| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
সারা দেশে দ্বিতীয় দফায় শৈত্যপ্রবাহ শুরু হয়েছে। উত্তর দিক থেকে ধেয়ে আসা ঠান্ডা বাতাসে ইতিমধ্যে সারাদেশের জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়ছে। তীব্র শীতে উত্তরাঞ্চলসহ দেশের বিভিন্ন এলাকার জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। গতকাল ০৯ জানুয়ারী দিনাজপুরে দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৩.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে। গত ৪৫ বছরে এটিই সবচেয়ে কম তাপমাত্রা। এর আগে ১৯৬৮ সালে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ২.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছিল। আবহাওয়াবিদরা জানিয়েছেন, কমপক্ষে আরো পাঁচদিন থাকতে পারে শীতের এ দাপট। তাপমাত্রার আরো পতন আর শীতের প্রকোপ দুইই বাড়তে পারে আগামী দু’একদিনে।রাজধানী ঢাকায় গতকাল বুধবার সকালে তাপমাত্রা ছিল ৭ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। মঙ্গলবারের তাপমাত্রার চেয়ে তা ২ দশমিক ৪ ডিগ্রি কম। বিভাগীয় শহরের মধ্যে গতকাল চট্টগ্রামে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছে ৭ দশমিক ৬, রাজশাহীতে ৪ দশমিক ৪, খুলনায় ৭, বরিশালে ৬ দশমিক ৫, সিলেটে ৮ দশমিক ৪ ও রংপুরে ৪ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এদিকে বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির উদ্ধৃতি দিয়ে বিবিসি জানিয়েছে, এই শীতে এ পর্যন্ত বাংলাদেশের বিভিন্ন জায়গায় অন্তত ৭০ জন মারা গেছে বলে তাদের কাছে খবর এসেছে।বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির সোসাইটির মহাসচিব আবু বকর বিবিসি বাংলাকে জানান, গত এক সপ্তাহে যে ৭০ জনের বেশি মানুষের মৃত্যুর খবর তারা পেয়েছেন, তাদের বেশিরভাগই শিশু এবং বয়স্ক মানুষ। আবহাওয়া দপ্তরের উপপরিচালক শাহ আলম বলেন, এরকম তীব্র শীতের মোকাবেলার মতো প্রস্তুতি বাংলাদেশের মানুষের থাকে না। এ কারণেই মানুষকে বেশি দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
হাড় কাঁপানো শীতের তীব্রতায় জনজীবন বিপর্যস্ত। দেশের উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের মানুষেরা পড়েছেন চরম দুর্ভোগে। দেশের বিভিন্ন স্থানে ছিন্নমূল মানুষেরা অতি কষ্টে দিন কাটাচ্ছেন। কোথাও সারাদিনে সূর্যের মুখ পর্যন্ত দেখা যায়নি। তাই, অনেকেই খড়কুটোতে আগুন ধরিয়ে একটু উঞ্চতা লাভের চেষ্টা করছেন। আবার কোথাও দিনভর ঝলমলে রোদ থাকলেও, তাপমাত্রার পতনে বিকাল গড়াতেই তীব্র শীত অনুভূত হতে থাকে।
গত ২৪ ঘণ্টায় শীতজনিত রোগে ঠাকুরগাঁও, পাবনা, কুড়িগ্রাম, চুয়াডাঙ্গার জীবননগর ও জামালপুরের বকশীগঞ্জে কমপক্ষে ৩০ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। এছাড়া তীব্র শীতে কুড়িগ্রাম, দিনাজপুর, পঞ্চগড়, শেরপুর, গোপালগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় জনজীবনে স্থবিরতা নেমে এসেছে। কষ্টে আছেন নিম্ন আয়ের মানুষ। এমাসে আরো এক থেকে দুটি শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদফতর। এসব শৈত্যপ্রবাহ দেশের উত্তর, উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল, উত্তর-পূর্বাঞ্চল ও মধ্যাঞ্চলে বয়ে যেতে পারে। তাপমাত্রা থাকতে পারে ৮ থেকে ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে।
আসুন আমরা শীতার্তদের পাশে দাঁড়াই।
©somewhere in net ltd.