| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
-হ্যালো, মা... হ্যা, ক্যাম্পাস থেকে বের হয়েছি। আসছি মা
ভার্সিটি বাসে উঠেই আম্মুকে ফোন দিল আনুশা। উদ্বিগ্ন গলায় তার আম্মু বলল,
-বাসে উঠেছিস ? সাবধানে উঠ। তোদের বাসে তো আবার ককটেল ফকটেল পাওয়া যায়
-হ্যা মা হ্যা, ভার্সিটি বাসেই উঠেছি। সমস্যা নাই...
-সাবধানে উঠিস আনু, চোখ কান খোলা রেখে বসবি
-আচ্ছা আচ্ছা
-আর শোন, কোথাও গন্ডগোল হলে....
-উফফ মা, সামান্যই তো রাস্তা... থাম এইবার
মা'কে ধমক দিয়ে ফোন কাটল সে। এই মা-বাবা গুলাও না! একটু বেশি বেশিই করে আজকাল...
ঘর থেকে বের হলেই ফোন...সাবধানে থাকবি
ভার্সিটিতে গেলেও ফোন...সাবধানে থাকবি
মনে হয় দেশের সব ককটেল তাদের সন্তানদের জন্যই বরাদ্দ দেয়া হয়েছে!
আনুশার বাস নিলক্ষেত মোড় হয়ে সায়েন্সল্যাবে পৌঁছেছে। হুশহুস করে ছুটছে দিত্বল বাসটা।
আনুশা জানালা খুলে দিয়ে হাত বের করে আছে। ঝিরিঝিরি বাতাসে তার চুল উড়ছে। বেশ ফুরফুরে লাগছে... সে ভাবছে, "এইনা হল জীবন, স্বপ্ন পুরণের আস্তানা"
ছোট্টবেলা থেকে ঢাকা ভার্সিটির এই লাল বাসে করে ক্লাশ করতে যাওয়ার স্বপ্ন দেখত সে। সে স্বপ্ন সফল হয়েছে তার। আজ সে ভার্সিটি জীবনের দ্বিতীয় ক্লাশ করল। কতই না রঙিন এই ভার্সিটি লাইফ? আর বাবা-মা বলে, কি দরকার ক্লাশে যাওয়ার? কিছু দিন না গেলে কি হয়!!!
সে বাবা-মায়ের কথা অগ্রাহ্য করেই ক্লাশে যায়! তারা কি বুঝে নতুন নতুন ক্লাশের কি মজা?
"আমার হার কালা করলাম রে, ওরে আমার দেহ কালার লাইগ্যা রে"
ভার্সিটি বাসের গেটে দাঁড়ানো ভাইয়াগুলা একসুরে গান ধরেছে... আনুশা বিড়বিড় করে বলল, গেটে দাঁড়ানো ভাইয়ারা এত কিউট কেন?
হঠাত একটা উৎকট গন্ধ পেল আনুশা। কিসের গন্ধ এটা? সে তাকিয়ে দেখল বাস ভর্তি ভাইয়া-আপুরা দৌড় ঝাপ শুরু করেছে। কেউ কেউ দোতালা থেকেই লাফ দিচ্ছে। কিছু বুঝে উঠার আগেই আনুশার গায়ে তরলমত একটা পদার্থ পরল। দলার মত লেগে গেল গায়ে। একি? চারদিকে আগুন কেন! মেয়েটা ভয়ে চুপসে গেল। ঠিক তখনি তার ফোন বেজে উঠল, তাকিয়ে দেখে মা'য়ের কল। তার খুব ইচ্ছে করছে রিসিভ করে কানে দিতে। বলতে ইচ্ছে করছে,
-মা, আমি বাঁচতে চাই মা। ঢাবি থেকে বের হয়ে উচ্চশিক্ষা নিতে বিদেশ যেতে চাই... সরি মা, তোমার কথা না শুনে ক্লাশ করতে গিয়েছিলাম। অনেক সরি মা
আগুন মুহুর্তেই তার শরীরে ছড়িয়ে পরল। জোড়ে জোড়ে নিঃশ্বাস নিল সে। আগুন তার শরীর কেড়ে নিচ্ছে...এইত আগুন এবার শ্বাসনালীতে পৌঁছেছে। ক্ষনিকের মধ্যেই সে পরিণত হবে গলে যাওয়া মাংসপিন্ডে!
আনুশা স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছে, মানুষজন তাকিয়ে তাকিয়ে তার পুড়ে যাওয়া দেখছে... কেউ কেউ বলছে, "আগুন দিছে রে, ভার্সিটি বাসে আগুন দিছে"। কিন্তু কেউ তাকে বাঁচাতে আসছে না কেন?
তার খুব জানতে ইচ্ছে করছে,
-কি দোষ তার? অকালে কেন প্রাণ দিতে হচ্ছে তাকে! সে তো তার জীবন সবেমাত্র শুরু করল... শুরু হতে না হতেই শেষ কেন?
সে জানে, উত্তর সে পাবেনা! কখনই না।
(এটা একটা রুপক গল্প। কিন্তু গল্পটা সত্যিও হতে পারত! আজ ঢাবির তরঙ্গ বাসে আগুন দেয়া হয়। সৃষ্টিকর্তার অশেষ কৃপায় কোন হতাহত হয়নি। কিন্তু এভাবে চলতে থাকলে হতে কতদিন?)
০৯ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৫ রাত ১২:২২
শুভ্র বাবূ বলেছেন: মেনি থ্যাংকস
২|
০৯ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৫ বিকাল ৪:০৩
নূসরাত তানজীন লুবনা বলেছেন: বাস্তবতার সাম্প্রতিক গল্প
অনেক ভালো হয়েছে
যেহেতু সত্যতা থেকে গল্পের উদ্ভভ ; নিজের অক্ষমতার জন্যও বেশ খারাপ লাগে ।
©somewhere in net ltd.
১|
০৮ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৫ রাত ১১:৫২
আরণ্যক রাখাল বলেছেন: ভাল লাগল গল্পটা| একালের প্রক্ষাপটে দারুন গল্প| টানটান হয়ে পড়ে গেলাম| লিখতে থাকুন| জীবন বানানটা ঠিক করে নিন