নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

মানুষ আমি আমার কেন পাখির মত মন ........

রোকসানা ইসমাইল

বর্তমানে রঙের অভাবে সাদাকালো জীবন কাটাচ্ছি, রঙ চাই, প্রচুর রঙ চাই। ভালোবাসি পড়তে, আড্ডা দিতে, অকাজের কাজ করতে।

রোকসানা ইসমাইল › বিস্তারিত পোস্টঃ

আম্মা অথবা মা, সবাইকে মা দিবসের অনেক অনেক শুভেচ্ছা

১১ ই মে, ২০১৩ রাত ১১:৩৩

কাহিনী ১:

বিকেলের চা টা সাধারণত আমিই বানাই। সব একসাথে দিয়ে আচ্ছামতো জ্বাল দিতে থাকি :D কিন্তু ইদানিং আমি বাসার অন্য কাজে (!!!) বেশি ব্যস্ত থাকায় আম্মাই চা বানায়। চা হওয়ার আগেই কাপ রেডি করা হয় চা ঢালার জন্য। ৫ টা কাপ, আমরা ৩ বোন, মাহিন আর আম্মার জন্য। আম্মার ডায়বেটিস আছে তাই চায়ে আমরাও কম চিনি খাই। মাহিনের জন্য আলাদা চিনি দিতে হয়। বেশিরভাগ সময়, আমার মাহিনের কাপে চিনি দিতে মনে থাকে না। মাহিন খুব চিল্লায়, তখন তাড়াহুড়া করে দিই। আম্মা মাঝে মাঝে বকে প্রতিদিন কেন একই ভুল করি :P

সেদিন বিকেলে আম্মা চা বানাচ্ছে। আমি আম্মাকে কি যেন বলতে রান্নাঘরে গেছি, দেখি আম্মা কাপ রেডি করছে। আমাকে বললো চা টা যেন ঢালি, আম্মার নামাজের সময় হয়ছে। সবার কাপ মগ আলাদা আলাদা। চা ঢালছি, দেখি মাহিনের কাপে সাদা কি যেন চকচক করছে, ভালোমতো তাকিয়ে দেখি চিনি। অদ্ভুত লাগলো ব্যাপারটা।

আর এজন্যই হয়তো আম্মার কখনোই ভুল হয় না অথবা আম্মা, একজন আম্মা বলে তার ভুল হয় না ......



কাহিনী ২:

আম্মাকে সামনে রেখে আমি কখনোই কিছু রান্না করি না। কারন আম্মা খুবই প্যারা দেয় তেল মসলাপাতি নিয়ে। এতো মসলা নাকি রাজার বাবুর্চিও দেয় না, ব্লা ব্লা ব্লা আরো অনেক কিছু। এবং বেশিরভাগ সময় আমাকে তার কথামতো না চালাতে পেরে হুমকি দিয়ে যায়, “এইসব অস্বাস্থ্যকর খাবার আমি খাবো না” ......... এবং পরে হুমকি ভুলে গিয়ে ঠিকই খায় তবে একটু সাধাসাধি করতে হয়, এই যা !! সেদিন আমি বিকেলের নাস্তা বানাচ্ছিলাম। কড়াইতে তেল পেয়াজ ঢেলে খুন্তি দিয়ে নাড়াচাড়া করছি, এমন সময় আম্মা চা বসাতে আসলো পাশের চুলায়। আমি আম্মার পাশে দাঁড়িয়ে মসলা দিচ্ছি আর দেখছি আম্মা কিছু বলে কিনা। আমার খেয়ালই নেই যে খুন্তি কড়াইতে রাখা। সব মসলা দেয়া শেষে যখন খুন্তি দিয়ে নাড়া দেওয়ার জন্য খুন্তি হাতে নিয়েছি, ব্যাস সাথে সাথে হাতে প্রচন্ড গরম ছ্যাক লাগায় হাত সরিয়ে নিতে নিতে দেখি খুন্তি নিচে পড়ছে। আমি আর আম্মা দুজনেই দুদিকে ২ লাফ দিলাম। আম্মার পেছনে দেয়াল থাকায় আম্মা বেশিদূর যেতে পারলো না। খুন্তি নিচে পড়ে সাথে লাগানো গরম তেল পেয়াজ আম্মার পায়ে পড়লো। আম্মা উহ উহ করে আরো ২ টা লাফ দিলো। আমার যে কি হলো বুঝলামই না !! আম্মাকে না ধরে মাথা নিচু করে শরীর কাপিয়ে হাসছি, আম্মা মাথা তুলে সেটা দেখতে পেল। হঠাৎ রাগ করেই আমাকে পিঠে দিলো দুম দুম করে দিলো ২ ৩ টা কিল। আমার তাও হাসি থামে না। হাসতে হাসতেই বললাম পানি দিতে, টুথপেষ্ট লাগিয়ে দিলাম পায়ে। আম্মা গজগজ করতে করতে চা খেয়ে হাটতে চলে গেল।

সুমিকে চা দেয়ার সময় বলল, মাইর কেমন খাইলি ?? আমিও হাসতে হাসতে বললাম, হেব্বি !! এক সপ্তাহ ব্যাথা থাকবো :D

রাতে খাওয়া দাওয়া শেষ, আম্মা সব গুছিয়ে ঘুমাতে চলে গেছে। আমিও আপনমনে পিসিতে গেমস খেলছি। হঠাৎ পিছনে শব্দ শুনে দেখি আম্মা। মশার ব্যাট নিতে এসে আমার খেলা দেখছে। একটু পর বুঝলাম আমার পিঠ ঘেষে দাঁড়িয়ে আছে। পিঠে বিকেলে যেখানে মেরেছে সেখানে হাত বুলিয়ে দিচ্ছে। আমি লজ্জায় পিছন ফিরে তাকাতে পারলাম না। বললাম, ডিসটার্ব দিতাছো, ঘুমাইতে যাও !!

আম্মা চলে গেল। আমি জানি এখন তার অনেক ভালো ঘুম হবে :)





আম্মা, তুমি সারাদিন কানের সামনে প্যা প্যা করো না ভালোবাসি ভালোবাসি বলে তারপরও তোমার সব কাজকর্মে, বকায়, মাইরে, রাগ করায় আমি বুঝি তুমি আমাদের কত ভালোবাসো। তোমাকে আম্মা দিবসের আম্মীয় শুভেচ্ছা।

মা দিবসে সকল “মা” কে শুভেচ্ছা।

মন্তব্য ৬ টি রেটিং +২/-০

মন্তব্য (৬) মন্তব্য লিখুন

১| ১১ ই মে, ২০১৩ রাত ১১:৫৩

খেয়া ঘাট বলেছেন: পৃথিবীর সব মায়েরা ভাল থাকুক, সন্তানদের নিয়ে সুখে থাকুক।

১৬ ই মে, ২০১৩ বিকাল ৪:৫২

রোকসানা ইসমাইল বলেছেন: পৃথিবীর সব মায়েরা ভাল থাকুক, সন্তানদের নিয়ে সুখে থাকুক।
ধন্যবাদ :)

২| ১২ ই মে, ২০১৩ রাত ১২:৩৭

নুসরাতসুলতানা বলেছেন: মা দিবসে সকল “মা” কে শুভেচ্ছা।

১৬ ই মে, ২০১৩ বিকাল ৪:৫৪

রোকসানা ইসমাইল বলেছেন: পৃথিবীর সব মায়েরা ভাল থাকুক, সন্তানদের নিয়ে সুখে থাকুক।
ধন্যবাদ :)

৩| ১২ ই মে, ২০১৩ সকাল ৯:২৫

ইমরাজ কবির মুন বলেছেন:
:)

১৬ ই মে, ২০১৩ বিকাল ৪:৫৬

রোকসানা ইসমাইল বলেছেন: :) :D

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.