নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

শিনজন

I love Bangladesh

শিনজন › বিস্তারিত পোস্টঃ

সাবধান: তালা ও ব্যাচেলর

০৮ ই ডিসেম্বর, ২০১৪ সকাল ১০:৫৮


‘ঘরের ভেতরে টাকা পয়সা আছে কিনা দরজার বাইরে তালা দেখলেই বুঝতে পারি। ভবনের বাইরে কাপড় দেখলে বুঝতে পারি কোনটি ব্যাচেলর আর কোনটিতে ফ্যামিলি বাসা। চুরি করতে করতে আমার এ অভিজ্ঞতা হয়েছে। গাঁজার টাকা যোগাড় করতে চুরি করি। রেল স্টেশন এলাকায় গাঁজা কিনতে পাওয়া যায়। মিথ্যে বলে কোন লাভ নেই।ফ্যামিলি বাসায় সাধারণত আমরা চুরি করি না। সারাদিন বকশির হাট, টেরিবাজার, চামড়ার গুদাম, চাকতাই ও আছদগঞ্জ এলাকায় ঘুরি। কোন্ দোকানের ক্যাশ বাক্স কি ধরনের তা দেখি। রাতের বেলায় চুরি করি। তবে ব্যাচেলর বাসায় চুরি করি সকাল দশটা থেকে বারোটার মধ্যে। কারণ এ সময় ব্যাচেলর লোকজন বাসায় থাকে না। গত এক বছরে কয়টি চুরি করেছি তা সঠিক করে বলতে পারবো না। তবে শতাধিক হবে। কিন্তু এলাকার বাইরে চুরি করতে যাইনি কখনো।’ স্বভাবসুলভ ভঙ্গিতে চুরি বিষয়ে বিভিন্ন কৌশলের কথা বলছিল নগরীর বকশিরহাট বিট এলাকার আবু বক্করের ছেলে ইয়াছিন তারেক (২৫)। টেরিবাজারের একটি ব্যাচেলর বাসায় চুরি করতে গিয়ে হাতেনাতে ধরা পড়ে তারেক ও তার সহযোগী ইদুর জাহান সাজু ওরফে শরীফ। শরীফ আখাউড়ার বড়লগর গ্রামের আবুল কাশেমের ছেলে। পরিবারের সদস্যদের সাথে বলুয়াদিঘির পূর্বপাড়ের আরিফ সওদাগরের বিল্ডিংয়ে ভাড়া বাসায় থাকে। পরে তাদের দেয়া তথ্য অনুযায়ী ঘাটফরহাদবেগের বালির ছেলে জনি (২২) ও আছাদগঞ্জের হাজী মঞ্জু মিয়ার ছেলে জাহেদুল ইসলাম ওরফে জনিকে (২২) কে আটক করে কোতোয়ালী থানা পুলিশ। তারা চুরির সাথে জড়িত বলে স্বীকার করেছে পুলিশের কাছে।পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারেক বলেন, বকশিরহাট, চামড়ারগুদাম, চাকতাই ও আছদগঞ্জ এলাকা ছাড়া বাইরে কোথাও আমরা চুরি করি না। আমাদের সিনিয়র আরো কয়েকজন রয়েছে। তারা হলো, আসলামের ছেলে পারভেজ, জোনাব আলির ছেলে গিয়াস ও তার ভাই সাইফু, রফিকের ছেলে সজিব, এস্কান্দরের ছেলে সাজ্জাদ ও জামালের ছেলে মিন্টু। চুুরি করা মোবাইল সেট ও ল্যাপটপ গিয়াসের কাছে বিক্রি করি। ওরা আমাদের আগে থেকে চুরির কাজে জড়িত। তবে এ লাইনে সবার সিনিয়র হচ্ছে বদরপট্টির জালাল। পুলিশের হাতে ধরা পড়ার পর জালাল ভাইকে ফোন করেছিলাম। কিন্তু তিনি সাহায্য করেননি। ইয়াছিন বলেন, আমি একটি গার্মেন্টসে চাকুরি করি। সাজু মাংসের দোকানে, জনি রিকশাচালক ও জাহেদ থাই এলুমিনিয়ামের কাজ করে। কাজের ফাঁকে আমরা চুরি করি।
ব্যাচেলর বাসায় চুরির টার্গেট কেন প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তারেক জানায়, ব্যাচেলর লোকজন সাধারণত সকাল বেলা ঘর থেকে বের হয়ে যায়। সকাল দশটার পর তাদের ঘর খালি থাকে। তাই চুরি করতে সুবিধা।তারেকের সহযোগী সাজু জানায়, আমাদের কাছে বিভিন্ন ধরনের অনেকগুলো চাবি থাকে। তালাচাবি ঠিক করার লোকদের কাছে এসব চাবি কিনতে পাওয়া যায়। একটি তালায় কয়েকটি চাবি দিয়ে খোলার চেষ্টা করলে দেখা যায় যেকোন একটি চাবি লেগে যায়। আর ভাগ্য খারাপ হলে হয়তো খোলা যায় না। পরক্ষণে সাজু জানায়, আমি লেখাপড়া না করলেও যার সাথে আমার প্রেমের সম্পর্ক রয়েছে সে নগরীর একটি কলেজে এইচএসসি প্রথম বর্ষের ছাত্রী। তার বাড়ি রাঙ্গুনিয়ায়। দেওয়ানবাজার এলাকায় মা বাবার সাথে থাকে। আমাকে খুবই ভালবাসে। আমি চুরি করি তা কিন্তু সে জানে না। চুরির বিষয়টি পত্রিকায় ছাপানো হলে সে হয়তো আমার সাথে সম্পর্ক চ্ছিন্ন করে দেবে। সাজুর কাছ থেকে কথা কেড়ে নিয়ে তারেক জানায়, আমার সম্পর্ক গাঁজার সাথে। কোন মেয়ের সাথে আমি সম্পর্ক করিনি। কারণ আমি চুরি করি। তা জানতে পারলে সাজুর মতো অবস্থা হবে। তাই কারো সাথে সম্পর্কে জড়াইনি। আমাকে দেখে কেউ বলবে না আমি চোর। গত ২৫ নভেম্বর রাতে টেরিবাজারে চারটি দোকানের তালা কেটে চুরির ঘটনা সংঘটিত হয়। তারেক বলেছে, ঐ চুরিগুলো আমি ও সাজু করেছি। রাত একটার সময় কার্টার দিয়ে তালা কেটে চুরি করি। সেখানে ৩০ হাজার টাকা পেয়েছিলাম। তবে টেরিবাজার ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক আবদুল মান্নান বলেন, ঐ ঘটনায় ৮০ হাজার টাকা ও তিনভরি স্বর্ণ চুরি হয়েছিল।পুলিশের হাতে ধরা পড়া প্রসঙ্গে সাজু বলেন, টেরিবাজারে একটি ব্যাচেলর বাসায় চুরি করতে গিয়েছিলাম। কয়েকদিন ধরে ঐ বাসায় চুরির পরিকল্পনা করি। গতকাল (শনিবার) রাত নয়টার সময় পূর্বপরিকল্পনা মতো ঐ বাসায় তালা খুলে ঘরের ভেতর প্রবেশ করি। এসময় ঘরের মালিক এসে হাজির হলে হাতেনাতে ধরা পড়ি।

মন্তব্য ০ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (০) মন্তব্য লিখুন

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.