নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

শিনজন

I love Bangladesh

শিনজন › বিস্তারিত পোস্টঃ

পশ্চিমা নমনীয় সরকার কি দৃঢ় ?

১২ ই জুলাই, ২০১৪ দুপুর ১২:৫৪



প্রতিবেশী দেশ ভারত ও উন্নত দেশ চীন এবং জাপানের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ার পাশাপাশি সম্প্রতি পশ্চিমা দেশগুলোর ‘নমনীয়’ মনোভাবের কারণে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ঐকমত্যের সরকারের মাঝে এক প্রকার স্বস্তি বিরাজ করছে। এছাড়া গত মঙ্গলবার ভারতের সঙ্গে সমুদ্রসীমা মামলায় জেতার পর সরকারের নীতিনির্ধারকদের মধ্যে বেড়েছে মনোবল। কারণ হিসেবে সংশ্লিষ্টরা বলেছেন, দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছিলেন ‘পুনরায় নির্বাচিত করুন, তাহলে ভারতের সঙ্গে সমুদ্র মামলায় বিজয় এনে দেব, আর তাই হয়েছে’। অন্যদিকে দেশের অন্যমত প্রধান রাজনৈতিক দল বিএনপি ইফতার কূটনীতির মাধ্যমে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক বজায় রাখার চেষ্টা করলেও গেল ৬ মাসের কিছু ইতিবাচক সিদ্ধান্তের কারণে উন্নত দেশগুলো ভবিষ্যতে বর্তমানে সরকারের সঙ্গে থাকবে বলে মনে করছেন দায়িত্বশীল নেতারা। তারা বলছেন, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ ভেস্তে যেতে পারে এমন আশঙ্কায় উন্নত দেশগুলো সরকারকে সামনের দিকে এগিয়ে যেতে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সহযোগিতা করে যাবে। পাশাপাশি সম্প্রতি ভারতীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজের বাংলাদেশ সফরে ঢাকা-দিল্লির মধ্যে সম্পর্কের যে ভিত রচিত হয়েছে তা পশ্চিমা দেশগুলোকে বর্তমান সরকারের সঙ্গে কাজ করতে আরো উৎসাহিত করবে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আর এরই প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে সম্প্রতি ওয়াশিংটনে মার্কিন সহকারী পরররাষ্ট্রমন্ত্রী নিশা দেশাই বিশালের বক্তব্যে। এছাড়া ঢাকাস্থ মার্কিন রাষ্ট্রদূত ড্যান ডব্লিউ মজিনা এবং ব্রিটিশ হাইকমিশনার রবার্ট গিবসনের বক্তব্য থেকেও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যায়, আঞ্চলিক যোগাযোগ বাড়ানোর কারণে তারা আগের দৃঢ় অবস্থানে নেই। নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর শীর্ষ সফরটি হয় জাপানে। ২৫ মে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জাপান সফরের ১০ দিন পর আরেকটি শীর্ষ সফর হয় চীনে। ৬ জুন প্রধানমন্ত্রীর চীন সফর শুরু হয়ে শেষ হয় ১১ জুন। ওই সময় চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ভারত সফর করেছিলেন। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলেন, চীন ও জাপান সফরে প্রায় ১১ বিলিয়ন ডলারের মতো ঋণ সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি পায় বাংলাদেশ, যা বর্তমান সরকারের ধারাবাহিক উন্নয়ন কর্মকাণ্ডকে বেগবান করতে সমর্থ হবে।

ঢাকার সাবেক এক কূটনীতিক বলেন, প্রধানমন্ত্রীর দুটি সফর সরকারকে রাজনৈতিকভাবে লাভবান করেছে। কারণ হিসেবে তিনি বলেন, দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর যারা বলেছিলেন সরকার দুনিয়া থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বে সেখানে দুটি উন্নত দেশে প্রধানমন্ত্রীর সফর ‘সহজ’ কোনো বিষয় নয়। এছাড়া সফর দুটি জাপান ও চীনের আগ্রহে হওয়ার কারণে আরো বেশি তাৎপর্য রাখে। সূত্র জানায়, এর পর সরকারের মাঝে কিছু বিষয় নিয়ে অস্বস্তি ছিল। বিশেষ করে প্রতিবেশী দেশ ভারতের ক্ষমতার পালাবদল বর্তমান সরকারকে একপ্রকার ভাবিয়ে তুলেছিল বলে প্রচার রয়েছে। কিন্তু সে প্রচারের আগুনে পানি ঢেলে দেয় ভারত নিজেই। আর এরই অংশ হিসেবে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজকে তিন দিনের সফরে ঢাকায় পাঠায় নয়াদিল্লি। এ সফরে ঢাকা-দিল্লির মধ্যে সম্পর্ক আরো এগিয়ে নিতে ভিত শক্তিশালী করার ব্যাপারে এক প্রকার রোডম্যাপ ঘোষিত হয়। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সুষমার এ সফর উন্নত দেশ ছাড়াও পশ্চিমা দেশগুলোকে পর্যবেক্ষণে ফেলে দেয়। আর সুষমা ঢাকা ছাড়ার কয়েক দিন পর যুক্তরাষ্ট্র তার অবস্থান পরিষ্কার করে।

সন্ত্রাসবিরোধী লড়াইয়ের অংশীদার হিসেবে দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের সুসম্পর্ক দেখতে চায় ওয়াশিংটন এমন কথা বলেন যুক্তরাষ্ট্রের সহকারী পরররাষ্ট্রমন্ত্রী নিশা দেশাই বিশাল।

বাংলাদেশে আওয়ামী লীগের ক্ষমতায় থেকে যাওয়া এবং ভারতের পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে চলতি মাসের শুরুতে নিউজার্সিতে এক আলোচনা সভায় তিনি এ কথা জানান। গত বছর বাংলাদেশে নির্বাচনের আগে দুই প্রধান দলকে আলোচনায় বসানোর উদ্যোগ নিয়ে ঢাকা সফরে এসেছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক এ সহকারী মন্ত্রী। তবে কূটনীতিকদের ওই উদ্যোগ ফলপ্রসূ হয়নি। বিএনপির বর্জনের মধ্যে নির্বাচন করে দ্বিতীয় মেয়াদে সরকার গঠন করেছে আওয়ামী লীগ। মাঝপথে দিল্লি থেকে ঢাকায় সংক্ষিপ্ত সফরে উড়ে আসেন ভারতের পররাষ্ট্র সচিব সুজাতা সিং। ঢাকায় আলোচনার পর তিনি আবার উড়ে যান ওয়াশিংটনে। আর সে সফরের পানি গড়ায় অনেকদূর। পরে ৫ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত ওই সংসদ নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে যুক্তরাষ্ট্র। অন্যদিকে ভারত এ নির্বাচনকে সমর্থন করে জানায় এবং বলে, গণতন্ত্রের ধারাবাহিকতা রক্ষায় এ নির্বাচন প্রয়োজন ছিল। ওই নির্বাচনের সময় ভারতে ক্ষমতায় থাকা কংগ্রেসকে লোকসভা নির্বাচনে হারিয়ে বিজেপি ক্ষমতাসীন হওয়ার পর ঢাকা-নয়াদিল্লি সম্পর্কের অবনতির আশঙ্কা অনেকে করেছিলেন, যদিও নরেন্দ্র মোদির নতুন সরকার আওয়ামী লীগ সরকারের প্রতি ইতিবাচক মনোভাবই দেখিয়েছে। এর মধ্যেই নিউ জার্সির এডিসন সিটির রয়েল এলবার্ট প্যালেসে ভারতে নতুন সরকারের গঠনের পর যুক্তরাষ্ট্রের নীতিবিষয়ক আলোচনা সভায় আসেন নিশা বিশাল।

‘ফেডারেশন অব ইন্ডিয়ান অ্যাসোসিয়েশন’ আয়োজিত ওই সভায় যুক্তরাষ্ট্র সিনেটে পররাষ্ট্রবিষয়ক কমিটির চেয়ারম্যান রবার্ট মেনেনদেজও ছিলেন। এ সময় নিশা দেশাই বলেন, ভারতের নতুন সরকারের সঙ্গে বাংলাদেশের দ্বিপাক্ষিক ও বহুপাক্ষিক সম্পর্ক একই থাকবে বলে তারা মনে করেন। এ ক্ষেত্রে আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিশ্চিতে প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে মোদির সম্পর্কোন্নয়নের উদ্যোগকে তুলে ধরে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর (মোদি) শপথ অনুষ্ঠানে প্রতিবেশী রাষ্ট্রসমূহের নেতাদের আমন্ত্রণ জানানোর মধ্য দিয়ে গুরুত্বপূর্ণ একটি দিকের প্রকাশ ঘটেছে। নিকট প্রতিবেশীদের সঙ্গে ভারতের আরো ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ার ঐকান্তিক আগ্রহের প্রকাশ ঘটেছে।

সন্ত্রাসবাদ নির্মূলে ভারতের মতো বাংলাদেশও যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম অংশীদার উল্লেখ করে দেশাই বলেন, দক্ষিণ এশিয়ায় শান্তি ও নিরাপত্তার স্বার্থে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে বিদ্যমান সম্পর্ক আরো জোরদার হবে বলে আমরা আশা করছি।

বাংলাদেশের বিষয়ে তিনি বলেন, অর্থনৈতিক অগ্রগতির জন্য তার দেশ ঢাকাকে সহযোগিতা অব্যাহত রাখতে চায়। বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি এবং মানুষের নিরাপত্তা আরো সুসংহত করতে সুশীল সমাজকে নানা বিষয়ে অবদান রাখার আরো বেশি সুযোগ দেয়ার পরামর্শ দেন তিনি। সেই সঙ্গে বাংলাদেশের শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিয়ে কথা বলেন বিশাল। ঢাকার কূটনীতিকরা বলছেন, ওই অনুষ্ঠানে দেশাইকে নানাভাবে প্রশ্ন করা হলেও তিনি বাংলাদেশের বর্তমান সরকার নিয়ে কড়া কোনো মন্তব্য করেননি বরং তাকে অনেক বিষয়ে নমনীয় মনে হয়েছে।

এদিকে নিশার এমন বক্তব্যের পরদিন ঢাকার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সশরীরে হাজির হন মার্কিন রাষ্ট্রদূত ড্যান ডব্লিউ মজিনা। ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজের বাংলাদেশ সফরের বিস্তারিত শোনেন তিনি। পররাষ্ট্র সচিব মো. শহীদুল হকের সঙ্গে বৈঠকে সফরটির বিষয়ে তিনি নিজে থেকেই জানতে চান। সচিব তাকে সফরের আদ্যোপান্ত ব্রিফ করেন। সফরটিকে ‘অত্যন্ত সফল’ বলে উল্লেখ করেন সরকারের শীর্ষ ওই কূটনীতিক। পরে মার্কিন দূত উপস্থিত সংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এটিকে নিয়মিত বৈঠক এবং সেখানে দ্বিপক্ষীয় স্বার্থ-সংশ্লিষ্ট বিষয়াদি আলোচনা হয়েছে বলে জানান। ওই বৈঠকে দ্বিপক্ষীয় স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়াদি তো ছিলই, পাশাপাশি সমসাময়িক অন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়াদি নিয়েও আলোচনা হয়েছে।

শহীদুল হকের সঙ্গে ড্যান মজিনার দীর্ঘ বৈঠকে তিনটি সফর নিয়েই আলোচনা হয়েছে। তবে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের আগ্রহ ছিল ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ঢাকা সফর নিয়ে। ওই সফরের মধ্য দিয়ে দিল্লি পরিবর্তিত নেতৃত্ব বাংলাদেশকে জানা-বোঝার চেষ্টা করেছে। বিশেষ করে এখানকার রাজনৈতিক নেতৃত্বকে। ২৫-২৭ জুন সুষমার সফরের সময়ে ড্যান মজিনা ঢাকাতেই ছিলেন। তারপরও তিনি সরকারের শীর্ষ কূটনীতিকের কাছ থেকে এ নিয়ে জানতে চেয়েছেন।

অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সম্প্রতি জাপান ও চীন সফর এবং কৌশলগত প্রেক্ষাপটে এ সফরগুলোকে কিভাবে দেখছেন এমন প্রশ্নে গণমাধ্যমকে মজিনা বলেছেন, অনেক দেশেরই বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্কের ব্যাপারে আগ্রহ রয়েছে। কাজেই ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজের সফরের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার হওয়া; প্রধানমন্ত্রীর জাপান ও চীনে সফল সফরের মধ্য দিয়ে এ অঞ্চলে বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা প্রতিফলিত হচ্ছে। আর এটি সবার জন্য মঙ্গলজনক।

বর্তমান পরিস্থিতিতে সংলাপের ব্যাপারে নতুন কোনো সম্ভাবনা কি দেখছেন? কিংবা নতুন কোনো নির্বাচন হবে, যেখানে সব দল অংশ নেবে এমন প্রশ্নেও মজিনা বলেছেন, এ ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্র ইতিমধ্যেই তার অবস্থান স্পষ্ট করেছে। এ নিয়ে নতুন করে কিছু বলার নেই। গণতন্ত্রই বাংলাদেশের চূড়ান্ত অর্জন হয়ে উঠবে। বাংলাদেশ নিজের মতো করে লড়াই করেই গণতন্ত্র টিকিয়ে রাখবে। কিভাবে হবে, সেটা আমি জানি না। তবে এটা জানি, এখানকার জনগণই পথ খুঁজে বের করবে।

অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রীর চীন ও জাপান সফরে বিভিন্ন চুক্তির বিষয়ে এক প্রশ্নের ঢাকাস্থ ব্রিটিশ হাইকমিশনার রবার্ট গিবসন বলেছিলেন, এটি নির্দিষ্ট দেশগুলোর স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়। এ প্রসঙ্গে ঢাকার আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকরা বলছেন, সরকারের ৬ মাসের মাথায় আঞ্চলিক যোগাযোগ এবং পশ্চিমা দেশগুলোর এক প্রকার নমনীয়তা দেশের জন্য ইতিবাচক।

পশ্চিমাদের নমনীয়তায় সরকার মনে করছে সরকার দৃঢ়। সময় বলে দিবে



সরকার দেশকে কোথায় নিয়ে যায়। তবে দেশবাসীর প্রত্যাশা রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রেখে দেশকে এগিয়ে নিতে সরকার যেন উন্নয়ন কার্যক্রমে ¯^চ্ছতা আর দুর্নীতিমুক্ত রাখেন।

সূত্রঃView this link



মন্তব্য ০ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (০) মন্তব্য লিখুন

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.