নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

উন্নয়ন একটি চলমান প্রক্রিয়া...

সরদার আরিফ উদ্দিন

সরদার আরিফ উদ্দিন › বিস্তারিত পোস্টঃ

কর্পোরেট কালচার

২৮ শে নভেম্বর, ২০১৪ রাত ৮:২২

আমার এক বন্ধু বেসরকারি ব্যাংক এ চাকরি করে। উত্তরোত্তর পদন্নতিতে বেসরকারি ব্যাংকিং ব্যাবস্থাপনার সুনাম সারাদিনই বলে বেড়ায় । কোন সন্দেহ নাই বাংলাদেশ এ বেসরকারি ব্যাংক বিপ্লব ঘটিয়েছে মানুষের জীবনে। ২৪ ঘণ্টা ব্যাংকিং ব্যাবস্থাপনা, রাজধানী সহ বিভাগীয় শরহরগুলতে এটিএম বুথ স্থাপন, জীবনের প্রয়োজনীয় সময়ে ও সংকট মুহূর্তে ঋণ প্রদানসহ নানা আয়োজন। কিন্তু তাই বলে কি ব্যক্তিগত জীবনের সিদ্ধান্তগুলো ও ব্যাংক ব্যাবস্থাপনা কর্তিক প্রদান হবে? যে সিদ্ধান্তগুলো পরিবার কেন্দ্রিক কিংবা স্বামী-স্ত্রি কেন্দ্রিক তাও আজকাল ব্যাংকিং ব্যবস্থাপনার সাথে সম্পরকিত।

রাসেলকে একটি বেসরকারি ব্যাংক পরামর্শ দিয়েছিল, ফ্ল্যাট কেনার লো্নটা শোধ হলেই যেন বিয়ে করে, রাসেল কথা রেখেছিল। পাচ বছর পর বিয়ে করেছিল ব্যাংক এর লোণ রেকর্ড ভালো রাখার জন্য। সেদিন রাসেল বললও, ব্যাংক বলেছে গাড়ির লোণটা শোধ না হলে বাচ্চা নেয়াটা বুদ্দিমানের কাজ হবে না। বিয়ে করা, বাড়ি কেনা, গাড়ী কেনা, উচ্চতর শিক্ষা অর্জন কিংবা স্বামী-স্ত্রি কে বাদ দিয়ে বাচ্চা গ্রহন করার সিদ্দান্তসহ প্রায় সকল গুরু্ততপূর্ণ সিদ্দান্ত গ্রহনে ব্যাংক এর পরক্ষ ভুমিকা থেকেই যাচ্ছে।ব্যক্তি জীবনের সিদ্দান্ত ব্যক্তি নিজে নিতে পারে না, নেয় ইট কাঠ আর সিমেন্টের অফিস-ব্যাংক। স্বামী-স্ত্রির বাচ্চা গ্রহন করার সিদ্দান্ত কিংবা উপদেশ নিতে হয় ব্যাঙ্কের লোন কর্মকর্তার কাছে, উচ্চতর শিক্ষা গ্রহন করবো কি করবো না কিংবা সুযোগ হবে কি হবে না তা নির্ভর করে ব্যাংককর্মকর্তার কাছে আমার গ্রহনযোজ্ঞতার ওপর। তথাকথিত আধুনিকতা ও উন্নত সেবা ব্যাবস্থাপনা মানুষের ব্যাক্তি স্বাধীনতা, ইচ্ছা-অনিচ্ছা, সিদ্ধান্ত গ্রহন করার ক্ষমতার ওপর প্রতিনিয়তই প্রভাব বিস্তার করে চলেছে ব্যাংকিং ব্যাবস্থাপনা।

কিছুদিন আগে ও বন্ধু-বান্ধব, আত্তিয়-স্বজন কিংবা পড়শিদের নিকট ঋণ থাকা ছিল অনেকটা লজ্জার বিষয়। পারত পক্ষে কেউ ঋণ নেয়ার কথা ভাবতই না। সেটা ছিল বেহিসাবি চরিত্রের বহিঃপ্রকাশ। আয় ওঁ ব্যায়ের মধ্যকার ভারসাম্যহীন আচরণকেই বলা হত বেহিসাবি। কিন্তু আজকাল ব্যাংকের ক্রেডিট কার্ড হল আভিজ্যাতের প্রতিক। কারনে-অকারনে মানিব্যাগ কিংবা পারটস খুলে একাধিক ব্যাংকের ডেভিট কার্ড কিংবা ক্রেডিট কার্ডের প্রদর্শন জানান দেয়-ঋণ নেয়া কোন লজ্জার বিষয় নয় বরং মানিব্যাগ কিংবা পারটস এ ক্রেডিট কার্ড না থাকের অর্থ ছেলেটি বা মেয়েটি গ্রামে থাকে কিংবা গ্রাম থেকে এসেছে কিংবা তারা অ-আধুনিক মানুষ। ঋণ শব্দটির প্রকৃত অর্থ একই আছে, বদলে গেছে শুধু ঋণের উৎস। ঋণের উৎস বদল হওয়ার কারনে তা আভিজাত্যের প্রতীক হয়ে উঠেছে। সবই কর্পোরেট কালচার যা প্রতিনিয়তই মানুষকে প্রভাবিত করছে নানা কৌশলে, নানা আদলে। মানুষ বন্দী হয়ে পড়ছে কর্পোরেট বিশ্বে যেখানে ব্যাক্তি কিংবা ব্যাক্তিগত বলে কোন শব্দ নাই-আছে কেবল কোম্পানি। কর্পোরেট বিশ্ব ধীরে ধীরে রাষ্ট্রের অস্তিত্তকেও অস্বীকার করতে চলছে।

মন্তব্য ০ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (০) মন্তব্য লিখুন

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.