নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

এই ঈষদোষ্ণ রোদ্দুর মিছিলে স্বাগতম

রোদ্দূর মিছিল

দলছুট এক ইউক্যালিপটাস ছালহীন দেহে মাখে কুয়াশার হিম নিঃসঙ্গ বেদনায়। পাতা ঝরার আর্তনাদে ভেঙ্গে খান খান নিরবতা। ক্যানভাসের বিমূর্ত ছবির মত এলোমেলো আমার অনুভূতিগুলো আঁধারের হাতছানিতে নিমজ্জিত - কিছুটা সময়। অঃতপর- রাত্রির আঁধার ভেঙ্গে চলি শুন্য রাজপথে দূরের চাঁদ আলো ফিরিয়ে নেয় মন হারায় আঁধার মরুতে।

রোদ্দূর মিছিল › বিস্তারিত পোস্টঃ

হরর? (রিভিজিটেড)/রোদ্দুর মিছিল

১৪ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২০ সন্ধ্যা ৬:১৩

২০০৭-এর নভেম্বরে আর ২০০৮-এর ফেব্রুয়ারিতে লিখেছিলাম এই গল্পটির তিনটি পর্ব। পরে এই সিরিজটা আর শেষ করিনি। আজ ২০২০-এর ফেব্রুয়ারিতে এসে এক যুগ পূর্ণ হলো এই অসম্পূর্ণ সিরিজের। অবশ্য তাতে কোনও আক্ষেপ নেই। আমাদের জীবনের কত কিছুই তো অসম্পূর্ণ থেকে যায় চিরকাল।

হরর? (প্রথম পর্ব) লিঙ্ক

প্রবাসে পড়াশুনার ফাঁকে পার্ট-টাইম জব হিসেবে "ব্রিটিশ গ্যাস" নামক একটি এনার্জি সাপ্লাই কোম্পানীতে "ফিল্ড সেইলস্ এ্যাডভাইজার" হিসেবে কাজ করে ছেলেটি। কাজ তেমন কিছুনা; কাস্টমারদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে সাপ্লাই সংক্রান্ত যাবতীয় খোঁজ খবর নিয়ে সব শেষে সাম্প্রতিক প্যকেজসমূহের একটা সংক্ষিপ্ত বয়ান দিয়ে গ্যাস-ইলেক্ট্রিসিটি সেইল করা। সকাল ৯টার পর থেকে শুরু করে রাত ৮টা- এই সময়ের মধ্যে নিজের পছন্দমত যেকোন একটি সময় বের করে নিয়ে কাজে বেড়িয়ে পড়লেই হলো। সপ্তাহ শেষে সর্বমোট কাজের পরিমাণ ২০ ঘন্টা আর সেইলসের টার্গেট (সাপ্তাহিক) বাবদ গোটা বিশেক কন্ট্রাক্ট পূর্ণ হলেই ম্যানেজেরের আর কোন আপত্তি থাকেনা। বেসিক সেলারি তো আছেই তার উপর কমিশন। ভালই চলে যায়।

গ্রীষ্মের এক বিকেল। মাথার উপর তাতানো রোদ যেন কিছুতেই বিদায় নিতে চায়না। তাই ছেলাটি কাজে বের হলো একটু দেরী করেই। বিকেল তখন ৫.৩০ বা তার কিছু বেশী হবে। হাতেগোনা কিছু কাষ্টমারের সঙ্গে বকবক করতেই সময় যে কখন চলে গেল টেরই পায়নি। ঘড়ির দিকে তাকালো ছেলেটা। সন্ধ্যা ৭.৪৫। সূর্য ইতোমধ্যেই অস্তাচলে গেছে। কেমন যেন আঁধার নেমে এসেছে চারদিকে। মেঘেদেরই কান্ড হবে হ্য়তো। তবে এখনও তো ১৫ মিনিট হাতে আছে। একটা কাষ্টমারের কাছে বয়ান দেবার জন্য যথেষ্ট। কিন্তু যে বাড়িটা সে খুঁজছে তা খানিকটা দুরে। সাবার্বে (শহরের অদূরে কান্ট্রিসাইড) এই এক সমস্যা। সিটির মত বাড়িগুলো সব সময় এক জায়গায় ঘিঞ্জি হয়ে থাকেনা। অগত্যা কি আর করা!

বাড়িটার চেহারা দেখে মনে হ্য়না কেউ এখানে থাকে। প্রধান ফটকে মরিচার আভাস, ক্যাঁচক্যাঁচ করে খুলে ভেতরে ঢুকতেই লনভর্তি ঘাসেদের অবাধ রাজত্ব। হাতে ধরা নকশীটের (কাগজের যে শীটে কাষ্টমারের নাম, ঠিকানা, সাপ্লাই রেকর্ড ইত্যাদি থাকে) দিকে একবার তাকালো ছেলেটি। বাড়ির নাম্বার ঠিকই আছে। কলিং বেলে চাপ দিতে গিয়ে মনে হলো ক্রিং করে বেজে ওঠা এর কর্ম না। অন্ততঃ চেহারা তাই বলে না। দরজার অবস্থাখানাও তথৈবচ। এ দরজা খুলে কেউ বেরুবে? অসম্ভব। বাজি ধরে বলা যায়। তবুও এসে যখন পড়েছে একটা নক করলে কি এমন ক্ষতি! অবাক বিষয়! বেল বাজছে- সুমধুর সঙ্গীত মূর্ছনা তুলেই বাজছে।

মৃদু একটা প্রতিবাদের মত শব্দ করে দরজাটা একটু হা হলো। শুধু কি তাই? ছেলেটিকে রিতীমত বিস্মিত করে দিয়ে একজন সৌম্য দর্শন বুড়ো স্মিতহাস্যে দরজায় দাড়ালেন। ষাটের শেষ কি সত্তুর হবে বয়স। নিপাট ভদ্রলোক বলতে যা বোঝায় তাঁর মধ্যে এর পুরোটাই দৃশ্যমান। ধবধবে সাদা চুল, তার সাথে ম্যাচ করে খোঁচা খোঁচা দাঁড়ি-গোঁফ। গায়ে পড়ে আছেন সফেদ গাউন। সব কিছু মিলিয়ে কেমন যেন একটা শ্রদ্ধা জাগানিয়া অবয়ব।

ছেলেটি শুরু করল, "মিষ্টার ওয়ালেস"?
ভদ্রলোক হাঁ সূচক মাথা নাড়লেন।
"শুভ সন্ধ্যা। আমি 'ব্রিটিশ গ্যাস'-এর পক্ষ থেকে এসেছি। কেমন আছেন"?
"ভাল"।
নকশীটের দিকে তাকিয়ে ছেলেটি বলল, "মিষ্টার ওয়ালেস, আমাদের রেকর্ড অনুযায়ী আপনি ঠিক দু'বছর আগেও আমাদের ডুয়েল ফুয়েল (গ্যাস+ইলেক্ট্রিসিটি) কাষ্টমার ছিলেন। তারপর থেকে আর কোন সাপ্লাই রেকর্ড নেই আমাদের কাছে আপনার নামে। তার মানে আপনি সাপ্লাইয়ার বদলেছেন। যদি কিছু মনে না করেন, আপনি কি বলবেন ঠিক কি কারণে আপনি 'ব্রিটিশ গ্যাস' ছাড়লেন? মানে আমি জানতে চাচ্ছি, আমাদের সেবায় কোন ত্রুটি বা আমাদের চেয়ে স্বল্পমূল্যে অন্য কোন কোম্পানি....."?
ভদ্রলোক মৃদু হেসে ঘরে ঢোকার আমন্ত্রণ জানালেন। আলো জালাবার প্রয়োজন মনে করলেন না বৃদ্ধ। কারন লিভিং রুমের সাথে লাগোয়া কিচেনের ওদিকে কোথাও থেকে মৃদু আলো এসে ঠিকরে পড়ছিল বুড়োর চোখে-মুখে। অস্তরাগের লালীমা-মাখা নরম আলো; কিচেনের জানালা গলে এসে থাকবে হয়তো। সবকিছু মিলিয়ে কেমন একটা পবিত্র পবিত্র পরিবেশ। অসংগতি যা চোখে পড়ল তা হচ্ছে মেঝেতে পড়ে থাকা ঐ বিশাল আলমারীটা। সম্ভবত বুড়ো শক্তিতে কুলোতে পাড়েনি ওটাকে টেনে তুলতে। আর একটা ব্যাপার হচ্ছে, সারা ঘরে কেমন যেন পঁচা মাংসের গন্ধ। বুড়োর ফ্রিজটা নিশ্চিত রসাতলে গেছে। কবেকার কিনে রাখা মাংস পঁচে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে।

"তুমি এই সন্ধ্যারাত অব্দি কাজ কর"? বুড়ো মুখ খুলল।
"আসলে সর্বোচ্চ ৮টা পর্যন্ত কাজ করার নিয়ম আছে আমাদের। ততক্ষণ পর্যন্ত সাধারণতঃ কাজ করিনা। আজ করছি। এই এলাকাটা আজকের মধ্যে শেষ করে ফেলতে হবে। আগামী সপ্তাহ থেকে আবার নতুন জায়গায়"।
"হুঁ। তা কি যেন বলছিলে"?
"ও হ্যাঁ। আপনি হ্য়তো যৌক্তিক কোন কারণে আমাদের ছেড়ে অন্য কোন কোম্পানির সাথে চুক্তি করেছেন। কিন্তু জানেন কি? আমরা এসময়ে সবচেয়ে কম মূল্যে এনার্জি সরবরাহ করে থাকি। আমাদের কোন রকম স্ট্যান্ডিং চার্জ নেই। তার মানে আপনি এনার্জি ব্যবহার করলেই শুধু চার্জ হবে, অন্যথায় নয়। শুধু তাই নয়। আমাদের সব নতুন কাষ্টমারকে আমরা একমাস গ্যাস অথবা একমাস ইলেক্ট্রিসিটি ফ্রি দিচ্ছি। কোনটা ফ্রি নেবেন তা একান্তই তাঁদের পছন্দ। তার উপর আছে ডুয়েল ফুয়েল ডিসকাউন্ট। অর্থাত্ আপনি যদি গ্যাস এবং ইলেক্ট্রিসিটি দু'টোই আমাদের কাছ থেকে নেন তাহলে আপনি পাবেন বছরে প্রায় ৬৫ পাউন্ডের মত ছাড়। শুধু কি তাই? আপনি যদি নগদে বিল পরিশোধের পরিবর্তে ডাইরেক্ট ডেবিটে পে করেন আপনাকে দেওয়া হবে বছরে আরও প্রায় ৩৫ পাউন্ডের মত ছাড়। আর তাছাড়া ষাটোর্ধ যেকোন কাষ্টমারকে আমরা দিয়ে থাকি উইন্টার বেনিফিট। মানে শীতকালিন অতিরিক্ত খরচ থেকে এনার্জি ব্যয় অনুপাতে একটা নির্দিষ্ট অংক মউকুফ। আশা করি আপনি এবার আপনার পুরণো সাপ্লাইয়ারকে আরেকবার সুযোগ দেবেন সেবা করার"। ছেলেটা এইটুকু বলে থামল।
বৃদ্ধ সেইরকম স্মিত হাসি হেসে কিছুক্ষণ তকিয়ে থাকলো।
তারপর বলল, "তুমি তো দেখতে পাচ্ছ, আমার ঘরে এমনিতেই যথেষ্ট আলো আছে। বিদ্যুতের আলোর প্রয়োজন পড়েনা। আর তাছাড়া আমি গ্যাসও ব্যাবহার করিনা। এইতো বেশ আছি"।
"কি উদ্ভট কথা! গ্যাস-বিদ্যুত ছাড়া কি আর এ শহরে চলা যায়? এ কি আর আমাদের পার্বত্য চট্টগ্রামের দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চল"? ছেলেটি মনে মনে ভাবল। আসলে সাপ্লাইয়ার বদলানোর কোন ইচ্ছে হয়তো ভদ্রলোকের নেই। একটু রসিকতা করে তা বুঝিয়ে দিলেন।
"আচ্ছা উঠি তাহলে"।
"তোমার সাথে কথা বলে ভালো লাগল। ভাল থেকো"। আবার সেই চমত্কার স্বর্গীয় হাসি হাসলেন বৃদ্ধ।

লন পেড়িয়ে রাস্তায় উঠেই ঘড়ির দিকে তাকালো ছেলেটি। রাত ৮টা।
"এই ছেলে এই ঘোর সন্ধ্যাবেলা এখানে কি করছ"?
পিছন ফিরে তাকিয়ে দেখল এক বৃদ্ধা ধীর লয়ে হেলে দুলে এদিকেই আসছে।
"আমি আসলে মিঃ ওয়ালেসের সাথে দেখা করতে এসেছিলাম"।
"মিঃ ওয়ালেস"। ছোট একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলল বৃদ্ধা। "কি ভালো একটা লোক ছিল"!
"ঠিক। চমত্কার একজন লোক তিনি"।
"তুমি কি করে জানো"?
"এইমাত্র তো তাঁর সাথে কথা হলো"।
এটা বলে যেন ছেলেটা মহা একটা অন্যায় করে ফেলেছে- এমনি রাজ্যের বিরক্তি নিয়ে তার দিকে তাকল বৃদ্ধা। ছেলেটি মনে মনে ভাবল মিঃ ওয়ালেসকে কি তাহলে প্রতিবেশীরা আর ভাল লোক ভাবেনা? কই তাঁর মধ্যে তো খারাপ কিছুই চোখে পড়েনি।
"লোকের কথায় আমি মোটেও বিশ্বাস করিনা"। বৃ্দ্ধা বলে চলেছেন। "তাঁর মত একজন লোক কেন অন্যের খরাপ চিন্তা করবেন"?
ছেলেটি জিজ্ঞাসু চোখে তাকাল।
"তাঁর তো আর কোন কাজ নেই সন্ধ্যে হলেই তোমাদের ভয় দেখাতে ঘরের সামনে দাঁড়িয়ে থাকবেন! যত সব বাজে লোকের বাজে কথা"।
নাহ্ বুড়ির সাথে কথা বলার অর্থ হচ্ছে বৃথা কিছু সময় নষ্ট করা। কি সব আবোল-তাবোল বলছে! কথার খেই পাওয়া যাচ্ছেনা।
"বাজে একটা দুর্গন্ধ। মাংস পঁচার"। বুড়ি আবার শুরু করল। "এদিকে মিঃ ওয়ালেসকেও নাকি দেখা যাচ্ছনা ক'দিন ধরে! লোকটা গেল কোথায়? ঘরে নিশ্চয়ই ফ্রিজ নষ্ট হয়ে মাংস-টাংস সব পঁচে বসে আছে। প্রতিবেশিরা সবাই মিলে পুলিশে খবর দিল। দরজা ভেঙ্গে না ঢুকে কি আর উপায় আছে? বুড়ো তো উধাও"।
"তারপর"?
"অনেক দেরী হয়ে গেছে। ঐ অত বড় আলমারীর ভার বুড়ো কি...... মাথায় আঘাত....." বিড়বিড় করে আরও কি সব বলতে বলতে বৃদ্ধা সেই রকম দুলতে দুলতে হাঁটতে লাগল।
ধূর্! বুড়ির মাথা পুরোপুরিই গেছে। কি যে বলছে নিজেই জানেনা! ছেলেটি পা বাড়ালো বাড়ির উদ্দেশ্যে।

হঠাত্ থমকে দাঁড়ালো ছেলাটা। আলমারীর কথা কি যেন বলল বুড়িটা? ছেলেটির মনে পড়ে গেল মেঝেতে পড়ে থাকা আলমারীটা। পঁচা মাংসের গন্ধ। "তুমি তো দেখতে পাচ্ছ, আমার ঘরে এমনিতেই যথেষ্ট আলো আছে। বিদ্যুতের আলোর প্রয়োজন পড়েনা। আর তাছাড়া আমি গ্যাসও ব্যাবহার করিনা। এইতো বেশ আছি"। বুড়োর শেষ কথাগুলো কানে বাজতে লাগল ছেলেটির।
"হেই," হাঁক দিল ছেলেটি, "তুমি কি বলতে চাচ্ছ মিঃ ওয়ালেস....."
"মারা গেছে; দু'বছর আগে। সে কথাই তো তোমাকে বলছি এতক্ষণ ধরে। আর তুমি বলছ কিনা তাঁর সাথে কথা বলেছ এইমাত্র....."। গজ গজ করতে করতে চলতে শুরু করল বৃদ্ধা।
ছেলেটির কানে আর কোন কথাই ঢুকছেনা। কেবল পাথরের মূর্তির মত দাঁড়িয়ে রইল। এভাবে কতক্ষণ ছিল তা সে বলতে পারেনা। সম্বিত ফিরে পেল গির্জার ঢং ঢং ঘন্টা ধ্বনিতে।

==================================================================================

হরর? (দ্বিতীয় পর্ব) লিঙ্ক

ঢং ঢং ঢং। ঘুম ভেঙ্গে গেল ছেলেটির। নাহ্! গীর্জার ঘন্টাধ্বনিতে না। বেরসিক ঘড়ির এ্যালার্ম। কতবার ভেবেছে এ্যালর্ম টোনটা বদলে দেবে। কিন্তু সময় আর হলো কোথায়? কিছুক্ষন ঝিম মেরে বসে থাকলো। একটু আগে ঘটে যাওয়া ব্যাপারগুলো যে স্বপ্ন ছিল তা আর বুঝতে বাকী রইল না। কিন্তু তারপরও মনটা কেমন আচ্ছন্ন হয়ে রইল। ঘড়ির দিকে তাকালো ছেলেটি ৯.৩০। আজ শনিবার। ক্লাসে যাবার তাড়া নেই। তবুও সকাল সকাল উঠতে হলো তাকে। ডমেস্টিক সেইলসের ক্ষেত্রে এই একটাই মওকা কাষ্টমার ধরার - ছুটির দিন। কাজকর্ম থাকেনা বেশীরভাগেরই। অতএব ঘরেই পাওয়া যায়। অন্য সুবিধাটা হচ্ছে ছুটির দিন অনেকটা রিল্যাক্সড্ মুডে থাকে বলেই হয়তো ধৈর্য ধরে মনোযোগ দিয়ে সব কথা শোনে। এতে সেইলসের আনুপাতিক হারটা স্বাভাবিক কারনেই অন্যান্য দিনের চেয়ে খানিকটা বেড়ে যায়। কিছুক্ষণ আগে দেখা স্বপ্নটার কথা মনে পড়ে গেল। কেমন শান্ত, স্বর্গীয় একটা চেহারা। স্মীত সেই হাসি চোখের উপর ভেসে উঠছে বারবার। আর কেমন সম্মোহন জাগানীয়া ভারী কন্ঠ। "আচ্ছা স্বপ্নে শোনা কন্ঠের কি কোন আলাদা স্বর থাকতে পারে? কারন শ্রবণ ইন্দ্রীয় তো তখন মূলত নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করে"- ভাবল ছেলেটি। ধুত্তোরি! কি সব আজেবাজে বিষয় নিয়ে অহেতুক ভাবনা! তোয়ালে নিয়ে বাথরুমের দিকে যাবার মূহুর্তেই বেজে উঠল ফোন। কোন বন্ধুর হবে হয়তো। ছুটির দিনে সাত সকালে কোন জরুরী ফোন আসার স্বম্ভাবনা শতকরা সাত থেকে সোয়া সাত ভাগ। সুতরাং ফোন রিসিভ না করেই বাথরুমে ঢুকে পড়ল ছেলেটি। কিনতু নাহ্! ভারী বজ্জাত তো ফোনটা! এক নাগাড়ে বেজেই চলছে। আরে বাবা একটা ম্যাসেজ রেখে দিলেই তো হয়। ফোনটা হাতে নিল ছেলেটি। নাহ্, কোন পরিচিত নাম্বার না।
"হ্যালো"।
"হ্যালো, জয়?
কন্ঠস্বরটি শুনেই চমকে উঠলো ছেলেটি। নিজের অজান্তেই বলে ফেলল,
"মিঃ ওয়ালেস..."
"তুমি বোধ হয় ভুল করছ। আমি আসলে তোমার পরিচিতদের কেউ নই। কাল সন্ধ্যায় বাড়ি ফিরে দেখলাম 'British Gas'-এর প্যাডে একটা নোট পড়ে আছে লেটার হোলে -'Sorry, we missed you today' ওখানেই তোমার ফোন নাম্বার আর নাম দেখতে পেলাম"।
এখনও পুরোপুরি ধাতস্থ হতে পারেনি ছেলেটি। কোন রকমে বলল, "হ্যাঁ, আসলে সাপ্লাই সংক্রান্ত কিছু বিষয় নিয়ে কথা বলার প্রয়োজন ছিল"।
"তুমি কি আজ একবার আসতে পারবে আমার বাড়ি? যদিও জানি আজ ছুটির দিন কিন্তু কি করা? সময় হয়ে ওঠেনা"।
"না না, কোন সমস্যা নেই। আপনি কি দয়া করে আপনার নাম আর ঠিকানাটা বলবেন? ইন ফ্যাক্ট, আমাদেরকে এ রকম নোট প্রায় সব বাসাতেই রেখে যেতে হয়"।
"নিশ্চয়ই। আমার নাম জন ওয়ার্ড। ৩৩,নোবেল কোর্ট, জুবিলি ষ্ট্রিট, লন্ডন ই৬ ৪জে ই। ঘন্টা খানেকের মধ্যে আসলে খুবই ভাল হয়"।
"ঠিক আছে"।
কিছুক্ষনের জন্য মনটা কেমন আচ্ছন্ন হয়ে রইল ছেলেটির। এ ধরনের উদ্ভট একটা অনুভূতির কি মানে? স্বপ্নে শোনা কন্ঠের কোন আলাদা বিশেষত্ব থাকেনা। সুতরাং এ নিয়ে সাত-পাঁচ ভাবার কিছু নেই- নিজেকে বোঝালো সে।
১১ বাজতে ১৫মিনিট বাকী। খুব বেশী দেরী সে করেনি নিশ্চয়ই- ভাবল ছেলেটি। বড়িটা খুঁজে পেতে খুব একটা কষ্ট হয়নি। গত কয়েকদিনে এই এলাকাটা চষে ফেলেছে সে। কোন্ কোন্ বাড়িতে কাষ্টমারের দেখা পাওয়া যায়নি তাও অনেকটা মুখস্ত হয়ে গেছে এর মধ্যে।
টুং টুং শব্দে বেল বেজে উঠল। ভদ্রলোক বাড়ি আছেন তো? না, পায়ের আওয়াজ পাওয়া যাচ্ছে। কেউ একজন দরজার দিকেই এগিয়ে আসছে। মৃদু গলা খাঁকারি দিয়ে নিজেকে কিছুটা প্রস্তুত করে নিল সে।
দরজায় দাঁড়ানো বৃদ্ধাকে দেখে ভুত দেখার মত চমকে উঠল ছেলেটা। এটা কি করে সম্ভব? এ যে একই মহিলা যার সাথে তার কথা হয়েছিল স্বপ্নে। কি হচ্ছে এসব আজকে? কোন রকমে তোতলাতে তোতলাতে বলল,
"মিঃ ওয়ার্ড আছেন"?
বৃদ্ধা খানিকক্ষন আগাগোড়া মাপলো তাকে। যেন আসামী সনাক্ত করছে কোন পুলিশ।
"কি প্রয়োজন তাঁকে"?
"আসলে আমি এসেছি ব্রিটিশ গ্যাস-এর পক্ষ থেকে। মিঃ ওয়ার্ড ঘন্টা খানেক আগে আমাকে ফোন করে আসতে বলেছেন"।
বৃদ্ধা মনে হয় আকাশ থেকে পড়ল এমন একটা ভাব করে তার দিকে তাকালো।
"তিনি কি বাড়ি আছেন"?
"মিঃ ওয়ার্ড তোমাকে ফোন করেছে ঘন্টা খানেক আগে"?
"হ্যাঁ"।
"মাই চাইল্ড, আই উইশ হি ওয়্যার হিয়ার। জন মারা গেছে বছর দুই আগে। আমি তার উইডো"।
নিশ্চয়ই কোথাও কোন ভুল হচ্ছে।
"আচ্ছা এ বাড়িতে আর কে কে থাকে? আই মিন, আপনার কোন ছেলে...."?
"আমার ছেলে-মেয়েরা কেউই আমার সাথে থাকেনা। আমি একাই থাকি এখানে। ও হ্যাঁ, আর আমার এই বেড়ালটা- স্যান্ডি"।
বেড়াল নয়, ঘরেরর ভেতর উঁকি দিয়ে যা দেখল তা তে পুরোপুরি হতভম্ব হয়ে গেল ছেলেটি। দেয়ালে টাঙানো ছবিটি। স্বপ্নের সেই মানুষটা- মিঃ ওয়ালেস। মুখ দিয়ে কোন কথা বেরুলো না। শুধু হাতের ইশারায় ছবিটি দেখালো ছেলেটি।
"জন। মিঃ জন ওয়ার্ড- আমার হাজব্যান্ড"। ছোট একটা দীর্ঘশ্বাস ছাড়লো বৃদ্ধা।
"স্যরি মাই সান। আমি একটু ব্যস্ত আছি এই মূহুর্তে। নাইস মিটিং ইউ"।
মাথার ভেতর কয়েক হাজার ভোল্টের বিদ্যুত্ স্ফুলিংগের মত কি যেন ঘটে যেতে লাগল। তার সাথে চলছে বিকট ডাইনামাইট ফাটার মত আওয়াজ। পা গুলো যেন ভারী কিছু জিনিশ দিয়ে বেঁধে দেয়া হয়েছে। কিছুতেই চলছেনা। তবু আচ্ছন্নের মতে হাঁটতে হাঁটতে অনেকটা পথ যে হেঁটে এসেছে টেরই পায়নি ছেলেটি। রেসিডেন্সিয়াল এলাকা ছেড়ে ব্যস্ত সড়কের কাছাকাছি এখন সে। আশপাশের কোন কিছুই টের পাচ্ছেনা সে। একটাই ভাবনা ঘুরেফিরে মাথায় এসে খেলা করছে তার- এটা কি করে সম্ভব? কি হচ্ছে এসব আজকে তার সাথে। পরোলকের মিঃ ওয়ালেসের সাথে স্বপ্নে কথোপকথন, ঘুম থেকে জেগে উঠে আবার একই কন্ঠে মিঃ ওয়ার্ডের ফোন,স্বপ্নে দেখা বৃদ্ধার আবার মিসেস ওয়ার্ড হয়ে একইভাবে ভুল ভাঙ্গিয়ে দেয়া- "মিঃ ওয়ালেস মৃত; তার সাথে তোমার কথা হতে পারেনা। মিঃ ওয়ার্ড জীবিত নেই; সে তোমাকে ফোন করতে পারেনা....মিঃ ওয়ালেস.....মিঃ ওয়ার্ড...ওয়ালেস..ওয়ার্ড ...."
"ওয়াচ আউট মাই চাইল্ড....."
চমকে তাকালো শব্দের উত্সের দিকে। পরিচিত কন্ঠ। মাত্র একটি মূহুর্তের জন্য দেখতে পেল হুইল চেয়ারে বসা বৃদ্ধের সেই স্বর্গীয় চেহারা। তারপরই আঁধার নেমে এল চারদিকে। অনেক জোড়েই ব্রেইক কষেছিল গাড়ির চালক। কিন্তু ব্যস্ত সড়কে শেষ মূহুর্তে পথচারির বেপরোয়া নেমে পড়াতে কিছুই করার থাকেনা।

==================================================================================

হরর? (তৃতীয় পর্ব) লিঙ্ক

সীতাকুন্ডের চন্দ্রনাথ পাহাড়ের একেবারে চূড়ায় অতি পুরণো সেই মন্দিরটার উত্তর দিকটায় বসে আসে জয়। সঙ্গে অদিতি। এপাশ থেকে অনতিদূরে তার গ্রাম পান্থশালা অস্পষ্ট দেখা যায়। ফুরফুরে হাওয়া বয়ে যাচ্ছে- শীতল তার পরশ। একটু দূরে মন্দিরের পশ্চিম দিকের খাঁড়া সিঁড়ি ভেঙ্গে শনের বোঝা মাথায় করে নেমে যাচ্ছে কয়েকজন ত্রিপুরা নর-নারী। দক্ষিন দিকে আঁকাবাকা নেমে গেছে পিচঢালা রাস্তা সোজা ইকোপার্কের পেট ফুঁরে। ওর গা বেয়ে তরতর উঠে যাচ্ছে একটা পাজেরো জীপ। অদিতি অন্যপাশটায় মুখ ঘুরিয়ে দেখছে দূরের দিগন্ত রেখার সাথে মিলে মিশে একাকার হয়ে যাওয়া বঙ্গোপসাগর। এবার সে মুখ ফিরিয়ে তাকালো তার দিকে। ও মা! অদিতি কোথায়? এ তো অন্য একজন- এক ইউরোপিয়ান তরুণী। সে এখানে কি করছে? ঘাড় ঘুরিয়ে আবার নিশ্চিত হতে গেল সে। আরে একটু আগে দেখা পাজেরো জীপটিকে আর দেখা যাচ্ছেনা। তার জায়গার একটা বিএমডব্লিও গাড়ি তরতর করে উঠে আসছে। আর চন্দ্রনাথ পাহাড়ও কেমন রুপ বদলে ফেলল নিমিষেই- বক্স হিল; ইংল্যান্ডের দক্ষিণ-পুর্বের শহর ডর্কিং-এর অদূরেই এ পাহাড়। আগেও বহুবার বেড়াতে এসছিল এখানে জয়। তরূণীটি এবার তার কাছাকাছি চলে এলো।
"হ্যালো জয়! আমি ডারটা- ডারটা কালনিনা", বলেই হাত বড়িয়ে দিলো তরুণী।
"তুমি আমার নাম জানো কি করে?"
মৃদু হাসল ডারটা।
"বাই দ্যা ওয়ে, আই এ্যাম ফ্রম লাটভিয়া"।
"আমি বাংলাদেশী... আই মিন, আই এ্যাম ফ্রম....."
"কোন সমস্যা নেই। তুমি বাংলাতেই বলতে পারো"
"তুমি বাংলা জানো"?
"উঁহুঁ"
"তাহলে"?
"তুমিও তো আমার নিজের ভাষায় বলা কথা বুঝতে পারছ। এই যে নিজেকে পরিচয় করিয়ে দেবার পর থেকেই তো আমি প্রতিটি কথা বলছি লাটভিয়ান ল্যাঙ্গুয়েইজে"।
"আরে তাই তো। তার মানে দাঁড়াচ্ছে আমরা দু'জনেই যার যার ভাষায় কথা বলছি। অথচ সব কথা বুঝতেও পারছি"!
"ঠিক তাই"।
"কিন্তু তা কি করে সম্ভব"?
"কারণ আমরা দু'জনেই হলাম গিনিপিগ"।
"মানে"?
"তুমি জানো, আমরা দু'জনেই যে এই মূহুর্তে অবিকল একই স্বপ্ন দেখছি"?
"সেটা কি করে সম্ভব"?
"কারণ আমি জোর করে তোমার স্বপ্নের মধ্যে ঢুকে পড়েছি"।
"তুমি সেটা কেন করলে"?
"নিজেকে ইন্ট্রোডিউস করতে। আর যেহেতু তোমার চন্দ্রনাথ পাহাড়ের সাথে আমার কোন পরিচয় নেই তাই স্বপ্নটাকে একটু মডিফাই করে বক্স হিলে নিয়ে এলাম। কারন এ জায়গাটা আমি যেমন চিনি, তুমিও চেনো"।
"তুমি তা করতে পারনা। যতসব আজগুবি। কোন লোকই তা পারেনা"।
"ঠিক। সাধারন মানুষেরা তা পারেনা- যদি না তাকে কোন রকম সুপার পাওয়ার দেয়া হয়ে থেকে"।
"তুমি বলতে চাইছ তোমাকে সুপার পাওয়ার দেয়া হয়েছে এবং তুমি চাইলেই যে কারও স্বপ্নের মধ্যে ঢুকে পড়তে পারো"?
"ঠিক তাই। এবং আমি এও বলতে চাই যে তুমিও ঠিক একই কাজ করতে পারো। কারণ তোমাকে-আমাকে একই রকম ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে"।
"মানে"?
"জয়, তুমি কি জানো যে তোমার খুব ভয়াবহ একটা দুর্ঘটনা হয়েছে? আর তার জন্য অনেক জটিল একটা অপারেশন করতে হয়েছে তোমার মস্তিষ্কের নিউরনে? এ ধরনের অস্ত্রোপচার সাধারনত সফল হয়না। তুমি এখন কোমায়- 'ক্লিনিক্যালি ড্যাড'।"
"তার মানে আমি মারা যাচ্ছি"?
"তাই হবার কথা ছিল। কিন্তু তোমাকে বাঁচিয়ে রাখা হয়েছে"।
"কিভাবে"?
"তোমার মস্তিকের যে অংশটুকু ড্যমেজ হয়ে গেছে তা পুরন করা হয়েছে কৃত্রিম কিছু যন্ত্রপাতি দিয়ে"
"তুমি এতসব কি করে জানো"?
"কারন আমার ক্ষেত্রেও ঘটেছিল একই রকম ব্যাপার। তোমার পাশের ক্যাবিনে আমি পড়ে আছি আজ প্রায় মাস সাতেক হলো। হাসপাতালের সবাই খুব অবাক হচ্ছে প্রতিদিন আমার দীর্ঘদিনের কোমায় বেঁচে থাকা নিয়ে। শুধু দু'জন লোক ছাড়া- ডঃ শর্মা আর ডঃ মাসগ্র্যাইভ। আমার মত এঁরা দু'জনও জানে আমার বেঁচে থাকার রহস্য"।
"তাহলে কি..."?
"হ্যাঁ, এ দু'জনেরই এক্সপেরিমেনটের গিনিপিগ তুমি আর আমি"।
"আমাদেরকে বাঁচিয়ে রেখে ওদের কি লাভ"?
"সে গল্প বলব অন্য একদিন। আমাকে এখুনি তোমার স্বপ্নলোক থেকে ফিরে যেতে হবে। আমার ব্রেইনে কিছু ম্যাসেজ আসছে"।
"কিসের ম্যাসেজ? কোত্থেকে আসছে"?
"সেটা আরেকদিন শুনো। তুমিও পাবে এরকম ম্যাসেজ। আমি গেলাম"।
"আমরা কোথায় আছি অন্ততঃ বলে দিয়ে যাও"।
"রয়েল লন্ডন হাসপাতালের ইন্টেন্সিভ ক্যায়ার ইউনিটে। বিদায় জয়"।
"বিদায় ডারটা"।

মন্তব্য ৬ টি রেটিং +১/-০

মন্তব্য (৬) মন্তব্য লিখুন

১| ১৪ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২০ সন্ধ্যা ৬:২১

রাজীব নুর বলেছেন: আপনি লিখেন ভালো।
তবে আমি অবশ্যই অলস। বড্ড অলস। লেখালেখির ব্যাপারে অলসতা পরিহান করুন।

১৪ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২০ সন্ধ্যা ৭:৩৭

রোদ্দূর মিছিল বলেছেন: আলস্য নয়। পাঠক খরা। তখনও যেমন ছিল, এখনও তাই আছে। মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ।

২| ১৪ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২০ সন্ধ্যা ৬:৩৫

নেওয়াজ আলি বলেছেন: পরিপক্ব লেখা ।

১৪ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২০ সন্ধ্যা ৭:৪৫

রোদ্দূর মিছিল বলেছেন: ধন্যবাদ। শুভেচ্ছা।

৩| ১৪ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২০ রাত ১১:০৫

ভুয়া মফিজ বলেছেন: আপনি সন্দেহাতীতভাবেই দারুন লিখেন।

তবে নিয়মিত না লেখার কারন বলেছেন.....পাঠক খরা। একটু দ্বি-মত পোষণ করছি। আপনার ব্লগিং বয়স ১২ বছর ৩ মাস। এক্টিভ ব্লগিং কত বছর জানি না। তবে এতো পুরানো একজন ব্লগার হিসাবে আপনার নিশ্চয়ই জানা আছে, ব্লগাররা স্বল্প-পরিচিত ব্লগারের লেখা কম পড়ে। আপনি ব্লগিং মিথস্ক্রিয়া বাড়ান, অন্যদের লেখা পড়েন, মন্তব্য করেন। আপনার লেখাও সবাই পড়বে।

আপনার চেয়ে অনেক অনেক খারাপ লেখে এমন ব্লগার প্রচুর আছেন, যাদের লেখা অনেকেই পড়ে। কেন? কারন ওই একটাই.....যা বললাম। উদাহরন হিসাবে আমার ব্লগ বাড়ি ঘুরে দ্যাখেন, আমার কথার সত্যতা পাবেন। আমিও আপনার চেয়ে অনেক খারাপ লিখি।

অবশ্য ব্লগিং নিয়ে খুব বেশী মাথা যদি না ঘামান, তাহলে আমার এই মন্তব্য ইগনোর করতে পারেন। :)

আপনার জন্য শুভেচ্ছা।

১৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২০ রাত ১:০০

রোদ্দূর মিছিল বলেছেন: আপনার মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ। অন্যের লেখা পড়ার ব্যাপারে আমার অনাগ্রহ কখনোই ছিলনা, এ কথা জোর দিয়েই বলতে পারি। তবে লেখার বিষয়বস্তু যদি হয় অনেক চর্বিতচর্বণ কোনও ঘটনা বা বিষয়, তাও আবার সে বিষয় বা বিষয়সমূহের বিশ্লেষণ যদি হয় নিতান্তই অগভীর (যেখানে অন্যান্য সোশ্যাল মিডিয়া বা অনলাইন পোর্টালে একই বিষয়ের উপর অনেক গভীর বিশ্লেষণমূলক লেখা পড়ার সুযোগ হয়), কবিতা বা গল্প লেখা যদি হয় একেবারেই অ্যামেচারিশ, কোনও দিবস ইত্যাদি নিয়ে যদি চরম মৌলবাদী টাইপ বা বিদ্বেষমূলক কথাবার্তা লেখা হয়, আমার সেসব পোস্টে মন্তব্য করতে মন থেকে সায় দেয়না। ঐসব লেখায় যদি অন্যরা দলবেঁধে লাইক আর মন্তব্যের বন্যায় ভাসিয়েও দেয়, তাও আমি আমার একান্ত আমিত্বের বৈশিষ্ট্য থেকে সরে এসে গড্ডালিকা প্রবাহে গা ভাসাতে পারবো না। এভাবে নিজের স্বভাব বিরুদ্ধ লাইক বা মন্তব্য দিয়ে যদি আমাকে পাঠক সৃষ্টি করতে হয় বা লাইক-মন্তব্য কুড়াতে হয়, তাহলে আমি যে চরম অযোগ্য একজন লেখ, সেটা সবার আগে আমার নিজের কাছেই প্রমাণিত হয়ে যায়। এরপরও "এক যে বোকা শেয়ালে"-র মতো দেয়ালে মুরগী এঁকে সেটাকে আপনমনে চাঁটতে চাঁটতে সুখ পাওয়ার মতোই সুখ পাওয়া হয় এই ভেবে যে, আমি বোধ করি অনেক বড় মাপের একজন লেখক, তা নইলে অন্য্রা লাইক আর মন্তব্য দিয়ে এভাবে ভরিয়ে দিতো কি? এভাবে সুখ পাওয়া ঘোরতর আমার স্বভাব বিরুদ্ধ। অন্যদিকে, অতি উচ্চমানের লেখা না হোক, মোটামুটি মানের লেখাতেও আমি মন্তব্য করতে কার্পণ্য করিনা ব্যাতিক্রমী বিষয়বস্তুর কারণে অথবা নিদেনপক্ষে ভালো কিছু করার প্রয়াস দেখতে পেলে। এখন যদি আপনার মতকে প্রাধান্য দিয়ে যেনতেন সব কিছুতেই ভাল ভাল মন্তব্য রেখে দিয়ে আসতে হয়, তাহলে সেইসব ব্লগাররা ভালো কিছু, ব্যতিক্রম কিছু কোনোদিনও করতে চেষ্টা করবে বলে আমার মনে হয়না। বরং নিজেদেরকে ইতোমধ্যেই বিরাট মাপের একটা কিছু হয়ে গেছি বলে মনে করতে থাকবে। অর্থাৎ আমার মিথ্যা স্বান্তনা টাইপ মন্তব্য একজন কারও ক্ষতিটাই বরং করে ফেললো। আমি লাইক বা মন্তব্য পাওয়া না পাওয়ার চেয়ে বরং পঠিত হোক, এটাতে বিশ্বাস করি। কিন্তু হতাশ হই যখন দেখি হাজারের উপরে লোক আছে বলে দেখাচ্ছে, আর পঠিত দেখাচ্ছে ৪০/৫০ বার। ভালো বা মন্দ যাচাই করা তো পরের ব্যাপার। আগে তো পড়তে হবে। যদি পরিচিত জনের লেখাই পড়বে বলেই সবাই সিদ্ধান্ত নেয়, তবে তাই হোক। আমার অত পরিশ্রম করে লেখার কি দরকার নিয়মিত? এখন যেভাবে চলছে, সেভাবেই চলুক। হঠাৎ হঠাৎ মন চাইলে সামুতে এসে উঁকি দিয়ে যাবো। খাদ্য বা অখাদ্য সবই গোগ্রাসে গিলবো। আবার চুপচাপ চলে যাব। এর মধ্যে মাঝে মাঝে ইচ্ছে হলে টুকটাক লিখে রেখে যাব পাঠক খরায় ভুগবে জেনেও। কারণ লিখে রেখে যাব নিজের মনের ক্ষুধা মেটাতে। অন্যদের কথা মাথায় রেখে লিখতে গেলে আমি হয়তো আমার নিজস্বতা হারিয়ে ছাঁচে বানানো পুতুল হয়ে যাবো। অনেক বড় উত্তর হয়ে গেলো। ভালো থাকুন।
পুনশ্চঃ আপনার লেখার মান অন্য অনেকের চেয়ে শুধু না, আমার লেখার চেয়েও ঢের ভালো।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.