| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
প্রিয় বাবাকে ডাক্তার দেখিয়ে নিজের শরীরটাও চেকআপ করিয়ে নিয়েছিলেন ব্যাংক কর্মকর্তা রাসেল মাহমুদ (৩০)। চারপাশে কত রোগ-বালাই। তাই হয়তো নিজের শরীর চেকআপ করিয়ে জীবনের শেষাবধি ভালোভাবে বাঁচার বিষয়টি নিশ্চিত হতে চেয়েছিলেন তিনি। কিন্তু তাও তাকে নিশ্চিন্ত করতে পারেনি। রাসেল মাহমুদ জীবন দিয়েই বুঝালেন দেশের অপরাজনীতি শেষতক কারো জন্যই মঙ্গল কিছু বয়ে আনতে পারে না।
দেশের দেহে কত বড় রোগ যে বাসা বেঁধেছে তা বোধহয় তিনি অাঁচ করতে পারেননি। আর সে রোগ দেশের মানুষকে কীভাবে কুরে কুরে খাচ্ছে তাও তিনি বোঝেননি। কেনই বা বুঝবেন। সেসব বুঝে তার কী এমন লাভ হতো? দেশের এই পচা-গলা রাজনীতি থেকে যত দূরে থাকা যায় ততই তো মঙ্গল। বাবা-মা, ভাই-বোন, স্ত্রী আর দেড় মাসের শিশুপুত্র নিয়ে তার জীবন তো বেশ যাচ্ছিল। সেখানে অত কিছু নিয়ে ভাবার দরকারইবা কী তার! হ্যাঁ, তিনি কিছুই নিয়ে ভাবতেন না হয়তো। ভাবতেন স্ত্রী, সন্তান নিয়ে। ভাবতেন বাবার চিকিৎসা নিয়ে। তাই বাবাকে ডাক্তার দেখানোটা সেদিন খুবই জরুরি ছিল তার কাছে। গত সোমবার বিকালে উত্তরায় বাবাকে ডাক্তার দেখিয়ে বাসে করে দক্ষিণখানের বাসায় ফেরার সময় হঠাৎ জামায়াত-শিবিরের দুর্বৃত্তরা আগুন ধরিয়ে দিয়েছিল তাদের বহনকারী বাসটিতে। আর সে দুষ্ট রাজনীতির আগুনেই অকালে প্রাণ দিতে হলো এবি ব্যাংকের কাকরাইল শাখার সিনিয়র কর্মকর্তা রাসেল মাহমুদকে।
মঙ্গলবার তার মৃত-নিথর দেহ যখন তার দক্ষিণখানের বাসায় নিয়ে যাওয়া হয়, সেখানে তখন কান্নার রোল পড়ে। রাসেলের স্ত্রী তন্বী তার দেড় মাসের শিশু সন্তানটিকে বুকে জড়িয়ে ভেঙে পড়েন গগনবিদারী কান্নায়। আর দুর্দৈবক্রমে বেঁচে যাওয়া তার বাবা সাইফুল ইসলাম ডুকরে ডুকরে কেঁদে উঠছিলেন বেঁচে থাকার যন্ত্রণা নিয়ে!
বাসায় লাশ নেয়ার পর পরিবারের সদস্যদের গগনবিদারী কান্নার আওয়াজে ভারি হয়ে ওঠে আশপাশের পরিবেশ। রাসেলের স্ত্রী তন্বী তার দেড় বছরের ছেলেকে বুকে জড়িয়ে ধরে কান্নায় ভেঙে পড়েন। পরিবারের অন্য সদস্যদের আহাজারিতে সেখানে এক হৃদয়বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়।
নিহত রাসেলের বড় ভাই রাশেদ মাহমুদ জানান, গত সোমবার বিকালে বাবা সাইফুল ইসলামকে নিয়ে রাসেল উত্তরার মেডিনোভা হাসপাতালে যায়। পিতাকে ডাক্তার দেখানোর পরে রাসেল নিজেও শরীর চেকআপ করিয়ে নেন। মঙ্গলবারের হরতালের কারণে ওইদিন ডাক্তারের চেম্বারে রোগীর ভিড় জমে যায়। সিরিয়াল পেতে অনেক সময় অপেক্ষা করতে হয় পিতা-পুত্রকে। পরে ডাক্তার দেখিয়ে বাসায় ফেরার পথে সন্ত্রাসীরা তাদের বহনকারী বাসটিতে হামলা চালায়। তারা বাস থেকে নামার আগেই বাসটিতে আগুন ধরিয়ে দেয়। রাসেলের মামাতো ভাই নাহিদ জানান, বাসটির পেছনের দিকে রাসেল ও তার বাবা বসে ছিলেন। জামায়াত-শিবিরের লোকজন বাসটিতে ইটপাটকেল মারা শুরু করলে সামনের দিকের কিছু লোক পেছনে চলে যায়। অনেকে বাসের জানালা দিয়ে লাফিয়ে পড়েন। পেছন দিকে আটকা পড়েন রাসেল ও তার বাবা সাইফুল ইসলাম। একপর্যায়ে রাসেল তার বাবাকে কোনো রকমে বাসের জানালা ভেঙে বাইরে বের করে দেন। এ সময় তার বাবা বাস থেকে নিচে পড়ে আঘাত পান। কিন্তু রাসেল বের হওয়ার আগেই আগুন ছড়িয়ে পড়ে পুরো বাসে। রাসেলের গায়ে আগুন লেগে গেলে তিনি আর বাস থেকে বের হতে পারেননি। অগি্নদগ্ধ হয়ে সেখানেই মারা যান রাসেল। নাহিদ আরো জানান, রাসেল মাত্র দেড় বছর হলো বিয়ে করেছেন। তার স্ত্রীর নাম তন্বী। মাত্র দেড় মাস আগে রাসেল এক পুত্র সন্তানের জনক হয়েছেন।
রাসেল মাহমুদ জীবন দিয়েই বুঝালেন দেশের অপরাজনীতি শেষতক কারো জন্যই মঙ্গল কিছু বয়ে আনতে পারে না।
আহ! দায়িত্ববান সন্তান, দায়িত্ববান পিতা আর একজন দায়িত্বশীল ও নিরীহ মানুষের এই অকাল প্রয়াণ, তা কেবলই পচা আর গলিত রাজনীতির ফল। লাথি মারি যুদ্ধাপরাধি জামাত-শিবিরের এ রাজনীতি।
লিঙ্ক
০৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৩ বিকাল ৩:২৯
শিনজন বলেছেন: জেগো ওঠো বাঙ্গালি।
২|
০৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৩ বিকাল ৩:২৫
গাজী আলআমিন বলেছেন: জয় কসাই কাদেরের জয
Click This Link
৩|
০৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৩ বিকাল ৩:২৮
শার্লক বলেছেন: খারাপ লাগে এই রাসেলদের মতো ছেলেদের জন্য কোন স্কয়ারে দিন-রাত বিশাল বিক্ষোভ হয় না। কেউ ভাংচুর করে না। টিভিতেও সারাদিন নিউজ হয় না। শালার বাংলাদেশ আমার মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বালের চেতনা। আমাদের শান্তি মতো থাকতে দে তোরা পারবি না তো দূর হয়ে যা নরকে। কুমিরের কান্না সব।
৪|
০৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৩ বিকাল ৩:৩৬
সাদা রং- বলেছেন: রাসেল ও তার পরিবারে জন্য শুভ কামনা করছি। ধিক্কার জানাই এ রাজনীতি।
৫|
০৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৩ বিকাল ৪:০৮
চাঁন ভাই বলেছেন: যে যায় সে আর ফিরে আসে না। আমাদের দেশের রাজনীতি নোংরা রাজনীতি। এই রাসেল যদি রাজনৈতিক কোন ব্যাক্তি হইতো তাহলে আজ কথা ছিল না। আর কত নিরীহ মানুষ এভাবে চলে যাবে। বিচার চাইব কার কাছে।
৬|
০৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৩ বিকাল ৪:১৯
শ্রাবণধারা বলেছেন: এই প্রথম রাসেলকে নিয়ে একটা লেখা দেখলাম। এই কষ্টের কোন সান্ত্বণা হতে পারেনা। দেশ অনেক আগে থেকেই কুত্তাদের অধিকারে চলে গেছে। কুত্তাদের রাজনীতির কারণে সাধারণ মানুষদের সীমাহীন দুঃখ দুর্দশার সাথে যুক্ত হয়েছে ভয়াবহ মৃত্যু, খুন। রাজনীতির বেজন্মা জারজদের অভিশাপ দেওয়া ছাড়া আর কি করতে পারি?
৭|
০৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৩ সন্ধ্যা ৭:১৬
মশিকুর বলেছেন:
নোংরা রাজনীতিরে মাইনাচ
©somewhere in net ltd.
১|
০৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৩ বিকাল ৩:২৪
গাজী আলআমিন বলেছেন: আর কত রাফি এতিম হলে কাদের মোল্লার ফাসি হবে???????
Click This Link