| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
শাহীন ৭১
কিছুদিন ধরে New Zealand এর পটভূমিতে একটা লেখা দাড় করাবার চেষ্টা করছি ৷ কাজের ফাঁকে ফাঁকে সময় পেলে একটু একটু করে লিখছি ৷ এটি একটি বড় গল্প বা উপন্যাসও হতে পারে ৷ লেখার শুরুটা দাড়িয়ে গেছে, তবে শেষটা শুধু চিন্তা করে রেখেছি ৷ আমি এভাবেই লেখা লেখি করি ৷ আজকে বন্ধুদের সাথে এর একদম শুরুটা share করছি ৷ Guess where the story is heading ..............
কনকের মনটা ভালো নেই ৷ কুইন্স স্ট্রীটের চৌরাস্তায় স্টিয়ারিং হুইলের উপর হাত রেখে আকাশ দেখে মনে হলো বৃষ্টি আসবার সম্ভাবনা আছে ৷ মানুষ আর গাড়ির কোলাহলে মন খারাপের তেমন সুযোগ কোথায়, কিন্তু কনকের আর কিছু করবার নেই ৷ রাস্তার লাল বাতিটা মনে হয় মিনিট খানেকেরো বেশি জ্বলে আছে ৷ রাস্তা পার হতে হতে লাল চুলের একটি মেয়ে কনকের দিকে হাসি ছুড়ে দিয়ে গেল ৷ কনকের মাথাটা ভালো কাজ করছে না ৷ মেয়েটাকে কোথায় দেখেছে তাও মনে করতে পারল না ৷
এদেশে কনক আছে আজ প্রায় দশ বছরের ওপর হোয়ে গেল, কিন্তু দেশটার আবহাওয়ার মতগতি এখনো বুঝতে পারলো না ৷ তবে কটা জিনিস ঠিকই রপ্ত করে ফেলেছে ৷ এর মাঝে একটি হলো সকালে বাসা থেকে বের হবার আগে টিভিতে দিনের আবহাওয়ার আগাম খবরটা জেনে নেওয়া ৷ সেই সাথে সবসময় সঙ্গে একটি ছোট ছাতা আর গাড়ির পেছনের সিটে একটি গরম কাপড় রাখতেও ভুল করে না ৷ এদেশের সমুদ্র সৈকতগুলো এত সুন্দরযে দেখলেই নেমে পড়তে ইচ্ছে করে ৷ আর সেটা করতে গেলেই যে হাড়কাপানো বাতাস তেড়ে আসে তা ঠেকানোর জন্য গাড়িতে রাখা গরম কাপড় তখন এক মহা সস্তিদাতা ৷ কনক যখন অকল্যান্ড প্রথম আসে তখন এখানে বাংলাদেশী ছাত্র ছাত্রী হাতে গোনা মাত্র কজন ৷ সেসময় দেশের কথা ভেবে কনকের খুব খারাপ লাগত ৷ কত রাতযে ৪০ বর্গ মিটারের খুপরি স্টুডেন্ট এপার্টমেন্টের ব্যালকনিতে বসে চোখের জলে বুক ভাসিয়েছে তার শেষ নেই ৷
সময়ের সাথে সাথে সবকিছু ঠিক হয়ে যায় ৷ কনকের বেলায়েও এর ব্যতিক্রম হয় নি ৷ এলবার্ট পার্কের বেঞ্চে বসে ইউনিভার্সিটির ক্লক টাওয়ারের দিকে তাকিয়ে থাকতে থাকতে ও কখনযে এ শহরটাকে এ শহরের মানুষগুলোকে ভালোবেসে ফেলেছে তা নিজেও বলতে পারবে না ৷ সাইমন্ডস স্ট্রীটের কোনায় ডিপার্টমেন্টের চারতলা ভিক্টোরিয়ান দালানটি হয়ে গেল কনকের দিনরাতের সঙ্গী ৷ কাফেটেরিয়ার আড্ডা আর ডিজাইন ষ্টুডিওর গ্রুপ প্রজেক্টে হক্স বের জেমস, চিনের মিং আর পাশের বাড়ি কলকাতার চিত্রার সাথে মিশতে মিশতে কনক রুপান্তরিত হলো একজন আন্তর্জাতিক মানুষে ৷
©somewhere in net ltd.