নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

এই ঈষদোষ্ণ রোদ্দুর মিছিলে স্বাগতম

রোদ্দূর মিছিল

দলছুট এক ইউক্যালিপটাস ছালহীন দেহে মাখে কুয়াশার হিম নিঃসঙ্গ বেদনায়। পাতা ঝরার আর্তনাদে ভেঙ্গে খান খান নিরবতা। ক্যানভাসের বিমূর্ত ছবির মত এলোমেলো আমার অনুভূতিগুলো আঁধারের হাতছানিতে নিমজ্জিত - কিছুটা সময়। অঃতপর- রাত্রির আঁধার ভেঙ্গে চলি শুন্য রাজপথে দূরের চাঁদ আলো ফিরিয়ে নেয় মন হারায় আঁধার মরুতে।

রোদ্দূর মিছিল › বিস্তারিত পোস্টঃ

ইনকিলাব জিন্দাবাদ/রোদ্দুর মিছিল

২৩ শে মার্চ, ২০১৮ সন্ধ্যা ৬:০৫



ভারতবর্ষের স্বাধীনতা সংগ্রামে হাজার হাজার বিপ্লবী প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে যুক্ত থেকে সংগ্রাম করেছিলেন। প্রত্যক্ষ সংগ্রামীরা বিভিন্ন সংগঠন যেমন ঢাকার অনুশীলন সমিতি, যুগান্তর পার্টি, চট্টগ্রামের দি ইন্ডিয়ান রিপাবলিকান আর্মি, বেঙ্গল ভলান্টিয়ার্স, মালামার বিপ্লবীদল, কলকাতার অনুশীলন সমিতি, মেদিনীপুর বিপ্লবী দল, বিপ্লবী কমিউনিস্ট সংগঠন, স্বরাজ পার্টিসহ অন্যান্য বিপ্লবী দলের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত থেকে আন্দোলন-সংগ্রাম করে গেছেন। অন্যদিকে অসংখ্য সংগ্রামী মানুষ, ছাত্র-তরুণ-যুবক এই বিপ্লববাদী আন্দোলনে পরোক্ষভাবে যুক্ত ছিলেন। স্বাধীনতা সংগ্রামে অগ্রণী ভূমিকা পালনকারী সেসব দলের অসংখ্য বিপ্লবী সদস্যরা এমন কি জীবন বলিদানের মন্ত্রকেও সানন্দে গ্রহণ করেছিলেন, যার ফলস্বরূপ ফাঁসিমঞ্চে জীবন উৎসর্গ করেন তাঁদের অনেকেই। এঁদের মধ্যে হাতেগোনা চার-পাঁচজনের নাম ও কিছু কিছু ইতিহাস আমরা জানি হয়তো বা। আর বাকি অনেকের সম্পর্কে আমাদের ধারণা নেই বললেই চলে।

১৯১৪ সালে প্রথম বিশ্বযুদ্ধ শুরু হলে রাসবিহারী বসু উত্তর ভারতে এক সশস্ত্র বিপ্লবী অভ্যুত্থান ঘটাবার পরিকল্পনা করেন। এই সময় গদরপন্থী কয়েক শত শিখ ও পাঞ্জাবি যুবক 'কোমাগাতামারু' ও 'তোশামারু' নামে দুই জাহাজে করে পাঞ্জাবে ফিরে সামরিক অভ্যুত্থান ঘটাতে সচেষ্ট হলে রাসবিহারী বসু দেশব্যাপী স্বাধীনতা আন্দোলন গড়ে তোলার অনুকূল পরিস্থিতিকে কাজে লাগান। এই উদ্দেশ্যে তিনি ব্রিটিশ সেনানিবেশের ভারতীয় সৈনিকদের সঙ্গে গোপনে যোগাযোগ স্থাপন করেন ও সেনাবাহিনীর সহযোগিতায় ১৯১৫ খ্রিস্টাব্দে ২১ শে ফেব্রুয়ারি দিল্লি, লাহোর, আম্বালা, রাওয়ালপিন্ডি, মিরাট, ফিরোজপুর প্রভৃতি স্থানে সেনাছাউনিতে এক সামরিক অভ্যুত্থানের দিনক্ষণ ধার্য করেছিলেন। ভারতীয় বন্দীদের কারামুক্ত করা ও স্থানীয় প্রশাসন দখল করা ছিল তাঁর লক্ষ্য। দুর্ভাগ্যক্রমে কৃপাল সিং নামক জনৈক বিশ্বাসঘাতক ষড়যন্ত্রের কথা ফাঁস করে দিলে পরিকল্পনা ব্যর্থ হয়। পুলিশ ব্যাপক অভিযান চালিয়ে দেড়শ'র মতো বিপ্লবীকে বন্দী করে।

অন্যদিকে ১৯২৪ সালে ভারত উপমহাদেশব্যাপী ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন আরও বেগবান হয়ে ছড়িয়ে পড়ার ফলস্বরূপ চট্টগ্রামে রেলওয়ে ডাকাতি, বঙ্গের বিভিন্ন জায়গায় রাজনৈতিক ডাকাতি এবং বিপ্লবীদের নানান সশস্ত্র কার্যকলাপ ব্রিটিশ শাসকগোষ্ঠীকে বিচলিত করে। আর তাই এসব কার্যকলাপকে শক্ত হাতে নিয়ন্ত্রন করার উদ্দেশ্যে বঙ্গীয় প্রাদেশিক পরিষদে ‘১ নম্বর বেঙ্গল অর্ডিনান্স’ নামে এক জরুরি আইন পাশ করা হয়, যে আইনের উপর ভিত্তি করে অসংখ্য সন্দেহভাজনদের ‘রাজনৈতিক কার্যকলাপের' জন্য বিনা বিচারে আটক করে রাখা হয়।

অগ্নিযুগের সশস্ত্র বিপ্লবী আন্দোলনের সে সময়গুলোতে যাঁরা সক্রিয় ভূমিকা পালন করে যাচ্ছিলেন, তাঁদের মধ্যে অন্যতম বিপ্লবী ভগৎ সিং, সুখদেব থাপার ও শিবরাম রাজগুরু। আজ থেকে ৮৯ বছর আগে, ১৯২৯ সালে দায়েরকৃত 'লাহোর ষড়যন্ত্র মামলা'য় এই তিনজন বিপ্লবীকে বন্দী করা হয় আরও অন্যান্য বিপ্লবীদের সঙ্গে, যেহেতু তাঁরা বিপ্লবের ডাক দিয়েছিলেন, ভারতবর্ষে শ্রমিক-কৃষক ও মেহনতি মানুষের রাজত্ব প্রতিষ্ঠার কথা বলেছিলেন এবং সাম্রাজ্যবাদকে ধ্বংস করার লড়াইয়ে আন্তর্জাতিক শ্রমিক শ্রেণীর সাথে দাঁড়ানোর অঙ্গীকার করেছিলেন। স্বাধীনতা আন্দোলনকে সমাজ বদলের লড়াইয়ে বদলে দেওয়ার প্রচেষ্টায় রত 'হিন্দুস্তান সোশ্যালিস্ট রিপাবলিকান অ্যাসোসিয়েশন'-এর এই তিন বিপ্লবী নেতাকে ১৯৩০ সালের ৭ অক্টোবর তিন ব্রিটিশ বিচারকের সমন্বয়ে গঠিত এক বিশেষ ট্রাইব্যুনাল অপরাধী সাব্যস্ত করে, এবং ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার রায় প্রদান করে।


১৯৩১ সালের ২৩ মার্চ (আজকের দিন)। সন্ধ্যে সাতটা। ভগৎ সিং, সুখদেব থাপার ও শিবরাম রাজগুরুর যাত্রা শুরু হয় ফাঁসির মঞ্চের দিকে। ডানে রাজগুরু, মাঝে ভগৎ সিং, বাঁয়ে শুকদেব। সবার কণ্ঠে একই ধ্বনি- "ইনকিলাব জিন্দাবাদ"। করুণা ভিক্ষা নয়, বরং "ইনকিলাব জিন্দাবাদ" স্লোগান দিতে দিতেই হাসি মুখে ফাঁসির মঞ্চে গিয়ে দাঁড়ালেন তাঁরা তিনজন।।


সন্ধ্যে সাতটা বেজে বাইশ মিনিট। লাহোর কারাগারে ধ্বনিত-প্রতিধ্বনিত হওয়া "ইনকিলাব জিন্দাবাদ" স্লোগান হঠাৎ থেমে গেলো। স্তব্ধ হয়ে গেলো সব কোলাহল। কেবল ফাঁসিকাষ্ঠে ঝুলে রইলো রাজগুরু, সুখদেব আর ভগৎ সিং-এর নিস্প্রান দেহ।



ছবি: ইন্টারনেট

মন্তব্য ১৮ টি রেটিং +২/-০

মন্তব্য (১৮) মন্তব্য লিখুন

১| ২৩ শে মার্চ, ২০১৮ সন্ধ্যা ৬:৫১

রূপক বিধৌত সাধু বলেছেন: ইনকিলাব জিন্দাবাদ।

২৩ শে মার্চ, ২০১৮ সন্ধ্যা ৬:৫৫

রোদ্দূর মিছিল বলেছেন: ইনকিলাব জিন্দাবাদ। বিপ্লব দীর্ঘজীবি হোক। ধন্যবাদ সাধু। ভলো থাকুন।

২| ২৩ শে মার্চ, ২০১৮ রাত ৮:০৭

রাজীব নুর বলেছেন: আসলে দেশের জন্য যারা জীবন দান করেছে, তারা নিজেরাই মহান হয়েছে।

২৩ শে মার্চ, ২০১৮ রাত ৯:১৯

রোদ্দূর মিছিল বলেছেন: তাঁরা আসলে জীবন দিয়েছেন দেশের জন্য এবং দেশের মানুষের জন্য, অর্থাৎ আমাদের জন্য। আমাদের কারও কারও যদি মনে হয়েও থাকে, এঁরা তো আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতের স্বাধীনতার জন্য প্রান দিয়েছেন, আমাদের সাথে কি সম্পর্ক? তাঁদেরকে আমি শুধু এইটুকুই স্মরণ করিয়ে দিতে চাই, আপনার দাদা-দাদী, নানা-নানী (কিংবা পরদাদা-পরদাদী অথবা পরনানা-পরনানী) যে ভারতীয় ছিলেন (ভারতীয় নাগরিকই শুধু নয়, বরং কৃষ্টিতে-সংস্কৃতিতে ভারতীয়), তা জানেন তো? এবং এইসব অকুতোভয় বীরেরা আপনার সেই পূর্বপুরুষদের স্বাধীনতার জন্য লড়েছিলেন, আত্মোসর্গ করেছিলেন। তখন আসলে কেউ জানতো না যে এ লড়াইয়ের পরও আবার অন্য এক লড়াইয়ে লিপ্ত হতে হবে হতভাগা পূর্ববঙ্গের মানুষদেরকে। সুতরাং, আপাতদৃষ্টিতে এইসব বীরদেরকে বর্তমান 'ভারত' নামক দেশটার জন্য স্মমানিত বীর বা শহীদ বলে মনে হলেও, এঁরা আমাদের কাছেও কিন্তু সমানভাবে শ্রদ্ধাভাজন বা স্মরণীয় হওয়া উচিত বলে আমি মনে করি। আপনার কথা ঠিক। তাঁরা মহান। ধন্যবাদ আপনাকে।

৩| ২৩ শে মার্চ, ২০১৮ রাত ৮:৫৬

বনসাই বলেছেন: মুক্তিসংগ্রামীর দৈহিক মৃত্যু হলেও তাঁরা বেঁচে থাকেন প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে। আজ এই পোস্ট দেয়াতে আপনাকে ধন্যবাদ।

২৩ শে মার্চ, ২০১৮ রাত ৯:৪৫

রোদ্দূর মিছিল বলেছেন: তাঁদের বেঁচে থাকা উচিত। আর তাঁদেরকে যুগ যুগ ধরে বাঁচিয়ে রাখার কাজটা আমাদেরকেই করতে হবে। আমাদেরকেই ইতিহাস খুঁড়ে এনে তাঁদের বীরত্বের গাথা শোনাতে হবে নতুন প্রজন্মকে। আর তা না করে আমরা যদি নিজেদেরকে নিয়েই ব্যস্ত থাকি, অথবা খন্ডিত ইতিহাস শোনাই প্রজন্মকে, তাহলে আমরা নিজেদেরকে বেঈমান ছাড়া আর কিছুই বলতে পারিনা। আসলে কথা কি, আমরা একটা আঁধার রাতের মধ্যে আছি। এটাকে সকালের কাছে নিয়ে যাওয়ার দায়িত্ব আমাদেরই। কারণ "আমরা যদি না জাগি মা, কেমনে সকাল হবে?" ধন্যবাদ আপনার মন্তব্যের জন্য। ভালো থাকুন।

৪| ২৪ শে মার্চ, ২০১৮ ভোর ৬:৪৪

কাউয়ার জাত বলেছেন: "রঙ দে বাসন্তী" সিনেমায় এদের কাহিনী আছে না?

২৪ শে মার্চ, ২০১৮ বিকাল ৪:১৬

রোদ্দূর মিছিল বলেছেন: হ্যাঁ, 'রঙ দে বাসন্তী' সিনেমায় এদের কাহিনী আছে। সেই সাথে আরও তিনজন ক্রান্তিকারী চন্দ্রশেখর আজাদ, আশফাক উল্লাহ খান আর রামপ্রসাদ বিসমিলের কাহিনীও উল্লেখ আছে। অন্যদিকে 'দ্য লেজেন্ড অব ভগৎ সিং' নামে একটা ছবি আছে, যেখানে নাম ভূমিকায় ছিলেন আজয় দেবগন। ধন্যবাদ আপনার মন্তব্যের জন্য।

৫| ২৪ শে মার্চ, ২০১৮ সকাল ৭:৪৫

কোলড বলেছেন: Those were terrorists. Good riddance.

২৪ শে মার্চ, ২০১৮ বিকাল ৪:০২

রোদ্দূর মিছিল বলেছেন: Of course, they were terrorists in the eyes of the British rulers; exactly like our freedom fighters 'Mukti Bahini' were terrorists in the eyes of the Pakis. But why "on earth" you have to express "good riddance" by being a Bangladeshi while you, together with your family, are enjoying the freedom from the tyranny of the British rulers? Pity on you.

৬| ২৪ শে মার্চ, ২০১৮ বিকাল ৩:৫৮

তারেক ফাহিম বলেছেন: ইনকিলাব জিন্দাবাদ

২৪ শে মার্চ, ২০১৮ বিকাল ৪:১৮

রোদ্দূর মিছিল বলেছেন: ইনকিলাব জিন্দাবাদ। ধন্যবাদ আপনাকে। ভালো থাকুন।

৭| ২৪ শে মার্চ, ২০১৮ বিকাল ৫:৪০

পদাতিক চৌধুরি বলেছেন: কামাগাতামারু ঘটনা নিয়ে একটা বিভ্রান্তি আছে। ১- ১৯১৪ সালের ২৯ সেপ্ট.প্রায় চারশো ভারতীয় যাত্রী(মূলত শিখ) নিয়ে জাপনি জাহাজটি কানাডার ভ্যাঙ্কুভারে পৌঁছায়।যাত্রীদের উদ্দেশ্য ছিল আমেরিকা বা কানাডায় জীবিকান্বেষণ । কিন্তু ব্রিটিশ প্ররোচনায়য় কানাডা সরকার বর্ণবৈষম্যের যুক্তি দেখিয়ে কোমাগাতামারু জাহাজের যাত্রীদের নামতে বাঁধা দেয়।এদেকে জাহাজের খাদ্য পানীয় ক্রমশ ফুরিয়ে আসে।প্রায় একমাস অবরুদ্ধ থেকে ১৯১৪ সালের ২৯ সেপ্ট.জাহাজটি বজবজে পৌঁছালে, পুলিশ যাত্রীদের গদর পাটির সঙ্গে যুক্ত থাকার অজুহাতে গ্রেপ্তার করতে অগ্রসর হলে দুপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়।২০ জন যাত্রী নিহত হন।কয়েকজন পালিয়ে গেলেও অধিকাংশ পুলিশের হাতে বন্দী হয় এবং পাজ্ঞাবের জেলে ঠাঁই হয়।
২ -প্রথম বিশ্ব যুদ্ধ শুরু হবার সঙ্গে সঙ্গে গদর পার্টি তার সদস্যদের দেশে ফিরে বিপ্লবী কাজে যোগ দিতে আহ্বান জানায়।আমেরিকা, কানাডার বিভিন্ন জাহাজে করে দলে দলে বিপ্লবীরা দেশে ফিরতে থাকে।একটা মত আছে গদর পাটির সভাপতি সোহন সিং, কেশব সিংরা ধরা পড়েন।আর কর্তার সিং,বিষ্ঞু গনেশ পিংলে,রহমত আলি প্রমুখরা পালাতে সক্ষম হয়েছিলেন।পুলিশ গদর পাটির সংঘর্ষে নিরিহ যাত্রীদের সেদিন প্রান গিয়েছিল।

আর ভগৎ সিং দের সম্পর্কে বলি, বিপ্লবীদের মুখের শেষ কথা ছিল, ইনকিলাব জিন্দাবাদ'. যে স্লোগান তিনি দিল্লীর আইনসভা কক্ষে বোমা নিক্ষেপ করেও দিয়েছিলেন। আসলে 'হিন্দুস্তান সোশালিস্ট রিপাবলিকান আর্মির 'প্রকাশিত ইস্তাহারে সূচনার লাইনটি ছিল, " বধিরের কানে কিছু ঢোকাতে হলে আওয়াজটা জোরালোহওয়া দরকার। "
ধন্যবাদ,মনের মত একটি পোস্ট পেয়ে অনেকটা বেশি কথা বলে ফেললাম।

২৪ শে মার্চ, ২০১৮ সন্ধ্যা ৬:১৫

রোদ্দূর মিছিল বলেছেন: ওয়াও!!! অনেক কিছু জানতে পারলাম। সত্যিই অনেক সমৃদ্ধ হলাম। আমি নিজেও খুঁটিনাটি বিষয়গুলো এবং তার পেছনের ফ্যাক্টগুলো খোঁজার চেষ্টা করছি বহুদিন ধরে। কেননা ইতিহাসের "আদার সাইড অফ দ্য স্টোরি" না জানলে সঠিক ইতিহাস জানা হয়না বলে আমি মনে করি। আপনার দেয়া তথ্যগুলো আমার ইতিহাস সম্পর্কে জানার ক্ষেত্রে নিঃসন্দেহে একটা মাত্রা যোগ করেছে। আপনাকে অনেক ধন্যবাদ। অন্য একটি প্রসঙ্গ। ভগৎ সিংদের ফাঁসির ব্যাপারে গান্ধীজি মার্সি পিটিশন করে লঘু শাস্তি চাইতে পারতেন। কিন্তু তাতে ব্রিটিশদের সাথে সাময়িক আপোষ রফা করা হলো বলে মনে হতে পারে, এই বিবেচণায় তিনি তা করেননি। অর্থাৎ গান্ধীজি পক্ষান্তরে এই তাজা প্রানগুলোর বিসর্জন হোক তা চেয়েছিলেন। এ বিষয়ে আপনার মত কি?

৮| ২৪ শে মার্চ, ২০১৮ সন্ধ্যা ৬:২১

বিদ্রোহী ভৃগু বলেছেন: ইনকিলাব জিন্দাবাদ

দেহগুলো নিষ্প্রান হয়ে্ও প্রাণে প্রাণে দ্রোহের আগুন জ্বালিয়ে গেছে - - -

যে আগুনে পুড়েছে শাসকের সিংহাসন!

+++

২৪ শে মার্চ, ২০১৮ সন্ধ্যা ৬:২৯

রোদ্দূর মিছিল বলেছেন: বাহ! কি চমৎকার কথা! দেহগুলো নিষ্প্রান হয়ে্ও প্রাণে প্রাণে দ্রোহের আগুন জ্বালিয়ে গেছে - - - হ্যাঁ, এই দ্রোহই ধুয়েমুছে ফেলবে সব সামাজিক ও রাষ্ট্রিয় অসংগতিগুলো। বিপ্লব দীর্ঘজীবি হোক!!! শোষিতের মুক্তি আসুক!!! ধন্যবাদ আপনাকে চমৎকার এই মন্তব্যের জন্য। ভালো থাকুন।

৯| ২৪ শে মার্চ, ২০১৮ রাত ১০:২৬

পদাতিক চৌধুরি বলেছেন: ধন্যবাদ,স্যর মন্তব্যে অনুপ্রাণিত হয়ে দুকথা।আদর্শগত পার্থক্য থাকলেও গান্ধীজি ভগৎ সিং এর শাস্তি কমানোর চেস্টা করেন নি,একথা ঠিক নয় - মতটি ঐতি অমলেশ ত্রিপাঠী।তিনি তার গ্রন্থে বিষয়টি আলোকপাত করেছেন। ১৯৩১ এর ২৯ মার্চ কং এর করাচি অধিবেশন বসে ভগৎ সিংদের ফাঁসির ছদিন পরে।সেখানে গান্ধীর নির্দেশে এই হত্যাকান্ডের প্রতিবাদে প্রস্তাব পেশ করা হয়।প্রস্তাবে বলা হল,কং হিংসার নীতিতে বিশ্বাস না করলেও তিন শহিদের বীরত্ব ও আত্মোৎসর্গের প্রশংসা করা হয়। তিন বিপ্লবীকে না বাঁচাতে পারার জন্য যুব সমাজ গান্ধীকে ইতিমধ্যে কালো পতাকা দেখিয়েছ।কিম্তু কং ব্রিটিশের কাছে কিছু না পেয়ে ইতিমধ্যে পূর্ণস্বরাজের লক্ষ্যে তৈরী হচ্ছে।তবুও গান্ধীজি বড়লাটকে রাজি করাতে পারেননি।
আসলে নিরপেক্ষ ভাবে দেখলে মহাত্মা তার দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে কিছু ভুল করেছেন।কিন্তু একজন মানুষের কাছে গোটা জাতির চাহিদা আকাশছোঁয়া।তিনি চাইলেই যে সব কিছু হয়না,এটাই তো আমরা মানতে পারিনা।কারন আমাদের কাছে যে তিনি গান্ধীবাবা।অন্তত তার ক্যারিশমায় তো সে কথা বলে।কিন্তু মহাত্মা জানতেন তার সীমাবদ্ধতা। তাই বারবার বলেও ভগৎ সিং দের ফাঁসি রদ করতে পারেননি।
ঐই বছর অক্ট এক জনসভায় নেহেরু বলেন, আমি তার মতামত মানি না মানি ভগৎ সিং এর মত একজন মানুষের সাহস ও আত্মোৎসর্গের প্রশংসায় আমার হৃদয় পরিপূর্ণ। ভাইসরয় যদি ভাবেন, আমরা এই চমকপ্রদ সাহস ও তার নেপথ্যে থাকা উচ্চ উদ্দেশ্যের প্রশংসা থেকে বিরত থাকবো।তিনি বরং নিজের বিবেককেই জিজ্ঞাসা করুন, ভগৎ সিং একজন ইংরেজ হলে এবং ইংলন্ডের হয়ে কাজ করলে তিনি কীভাবে নিতেন।

শহিদোঁ কী চিতায়োঁ পর লাগেঙ্গে
হর বরস মেলে,
ওয়াতন পর মরনেওয়ালোঁ কা ইয়েহি
বাকি নিশাঁ হোগা।
ধন্যবাদ। শুভেচ্ছা পুনশ্চঃ

২৫ শে মার্চ, ২০১৮ রাত ১২:১৬

রোদ্দূর মিছিল বলেছেন: এবার বুঝতে পেরেছি। তাহলে গোটা ব্যাপারটাই আবেগ থেকে উৎসারিত এক ধরণের মনগড়া অভিযোগ বলে মনে করছেন আপনি? নেহেরুর অবস্থানটা এখানে অনেক পরিষ্কার বলে মনে হচ্ছে। যাই হোক, নাথুরাম গডসের জবানবন্দীই বলে দেয় গান্ধীজির পদক্ষেপগুলোর ব্যাপারে অনেকেরই আক্ষেপ ছিলো। আবার তাঁকে ভালোও বেসেছিলেন তারা। এদিকে চট্টগ্রাম বিদ্রোহের নেতৃত্বে যাঁরা ছিলেন, তাঁরাও গান্ধীজির অহিংস আন্দোলনে খুব একটা সন্তুষ্ট ছিলেন না। যাই হোক, আপনার মূল্যবান তথ্যসমৃদ্ধ মতামতের জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ। ভালো থাকবেন।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.