা ক্রমেই ছোট হয়ে আসছে। কথাটা আমি বললাম জয় গোস্বামীকে। জয় গোস্বামী আমার খুব প্রিয় কবি, আমার চেয়ে ১৩ বছরের বড়, আমার যখন বয়স ২০, তাঁর ৩৩। কাজেই আমি তাঁর কবিতা পড়ে বড় হয়েছি, এটা একটা গাণিতিক বাস্তবতা। আমার লেখায় অনেকবার আমি জয় গোস্বামীর কবিতা উদ্ধৃত করেছি, পাঠকেরা তা জানেন। ৩ ফেব্রুয়ারিতে জয় গোস্বামীর সঙ্গে আমার দেখা হয়ে গেল, বাংলাদেশে দিল্লির উপ-হাইকমিশনার মাহবুব হাসান সালেহর কবিতার বই বৃষ্টিভেজা প্রেম-এর মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে। জয় গোস্বামীর সঙ্গে আমার এই প্রথম দেখা। মানুষটাকে আমার খুব পছন্দ হয়ে গেল। এত মৃদুভাষী! খুব একটা অন্তরঙ্গ ব্যাপার আছে তাঁর। তাঁকে বললাম, আমার কিন্তু মনে হচ্ছে, বিশেষ করে জয়পুর হয়ে এই কলকাতা লিটেরারি মিট পর্যন্ত এসে, বাংলায় লেখা মানে প্রাদেশিক ভাষায় লেখা। জয় মৃদুস্বরে বললেন, এটা আমার মনে হয়েছে আরও পনেরো বছর আগে।

ওখানেই কিন্তু বাংলাদেশে বাংলা ভাষার লেখকদের জয়। সেই কথাটা আমি বললাম লিটেরারি মিটের আলোচনায়। একটা দেশ, যার নামটা ভাষার নামে; একটা দেশ, যার স্বাধীনতার সংগ্রাম শুরু হয়েছে ভাষার সংগ্রাম দিয়ে; একটা দেশ, যার সংবিধান বাংলায়, সংসদের ভাষা বাংলা, যেখানে অফিসে-আদালতে লেখা হয় বাংলা, অন্তত সাংবিধানিক অঙ্গীকার হলো, বাংলা ব্যবহার করতে হবে সরকারি সব কাজে। যেখানে জনসংখ্যা ১৬ কোটি, যার বেশির ভাগই তরুণ, যাদের শতকরা ৯৯ ভাগ স্কুলে যায় আর যাদের প্রায় সবাই পড়ে বাংলা মাধ্যমে। তারা স্কুল থেকে বেরিয়ে আসে লাখ লাখ, তারা বই পড়তে চায়, বাংলা বই। এসে দেখে যান ঢাকার বাংলা একাডেমীর একুশে গ্রন্থমেলা, কীভাবে পাঠকেরা বাংলা বই কেনেন আর পড়েন। বাংলাদেশে কত সুন্দর নাটক হচ্ছে, একটু বাংলাদেশের চ্যানেলগুলো দেখুন, আমরাও একটু-আধটু লিখি, পড়ে দেখতে পারেন। তারপর বললাম সেই কথাটা, যা আমি সুযোগ পেলেই বলি, উইলিয়াম ফকনার হয়ে গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেজের নোবেল পুরস্কার ভাষণে বলা উক্তি, মানুষের মৃত্যু নেই, তা এ জন্য নয় যে তার ভাষা আছে, তা এ জন্য যে তার আত্মা আছে। বাংলাদেশের বইমেলায়, একুশে ফেব্রুয়ারির প্রথম প্রহরে শহীদ মিনারে সমবেত লাখ লাখ মানুষের শ্রদ্ধা নিবেদনের আয়োজনে, পয়লা বৈশাখের নববর্ষের অনুষ্ঠানগুলোয় লাখো মানুষের প্রাণের স্পন্দনে যা পাওয়া যায়, তা হলো আত্মা। কাজেই বাংলার মৃত্যু নেই, বাঙালির মৃত্যু নেই, বাংলাদেশের মৃত্যু নেই।

কলকাতা বইমেলায় এবারের থিম কান্ট্রি বাংলাদেশ। জাতীয় সংসদ ভবনের আদলে খুব সুন্দর করে সাজানো হয়েছে বাংলাদেশ প্যাভিলিয়ন। পশ্চিমবঙ্গে পাঠকদের অনেকের মধ্যে বাংলাদেশ নিয়ে আগ্রহ খুব। হয়তো তাঁদের বেশির ভাগেরই শিকড়টা পূর্ব বাংলায়। ৩ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ হাইকমিশন আয়োজিত আলোচনায় সৈয়দ আবুল মকসুদ আর আবুল হাসান চৌধুরী অংশ নিলেন সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর ওপর আলোচনায়। বাংলাদেশ অনেক সেমিনার ও অনুষ্ঠানের আয়োজন করছে কলকাতা বইমেলার ভেতরে, ঢাকা থেকে অনেক লেখক ও শিল্পী কলকাতা আসছেন এবং ফিরেও যাচ্ছেন। ১ ফেব্রুয়ারি শামসুদ্দীন আবুল কালামের আলোচনায় অংশ নিয়েছেন গোলাম মোস্তফা আর শান্তনু কায়সার। শ্রোতার আসনে বসে ছিলেন দেবেশ রায়। দেবেশ রায় বাংলাদেশের সাহিত্য নিয়ে খুব আগ্রহী। তিনি জানালেন, বাংলাদেশের নাটক-নভেল নিয়ে তাঁর একটা বই বেরোচ্ছে এবারের মেলায়। বাংলাদেশের সাহিত্য ও সাহিত্যিকদের ওপর তাঁর বড় আশা—তিনি বারবার বলেন।

বাংলাদেশের ও ভারতের বাঙালিদের অনেকেই ইংরেজিতে লিখছেন, তাঁদের অনেকেই ভালো লিখছেন, এটা খুবই আশার কথা। কিন্তু ইংরেজি পাঠকদের জন্য যখন লিখতে হয়, তখন এটা মাথা থেকে সরিয়ে রাখা মুশকিল যে আমার পাঠক অবাঙালি, তাই তাঁকে অনেক জিনিস বুঝিয়ে বলতে হয়। ‘জরিনা আর আবুলের ভাত খায় না’—এই কথাটার তো অন্য মানে আছে। একুশ কিংবা একাত্তর কথাটা তাৎপর্য বুঝিয়ে না বললে অবাঙালি পাঠক বুঝবেন কী করে।

আমেরিকার আইওয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক লেখক কর্মসূচিতে আমি যোগ দিয়েছিলাম ২০১০ সালে। তারও কয়েক বছর আগে জয় গোস্বামী সেখানে গিয়েছিলেন। আমি ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকজনকে বোঝানোর চেষ্টা করলাম, তোমরা জানো, জয় কত বড় কবি। ওরা খুব উৎসাহ দেখাল বলে মনে হলো না। আমি আবার বলি, তোমরা বুঝতে পারছ না, জয় বড় কবি। আবারও বুঝলাম, সাহিত্য খুব একটা দেশ-সংস্কৃতি-সাপেক্ষ ব্যাপার। অনুবাদে বোঝানো যায় না তার মাহাত্ম্য। আর একজন লেখককে তাঁর নিজস্ব ভাষাভাষী জনগোষ্ঠীর কাছে প্রাসঙ্গিক ও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে হয় সবার আগে, যদি তিনি তাঁর নিজের ভাষায় লেখেন। সেটার মর্ম হয়তো অন্য ভাষার পণ্ডিতেরা বুঝবেনও না। মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় কিংবা জীবনানন্দ দাশের মাহাত্ম্য বিশ্ববাসীর কাছে পৌঁছায়নি, তাতে মানিকের বা জীবনানন্দ দাশের কিছুই যায়-আসে না।

বিশ্বায়নের দৌড়ে শামিল হয়েছে ভারত। তার চাপে পড়ে ভারতের আঞ্চলিক সাহিত্যগুলো খানিকটা নিষপ্রভ হয়ে পড়েছে। যেটা ১৫ বছর আগেই উপলব্ধি করেছেন কবি জয় গোস্বামী যে ভারতে বাংলা ভাষায় লেখা মানে প্রাদেশিক ভাষায় লেখা।

বাংলাদেশের লেখকদের সেই সংকট নেই। তাঁরা যখন বাংলা ভাষায় লেখেন, তাঁরা জানেন, ১৬ কোটি মানুষের জন্য লিখছেন, তাঁরা কেবল সাহিত্য সৃষ্টিই করছেন না, তাঁরা একটা জাতি গঠনে অংশ নিচ্ছেন।

আমরা বাংলাদেশের লেখকেরা সত্যিই ভাগ্যবান। কারণ, একটা জাতির, একটা দেশের সম্পন্ন হয়ে ওঠার কালের লেখক আমরা। এই কথা যখন ভাবি, তখন বাংলাদেশের লেখকদের ওপরে কী ভীষণ একটা দায়িত্বও বর্তেছে, সেই ভাবনাটাও চলে আসে আপনাআপনি। তখন মনে মনে বলি, তোমার পতাকা যারে দাও তারে বহিবারে দাও শকতি।

আনিসুল হক: সাহিত্যিক ও সাংবাদিক।

Click This Link

মন্তব্য ১ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (১) মন্তব্য লিখুন

১| ০৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৩ সকাল ১১:২০

হোসেন শরীফ আহমেদ বলেছেন: Click This Link

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.