নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

Triumph of Death

আমি সকল ধর্মের উদ্ধে উঠে মানবতাকে আলিঙ্গন করতে চাই।

রুদ্ধ কারাগারে অবরুদ্ধ মন

রুদ্ধ কারাগারে অবরুদ্ধ মন › বিস্তারিত পোস্টঃ

নিরবতা পালন নয় এখন সময় যুদ্ধে যাওয়ার

০৩ রা মার্চ, ২০১৩ রাত ১:০৬

ছোট বেলায় আমরা দাদা বাড়িতে গেলে চাচাতো ও ফুপাতো ভাই-বোনেরা মিলে গল্প গল্প খেলতাম। সবার একটা করে গল্প বলতে হবে, সেরা গল্প যে বলবে সে বিজয়ী হবে। তেমনি কোনো এক আসরে আমার ফুপাত ভাই একটি গল্প বলেছিল। তখন অনেক ছোট তাই সেই সময়ের স্মৃতি ভালো মনে না থাকলেও গল্পটি কেনো যেন মনে দাগ কেটে গিয়েছিল। এখন গল্পটি দিয়েই আমার মূল আলোচনার দিকে যাব।

"এক বনে একটি বিশাল বট গাছে অনেক পাখি বাস করত। গাছটি ছিল নদীর ধারে, তাই মাঝে মাঝে কিছু হাঁস সাতরাতে সাতরাতে গাছটির কাছে আসত। একদিন তারা লক্ষ্য করলো যে গাছটির গোড়ায় কিছু লতানো গুল্ম জন্মেছে। তা দেখে তারা ঐ গাছের বাসিন্দা পাখিদের ডেকে বলল সময় থাকতেই তারা যেনো তা ধ্বংস করে ফেলে। কিন্তু তারা গায়ে মাখালো না হাঁসের কথা। ভাবলো সামান্য লতা আর কি ক্ষতি করতে পারে। একসময় সেই লতা বড় হতে হতে সমগ্র গাছ ছেয়ে ফেললো আর অনেক মজবুতও হলো। এক পাখি শিকারী একদিন গাছটির পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় পাখির বাসস্থান দেখে ও এর অবস্থা পর্যবেক্ষণ করে একটি বুদ্ধি বের করলো। সে লতা গুলোকে ফাঁদ হিসেবে ব্যবহার করে পাখি ধরার সিদ্ধান্ত নিল। তার পাতা ফাঁদে সব পাখি আটকে গেলো। তখন হাঁসেরা ঐ গাছের নিচে এসে তাদের অবস্থা দেখে বলল সময় থাকতেই তোমাদের সাবধান হতে বলে ছিলাম। এখন বুঝেছ কেনো সামান্য জিনিষকেও হেলা করতে নেই।"



এই ছিল গল্পটি, যা আমার নিজের মত করে বলার চেষ্টা করেছি কারণ আমার নিজেরই ভালো মত মনে নেই। যা হোক সেটা মূল কথা নয়, গল্পের উদ্দেশ্য বুঝতে পারাটাই মূল।



বর্তমান যে জামাত-শিবির পরিস্থিতি তৈরী করেছে তা হতে পেরেছে কারণ আমরা তা হতে দিয়েছি। আমরা তাদেরকে বেড়ে উঠতে দিয়েছি। তারা আজ সাঙ্গঠনিক ভাবে শক্তিশালী, তারা আজ অর্থনৈতিক ভাবে শক্তিশালী, তারা আজ কূটনৈতিক ভাবে শক্তিশালী। আমাদের শুরুতেই ওদেরকে নির্মূল করলে দেশ আজ এই পরিস্থিতিতে পড়ত না। কিন্তু তবু আমি আশা করি জয় আমাদের হবেই। এই দেশ শিবিরের না, জামাতের না। এই দেশ বাঙালীর, এই দেশ আদিবাসীর।



আমাদের অনেক আগেই উচিৎ ছিল জামাত-শিবির নিধন করা, কারণ শুরু থেকেই তারা জঙ্গি তৎপরতায় জড়িত ছিল। আপনি অন্য বড় ছাত্র সঙ্গঠনের ছাত্রদের সন্ত্রাসী বলতে পারেন। কারণ তার ছিনতাই করে, মাথা গরম করে, খুন করে, ধর্ষণ করে। যা করে প্রকাশ্যেই করে। এর জন্য আমি তাদের বাহবা দেই তা না। আমি তাদেরও ঘৃণা করি। কিন্তু তা কখনোই জঙ্গী শিবিরের সাথে তুলনার যোগ্য না। কারণ শিবিরের প্রতি ঘৃণা সীমাহীন। তার কারণ হিসেবে নাগরিক ব্লগে পোস্ট করা আনিস রায়হানের একটি পুরাতন পোস্টে শিবিরের পূর্বের নাশকতার ছবি তুলে ধরেছেন আমি সেটার কিছু অংশ হুবহু কপি দিচ্ছি।



নির্বাচিত শিবিরনামা-



মার্চ, ১৯৮১► প্রতিষ্ঠার মাত্র তিন বছরের মাথায় শিবির ক্যাডাররা চট্টগ্রাম সিটি কলেজের নির্বাচিত এজিএস ছাত্রলীগ নেতা তবারক হোসেনকে কলেজ ক্যাম্পাসেই কিরিচ দিয়ে কুপিয়ে নৃশংসভাবে হত্যা করে। কিরিচের এলোপাতাড়ি কোপে মুমূর্ষু তবারক যখন পানি পানি করে কাতরাচ্ছিল তখন এক শিবিরকর্মী তার মুখে প্রস্রাব করে দেয়।



১১ মার্চ, ১৯৮২► চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে ৩ বাস বহিরাগত সন্ত্রাসী নিয়ে এসে শিবির ক্যাডাররা রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ ছাত্রদের উপর হামলা চালায়। এই সহিংস ঘটনায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বিশ্ববিদ্যালয়ে শিবিরের রাজনীতি নিষিদ্ধ ঘোষণা করে।



১৯৮৪► চট্টগ্রাম কলেজের সোহরাওয়ার্দী হলের ১৫ নম্বর কক্ষে শিবিরেরকর্মীরা ছাত্র ইউনিয়ন নেতা ও মেধাবী ছাত্র শাহাদাত হোসেনকে জবাই করে হত্যা করে।



১৯৮৬► শিবির ডান হাতের কবজি কেটে নেয় জাতীয় ছাত্রসমাজের নেতা আবদুল হামিদের। পরবর্তীতে ঐ কর্তিত হাত বর্ষার ফলায় গেঁথে তারা উল্লাস প্রকাশ করে।



৩১ মে, ১৯৮৮► রাজশাহী মেডিকেল কলেজ মেইন হোস্টেলের সামনে, কলেজের প্রিন্সিপাল ও একাডেমিক কাউন্সিলের সদস্যবৃন্দ, ও শত শত শিক্ষাথীদের সামনে ছাত্রমৈত্রী নেতা ডাক্তার জামিল আক্তার রতনকে কুপিয়ে ও হাত পায়ের রগ কেটে হত্যা করে শিবিরের ক্যাডাররা।



১৯৮৮► চাঁপাইনবাবগঞ্জের বীর মুক্তিযোদ্ধা ও জাসদ নেতা জালালকে তার নিজ বাড়ীর সামনে কুপিয়ে হত্যা করে শিবির ক্যাডাররা।



জুলাই প্রথম সপ্তাহ, ১৯৮৮► বহিরাগত শিবির ক্যাডারদের হামলায় আমির আলী হল ছাত্র সংসদের জিএস ও জাসদ ছাত্রলীগ নেতা প্রিন্স সহ ২০-২৫ জন আহত হয়।



১৭ জুলাই, ১৯৮৮► ভোর সাড়ে চারটার দিকে এস এম হলে বহিরাগত শিবির ক্যাডাররা হামলা চালায় এবং জাসদ ছাত্রলীগের রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সহ-সভাপতি ও সিনেট সদস্য আইয়ূব আলী খান, বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাধারণ সম্পাদক ও সিনেট সদস্য আহসানুল কবির বাদল এবং হল সংসদের ভিপি নওশাদের হাত-পায়ের রগ কেটে দেয়।



১৯৮৮► সিলেটে শিবির ক্যাডাররা মুনীর, জুয়েল ও তপনকে বর্বরভাবে হত্যা করে।

আগষ্ট, ১৯৮৮► রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক মোঃ ইউনুসের বাসভবনে ছাত্র শিবির বোমা হামলা করে। এতে অধ্যাপক ইউনুস বেঁচে গেলেও তার বাড়ীর কর্মচারী আহত হয়।



রমজান মাস, ১৯৮৯► ছাত্র ইউনিয়নের রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি গাজী গোলাম মোস্তফাকে বিশ্ববিদ্যালয় পাশ্ববতী চকপাড়ায় ইফতারের দাওয়াত দিয়ে নিয়ে গিয়ে হাতের রগ কেটে দেয় শিবির ক্যাডাররা।



নভেম্বর, ১৯৮৯► নজরুল ইসলাম মিলনায়তনের সামনে সন্ধ্যায় জাসদ ছাত্রলীগের নেতা-কমীদের ওপর শিবিরের বোমা হামলায় বাবু, রফিক সহ ১০ জন আহত হয়।



২২ ডিসেম্বর, ১৯৯০► ছাত্রমৈত্রীর চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সহ সভাপতি ফারুকুজ্জামান ফারম্নককে শিবিরের ক্যাডাররা জবেহ করে হত্যা করে।



১৭ মার্চ, ১৯৯২► পবিত্র রমজান মাসে চট্টগ্রামের কুখ্যাত সিরাজুস সালেহীন বাহিনীসহ কয়েক হাজার সশস্ত্র বহিরাগত শিবীর সন্ত্রাসী রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বেলা ১১ টার সময় অতর্কিত হামলা চালালে জাসদ ছাত্রলীগ নেতা ইয়াসীর আরাফাত পিটু নিহত হয় এবং জাসদ ছাত্রলীগের আইভি, নির্মল, লেমন, রুশো, জাফু, ফারুক এবং সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের রাজেশ সহ প্রায় দেড়শাতাধিক ছাত্র-ছাত্রী আহত হয়। এদের অধিকাংশেরই হাত-পায়ের রগ কেটে দেয়া হয় এবং রাজেশের কব্জি কেটে ফেলা হয়। এই হামলার সময় শিবির ক্যাডাররা এস এম হল, আনোয়ার হল এবং লতিফ হল আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে দেয়। ব্যাপক আকারে গান পাউডারের ব্যবহার করায় হলের জানালার কাঁচগুলো গলে গিয়েছিলো। লতিফ হলের অনেকগুলো কক্ষ এখনো অব্যবহূত অবস্থায় পড়ে আছে। এই হামলার তীব্রতা এতই ছিল যে, বেলা ১১টায় শুরু হওয়া হামলা রাত ৩টায় বিডিআর নামানোর আগ পর্যন্ত বন্ধ হয়নি।



মে, ১৯৯২► ইসলামী ছাত্রী সংস্থা রাজশাহী কলেজ শাখার নেত্রী মুনীরা বোমা বহন করার সময় বিষ্ফোরণে মারা যায় এবং তার সহযাত্রী-সহকমী আপন খালা এবং ঐ রিকসাওয়ালা আহত হয়।



১৯ জুন, ১৯৯২► শহীদ জননী জাহানারা ইমামের নেতৃত্বে যুদ্ধাপরাধী গোলাম আযমের বিচারের দাবিতে গড়ে ওঠা আন্দোলনে হরতাল কর্মসূচি সফল করার লক্ষ্যে জাসদের মিছিল চলাকালে শিবিরের সশস্ত্র হামলায় সাহেব বাজার জিরো পয়েন্টে জাসদ নেতা মুকিম মারাত্মক আহত হন এবং ২৪ জুন তিনি মারা যান।



আগষ্ট, ১৯৯২► বিশ্ববিদ্যালয় পাশ্ববর্তি নতুন বুথপাড়ায় শিবির ক্যাডার মোজাম্মেলের বাড়ীতে বোমা বানানোর সময় শিবির ক্যাডার আজিবর সহ অজ্ঞাতনামা অন্তত আরো তিন জন নিহত হয়। বিষ্ফোরণে পুরো ঘর মাটির সাথে মিশে যায় এবং টিনের চাল কয়েকশ গজ দুরে গাছের ডালে ঝুলতে দেখা যায়। পরবর্তীতে পুলিশ মহল্লার একটি ডোবা থেকে অনেকগুলো খন্ডিত হাত পা উদ্ধার করে। যদিও শিবির আজিবর ছাড়া আর কারো মৃতু্র কথা স্বীকার করেনি। পুলিশ বাদি হয়ে মতিহার থানায় শিবির ক্যাডার মোজাম্মেলকে প্রধান আসামী করে বিষ্ফোরক ও হত্যা মামলা দায়ের করে। প্রায় ৫ বছর পলাতক থাকার পর মামলা ম্যানেজ করে মোজাম্মেল এলাকায় ফিরে আসে এবং জামাতের রাজনীতিতে পুনরায় সক্রিয় হয়।



৬ ফেব্রুয়ারি, ১৯৯৩► রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে শিবির সাধারণ ছাত্র-ছাত্রীদের ওপর সশস্ত্র হামলা চালালে ছাত্রদল ও সাবেক ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ মিলে গঠিত সর্বদলীয় ছাত্র ঐক্যের ওপর শিবিরের হামলায় ছাত্রদল নেতা বিশ্বজিৎ, সাধারণ ছাত্র নতুন এবং ছাত্র ইউনিয়নের তপন সহ ৫ জন ছাত্র নিহত হয়।



১৯৯৯► চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. এনামুল হকের ছেলে ও ছাত্রদল নেতা মোহাম্মদ মুছাকে শিবিরকমীরা নৃশংসভাবে হত্যা করে।



১৯ সেপ্টেম্বর, ১৯৯৩► বহিরাগত সশস্ত্র শিবির কমীরা রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শেরেবাংলা হলে হামলা চালিয়ে ছাত্রমৈত্রী নেতা বিশ্ববিদ্যালয় টিমের মেধাবী ক্রিকেটার জুবায়েদ চৌধুরী রিমুকে হাত-পায়ের রগ কেটে নৃশংসভাবে কুপিয়ে হত্যা করে।



১৯৯৪► পরীক্ষা দিতে আসার পথে তৃতীয় বিজ্ঞান ভবনের সামনের রাস্তায় ছাত্রমৈত্রী নেতা প্রদুৎ রুদ্র চৈতীর হাতের কব্জি কেটে নেয় শিবির কমীরা



এবার আসি ২০০০-২০১০ এর সময়কার শিবিরের কুকীর্তি নিয়েঃ

১৮ জানুয়ারি, ২০১০। চট্টগ্রাম শহরের মিস্ত্রিপাড়া এলাকায় শিবির নিয়ন্ত্রিত একটি মেস থেকে অস্ত্র ও বোমা বানানোর সরঞ্জামসহ ১২ জন শিবির ক্যাডারকে পুলিশ আটক করে।

৩১ ডিসেম্বর, ২০০৯। কতৃপক্ষের বিরম্নদ্ধে অপরাধমূলক তৎপরতা সংগঠনের দায়ে একজন বহিরাগতসহ ৩ জন শিবিরকর্মীকে পুলিশ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আটক করে। কতৃপক্ষের উপস্থিতিতে পুলিশ শামসুজ্জোহা হলের দুটি শিবির নিয়ন্ত্রিত কক্ষ সিল করে দেয়।

২২ ডিসেম্বর, ২০০৯। সরকারি আযীযুল হক বিশ্ববিদ্যালয় কলেজে ২০ ডিসেম্বরে সহিংসতা সৃষ্টির দায়ে পুলিশ এদিন ৪ শিবির ক্যাডারকে আটক করে।

১৫ ডিসেম্বর, ২০০৯। চাঁদপুর থেকে আটক জেএমবি নেতাকে রিমান্ডে নেয়ার পর হাইমচর উপজেলা শিবিরের সভাপতি ইকবাল হোসেন হিসেবে তাকে শনাক্ত করে পুলিশ।

১৫ নবেম্বর, ২০০৯। রাবির ৩টি হলে অভিযান চালানোর সময় পুলিশ শিবির ক্যাডার হাসমত আলী ওরফে লিটনকে গান পাউডার ও বিভিন্ন জীবনহানিকর রাসায়নিক দ্রব্যসহ আটক করে।

২৬ অক্টোবর, ২০০৯। মতিহার থানাসহ রাজশাহীর বিভিন্ন থানায় দায়েরকৃত বিস্ফোরক অস্ত্র, নারী নিপীড়ন ও অধ্যাপক ইউনুস হত্যা মামলার আসামি শিবির ক্যাডার জাফর বাবুকে পুলিশ রাজশাহী শহরের কাটাখালি মিউনিসিপ্যালিটি এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে।

৬ সেপ্টেম্বর, ২০০৯। রাবির সৈয়দ আমীর আলী হল শাখার সভাপতি শিবির ক্যাডার একরামুল পুলিশ ক্যাম্পে সশস্ত্র হামলায় জড়িত থাকার দায়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণ থেকে পুলিশের হাতে আটক হয়।

২৪ আগস্ট, ২০০৯। ছাত্রলীগের ২ জন কমêীকে ২০ জুন ’০৯-এ ছুরিকাঘাতে আহত করার সঙ্গে যুত্ত্ন থাকার অভিযোগে রাবির ৯ শিবির ক্যাডারকে পুলিশ আটক করে।

২৮ মে, ২০০৯। রাবি ক্যাম্পাস সংলগ্ন বিনোদপুর এলাকায় সহিংসতায় নেতৃত্বদানকারী শিবির ক্যাডার সাঈদুর রহমান ওরফে সাঈদুরকে পুলিশ রাবি সংলগ্ন একটি শিবির নিয়ন্ত্রিত মেস থেকে আটক করে।

১৭ এপ্রিল, ২০০৯। রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে সামরিক তৎপরতার দায়ে বানিয়ারগাতি মহিলা মাদ্রাসা থেকে শিবিরের যশোর জেলা শাখার সভাপতি আব্দুল্লাহ আল মামুনসহ ৯ শিবির ক্যাডারকে আটক করে পুলিশ।

১৩ মে, ২০০৮। চট্টগ্রামের আদালতে বিচারক একরামুল হক চৌধুরী শিবির ক্যাডার নাসিরকে একটি অস্ত্র মামলায় দোষী সাব্যস্ত হওয়ায় ১৭ বছরের সশ্রম কারাদন্ড প্রদান করে। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় দায়েরকৃত মামলার সংখ্যা ৩৫।

২৬ মার্চ, ২০০৮। চট্টগ্রামের আদালতে ৪ শিবির ক্যাডারকে মৃত্যুদন্ড এবং ৩ জনের যাবজ্জীবন কারাদন্ড দেয়া হয়। আসামিদের বিরম্নদ্ধে ২০০০ সালের ১২ জুলাই চট্টগ্রামের বহদ্দরহাটে ৬ ছাত্রলীগ নেতা ও তাদেরকে বহনকারী মাইক্রোবাসের ড্রাইভার এবং রাস্তয় থাকা রিকশা চালককে হত্যার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আদালত এই রায় প্রদান করেন।

৪ মার্চ, ২০০৮। শিবির ক্যাডারদের লালন-পালন ও তাদেরকে সহিংসতায় উস্কানি দেয়ার অপরাধে গোয়েন্দা সংস্থার পরামর্শে রংপুর কারমাইকেল কলেজের ৫ জন শিক্ষক এবং ৫ জন কর্মচারীকে বিভিন্ন কলেজে বদলি করা হয়।

৮ নবেম্বর, ২০০৭। জরুরি আইন ভঙ্গের দায়ে শিবিরের গোপালগঞ্জ জেলা সভাপতি মনিরুজ্জামান আলমগীর ও সাধারণ সম্পাদক সোলায়মান সিদ্দিকসহ ১০ শিবির ক্যাডারকে পুলিশ আটক করে।

১০ সেপ্টেম্বর, ২০০৭। প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনুস হত্যা মামলার চার্জশীট উপস্থাপনের সময় সিআইডি জানায় যে, জেএমবি নেতা আব্দুর রহমান এই হত্যাকাণ্ডে ৫ শিবির ক্যাডারের জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন।

৮ আগস্ট, ২০০৭। রাবিতে ৪ সাংবাদিকের ওপর হামলায় জড়িত থাকার অপরাধে র্যাব কতৃক আটক ব্যক্তিকে রাবি প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা শিবির ক্যাডার মোকাররম আব্দুলস্নাহ মনি হিসেবে শনাক্ত করেন।

৫ মে, ২০০৭। চাঁপাইনবাবগঞ্জের একটি আর্মি ক্যাম্পের বিভিন্ন স্থাপনা ভিডিও করার সময় আর্মি সদস্যরা শিবিরের ২ নেতাকে ভিডিও ফুটেজসহ আটক করে।

১২ ফেব্রুয়ারি, ২০০৬। পাথরঘাটা উপজেলা শিবিরের সভাপতি সোহাগ খান ও সাধারণ সম্পাদক মারফত উল্লাহকে জেএমবি তৎপরতায় জড়িত থাকার অভিযোগে র্যাব সদস্যরা আটক করে।

৮ জানুয়ারি, ২০০৬। শিবির ক্যাডার আব্দুলস্নাহ আল মামুন ও তার পিতা জামায়াত নেতা ইউনুস আলীর বাড়ি থেকে পুলিশ সদস্যরা ২টি গ্রেনেড উদ্ধার করে।

২২ ডিসেম্বর, ২০০৫। কুষ্টিয়ার মাদ্রাসা ছাত্র, শিবিরের এক ক্যাডারের কাছ থেকে পুলিশ বোমা বানানোর সরঞ্জামাদি উদ্ধার করে।

২৫ নবেম্বর, ২০০৫। জেএমবির সামরিক শাখার সদস্য জাকারিয়া হোসেন রনি রাজশাহীতে গ্রেপ্তার হয়। সে আগে শিবিরের একজন নেতৃস্থানীয় কর্মী ছিল বলে পুলিশ জানায়।

২০ জুলাই, ২০০৫। চট্টগ্রামের পাঁচলাইশ আবাসিক এলাকা থেকে শিবির ক্যাডার মাহমুদুল চৌধুরীকে পুলিশ সদস্যরা একে-৪৭ এর ৩৩টি বুলেটসহ গ্রেপ্তার করে। যার মধ্যে ১৭টি দেশীয় কোনো কারখানায় তৈরি হয়েছে বলে সেনাবাহিনীর বিশেষজ্ঞ দল মত প্রকাশ করে।

১৮ জুলাই, ২০০৫। চট্টগ্রামের ডিসি রোড থেকে র্যাব সদস্যরা শিবির ক্যাডার আব্দুস সালামকে গ্রেপ্তার করে।

১২ জুলাই, ২০০৫। খুলনা মহানগর সাংবাদিক সমিতির সভাপতি শেখ বেলালুদ্দিন হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে শিবির ক্যাডার এখলাসকে রূপসা ফেরিঘাট এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।

১০ জুন, ২০০৫। শিবিরের নাসির বাহিনীর সেকেন্ড ইন কমান্ড দুলাল উদ্দিন ওরফে মুন্নাকে ১টি একে- ৪৭ রাইফেলসহ চট্টগ্রামের হাটহাজারী এলাকা থেকে আটক করা হয়।

৬ জুন, ২০০৫। ঢাকা থেকে আগত শিবির ক্যাডার সাজ্জাদকে র্যাব সদস্যরা গ্রেপ্তার করে। সাজ্জাদ ছিল শিবিরের চট্টগ্রামের হাজারিকা বাহিনীর সেকেন্ড ইন কমান্ড।

২ জুন, ২০০৫। শিবিরের হাজারিকা বাহিনীর প্রধান গিয়াসউদ্দিন হাজারিকা এনকাউন্টারে নিহত।

৭ মে, ২০০৫। চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে পুলিশের হাতে শিবির ক্যাডার দেলোয়ার ওরফে আজরাইল দেলোয়ার এনকাউন্টারে নিহত হয়।

৬ মাচê, ২০০৫। রায়গঞ্জে ছাত্রলীগের সমাবেশে যোগদানকালে সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিমকে হত্যার উদ্দেশ্যে বোমা পুঁতে রাখার দায়ে পুলিশ সদস্যরা শিবির ক্যাডার আকিলকে গ্রেপ্তার করে।

২৮ ফেব্রম্নয়ারি, ২০০৫। র্যাব সদস্যরা চট্টগ্রামের শিবির ক্যাডার গিট্টু নাসিরকে ঢাকার যাত্রাবাড়ী এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে। পরবর্তীতে তার স্বীকারোক্তি অনুযায়ী ১ মার্চ চট্টগ্রামের হাটহাজারী থেকে একটি একে- ৪৭ রাইফেল উদ্ধার করা হয়।

১৩ ফেব্রম্নয়ারি, ২০০৫। খুলনায় র্যাবের হাতে শিবির ক্যাডার হোসাইন আহমেদ ওরফে ফয়েজ মুন্না ক্রসফায়ারে নিহত হয়।

২৮ জানুয়ারি, ২০০৫। চট্টগ্রামের শাহনগর থেকে র্যাব সদস্যরা অস্ত্র স্মাগলিংয়ের সঙ্গে জড়িত থাকার দায়ে ১ শিবির ক্যাডারসহ ৪ জনকে আটক করে।

১৭ জানুয়ারি, ২০০৫। শিবির ক্যাডার আফতাব হামিদকে র্যাব সদস্যরা ঢাকার কাকরাইল থেকে গ্রেপ্তার করে। তার দেয়া তথ্যানুযায়ী অভিযান চালিয়ে র্যাব চট্টগ্রামের কেরুনতলি থেকে ৬টি অস্ত্র, রাইফেলের ১০টি বুলেট ও ৬টি কিরিচসহ ২টি ড্যাগার উদ্ধার করে।

১৫ জানুয়ারি, ২০০৫। চট্টগ্রামের গোধারপাড় থেকে ৪ শিবির ক্যডারকে ১টি এসবিবিএল গান, ৩টি এলজি গান ও ২৩ রাউন্ড গুলি এবং অনেকগুলো ধারালো অস্ত্রসহ আটক করা হয়।

১৫ ডিসেম্বর, ২০০৪। চট্টগ্রামের চকবাজার এলাকা থেকে র্যাব সদস্যরা ৫ শিবির ক্যাডারকে গ্রেপ্তার করে।

৯ এপ্রিল, ২০০৪। শিবির নিয়ন্ত্রিত ইয়াকুব বাহিনীর সেকেন্ড ইন কমান্ড আব্দুল হামিদ পুলিশ হেফাজতে মারা যায়। পুলিশ তাকে ইতোপূর্বে আরো ৭ শিবির ক্যাডারের সঙ্গে গ্রেপ্তার করে।

৭ এপ্রিল, ২০০৪। শিবির পরিচালিত ইয়াকুব বাহিনীর প্রধান ইয়াকুব চট্টগ্রামে পুলিশের হাতে এনকাউন্টারে নিহত হয়।

২৬ ডিসেম্বর, ২০০৩। চট্টগ্রামের সাতকানিয়া থেকে পুলিশ সদস্যরা শিবির ক্যাডার এনামুল হক ওরফে এনাইম্যা এবং ফরিদুল আলম ওরফে ফরিদ্যাকে ১টি একে-৪৭সহ আটক করে।

৩০ সেপ্টেম্বর, ২০০৩। কুমিল্লার দ্রুত বিচার ট্রাইবুনালে শিবিরের ৪ নেতাকে ৩ বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়।

৩ সেপ্টেম্বর, ২০০৩। বিএনপি নেতা ও ব্যবসায়ী জামালউদ্দিনকে অপহরণের দায়ে শীর্ষ শিবির ক্যাডার কালা মাহবুব ও আলমগীরসহ ২৪ জনকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে।

৬ আগস্ট, ২০০৩। বৌদ্ধ ভিক্ষু হত্যার সঙ্গে জড়িত থাকার দায়ে ৭ শিবির ক্যাডার গ্রেপ্তার।

২৯ জুন, ২০০৩। অস্ত্র মামলায় বগুড়ায় ১ শিবির ক্যাডারসহ ৩ জন গ্রেপ্তার।

১৭ এপ্রিল, ২০০৩। চাঁপাইনবাবগঞ্জে ৩ শিবির ক্যাডারকে পুলিশ বোমাসহ গ্রেপ্তার করে।

৪ ফেব্রুয়ারি, ২০০৩। চট্টগ্রামে দ্রুত বিচার ট্রাইবুনালে গোপাল কৃষ্ণ মুহুরী হত্যা মামলার শুনানি শেষ হয়। শুনানিতে হত্যার দায়ে শিবির ক্যাডারদের অভিযুক্ত করা হয়।

১ ফেব্রুয়ারি, ২০০৩। সাতকানিয়ায় ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে পুলিশের সঙ্গে জামায়াত- শিবিরের সংঘর্ষ চলাকালে পুলিশের হাতে ১ শিবির ক্যাডার নিহত হয়।

২৯ জুন, ২০০১। নারায়ণগঞ্জে বোমা বিস্ফোরণে যুক্ত থাকার অভিযোগে পুলিশ শিবিরের ১ ক্যাডারকে গ্রেপ্তার করে। ১৫ জুনের ঐ হামলায় আওয়ামী লীগের ২১ নেতাকর্মী নিহত ও শতাধিক গুরুতর আহত হয়।

১১ এপ্রিল, ২০০১। বিভিন্ন স্থানে হামলা ও ভাংচুরের অভিযোগে রংপুরে জামায়াত ও শিবিরের ২ জন গ্রেপ্তার।

৯ এপ্রিল, ২০০১। সাতকানিয়ায় ৭ এপ্রিল ছাত্র যুবলীগের ২ জনকে হত্যার সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগে ৯ শিবির ক্যাডারকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে।

৯ মাচê, ২০০১। যশোর উদীচীর সম্মেলনে বোমা হামলা করে ৮ জনকে হত্যার দায়ে পুলিশ কতৃক ৪৬ জামায়াত- শিবির কর্মী গ্রেপ্তার।

২১ জুলাই, ২০০০। গোপালগঞ্জে হাসিনার সমাবেশে বোমা পুঁতে রেখে তাঁকে হত্যার চেষ্টা চালানোর দায়ে পুলিশ শিবিরের ৪ ক্যাডারকে আটক করে।



আনিস রায়হানের সমগ্র পোস্টটি পড়তে হলে নিচের লিঙ্কে যানঃ

http://www.nagorikblog.com/node/248



এর পরবর্তি কাহিনী আপনাদের কাউরোই অজানা নয়। এসব ঘটনাই প্রমাণ করে তারা কত জঘন্য, কত নীচ তাদের মানসিকতা। তারা মানুষের রগ কেটে দিয়ে সারা জীবনের জন্য পঙ্গু করে দেয়, সামান্য উছিলায় মানুষকে জবাই করে রাস্তায় ফেলে রাখে, কাটা কব্জি শুলে বিধিয়ে মিছিল করে, জীবন্ত মানুষ জ্বলন্ত পুড়িয়ে মারতে দ্বিধা করে না। তবে আপনেরাই বলুন তারা কি মানুষ? আপনেরাই বলুন দোষ কি আপনাদের এতদিন চুপ করে থাকাটাই নয়? আগেই সচেতন হলে আমরা এতগুলা সম্ভাবনাময় মানুষদের হারাতাম না। গোড়ামি ছাড়া প্রতিটা মানুষই সম্ভাবনাময়। আর শিবিরেরা গোড়া, তাদের নিজস্ব চিন্তা নেই, বুদ্ধি নেই। জামাতের ন্যাতারা যা বলে তাহারা তাই ই করে। এই সব গোড়া অন্ধরা বড় বড় ভার্সিটি থেকে ডিগীও নেয়, কিন্তু সত্যিকারের জ্ঞান শুণ্য।



তাদের জন্য আমরা কত ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছি তা কল্পনার বাহিরে। আমার এক পছন্দের ব্যান্ডের কিছু লাইন দিয়েই লেখা শেষ করছি।

"How many poets dies, how many books were never written, so

many songs we'll never hear, so many friends we'll never neet. No anwser to

find.

মন্তব্য ০ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (০) মন্তব্য লিখুন

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.