![]() |
![]() |
নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
জীবন জুড়ে থাকা পরাজয়, হয়েছে ম্লান চিরকাল!
আমাদের দেশে বুদ্ধিজীবি হতে হলে চমৎকার একটা প্রসেসের মধ্যে দিয়ে যেতে হয়।
বুদ্ধিজীবি হওয়ার সবচেয়ে প্রাথমিক ধাপ হচ্ছে তথাকথিত অসাম্প্রদায়িক হওয়া। আর মজার ব্যাপার হচ্ছে এইখানে অসাম্প্রদায়ীকতা বলতে অবশ্যই ইসলামের অনুশাসন এবং ইসলামী মূল্যবোধ-এর বিপক্ষে কথা বলতে হবে- হিন্দু, খ্রীস্টান বা বৌদ্ধ ধর্মের কোন সমালোচনা করা যাবে না।
কোন জায়গায় ভিন্ন ধর্মের মানুষ মারা গেলে একটি জ্বালাময়ী বক্তব্যদিয়ে নিজেকে অসাম্প্রদায়িক প্রমাণ করতে হবে! নিজ ধর্ম ব্যাতীত অন্যসকল ধর্মের আচার-অনুষ্ঠানে নিজেকে হাজির করে, হাস্যোজ্জল ছবি দিয়ে নিজেকে অসাম্প্রদায়িক প্রমাণ করতে হবে।
আমাদের বুদ্ধিজীবিরা এতো চমৎকার ও নিরপেক্ষ হয়ে থাকেন যে ফিলিস্তিন, আফগানিস্তান কিংবা সিরিয়াতে প্রতিদিন হাজার হাজার বেসামরিক মানুষের হত্যা নিয়ে কোন প্রকার মুখনিঃসৃত বাণী পাওয়া যায়না তাদের কাছ থেকে, অথচ ইউরোপ, আম্রিকাতে একটি মানুষের অকাল মৃত্য তাদেরকে খুব করে ভাবায়, খুব করে কাঁদায়।
তাদের ধারনা ইসলামকে ধারন করে কিংবা নিজ ধর্মকে অক্ষুন্ন রেখে অন্য ধর্মের মানুষের জন্য কাজ করাকে 'বুদ্ধিজীবি বোদ্ধা' বলে না, এভাবে প্রগতীশীল হওয়া যায় না!
আমাদের বুদ্ধিজীবিরা যখন এই 'ইসলাম বিরোধী' পরীক্ষায় পাশ করে তাদেরকে তখন একজন রাজনৈতিক বিশ্লেষক হিসেবে প্রমাণ করা লাগে। বুদ্ধিজীবি হওয়ার এই ধাপটাতে তাদেরকে একজন 'মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি'র বলে প্রমাণ করতে হয়।
তা প্রমাণ করতে গিয়ে নিজেকে একজন আওয়ামী লীগ এর ঘোরতর সাপোর্টার ও কথায় কথায় মুক্তিযুদ্ধের চেতনার কথা বলে মুখে ফেনা তুলে ফেলতে হয়।
অথচ মুক্তিযুদ্ধের চেতনা যে একটি গণতান্ত্রীক ভোট দানে রাজনৈতিক সরকার গঠন- কেউ একথা বলে না।
মুক্তিযুদ্ধের চেতনা যে ইউপি নির্বাচনে শ'খানেক মানুষ মারা না যাওয়া- একথা কেউ বলেনা।
মুক্তিযুদ্ধের চেতনা যে ছাত্রলীগের চমৎকার রাজনৈতিক আদর্শ যা আজ শুধু কাগজে কলমে লিখা আছে , প্র্যাক্টিসে নেই- এ কথা কেউ বলেনা!
আমাদের বুদ্ধিজীবিদের আলোচনার বিষয় শুধু 'ইসলাম কি ভাবে নারীদের অধিকার কেড়ে নিয়েছে’, কেনো সংবিধান থেকে রাষ্ট্রধর্ম হিসেবে ’ইসলাম’ এবং ’বিসমিল্লাহ’ ডিলিট করা একান্তই অপরিহার্য, 'ডঃ ইউনুস-এর নোবেল পুরুষ্কার পাওয়া কেনো উচিত হয় নি, কিংবা ’শান্তি’-তে শেখ হাসিনার নোবেল পুরুষ্কার পাওয়ার চুড়ান্ত যোগ্যতা থাকার যুক্তি- এই সব নিয়ে কথা বলতে বলতে আমাদের ’বুদ্ধিজীবি’দের মুখের থুথুতে সামনের সবকিছু ভিজে যায়।
আমাদের এই তথাকথিত বুদ্ধিজীবি ও প্রগতীশীলদের চমৎকার ভাবে সংজ্ঞায়িত করেছেন আহমেদ ছফা। তার মতে-
'' আমাদের দেশে যারা মৌলবাদী তারা শতকরা একশো ভাগ মৌলবাদী। কিন্তু যারা প্রগতিশীল বলে দাবী করে থকেন তাদের কেউ কেউ দশ ভাগ প্রগতিশীল, পঞ্চাশ ভাগ সুবিধাবাদী, পনেরো ভাগ কাপুরুষ, পাঁচ ভাগ একেবারে জড়বুদ্ধিসম্পন্ন''!
এই জ্ঞ্যানপাপী বুদ্ধিজীবি আর প্রগতীশলরা যখন আমাদের আদর্শ হয়ে দেশকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন কিংবা প্রতিদিন টিভি খুলেই জাতী তাদেরকে দেখছে আর তাদের থেকে শিখছে তবে দেশ কোন দিকে যাবে তাতো বলাই বাহুল্য!
আমাদের এই যে অবক্ষয়, মূল্যবোধের হাহাকার এসব দেখলে মাঝে মধ্যে মনেহয়- আমরা আসলে ঠিক পথেই আছেই...আমাদের দেশে এমনি হওয়ার কথা ছিলো!
২০ শে জুন, ২০১৭ বিকাল ৩:৩৭
আহমেদ সাঈফ মুনতাসীর বলেছেন: আমি শিক্ষিতদের উপর অসন্তুষ্ট না, আমি তাদের উপর অস্তুষ্ট যারা 'চেতনার ব্যবসা' করে জীবীকা টিকিয়ে রাখছে! তাদেরকে আমি 'বুদ্ধিজীবী' বলছি!
২| ২০ শে জুন, ২০১৭ বিকাল ৩:২৮
চাঁদগাজী বলেছেন:
" বুদ্ধিজীবি হওয়ার এই ধাপটাতে তাদেরকে একজন 'মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি'র বলে প্রমাণ করতে হয়। "
-১৯৭১ সালে পাকীদের আক্রমনের বিপক্ষে অস্ত্র ধরাকে কি অন্যায় মনে করেন?
২০ শে জুন, ২০১৭ বিকাল ৩:৩১
আহমেদ সাঈফ মুনতাসীর বলেছেন: পাকিস্তানীদের বিপক্ষে প্রকৃতই অস্ত্র যারা ধরেছে তাদেরকে তো মুখে ফেনা তুলতে দেখিনা!
আমার মতে 'মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি'র বলে প্রমাণ করার চেয়ে, 'ধারন' করাটা গুরুত্ব।
সেটা তার চলনে-বলনে- আচরণে.।
৩| ২০ শে জুন, ২০১৭ বিকাল ৩:৩০
চাঁদগাজী বলেছেন:
"বুদ্ধিজীবি হওয়ার এই ধাপটাতে তাদেরকে একজন 'মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি'র বলে প্রমাণ করতে হয়। "
-যাঁরা মুক্তিযুদ্ধ করেছেন, তাঁদের সম্পর্কে আপনার মতামত কি?
২০ শে জুন, ২০১৭ বিকাল ৩:৩৫
আহমেদ সাঈফ মুনতাসীর বলেছেন: আমি আগের কমেন্টে বলেছি, এখানে প্রমাণের চেয়ে 'ধারন' করাটা গুরুত্বপূর্ন।
যারা মুক্তিযুদ্ধ করেছেন তাদের ব্যাপারে আমার মতামত স্পষ্ট। তারা জাতীর শ্রেষ্ঠ সন্তান। আমার রাজনৈতিক চেতনা হচ্ছে- আমি নিরপেক্ষ নয়, মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে।
আর আমি সেটাকে ধারণ করি। আমার চলনে-বলনে-আচরনে সেটাকে প্রকাশ করি!
৪| ২০ শে জুন, ২০১৭ বিকাল ৫:৪৩
লর্ড অফ দ্য ফ্লাইস বলেছেন: গাজি মিয়া, চেতনার কথা বলে মুখে ফেনা তোলা বুদ্ধিজীবীদের অনেকেই একাত্তরে ধামরা যুবক হওয়া সত্ত্বেও যুদ্ধে যাননি। কয়েকজন তো লাহোরে পাকপন্থী আত্মীয়দের বাড়িতেই আশ্রয় নিয়েছিলেন। এখনো তারা দেশ নিয়ে বড় বড় বুলি ছেড়ে ঈদের ছুটিতে করাচী যান।
৫| ২০ শে জুন, ২০১৭ বিকাল ৫:৪৮
নতুন বলেছেন: বুদ্ধিজীবি হবেন 'বুদ্ধিজীবী'?
কোন কারনে হয়তো আপনি কোন বুদ্ধিজীবির উপরে অসন্তুস্ট কিন্তু তার মানে এই না সবাই খারাপ।
আমাদের বুদ্ধিজীবিরা এতো চমৎকার ও নিরপেক্ষ হয়ে থাকেন যে ফিলিস্তিন, আফগানিস্তান কিংবা সিরিয়াতে প্রতিদিন হাজার হাজার বেসামরিক মানুষের হত্যা নিয়ে কোন প্রকার মুখনিঃসৃত বাণী পাওয়া যায়না তাদের কাছ থেকে, অথচ ইউরোপ, আম্রিকাতে একটি মানুষের অকাল মৃত্য তাদেরকে খুব করে ভাবায়, খুব করে কাঁদায়।
সবাইকে সব বিষয়ে লিখতে হবে??? আপনার যেই বিষয়ে বলতে ইচ্ছে হবে তা নিয়ে আপনি বলবেন।
আপনি আপনার ২৮টা পোস্টে ফিলিস্তিন, আফগানিস্তান কিংবা সিরিয়াকে নিয়ে কয়টি বানী দিয়েছেন??
আমাদের বুদ্ধিজীবিদের আলোচনার বিষয় শুধু 'ইসলাম কি ভাবে নারীদের অধিকার কেড়ে নিয়েছে’, কেনো সংবিধান থেকে রাষ্ট্রধর্ম হিসেবে ’ইসলাম’ এবং ’বিসমিল্লাহ’ ডিলিট করা একান্তই অপরিহার্য, 'ডঃ ইউনুস-এর নোবেল পুরুষ্কার পাওয়া কেনো উচিত হয় নি, কিংবা ’শান্তি’-তে শেখ হাসিনার নোবেল পুরুষ্কার পাওয়ার চুড়ান্ত যোগ্যতা থাকার যুক্তি- এই সব নিয়ে কথা বলতে বলতে আমাদের ’বুদ্ধিজীবি’দের মুখের থুথুতে সামনের সবকিছু ভিজে যায়।
হুম কিছু লোক আছে যারা চাটুকারী করে সরকারের আর বিত`তিক হতে চায় যাতে লাইম লাইটে থাকা যায়। এরা ভন্ড... এরা জ্ঞানী না। টিভি/মিডিয়াতে দৌড়া দৌড়ি করে করে কেটে খায় আরকি।
এদের জন্য সবাইকে এক ভাবে মাপা ঠিক না।
২৪ শে জুন, ২০১৭ সকাল ১১:৩৭
আহমেদ সাঈফ মুনতাসীর বলেছেন: সবাইকে সব টপিক নিয়ে কথা বলতে বলছি না, কিন্তু যারা কথা বলে তাদের সমালোচনা করতেও বাঁধে না তাদের!
৬| ২১ শে জুন, ২০১৭ রাত ১২:৪২
রায়হানুল এফ রাজ বলেছেন: সহমত।
©somewhere in net ltd.
১|
২০ শে জুন, ২০১৭ বিকাল ৩:২৭
চাঁদগাজী বলেছেন:
আপনি কোন কারণে শিক্ষিতদের উপর অসন্তুস্ট; আপনি চান মানুষ পড়ালেখা না করুক?