নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

এই ঈষদোষ্ণ রোদ্দুর মিছিলে স্বাগতম

রোদ্দূর মিছিল

দলছুট এক ইউক্যালিপটাস ছালহীন দেহে মাখে কুয়াশার হিম নিঃসঙ্গ বেদনায়। পাতা ঝরার আর্তনাদে ভেঙ্গে খান খান নিরবতা। ক্যানভাসের বিমূর্ত ছবির মত এলোমেলো আমার অনুভূতিগুলো আঁধারের হাতছানিতে নিমজ্জিত - কিছুটা সময়। অঃতপর- রাত্রির আঁধার ভেঙ্গে চলি শুন্য রাজপথে দূরের চাঁদ আলো ফিরিয়ে নেয় মন হারায় আঁধার মরুতে।

রোদ্দূর মিছিল › বিস্তারিত পোস্টঃ

যে কথাটি হয়নি বলা

১৪ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৮ দুপুর ১২:৩৫

দু'দিন আগে "আমার মিউজিক ভিডিও (মার্কেটিং পোষ্ট)" শিরোনাম দিয়ে যে মিউজিক ভিডিওটি দেখার আহবান জানিয়েছিলাম, তা মুছে ফেলা হয়েছে। কিন্তু এই মিউজিক ভিডিওটি দেখবার আহবান জানানোর পেছনে আসলে সত্যিকারের কোনও মার্কেটিং উদ্দেশ্য ছিলনা। যে কথাটি হয়নি বলা, তা হলো - এখানে যে দু'জন মডেলকে (মূল দু'জন) আমি নিয়েছি, তাঁরা সত্যি সত্যিই যথাক্রমে দৃষ্টি প্রতিবন্ধী ও চলৎ প্রতিবন্ধী। আর এভাবে প্রতিবন্ধীদেরকে রোমান্টিক কোনও গানের মিউজিক ভিডিওতে মডেল হিসেবে কাস্ট করা বাংলাদেশে এবারই প্রথম বলে আমি যতদূর জানি। তাঁদেরকে নিয়ে এ কাজটি করতে গিয়ে আমাকে যথেষ্টই কাঠ-খড় পোহাতে হয়েছে। তবুও শেষমেষ কাজটা হয়েছে। আর এই বিষয়টাই সবার সাথে শেয়ার করতে চেয়েছিলাম। উদ্দেশ্য ছিলো, ভিন্নভাবে সক্ষম এই ব্যক্তিদেরকে যেন আমরা উৎসাহ প্রদান করি, এবং ভবিষ্যতে নিজেদের কোনও প্রজেক্টে সম্পৃক্ত করার তাগিদ অনুভব করি। "মার্কেটিং" কথাটা অনেকটা Sarcastic ভাবে ব্যবহৃত হয়েছিল এখানে। অন্য কোনও উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য নয়।

পেছনের কথাঃ
৩রা ডিসেম্বর ২০০২ । আন্তর্জাতিক প্রতিবন্ধকতাযুক্ত ব্যক্তি দিবস । ঠিক ১৬ বছর আগের এই দিনটিতে চট্টগ্রামের জে এম সেন হলে সামাজিক উন্নয়নমূলক সংগঠন 'সংশপ্তক'কে সাথে নিয়ে আয়োজন করেছিলাম এক ভিন্নধর্মী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের । কারণ DREAM (Disableds' Rights Enhancement through Attachment in Mass-media) নামক যে dream-টা আমি দেখতে শুরু করেছিলাম সবে, সেটার বাস্তবায়নের লক্ষ্যে এই আয়োজনটা ছিলো আমার জন্য প্রথম ধাপ । অর্থাৎ যে মানুষগুলো প্রতিবন্ধকতা নিয়ে জীবন নামক অমসৃন পথটা মাড়িয়ে পায়ে পায়ে এগিয়ে চলছে সামনের দিকে , তাঁরাও পারেন, ভীষণভাবে পারেন - সমাজের সকল ক্ষেত্রে নিজেদের দক্ষতা প্রমান করতে । আর যে ঘুনে ধরা সমাজ তাঁদেরকে বোঝা মনে করে, মনে করে এঁদেরকে দিয়ে কিছুই হবেনা, ব্যাস্, এই মানুষগুলোর চার দেয়ালেই বন্দী থাকা বাঞ্চনীয়, অথচ ভেবেই দেখেন না তাঁরা যা পারে, তা অনেক সময় অপ্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের মেধা, মনন, চিন্তাশীলতা, বুদ্ধিমত্তা, প্রতিভা এসবকেও বহুদূর ছাড়িয়ে যেতে পারে, সেই সমাজকে চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দেবার চ্যালেঞ্জটা নিলাম - মাত্র দুই সপ্তাহ হাতে রেখে । কোনও রকম অফিসিয়াল পূর্ব পরিকল্পনা ছিলনা । অফিসিয়াল বলছি এ কারণে, আমি ব্যক্তিগতভাবে ব্যাপারটা নিয়ে অনেকদিন ধরে ভাবলেও সংগঠনের নানাবিধ কর্মকান্ড নিয়ে ভয়ংকর ব্যস্ত শিডিউলের সাথে এই DREAM প্রযেক্টের সমন্বয় করাটা সেই সময়ের প্রেক্ষাপটে অনেকাংশে দূরুহ ছিলো । সুতরাং স্বল্পমেয়াদী ব্যস্ততার হ্রাস আমাদেরকে উৎসাহিত করেছিল DREAM-এর প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে আন্তর্জাতিক প্রতিবন্ধীতা দিবস পালন করতে, যেখানে গান করবে দৃষ্টি প্রতিবন্ধীরা, নাচ আর মূকাভিনয় করবে শ্রবণ ও বাক প্রতিবন্ধীরা (উল্লেখ করা প্রয়োজন, আমাদের এই আয়োজনকে আরও সমৃদ্ধ করেছিল একজন শ্রবণ ও বাক প্রতিবন্ধী ম্যাজিশিয়ান, যেটা পরিকল্পনার মধ্যে থাকা তো দূরে থাক, স্বপ্নেও ভাবিনি আমরা) । অনুষ্ঠানটার আয়োজন করতে বাজেট নিয়ে আমাকে চিন্তা করতে হলোনা যদিও, কিন্তু সমস্যা হলো, প্রতিভাবান কোনও প্রতিবন্ধী বন্ধুর সাথে আমাদের কারোই ব্যক্তিগত যোগাযোগ ছিলনা, আর হাতে ছিলো মাত্র দু'সপ্তাহ পুরো অনুষ্ঠানটা দাঁড় করাতে । সুতরাং শুরু হয়ে গেলো আমার বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে সশরীরে গিয়ে প্রতিভা খুঁজে আনার পালা । কিন্তু ব্যাপারটা কি আর অতো সহজ?

DREAM (Disableds' Rights Enhancements through Attachment in Mass-media) নামক যে project-টা সবে অংকুরিত হতে যাচ্ছিলো, তার পেছনে একটাই কারণ ছিলো । আর তা হচ্ছে, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকারগুলো তাদেরকে বুঝিয়ে দেয়া । এই অধিকার বুঝিয়ে দিতে হলে প্রথমে চাই সামাজিক সচেতনতা । অর্থাৎ প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের প্রতি সমাজের দৃষ্টিভঙ্গীর পরিবর্তন । আর এই পরিবর্তনের শুরুটা হতে হবে পরিবার থেকে । কারণ পরিবার তাঁদের প্রতি সহায়ক না হলে, সমাজের অন্যান্য প্রতিষ্ঠানগুলোতে এই অধিকার প্রতিষ্ঠা করা তো দূরে থাক, অধিকারের কথা বলাটাও দূরারোহ খাড়া পাথুরে পাহাড় চড়ার সামিল । কেন বলছি এ কথা, তার জন্য একটু পেছনে ফিরে যেতে হবে ।

"বিরাজিত থাক সুষ্ঠু সংস্কৃতি, বিকশিত হোক সুপ্ত প্রতিভা" - এই স্লোগান নিয়ে ১৯৯৫ সালে আমরা যে 'সংশপ্তক সাংস্কৃতিক অঙ্গণ' প্রতিষ্ঠা করেছিলাম, সেটা কেবল নানাবিধ সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডতেই যুক্ত ছিলো । এবং, বলা বাহুল্য, আমাদের সদস্যদের মধ্যে কেউই প্রতিবন্ধী ছিলোনা । এভাবেই বেশ চলছিলো আমাদের । কিন্তু একদিন এক সহযোদ্ধার বাসায় গিয়ে অবাক হয়ে লক্ষ্য করলাম, তার এক বুদ্ধি প্রতিবন্ধী বোন আছে, যার অস্তিত্বকে বেমালুম অস্বীকার করে আসছিল আমার বন্ধুটি আর তার অন্য বোনটি, যে নিজেও আমাদের সংগঠনের একজন সদস্য । অথচ এই বোনটিরও অধিকার আছে গান-বাজনা সহ বিনোদনের অন্যান্য ক্ষেত্রে সমানভাবে অংশ গ্রহণ করার । কেননা তার বুদ্ধিমত্তার জায়গায় অনেকটা ঘাটতি থাকলেও সে পুরোপুরি বুদ্ধিশূন্য নয় । কারণ আমাকে জীবনে প্রথম বারের মতো দেখেও down syndrome আক্রান্ত এই বোনটি আমার কাছে ছুটে এসে "দাদা" বলে ডেকে খুব নিষ্পাপ একটা হাসি দিয়েছিল । এটা কেউ তো তাকে শিখিয়ে দেয়নি । বরং আমার বন্ধু কল্লোল তখন অনেকটা কমান্ডের সুরেই তাকে ভেতরের ঘরে যেতে বললো । খানিকটা ভয় পেয়েই হয়তোবা ঐ বোনটি (আমি ওর নাম জিগ্যেস করেছিলাম কি? নাকি নামটা মনে রাখিনি? অথবা মনে রাখার প্রয়োজনটাও বোধ করিনি?) ভেতরে চলে গেলো । আর রেখে গেলো সেই ভূবন ভোলানো হাসি । আমি বেশ বুঝতে পারছিলাম, এই রকম ধমক দিয়ে ভেতরের ঘরে পাঠিয়ে দিয়ে একটা জলজ্যান্ত মানুষের অস্তিত্বকে ধামা-চাপা দেয়ার প্রচেষ্টা মোটেই নতুন নয় এই পরিবারে । আর সবচেয়ে বড় কথা, এই বোনটির কাছেও বিষয়টি একেবারে নতুন নয় । কারণ তার ঐ কিয়দংশ বুদ্ধিবৃত্তিই তাকে এই সত্য শিখে নিতে সাহায্য করেছে, তার অবস্থান কেবলই ভেতরের ঘরে - লোকচক্ষুর আড়ালে । কল্লোলকে দেখলাম, একজন বুদ্ধি প্রতিবন্ধী বোনের ভাই হওয়াতে ভীষণ embarassaed.

যখন একটা পরিবার প্রতিবন্ধকতাহীন সন্তানটির সাংস্কৃতিক বিকাশের কথা চিন্তা করে তাকে নানা রকম আর্ট-কালচার শিক্ষা দেওয়া হয় এমন ইনষ্টিটিউশনে পাঠান, অথচ প্রতিবন্ধী সন্তানটির ব্যাপারে উদাসীন থাকেন, তখন সেই পরিবারটিকে বোঝানো প্রয়োজন, ঐ প্রতিবন্ধী সন্তানটিরও সাংস্কৃতিক বিকাশের সুযোগ সৃষ্টি করাটা কতটা দরকারী । কারণ একদিকে যেমন সেটা প্রতিবন্ধী সন্তানটির মানসিক বিকাশের জন্য এক ধরনের থ্যারাপীর মতো কাজ করে (যেহেতু প্রতিবন্ধী শিশুরা অনেক ক্ষেত্রেই inferiorty complex-এ ভোগে), অন্যদিকে জাতিসংঘের শিশু অধিকার সনদে বর্ণিত অধিকার সমূহের অন্যতম একটি অধিকার হলো সাংস্কৃতিক বিকাশের অধিকার - তা সে শিশু যদি প্রতিবন্ধীও হয় । সুতরাং পরিবারকে এই ক্ষেত্রে একটা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে হবে । আর সে পরিবারই যদি তাদেরকে লোকচক্ষুর আড়ালে রেখে দিয়ে এক ধরণের সামাজিক 'bully' থেকে নিজেদেরকে বাঁচাতে চান, তাহলে অসাধারণ এক গুণ বা মেধা নিজের ভেতর পুষে রাখলেও একজন প্রতিবন্ধী শিশু চিরতরে হারিয়ে যাবে অন্ধকার গহ্বরে, যার হদিস পাবেনা কেউ কোনওদিন । অতএব প্রতিভাধর প্রতিবন্ধী বাচ্চাদের যে করেই হোক সমাজের প্রতিবন্ধকতাহীন মানুষগুলোর সামনে নিয়ে আসতে হবে । দেখিয়ে দিতে হবে, একটা কোনও দিকে প্রতিবন্ধকতা নিয়ে জন্মালেও, তাদের অন্যান্য দিকগুলো নিষ্ক্রিয় নয় । সুতরাং ১৯৯৫ সাল থেকে সক্রিয় যে সাংস্কৃতিক সংগঠন 'সংশপ্তক' ২০০০ সাল থেকে নানারকম সামাজিক কর্মকান্ডতে অংশ গ্রহন করতে শুরু করেছে, তার সাথে যোগ করলাম সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে উৎসারিত আইডিয়া DREAMকে । এবার আমার লক্ষ্য হলো এই প্রতিভাবান মানুষগুলোকে খুঁজে এনে পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ দিয়ে প্রফেশনাল লেভেলে নিয়ে যাওয়া । কিন্তু কেন আমি শুধু সাংস্কৃতিক দিকটা নিয়ে ভাবলাম, সেটাও ব্যাখ্যা করতে হলো আমাকে আমার সহযোদ্ধাদের কাছে । কারণ আমার মনে হয়েছে সাবিনা ইয়াসমিন বা রুনা লায়লা বা এন্ড্রু কিশোর বা কুমার বিশ্বজিত যদি দৃষ্টি প্রতিবন্ধী বা চলৎ প্রতিবন্ধীও হতেন, তবুও তাঁরা তাই হতেন, যা আজকে তাঁরা । তাঁদের সেইসব প্রতিবন্ধকতার সাথে, তাঁদের মোহণীয় কন্ঠের যাদুর কোনও সম্পর্ক থাকতো কি? নাকি সেসব প্রতিবন্ধকতার জন্য আমরা তাঁদেরকে deny করবার মতো যথেষ্ট bold হতাম । সুতরাং আমাদের কাজ তো হওয়া উচিত ভাল গান করতে পারে এমন প্রতিভাধর প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের খুঁজে খুঁজে বের করে যত রকম সহায়তা দেয়া প্রয়োজন, তা দিয়ে সাবিনা ইয়াসমিন বা রুনা লায়লা বা এন্ড্রু কিশোর বা কুমার বিশ্বজিতের মতো শিল্পী তৈরী করা । একজন প্রথম সারির সংগীতশিল্পী যদি প্রতিবন্ধী কেউ একজন হোন, তাহলে পরিবার, সমাজ, এমন কি রাষ্ট্র পর্যন্ত প্রতিবন্ধীদের সম্পর্কে শুধু ধ্যান-ধারণাই যে পাল্টাবে, তা নয় । বরং উৎসাহিত করবে তাঁদেরকে সামনের দিকে এগিয়ে যেতে স্ব স্ব গুণাবলী আর প্রতিভাকে সাথে করে । কোনও পরিবারই আর নিজেদের প্রতিবন্ধী সন্তানটাকে লোকচক্ষুর আড়ালে রেখে তাদেরকে নানা ধরনের বিনোদনের সুযোগ পাওয়া থেকে বঞ্চিত করবে না । প্রতিবন্ধকতাহীন বাচ্চাটির পাশাপাশি প্রতিবন্ধী বাচ্চাটিকেও সমান বিবেচনায় ভর্তি করানো হবে শিল্পকলার বিভিন্ন স্কুলে । আমি বোঝানোর চেষ্টা করলাম, শামীম আর নিপা বা শিবলী মোহাম্মদ বাক প্রতিবন্ধী হলেও সেই একইভাবে জনপ্রিয় নিত্যশিল্পী হয়ে টেলিভিশনের পর্দায় দাপিয়ে বেড়াতো । কিংবা মৌ আর নোবেলের শ্রবণ ও বাক প্রতিবন্ধীতা থাকলেও কি তাঁরা প্রথম সারির মডেলের খাতায় নাম লিখাতো না? বড় বড় বিলবোর্ডে আবক্ষ ষ্টিল ছবির মডেলরা হুইল চেয়ারে বসে আছে কি নেই, কে-ই বা তার খবর নিতে যাচ্ছে? কিংবা তাঁরা কথা বলতে পারেন কি পারেন না, সেটা কি আদৌ জরুরী তাঁদের সুন্দর মুখশ্রীর সাথে সম্পৃক্ত এই পেশার সঙ্গে? যাদুকর জুয়েল আইচ খুব মিষ্টি করে কথা বলেন, সেটা ঠিক আছে । কিন্তু তিনি তো একেবারেই কোনও কথা না বলে, কেবল তাঁর ভুবনজয়ী হাসি আর mesmerising যাদুশৈলী প্রদর্শন করেই বিশ্ব জয় করতে পারতেন সেই একইভাবে । মাইম মুভমেন্টের অনন্য এক নাম পার্থ প্রতীম মজুমদার যে অভিনয় শৈলীর পার্ফর্মেন্স করেন, তার নামই তো মূকাভিনয় । কোনও কথা না বলে এই অভিনয় প্রদর্শন তো সত্যিকার একজন বাক প্রতিবন্ধীও করতে পারতেন । কিংবা ভাস্কর রাসা, কার্টুনিষ্ট রনবী বা শিশির ভট্টাচার্য, চিত্রশিল্পী সুলতান, ফটোগ্রাফার মিঃ বেগ, এঁরা প্রতিবন্ধী হলেও কি মানুষ তাঁদের প্রতিভাকে অস্বীকার করতে পারতো? কিংবা ধরা যাক, একজন বাক প্রতিবন্ধী ফটো সাংবাদিক আর একজন দৃষ্টি প্রতিবন্ধী জার্নালিষ্ট জুটি বেঁধে কাজ করতে শুরু করলো কোনও এক পত্রিকার জন্য । তাঁরা একে অপরের চোখ দিয়ে দেখলো, কান দিয়ে শুনলো, আর মুখ দিয়ে কথা বলে ইন্টারভিউ করলো । আর পত্রিকার পাতা জুড়ে ছাপতে লাগলো একের পর এক দুর্দান্ত স্টোরী আর ছবি । খুব কি অসুবিধা হয়ে যেতো তাতে? নাকি mass-mediaর সাথে যুক্ত এইসব প্রতিভাধর প্রতিবন্ধী মানুষগুলোকে দেখে আরও অসংখ্য প্রতিবন্ধী ব্যক্তি আর তাদের পরিবার উৎসাহিত হতো? উৎসাহিত হতো সমাজ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ অন্যান্য সামাজিক প্রতিষ্ঠানগুলোও? প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের এই mass-mediaর সাথে attach বা সম্পৃক্ত করাটা কি তাঁদেরকে তাঁদের অধিকার বা rights বুঝে পাওয়ার ব্যাপারটাকে অনেকাংশে জোরদার বা enhance করতো না? আমার বিশ্বাস ছিলো করতো । তাই DREAM (Disableds' Rights Enhancement through Attachment in Mass-media) নামক dreamটা আমাকে তাড়া করছিলো বার বার, যেটার বাস্তবায়নে সবার আগে দরকার আমার কিছু প্রতিভাবান প্রতিবন্ধী ব্যক্তির সমন্বয় ঘটিয়ে একটা অন্য রকম অনুষ্ঠানের আয়োজন করার, যা দেখে মানুষ প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের নিয়ে নতুনভাবে ভাবতে শুরু করবে । কিছুটা হয়তো বিস্মিতও হবে - এভাবেও তাহলে সম্ভব !!! আর তাঁদেরকে আরও বহুদূর পর্যন্ত নিয়ে যাবার ব্যাপারে আমার আহ্বানে সাড়া দেবে । সুতরাং ৩রা ডিসেম্বর আন্তর্জাতিক প্রতিবন্ধীতা দিবসকে সামনে রেখে আমাকে শুরু করতে হবে, এ বিষয়ে আমি determined হলাম । কারণ এরকম একটা আয়োজনই হয়তো কাউকে না কাউকে সহযোগীতার হাত বাড়িয়ে এগিয়ে আসতে উদ্ভুদ্ধ করবে । আর এরকম অনেক মানুষ সম্পৃক্ত হয়ে একসাথে কাজ করলে DREAM একদিন আর dream থাকবে না - হবে real.

(চলবে)

মন্তব্য ২১ টি রেটিং +৪/-০

মন্তব্য (২১) মন্তব্য লিখুন

১| ১৪ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৮ দুপুর ১:২১

বাকপ্রবাস বলেছেন: ভিডিওটা কেন মুছে দিলেন? আপনার স্বপ্নরা সত্যি, সুন্দর ও মানবিক। চট্টগ্রাম থাকা হয় নিশ্চয়। আমিও চট্টগ্রামের। পতেঙ্গা।

১৪ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৮ বিকাল ৩:০৩

রোদ্দূর মিছিল বলেছেন: বলেছেন: ধন্যবাদ আপনার মন্তব্যের জন্য। ভিডিওটি আমি মুছিনি, বরং সামু কর্তৃপক্ষ আমার পোস্টটি নিয়ম পরিপন্থী বিবেচণা করে মুছে দিয়েছে। আর আমি এই মুহুর্তে বৃটেনে আছি। গত মাসেও চট্টগ্রাম ছিলাম মিউজিক ভিডিওটির স্যুটিংয়ের কাজে। আপনার জন্য লিংকটি আবার আলাদা করে দেওয়া হলো।

২| ১৪ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৮ দুপুর ২:৫২

বিদ্রোহী ভৃগু বলেছেন: দেখুন দেখি কান্ড!

এক ঝলক পোষ্টটি চোখে পড়েছিল। ভ্রুও কুঁচকে ছিলাম!
আপনার সারকাজমের পাল্লায় পড়ে কি দারুন একটা বিষয় থেকে সবাই বঞ্চিত হলাম!
তাও ভাল ধন্যবাদ যে খতাটি হয়নি বলার জন্য

বিশাল মহত উদ্যোগ আর জন্য দারুন সব পরিকল্পনার কথা জানা হলো।

ধন্যবাদ আর শুভকমানা। আপনার ড্রিম সত্যি হোক। :)

+++

১৪ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৮ দুপুর ২:৫৯

রোদ্দূর মিছিল বলেছেন: ধন্যবাদ আপনার সুন্দর মন্তব্য আর শুভকামনার জন্য। আমার চেষ্টা থাকবে DREAM কে সবার মধ্যে ছড়িয়ে দেবার। দিন বদলাবে নিশ্চয়ই। সে দিনটি হয়তো দেখে যেতে পারবো না। আমাদের পরের কোনও না কোনও প্রজন্ম দেখলেই হবে।

৩| ১৪ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৮ দুপুর ২:৫৯

সনেট কবি বলেছেন: ভাল লিখেছেন।

১৪ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৮ বিকাল ৩:০১

রোদ্দূর মিছিল বলেছেন: ধন্যবাদ পড়ার জন্য। শুভকামনা জানবেন।

৪| ১৪ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৮ বিকাল ৩:০৭

রোদ্দূর মিছিল বলেছেন: স্বপ্ন-প্রণয়

৫| ১৪ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৮ বিকাল ৪:২৯

বাকপ্রবাস বলেছেন: সেদিন অপিষে ছিলাম তায় গানটা শোনা হলনা, আজ আবার লিংক পেয়ে শুনলাম আর দেখলাম আর কমেন্টও করে আসলাম। জয় হোক মানবতার।

১৪ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৮ বিকাল ৫:২২

রোদ্দূর মিছিল বলেছেন: আবারও ধন্যবাদ মন্তব্যের জন্য। এবং অতি অবশ্যই ভিডিওটি দেখার ও ভিডিও লিংকে মন্তব্য করার জন্য অকৃত্রিম কৃতজ্ঞতা। কি জানেন? সবাই যখন নিজেদের মধ্যেই আদান-প্রদানে ব্যস্ত থাকে, তখন আপনার মত দু'একজন উদাহরণ সৃষ্টিকারীকে দেখে মনে হয় এখনও পৃথিবী৷থেকে পরিবর্তন প্রত্যাশী লোক হারিয়ে যায়নি। মূল লিংকে মন্তব্য করে আপনি আমার মডেলদেরকেই কেবল উৎসাহিত করলেন তা না, বরং ওঁদের আগামীতে এ ধরণের কাজের সাথে সসম্পৃত্ত হবার ব্যাপারে সাহস যোগালেন। স্রেফ সামুতে মন্তব্য করলে ওঁরা সেটা কোনওদিনও জানতে পারতেন না।

৬| ১৪ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৮ রাত ৮:৪৫

রাজীব নুর বলেছেন: অনেক শুভ কামনা। আপনার সাফল্য কামনা করছি।

১৪ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৮ রাত ৯:৪৪

রোদ্দূর মিছিল বলেছেন: ধন্যবাদ । শুভেচ্ছা জানবেন।

৭| ১৪ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৮ রাত ১০:১৩

আলআমিন১২৩ বলেছেন: এত সুন্দর একটি প্রচেষ্টার জন্য আন্তরিক ধন্যবাদ।

১৪ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৮ রাত ১০:৩২

রোদ্দূর মিছিল বলেছেন: ধন্যবাদ । শুভেচ্ছা জানবেন।

৮| ১৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৮ সকাল ১০:০৪

সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই বলেছেন: দেশে এখন প্রতিবন্ধীদের জন্য অনেক কিছুই করা হচ্ছে। আপনার প্রচেষ্টাও সেই মহৎ পদক্ষেপের মতোই একটি। আপনি এগিয়ে যান। আমার মতে, আপনার এই কাজে বাধা দেবেন কেবল তারাই যাদের স্বার্থে আঘাত লাগবে।

তবে, একটা খুবই নির্মম দিক তুলে ধরেছেন। প্রতিবন্ধীরা নিজেদের পরিবারেই অবহেলা ও বঞ্চনার শিকার। এজন্য, আপনি ঠিকই বলেছেন, পরিবারের মধ্য থেকেই এ শিক্ষাটা শুরু করতে হবে।

আপনার ভিডিওটা এখানে শেয়ার করতে পারেন।

১৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৮ দুপুর ২:২০

রোদ্দূর মিছিল বলেছেন: ধন্যবাদ আপনার মূল্যবান মতামতের জন্য। হ্যাঁ, ভিন্নভাবে সক্ষম ব্যক্তিদের জন্য অনেক কিছুই করা হচ্ছে এখন। তবুও তাঁদের জন্য এ্যাক্সেসিবল পাব্লিক ট্রান্সপোর্ট সহ এখনও অনেক মৌলিক কাঠামোগত পরিবর্তন আনা হয়ে উঠেনি। আমরা তাঁদের সবক্ষেত্রে অংংশগ্রহন নিশ্চিত করার কথা যেমন ভাবছি, ঠিক তেমনি এসব সুবিধাদির ব্যবস্থা করাও জরুরী বলে মনে করছি।

৯| ১৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৮ সকাল ১০:১৯

রাজীব নুর বলেছেন: লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ । শুভেচ্ছা জানবেন।

ভালো থাকবেন।

১৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৮ দুপুর ২:২১

রোদ্দূর মিছিল বলেছেন: আপনিও ভালো থাকবেন।

১০| ১৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৮ দুপুর ১:১১

জুনায়েদ বি রাহমান বলেছেন: ঐদিন শিরোনাম চোখে পড়েছিলো। বাইরে ছিলাম তাই পড়া বা দেখা হয়ে ওঠেনি।

আপনার ব্যাখ্যা পড়ে মনে হচ্ছে সামু. কর্তৃপক্ষ (দায়িত্বশীল মডু) বিষয়টি সেভাবে খেয়াল করেন নি। মার্কেটিং বা লিংক শেয়ারিং রিলেটেড টাইটেল দেখেই মুছে ফেলেছেন। যাইহোক, লিংক দেওয়া হলে দেখবো নিশ্চয়ই।

১৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৮ দুপুর ২:২৭

রোদ্দূর মিছিল বলেছেন: দোষটা আমার। অতোটা Sarcastic না হয়েও পোস্টটা দিতে পারতাম। ব্যাপারটা শেষমেষ কেমন Circus-Trick হয়ে গেলো।

১১| ১৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৮ দুপুর ১:১৭

জুনায়েদ বি রাহমান বলেছেন: স্বপ্ন-প্রণয়' মাত্র দেখলাম। তাদের তো প্রতিবন্ধী মনেই হচ্ছে না। বেশ ভালো অভিনয় করেছে।

১৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৮ দুপুর ২:২৩

রোদ্দূর মিছিল বলেছেন: অসংখ্য ধন্যবাদ। ভালো থাকবেন।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.