নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

কারো মুখ দেখে নয়, আমরা কথা বলি মানুষের চোখে চোখ রেখে, আত্মার গভীরে ডুব দিয়ে, সূর্যের বুকে হাত আর জ্বলন্ত অগ্নিকুণ্ডে পা রেখে! সত্য উচ্চারণে তাই আমাদের কোনই বাঁধা নেই। আমাদের আত্মা সত্য গ্রহণে চির উন্মুক্ত, উদার ও অবারিত।আমরা কারো তত্ত্বে স্থবির হইনা, সদা

সাকিব শামি

সাকিব শামি › বিস্তারিত পোস্টঃ

কক্ষচ্যূত সমাজ : ঘনীভূত মানবিক সঙ্কট

২৯ শে জানুয়ারি, ২০১৫ বিকাল ৫:২১

বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্কট রাজনৈতিক অচলায়তন ও অর্থনৈতিক স্থবিরতাকে ছাড়িয়ে সর্বগ্রাসী রূপ লাভ করেছে ইতিমধ্যেই। প্রায় এক দশক ধরে জমতে থাকা মেঘ ঢেকে নিয়েছে বাঙালির জাতিসত্ত্বার সবটুকু। রুগ্ন হতে হতে লীন হয়ে যাচ্ছে আমাদের সামাজিক দায়বোধ, মানবিক মূল্যবোধ। রাজনৈতিক-অর্থনৈতিক-সামাজিক; সভ্য মানবজীবনের তিনটি মৌলিক মাত্রাই এখানে সঙ্কটাপন্ন। ফলে আর কোন কিছুই যে ঠিক থাকবেনা তার প্রমাণ আমরা বারবার পাচ্ছি। পেট্রল দিয়ে মানুষ পোড়ানো, জ্বালানি তেলে বনজঙ্গল-নদী-মাঠ ভাসানো, কারখানার খাঁচার ভেতর শ্রমিকের জীবন্ত দগ্ধ হওয়া বা ভঙ্গুর অট্টালিকার তলে ছিন্নভিন্ন হয়ে যাওয়া; এ সব একই উৎসের উপাদান, একই রোগের উপসর্গ। আবার অপরাধীর দায়মুক্তি, ঋণখেলাপির পৃষ্ঠপোষকতা, আর নিরহ নাগরিকজীবনের নিরাপত্তাবলয় সঙ্কোচন সমস্যার আরো গভীর হতে উৎসারিত। লোক দেখানো গণতন্ত্রও এখানে অনুপস্থিত। সংবিধান শুধুই ইতিহাস। রাষ্ট্রযন্ত্রের হাত-পা-আঙুল আক্ষরিক অর্থেই শুধু ক্ষমতাদর্পীর পদসেবায় নিয়োজিত। এসবের সমাজতাত্ত্বিক বা রাজনৈতিক বিচার-বিশ্লেষণ হতে পারে পদ্ধতিগত ভাবেই, যা আমাদের দীর্ঘ পথযাত্রায় অপরিহার্য পাথেয় হবে আশাকরি, সেই সাথে হবে মূল্যবান ঐতিহাসিক দলিল। তবে একটা নিষ্ঠুর বাস্তবতা হলো আমরা আসলে সেই সব স্বাভাবিক কার্যক্রম থেকে অনেক দূরে ছিটকে পড়েছি। আত্মকেন্দ্রিকতার ভুত চেপে বসেছে আমাদের জাতীয় মানসে। বাঙালির উন্নত সভ্যতার দীর্ঘ ও স্বতন্ত্র্য ঐতিহ্য থাকা সত্ত্বেও “মুহূর্তে বাঁচা”ই এখন একমাত্র আদর্শ-দর্শন-বিশ্বাস। এই দর্শন কাজে দিচ্ছে কিনা সেটা মূল্যায়ন করে অপচয় করার মতো সময় আর আমাদের হাতে অবশিষ্ট নেই, স্বার্থচিন্তা অধিকার করে নিয়েছে সবটুকু। বস্তুতঃ ছিদ্রপাত্রে অবিরাম জল ঢালার মতো আত্মবিস্মৃত কাজই আমরা করে চলেছি। আমরা যখন সমাজবিমুখ হই নিজ নিজ স্বার্থ সংহত করতে, এড়িয়ে যেতে চেষ্টা করি সামাজিক-মানবিক দায়বোধ, ঠিক তখন ব্যক্তির অস্তিত্তের সহগ; সামাজিক অস্তিত্তের কথা ভুলে যাই বেমালুম। এই ছিদ্র পথেই বিফলে যায় আমাদের আপনমনে ‘নিজে’ ভালোথাকার সব প্রচেষ্টা। সমাজ-রাষ্ট্রে জ্বলতে থাকা আগুনের লেলিহান শিখা ব্যক্তিকে ছাড় দিবে কোন খাতিরে?
জগতে রাত-দিনের ক্রমাবর্তন আর পূর্ণ বর্ষের সমাবর্তন দু’টি সন্নিহিত গতির ফলে রূপায়িত হয়। নিজ অক্ষে আবর্তন ও আপন কক্ষপথে প্রদক্ষিণ প্রক্রিয়া, স্বরূপ ও প্রভাব ভিন্ন ভিন্ন হলেও তারা পথচলে যৌথ ভাবে। এদের চরিত্রই এমন, একটা অভিকর্ষ বলয়ে যূথবদ্ধ। বস্তুগত ভাবে স্বতন্ত্র্য হয়েও অস্তিত্বে একাকার। মানুষের অস্তিত্বও এমন। ব্যক্তি ও সমাজ একটা অভিকর্ষ বলয়ে আবর্তিত, পারষ্পরিক নির্ভরশীলতা যেখানে অনিবার্য। দূষিত জলাশয়ে মাছের যা হয়, বিভ্রান্ত সমাজে নাগরিকেরও তাই হয়। মৎস্যন্যায় তাই সমকালেও অপ্রাসঙ্গিক নয়। “সামাজিক চুক্তি” তত্ত্বের পেছনে আরও কিছু পথ এগিয়ে ভাবলে ‘মানুষের সামাজিক অস্তিত্ব’র এরকমই একটি চিত্র ফুটে উঠে। “চুক্তি” আসলে একটা নিরেট তাত্ত্বিক বিষয়। মানুষ জন্মে একলা, বেড়ে উঠে সমাজে। যেহেতু ব্যক্তিকে সমাজেই অবতরণ করতে হয়, ব্যক্তি ও তার সামাজিক অস্তিত্বের মাঝে বস্তুত কোন বিরতি থাকেনা। সামাজিক চুক্তি সংগঠনের জন্য তাই কোন প্রায়োগিক অবসর পাওয়া যায়না। সামাজিক দায়বদ্ধতা এড়ানোর চেষ্টা তাই বৃথা।
ব্যক্তি সত্তা আর তার সামাজিক পরিবৃত্তের গতিশীল ধাবমান যে অস্তিত্ব, সেটাকে দীর্ঘ পথপরিক্রমার বৃহৎ প্রেক্ষাপটে একটা যৌথ অভিযাত্রা হিসেবে দেখতে হবে। এটাই মহাকালের চিত্রপটে সতত সম্প্রসারিত বর্ণীল চিত্রকলার কেন্দ্রীয় রেখা। রেখা আসলে একটাই; মানবজীবন। যেখানে ব্যক্তি তার সমাজ থেকে বিযুক্ত হতে পারেনা। চারপাশের ঘটমান বাস্তবতা হতে সর্বোচ্চ উদাসিনতাও নাগরিককে প্রায়োগিক দায়মুক্তি দেয়না। সমাজের কর্তৃত্ব ও ক্ষমতাবান অংশের প্রভাব যেমন জনসাধারণের উপর প্রবল; তেমনি, জনতার নৈতিক অবস্থান, সচেতনতা ও আচরণ গোটা সমাজের গতিপ্রকৃতি নির্ধারণে সমান ভাবে ক্রিয়াশীল।
তবে, পুঁজিবাদের বিকাশকালে স্বভাবতই নাগরিক চরম আত্মকেন্দ্রিকতায় ভোগে, যখন মানবিক অস্তিত্বের কথা গৌণ হয়ে মুখ্য হয়ে উঠে অর্থ-সম্পদ-মুনাফা। অজান্তেই আত্মকেন্দ্রিকতা রূপান্তরিত হয়ে যায় অর্থকেন্দ্রিকতায়। ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র বস্তুগত অর্জন-উপভোগের ব্যঞ্জ্যনায় হারিয়ে যায় অসামান্য মানবিক ঐশ্বর্য। মানুষ তখন বাঁচে আরও একটু ভোগের জন্য, অথবা আজকের দৌড়ে পিছিয়ে কালকের সুযোগের অপেক্ষায়। নিজ অক্ষে নাগরিক আবর্তন এভাবেই বিগ্নিত হয়। মানবজীবন তার স্বাভাবিক গতি হারায়। হয়তো এই বিকাশমান পুঁজিবাদই এদেশে রেখে যাচ্ছে গভীর নৃশংস দাগ।
একটি বিচ্যুত সমাজব্যাবস্থা কীভাবে ব্যক্তি মানুষের ‘নিজ অক্ষে আবর্তন’ নরক যন্ত্রণায় ভ’রে দেয়, তাঁর উৎকৃষ্ট নমুনা হচ্ছে শ্রমিক প্রসঙ্গ। নামমাত্র মূল্যে চুষে নেয়া হয় শ্রমিকের সবটুকু জীবনি শক্তি। উদয়াস্ত খেটে খাওয়া শ্রমিকেরা তাঁর সবটুকু উজাড় করে দিয়েও শতকোটিপতি মালিক, কোটিপতি রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষক, আমলা-প্রশাসকের লোভের আগুন থেকে রেহাই পায়না। মুক্তি মেলেনা বিচ্যুত সমাজের নষ্টচক্রের শোষণ-নিষ্পেষণ থেকে। নিয়োগঠিকাদার-দালাল থেকে মালিক, সবাই একচক্র; আর আমলা-প্রশাসক, জনপ্রতিনিধি-রাজনীতিকমহল নিশ্চিত করে শোষণের প্রযোজ্যতা-বৈধতা।
বাজার-অর্থনীতির ভয়ানক চরিত্র হলো সঙ্কট ও শঙ্কার যুগপৎ প্রাবল্য। উপর থেকে নীচ, সঙ্কট সবখানেই প্রকট হয়ে উঠে। সেই সাথে প্রচণ্ড বেগে ছুটন্ত ধারা থেকে ছিটকে পড়া, অথবা আদৌ নাগাল না পাওয়া, কিংবা পেয়ে হারানোর শঙ্কা লেপ্টে থাকে সংকটের গায়ে। উপরতলার সঙ্কট হলো প্রাচুর্যের। যেখানে পিরামিডের নিচের তবকার বৃহৎ জনসংখ্যা ধুঁকতে থাকে নূন্যতম জীবিকার সংকটে। যার অবধারিত ফল অপরাধ; বাড়তে থাকে ক্রমেই। আবার নিচেরতলার অপরাধ আপাতদৃষ্টে খুবই নৃশংস; পঞ্চাশ বা পাঁচশ টাকায় লাশ ফেলা, অন্ধকার জগতের চক্রে ঢুকে পড়া, কিংবা জীবনযুদ্ধে হেরে গিয়ে সন্তান হত্যা এবং আত্নহত্যা। তবে হাজার অপরাধের উৎস হিসেবে উপরতলার অপরাধই আসলে বেশি নৃশংস। এদের লোভের আগুনেই পুড়ে ছাই হয় নিচেরতলার লক্ষ মানুষ-পরিবার। এরাই কার্যত দাপিয়ে বেড়ায় সর্বক্ষেত্রে, ফলে সমাজ হয় কক্ষচ্যুত।
বস্তুত উপরতলার ব্যক্তি সঙ্কটই পুরো সমাজের কক্ষচ্যুতিতে চালকের ভূমিকা রাখে। আর ঐ বিচ্যুত সমাজ উচ্চবিত্তের সঙ্কটকে জ্যামিতিক হারে বাড়িয়ে চাপিয়ে দেয় জীবন-জীবিকার সংকটে আটকে পড়া খেটে খাওয়া কৃষক-শ্রমিক-মজুরশ্রেণীর কাঁধে। এর মাঝেই বসবাস নির্লজ্জ-বিমুঢ় মধ্যবিত্তশ্রেনীর; শোষিত জনতার দীর্ঘশ্বাস যাদের গায়ে লাগে তবু প্রাণে প’শেনা। অর্জিত বা কল্পিত-আরাধ্য সামাজিক-অর্থনৈতিক ‘অবস্থান’ তাঁদের ভেতরে মানবিক আকুতির পথে দুর্লঙ্ঘ প্রাচীর হয়ে দাঁড়ায়। এদের ভুগতে হয় উভয়বিধ সংকটে; উপরতলায় ওঠার লোভ আবার নীচে ছিটকে পড়ার ভয়। উপরতলার লোকজনের তৈরি করা একটা মেকি আবহে মধ্যবিত্ত বুঁদ হয়ে থাকে আজন্ম। তবু এ সঙ্কট স্ব-আরোপিতই বটে। ভাবার যাদের আছে অবসর, ভাবনার রসদ- জ্ঞান-বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি যারা হাত বাড়ালেই পায়, তাঁদের মূঢ়তা-ভীরুতা ক্ষমার অযোগ্য অপরাধ। তাঁরা রাজাকার-নাস্তিকের ফাঁশির দাবিতে প্রাণ দিতে পারে, কিন্তু মানবিক-সামাজিক বিপর্যয়ের চরম অবস্থাও তাঁদের পথে নামাতে পারেনা।
ব্যক্তি সত্তার ‘নিজ অক্ষে আবর্তন’ পর্যুদস্ত হওয়ায় শ্রমিকশ্রেণীর পক্ষে সমাজের সাধারণ গতিপ্রকৃতি নিয়ন্ত্রনের রূপরেখা ও কর্মপরিকল্পনা প্রস্তুত করা অত্যান্ত কঠিন হয়ে পড়ে। অন্নবস্ত্র সংস্থানেই যাদের কেটে যায় উদয়াস্ত, তাঁরা বিচ্যুত সমাজের নিরাময়োত্তর কক্ষপথে পুনঃস্থাপনের অবসর সচরাচর পায়না। এ ক্ষেত্রে তাঁরা অসহায়-নিরাবলম্ব নয়, বরং সমস্যাগ্রস্থ, নিরুপায়।
পুঁজির চরিত্র হচ্ছে পুঁজিপতিকে স্বেচ্ছাচারী করে তোলা। তাই অর্থগৃধ্ন “এলিট”শ্রেণী ভয়াবহ রকমের স্বেচ্ছাচারে অভ্যস্ত হয়ে উঠে। ‘শ্রেণীঅস্তিত্ব’ রক্ষার জন্যই সমাজ ও রাষ্ট্রযন্ত্রের নিয়ন্ত্রন এদের হাতে রাখতে হয়। এদের সঙ্কট তাই আরোপিত নয়, বরং এরাই সঙ্কট। পশ্চিমের প্রতিবাদীদের ভাষায় “অসুস্থ-উন্মাদ”।
এই নিয়ন্ত্রিত বিচ্যুত সমাজের জাঁতাকলে পিরামিডের নীচের দিকের গরিষ্ঠ সংখ্যক জনতা নিজেদের অস্তিত্বের অমিত শক্তি ও অপার সম্ভাবনার কথা ভুলে থাকতে বাধ্য হয়। এই সঙ্কট তাই আরোপিত। যেহেতু মধ্যবিত্তের সঙ্কট স্ব-আরোপিত বৈ নয়, এরা নিম্নবিত্তের মানুষের অভাবনীয় শক্তির পরিচর্যা করলেই মূলত মুক্তির আশা জাগে। মানবিক প্রতিবেশ গড়ে উঠে। সঙ্কট উত্তরণের পথ আলোকিত হয়। সেই সাথে এরাই পারে ক্ষমতান্ধ-ধনমগ্ন ‘উপরওয়ালা’র গন্তব্যহীন যাত্রার লাগাম টেনে ধরতে। এখন শুধু তাদের বোধদয়ের অপেক্ষা।

(এই লেখাটির সংক্ষেপিতরূপ দৈনিক ইত্তেফাক, ২২ জানুয়ারি, ২০১৫, বৃহস্পতিবারে প্রকাশিত
http://www.ittefaq.com.bd/print-edition/drishtikon/2015/01/22/27468.html)

মন্তব্য ২ টি রেটিং +৩/-০

মন্তব্য (২) মন্তব্য লিখুন

১| ২৯ শে জানুয়ারি, ২০১৫ বিকাল ৫:৪৪

খেলাঘর বলেছেন:


প্রকাশিত হয়েছে, ভালো কথা; কেউ পড়েছে?

২| ২৯ শে জানুয়ারি, ২০১৫ সন্ধ্যা ৬:০৯

বিদ্রোহী ভৃগু বলেছেন: এই সঙ্কট তাই আরোপিত। যেহেতু মধ্যবিত্তের সঙ্কট স্ব-আরোপিত বৈ নয়, এরা নিম্নবিত্তের মানুষের অভাবনীয় শক্তির পরিচর্যা করলেই মূলত মুক্তির আশা জাগে। মানবিক প্রতিবেশ গড়ে উঠে। সঙ্কট উত্তরণের পথ আলোকিত হয়। সেই সাথে এরাই পারে ক্ষমতান্ধ-ধনমগ্ন ‘উপরওয়ালা’র গন্তব্যহীন যাত্রার লাগাম টেনে ধরতে। এখন শুধু তাদের বোধদয়ের অপেক্ষা।

দারুন গভীরে গিয়ে লিখেছেন। +++++++++++++++++++


এখন শুধু তাদের বোধদয়ের অপেক্ষা। কিন্তু তা আর হতে দেবে কই? কর্পোরেট ষড়যন্ত্রীরা বসে আছেনা। বানিজ্য আর অবেধ অর্থের ঢালা নিয়ে!!
ভোগ আর পূজির পূজারিরা...একই পথে...

সমাজ হিতৈষীরা জ্ঞান আর বাক্য লয়ে শূন্য হাতে পথে পথে..

চকচকে ফাইভ ষ্টার ছেড়ে কে চায় ধূরায় জর্জর সত্যের পথে???

তাই বোধদয়ের আশা থাকলেও পরিচর্যা ছাড়া মনে হয তা অনেক দূরের!!

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.