নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

আহমেদ শাহেল

আহমেদ শাহেল › বিস্তারিত পোস্টঃ

প্রতিবেশি ও আত্মীয়র অধিকার

০৪ ঠা সেপ্টেম্বর, ২০২৩ সকাল ৮:০০

প্রতিবেশি ও আত্মীয়র অধিকার
وَلَا یَاۡتَلِ اُولُوا الۡفَضۡلِ مِنۡکُمۡ وَالسَّعَۃِ اَنۡ یُّؤۡتُوۡۤا اُولِی الۡقُرۡبٰی وَالۡمَسٰکِیۡنَ وَالۡمُہٰجِرِیۡنَ فِیۡ سَبِیۡلِ اللّٰہِ ۪ۖ وَلۡیَعۡفُوۡا وَلۡیَصۡفَحُوۡا ؕ اَلَا تُحِبُّوۡنَ اَنۡ یَّغۡفِرَ اللّٰہُ لَکُمۡ ؕ وَاللّٰہُ غَفُوۡرٌ رَّحِیۡمٌ‏
অর্থঃ
তোমাদের মধ্যে যারা সম্পদ ও স্বচ্ছলতার অধিকারী, তারা যেন এরূপ কসম না করে যে, আত্মীয়-স্বজন, অভাবগ্রস্ত ও আল্লাহর পথে
হিজরতকারীদেরকে কিছু দেবে না। তারা যেন ক্ষমা করে ও ঔদার্য প্রদর্শন করে। তোমরা কি কামনা কর না আল্লাহ তোমাদের ত্রুটি-
বিচ্যুতি ক্ষমা করুন? আল্লাহ অতি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।
সূরা আন নূর ( আয়াত নং - ২২ )
নামকরণ:
পঞ্চম রুকূ’র প্রথম আয়াত তথা ৩৫ তম আয়াত থেকে সূরার নাম গৃহীত হয়েছে।[১] উক্ত আল্লাহ নিজের পরিচয় তুলে ধরতে গিয়ে নূর
শব্দ ব্যবহার করেছেন।

সময় কাল:
এ সূরাটি কয়েকটি ভাষণের সমষ্টি । সম্ভবত তৃতীয় হিজরীর শেষের দিক থেকে নিয়ে চতুর্থ হিজরীর শেষের দিকে অথবা পঞ্চম হিজরীর প্রথম দিকের সময়-কালের মধ্যে বিভিন্ন সময়ে এর বিভিন্ন অংশ নাযিল হয়।

সুরা পরিচিতি:
ক্রম:২৪ ধরণ:মাদানী , মোট আয়াত:৬৪।

শানেনুজুল:
এ সূরাটি যে বনু মুসতালিক যুদ্ধের সময় নাযিল হয়, এ বিষয়ে সবাই একমত ।[২] কুরআনের বর্ণনা থেকে জানা যায় যে, হযরত আয়েশার বিরুদ্ধে মিথ্যাচারের ঘটনা প্রসংগে এটি নাযিল হয় । হযরত আয়েশা রা. বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ (ইফকের ঘটনা) খন্ডন করে দেওয়া হয় এ সূরা নাজিলের মাধ্যমে।

বিষয়বস্তু:
এ সূরায় ব্যভিচারের শাস্তি ঘোষণা করা হয়। কারো বিরুদ্ধে অহেতুক ব্যাভিচারের অপবাদ দেবার শাস্তি ঘোষিত হয়। ১১ নং আয়াতে হযরত আয়েশা রা. এর বিরুদ্ধে আনা অপবাদের জবাব দেওয়া হয়। ২৭ নং আয়াতে অনুমতি ছাড়া অপরের ঘরে প্রবেশ করতে নিষেধ করে আইন করা হয়। ৩০ ও ৩১ নং আয়াতে যথাক্রমে পুরুষ ও নারীদের জন্যে পর্দার বিধান দিয়ে দৃষ্ঠি নিচু করার নির্দেশ দেওয়া হয়। ৩১ আয়াতে গাইরে মাহরামদের (যাদের সাথে বিয়ে জায়েয কিন্তু দেখা দেওয়া হারাম) তালিকা দেওয়া হয়। ৩৫ আয়াতে আল্লাহ একটি উপমার দ্বারা নিজের পরিচয় তুলে ধরেছেন । পরবর্তী আয়াতগুলোতে সৃষ্ঠিজগতের প্রাকৃতিক ও বৈজ্ঞানিক কিছু নিদর্শনের প্রতি ইঙ্গিত করে পরকালের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়েছে।


তাফসীর:
যে দু’-তিনজন সরলপ্রাণ মুসলিম মুনাফেকদের অপপ্রচারের শিকার হয়েছিল, তাদের একজন মিসতাহ ইবনে উছাছা (রাযি.)। ইনি একজন মুহাজির সাহাবী ছিলেন। হযরত আবু বকর সিদ্দীক রাযিয়াল্লাহু আনহুর সঙ্গে তাঁর আত্মীয়তা ছিল। তিনি গরীব ছিলেন। হযরত সিদ্দীকে আকবার রাযিয়াল্লাহু আনহু তাঁকে আর্থিক সাহায্য করতেন। তিনি যখন জানতে পারলেন মিসতাহ রাযিয়াল্লাহু আনহুও হযরত আয়েশা সিদ্দীকা রাযিয়াল্লাহু আনহা সম্পর্কে অনুচিত কথাবার্তা বলছে, তখন শপথ করলেন, আমি ভবিষ্যতে কখনও তাকে আর্থিক সাহায্য করব না। হযরত মিসতাহ রাযিয়াল্লাহু আনহুর ভুল অবশ্যই হয়েছিল, কিন্তু তিনি সে ভুলের উপরই গোঁ ধরে বসে থাকেননি; বরং সেজন্য অনুতপ্ত হয়েছিলেন ও খাঁটিমনে তাওবা করেছিলেন। তাই আল্লাহ তাআলা সতর্ক করে দেন যে, তাকে আর্থিক সহযোগিতা না করার শপথ করা উচিত নয়। যখন তিনি তাওবা করে ফেলেছেন, তাকে ক্ষমা করা উচিত। [বিশেষত এ কারণেও যে, তোমাদেরও তো কত ভুল-ত্রুটি হয়ে থাকে। তোমরা কি চাও না আল্লাহ তাআলা সেগুলো ক্ষমা করে দিন? তা চাইলে তোমরা অন্যের প্রতি ক্ষমাপ্রবণ হও। তাহলে আল্লাহ তাআলার কাছে তোমরাও ক্ষমাপ্রাপ্ত হবে। এ আয়াত নাযিল হলে হযরত আবু বকর সিদ্দীক রাযিয়াল্লাহু আনহু চিৎকার করে বলে ওঠেন, অবশ্যই হে আমাদের রব! আমরা চাই তুমি আমাদের ক্ষমা কর -অনুবাদক] অনন্তর তিনি পুনরায় তার অর্থ সাহায্য জারি করে দেন এবং কসমের কাফফারা আদায় করেন। সেই সাথে ঘোষণা করে দেন, আর কখনও এ সাহায্য বন্ধ করব না।




পেক্ষাপট:
أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ مَنْ سَرَّهُ أَنْ يُبْسَطَ لَهُ فِي رِزْقِهِ أَوْ يُنْسَأَ لَهُ فِي أَثَرِهِ فَلْيَصِلْ رَحِمَهُ

১ আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি শুনেছি, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি পছন্দ করে যে, তার জীবিকা বৃদ্ধি হোক অথবা তাঁর মৃত্যুর পরে সুনাম থাকুক, তার জন্য আত্মীয়-স্বজনের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখা উচিত।
(বুখারি : ২০৬৭; মুসলিম : ২৫৫৭)

قَالَ إِنَّ جُبَيْرَ بْنَ مُطْعِمٍ أَخْبَرَهُ أَنَّهُ، سَمِعَ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ ‏ "‏ لاَ يَدْخُلُ الْجَنَّةَ قَاطِعٌ ‏"‏‏.‏
২ যুবায়র ইবনু মুত’ইম (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছেনঃ আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্নকারী জান্নাতে প্রবেশ করবে না।
(বুখারী-৫৯৮৪ )

৩ আবু হুরাইরাহ (রা.) বলেন, নবী (সা.) বলেছেন, ‘আল্লাহর কসম! সে ব্যক্তি মুমিন নয়। আল্লাহর কসম! সে ব্যক্তি মুমিন নয়। আল্লাহর কসম! সে ব্যক্তি মুমিন নয়।’ জিজ্ঞেস করা হলো, ‘কোনো ব্যক্তি? হে আল্লাহর রসুল?’ তিনি উত্তরে বললেন, যে ব্যক্তির প্রতিবেশী তার অনিষ্ট থেকে নিরাপদ থাকে না।

(সহিহুল বুখারি ৬০১৬ )
আয়াত:
اِنَّ اللّٰهَ یَاۡمُرُ بِالۡعَدۡلِ وَ الۡاِحۡسَانِ وَ اِیۡتَآیِٔ ذِی الۡقُرۡبٰی وَ یَنۡهٰی عَنِ الۡفَحۡشَآءِ وَ الۡمُنۡکَرِ وَ الۡبَغۡیِ ۚ یَعِظُکُمۡ لَعَلَّکُمۡ تَذَکَّرُوۡنَ
১ আল্লাহ ন্যায়-বিচার, সদাচরণ ও আত্মীয়দেরকে দেয়ার হুকুম দিচ্ছেন, আর তিনি নিষেধ করছেন অশ্লীলতা, অপকর্ম আর বিদ্রোহ থেকে। তিনি তোমাদেরকে উপদেশ দিয়েছেন যাতে তোমরা শিক্ষা গ্রহণ কর।
(আন- নাহল- ১৬: ৯০)

وَاعْبُدُوا اللَّهَ وَلَا تُشْرِكُوا بِهِ شَيْئًا ۖ وَبِالْوَالِدَيْنِ إِحْسَانًا وَبِذِي الْقُرْبَىٰ وَالْيَتَامَىٰ وَالْمَسَاكِينِ وَالْجَارِ ذِي الْقُرْبَىٰ وَالْجَارِ الْجُنُبِ وَالصَّاحِبِ بِالْجَنبِ وَابْنِ السَّبِيلِ وَمَا مَلَكَتْ أَيْمَانُكُمْ ۗ إِنَّ اللَّهَ لَا يُحِبُّ مَن كَانَ مُخْتَالًا فَخُورًا

২ তোমরা ইবাদাত কর আল্লাহর, তাঁর সাথে কোন কিছুকে শরীক করো না। আর সদ্ব্যবহার কর মাতা-পিতার সাথে নিকট আত্মীয়ের, সাথে ইয়াতীম, মিসকীন নিকট আত্মীয়- প্রতিবেশী, অনাত্মীয়- প্রতিবেশী পার্শ্ববর্তী সাথী মুসাফির এবং তোমাদের মালিকানাভুক্ত দাস-দাসীদের সাথে। নিশ্চয় আল্লাহ পছন্দ করেন না তাদেরকে যারা দাম্ভিক অহঙ্কারী।
(সুরা আন-নিসা-৩৬)


یٰۤاَیُّہَا النَّاسُ اتَّقُوۡا رَبَّکُمُ الَّذِیۡ خَلَقَکُمۡ مِّنۡ نَّفۡسٍ وَّاحِدَۃٍ وَّخَلَقَ مِنۡہَا زَوۡجَہَا وَبَثَّ مِنۡہُمَا رِجَالًا کَثِیۡرًا وَّنِسَآءً ۚ وَاتَّقُوا اللّٰہَ الَّذِیۡ تَسَآءَلُوۡنَ بِہٖ وَالۡاَرۡحَامَ ؕ اِنَّ اللّٰہَ کَانَ عَلَیۡکُمۡ رَقِیۡبًا
৩ হে মানুষ, তোমরা তোমাদের রবকে ভয় কর, যিনি তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছেন এক নফ্স থেকে। আর তা থেকে সৃষ্টি করেছেন তার স্ত্রীকে এবং তাদের থেকে ছড়িয়ে দিয়েছেন বহু পুরুষ ও নারী। আর তোমরা আল্লাহকে ভয় কর, যার মাধ্যমে তোমরা একে অপরের কাছে চেয়ে থাক। আর ভয় কর রক্ত-সম্পর্কিত আত্মীয়ের ব্যাপারে। নিশ্চয় আল্লাহ তোমাদের উপর পর্যবেক্ষক।

(সুরা নিসা-১ )


اِنَّمَا الۡمُؤۡمِنُوۡنَ اِخۡوَۃٌ فَاَصۡلِحُوۡا بَیۡنَ اَخَوَیۡکُمۡ وَ اتَّقُوا اللّٰهَ لَعَلَّکُمۡ تُرۡحَمُوۡنَ
৪ নিশ্চয়ই মুমিনগণ পরস্পর ভাই ভাই। সুতরাং তোমাদের ভাইদের মধ্যে মীমাংসা করে দাও। আর তোমরা আল্লাহকে ভয় করো। আশা করা যায় তোমরা রহমতপ্রাপ্ত হবে।
(সুরা হুজুরাত: আয়াত ১০)

وَ اٰتِ ذَاالۡقُرۡبٰی حَقَّهٗ وَ الۡمِسۡکِیۡنَ وَ ابۡنَ السَّبِیۡلِ وَ لَا تُبَذِّرۡ تَبۡذِیۡرًا
৫ আর আত্মীয়কে তার হক দিয়ে দাও এবং মিসকীন ও মুসাফিরকেও। আর কোনভাবেই অপব্যয় করো না।
(সুরা ইসরা : ২৬ )


প্রতিবেশি ও আত্মীয়র অধিকার
ভুমিকা:
সৃষ্টির সূচনালগ্ন থেকে মানুষ পরস্পর একতাবদ্ধ হয়ে বসবাস করে আসছে। বাড়ীর পাশাপাশি বসবাসকারী আত্মীয় বা অনাত্মীয় লোকজনই প্রতিবেশী। মানুষের সুখে-দুঃখে, বিপদে-আপদে এরাই সর্বাগ্রে এগিয়ে আসে এবং সহযোগিতার হাত সম্প্রসারিত করে। কাজেই এই প্রতিবেশীর সাথে সদাচরণ করা যরূরী। প্রতিবেশীর সাথে সম্পর্ককে আন্তরিক ও সহানুভূতিশীল করার লক্ষ্যে ইসলাম বিশেষভাবে নির্দেশ দিয়েছে। এই নির্দেশ প্রতিটি মানুষের জন্য অবশ্য পালনীয়।

প্রতিবেশীর পরিচয় :
প্রতিবেশীর আরবী প্রতিশব্দ جار (জার) এবং ইংরেজী প্রতিশব্দ Neighbour. পারিভাষিক অর্থ- তোমার পরে বা পার্শ্বে বসবাসকারী লোক। আমাদের বাসা-বাড়ির চার পাশে যেসব লোকজন বসবাস করেন তারা আমাদের প্রতিবেশী। প্রতিবেশী বলতে মুসলিম, অমুসলিম, নেককার বান্দা, ফাসেক, বন্ধু, শত্রু, পরদেশি, স্বদেশি, উপকারী, ক্ষতিসাধনকারী, আত্মীয়, অনাত্মীয়, কাছের কিংবা দূরের প্রতিবেশী সবাই এ জারের অন্তর্ভুক্ত।

প্রতিবেশী গণ্য হওয়ার সীমা :
এ সম্পর্কে বিভিন্ন অভিমত পাওয়া যায়। যেমন-
১ হাসান (রাঃ) বললেন, নিজের ঘর হতে চারদিকে চল্লিশ ঘর, এর অধিবাসী লোকজনই প্রতিবেশী হিসাবে গণ্য।
২কেউ বলেন, যে ব্যক্তি ডাক শুনতে পায় সে প্রতিবেশী।
৩ যে অতি নিকটে বা পাশাপাশি থাকে সে প্রতিবেশী।
৪কেউ বলেন, প্রতিবেশী হচ্ছে যারা একই মসজিদে সমবেত হয়।

প্রতিবেশীর প্রকার :
১ এক হকবিশিষ্ট প্রতিবেশী: তারা শুধু প্রতিবেশী কিন্তু আত্মীয় নয় এবং অমুসলিম।
২ দুই হকবিশিষ্ট প্রতিবেশী: তারা প্রতিবেশী হওয়ার পাশাপাশি মুসলমান কিন্তু আত্মীয় নয়।
৩ তিন হকবিশিষ্ট প্রতিবেশী: তারা প্রতিবেশী হওয়ার পাশাপাশি মুসলমান এবং আত্মীয়ও বটে।

সমাজবদ্ধ পৃথিবীতে মানুষের জীবনযাত্রায় প্রতিবেশীর গুরুত্ব অপরিসীম। দুঃখ কষ্ট আনন্দ বেদনায় এ প্রতিবেশীই মানুষের নিত্যসঙ্গী। গ্রামীণ জীবনে প্রতিবেশীর প্রতি আমাদের ভালোবাসা সহমর্মিতা তুলনামূলক বজায় থাকলেও ইট-পাথরের শহরে তা অনেকটাই হতাশাজনক। ইসলাম এক প্রতিবেশীর প্রতি অপর প্রতিবেশীর কিছু দায়িত্ব আরোপ করেছে। তাহলো-

১ প্রতিবেশীর প্রতি রহম করা ।
২ প্রতিবেশীকে কষ্ট না দেওয়া ।
৩ প্রতিবেশীকে হাদিয়া দেওয়া ।
৪ প্রতিবেশীর সাথে বিবাদ না করা ।
৫ প্রতিবেশীর দুঃখে সান্তনা দেওয়া ।
৬ প্রতিবেশীর মাঝে ন্যায় বিচার করা ।
৭ প্রতিবেশীর দাওয়াত কবুল করা ।



মন্তব্য ০ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (০) মন্তব্য লিখুন

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.