| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
শাহীন ৭১
ঘুমটা আসিফের হঠাত করেই ভেঙ্গে গেল ৷ কোথায় আছে তাও চট করে ও বুঝতে পারল না ৷ চোখের সামনে ৫৫" LED স্ক্রীনে দেখতে পেল Eagles এর Don Henley ড্রামের তালে তালে গেয়ে চলেছে The boys of summer ৷ মনে পড়ল Eagles এর এই Farewell Concert ও দেখেছে ৷ তখনি বুঝতে পারল ও এতক্ষণ ঘুমাচ্ছিল Melbourne Airport এর ট্রানসিট লাউঞ্জে ৷ মাঝ রাতে Emirates এর বিশাল A380 প্লেনটা ওদের নামিয়ে দিয়ে গেছে এ এয়ারপোর্টএ ৷ কুয়ালালামপুর থেকে আসবার পথে আসিফের কোনো ধারনাই ছিলনা যে Auckland এর connecting ফ্লাইট ধরতে ওকে মেলবোর্ন এ প্রায় ১০ ঘন্টা বসে থাকতে হবে ৷ এই এয়ারপোর্টএ আসিফ বহুবার এসেছে, কিন্তু জায়গাটা ওকে কখনই আকর্ষণ করেনি ৷ সবসময় ভাঙ্গা গড়ার কাজ চলছে ৷ একেকবার একেক লেআউটএ এসে পড়তে হয় ৷ আজকে যেমন স্বল্পপরিসর এই ট্রানসিট লাউঞ্জের এককোনায় বসে থাকতে ওর একদম ভালো লাগছে না ৷ অকল্যান্ডএ যতটা সম্ভব তাড়াতাড়ি পৌছানোটা ওর জন্য খুব জরুরি ৷ আর ও কিনা বসে আছে তাসমান সাগরের ওপারে ৷
আসিফ উঠে দাড়িয়ে ঘুম তাড়ানোর চেষ্টা করলো ৷ ঘড়িতে বাজে সকাল ৬.২০ ৷ আশেপাশে দুএকজন মানুষ এখনো গদিমোড়া সোফাতে বসেবসেই ঘুমাচ্ছে ৷ সামনে dutyfree দোকানের ঝলমলে আলো, তবে কোনো ক্রেতা বা বিক্রেতাকে দেখা যাচ্ছে না ৷ এসব দেশে লোকজন পরিবেশ নিয়ে খুবই সচেতন, অথচ দোকানগুলোতে দিনরাত ২৪ ঘন্টা বাতি জলছে আর কত যে বিদ্দুতের অপচয় হচ্ছে ৷ তা নিয়ে কারো কোনো মাথাব্যথা আছে বলে মনে হয় না ৷ এই dutyfree দোকান গুলোর ব্যবসা রহস্য বোঝা বড় মুশকিল ৷ দুবাই বা সিঙ্গাপুর এয়ারপোর্টএ অনেক মানুষকে এসব দোকানে ঘোরাঘুরি করতে দেখা যায়, কিন্তু সিডনি বা মেলবোর্ন বা অকল্যান্ড এয়ারপোর্টএর দোকানগুলোতে দেখা যায় কদাচিত কিছু মানুষ ৷ তারপরও এরা আলো ঝলমলে দোকানে অত্যাধুনিক গ্যাজেটস, দামী পারফিউম আর ওয়াইন এর পসার বসিয়ে ক্রেতা ধরবার আশায় বসে থাকে ৷ এসব ভাবতে ভাবতে আসিফ আরো বিরক্ত বোধ করছিল ৷
জুলাই মাসের এসময়টা মেলবোর্ন শহরে বৃষ্টির ঘনঘটা ৷ এয়ারপোর্টএর বাইরে ঘোরাঘুরির সুযোগও খুব কম ৷ খিদের বদলে কফির তৃষ্ণা আসিফকে ধরে বসলো ৷ এই সকাল বেলায় কফি সপ তো খুলে যাবার কথা ৷ আলো ঝলমলে করিডোর দিয়ে আসিফ সামনের লাউঞ্জেএর দিকে হাটতে শুরু করলো ৷ ও গুনগুন করে গাইবার চেষ্টা করলো ..... লাল পাহাড়ের দেশে যা ..... রাঙামাটির দেশে যা .... ইতাক তোকে মানায়ছেনারে .... ইকেবারে মানায়ছেনারে ৷ এ গানের কর্ডটা গিটারে কি হতে পারে ! যদিও বেশিরভাগ বাংলা গান ঘোরাঘুরি করে D, G আর A কর্ডএর মাঝে, আসিফের মনে হলো এ গানে নিশ্চই কিছু ভেরিয়েশন আছে ৷ ভাবতে ভাবতে আসিফ এসে দাড়ালো এক বিশাল ট্রিপল glazed কার্টেন ওয়ালএর পাশে ৷ বাইরে সকাল হতে শুরু করেছে ৷ যদিও সূর্যের দেখা আজ পাওয়া যাবে বলে মনে হয় না ৷ আকাশ ঘন মেঘের চাদরে ঢাকা ৷ টার্মাকের ওপরে ফোটা ফোটা বৃষ্টি পড়ছে ৷ এই সাতসকালেই এয়ারপোর্ট কর্মীদের ছোটাছুটি আর ব্যস্ততা শুরু হোয়ে গেছে ৷
মেলবোর্নএর এই এয়ারপোর্টটা মূল শহর থেকে বেশ কিছুটা দুরে ৷ আশেপাশের জায়গা মূলত শিল্পাঞ্চল, আবাসিক বাড়ি ঘরও কিছু আছে, যদিও টার্মিনাল ভবন থেকে কিছুই দেখবার উপায় নেই ৷ সামনের লম্বা কাঁচে নিজের ছায়া দেখতে দেখতে আসিফের হঠাত মনে হলো ওকে কি কেউ লক্ষ্য করছে ! চট করে ঘাড় ঘুরিয়ে পেছনটা ও দেখে নিল ৷ না, আশেপাশে কাউকে দেখা যাচ্ছে না ৷ ওকে আরেকটু সতর্ক হতে হবে, চিন্তিত মুখে আসিফ লম্বা লম্বা পা ফেলে সামনের দিকে এগুলো ৷ যদিও ও খেয়াল করলো না যে এক জোড়া চোখ ওকে অনেক্ষণ ধরেই মনোযোগ দিয়ে অনুসরণ করছে ৷
১১ ই জানুয়ারি, ২০১৫ রাত ২:৫৯
শাহীন ৭১ বলেছেন: আপনার মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ ৷ আমি আপনার সাথে সম্পূর্ণ দ্বীমত করছি না ৷ তবে কিছু কিছু ইংরেজি শব্দ তার অরিজিনাল ফর্মেই মনে হয় দেখতে ভালো লাগে ৷ এছাড়া আমি মনে হয় একজন অলস লেখক ৷ অনেক সময় কিছু শব্দ ইংরেজি থেকে বাংলা করবার কষ্ট করতে ইচ্ছে করে না ৷ আশাকরি আমার লেখার পরবর্তী পর্বগুলো পড়বেন ৷
©somewhere in net ltd.
১|
১০ ই জানুয়ারি, ২০১৫ বিকাল ৩:১৫
কাল্পনিক_ভালোবাসা বলেছেন: লেখা ভালোই লেগেছে। তবে মনে হয় - ইংরেজি শব্দগুলো বাংলায় বানান করে লিখলেই পড়তে বেশি ভালো লাগত।