| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
অন্ধকার জগৎটা বড়ই অদ্ভুত। অতীত,বর্তমান,ভবিষ্যত এই অন্ধকারেই মিশে আছে। চিন্তাগুলো সব জট পাকানোর আগে একটা একটা করে ভেবে যায়।
হায়রে বাপ-মা ! একটু বড় হওয়ার পর জানলাম তাদের নাকি love marriage ছিল। ৬ বছরের খাটি প্রেম। বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় দুজনের পালিয়ে বিয়ে করা। কি নিখুঁত খাটি প্রেম ! বিয়ের ৩ বছরের মাথায় আমার জন্ম। ভালই খুশি হল দুজন। কিন্তু কয়েকবছর যেতে না যেতে আব্বাজান টাকা কামানোর ধান্ধায় ব্যস্ত হয়ে পড়ল। আর আমার কথিত আম্মাজান Mrs. Chadni পরকীয়া প্রেমে জড়িয়ে পড়ল, তা ও আবার তার চেয়ে ৩ বছরের ছোট এক ছেলের। ঘটনা জানাজানি হতে আর কতদিন ! ঝগড়া-ঝাটি,মাইর-থাপ্পড় আর অবশেষে আমার ৪ বছর হতে না হতে তাদের Divorce। কিন্তু বাচ্চাটা কে নিবে ? বাপ-মা কেউ-ই নিতে রাজি হল না। ছিড়ে ফেল দিল আমায়। আচ্ছা বাংলাদেশের মত দেশে আজ থেকে ২২ বছর আগে কয়টা-ই Divorce হত। আর Divorce হলে ও কি আমার বাপ-মায়েরই Divorce হওয়ার দরকার ছিল? আর আমার বাপ-মায়েরও কি আমার উপর দিয়ে ছুড়ি চালানোর দরকার ছিল ? ২ জনের মুখের উপর বলতে ইচ্ছে করে - "তোরা প্রেম করছিলি কোন দুঃখে ? প্রেম করছস্ তো করছস্ কিন্তু বিয়ে করেছিলি কোন দুঃখে ? যখন বাচ্চাটা পেট এ আসল তখন abortion করালি না কেন? abortion করালি না - বুজলাম তোরা abortion এর কথা ভাবসনি কিন্তু পৃথিবীর আলো দেখার সাথে সাথে মেরে ফেললি না কেন? "
নানী কে অনেক শ্রদ্ধা করতাম।আমার পড়ালেখা,খানাদানা সব ওনার টাকা থেকেই পাওয়া। বোর্ডিং স্কুল এ ছিলাম। ঈদ এর ছুটি,পূজার ছুটি – সব ছুটি তে বছরের ১২ মাস স্কুলের বন্ধী জীবনে আটকে থাকা। স্কুল-কলেজের অধ্যায় শেষ হতে না হতেই ভর্তি করিয়ে দেওয়া হলো Soldier বানানোর ট্রেইনিইং এ । কখনোই ইচ্ছে ছিল না আর্মি তে যোগদান করার – এই রাস্তা আমার জন্য না। আমি ভালবাসি লেখালেখি করা,আমি ভালবাসি কাগজ-কলম,বন্দুক এর জীবন নয় কিংবা ছকে আটকে থাকা জীবন নয়। কিন্তু কে বুঝাই কারে ! বন্ধ হয়ে গেল লেখালেখি করা। Soldier বানানোর ট্রেইনিং এ লেখালেখি চালিয়ে যাওয়া suicide attempt এর চেয়ে কম কিছু নয়। কিছুক্ষণ আগে ভাবছিলাম – আর্মি এর জীবন আমার জীবন নয়। আরে,তখন তো ভুলেই গিয়েছিলাম – এই জীবন যে আমার কখনোই ছিল না।
কিন্তু নানীর আমায় Soldier বানানোর কৌশল বিফলে গেল। ট্রেইনিং এর শেষ পর্যায়ে এসে ইচ্ছে করে এক মেজর কে থাপ্পড় দিই। বের করে দেওয়া হল ক্যাম্প থেকে। আমার মতে- আমার জীবনের একটা মহৎ কাজ ছিল ওই থাপ্পর দেওয়াটা। গিয়ে উঠলাম এক বন্ধুর বাড়িতে।পরের দিন তাদের বাসায় একটা খুব সুন্দর মেয়ে বেড়াতে আসে। নাম রিহা। পরে জানতে পারলাম রিহা মাহতাবের মামাতো বোন।পরের ২ সপ্তাহ রিহা ঘন ঘন মাহতাবদের বাসায় আস্তে থাকে।মেয়েদের প্রতি কখনোই দুর্বলতা ছিল না আমার - রিহার প্রতি ও ছিল না। রিহার আমার প্রতি দুর্বলতা বুঝতে পেরে আমি মাহতাবের বাসা থেকে উধাও হয়ে যায়।মাহতাবের সাথে পরে দেখা হলে সে জানায় - রিহা আমাকে পাগলের মত পছন্দ করে। সে রিহার অনেকগুলো চিঠি আমাকে দিল। কিন্তু তাতে আমার কি!!! তবে সমস্যা হল অন্য জায়গায়- কাউকে তালি বাজাতে দেখলে নিজের ও তালি বাজাতে ইচ্ছে করে। রিহার আমাকে পাওয়ার প্রতি আপ্রাণ চেষ্টা দেখে না ভালোবেসে পারলাম না। পরিবর্তন শুরু হয়ে গেল। লেখালেখি শুরু,স্বপ্ন দেখা শুরু। কিছু সময় পার হল। কিন্তু কোথায় কি ? সব শুরুতে শেষ হয়ে গেল। বিয়ে হয়ে গেল ওই মেয়ের। মাহতাব এর সাথে দেখা হয়ে মাহতাব বলে “তোদের দুজনের বিয়ে কখনোই সম্ভব হত না”। আমি বলি “তুই কে? তুই কি খোদা না ভবিষ্যতবক্তা ?” আর রিহা কে বলে দিস “কাউ কে ভালোবাসা পাপ না কিন্তু ভালোবেসে না পাওয়াটা একটা অভিশাপ যা সারাজীবন বয়ে বেড়াতে হয়”। এটা ও বলে দিস - রবীন্দ্রনাথের “শেষের কবিতা” -টা যেন একবার পড়ে।
অনেক বছর হয়ে গেল। আমি আজ ও জানিনা কেন আমি মাহতাব কে বলেছিলাম রিহা যেন শেষের কবিতা পড়ে। হয়তো “শেষ” শব্দটা তখন মাথার ভিতরে পোকার মত খাচ্ছিলো । যা কিছু ঘটে তা কোনো কারণেই ঘটে – Everything has a plan . কিন্তু কারণটা কিংবা কারণগুলো এখনো উদ্ধার করতে পারিনি। আরে আমি তো ভুলেই গিয়েছি যে - এই জীবন আমার নয়,এই জীবন যে আমার কখনোই ছিল না।
২৯ শে জুন, ২০১৩ বিকাল ৪:২০
সাদি জিহান বলেছেন: ধন্যবাদ । আর কোন পোস্ট নাই, ব্লগ তো লিখা শুরু করলাম মাত্র ।
২|
২৯ শে জুন, ২০১৩ বিকাল ৩:৩৮
সাকিব শাহরিয়ার বলেছেন: ভাল হয়েছে।
৩|
২৯ শে জুন, ২০১৩ বিকাল ৩:৩৯
ছাসা ডোনার বলেছেন: আপনি কি আফসোস করতেছেন?
২৯ শে জুন, ২০১৩ বিকাল ৪:৩৯
সাদি জিহান বলেছেন: নিজের সাথে এরকম হলে হয়তো আফসোস করতাম।
৪|
২৯ শে জুন, ২০১৩ বিকাল ৩:৪৭
টুম্পা মনি বলেছেন: গল্পটা মনে দাগ কাটল। কাহিনীটা অন্যরকম।
৫|
২৯ শে জুন, ২০১৩ বিকাল ৩:৫২
রুপম হাছান বলেছেন: বাস্তবতাকে কেউ উপহাস করেনা বরং আমরা বাস্তবতা ভুলে যাই খুব সহজেই। আপনার এই সাবলীল লেখাটা পড়ে মনে দাগ কাটল। সত্যির সাথে অনেক বেশি মিল আপনার এই লেখা। ধন্যবাদ আপনাকে।
২৯ শে জুন, ২০১৩ বিকাল ৪:৪৩
সাদি জিহান বলেছেন: আপনি ঠিক ধরেছেন। আমরা আসলে বাস্তবতা ভুলে যাই খুব সহজে।
৬|
২৯ শে জুন, ২০১৩ বিকাল ৪:৪৯
সপ্নাতুর আহসান বলেছেন: যা কিছু ঘটে তা কোনো কারণেই ঘটে – Everything has a plan . কিন্তু কারণটা কিংবা কারণগুলো এখনো উদ্ধার করতে পারিনি।
শুরু ভাল হয়েছে। ১ বছর ৭ মাস, পোস্ট মাত্র ১টি। কারণ কি? অন্য কোন আইডি আছে? অথবা অন্য ব্লগে লিখেন?
৩০ শে জুন, ২০১৩ রাত ১:২২
সাদি জিহান বলেছেন: অন্য আইডি নেই,অন্য কোনো ব্লগে লিখিও না। আসলে অনেক আগে এখানে অ্যাকাউন্ট খোলা হলেও পোস্ট দেওয়া হয়নি। কিন্তু আশা করি এখন থেকে মাঝে মাঝে পোস্ট দিতে পারব।
৭|
২৯ শে জুন, ২০১৩ বিকাল ৪:৫৭
গৃহ বন্দিনী বলেছেন: এত সহজে এত কঠিন কথা গুলো বলে ফেললেন !!!!!!! গল্পের মত মনে হচ্ছে ।
অন্ধকার জগত নিয়ে আরো কিছু লিখুন দয়া করে,আমারা পড়ে সেখান থেকে আলোর মর্ম উদ্ধার করতে পারি যেন ।
৮|
২৯ শে জুন, ২০১৩ সন্ধ্যা ৬:৩২
ইরফান আহমেদ বর্ষণ বলেছেন:
![]()
কিছুই বলার নাই........
©somewhere in net ltd.
১|
২৯ শে জুন, ২০১৩ বিকাল ৩:৩৬
মাথাল বলেছেন: ভাল লিখেছেন, আপনার আর পোস্ট কই?