| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
শৈবাল চৌধুরী
"আমার আমি"কে খুঁজে ফিরি প্রতিনিয়ত। সমাজের আর দশটা চরিত্রের সাথে নিজেকে মিলাতে চেষ্টা করি কিন্তু কোথায় যেন একটু অপূর্ণতা থেকেই যায়। তাই "আমার আমি"টার সন্ধানে নিরন্তর ছুটে চলা...
প্রাণপ্রাচুর্যে ভরা বাঙালির দুয়ারে কড়া নাড়ছে আরও একটি নতুন বছর। সকালের নতুন সূর্যটার সাথে আমরা পাচ্ছি '১৪২০' সনকে। হাজার বছর ধরে যে সংস্কৃতিকে বাঙালি লালন করে আসছে, তার কিছু বিষয় আজ হোঁচট খাচ্ছে কথিত আধুনিকতায়। সংস্কৃতি বলতে যদি 'কোন জাতির সার্বিক জীবনাচরণ'-কে বোঝায়; তবে আমি বলবো আমাদের সংস্কৃতির দ্রুত পরিবর্তন ঘটছে। 'ঘটছে' না বলে বরং আমরা ঘটতে দিচ্ছি বলাটাই বোধ হয় যুক্তিযুক্ত। আর আমরা বাঙালিরা জাতিতে অনেকটাই Volatile (নিয়তপরিবর্তনশীল) প্রকৃতির। তার চেয়েও বেশি আমরা অনুকরণপ্রিয়। কিন্তু এমনটি হওয়ার কথা নয়। প্রত্যেক জাতির-ই কিছু নিজস্বতা থাকে, আমাদেরও আছে। কিন্তু তা অনেক দূরে ঠেলে দিয়ে অনুকরণ করতেই বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করি। আর এ জন্যই ভিন্ন সংস্কৃতি এখানে প্রথমে মাথাচাড়া দেয় এবং ক্রমান্বয়ে শক্ত-পোক্ত আসন গেড়ে বসে। কোনো জাতির সংস্কৃতিতে একদিনে পরিবর্তন ঘটে না, আমাদেরও ঘটেনি। শিল্প-সাহিত্য যদি সংস্কৃতির বাহন হয়ে থাকে, তবে আমি বলবো, পশ্চিমা শিল্প-সাহিত্য এ দেশের সংকৃতিতে আশির্বাদ না হয়ে বরং বিড়ম্বনাই ডেকে এনেছে। এ সবের কতটা নেওয়া দরকার আর কতটা নিলে আমার অস্তিত্ব হুমকির মুখে পড়বে- এই বোধটুকু আমাদের নেই বলেই আজ আমাদের মানসিকতায় অনেক বড় পরিবর্তন আসছে। আমরা মনে করছি লুঙ্গি হচ্ছে 'নিচু শ্রেণি'র মানুষের পোশাক। কিংবা লুঙ্গি বাসায় পরা গেলেও কোনভাবেই তা বাইরে পরে যাওয়ার মতো পোশাক নয়। এ মানসিকতা নিশ্চয়-ই একদিনে গড়ে ওঠেনি ? পশ্চিমা ও পার্শ্ববর্তী দেশের চলচ্চিত্রে যা দেখানো হয়, তার প্রভাব আমাদের সমাজে লক্ষ্য করা যাচ্ছে বহুদিন থেকেই। আমরা দেখে দেখে তা মানিয়ে নিচ্ছি। কিন্তু চেতনায় নাড়া পড়ে তখনই, যখন আমার বাবার বড় শখের 'তবন' (লুঙ্গি) খানিতে টান পড়ে। ধীরে ধীরে হয়তো আরও অনেক কিছুতেই টান পড়বে; যদি না এখনই তা আগলে রাখি। আমাদের নিজস্ব সংস্কৃতি তার শহুরে খোলসে বন্দি হচ্ছে প্রতিনিয়ত। এখানে তা 'পহেলা ফাল্গুন', 'চৈত্রসংক্রান্তি' আর 'পহেলা বৈশাখ'-এর আবর্তে ঘুরপাক খাচ্ছে। বাকি সবকিছুকে আমরা 'লোক সংস্কৃতি'র লেবাস পরিয়ে জাদুঘরে ঠেলে দিচ্ছি সংরক্ষণ করবো বলে। তথাকথিত আধুনিকতা ও নবসভ্যতার ডামাঢোলে টেরই পাচ্ছিনা কখন যে আমার সংস্কৃতি আমার কাছেই হয়ে উঠছে অচেনা। এখন বুঝি সময় এসেছে আরও একবার নড়েচড়ে বসার, কান পেতে শোনার সেই মেঠো সুর, নাক দিয়ে শোঁকার চির চেনা সেই মাটির সোঁদা গন্ধ।
সব বন্ধুদের জানাচ্ছি,শুভ নববর্ষ। নতুন বছরটি অনেক ভালো কাটুক। শত উদ্বেগ, উৎকণ্ঠা আর বিভীষিকার মাঝেও যেন খুঁজে পাই বেঁচে থাকার অপার আনন্দ- এমনটিই প্রত্যাশা করছি...
©somewhere in net ltd.