নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

উন্নয়ন একটি চলমান প্রক্রিয়া...

সরদার আরিফ উদ্দিন

সরদার আরিফ উদ্দিন › বিস্তারিত পোস্টঃ

নিরাপদ মাতৃত্বঃ প্রয়োজন সমতাভিত্তিক দৃষ্টিভঙ্গি ও সামাজিক আয়োজন

০৯ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৫ বিকাল ৪:১৮

নিরাপদ মাতৃত্বঃ প্রয়োজন সমতাভিত্তিক দৃষ্টিভঙ্গি ও সামাজিক আয়োজন
-সরদার আরিফ উদ্দিন

নিরাপদ মাতৃত্বের প্রশ্নে কেবল জৈবিক সমস্যাগুলোর মধ্যেই সীমাবদ্দ থাকা সমীচীন নয়। কেননা মাতৃত্বের প্রয়োজন কেবল জৈবিক প্রয়োজন বলে ব্যক্তি বিশেষের মতামত থাকলেও মাতৃত্বের প্রয়োজন সামাজিক প্রয়োজনকে ঘিরেও আবর্তিত। মানব প্রজাতির অস্তিতের স্বার্থেই নিরাপদ মাতৃত্তের সামাজিক আন্দোলনকে জোরদার করা প্রয়োজন। অন্যদিকে নিরাপদ মাতৃত্তের প্রশ্নটি কেবল কোন নির্দিষ্ট জাতি, পেশা, শ্রেণী কিংবা ধর্মভিত্তিক গোষ্ঠীর জন্যই প্রযোজ্য নয়। নয় এককভাবে কেবলই নারীর সমস্যা। নারীর মাতৃত্ব সার্বজনীন, তাই নিরাপদ মাতৃত্বের সমস্যাটি সমগ্র বিশ্ববাসীকেই বিচলিত করা স্বাভাবিক।

মানব বিবর্তনের যাত্রা শুরু হয় নিরাপদ মাতৃত্বের প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে এবং সামগ্রিক মানব প্রজাতির বিকাশ ঘটে এই নিরাপদ প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই।সে দৃষ্টিকোণ থেকে এটি যেমন বৈশ্বিকভাবে সামজিক সমস্যা, রাজনৈতিকইসমস্যা, তেমনিভাবে অর্থনৈতিক সমস্যাকেও আঁচড় কাটে। এককভাবে কিংবা কোন জাতিগত সমস্যা হিসাবে নিরাপদ মাতৃত্বের সমস্যাটিকে একপেশে ঠেলে দেবার কোন অবকাশ নাই। তবে নিরাপদ মাতৃত্ব সমস্যা সমাধানে জাতিগত পার্থক্য আছে, আছে ব্যক্তি বিশেষে পার্থক্য, আছে দৃষ্টিভঙ্গির পার্থক্য। এ সমস্যার উদ্ভবের সাথে জড়িয়ে আছে-

• সংস্কৃতিক দৃষ্টিভঙ্গি (আচরণগত, বিশ্বাস ও মূল্যবোধনগত এবং ঐতিহ্যগত)
• সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি
• অর্থনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি
• অসমতাভিত্তিক লিঙ্গিয় দৃষ্টিভঙ্গি এবং
• রাষ্ট্রীয় কিংবা জাতিগত দৃষ্টিভঙ্গি

নিরাপদ মাতৃত্বের এ মৌলিক প্রশ্নটি দ্বারা বিশ্ববাসীর বিবেককে জাগ্রত করার জন্য Dr Fed Sai (who is called the father of safe motherhood) বলেছিলেন- Maternal and child heath is at the root of vicious of poverty that restrains our communities from relating their potential. We must never forget that women are the backbones of our communities and that our children are our future.


একই ভাবে বিশ্ববাসী তথা বিশ্ব জাতি গোষ্ঠীকে একই প্ল্যাটফর্মে দাড় করানোর উদ্দ্যেশে তথা বিশ্ব মাতৃত্বকে নিরাপদ করার উদ্দ্যেশে আজ থেকে ২০ বছর আগে প্রথম ১৯৮৭ সালে নাইরোবিতে First International Safe Motherhood Conference শুরু হয়েছিল। তারই ধারাবাহিকতায় ১৩ নভেম্বর ২০০০ সালে তিউনিসিয়ায় তিউনিয় ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তা, জাতিসংঘের প্রতিনিধিসহ ১১ টি দেশের (বারকিন ফস, মজাম্বিক, নাইরোবি, সানেগাল, উগান্ডা, বাংলাদেশ, নেপাল, বাতসয়ানা, মালয়েশিয়া, তিউনিশিয়া, এবং শ্রিলঙ্কা) প্রতিনিধি একটি কনফারেন্সে মিলিত হয়ে স্ব স্ব দেশের পক্ষে নিরাপদ মাতৃত্বের প্রয়োজনে প্রয়োজনীয় ও সুগঠিত পদক্ষেপ নেয়ার অঙ্গীকার করেছে। সুতরাং দেরিতে হলেও নিরাপদ মাতৃত্বের জন্য গণসচেতনতা বৃদ্ধির কাজ শুরু হয়েছে। বিশেষ করে উন্নয়নশীল দেশগুলোতেই এ ধরনের গণসচেতনতা বৃদ্ধির প্রয়োজন সবচেয়ে বেশী।

মাতৃত্ব সমস্যার উৎসঃ


বিশ্বব্যাপী মাতৃত্ব সমস্যার জৈবিকভাবে উদ্ভব ঘটে অনেক পরে এবং তার সমাধানও করা যায় অনেক পরে, অনেক আয়োজন করে। যদিও তা উন্নয়নশীল ও উন্নত বিশ্বে পার্থক্য ঘটে। কিন্তু সামাজিক উৎসগুলোই মাতৃত্ব সমস্যাকে জোরালো করে তোলে। তাই পুরুষতান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থায় প্রতিটি পদে পদে তার সর্বগ্রাসী ছায়া পড়ে নারীর ব্যক্তিগত জীবন থেকে শুরু করে যৌন জীবন, শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডল, সামাজিক জীবন এমনকি মাতৃত্বের মধ্যেও। যদিও মাতৃত্ব নারীর কিন্তু মাতৃত্বের ফসল সমাজের। তাই সমাজ ব্যবস্থা কেবল মাতৃত্বের ফসলের ওপর অধিকার আরোপ করে, অন্যদিকে মাতৃত্ব প্রক্রিয়ার প্রতি সচেতন দৃষ্টিভঙ্গি রাখে না। নারীকে কেবল উৎপাদন যন্ত্রের অংশ হিসেবেই ভাবে। পুরুষতান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থা প্রয়োজনে উৎপাদন যন্ত্রের অংশ পরিবর্তন করতেও দ্বিধা করে না। যে কারনে পুরুষের পক্ষে একাধিক বিয়ে এমন কি একই সময়ে একাধিক বিয়েরও সামাজিক আয়োজন করে রেখেছে।

যে ব্যবস্থায় পুরুষই কর্তা বা অধিপতি এবং জগত সংসারে সারবস্তু, আর নারী তার অধীনস্থ, ক্ষমতাহীন অবলা ফলে নিষ্ক্রিয়, প্রাণহীন বা কর্তা বোধহীন ব্যবহারযোগ্য সামগ্রী। সেই ব্যবস্থাকে পুরুস্তন্ত্র বলা যায়। পুরুষতান্ত্রিক সমাজে নারীর ক্ষমতার উৎস বা নারীর ক্ষমতার চরিত্র পুরোপুরি পুরুষতান্ত্রিক হতে বাধ্য। সমাজ তার ধারণকৃত পুরুষতন্ত্রকে নারি-পুরুষ নির্বিশেষে সবার ধ্যান-ধারনার ও চিন্তা-চেতনায় প্রবিষ্ট করে একটি নুতন সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডল সৃষ্টি করে। আমরা সবাই পুরুষ কর্তৃত্ববাদী সমাজের আদেশ-নির্দেশ মেনে চলে সমাজে সুসভ্য বলে পরিচিত হই। সমাজের এ চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে আমরা পুরুষকে ভাবি ঊর্ধ্বতন আর নারীকে অধস্তন। জীবনের পদে পদে নারী বৈষম্যের শিকার হয়। তার মানবিক সত্ত্বা পুরুস্তন্ত্রের যাঁতাকলে নিপিস্ত হয়, এর ফলে নারীর শরীর ও মন দুটোই মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়।


নারীর মাতৃত্ব সমস্যাগুলোকে দুটো দৃষ্টিকোণ থেকে ব্যাখা করার অবকাশ রয়েছেঃ

1. চিকিৎসা বিজ্ঞানের দৃষ্টিকোণ থেকে (Medical Point of View)
2. সামাজিক দৃষ্টিকোণ থেকে (Social Point of View)

চিকিৎসা বিজ্ঞানের দৃষ্টিকোণ থেকে নিরাপদ মাতৃত্বের প্রশ্নকে কেবল শারিরিক সমস্যাকে কেন্দ্র করেই ব্যাখা করা হয় এবং তার সমাধান খোঁজার চেষ্টা করা হয়। কিন্তু সকল সমস্যার সমাধান কেবল ঔষধ, চিকিৎসা ব্যবস্থা, চিকিৎসা পদ্ধতি, রোগ নির্ধারণ ইত্যাদির মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে না; বরং নিরাপদ মাতৃত্বের প্রশ্নটি সমাজ ব্যবস্থার প্রতিটি পরতে পরতে গ্রথিত থাকে। চিকিৎসা বিজ্ঞান নিরাপদ মাতৃত্বের জন্য যে প্যাকেজ সার্ভিসের সমাধান খোঁজে-

1. বয়ঃসন্ধিকালিন সমস্যা (During Adolescent Period)
2. গর্ভকালীন সমস্যা (During Pregnancy Period)
3. প্রসবকালীন সমস্যা (During Child Birth Period)
4. প্রসবউত্তর সমস্যা (After Delivery Period)
5. প্রসবপূর্ব ও প্রসবউত্তর প্রজনন চক্রগত সমস্যা (Before and after delivery period throughout the reproductive life span)

কিন্তু সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি দ্বারা সামগ্রিকতার মাধ্যমে উৎস খোঁজা ও তার সমাধানের চেষ্টা করা হয়। তাই নিরাপদ মাতৃত্বের প্রশ্নে যে সকল সামাজিক ইস্যুর মধ্যে সমস্যগুলো লুকানো থাকে, আলোচ্য লেখায় ত ব্যাখা করার অবকাশ রয়েছে। যদিও নিরাপদ মাতৃত্ব নামক সার্বজনীন সমস্যা সমাধানের জন্য কোন একক দৃষ্টিভঙ্গি সফলতা বহন করতে পারে না। অন্যদিকে সামাজিক ইস্যুগুলো কোনোভাবেই এড়ানো যায় না। সামাজিক ইস্যুগুলোর মধ্যে পড়ে-
• নারীর বেড়ে উঠার পেছনে সামাজিকীকরণ প্রক্রিয়া
• সিদ্ধান্ত গ্রহন প্রক্রিইয়ায় নারীর সক্রিয় অংশগ্রহন
• দৈনন্দিন খাদ্যভাসে নারীর প্রয়োজন অনুযায়ী অংশগ্রহণ
• সামাজিক কুসংস্কার ও ঐতিহ্যগত প্রথা
• লিঙ্গয় শ্রম বিভাজন
• বৈষম্যমূলক শিক্ষা ব্যবস্থা
• পুরুষতান্ত্রিক শ্রম বাজারে নারীর অনুপ্রবেশ
• বৈষম্যমূলক চিকিৎসা ব্যবস্থা
• বংশ মর্যাদা উত্তরাধিকারী গণনায় নারীর অনুপস্থিতি ইত্যাদি।


বাংলাদেশে নারীর সামাজিক অবস্থান বিশ্লেসনঃ

পুরুষতান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থায় বছরের পর বছর বাংলাদেশের পরিবারগুলোতে পুত্র সন্তানদের পক্ষপাতমূলক আদরযত্ন করা হচ্ছে বা অধিকার দেয়া হচ্ছে। এক্ষেত্রে বিবেচনা হচ্ছে পুত্র সন্তানই পরিবারের দায়িত্ব নেবে এবং বংশের ধারাবাহিকতা রক্ষা করবে। এ বিবেচনা থেকেই পুত্র সন্তানের প্রতি অধিক পক্ষপাতিত্ব। তারা শিক্ষা লাভের সুযোগ পায় আগে, ভাল পুষ্টিকর খাবার পায় ইত্যাদি অন্যদিকে কন্যা সন্তানদের সেভাবে যত্ন নেয়া হয় না। তাদের মনে করা হয়, অর্থনৈতিকভাবে পরনির্ভরশীল একটি দায় হিসেবে এবং তাদের জন্য খরচ করাকে অনুতপাদন অনুৎপাদনশীল খাতে খরচ হিসেবে গন্য করা হয়। এ প্রাক্ষাপটে নারীর সামগ্রিক অবস্থা বিশ্লেষণ করা প্রয়োজন, কেননা নারীর মাতৃত্ব সমস্যা সমগ্রিক সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গির সাথে জড়িত।

• সাধারনভাবে শ্রেণী এবং লিঙ্গ বিভক্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত পিতৃতান্ত্রিক সমাজ বাংলাদেশের সনাতন সমাজ কাঠামো ও চিন্তাধারা নির্ধারণ করে। শ্রেণী গতিশীলতা ধনী এবং দরিদ্রের মধ্যে চলমান সংগ্রামকে উৎসাহিত করে। কিন্তু সামাজিক পরিমণ্ডলে বিভাজন অথবা নারী ও পুরুষের মধ্যে আচরণগত পার্থক্য বেশ কঠোরভাবে মানে চলা হয়। এক্ষেত্রে সামাজিক নিয়ন্ত্রনের মৌলিক একক হিসেবে পরিবার নারী ও পুরুষের ভুমিকা নির্ধারণ করে।
• আমাদের দেশে বিয়ের সামাজিক আর্থ মেয়ের অভিভাবকত্ব পিতার কাছ থেকে স্বামীর নিকট হস্তান্তর। তাই শিক্ষা কর্ম চিকিৎসা বা দাম্পত্য ও পারিবারিক যে কোন কাজে স্বামীর অনুমতি অত্যবশ্যকিয় হয়ে পরে।
• গড়ে একজন নারীকে সারাজীবনে কমপক্ষে ৫টি সন্তান জন্ম দিতে হয় এনং পরিবারে অবস্থান সুদৃঢ় করতে অবশ্যই পুত্র সন্তান প্রসব করতে হয়।
• বাংলাদেশের নারীরা পুরুষের চেয়ে ১২-১৬ শতাংশ ক্যালরি ও প্রোটিন গ্রহণ করে থাকে।
• নিজের মাতৃত্ব ক্ষমতার ওপর নারীর নিজের কোন নিয়ন্ত্রণ নেই। সে কখন সন্তান ধারন করবে সেটা যেমন নির্ধারণ করে একজন পুরুষ তেমনি আবার কোথায় (বাসা, হাসসপাতাল, ক্লিনিক) তার সন্তান প্রসন হবে সেটা ও নির্ধারণ করে একজন পুরুষ কিংবা পুরুষ প্রতিনিধিত্তকারি অন্য কেউ।

মুলত নারীর দুরবল স্বাস্থ্যর পেছনে কাজ করে সামাজিক,রাজনৈতিক, আইনগত এবং অর্থনৈতিক ক্ষমতাহীনটা। সারাটা জীবন ধরে নারী অপুষ্টি, সাস্থ্য পরিচর্যার অভাব এবং পরিস্কার পরিচ্ছন্নতার অভাবে ভোগে। আর এর সবই হচ্ছে সামাজিকভাবে নারীর নিম্ন অবস্থানের কারণে। নিরক্ষরতা, অজ্ঞানতা, কুসংস্কার, দারিদ্র্যতা, অর্থনৈতিক নির্ভরশীলতা এবং ধর্মীয় ও সামাজিক আচরনের ফলশ্রুতি। নারীর স্বাস্থ্যহীনতার আরেকটি প্রধান কারণ অল্প বয়সে বিয়ে, ঘন ঘন সন্তান ধারন ও প্রসব করা। ২০ বছর হবার আগেই ৬০ শতাংশ নারী সন্তান ধারন করে এবং এদের মধ্যে ৪০ শতাংশ গর্ভকালীন বা প্রসবকালীন জটিলতায় মৃত্যুবরণ করে। গর্ভকালীন বা প্রসবকালীন এসব জটিলতায় আমাদের দেশে নারীদের মৃত্যু এবং রুগ্নতার প্রধান কারন। অনিরাপদ প্রসব ব্যাবস্থা অথবা প্রসবপূর্ব ও প্রসবউত্তর যথাযোগ্য সেবা যত্নের অভাবে ২৭ শতাংশ নারীর মৃত্যু ঘটে। প্রতি ১০০০ জীবন্ত প্রসবে প্রসূতি মৃত্যুর হার আমাদের দেশে ৫ থেকে ৬ জন, বিশ্বে সর্ব উচ্চ হারের এটি। মাতৃত্ব সঙ্ক্রান্ত জটিলতায় আমাদের দেশে প্রতি বছর ৩০ হাজার নারীরমৃত্যু ঘটে। এর মধ্যে ১৬-২৫ শতাংশ সেপসিস এবং আরও ৫-১০ শতাংশ ধনুষ্টংকারে মারা যায়। তাছাড়া অন্য যে কারণগুলোকে দায়ী করা যায় তার মধ্যে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ এবং দীর্ঘস্থায়ী প্রসব বেদনা অন্যতম। উল্লেখিত মৃত্যুর কারণগুলোর প্রায় সবই উপযুক্ত পরিচর্যার মাধ্যমে দূর করা সম্ভব। কিন্তু পরিতাপের বিষয় এই যে, বাংলাদেশের বেশীরভাগ নারীই এ সুযোগ থেকে বঞ্চিত। সন্তান জন্মদানযোগ্য মোট ২ কোটি ৫০ লাখ নারীর মধ্যে মাত্র ৪০ শতাংশ নারী জন্ম নিয়ন্ত্রণ সামগ্রী ব্যবহার করে থাকেন।

বাংলাদেশের নারীদের উপরোক্ত অবস্থানগত খণ্ডচিত্রের আলোকে দেখা যায়, পরিবার নামক মৌলিক প্রতিষ্ঠান থেকে শুরু করে সরবচ্চ রাষ্ট্রীয় পর্যায় পর্যন্ত নারীর ব্যক্তিগত জীবন ও সামাজিক জীবনের ওপর কোন অধিকার নেই। কোন ধরনের সিদ্ধান্ত গ্রহনে অংশগ্রহন নেই। এমন কি জন্ম নিরোধ সামগ্রী ব্যবহারের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রীয় পলিসি দ্বারা আমদানিকৃত আইইউডি, নরপ্লানট জাতীয় পদ্ধতি ব্যবহারে বাধ্য করা হয়। ফলে নারী ব্যক্তিগত ব্যাপারেও চিকিৎসকের কাছে বাধ্য থাকে, নারীর মাতৃত্বের মৌলিক অধিকারটুকু অন্যের দ্বারা নিয়ন্ত্রণ হয়। এমন কি নারী ২টি নাকি ১টি সন্তান ধারন করবে তাও নির্ধারিত হয় স্বামী কিংবা স্বামীর পরিবারের মাধ্যমে। এমনকি কোন কোন প্রেক্ষাপটে নারীর নিরাপদ মাতৃত্বের বিষয়টি পরিবারের বংশ মর্যাদা রক্ষার প্রতীক কন্যা নাকি ছেলে সন্তান জন্ম হোল সে প্রশ্নের আড়ালে হারিয়ে যায়।


নারীর মাতৃত্বের সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গিঃ


নারীর নিরাপদ মাতৃত্বের বিষয়টি সামাজিক দৃষ্টিকোণ থেকে ও সামাজিক ইস্যুগুলোর ওপর ভিত্তি করে ব্যাখা করার পূর্বে নারীর মাতৃত্ব প্রত্যয়টিকে বিশ্লেষণ করা প্রয়োজন। একজন নারীর সন্তান ধারণ থেকে শুরু করে প্রসব পর্যন্ত এবং প্রসব উত্তর সন্তানের সাথে নারীর সম্পর্ককে মাতৃত্ব বলা যায়। সুতরাং মাতৃত্ব প্রত্যয়টি একটি চিরন্তন ও মানবিক মর্ম ধারন করে। মাতৃত্ব কিভাবে, কখন, কার দ্বারা সম্পন্ন হোল সে শ্রেনীবিভাগ একন্তই সমাজের তৈরি। পিতৃতান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থা এক্ষেত্রে মাতৃত্বকে নানাভাবে শ্রেণীবিভাগ করে থাকে, নিজস্ব প্রয়োজনে ও সুবিধার্থে, যেমন-

• সমাজ স্বীকৃত মাতৃত্ব
• সমাজ অ-স্বীকৃত মাতৃত্ব


দুধরনের মাতৃত্বের জন্য সমাজ ব্যবস্থা আবার দুধরনের নিরাপত্তার/অনিরাপত্তার ছক বেঁধে রেখেছে। সমাজ স্বীকৃত মাতৃত্বের জন্য তুলনামুলকভাবে কিছু নিরাপত্তার ব্যবস্থা আছে বৈকি। কিন্তু যে মাতৃত্বকে সমাজ অস্বীকার করছে তার জন্য কতটুকু সামাজিক নিরাপত্তা আছে? নিরাপদ মাতৃত্ব প্রশ্নে আমরা কেবলই বারবার সমাজ স্বীকৃত মাতৃত্বের কথাই ভাবি। আমাদের খন্তিত ভাবনাগুলোকে আলোচনা করার পূর্বে সমাজ অ-স্বীকৃত মাতৃত্বের অবস্থানটুকু দেখা যাক-

• যৌন কর্মীর মাতৃত্ব
• বিরঙ্গনার মাতৃত্ব
• ধর্ষিতর মাতৃত্ব
• চির কুমারীর মাতৃত্ব
• দেবদাসীর মাতৃত্ব
• নর্তকীর মাতৃত্ব
• পাগলিনীর মাতৃত্ব

যদিও সকল সন্তনই কোন না কোন নারী ও পুরুষের যৌন মিলনে ডিম্বাণু ও শুক্রাণুর সমন্নেই গঠিত হয়, তথাপি পিতৃতান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থা কোন কোন সন্তানকে জারজ সন্তান বলে আখ্যায়িত করে। উক্ত সন্তনের মায়ের মাতৃত্বকে পদদলিত করে প্রতিনিয়ত। সুতরাং সে সন্তানের মায়ের মাতৃত্বকেই যখন স্বীকার করা হয় না তখন নিরাপদ মাতৃত্বের প্রশ্নটি কেবলই প্রশ্ন।

মুলত ‘জারজ’ শব্দটির বুৎপত্তি ‘জ্যার’ থেকে। ‘জ্যার’ অর্থ গুপ্ত প্রণয়ী। এই প্রনয়ের সংসর্গে যে সন্তানের জন্ম অর্থাৎ জাত যে জাতক-জাতিকা তাকেই অভিধানে ‘জারজ’ বলে থাকে। বস্তুত জারজ শব্দটির যে ব্যাঞ্জনা তা এই শব্দের আভিধানিক তাৎপর্যের সঙ্গে মেলে না। কেননা ‘জার’ এর সংসর্গ ছাড়াও ধর্ষণ জাত সন্তান এবং যৌনকর্মীর সন্তানদের ও জারজ সন্তান হিসেবেই চিনহিত করা হয়। কাজেই শব্দটি ক্রমশ এর মূল অর্থ থেকে সরে এসেছে, এক কথায় এর তাৎপর্য দাঁড়িয়েছে এ রকম- স্বামী ভিন্ন অন্য পুরুষ বা অজ্ঞাত পিতার মিলনে নারী যে সন্তান ধারন ও প্রসব করে সে-ই জারজ সন্তান।

নারীর মাতৃত্বকে নিয়ে পুরুষতান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থা নানা ধরনের সামাজিক পদ্দবতি চালু রেখেছে। পুরুষতান্ত্রিক ধ্যান- ধারনার ক্ষতি বৃদ্ধি হিসাব কষেই সাকাজিক নিয়মের বৃদ্ধি বা বিনাশ ঘটে। পতিতা, বিরঙ্গনা, নর্তকী ইত্যাদি বিশেষণ নারীর মাতৃত্বকে মূলত ধর্ষণের সংজ্ঞায় সংজ্ঞায়িত করে তাদের মাতৃত্বকে সমাজ সবসময়য়ই অস্বীকার করে এসেছে। মূলত ধর্ষণ নারীর ইচ্ছের বিরুদ্ধে, বিভ্রান্তির সুযোগে, বেহুঁশ বা অপ্রকৃতিস্থ অবস্থায়, ভয় দেখিয়ে বা সহবাসে বাধ্য বা প্রবৃত্ত করা কিংবা নাবালিকা নারী মাত্রই সম্মত হলেও তার সঙ্গে যৌন সংসর্গে লিপ্ত হওয়া। এ অর্থে কোনকোন স্ত্রী প্রতি সঙ্গমেই স্বামী কর্তৃক ধর্ষিতা হন এবং জন্ম দেন ধর্ষণজাত সন্তানের। কিন্তু পিতৃতন্ত্র সঙ্গমে স্বামীর যৌন লাম্পট্যের/যৌন আগ্রাসনের প্রতি যথার্থই উদার। বিয়ের মাধ্যমে নারীর দেহ মনের সম্পূর্ণ দখলদারিত্ব চলে যায় স্বামীর নিয়ন্ত্রনে। তিনিই স্ত্রীর একচ্ছত্র রক্ষাকর্তা এবং বয়নকর্তা। পিতৃতন্ত্র লালিত প্রতিটি ধর্ম ও স্বামীকে দান করেছে যেমন খুশি স্ত্রী ভোগের লিখিত সনদ অর্থাৎ চাহিদা মাত্র দেহদানকে বলে হয়েছে স্ত্রী ধর্ম। যখন খুশি স্ত্রী গমন কিংবা শস্যক্ষেত্র রূপে নারীতে উপগত হওয়ার বিধান বিভিন্ন ধর্মের যৌন সংস্কারে অন্তর্ভুক্ত। স্বামী কর্তৃক ধর্ষিতা স্ত্রীর সন্তানের মাতৃত্বকে সমাজ স্বীকার করে (যদিও তা যৌনকর্মীর সন্তানের মতোই জারজ সন্তান বলে আখ্যা দেয়া উচিত) কেননা সাধারন অবস্থায় সমাজ ও রাষ্ট্রীয় দৃষ্টির অগোচরে থাকে সে ধর্ষণের দৃশ্য/ কাহিনী। ফলে সে ধরনের ধর্ষিতা নারীর মাতৃত্বের জন্য নিরাপদ মাতৃত্বের কিছু রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থা আছে বৈকি। কিন্তু অন্য সকল ধরনের সমাজ অস্বীকৃত সন্তান প্রসবের জন্য ও নিরাপদ মাতৃত্বের জন্য কোণ রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক ব্যবস্থা নাই বরং লোকচক্ষুর আড়ালে,সমাজচক্ষুর অন্ত্ররালে যেনতেন ভাবেই নারীর মাতৃত্ব প্রক্রিয়ার কর্মটি সম্পাদন করা হয়।

নিরাপদ মাতৃত্বে প্রশ্নে সামাজিক ইস্যুসমূহঃ

কেবল সমাজ স্বীকৃত যে মাতৃত্ব সেটা কতটুকু নিরাপদ, কেনইবা নিরাপদ নয় কিংবা নিরাপদ না হওয়ার পাছনে যে সমস্ত কারণগুলো উল্লেখযোগ্য ভুমিকা রাখছে সেগুলো উদ্ঘাতন করাই আমাদের প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী জরুরি। পুরবল্লখিত কতগুলো সামাজিক ইস্যুর কথা বলা হয়েছে সেগুলো প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে নারীর নিরাপদ মাতৃত্বের ওপর প্রভাব বিস্তার করছে প্রতিনিয়তই।

নারীর বেড়ে ওঠার পেছনে সামাজিকীকরণঃ

নারীর নিরাপদ মাতৃত্ব প্রশ্নে সামাজিকীকরণ প্রসঙ্গটি অবান্তর মনে হতে পারে, কিন্তু সামাজিকীকরণ প্রক্রিয়া মানব জীবনের জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত চলে অবিরত। তাছাড়া মাতৃত্ব হঠাৎ আবির্ভূত হবার বিষয় নয়, তার জন্য চাই দীর্ঘ প্রস্তুতি, দীর্ঘ আয়োজন এবং দীর্ঘ প্রক্রিয়া। তাই সামাজিকীকরণ প্রক্রিয়ায় নারীর নিরাপদ মাতৃত্ব পদ্ধতিতে সচেতনভাবে প্রভার বিস্তার করে।

নিরাপদ মাতৃত্বের জন্য চাই নারীর সুসাস্থ্যের নিশ্চয়তা, আরও সহজভাবে বলতে গেলে মানুসের শারিরিক, মানুসিক, সামাজিক ও আধ্যাত্মিক সুস্থতাই হোল সাস্থ্য। মানুষের সুস্থ্যতার জন্য প্রয়োজন পরিমানমত ও প্রয়োজনীয় খাবার, ঘুম ও বিশ্রাম। কিন্তু আমাদের পিতৃতান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থায় নারী ও পুরুষের জন্য সুসাস্থ্যের ৩টি উপাদানের তারতম্য দেখা যায়।

সুসাস্থ্যের প্রধান তিনটি উপাদান পুরুষ নারী
খাবার মুল/সিংহ ভাগ উচ্ছিষ্ট/ অবশিষ্টাংশ
ঘুম প্রয়োজনমতো যখন কাজ অবশিষ্ট
বিশ্রাম প্রয়োজন অনুসারে কদাচিত/ চূড়ান্ত অসুস্থ হলে

এমনি একটি সামাজিক প্রেক্ষাপটে স্বাস্থ্যের ৩টি প্রধান উপাদান ব্যতীত নারী কি সুসাস্থের অধিকারী হতে পারে? আর সুসাস্থ্যে ছাড়া কেওমন করে নিরাপদ মাতৃত্ব আশা করা যায়।

ব্যক্তির আচরন সামাজিক প্রত্যাশা অনুযায়ী বিকাশ লাভ করে। অন্যভাবে বলা যায়, সমাজের আদর্শ, সংস্কার, বিশ্বাস ও মূল্যবোধ শিশুর ওপর ব্যাপক প্রভাব বিস্তার করে। সামাজিক প্রত্যাশার ফলে সামাজিক আচরন আনুশিলনের এই ধারার নামই সামাজিকীকরণ। সামাজিকীকরণ ব্যক্তির মাঝে আদর্শ, মূল্যবোধ, শৃঙ্খলা ও নিয়মানুবর্তিতা উজ্জীবিত করে মানুষের প্রাণী সত্ত্বাকে সামাজিক সত্ত্বায় রূপান্তরিত করে। সামাজিকীকরণ প্রক্রিয়া এক সমাজ থেকে অন্য সমাজে ভিন্নতর হতে পারে, তেমনি তা শ্রেণী পক্ষপাত মূলক হতে পারে। অসম অর্থনৈতিক সম্পর্কেরওপর ভিত্তি করে উদ্ভব হয়েছে বিভিন্ন সামাজিক শ্রেণীর। এমনকি নারী পুরুষের সামাজিকীকরনের ক্ষেত্রেও পার্থক্য সুচক প্রক্রিয়া পরিলক্ষিত হয় যার মাত্রা অত্যন্ত তীব্র। প্রকৃতপক্ষে সামাজিকীকরণ প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে পারিবারিক সম্পর্ক, সামাজিক চেতনা, মূল্যবোধ, সংস্কৃতই, মতাদর্শ, মনস্তাত্ত্বিক কাঠামো প্রভৃতি পুরুষ ও নারীর জীবনকে ভিন্নখাতে প্রভাবিত করে, নিয়ন্ত্রণ করে এবং পরিচালিত করে। নারী এবং পুরুষকে সমাজ ভিন্নভাবে সামাজিকায়িত করে। তারই ফল হোল পুরুষের মর্যাদাবোধ, নারী পুরুষের উচ্চ-নিচ অবস্থান, পরিবারে পদস্তর ও তার নির্দিষ্ট ধরনের বিন্যাসসহ যাবতীয় বিষয়। মূলত শৈশবেই পরিবারের মধ্যে নারী- পুরুষের মাঝে বৈষম্যের সুত্রপাত হয় এবং পরবর্তীকালে অর্থনীতি, সমাজ এবং রাষ্ট্র তথা বৃহত্তর সমাজ তা পরিব্যপ্ত হয়।

নারীকে অধস্তন করে রাখার ইচ্ছের প্রতিফলন ঘটেছে ধর্ম জাজক, আইন প্রনেতা, লেখক দার্শনিক ও বিজ্ঞানীর চিন্তা এবং লেখনীতে। প্রাচীনকাল থেকেই বিশপ কাহিনীর রচয়িতা এবং নীতিবাদীরা নারীর দুর্বল চিত্র একেছেন। মধ্যযুগে সমগ্র ফরাসি সাহিত্য জুড়ে নারীকে বর্বরোচিত ভাবে আক্রমন করে হয়েছে রোমান আইনে নারীর অধিকার সীমাবদ্ধ করে বলা হয়েছে, নারীর বুদ্ধি জড় এবং সে অস্থির। ষোল শতকে যখন মনে করা হচ্ছিল, নারী তার সম্পত্তির রক্ষণাবেক্ষণে অক্ষম, তখন বিবাহিতা নারীদের অভিভাবকত্ব আরেপের জন্য সেন্ট অগাস্তিনের কাছে আবেদন করা হলে তিনি বলেন- ‘নারী এমন জীব, যে সিদ্ধান্ত নিতে অক্ষম এবং তার কোন স্থিরতা নেই”। আমাদের সমাজের ধর্মীয় দর্শন এবং সংশ্লিষ্ট আচার অনুষ্ঠান সমূহ নারী পুরুষের মাঝে ভিন্ন এবং বৈষম্যমূলক সামাজিক ব্যবস্থাকে সমর্থন করে। উত্তরাধিকার সম্পত্তির বিলিবণ্টন ও অংশীদারিত্ব, নাবালক সন্তানের অভিভাবকত্ব, নারীর কমলতা ও দুরবলতা, অধস্তন অবস্থান ও অন্যান্য যাবতীয় বিষয়ে ধর্ম সমর্থিত সামাজিক ব্যবস্থা নারীকে পুরুষের নিয়ন্ত্রণে আবদ্ধ থাকতে শেখায় এবং বাধ্য করে। এ ধরনের হাজারো বিষয় নারী পুরুষের মধ্যে বৈষম্যমূলক ব্যবস্থা তৈরি করে। নারীর কুমারিত্ব ও সতীত্বের প্রতি গুরুত্ব আরোপ, অসতীর গুরুত্ব হ্রাস ও পাপ চেতনা, পুরুষের বহু বিবাহের অধিকার ইত্যাদি ক্ষেত্রে সমস্ত সিদ্ধান্ত দেয় পুরুষ, নারীর মতামতের কোন মুল্য নেই। নারী যেন শুধু ভোগের বস্তু জীবন্ত লাগেজ।

পুরুষ যেখানে সমস্ত সিদ্ধান্ত নেয়ার অধিপতি তখন সন্তান ধারনে নারীর ক্ষমতা কিংবা অক্ষমতার বিচার ও পুরুষের হাতের থাকে। নারী কখন সন্তান ধারন করবে, কথায় সন্তান প্রসব করবে, কতটা সন্তান ধারন করবে এসকল সিদ্ধান্ত গ্রহনে নারীর কোন ভুমিকাই থাকে না। এমনকি উত্তরাধিকার প্রশ্নে নারীর শরীর উপযুক্ত না হলেও নারী বাধ্য হয় পরপর কিংবা অনুপযুক্ত সময়ে একাধিক সন্তান ধারন করতে। যে কারনে নিরাপদ মাতৃত্বকে সুনিশ্চিত করার জন্য সরবাগ্রে প্রয়োজন সুসম সামাজিকীকরণ প্রক্রিয়া, যার মাধ্যমে নারীর ব্যক্তিত্ব গঠিত হতে পারে সঠিকভাবে এবং সিদ্ধান্ত গ্রহনে নারী অবিচল অংশগ্রহন করতে পারে। বৈষম্যমুলক সমাজ কাঠামোতে যত আধুনিক চিকিৎসা ব্যবস্থা গ্রহন করা হউক না কেন সেখানেও বৈষম্য বিরাজ করবে।

সিদ্ধান্ত গ্রহনে নারীর অংশগ্রহনঃ

মানব জীবনের নানা পরতে পরতে সঠিক দিদ্ধান্ত নেয়ার প্রয়োজন দেখা দেয়। কেবল সঠিক সিদ্ধান্তার অভাবে নানা ধরনের বিপর্যয় দেখা দেয়। আবার জীবনের কোন কোন সিদ্ধান্ত যেমন যৌথভাবে নেয়া প্রয়োজন তেমনি কোন কোন সিদ্ধান্ত আবার এককভাবে নারীর জন্যই অধিক প্রযোজ্য। তবে নিরাপদ মাতৃত্ব প্রশ্নে অধিকাংশ সিদ্ধান্ত নারী কর্তৃক প্রয়োগ হলেই মানবজাতির জন্য কল্যাণকর। যেহেতু প্রাকৃতিকভাবে শিশু জন্মগ্রহন প্রক্রিয়ায় নারীর অংশগ্রহন ও দায়িত্ব বেশী, সুতরাং নারীর দায়িত্ব পালনের প্রেক্ষাপটে সিদ্ধান্ত গ্রহনের সুযোগটুকু তারই থাকা উচিত বেশী। কিন্তু আমাদের পিতৃতান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থা উল্টো বিধান নির্ধারণ করে রেখেছে, ফলে নিরাপদ মাতৃত্বের প্রশ্নকে ঘটা করে সমাধান করার প্রসঙ্গ উঠে। যে বিষয়গুলোতে নারীর সিদ্ধান্তকেই প্রাধান্য দেয়া উচিত তা অবশ্যই সামাজিক আন্দোলনের মাধ্যমে হলেও প্রতিষ্ঠিত করতে হবে, যেমন-

• একজন নারী শারীরিক ও মানুষিকভাবে সন্তান ধারনে সক্ষম কিনা
• কতটি সন্তান এবং কত সময় পর পর সন্তান ধারনে তার শরীর ও মন উপযুক্ত
• কোথায় কখন কিভাবে সন্তান প্রসবের ব্যবস্থা হলে সে মানসিক শক্তি অর্জন করতে পারবে
• বিয়ে করার জন্য যথেষ্ট মানসিক প্রস্তুতি আছে কিনা, ইত্যাদি।

নারী গর্ভধারণ করবে এটা প্রকৃতির নিশ্চিত নির্দেশনা নয় বরং নারী গর্ভধারণ করতে পারে এটাই প্রাকৃতিক। প্রকৃতি নারীর জন্য গর্ভধারণ বাধ্যতামূলক করেনি। এক্ষেত্রে নারীর ইচ্ছে স্বভাবতই সার্বভৌম। যাকে নিরধিধায় প্রকাশ করা যায়, শরীর যার সিদ্ধান্ত তার। গর্ভধারণ ও প্রসব করে মাতৃত্ব অর্জনের মাধ্যমে নারী তার নারীত্ব প্রমান করবে, এমন ধারনার সামাজিক সত্যতা আছে, কিন্তু মাতৃত্ব লাভ কোন নারীর, নারী হয়ে ওঠার জন্য অপরিহার্য নয়। নারী হলেই তাকে মাতৃপ্রবন হতে হবে, তা কোন মানবিক শর্তের আওতায় পড়ে না। চিরকুমারী, বন্ধ্যা কিংবা সন্তান গ্রহনে অসম্মত নারী এবং সন্তানধারিণী নারীতে কোন মনুস্যাচিত পারথক্য নেই। নারী মানুষ অর্থেই নারী। সন্তান ধারন এবং জন্মদান করে যে গৌরব বোধ করবে কিনা তা সংশ্লিষ্ট নারীর নিজস্ব এখতিয়ার। এতে অন্য কোন আরোপিত বিচার বিশ্লেষণ, কোন শবাশত মুল্যমান বহন করে না। নারী কখন, কিভাবে, কি জন্য গর্ভধারণ করবে, এসব সিদ্ধান্তের চূড়ান্ত অধিকার নিজেই সংরক্ষন করতে পারে। ঐতিহাসিক বাস্তবতা এবং সামাজিক চুক্তির প্রতি সম্মান দেখিয়ে এ অধিকার শিথিল করবে কিনা সে মিমাংসা ও তার নিজস্ব।

দৈনন্দিন খাদ্যভাসে নারীর অংশগ্রহনঃ

সমাজ ও সভ্যতা সম্পর্কে যারা ভাবেন, তারা অন্তত একটি বিষয়ে একমত যে, পৃথিবীর কোথাও নারি-পুরুষের অবস্থা ও অবস্থান সুষম নয়, অতিমাত্রায় ভারসাম্যহীন, বৈষম্যহীন। মারগারেট মীড (নৃবিজ্ঞানী) ‘লৈঙ্গিক ভূমিকা ও ব্যক্তিত্বের ধরণ’ এর ওপর ব্যাপক গবেষণা করে দেখিয়েছেন- মানুষের মনস্তাত্ত্বিক গঠনে জইবাঙ্গের প্রভাব বাস্তবতা বিবর্জিত একটি তত্ত্ব।

ব্রনিসল ম্যালিনস্কি (নৃবিজ্ঞানী) অস্ট্রেলিয়া আদিবাসীদের মধ্যে লক্ষ্য করেন সন্তান জন্মের পূর্বে বাবার মৃত্যু হলে ভুমিস্ত সন্তানকে তাৎক্ষনিকভাবে হত্যা করা হয়। কারন তাদের সামাজিক রীতি অনুযায়ী পিতাই সন্তানের একমাত্র লালন কর্তা। পক্ষান্তরে, গ্রিনল্যান্ডের এস্কিমোরা সন্তান প্রসবের সময় মাতার মৃত্যু হলে ভুমিস্ত শিশুকে মেরে ফেলে। কারণ এস্কিমো সন্তানের একমাত্র লালন কর্তা তার মা। দুটি ভিন্ন সমাজ সংস্কৃতিতে একই ঘটনার বিপরীত দুটি চিত্র। সন্তান লালন পালন যদি মাতৃত্বের অংশ হয় তবে সে মাতৃত্ব নারি-পুরুস উভয়ের মধ্যেই আছে। এ যুক্তি হয়তো অযৌক্তিক মনে হতে পারে কিন্তু সন্তান লালন পালন যে প্রাকৃতিক ভুমিকা নয়, সামাজিক ভুমিকা- এ যুক্তি অবশ্যই যুক্তিগ্রাহ্য। অন্যদিকে গরভধারন, সন্তান প্রসব, স্তনদান একান্তই নারীর ভুমিকা। সময় ও সমাজের পরিবর্তনেও এর কোন পরিবর্তন নেই। কারণ নারীর এ ভূমিকা শাশ্বত, প্রাকৃতিক। কিন্তু এর বাইরে আর কোন ভুমিকাই প্রাকৃতিক নয়। যে প্রাকৃতিক ভুমিকা একান্তই নারীর, সেখানেও পুরুষতান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থা নানা ধরনের সংস্কৃতিক উপাদান নারীকে ক্রমশই কোণঠাসা করে রাখে যেমন- বৈষম্যমুলক সামাজিক ও সংস্কৃতিক উপাদান দৈনন্দিন খাদ্যভাসে নারী-পুরুষের মধ্যে বিভেদ ঘটিয়ে থাকে সচেতনভাবে। দৈহিক ও মানুষিক পুষ্টির জন্য প্রয়োজন অনুযায়ী খাদ্যগ্রহন প্রতিটি মানুষের মৌলিক অধিকার। কিন্তু পিতৃতান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থায় লিঙ্গভেদে খাদ্য বণ্টন প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই নারীকে বেড়ে উঠতে হয়। কোন অপূর্ণ শারীরিক ও মানুষিক গঠন থেকে আরেকটি পরিপূর্ণ গঠন (সন্তান) কোনোভাবেই সম্ভব নয়। সুতরাং নিরাপদ মাতৃত্বের নিশ্চয়তা প্রদানের জন্য প্রয়োজন-

• নারীর প্রজনন সংস্কৃতিতে প্রবেশের পূর্বে ও পরবর্তী অবস্থায় পূর্ণ শারীরিক গঠন, বৈষম্যমূলক সামাজিক খাদ্যাভাস নীতিমালার অবসান।
• পরিবারের খাদ্য বণ্টন প্রণালী লৈঙ্গিক অবস্থানের ভিত্তিতে না হলে, প্রয়োজন অনুযায়ী ও চাহিদা অনুযায়ী হওয়া উচিত। তার জন্য চাই সচেতনতা ও বৈষম্যহীন দৃষ্টিভঙ্গি।

সামাজিক কুসংস্কার ও ঐতিহ্যগত প্রথাঃ

পিতৃতান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থায় নানা ধরনের সামাজিক কুসংস্কার ও ঐতিহ্যগত প্রথা যেমন জীবন ধারার পতিটি পদে বিস্তার করে তেমনি নারীর মাতৃত্বকে আঁচর কাটে নিরাপদে। বলাবাহুল্য অধিকাংশ সংস্কার ও ঐতিহ্য পুরুষতান্ত্রিক মন্ত্রে দীক্ষিতি যা নারীকে বশে রাখার কিংবা অবদমিত রাখার ক্ষেত্রে ব্যবহার হয়ে আসছে, যেমন-
• পৃথিবীর প্রধান প্রধান ধর্ম মোটামুটিভাবে বালিকা বিবাহের সমর্থক। ইসলামে ঋতুবতী হলেই মেয়েদের বিয়ে দেয়ার তাগিদ দেয়া হয়েছে। তবে ঋতুবতী হওয়ার আগে বিয়ে দেয়ার ব্যাপারেও কোন নিষেধ নেই। জি জি শাস্ত্রকার মনুর মতে, ৩০ বছর বয়স্ক পুরুষ ১২ বছরের মেয়েকে বিয়ে করতে পারে।
• প্রাচীন হিন্দু পন্তিতগন অষ্টমী, পূর্ণিমা, অমাব্যস্যা, সূর্যগ্রহন, চন্দ্র গ্রহনের সময় স্ত্রীকে অগম্য ঘোষণা করেছেন। এসব সময় মিলনজাত সন্তান জটিল ব্যাধিগ্রস্ত ও অঙ্গহীন হয়ে থাকে বলে সংস্কার আছে।
• পৃথিবীর প্রধান প্রধান ধর্মগুলো মর্তের পতিতাকে অবৈধ ঘোষণা দিলেও স্বর্গে বা বেহেস্তে পুরুষদের জন্য মর্ম সহচরদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রেখেছে। একাধিক ধর্মশাস্ত্র জানাচ্ছে, সফল পুন্যবান পুরুষ পরজীবনে মাথাপিছু অসংখ্য নারীকে ভোগ করতে থাকবে অনন্তকাল। এভাবে পুরুষের ভোগের লিপ্সাকে স্বয়ং ধর্ম সুরক্ষিত করেছে সুকৌশলে।
• ইতিহাসে ঢের প্রমান আছে, লোকাচারের নামে প্রাচীন ভারতে কুমারী মেয়েরা মন্দিরে নাচ গান পরিবেশন করত এবং পুরুষ পাণ্ডাদের সম্ভোগ চরিতার্থ করতে বাধ্য হতো। তাছাড়া নীরোগ প্রথার মাধ্যমে সন্তান ধারন করতদ কুলবঁধুরা। বিয়ের প্রাক্কালে কনেকে রাজা বা সমাজপতির কাছে পাঁঠীয়ে প্রসাদ করিয়ে আনা হত। প্রাচীন গ্রিসে অন্তত একবার বেশ্যা হতে হতো প্রত্যেক নারীকে। পুরুষতন্ত্র নারীকে ভোগ্য বস্তুতে পরিণত করেছে একই সঙ্গে বস্তবের পৃথিবীতে আর কল্পিত স্বর্গধামে।
• স্বামীর নামোচ্চারণ এখনো অনেক পরিবারেই নিষিদ্ধ, নিষিদ্ধ পরিবার পরিকল্পনা গ্রহন, এমনকি পুরুষ ডাক্তারের কাছে যাওয়াও নারীর জন্য বারন। এখনো এ দেশে অবরোধবাসিনীরা স্বাধীন জীবিকার উদ্দেশ্যে বৃত্তি গ্রহনের দায়ে, নিজের পছন্দে বিয়ে করার কারনে, নির্মল প্রেম ভালবাসার অপরাধে কঠোর নির্যাতন সইছে।
• নারীর ওপর পিতৃতন্ত্রের দীক্ষা থাকে অবিরাম। ফলে নারীর দেহ ও মন স্বতঃস্ফূর্ত বিকাশের পথ পায় না। প্রচলিত সংস্কার বলে তারা দেহ মনের স্পর্ধাকে সংযত করে, ইচ্ছেকে প্রকাশ অরে নম্রস্বরে। এই অসহায়ত্বপনাকে পুরুস্তন্ত্র বাহবা দেয় ‘ নারিসুলভ’ বলে। এতোসব অনাচারের চাপে নিরুপায় নারীর শক্তির কোন দম্ভ নেই, নেই কোন ক্ষোভ দুঃখের প্রকাশ। এ অর্থে নারী অবলা নয়, অবোলা। বল এবং বোল (কথা) দুই ই নিয়ন্ত্রিত। অর্থাৎ শরীর নারির, সিদ্ধান্ত পুরুষের, মন নারীর আর পরিচালনা করার অধিকার পুরুষের।
• পৃথিবীর বহু সম্প্রদায়ের মধ্যে এ রকম বিশ্বাস প্রচলিত আছে যে, ঋতুবতী নারীর স্পর্শে ফসল বিনষ্ট হয়, বাগান শুকিয়ে যায়, অকালে ফল ঝরে পড়ে, মৌমাছি মরে, মাংস পচে, দুধ টক হয় ইত্যাদি। আফ্রিকার সম্প্রদায় বিশেষে রজঃস্বলা নারীকে যৌবনে নদী পার হতে দেওয়া হয় না। অনেক সমাজে ঋতুবতীর রান্না করর, কাপড় চোপড় যারপর নেই অশুদ্দি হিসাবে গন্য। এ সময় এই অস্পৃশ্য নারীর পক্ষে কোন পুরুষের মুখ দেখাও বারণ।

উপসংহার

এ পর্যন্ত আলচনার প্রেক্ষাপটে নিরাপদ মাতৃত্বের সাথে হয়তো প্রত্যক্ষ কোন যোগাযোগ নেই কিন্তু পরোক্ষ যোগাযোগ অবশ্যম্ভাবী। কেননা মাতৃত্ব কোন হঠাৎ পাওয়া লটারির ফসল নয়। মাতৃত্ব একটি দীর্ঘ আয়োজন, একটি দীর্ঘ প্রক্রিয়া। সুতরাং তার নিরাপত্তা ও সুনিশ্চয়তার জন্য দীর্ঘ আয়োজন আবশ্যক। তার জন্য নারীর শারীরিক ও মানুষিক প্রস্তুতি প্রাথমিক শর্ত। আর এ প্রথমিক শর্ত পূরণে নিয়োজিত থাকা উচিত সমাজ, সভ্যতা- সংস্কৃতি এবং সর্বোপরি রাষ্ট্রীয় পলিসি। সেই সাথে প্রয়োজন সফল সমাধানের পরেই আসে কাঠামোগত তৈরি মেডিকেল সার্ভিসেস।

ধরা যাক,সরকারী উদ্যেগে দেশের সকল জেলা-উপজেলা এমনকি গ্রাম পর্যায়েও হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে নিরাপদ মাতৃত্বের জন্য পরিবার পরিকল্পনা ও সাস্থ্যসেবা ক্লিনিক গঠন করা হোল। কিন্তু সামাজিক সংস্কার যদি এমন হয়, পুরুষ ডাক্তারদের কাছে নারীর চিকিৎসা করা শোভন নয় কিংবা স্বামীর আদেশ যদি হয় নারীর প্রসব পর্ব বাড়ীতেই হবে তাহলে সরকারী সকল আয়োজনের কি হবে? কিংবা যদি হয় কোন স্বামী উত্তরাধিকার প্রশ্নে পুত্র সন্তানের প্রত্যাশায় প্রতি বছরই স্ত্রীকে বাধ্য করে সন্তান ধারন করতে তাহলেও কি এ আয়োজন নারীর মাতৃত্ব সত্তাকে নিরাপদ করতে পারবে? আবার নারী যদি কোন বৈষম্যমূলক সামাজিকায়িত নানা অনুশাসনে পুষ্টিহীন ও সাস্থ্যহীনভাবে বেঁড়ে ওঠে এবং যথানিয়মে প্রজনন সংস্কৃতিতে প্রবেশ করে, তাহলে শুধু সাস্থ্য ক্লিনিক তার দোরগোড়ায় পৌঁছানোর পরও তার মাতৃত্বকে নিরাপদ করতে পারবে? কতক্ষন পারবে?

তাই অসম নারী পুরুষ সম্পর্কের এই দুষ্ট চক্র অর্থাৎ প্রচলিত সমাজ কাঠামো ভাঙতে না পারলে নারীর অধস্তন অবস্থান পরিবর্তন করে তাকে পুরুষের সমান্তরালে নিয়ে যাওয়া কখনোই সম্ভব হবে না। নারী- পুরুষের প্রচলিত সামাজিক সম্পর্ক এক লিঙ্গের প্রতি অন্য লিঙ্গের অনুমোদিত অধস্তনতা, যে বিধি বিধানগুলো নিয়ন্ত্রণ করে তা ভ্রান্তিতে পরিপূর্ণ। তাই এমন পরিবর্তন প্রয়োজন যেখানে এক লিঙ্গ ভোগ করবে না অধিক ক্ষমতা ও সুযোগ এবং অপর লিঙ্গ শিকার হবে না বঞ্চনা ও প্রবঞ্চনার।

সবশেষে বলা যায়, মানব প্রজাতির স্বার্থ সংরক্ষণের জন্যই নিরাপদ মাতৃত্বের শ্লোগান হওয়া উচিত- ‘নিরাপদ মাতৃত্বঃ একটি সামাজিক আন্দোলন” এবং তার জন্য সমস্ত দেশবাসী, বিশ্ববাসী তথা মানব কমিউনিটিকে উদ্বুদ্ধ করতে হবে এবং অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।

মন্তব্য ০ টি রেটিং +১/-০

মন্তব্য (০) মন্তব্য লিখুন

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.