নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

এই ঈষদোষ্ণ রোদ্দুর মিছিলে স্বাগতম

রোদ্দূর মিছিল

দলছুট এক ইউক্যালিপটাস ছালহীন দেহে মাখে কুয়াশার হিম নিঃসঙ্গ বেদনায়। পাতা ঝরার আর্তনাদে ভেঙ্গে খান খান নিরবতা। ক্যানভাসের বিমূর্ত ছবির মত এলোমেলো আমার অনুভূতিগুলো আঁধারের হাতছানিতে নিমজ্জিত - কিছুটা সময়। অঃতপর- রাত্রির আঁধার ভেঙ্গে চলি শুন্য রাজপথে দূরের চাঁদ আলো ফিরিয়ে নেয় মন হারায় আঁধার মরুতে।

রোদ্দূর মিছিল › বিস্তারিত পোস্টঃ

রোদ্দুর বচন (অ-রম্য কথকতা)/রোদ্দুর মিছিল

২৮ শে জানুয়ারি, ২০১৯ দুপুর ১:১৯

আড়িয়াল বিলে ঘড়িয়াল
শিকার করিবে হরিয়াল


এই চরণ দুইখানা কি করিয়া যে মাথায় আসিয়া ভর করিলো জানিনা। আর ভর করিলো তো করিলো, একেবারে যাইবার নামই নাই। আজব তো! মানছি একটা ছন্দ আছে এইখানে। কিন্তু ছন্দ থাকিলে তো আর হইবেনা, কথাখানার একখানা যৌক্তিক অর্থও তো থাকা চাই। এই যেমন, আড়িয়াল বিলে আদৌ ঘড়িয়াল রহিয়াছে কিনা অথবা থাকিবার সম্ভাবনা রহিয়াছে কিনা। অর্থাৎ আড়িয়াল বিল ঘড়িয়াল থাকিবার মতো উপযুক্ত স্থান কিনা। আবার ঘড়িয়াল হরিয়াল পাখি শিকার করে কিনা ইত্যাদি। অথচ এসব আগ-পাছ না জানিয়াই দুইখানা চরণ মাথায় আসিয়া গাঁথিয়া গেলো। অগত্যা কি আর করা? আড়িয়াল বিল, ঘড়িয়াল আর হরিয়াল পাখি লইয়া খানিকটা জানিতে চেষ্টা করিলাম। উদ্দেশ্য, যদি কোনও একটা অর্থ দাঁড় করাইতে পারি ঐ দুইখানা চরণের।


প্রথমেই আসি আড়িয়াল বিলে -



আড়িয়াল বিল পদ্মা ও ধলেশ্বরী নদীর মাঝখানে অবস্থিত একখানা অবভূমি। ইহা দেশের মধ্যাঞ্চলের সব চাইতে বড় ও প্রাচীন বিল। ঢাকা হইতে প্রায় ৪২ কিলোমিটার দক্ষিণে মুন্সিগঞ্জ জেলার অন্তর্গত শ্রীনগর উপজেলায় অবস্থিত এই বিলের আয়তন ১৩৬ বর্গ কিলোমিটার। আড়িয়াল বিলের বেশিরভাগ এলাকাই শুষ্ক ঋতুতে আর্দ্র থাকে এবং বিলে যথেষ্ট পরিমাণ পানি সঞ্চিত থাকে। বর্ষায় পানিতে টইটুম্বুর থাকিলেও শীতকালে ইহা বিস্তীর্ণ শস্যক্ষেত্রে পরিণত হয়। ধারণা করা হয়, অতি প্রাচীন কালে এই স্থানে গঙ্গা ও ব্রহ্মপুত্রের সঙ্গমস্থল ছিল। পরবর্তীতে উভয় নদীর প্রবাহ পরিবর্তনের ফলে এই স্থান শুষ্ক হইয়া বিলে পরিণত হয়। আষাঢ়, শ্রাবণ ও ভাদ্র এই তিন মাস বিলের চারিপাশ থৈ থৈ করে পানিতে। বিলের চারিধারে যেই সকল পাখিদের দেখা মেলে তাহার মধ্যে শঙ্খচিল, কানিবক, মাছরাঙা, ডাহুক, পাতিহাঁস অন্যতম।



এইবার আসি ঘড়িয়াল প্রসঙ্গে -



ঘড়িয়াল Reptilia শ্রেণির Crocodylidae গোত্রভুক্ত Gavialis gangeticus নামের এক প্রাচীনকালীন সরীসৃপ। ইহা মেছো কুমির অথবা ঘট কুমির নামেও পরিচিত। প্রধান খাদ্য মাছ বলিয়াই হয়তো ইহাকে মেছো-কুমির নামে ডাকা হয়। কুমিরের ন্যায় ইহার পা মাটিতে হাঁটা চলা করিবার জন্য তেমন উপযোগী নহে। কারণ ঘড়িয়ালের সামনের পা দুইখানা পিছনের দুই পা অপেক্ষা খানিকটা খাটো এবং ছোট আকারের। ইহারা লিপ্তপদী, অর্থাৎ ইহাদের পায়ের পাঁচটি আঙুল সম্প্রসারিত ত্বক দিয়া পরস্পরের সহিত যুক্ত। এই পা ও লেজের সাহায্যে ঘড়িয়াল সাঁতার কাটে। একসময় উপমহাদেশের (ভারত, বাংলাদেশ, নেপাল, পাকিস্তান, মিয়ানমার আর ভুটানের) বড় বড় নদীগুলোতে দেখা যাইতো ইহাদের। বাংলাদেশে পদ্মা, যমুনা ও ব্রহ্মপুত্রে একসময় প্রচুর ঘড়িয়ালের দেখা মিলিতো। বর্তমানে প্রাণীটি বিরল এবং বিলুপ্তপ্রায়। ঘড়িয়ালকে ইংরাজিতে বলা হয় Gavial (গাভিয়াল; ঘড়িয়ালের অপভ্রংশ)। ঘড়িয়াল নামকরণের কারণ এর নাক বা তুণ্ড-এর ডগায় ঘড়ার মত আকৃতি, যাহা পুরুষ ঘড়িয়ালের ক্ষেত্রে বেশ বড় হয়। জলের উপর ওইটুকু বাহির হইয়া থাকে। মেছো কুমির বা ঘট কুমির ছাড়াও ঘড়িয়ালকে ঘাড়েল, বাইশাল প্রভৃতি নামেও ডাকা হয়।



সবশেষে হরিয়াল পাখি -



হরিয়াল এক ধরনের পায়রা জাতীয় ফলভূক বৃক্ষচারী পাখি। উঁচু গাছ রহিয়াছে এইরুপ চিরসবুজ বনে সাধারণত ইহারা বিচরণ করে - কখনও দলবদ্ধ হইয়া, আবার কখনও জোড়ায় জোড়ায়। সচরাচর ১০-৩০টি হরিয়ালকে একঝাঁকে থাকিতে দেখা যায়। ভোরে দেহের পালক ফুলাইয়া প্রায়শঃই পাতাবিহীন গাছের মগডালে বসিয়া ইহারা রোদ পোহায়। বনের উঁচু ফলজ গাছের মগডালে ইহারা খাবার খায়। খাদ্যতালিকায় রহিয়াছে বট, পাকুড়, ডুমুর ও অন্যান্য রসালো ফল। ইহাদের প্রধান খাদ্য ফল হইলেও বাদাম এবং বীজও ইহাদের খাদ্যতালিকায় রহিয়াছে। পত্রবহুল বনজ গাছ, ঝোপ অথবা বাঁশঝাড়ে ইহারা বাসা বানায়। কেবল জল পানের নিমিত্তে ইহারা মাটিতে নামে। তবে বনভূমি ধ্বংসের সঙ্গে সঙ্গে বট, পাকুড় বা ডুমুর জাতীয় বৃক্ষের সংখ্যা কমিয়া যাওয়ায় অন্যান্য পাখির মত হরিয়াল পাখিও বর্তমানে বিপন্ন। কমিয়া যাইতেছে হরিয়ালের বংশবৃদ্ধির উপযুক্ত পরিবেশ।


তো এই হইলো আড়িয়াল বিল, ঘড়িয়াল আর হরিয়াল পাখি সম্পর্কিত কিছু তথ্য। এইবার গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টসমূহকে একের পর এক সাজাইয়া লইয়া দেখা যাক এই তিনের মধ্যে কোন সম্পর্ক স্থাপন করা যায় কিনা।


১) আড়িয়াল বিল পদ্মা ও ধলেশ্বরী নদীর মাঝখানে অবস্থিত, এবং ধারণা করা হয়, অতি প্রাচীন কালে এই স্থানে গঙ্গা ও ব্রহ্মপুত্রের সঙ্গমস্থল ছিল।

২) পদ্মা, যমুনা ও ব্রহ্মপুত্রে একসময় প্রচুর ঘড়িয়ালের দেখা মিলিতো, আর বর্তমানে প্রাণীটি বিরল এবং বিলুপ্তপ্রায়।

৩) বর্ষায় পানিতে টইটুম্বুর থাকিলেও শীতকালে আড়িয়াল বিল বিস্তীর্ণ শস্যক্ষেত্রে পরিণত হয়।

৪) কুমিরের মতো ঘড়িয়ালের পা মাটিতে হাঁটা চলা করিবার জন্য তেমন উপযোগী নহে। কারণ ঘড়িয়ালের সামনের পা দুইখানা পেছনের দুই পা হইতে অপেক্ষাকৃত খাটো এবং ছোট আকারের।

৫) আড়িয়াল বিলের চারিধারে যেইসকল পাখিদের দেখা মেলে তাহার মধ্যে শঙ্খচিল, কানিবক, মাছরাঙা, ডাহুক, পাতিহাঁস অন্যতম।

৬) উঁচু গাছ রহিয়াছে এইরুপ চিরসবুজ বনে সাধারণত হরিয়াল পাখি বিচরণ করে আর পত্রবহুল বনজ গাছ, ঝোপ অথবা বাঁশঝাড়ে ইহারা বাসা বানায়। বট, পাকুড়, ডুমুর ও অন্যান্য রসালো ফল ইহাদের প্রধান খাদ্য। কেবল জল পানের নিমিত্তে ইহারা মাটিতে নামে।


তাহা হইলে কি দাঁড়াইলো? আড়িয়াল বিলে ঘড়িয়ালের দেখা মেলা হইবে একেবারেই বিরল একখানা ঘটনা। যেই ঘড়িয়াল নিজেই একখানা বিরল প্রজাতির প্রাণী, সে যদি কোনওভাবে পদ্মার কোনও একপ্রান্তে থাকিয়াও থাকে, আর সেইখান হইতে বর্ষার জলে ভাসিতে ভাসিতে আড়িয়াল বিলে আসিয়াও পড়ে, তবুও কি হরিয়ালের সাক্ষাৎ মিলিবে খুব সহসা? গভীর বন হইতে উড়িয়া আসিবে কি হরিয়াল আড়িয়াল বিলে কেবল জল পানের উদ্দেশ্যে? অবশ্য বিলের আশেপাশে বট, পাকুড় অথবা ডুমুর গাছ থাকিলে, আর সেইসব ফলের গন্ধ শুঁকিয়া শুঁকিয়া দিগ্বিদিক উড়িতে উড়িতে সবুজ হরিয়াল যদিবা দৈবাৎ আসিয়াও পড়ে আড়িয়াল বিলে, সেইটাও তো হইবে আরেকখানা বিরল ঘটনা। যদিও তাহা আগের ঘটনার মতো অতো বিরল নহে। এখন এই দুইখানা বিরল ঘটনা একসাথে মিলিলেই তবে সার্থক হইবে আমার ঐ দুইখানা চরণ। তাহার আগে নহে। তাহার মানে এই দাঁড়াইলো, কোনও সাদামাটা স্থানে বা পরিবেশে কোনও অতি বিরল অথবা অতি মূল্যবান ব্যক্তি বা বস্তুর উপস্থিত হইবার এবং ঐ ব্যক্তি বা বস্তুর দ্বারা আরও বিরলতর প্রায়াসম্ভব অথবা অবাস্তব কোনও ঘটনা ঘটিবার সম্ভাবনা সৃষ্টি হইলেই কেবল খনার বচনের ন্যায় রোদ্দুর বচন হইয়া আবির্ভূত হইতে পারে এই দুইখানা চরণ -

আড়িয়াল বিলে ঘড়িয়াল
শিকার করিবে হরিয়াল



ছবি: ইন্টারনেট

মন্তব্য ১১ টি রেটিং +৩/-০

মন্তব্য (১১) মন্তব্য লিখুন

১| ২৮ শে জানুয়ারি, ২০১৯ দুপুর ২:৪১

রাজীব নুর বলেছেন: আড়িয়ল বিলের মাছ অনেক মজা।
এতদিন কোথায় ছিলেন?
অনেকদিন পর আপনার পোষ্ট পেলাম।

২৮ শে জানুয়ারি, ২০১৯ বিকাল ৩:৩৯

রোদ্দূর মিছিল বলেছেন: ধন্যবাদ রাজীব নূর আপনার মন্তব্যের জন্য। হ্যাঁ, অনেকদিন পর। আচ্ছা, আড়িয়াল বিলের মাছের আলাদা কোনও বৈশিষ্ট্য আছে? আমি শুনেছি সেখানকার মিষ্টি কুমড়া খুব বিখ্যাত। এবার দেশে আসলে একবার ঘুরে আসবো আড়িয়াল বিলে। ভালো থাকুন।

২| ২৮ শে জানুয়ারি, ২০১৯ বিকাল ৩:৫৩

আর্কিওপটেরিক্স বলেছেন: সুন্দর পোস্ট B-))

২৮ শে জানুয়ারি, ২০১৯ বিকাল ৪:০৪

রোদ্দূর মিছিল বলেছেন: ধন্যবাদ। শুভেচ্ছা নিরন্তর। ভালো থাকুন।

৩| ২৮ শে জানুয়ারি, ২০১৯ বিকাল ৪:৩৬

আকতার আর হোসাইন বলেছেন: প্রথম জানলাম এই জায়গাটির কথা....


আড়িয়াল বিলে ঘড়িয়াল
শিকার করিবে হরিয়াল
ধারুণ..

২৮ শে জানুয়ারি, ২০১৯ সন্ধ্যা ৬:৪৬

রোদ্দূর মিছিল বলেছেন: ধন্যবাদ। দেশে থাকলে একবার ঘুরেই আসুন না। আমাদের দেশটা প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের এক লীলাভূমি। আমরা নিজেরা এই অপার সৌন্দর্যকে যদি উপভোগ না করি, তাহলে কি করে হবে? শুভেচ্ছা নিরন্তর। ভালো থাকুন।

৪| ২৮ শে জানুয়ারি, ২০১৯ বিকাল ৫:৩৬

নীলপরি বলেছেন: বাহ । দারুণ বিষয় । ভালো লাগলো ।

২৮ শে জানুয়ারি, ২০১৯ সন্ধ্যা ৭:৫২

রোদ্দূর মিছিল বলেছেন: ধন্যবাদ। শুভেচ্ছা জানবেন। ভালো থাকুন।

৫| ২৮ শে জানুয়ারি, ২০১৯ সন্ধ্যা ৬:২৯

পদাতিক চৌধুরি বলেছেন: বাহ! দারুন বিষয় এবং দারুণভাবেই লিখেছেন। আমি আজই একটি কুল গাছে হরিয়াল দেখেছি।

শুভকামনা সতত।

২৮ শে জানুয়ারি, ২০১৯ রাত ৮:১৩

রোদ্দূর মিছিল বলেছেন: ধন্যবাদ। হরিয়ালের দেখা পেয়েছেন শুনে ভালো লাগলো। আমরা যদি বনজ সম্পদ উজাড় করে না ফেলি, আর সাথে বুনো পশু-পখি শিকার বা অকারণ হত্যা না করি, তাহলে এই প্রানীগুলোর দেখা প্রায়শই মিলবে। শুভেচ্ছা আপনাকে। ভালো থাকুন।

৬| ০৩ রা ফেব্রুয়ারি, ২০২০ বিকাল ৩:০২

কাজী ফাতেমা ছবি বলেছেন: এক বছর যাবত নতুন পোস্ট নাই
কিয়ো ভাইয়া জি

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.