| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
রাইটসম্যান
I am ambitious, hard worker, lot of patience, self centric cold minded, gentle, never to angry but in the long run way, I am happily to revenge against the victimizer. I am very soft and very kind but it is very difficult to understand me from outside. Because I am out spoken and very practical. I am not harmful to nobody even to my enemy. I am trying my best to adjust at any situation. I believe fate so I can accept any situation and newly build up a peaceful life again. Stress makes me more ambitious with a new light of HOPE. I am so logical, sequential, analytical, objective, and highly determined to do or die something indicatively, and also romantic, Industrious, emotional, peace lover, active responsible, nature-loving, straight-forward, Good-humored, independent, extrovert.
জনসাধারণের দাবির কাছে সরকার মাথা নত করে খুবই কদাচিৎ। কারণ, সাধারণভাবে সরকার মনে করে, ন্যায়-অন্যায়ের বোধ তার প্রবল, কীভাবে দেশ চালাতে হবে, তাতে আর কারোর নাক গলানোর দরকার নেই। দিল্লিতে ২৩ বছর বয়সী একটি মেয়ে দলবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হওয়ার পর প্রতিবাদ-বিক্ষোভে হাজার হাজার শিক্ষার্থী রাস্তায় নেমে পড়েছিল। তাদের বিক্ষোভের প্রকাশ এমন অক্লান্ত ও অনমনীয় ছিল যে, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আর কোনো উপায় না দেখে ভারতের সাবেক প্রধান বিচারপতি জে সি ভার্মাকে ঘটনা তদন্তের দায়িত্ব দিতে বাধ্য হয়েছেন। ধর্ষণসংক্রান্ত বিদ্যমান আইনকে কীভাবে আরও শক্তিশালী করা যায়, কীভাবে দেশের পরিবেশ উন্নত করা যায়—সে ব্যাপারে পরামর্শ দেওয়ার দায়িত্বও বিচারপতি ভার্মাকে দেওয়া হয়েছে।
লোকসভা ও বিধানসভার সদস্যরাসহ যেসব রাজনীতিকের যাঁদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি অপরাধের অভিযোগ আছে, বিচারপতি ভার্মার তীক্ষ কৌতূহলী দৃষ্টি এখন তাঁদের দিকে। তিনি দাবি করেছেন, এসব রাজনীতিককে ভবিষ্যতে নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণে অযোগ্য ঘোষণা করা উচিত। লোকসভা ও বিধানসভা মিলিয়ে এ রকম সাংসদ প্রায় ১৭ শতাংশ। কিন্তু আমার মনে হয় না, সরকার তাঁদের বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ নেবে। কারণ, কার্যত সব দলের নেতা-কর্মীদের মধ্যেই ফৌজদারি অপরাধের অভিযোগ আছে। কংগ্রেস দলের ভেতরে এ রকম অভিযুক্ত নেতার সংখ্যা খুব গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, কংগ্রেসের নেতৃত্বাধীন ইউনাইটেড প্রগ্রেসিভ অ্যালায়েন্স (ইউপিএ) ইতিমধ্যে লোকসভায় সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারিয়েছে। বিজেপি থেকে এ ধরনের নেতাদের যদি বের করে দেওয়া হয়, তাহলে তাদেরও আসনসংখ্যা যেভাবে কমে যাবে, তা দলটির পছন্দ হবে না।
ধর্ষণের ঘটনাটির পর আমি দাবি তুলেছিলাম, দিল্লির পুলিশ কমিশনারকে বরখাস্ত বা বদলি করা উচিত। আমার এ দাবির পক্ষে ব্যাপক সমর্থন দেখে আমার ভীষণ আনন্দ হয়েছে। বিচারপতি ভার্মার বক্তব্যও একই রকমের। তিনি বলেছেন, ‘স্বরাষ্ট্রসচিব পুলিশ কমিশনারের পিঠ চাপড়াচ্ছেন দেখে আমি মর্মাহত হয়েছি। যা ঘটেছে, নগর যেমন নিরাপত্তাহীন হয়ে পড়েছে, তার পরিপ্রেক্ষিতে অন্ততপক্ষে জনসাধারণের কাছে দুঃখ প্রকাশ করা যেত। বিচারপতি ভার্মার তদন্ত কমিটির সামনে পুলিশ বিভাগের কেউই যে হাজির হয়নি, তাতে অবাক হওয়ার কিছু নেই। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নিশ্চয়ই পুলিশ বাহিনীকে সেটা না করার পরামর্শ দিয়েছে। ভার্মা কমিটি জনসাধারণের কাছ থেকে ৮০ হাজার সুপারিশ পেয়েছে, কিন্তু স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে একটি সুপারিশও পাঠানো হয়নি। এর মানে, রাজনীতিবিদ ও পুলিশ বাহিনীর মধ্যে যোগসাজশ আছে। তাদের বড় বড় কথার শেষ নেই, কিন্তু তারা পরস্পরের বিরুদ্ধে কোনো কথাই বলতে চায় না। রাজনীতিক ও পুলিশ উভয়েই একটা প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থার অংশ, যে ব্যবস্থা বেশি বেশি ক্ষমতা চায় আর জবাবদিহি করতে চায় কম; পারলে জবাবদিহির ঊর্ধ্বে উঠে যেতে চায়। কিন্তু ভারতজুড়ে যে কুশাসন চলছে, বা ধরতে গেলে কোনো সুশাসনই যে নেই—এর জন্য আসলে দায়ী পুলিশ আর রাজনীতিকেরা।
সাধারণ মানুষের ওপর অত্যাচার-নির্যাতন, তাদের দুঃখ-কষ্টের ব্যাপারে নাগরিক সমাজ যে ক্রমেই সংবেদনশীলতা হারাচ্ছে, বিচারপতি ভার্মার বক্তব্যে সে কথাও গুরুত্বের সঙ্গে উঠে এসেছে। তিনি বলেছেন, ‘ধর্ষণের শিকার ওই মেয়েটি ও তার সঙ্গীর যখন ভীষণ প্রয়োজন ছিল সহযোগিতার, তখন ওই পথ দিয়ে চলে গেছে অনেক মানুষ...একজনও ওদের দিকে সহযোগিতার হাত বাড়ায়নি, প্রত্যেকেই ছিল সম্পূর্ণ নির্বিকার...।’ বিচারপতি ভার্মা বলেছেন, যাদের দায়িত্ব ছিল কিছু একটা করার, তাদের এমন নির্বিকার নিষ্ক্রিয়তাকে তাঁর মনে হয়েছে ওই মেয়েটির ধর্ষিত হওয়ার মতোই মর্মান্তিক।
বিচারপতি ভার্মা সম্ভবত উপলব্ধি করেননি যে অধিকাংশ মানুষই নির্যাতনের শিকার যেকোনো ব্যক্তিকে সাহায্য করতে চায়, তাকে হাসপাতালে নিয়ে যেতে চায়, এমনকি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী কর্তৃপক্ষকে খবর দিতে চায়। কিন্তু তা করতে গিয়ে থানা-পুলিশের হাতে তাদের যে হয়রানির শিকার হতে হয়, তা এতই অবমাননাকর যে সেটা তাদের পক্ষে হজম করা সম্ভব হয় না। এ ধরনের সহযোগিতার মনোভাব নিয়ে যেসব ব্যক্তি আদালতে সাক্ষ্য দিতে যায়, তাদের এমনভাবে জেরা করা হয়, যে সাক্ষ্য দিতে এসে তারা অপরাধ করেছে, যেন তারাই আসামি। তবু, বিচারপতি ভার্মার এই মন্তব্য সঠিক যে, দিল্লির ধর্ষিত মেয়েটির প্রতি লোকজনের নির্বিকার নিষ্ক্রিয়তা ক্ষমা করার মতো নয়।
আমি সব সময়ই মনে করি, আর্মড ফোর্সেস স্পেশাল প্রিভেন্টিভ অ্যাক্ট (এএফএসপিএ) নামের আইনটির কোনো কার্যকারিতা যদি আদৌ থেকে থাকে, তবে তা ইতিমধ্যে ফুরিয়ে গেছে। সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা লোকজনকে হত্যা করে পার পেয়ে যান, এমনকি তাঁরা মানুষকে হত্যা করেন নিছক সন্দেহের বশে। কিন্তু তাঁদের কোনো জবাবদিহি বা বিচারের মুখোমুখি হতে হয় না। কাশ্মীর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোতে এ রকম অজস্র ঘটনার খবর প্রকাশিত হয়েছে। সশস্ত্র বাহিনীগুলোকে এভাবে হত্যাযজ্ঞ চালাতে দেওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়; সরকারের এই আচরণ ক্ষমার অযোগ্য।
ভার্মা কমিটি ওই আইনটি পর্যালোচনা করে দেখার পরামর্শ দিয়েছে, যাতে করে নারী নির্যাতন করে তা থেকে পার পাওয়ার কাজে আইনটি ব্যবহার করা না যায়। কিন্তু সেনাবাহিনী এএফএসপিএ আইনটিতে কোনো ধরনের পরিবর্তন আনার ঘোর বিরোধী; এবং তারা বলেছে, সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের দ্বারা ধর্ষণের কোনো ঘটনা ঘটেনি। কিন্তু এ বক্তব্য একদমই ঠিক নয়। ১৯৯১ সালে কাশ্মীরের কুনম পোশপারায় সংঘটিত দলবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনাটির পূর্ণ তদন্ত হওয়া উচিত। সে ঘটনায় বেসামরিক প্রশাসনের লোকজনের মতো সেনাবাহিনীর সদস্যদেরও দোষ ছিল। অত্যন্ত বিরল অপরাধের মামলায় সুপ্রিম কোর্ট যখন দণ্ডিত ব্যক্তিকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার প্রস্তাব করেছেন, তখন বিচারপতি ভার্মা কেন ধর্ষকদের মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার সুপারিশ করতে কুণ্ঠিত? তিনি বলেছেন, ধর্ষকদের ফাঁসির দাবিতে সোচ্চার জনবিক্ষোভের কোনো প্রভাব পড়েনি তাঁর কমিটির সিদ্ধান্তে। কিন্তু গণতান্ত্রিক দেশে জনসাধারণের প্রকাশ্য বিক্ষোভ-প্রতিবাদ দেখেই নিরূপণ করা যায় তাদের ক্ষোভের মাত্রা। মৃত্যুদণ্ড বিষয়ে যদি একটা গণভোট হয়, তাহলে মৃত্যুদণ্ডের বিরোধিতাকারী ভার্মা কমিটি দেখবে, জনমত তার পক্ষে নয়। এখন সরকারের উচিত ভুল সংশোধন করা এবং পরিষ্কার ভাষায় বলা যে ধর্ষককে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হবে।
ধর্ষকদের সাজা বাড়ানোর লক্ষ্যে ফৌজদারি আইনে কী কী সংশোধনী আনা প্রয়োজন, তা ভার্মা কমিটির ৬৩০ পৃষ্ঠার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ দিকটা হলো, পুলিশ ও অন্যান্য সরকারি পদে নিয়োজিত ব্যক্তিরা যখন ধর্ষণ প্রতিরোধে পদক্ষেপ নেয় না, অথবা যখন ধর্ষণের ঘটনা ঘটে, তখন যথেষ্ট সক্রিয়তা দেখায় না, তখন তাদের শাস্তির ব্যবস্থা করা। আমি মনে করি, ধর্ষণের মতো অপরাধ দমনের ক্ষেত্রে পুলিশ ও সরকারি প্রশাসনের কর্মকর্তাদের দায়িত্বশীলতা ও জবাবদিহি প্রধান গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
আমাদের আশা, শিগগিরই আমরা সরকারের প্রতিক্রিয়া দেখতে পাব। বিচারপতি ভার্মা যদি ২৯ দিনের মধ্যে তাঁর প্রতিবেদন তৈরি করতে পারেন, সরকারও নিশ্চয় মাস খানেকের মধ্যে পুলিশসহ সরকারি কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেবে। আমার অনুমান, ভার্মা কমিটির প্রতিবেদন নিয়ে যেকোনো প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করা হলে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হবে, ‘বিবেচনাধীন’। তাহলে প্রমাণিত হবে যে রাজনীতিক ও পুলিশের মধ্যে
একটা যোগসাজশ আছে, যদিও এটা প্রমাণের অপেক্ষা রাখে না। বিচারপতি ভার্মার সুপারিশগুলো বাস্তবায়ন করা হলে জনগণের এই নেতিবাচক ধারণা কিছুটা দূর হতে পারে। কিন্তু আমার সংশয় রয়েছে।
ইংরেজি থেকে অনূদিত
কুলদীপ নায়ার: ভারতের সাংবাদিক।
Click This Link
©somewhere in net ltd.
১|
০৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৩ সন্ধ্যা ৬:৩৯
রামিজের ডিপফ্রিজ বলেছেন: যেকোন ব্যাপারেরই একটা শুকনো আইনি দিক থাকে আর একটা নৈতিক ব্যাপার থাকে।
আইনি দিক থেকে পুলিশ অফিসারেরা হয়ত দায়ী নন কিন্তু কর্তব্যে অবহেলার দায়ে নৈতিক দিক থেকে তাঁরা অপরাধী।
আর লোক হাসানোর জন্য মৃত্যুদন্ডের কথা বলে লাভ কী? আমাদের দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলির এব্যাপারে ট্র্যাক রেকর্ড দেখলে চমকে উঠতে হয়-
ভারত: একজন প্রধানমন্ত্রীকে বোমা মেরে উড়িয়ে দিলেও বা সংসদ ভবনে হামলা চালালেও আইনি অজুহাতে ফাঁসী আটকে যায় এবং কিছু দল খুনিদের ক্ষমা করার আর্জি জানান।
বাংলাদেশ: ৫০০ র ওপর মানুষকে ঠান্ডা মাথায় খুন করার অপরাধ প্রমাণ হলেও মৃত্যুদন্ড হয় না।
পাকিস্তান: আছিয়া বিবির মত এক বৃদ্ধাকে জিনার দায়ে সাজা দেওয়া হয় যখন দেশের যুবরাজ, বিদেশমন্ত্রীরা প্রকাশ্যে একই অপরাধ করে বেড়াচ্ছে।