| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
শাহীন ৭১
নিরালার মোড়ে দাড়িয়ে থাকতে থাকতে কনকের পানির তৃষ্ণা পেয়ে গেল ৷ বেলা বারোটা বেজে গেছে ৷ সূর্য একেবারে মাথার ওপরে গনগন করছে ৷ আশেপাশে কোনো ভ্যান গাড়ি দেখা যাচ্ছে না ৷ কনকের সাথে আছে মার্থা ৷ বেচারা রোদের তাপে অস্থির হয়ে পাশের দোকান এর ছায়ায় গিয়ে দাড়িয়েছে ৷ ওরা খুলনা এসেছে দুদিন হলো ৷ কাজ বিশেষ কিছু হয় নি ৷ তবে থাকবার জন্য নিরালা এলাকায় গেস্ট হাউসটি পাওয়াতে রুহুলের সাথে যোগাযোগ করাটা সহজ হয়ে গেছে ৷
কনকের ছেলেবেলার বন্ধু রুহুল ৷ অনেক ঘাটের জল খেয়ে এখন ও শিক্ষকতার কাজ করছে খুলনা ইউনিভার্সিটির আর্কিটেকচার ডিপার্টমেন্টএর সহকারী অধ্যাপক হিসাবে ৷ Nike র যে বিশেষ প্রজেক্টের কাজ নিয়ে কনক খুলনা এসেছে তাতে রুহুলের সাহায্যটা খুব দরকার ৷ সুন্দরবনের যে জায়গাটা ফোটো শুটিং এর স্পট হিসেবে জরিপ করবার জন্য কনক আর মার্থা এসেছে সেটি দক্ষিনাঞ্চলীয় লাল পতাকা দলের এলাকা ৷ মংলার একটি ভূমিহীন সমিতির ছেলেরা রুহুলের খুব ভক্ত ৷ এই ছেলেরাই পারবে লাল পতাকা দলের অনুমতি নিয়ে কনক আর মার্থাকে সুন্দরবনের ওই বিশেষ জায়গাটায় পৌছে দিতে ৷
কনক ঘাড় ঘুরিয়ে মার্থাকে দেখবার চেষ্টা করলো ৷ এই জুন মাসে বাংলাদেশের গরমে বেচারার মুখটা একেবারে টমাটোর মত লাল হোয়ে গেছে ৷ তাই বলে ওর উত্সাহের কোনো শেষ নেই ৷ কাঁধে ঝোলানো Nikon D4 ক্যামেরাটা দিয়ে মার্থা তখন প্রচন্ড আগ্রহ নিয়ে একটি খালি গায়ের বাচ্চা ছেলেকে ভাঙ্গা একটি দেয়ালের সামনে দাড় করিয়ে বিভিন্ন ভঙ্গিতে ছবি তুলছে ৷ যশোহর এয়ারপোর্ট থেকে বিমানের বাসে করে খুলনা আসবার পথেও মার্থার উত্সাহের কোনো কমতি ছিল না ৷ খুলনা কনকের জন্যও নতুন জায়গা ৷ বিশেষ করে খুলনা যশোহর হাইওয়ের দুপাশে কৃষ্ণচুড়ার সারি দেখে মনে হচ্ছিল ঘন সবুজের মাঝে এরকম রক্ত লাল প্রকৃতি দেখবার জন্য বাংলাদেশে বার বার ফিরে আসা যায় ৷ যদিও কনকের মাথায় তখন ঘুরপাক খাচ্ছে কদিন আগের অকল্যান্ড এর বোর্ডরুমের আলাপের বিসয়বস্তু ৷ মোটামুটি একটা চ্যালেঞ্জ নিয়েই কনক এবার বাংলাদেশে এসেছে ৷
Nike র নতুন প্রোডাক্ট Air Max 90 Sneakerboot এর Asia-Pacific ক্যাম্পেইনটা পাবার পর কনক বেশ কিছুটা সময় কাটিয়েছিল ওর কোম্পানির ক্রিয়েটিভ ডিরেক্টর Alastair Ray র সাথে প্রজেক্টএর পরিকল্পনা নিয়ে ৷ কনকের বহুদিনের ইচ্ছে Royal Bengal Tiger কে একটা ক্যাম্পেইনএর থিম হিসেবে ব্যবহার করা ৷ Air Max 90র চনমনে গতিকে একটি বাঘের বাচ্চার নতুন শেখা দৌড়ের সাথে তুলনা করবার এ সুযোগটা কনক হারাতে চায় নি ৷ তবে চিন্তা ছিল এর বাস্তবায়ন নিয়ে ৷ আজকাল কম্পিউটার অ্যানিমেশন এর যুগে real life shooting এর সুযোগ কমে আসছে ৷ Manila তে অবস্থিত Maya Animation ষ্টুডিওর চিফ অ্যানিমেটর Eugene Lee কনকের খুবই পরিচিত ৷ একটি শিশু বাঘের ৩০ সেকেন্ডএর মুভি ক্লিপ করে Eugene ওকে পাঠিয়ে দিল ৷ ঐ ক্লিপ নিয়ে মার্থার সাথে কনক তিনদিনের একটি ডিজাইন সেশন করলো ৷ তারপরে বসলো ওদের মাস্টার ফটোগ্রাফার Robin Kim এর সাথে ৷ Robin বেশ কিছুদিন National Geography র হনলুলু অফিসে কাজ করেছে ৷ নেচার ফোটোগ্রাফিতে Robin একজন বিশেষজ্ঞ মানুষ ৷ ওর সাথে আলাপ করবার পরে কনকের সিধান্ত নিতে আর দেরী হলো না ৷ Board কে রাজি করালো সুন্দরবনে শুটিং করবার ৷ তবে শুটিংএর সময়টা চিন্তার বিষয় ছিল ৷ সুন্দরবনে সাধারণত মে জুন মাসের আগে শিশু বাঘের দেখা পাওয়া যায় না ৷ আর ঐ সময়টা হচ্ছে বাংলাদেশের ভয়াবহ গরম কালের শুরু ৷ কনকের শুটিং পার্টির জন্য যা মোটেই সুখকর হবে না ৷ তবে মার্থার উত্সাহে কনক সিধান্ত নিতে দেরি করলো না ৷
অকল্যান্ড ছাড়বার আগে কনক কটাদিন খুব ব্যস্ত সময় কাটাল প্রজেক্টের খুটিনাটি নিয়ে ৷ নিউজিল্যান্ডএ শীতটা তখন জাঁকিয়ে বসেছে ৷ জুন মাসের এক বিকেলে কনকের মেটালিক ব্লু রঙের Mini Countryman টা ছুটল এয়ারপোর্টএর উদ্দেশ্যে ৷ চারদিকে সেসময় আলো আঁধারের খেলা ৷ আর নতুন বানানো motorway র পিচঢালা পথে গাড়ির চাকার আওয়াজ থেকে আসছে এক মায়াবি শব্দ তরঙ্গ ৷ Mangere Bridge টা পার হতে হতে ডানদিকে ঘাড় ঘুরিয়ে কনক আবছা আলোএ Onehunga Silo র সাদা কাঠামোটা ভুতের মত দাড়িয়ে থাকতে দেখল ৷ ঠিক তখনি সামনে ড্যাশবোর্ডএর ওপর রাখা মোবাইল ফোনটা থেকে iMessage এর সংকেত ভেসে এলো ৷ স্ক্রীনের আলোটা নিভে যাবার আগেই কনকের পড়তে অসুবিধে হলো না, এক লাইনএর ছোটো একটি মেসেজ - Asif is missing in Melbourne ........
©somewhere in net ltd.