| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
রাইটসম্যান
I am ambitious, hard worker, lot of patience, self centric cold minded, gentle, never to angry but in the long run way, I am happily to revenge against the victimizer. I am very soft and very kind but it is very difficult to understand me from outside. Because I am out spoken and very practical. I am not harmful to nobody even to my enemy. I am trying my best to adjust at any situation. I believe fate so I can accept any situation and newly build up a peaceful life again. Stress makes me more ambitious with a new light of HOPE. I am so logical, sequential, analytical, objective, and highly determined to do or die something indicatively, and also romantic, Industrious, emotional, peace lover, active responsible, nature-loving, straight-forward, Good-humored, independent, extrovert.
সুনামগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন তালেব উদ্দিন। সভাপতি তখন মরহুম সুজাত আহমেদ চৌধুরী। '৭১-এর রণাঙ্গনে বীর যোদ্ধা তালেবকে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ধরে এনে হাত-পা বেঁধে ঝুলিয়ে অবর্ণনীয় নির্যাতন করেছিল। পানি চাইলে প্রস াব পান করতে দিয়েছিল। তার শরীরের ক্ষতস্থানে লবণ, পানি ও মরিচের গুঁড়া লাগিয়েছিল তাদের এ-দেশীয় দোসররা। একজন জামায়াতি তাকে জুতা দিয়ে মেরে ছিলেন। যুদ্ধে পরাজিত হয়ে পালানোর সময় সেই হানাদাররা তাকে আহসান মারায় নিয়ে হত্যা করেছিল। শৈশবে শোনা সেই ঘটনা গভীর দুঃখ ও বেদনার ক্ষতচিহ্ন হয়ে এখনো বুকে বাজে। মনকে বিষণ্ন করে। তালেবের কথা মনে পড়লে গা শিউরে ওঠে। যুদ্ধের পর মুক্তিযোদ্ধারা ওই জামায়াতি পাকিস্তানি দোসরকে গলায় জুতার মালা দিয়ে শহর প্রদক্ষিণ করিয়েছিলেন। শাহবাগে যে তারুণ্য মোমবাতি প্রজ্বলন করে জাগিয়েছে মানুষকে সেই তারুণ্যকে অভিবাদন। অভিনন্দন মানবতাবিরোধী অপরাধ বিচারে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী ও তদন্ত কর্মকর্তাদের। শাহবাগ স্কয়ারে যে তারুণ্য সমবেত হয়ে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত জামায়াত নেতা কাদের মোল্লার ফাঁসি দাবি করছেন, তারাই ১৯৭১ সালের বীর মুক্তিযোদ্ধাদের উত্তরসূরি। এখানেই আজ গণজাগরণ ঘটেছে। একখণ্ড বাংলাদেশের ছবি ভাসছে। এই তরুণদের সে াতে যোগ দেওয়া মানুষেরাই ২০০৮ সালের জাতীয় নির্বাচনে যুদ্ধাপরাধ বিচারের দাবিতে মুজিবকন্যা শেখ হাসিনাকে ম্যান্ডেট দিয়েছিল। তারুণ্যের নেতৃত্বেই বাঙালি জাতি ভাষার আন্দোলনে ঐতিহাসিক বিজয় অর্জন করেছিল। এ তারুণ্যই '৬৯-এর গৌরবের মুকুট পরিয়েছিল জাতির মাথায়। জাতির মহান নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে তারুণ্যই স্বাধিকার, স্বাধীনতার সংগ্রামের সিঁড়িপথে '৭০-এর নির্বাচনে নৌকার পক্ষে গণজোয়ার তৈরি করেছিল। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের হাতে জাতির একক নেতৃত্ব তুলে দিয়েছিল। শাহবাগের আজকের তারুণ্যের পূর্বসূরিরাই 'বীর বাঙালি অস্ত্র ধর বাংলাদেশ স্বাধীন কর', 'তোমার আমার ঠিকানা পদ্মা মেঘনা যমুনা' স্লোগানে স্লোগানে বাঙালি জাতিকে জাগিয়েছিল পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে। এরাই পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে বুকের রক্ত দিয়ে মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে বিজয়ের পতাকা উড়িয়েছিল। এ তারুণ্যই বার বার আমাদের গণতন্ত্র ও অধিকারের সংগ্রামে জনজোয়ারের ঢেউ তুলে রাজপথ উত্তাল করেছিল। অসাম্প্রদায়িক গণতান্ত্রিক সংগ্রামে বার বার রাজপথে নেমেছে। এ তারুণ্যই জঙ্গিবাদ ও স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে লড়েছে। এ তারুণ্যের গণজোয়ারে দাঁড়িয়ে শহীদজননী জাহানারা ইমাম '৭১-এর ঘাতকদের ফাঁসির দণ্ড দিয়েছিলেন গণআদালত বসিয়ে। তারুণ্য আমাদের দেশপ্রেমের শক্তি। যুগে যুগে তারুণ্য এই জনপদে সব অন্যায়, অবিচার, জুলুম, নির্যাতন, সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে দ্বিধা করেনি। এ জাতির সাহস, গৌরব ও শক্তির উৎস তারুণ্য। এ তারুণ্যের মিছিল থেকে বার বার উচ্চারিত দাবির পরিপ্রেক্ষিতে নির্বাচনী গণরায় নিয়ে আসা মুজিবকন্যা শেখ হাসিনার সরকার যুদ্ধাপরাধের বিচার কার্যক্রম শুরু করে। দীর্ঘ ৪০ বছরের পুরনো মানবতাবিরোধী অপরাধের তদন্ত সম্পন্ন করে সাক্ষী-সাবুদ হাজির করে প্রসিকিউটররা যে আইনি মুক্তিযুদ্ধে লড়াই করছেন, তা জাতিকে অভিভূত করেছে। আইনি মুক্তিযুদ্ধের সেনাপতি দেশসেরা প্রবীণ ফৌজদারি আইনজীবী গোলাম আরিফ টিপুর নেতৃত্বে তাদের নিরলস পরিশ্রম বৃথা যায়নি। তদন্ত কর্মকর্তাদের পরিশ্রম বিফল হয়নি। যারা যুদ্ধাপরাধ বিচারের জন্য গঠিত ট্রাইব্যুনাল ও প্রসিকিউশন সেল নিয়ে শুরুতে বাঁকা মন্তব্য ছুড়েছিলেন তাদের মুখে ছাই পড়েছে। মানবতাবিরোধী অপরাধ বিচারে গঠিত ট্রাইব্যুনাল নিয়ে যারা প্রশ্ন তুলেছিলেন তারা হতাশ হয়েছেন। যারা বলেছিলেন রাজনৈতিক বিবেচনায় দলীয় এজেন্ডা বাস্তবায়নে এই বিচার হচ্ছে, তাদের কথাও ভুল প্রমাণ হয়েছে। একজন কাদের মোল্লার যাবজ্জীবন দণ্ডে সরকার ও তার সহযোগীরা নাখোশ হলেও প্রমাণ হয়েছে ট্রাইব্যুনাল কত নিরপেক্ষ। কত স্বাধীন। কতই না প্রভাবমুক্ত।
মানবতাবিরোধী অপরাধ ট্রাইব্যুনাল এরই মধ্যে মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর দোসর হয়ে বাঙালি জাতির বিরুদ্ধে গণহত্যা, ধর্ষণ, লুটতরাজ ও অগি্নসংযোগের অভিযোগে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে একে একে রায় দিচ্ছেন। যারা বলেছিলেন ক্যামেরা ট্রায়াল তারাও দেখলেন উভয় পক্ষের আইনজীবীদের যুক্তি-তর্ক, সাক্ষীদের জেরা ও শুনানির মধ্য দিয়ে মামলাগুলো নিষ্পন্ন হচ্ছে। প্রথম রায়ে পলাতক বাচ্চু রাজাকারকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তিনি জামায়াতের সাবেক রুকন। মঙ্গলবার দ্বিতীয় রায়ে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আবদুল কাদের মোল্লার বিরুদ্ধে আনা ছয়টি অভিযোগের পাঁচটি প্রমাণিত হওয়ায় বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের নেতৃত্বে গঠিত ট্রাইব্যুনাল-২ যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত করেছেন। এ রায়ের পর ট্রাইব্যুনাল বাতিল ও যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে অভিযুক্ত নেতাদের মুক্তি দাবিতে জামায়াত-শিবির কর্মীরা যে সহিংস আন্দোলন ও মরণপণ লড়াই শুরু করেছিলেন জঙ্গি চেহারা নিয়ে, তা থেকে অনেকটা সরে গেছেন। অন্যদিকে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেছেন, পাঁচ ও ছয় নম্বর অভিযোগে কাদের মোল্লার মৃত্যুদণ্ড হওয়ার কথা। হয়নি। রায় পড়ে পরবর্তী করণীয় ঠিক হবে। চিফ প্রসিকিউটর গোলাম আরিফ টিপু বলেছেন, প্রত্যাশা করেছিলাম কাদের মোল্লার মৃত্যুদণ্ড হবে। এ জন্য হতাশ। তবে ট্রাইব্যুনাল যে রায় দিয়েছেন তার বিরুদ্ধে আমার কোনো অভিযোগ নেই। মামলা পরিচালনাকারী রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি মোহাম্মদ আলী বলেছেন, তার ফাঁসি না হওয়ায় প্রতিক্রিয়া জানানোর ভাষা হারিয়ে ফেলেছেন। তদন্ত সংস্থার সমন্বয়ক আবদুল হান্নান খান বলেছেন, কাদের মোল্লার বিরুদ্ধে ছয়টি অভিযোগের মধ্যে পাঁচটি প্রমাণিত হয়েছে। এ থেকে প্রমাণিত হয় আমাদের তদন্ত সঠিক ছিল। কিন্তু এত ভয়াবহ অপরাধের পরও যাবজ্জীবন কারাদণ্ড কেন দেওয়া হলো, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকে গেল। আমরা হতাশ। আসামিপক্ষের প্রধান আইনজীবী ব্যারিস্টার আবদুর রাজ্জাক বলেছেন, এ রায়ের বিরুদ্ধে যত শীঘ্র সম্ভব আপিল করা হবে। তিনি আরও বলেছেন, আমরা বিস্মিত ও হতাশ। ১৮৬০ সালে ভারতবর্ষে হাইকোর্ট প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর থেকে আজ পর্যন্ত এ রায়টির মতো দুঃখজনক একটি রায়ও খুঁজে পাওয়া যাবে না।
জামায়াত এ রায় প্রত্যাখ্যান করেছে। অন্যদিকে ১৪ দলের বৈঠক শেষে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ বলেছেন, এ রায় অপ্রত্যাশিত। জাতি সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড আশা করেছিল। আইন প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম বলেছেন, রায় জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী হয়নি। সংসদে মহাজোটের শরিক ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন বলেছেন, আজকের দিনটি বেদনার। এই সংসদে যুদ্ধাপরাধ বিচারের সিদ্ধান্ত হয়েছিল। হত্যা, গণহত্যা, ধর্ষণ প্রমাণিত সর্বোচ্চ শাস্তি না দিয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়ায় সবার মন ভেঙে গেছে। আমরা সাপ নিয়ে খেলছি। সাপের মুখে চুমু দিতে নেই। সুযোগ পেলে সেই সাপ ছোবল মারবে। জাসদের মইনউদ্দীন খান বাদল বলেছেন, আদালত মানুষের ইচ্ছার বিরুদ্ধে রায় দিয়েছেন। একজন কসাইয়ের বিরুদ্ধে এ রায়ে মানুষ অপমানিত, ক্ষুব্ধ। রায়ের প্রতিবাদে বিকাল থেকেই তারুণ্যের প্রতিবাদী মোমবাতির আলোয় গণজোয়ার মানুষের সৃষ্টি হয়েছে শাহবাগ মোড় থেকে চারদিকে। তরুণরা প্রতিবাদ জানাচ্ছেন এ রায়ের। দাবি জানাচ্ছেন ফাঁসির। দেশপ্রেমিক তারুণ্যের এই শক্তি আমাদের মধ্যে প্রাণ সঞ্চার করেছে। তাদের সঙ্গে সংহতি জানাতে মানুষ ছুটে যাচ্ছে। কেউ কেউ প্রশ্ন তুলছেন, যে পুলিশ একদিন জামায়াতকে রাস্তায় নামতে দেয়নি, যে জঙ্গি শিবির পুলিশের ওপর সহিংস আক্রমণ চালিয়েছে, সেই পুলিশ তাদের সমাবেশ করার অধিকার দিয়েছে যে সমাবেশ থেকে জামায়াত তাদের নেতা কাদের মোল্লার রায়ের আগের দিন হুমকি দিয়েছিল গৃহযুদ্ধের। তাই রায়ের পর নানা মহলে ব্যাপক আলোচিত সরকার ও জামায়াতের সমঝোতা হয়েছে এ প্রশ্ন তোলে! কিন্তু এর কোনো ভিত্তি কোথাও পাওয়া যায়নি। প্রধান বিরোধী দল বিএনপি যেখানে জামায়াতের ট্রাইব্যুনাল বাতিল ও তাদের নেতাদের মুক্তি দাবির সঙ্গে দ্বিমত প্রকাশ করে হরতালে সমর্থন দেয়নি সেখানে জাতির জনক বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার সরকার যে দৃঢ়তার সঙ্গে গণরায় নিয়ে যুদ্ধাপরাধ বিচারের কাজ শুরু করেছেন, সেখানে কোনো ধরনের আঁতাতের খেলা শুরু হতে পারে তা আমাদের কাছে বিশ্বাসযোগ্য ও গ্রহণযোগ্য নয়। এটা মানুষের ঐক্যে বিভ্রান্তির আরেক খেলা মাত্র। আজকের বাস্তবতায় যুদ্ধাপরাধ বিচারের দাবিতে জাতি যে ঐক্যের মোহনায় মিলিত হয়েছে সেই নেতৃত্ব আওয়ামী লীগ নেত্রী মুজিবকন্যা শেখ হাসিনাই দিয়েছেন। তাকেও অভিনন্দন। তার রাজনৈতিক শক্তি ও ইমেজের ওপরই বিগত নির্বাচনে এই বিচারের দাবিতে ম্যান্ডেট আদায় হয়েছে। তাই তার সরকারের কেউ কোনো গোপন সমঝোতা করলে সেটি হবে আত্দঘাতী এবং তিনি তা হতে দেবেন না এই বিশ্বাস আমরা রাখি। যে তারুণ্য আজ প্রতিবাদমুখর হয়ে আবেগে, চেতনায় শাহবাগে নেমে এসেছে তাদের অভিবাদন জানাই। কিন্তু আমাদের ভুললে চলবে না, মানবতাবিরোধী অপরাধ বিচারের জন্য গঠিত ট্রাইব্যুনালের মহামান্য বিচারকদের প্রতি আমরা আস্থা ও শ্রদ্ধাশীল। স্কাইপ বিতর্কের মুখে বিচারপতি নিজামুল হক নাসিম স্বেচ্ছায় সরে গিয়ে নিজের সম্মান রেখেছেন। ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি ওবায়দুল হাসান একজন সৎ, দেশপ্রেমিক বিচারকই নন, মুক্তিযুদ্ধের অনন্যসাধারণ এক সংগঠকেরও সন্তান। বিচারকরা তাদের বিবেচনায় যে রায় দেওয়া উচিত তা-ই দিয়েছেন। জামায়াত-শিবির সহিংস কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে ট্রাইব্যুনাল বাতিল ও তাদের নেতাদের মুক্তি দাবিতে যে মরণ লড়াই শুরু করেছিল তার মুখেও দৃঢ়তা হারাননি মাননীয় আদালত। আমরাই বরাবর বলেছি জামায়াত যতক্ষণ পর্যন্ত আইন, বিধিবিধান অনুযায়ী নির্বাচন কমিশনের নিবন্ধিত সংসদে প্রতিনিধিত্বশীল রাজনৈতিক দল সেখানে তাদের শান্তিপূর্ণ মিছিল, সমাবেশের অধিকার দেওয়া সরকারের দায়িত্ব। তাদের এ অধিকার হরণ করা যায় না। গণতন্ত্রে জনগণের শক্তি শেষ কথা। সরকার গণরায় নিয়ে এ বিচার শুরু করেছে। আমাদের ভুললে চলবে না, পাকিস্তান হানাদার বাহিনী কতটা বর্বরোচিতভাবে মানব সভ্যতার ইতিহাসকে কলঙ্কিত করে '৭১ সালে এই জনপদে কীভাবে হত্যাযজ্ঞ চালিয়েছিল। একজন সন্তানহারা মায়ের ক্রন্দন, স্বামীহারা বিধবার কান্না, সম্ভ্রমহারা বোনের বেদনায় ভাইয়ের নীল চেহারা, মা-বাবা হারানো এতিমের মুখের চিত্র হাজার বছরেও ভুলে যাওয়ার কথা নয়। ওরা আমাদের গ্রামের পর গ্রাম, বাড়িঘর জ্বালিয়ে দিয়েছে। ওরা পশুর মতো নির্বিচারে নিরস্ত্র মানুষ হত্যা করেছে। নারী ও শিশু হত্যা করেছে। ওরা আমাদের মা-বোনদের ধর্ষণ করেছে। ওরা এ দেশকে মৃত্যু উপত্যকাই নয়, ধ্বংসস্তূপে পরিণত করেছিল। আমরা জাতি হিসেবে অনেক রক্তের বিনিময়ে এ দেশ স্বাধীন করেছিলাম। বিশ্ববিবেক সেদিন তাকিয়ে দেখেছিল পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর হত্যা, লুণ্ঠন, আর ধর্ষণের রোমহর্ষক চিত্র। বিশ্ববিবেক প্রতিবাদের ঝড় তুলেছিল দেশে দেশে এই গণহত্যার বিরুদ্ধে। সেদিন বীর বাঙালি মরণপণ যুদ্ধে অবতীর্ণ হয়ে বুকের রক্ত ঢেলে দিতে যেমন কার্পণ্য করেনি, রণাঙ্গন থেকে রণাঙ্গনে যেমন অসীম সাহসিকতা নিয়ে ছুটে যেতে দ্বিধা করেনি, তেমনি তাদের বীরত্বের গৌরবের বার্তা ছুটে গেছে দুনিয়ার মুক্তিকামী মানুষের কাছে। সেদিন ভারতের মহান গণতন্ত্রের নেত্রী শ্রীমতি ইন্দিরা গান্ধী ও তার জনগণ আমাদের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন। তারা আশ্রয়, খাবার, অস্ত্র, ট্রেনিং ও রক্ত দিয়ে বিশ্ববাসীকে বিস্মিত করেছেন। একই ভাবে বিশ্ব অবাক হয়ে তাকিয়ে দেখেছে অবাঙালি বিহারিদের সঙ্গে বাঙালি হয়ে পাকিস্তান হানাদার বাহিনীর এ-দেশীয় দোসররা সেদিন কী নির্লজ্জ বিবেকহীন দানবের মূর্তি নিয়ে তাদের সব অপকর্মের যাবতীয় অপরাধের সঙ্গী হয়েছে। বাঙালির হত্যাযজ্ঞেই শামিল হয়নি, এ দেশের বুদ্ধিজীবীদের পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর হাতে তুলে দিয়েছে। আমাদের মা-বোনদের বাড়ি বাড়ি নিয়ে গিয়ে তারা সম্ভ্রম লুটে নেওয়ার সুযোগ করে দিয়েছে। অসংখ্য রাজাকার পাকিস্তানের পক্ষ নিয়ে ক্ষমা পেলেও যারা মানবতাবিরোধী অপরাধের সঙ্গে যুক্ত হয়েছিলেন তাদের বিচার জনগণের দীর্ঘ প্রত্যাশার বিচার। যে তরুণী মুক্তিযুদ্ধে স্বামীকে হারিয়েছেন, অকাল বৈধব্যের যন্ত্রণা আর বাচ্চাদের নিয়ে সংগ্রামমুখর জীবনে চোখের নিচে রাতের পর রাত অশ্রুবিন্দুর কালো দাগ ফেলে বিচারের পথ চেয়ে দিন কাটিয়েছেন। আজ জামায়াতের মিছিলে যে তারুণ্য ছুটে যাচ্ছে সে জানে না '৭১-এ তার দলসহ কিছু পাকিস্তানপন্থি রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মী কতটা হিংস পাশবিক মূর্তি নিয়ে পাকিস্তানি সেনাদের মনোরঞ্জন করেছেন। কসাইয়ের মূর্তি নিয়ে তাদের পাশে দাঁড়িয়েছেন। এ তরুণদের আল্লাহ-রাসূলের নামে, ধর্মের দোহাই দিয়ে তারা কাছে টেনে নিয়ে গেছেন। এ দায় ছোট-বড় মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের রাজনৈতিক নেতৃত্ব এড়াতে পারেন না। অসুস্থ মূল্যবোধহীন রাজনীতির কারণে, বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজ ছাত্র সংসদ নির্বাচন ২১ বছর ধরে বন্ধ রাখার কারণে এই পরিণতি দেখতে হচ্ছে। আমাদের নিষ্পাপ, নিরপরাধ তারুণ্য কেন আজ '৭১-এর পরাজিত পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর দোসরদের রাজনৈতিক উত্তরাধিকারিত্ব গ্রহণ করবে? এই তারুণ্যের পথ আগলে দাঁড়াবার এখনই সময়। রাজনীতিতে সততা, পারস্পরিক শ্রদ্ধা, দলীয় গণতন্ত্র ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় গণমানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষার পথে সরকার ও বিরোধী দলের জাতীয় ঐক্যের রাজনীতি ছাড়া এই দুরূহ কাজ সম্পন্ন করা কঠিন। আমাদের তরুণদের ব্যবহার করার বদলে জাতির সাহসী সন্তান হিসেবে আলোর পথ দেখাতে হলে অসাম্প্রদায়িক দুর্নীতিমুক্ত গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ার বিকল্প নেই। শাহবাগের সমবেত তারুণ্য ও মানুষ যেন জেগে থাকে, সতর্ক থাকে, হঠকারিতার পথ যেন কেউ দেখাতে না পারে। আমরা এক কঠিন সময় অতিক্রম করছি। এই জনজোয়ারে ভেসে যাবে সব জঙ্গি অশুভ শক্তি।
Click This Link
২|
০৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৩ রাত ৩:৪৩
স্মিথ হাসান বলেছেন: শেষ মুহুর্তে দেশের ঘুমন্ত পোলাপান চেইত্তা ওঠছে, এবার আর রহ্মা নাই জামাত শিবির গো।
প্রয়োজনে সকলে মিলে অনির্দিষ্টকালের জন্য রাজপথ, অলিগলি বন্ধ করে দাও।
সবাই নিজ নিজ অবস্হান থেকে লড়ো।
মনে রাখবা রায় যদি হতেই হয়, ফাঁসির রায়ই হতে হবে।
©somewhere in net ltd.
১|
০৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৩ রাত ২:২২
‘নৈব চ, নৈব চ’ বলেছেন: চলো চলো শাহবাগ চলো