| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
পবিত্র কুরআনের সরাসরি বিরোধী নারীর সমঅধিকার নামে যে খসড়া নীতিমালা সম্প্রতি মন্ত্রী পরিষদে পাস হয়েছে তার বিরুদ্ধে ফুঁসে উঠছে দেশের ইসলামপ্রিয় জনগণ। আলেম-উলামা ও ইমাম সমাজ সরকারের প্রতি এই নীতিমালা প্রত্যাহার করার জন্যও দাবি জানিয়ে আসছে। অনেকে সরকারের এই কর্মকান্ডকে ইসলামের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করার শামিল বলেও মন্তব্য করেছেন। কুরআনের বিরোধী নারী নীতিমালা বাতিল না করলে দেশব্যাপী আন্দোলনের দাবানল জ্বলে উঠবে বলেও তারা হুঁশিয়ারী উচ্চারণ করেছেন। উলামা-মাশায়েখ পরিষদ : মন্ত্রী পরিষদে পাস হওয়া খসড়া নারী উন্নয়ন নীতি-২০১১ বাতিলের আহবান জানিয়ে দেশের ৬ বিভাগীয় শহরের শীর্ষস্থানীয় আলেমগণ এক যৌথ বিবৃতি দিয়েছেন। বিবৃতিতে আলেমগণ বলেন, সম্পত্তিতে ভাই এবং বোনের সমঅধিকারের যে নারী উন্নয়ন নীতি-২০১১ খসড়া মন্ত্রী পরিষদে পাস হয়েছে তার ষোলআনাই কুরআন বিরোধী। কুরআনের বিধানের একটি শব্দও পরিবর্তন করলে মার্শাল-ল দিয়েও বাংলাদেশের মানুষকে ঠেকানো যাবে না। ইসলাম প্রচলিত অর্থে ধর্ম নয় বরং একটি সামগ্রিক জীবনদর্শন। মানব জীবনের কোন দিককেই ইসলাম উপেক্ষা করেনি। কুরআন ও হাদিসের আলোকে ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ, রাষ্ট্র পরিচালনাই শান্তির একমাত্র পাথেয়। কুরআনের আইন অমান্য, অস্বীকার বা লঙ্ঘন করলে সৃষ্টি হবে অনাকাঙ্ক্ষিত ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়। যা থেকে উত্তরণ, মোকাবিলা বা রক্ষা পাওয়ার কোন শক্তি মানব জাতির নেই। তাই বিশ্ব নিয়ন্তা আল্লাহ কর্তৃক প্রদত্ত নারীদের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠা করা প্রত্যেক মুসলমানের ঈমানী দায়িত্ব ও কর্তব্য। আলেমগণ বলেন, নারীদের অধিকার প্রতিষ্ঠার শ্লোগান তুলে যারা সমঅধিকারের পক্ষে সাফাই গাচ্ছে তদন্ত করলে দেখা যাবে তাদের নিজেদের ঘরের স্ত্রীরা সবচেয়ে বেশি অধিকার বঞ্চিত। অন্যদিকে আলেমদের ঘরের বিবিরা অধিকারের ব্যাপারে কখনো অভিযোগ উত্থাপন করেনি। তাই ‘মায়ের থেকে খালার দরদ বেশি' বাংলা প্রবাদের আওতাধীন অতিউৎসাহী লোকদের মূল লক্ষ্য কি? বিবৃতিদাতাগণ হলেন- মাওলানা মুহিউদ্দীন খান (ঢাকা), অধ্যক্ষ মাওলানা মুহাম্মদ যাইনুল আবেদীন (ঢাকা), অধ্যক্ষ মাওলানা রহমত উল্লাহ (খুলনা), অধ্যক্ষ মাওলানা মুহাম্মদ শাহজাহান মাদানী (ঢাকা), মুফতি মাওলানা আবু ইউসুফ খান আল মাদানী (ঢাকা), অধ্যক্ষ মাওলানা আবদুল হামিদ (গোপালগঞ্জ), অধ্যক্ষ মাওলানা সাইয়্যেদ আবু নোমান (চট্টগ্রাম), অধ্যক্ষ মাওলানা আবু বকর মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ (বাগেরহাট), মাওলানা আবুল কাসেম মুহাম্মদ হোসাইন ছিদ্দিকী (চাঁদপুর), অধ্যক্ষ মাওলানা আ ন ম মাঈনুদ্দীন সিরাজী (কুমিল্লা), মুফতী মাওলানা মুহাম্মদ ফাহীম ছিদ্দিকী, অধ্যক্ষ মাওলানা মুহাম্মদ আমীনুল্লাহ (নোয়াখালী), অধ্যক্ষ মাওলানা শহীদুল ইসলাম (নারায়ণগঞ্জ), অধ্যক্ষ মাওলানা আব্দুর রহীম (সিলেট), অধ্যক্ষ মাওলানা মুহাম্মদ মজিবুর রহমান, অধ্যক্ষ মাওলানা মুহাম্মদ আব্দুল হালীম (সিলেট), মাওলানা ছিদ্দীকুল্লাহ (চট্টগ্রাম), অধ্যক্ষ মাওলানা আব্দুল মতিন (গাজীপুর), অধ্যক্ষ মাওলানা মোসলেহ উদ্দিন (চট্টগ্রাম), অধ্যক্ষ মাওলানা ইদ্রিস আলী (খুলনা), অধ্যক্ষ মাওলানা মুহাম্মদ আব্দুস সামাদ (পাবনা), শায়খুল হাদিস মাওলানা আবু নোমান মুহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, মাওলানা মুহাম্মাদ শফিকুর রহমান প্রমুখ।
নারী অধিকার রক্ষা জাতীয় পরিষদ
পৈত্রিক সম্পত্তিতে ভাই এবং বোনের সমঅধিকারের যে খসড়া নারীনীতি-২০১১ মন্ত্রী পরিষদে পাস হয়েছে তা সরাসরি আল্লাহর বিধানের লঙ্ঘন। জাতিসংঘের ‘‘সিডিও’’ সনদসহ ১৯৯৭ সালের নারী নীতিমালার আলোকে কুরআন বিরোধী খসড়া নারীনীতি-২০১১ বাতিলের দাবিতে ‘‘নারী অধিকার রক্ষা জাতীয় পরিষদ’’ নেতৃবৃন্দ এক বিবৃতি প্রদান করেছেন। বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কুরআনে অত্যন্ত ন্যায়সঙ্গত ও সুষমভাবেই এই বিধান প্রবর্তন করেছেন। আল্লাহর বিধানে ভাইকে বোনের দ্বিগুণ সম্পত্তি দেয়া হয়েছে এবং সংসারের সকল খরচের দায়ভারও ভাইয়ের ওপর অর্পণ করা হয়েছে। বোনকে ভাইয়ের অর্ধেক সম্পত্তি দেয়া হলেও বোনের ওপর কোন খরচের দায়ভার দেয়া হয়নি যা অত্যন্ত বাস্তব ও বিজ্ঞানভিত্তিক। যদি বোনদের সমপরিমাণ সম্পত্তি দিয়ে খরচের দায়ভারও সমানভাবে অর্পণ করা হতো তাহলে তা পালন করা কষ্টসাধ্য হতো। তারা বলেন, ইসলাম বিদ্বেষী চক্রান্তকারীদের দ্বারা মুসলমানদের ঈমান আক্বিদা ও ধর্মীয় মূল্যবোধের ওপর আঘাত দিয়ে দেশের শান্তি-শৃক্মখলা বিনষ্ট করার অপতৎপরতা চলমান রয়েছে।
বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেন নারী অধিকার রক্ষা জাতীয় পরিষদের কেন্দ্রীয় সভাপতি শাহজাদী বেগম সাজেদা, সহ-সভাপতি হাছিনা বেগম, আমেনা বেগম, রহিমা বেগম, নাজমা আক্তার, মহাসচিব রোকেয়া বেগম (কেয়া), জয়েন্ট সেক্রেটারি হাজেরা বেগম, সাহেরা বেগম, সহকারী সেক্রেটারি সুলতানা চাহবিয়া হিরা, দফতর সম্পাদক শামছুন্নাহার রুমী, মুসাম্মৎ লুনা, প্রচার সম্পাদক সাহানা শারমিন সুমী, ঢাকা বিভাগীয় দায়িত্বশীল মুনমুন, চট্টগ্রাম বিভাগীয় দায়িত্বশীল মুসাম্মাৎ ছুমাইয়া ছিদ্দীকা, খুলনা বিভাগীয় দায়িত্বশীল সাদিয়া তাসনিম তৃষা, বরিশাল বিভাগীয় দায়িত্বশীল তাসফিয়া, রাজশাহী বিভাগীয় দায়িত্বশীল সুইটি, রংপুর বিভাগীয় দায়িত্বশীল শিউলী, সিলেট বিভাগীয় দায়িত্বশীল বিউটি প্রমুখ।
ইমাম সমিতি
জাতীয় ইমাম সমিতির ঢাকাস্থ কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের এক জরুরি সভা গতকাল সকালে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়। সভায় মহাসচিব আলহাজ্ব মাওলানা আবদুল মালেক নূরী বলেন, বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পূর্বে বলেছিল ক্ষমতায় গেলে তারা ইসলাম বিরোধী কোন আইন পাস করবে না। অথচ ক্ষমতায় এসে তা বেমালুম ভুলে গিয়ে তারা উত্তরাধিকার আইন ও ফতুয়া বন্ধসহ একের পর এক কুরআন-সুন্নাহ বিরোধী আইন পাস করে যাচ্ছে। যা বৃটিশ সরকারও কোনো দিন করতে সাহস পায়নি। তিনি বলেন, ইসলাম নারীকে যে অধিকার দিয়েছে, পৃথিবীতে কোনো ধর্ম তা দিতে পারেনি। ইসলাম সম্পর্কে অজ্ঞতার কারণে আজ নারী সমাজ রাস্তায় নেমে সমান অধিকারের শ্লোগান দিচ্ছে। অথচ ইসলাম নারীর মর্যাদা দিয়েছে অনেক বেশি।
সভায় আরো বক্তব্য রাখেন যুগ্ম মহাসচিব শাইখ মুফতি মুহাম্মদ উসমান গনী ও আলহাজ্ব ক্বারী মাওলানা আবু ইউসুফ, সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা মহিউদ্দিন, অর্থসম্পাদক মাওলানা মুনির হোসাইন, প্রচার সম্পাদক মাওলানা আবু বকর প্রমুখ।
ইসলামী আন্দোলন
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ঢাকা মহানগর সভাপতি অধ্যাপক মাওলানা এটিএম হেমায়েত উদ্দীন বলেছেন, ইসলাম বিরোধী এনজিও ও অশুভ শক্তির ইঙ্গিতে এবং তাদের পাতা ফাঁদে পা দিয়ে নারী উন্নয়ন নীতিমালা অনুমোদনের নামে পবিত্র কুরআনের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে ধর্মপ্রাণ ইসলামী জনতার ঈমানী চেতনায় প্রচন্ড আঘাত হেনেছে। অনতিবিলম্বে এই নীতিমালা বাতিল না করলে সরকারকে ভয়াবহ পরিণতি ভোগ করতে হবে। সরকারের যদি কুরআনের প্রতি শ্রদ্ধা থাকে এবং ইসলাম বিরোধী কোনো আইন না করার ইচ্ছা থাকে তাহলে নারীদেরকে পুরুষের সাথে অসম প্রতিযোগিতায় ঠেলে না দিয়ে বরং ইসলাম ঘোষিত সম্মান দিয়ে তাদের মর্যাদা প্রতিষ্ঠায় আইন করুন। ইসলামী জনতার ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করে কেউ ক্ষমতায় থাকতে পারেনি বর্তমান সরকারও থাকতে পারবে না। তিনি বলেন, নারী উন্নয়ন নীতিমালা সরকারকে বাতিল করতেই হবে অন্যথায় দেশব্যাপী আন্দোলনের যে দাবানল জ্বলে উঠেছে সেই আগুন নিভানোর সাধ্য সরকারের নেই। কুরআন বিরোধী নারী নীতিমালা বাতিল না করলে দেশব্যাপী আন্দোলনের দাবানল জ্বলে উঠবে।
গতকাল বুধবার বিকালে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ঢাকা মহানগরীর কার্যনির্বাহী পরিষদের এক সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এতে বক্তব্য রাখেন ঢাকা মহানগর সহ-সভাপতি আলহাজ্ব আলতাফ হোসেন, মাওলানা এবিএম জাকারিয়া, সেক্রেটারি মোহাম্মদ আবু সাঈদ সিদ্দিকী, সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যাপক ফজলুল হক মৃধা প্রমুখ।
কওমী মাদরাসা বোর্ড
সম্প্রতি সরকার নারীর সমান অধিকারের নামে কুরআনের বিপক্ষে অবস্থান করে উত্তরাধিকার আইন পাস করে দেশের ১৬ কোটি মুসলমানের হৃদয়ে আঘাত হেনেছে। কুরআন ও হাদীসের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে এদেশে কেউ ক্ষমতায় থাকতে পারেনি বর্তমান সরকারও তার ব্যতিক্রম হবে না ইনশাআল্লাহ। মুসলিম দেশে আইন ও সংবিধান হবে মুসলমানদের কল্যাণে, কুরআন-হাদীস অনুসারে। বাংলাদেশের মতো বৃহত্তর মুসলিম দেশের ক্ষমতায় বসে কুরআন-হাদীস বিরোধী আইন পাস করে স্বয়ং মুসলমানদের সরকার বলে দাবি করবে তা হতে পারে না। বর্তমান সরকার বিগত আমলে ফতোয়া বন্ধ করার কথা বলেছিল। যার ভয়াবহ পরিণতির কথা হয়ত তারা ভুলে গিয়েছে। বর্তমানেও ফতোয়া বন্ধ করার কথা আসছে। কুরআন-হাদীস ও ফতোয়া বিরোধী কোনো পদক্ষেপ সহ্য করা হবে না।
সম্মিলিত কওমী মাদরাসা শিক্ষাবোর্ড বাংলাদেশের নেতৃবৃন্দ আল্লামা সুলতান যওক নদভী, আল্লামা মুফতি আব্দুল হালীম বোখারী, আল্লামা শাহ মোহাম্মদ তৈয়ব, আল্লামা রুহুল আমীন, আল্লামা আব্দুল বাসেত বরকতপুরী, আল্লামা হারুন চৌধুরী, মাওলানা আব্দুল হক হক্কানী, মুফতি মিযানুরর রহমান প্রমুখ এক যুক্ত বিবৃতিতে কুরআন বিরোধী নারী উত্তরাধিকার আইন পাসে সরকারের নিন্দা জানিয়ে উপরোক্ত কথাগুলো বলেন।
বেফাক
জাতীয় শিক্ষানীতি সংশোধন, ফতোয়া বিরোধী রায় বাতিল, নারী উন্নয়ন নীতিমালা প্রত্যাখ্যানের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিলের আয়োজন করেছে বাংলাদেশ কওমী মাদরাসা শিক্ষাবোর্ড বেফাক। ১১ মার্চ শুক্রবার সকাল ১০টায় ঢাকার মুক্তাঙ্গনে এ বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হবে। বেফাকের সহসভাপতি আশরাফ আলী, মহাসচিব মাওলানা আব্দুল জববারসহ দেশের শীর্ষ আলেম-ওলামা ও জাতীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত থাকবেন। নেতৃবৃন্দের অভিমত সরকার সমূলে দেশ থেকে কুরআন, সুন্নাহ নির্বাসন দিতে চায়।
©somewhere in net ltd.